।। শংকরাচার্য ।।
---- স্বামী হরিময়ানন্দ
শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্ আলয়ং করুণালয়ম্।
নমামি ভগবদপাদং শংকরম্ লোকশংকরম্।
=============পর্ব-৯=============
মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী
দেবী সরস্বতীর সমতুল্য
ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই বিতর্ক সভার
মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন
- এ কথা সত্য। কিন্তু আমাকে পরাজিত না করলে
আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে,
সম্পূর্ণ নয়। আচার্য বললেন, যদি কেউ বিবাদ করতে চায় অদ্বৈত মতে তার সঙ্গে বিবাদ করার
কথাই বলা হয়েছে। তা ছাড়া এমন তর্কের কথা বৈদিক যুগেও দেখা গেছে। যাজ্ঞবল্ক্য গার্গীর
সঙ্গে জনক ঋষি সুলভার সঙ্গে বাদ করে ছিলেন।
কাজেই এটি অসম্ভব কিছু নয়।
যতিবরের কথায় আনন্দিত
হলেন সরস্বতী সমতুল্য শারদা। উভয়ের শাস্ত্র বিচার সাত দিন ধরে চলল। কিন্তু জয় পরাজয়
হল না। শারদা ভাবলেন আচার্যকে পরাজিত করা অসম্ভব,
তিনি মহাদেবের মতো পরম জ্ঞানী। ভাবলেন, আচার্য সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচর্য ব্রত ধারী, শান্ত
ও সমাধি-বান, ফলে কাম-শাস্ত্র নিশ্চয় জানেন না। এর দ্বারাই আমি জয় লাভ করব। শারদা মনে
মনে এই বিবেচনা করে সভাতে এলেন। সভাতে সকলের সামনে প্রসঙ্গত জিজ্ঞাসা করলেন , যতিবর,
কামকলা কেমন? কত প্রকার ও তার আধার কি? স্থিতি
কোথায় ? ইত্যাদি। আচার্য শুনলেন কিন্তু কোন উত্তর দিলেন না। ভাবলেন এ সব সন্ন্যাসীর
ধর্ম নয়। কিন্তু আচার্য মানে সব শাস্ত্র জানতে হবে। যদি এই শাস্ত্র সম্পর্কে না উত্তর
দেন তা হলে পরাজয় স্বীকার করতে হবে। কারণ এই প্রশ্ন করা উচিত নয় - এমন কথাও বাদ করতে
গিয়ে বলা যায় না।
তিনি বললেন ঠিক আছে আমি এর উওর দিতে পারি, তবে আমাকে
এক মাস সময় দিয়ে হবে। উভয় ভারতী রাজি হলেন। আচার্য সভাস্থল থেকে এক মাসের জন্য চলে
এলেন।
আচার্য এলেন এক দেশে
যে দেশের রাজার সদ্য মৃত্যু হয়েছে। রাজার নাম মকরাখ্য। রাজার মৃতদেহ এক গাছের তলায়
রেখে মন্ত্রী ও অন্যান্য লোক জন তাকে ঘিরে রয়েছে। আচার্য শংকর যোগ বলে সব দেখলেন। শিষ্য
পদ্মপাদকে বললেন যে তিনি কিছু দিনের জন্য এই মৃত শরীরে প্রবেশ করতে ইচ্ছা করেন। কিছু
দিন রাজার দেহে থাকার পর আবার নিজ দেহে ফিরে আসবেন। পদ্মপাদ গুরুর বাক্য শুনে বললেন,
প্রভু আপনি সর্বজ্ঞ, আপনার অজানা কিছু নেই। আপনি জানেন বহুকাল পূর্বে মৎস্যেন্দ্র নামে
এক যোগী পুরুষ ছিলেন। তাঁর শিষ্যের নাম ছিল গোরক্ষা। গুরু শিষ্যকে নিজের দেহ রক্ষা
করতে বলে কোন এক মৃত রাজার শরীরে প্রবেশ করে ছিলেন। তিনি রাজদেহে প্রবেশ করে রাজ সিং
হাসনে বসলেন। অমাত্য পরিবৃত হয়ে বেশ সুখে রাজ্য পরিচালনা করতে লাগলেন। রাজ মহিলাগণ
, অমাত্য সকলে বুঝতে পারলেন কোন যোগী রাজদেহে প্রবেশ করেছেন। তারা সকলে চেষ্টা করলেন
নানা প্রকার রাজভোগ্য দ্রব্য দিয়ে রাজার মনোরঞ্জন করতে। যোগীও নৃত্য ,গীতাদি নানা কলাতে মহানন্দে রাত দিন যোগ
সাধনা ভুলে মত্ত হয়ে থাকলেন। যোগ , ধ্যান জ্ঞান সব লোপ পেয়ে গেল।
শিষ্য দেখলেন এ তো মহা
বিপদ। গুরুকে রক্ষা করা দরকার। যোগ বলে নিজের দেহকে তিনি দু'ভাগে বিভক্ত করলেন। একদেহ আশ্রমে
রেখে আর একটি দেহ দ্বারা ওই রাজার কাছে এলেন।
পণ্ডিতের বেশ ধারণ করে রাজাকে নানা উপদেশ দিতে লাগলেন। অনেক কষ্টে যোগ উপদেশ
দান করে গুরুকে পূর্ব দেহে ফিরিয়ে আনতে পেরে ছিলেন। তাই যোগীদের সর্বদা সাবধান থাকতে
হয়।
আচার্য শংকর পদ্মপাদকে
বললেন, বৎস, সংকল্প কাম বন্ধনের মূল ঠিক। কিন্তু আমি সদা অসঙ্গ। কাম সংকল্প আমাতে নেই।
ব্রহ্মজ্ঞানে কারণ-অজ্ঞান নষ্ট হয়ে যায়। বিনষ্ট
সংকল্পের বিষয়াসক্তি আপনি নাশ হয়। দেহাভিমানীদের সংকল্প সকল দুঃখের কারণ কিন্তু আত্মারাম
পুরুষের তাতে কোন বাধা হয় না। আত্মজ্ঞান হীনের সমস্ত প্রকার কর্ম সংসার বন্ধনের কারণ
হয় আবার সেই কর্ম ব্রহ্মনিষ্ঠের কাছে সুখকর ও আনন্দ দায়ক।
বেদে পাওয়া যায় দেবরাজ ইন্দ্র ত্রিশির্ষ মুনিকে বধ
করেছিলেন তাতে তার কোন পাপ হয়নি। আর রাজা জনক অশ্বমেধ যাগ করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিদেহ,
ফলে সে পুণ্যের সঙ্গে জনকের কোন সম্বন্ধ ছিল না। এ কথা বাজশেনেয় শ্রুতিতে বলা হয়েছে।
অতএত কাম শাস্ত্রের অনুশীলন আমার বাধক হতে পারে না।
যতিরাজ আচার্য শংকর
এই কথা বলে গিরিশৃঙ্গে চলে গেলেন। সেখানে শিষ্যদেরকে বললেন, আমি যে পর্যন্ত কামশাস্ত্র
জ্ঞান লাভ করে এই সন্ন্যাসীর দেহে ফিরে না আসি, তত দিন এই শরীর খুব সাবধানে রক্ষা করবে।
যোগীবর যোগশক্তির দ্বারা সথূল শরীর ত্যাগ করে সূক্ষ্মদেহে রাজার মৃত শরীরে
প্রবেশ করলেন। শিষ্যেরা সন্ন্যাসীর স্থূলদেহ সযত্নে রক্ষা করতে লাগল।
এদিকে রাজার দেহে প্রাণের
সঞ্চার হল। ধীরে ধীরে চোখের পাতা মেলে তাকালেন। অমাত্য মন্ত্রীদের মুখে হাসি ফুটলো।
সকলে মহানন্দে শঙ্খধ্বনি করতে লাগল। মৃত রাজার বেঁচে ওঠার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
দলে দলে লোক ছুটে এল রাজাকে দেখার জন্য।
আচার্য পুরুষের সকল
কাজই গভীর তাৎপর্য পূর্ণ ও এর মধ্যে লোকহিতের অঙ্কুর নিহিত থাকে। লৌকিক মানুষের মতো
ব্যবহার করলেও ব্রহ্মজ্ঞানী স্থূল ও সূক্ষ্ম দেহে অহংকার ও কুবুদ্ধি ত্যাগ করে স্বাত্মজ্ঞানে
অবস্থান করেন।
ক্রমশ..................।।

প্রণাম মহারাজ
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো পড়ে পরবর্তী অংশের জন্য অধীর অপেক্ষায় রইলাম। প্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏।
Deleteমৌসুমী রায় কোচবিহার।
খুব আগ্রহ সহকারে পড়লাম মহারাজ।পরেরটার জন্য অপেক্ষা করছি। প্রনাম নেবেন মহারাজ
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো, পরের টার জন্য অপেক্ষায় রইলাম, প্রণাম নেবেন মহারাজজী....🌸🙏🌸 জয়া চৌধুরী
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন আচার্য্য গুরুদেব 🙏🙏পরের জন্য অপেক্ষা রইলাম।।
ReplyDeleteমহারাজ খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন।আপনার সান্নিধ্য পেয়ে অনেক অজানাকে জানতে পারলাম। শ্রদ্ধাসহ ভক্তিপূর্ন প্রণাম জানাই। 🙏🏻💐
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর
প্রনাম ঠাকুর মা ও স্বামী জী | শ্রী চরণে সভক্তি প্রনাম নিবেদন I মহারাজ জী আমার ভত্তিপূণ্য প্রনাম গ্রহন করবেন | খুব ভালো লাগছে শংঙ্করাচার্য পর্ব গুলো পড়তে | রুনা পালিত
ReplyDeleteখুব ভালো লাগছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। প্রণাম মহারাজ। শুভ্রা লালা
ReplyDeleteVaktivora pranam nibedon kori Swang jyotibor Achariyo Sankarachariyo r Shree Padopodmey 🌻🌻🙏🙏.Sovakti pranam Achariyo Gurudeb 🌷 🌻 🙏. Aaj 9th porbo paath er uposthapona opurbo bodh holo 🙏Vaabchi Jini Brahmogyani Purush , Tini ek oporisim Yogosaktir Adikari hoyey birajoman thaken, pholoswarup jagotik kaamosakti thekey Onara sodamukto thaken🌻🌻🌷🌷🙏🙏. Hei, aajker lekhoni te kichu jiggyasa thekey gelo, Guruji 🙏. Khubei interest pacchi , next lekhonir opekhya te acchi 🙏🙏
ReplyDeleteParbati Banerjee, Siliguri.
আচার্য্য দেব অপূর্ব খুব ভালো লাগলো অনেক কিছু জানতে পারলাম আমার কাছে সবটাই নুতন লাগছে। প্রণাম
DeleteKhub valo laglo maharaj pronam neben maharaj
ReplyDeleteদশম পর্বের অধীর অপেক্ষায় রইলাম🙏"নমামী ভগবদপাদম্ শংকরম্ লোকশংকরম্"🙏
ReplyDeleteভক্তিপূর্ণ প্রনাম মহারাজ জী🙏 সুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট ।
Ei lekhaniti pore valo laglo ! SwabhaktipronamnabenpujonioMaharaj. 🙏🙏
ReplyDeleteAdi guru Shankaracharya er 9th porbo pore khub bhalo laglo. Apner lakhani r dwara Shankaracharya sammandhe onek kichu jante parchi. Parer parber opekkha te thaklam. Bhakti Purna pronam grohan korben Maharaj ji 🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteRanjita Mazumder, New Delhi
খুব ভালো পড়ছি। মহারাজ, উভয় ভারতীর নাম শারদা ছিল?
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ ভীষণ ভালো লাগছে প্রতিটি পর্ব পড়তে পরের অপেক্ষায় রইলাম
ReplyDeletePronam Maharaj 🙏☘️🏵🌹🏵☘️🙏adivuru shangkariacharya10m porbo pore khub Sundar laglo .porer porber opekhay roilam.PRONAM MAHARAJ JI voktipurno pronam 🙏 ☘️ 🌼 🌹 🪷 🙏ANJALI BISWAS NAIHATI
ReplyDeleteMaharaji Ii kub. Valu. Loglo. Porartar. Joni. Apakhya. Thakur. 🙏🙏🙏
ReplyDeleteJaya. Bose
ReplyDeleteGurgau
DeleteKhub Bhalo Laglo. Aro jante ichha
ReplyDeleteHochhe. Pranam Maharaj
PULAKESH SINHA Roy.
সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ জীর শ্রীচরণকমলে 🙌 খুব সুন্দর লাগলো মহারাজ 🙏🌷🙏 আগে পড়েছিলাম, কিন্তু আপনার লেখনীর মাধূর্য অসাধারণ!! এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম। খুব খুব ভালো লাগলো। আগামী লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম 🙏 🌷🙏
ReplyDeleteভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🙏
দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏 🌷 🙏
যতিরাজ আচার্য শংকর যোগশক্তি'র দ্বারা স্থুল শরীর ত্যাগ করে সূক্ষ্মদেহে রাজার মৃত শরীরে প্রবেশ করার বিষয়টি আমরা অতি সাধারণীদের বেশ আশ্চর্যাণ্বিত করে! আসলে, একজন ব্রহ্মজ্ঞানী আচার্য পুরুষ মানে যোগী.. স্বাত্মজ্ঞানে স্বজ্ঞালব্ধ.. তিনি ঈশ্বরসম! তাঁকে অন্তরের অন্তঃস্থলের পরম শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করছি 🙏🌿🌸। ভক্তিপূর্ণ হৃদয়ে অনন্ত প্রণাম শ্রদ্ধেয় গুরু মহারাজ,🙏। জয় দিব্যত্রয়ী'র জয় 🙏🙏🙏। সুজাতা দে লন্ডন থেকে।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো মহারাজ জী। আপনি আমার প্রণাম গ্ৰহণ করবেন।
Deleteসোমা চক্রবর্তী দিল্লি
খুবই ভালো লাগে লেখা গুলো পড়তে! আপনার চরণে ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করছি মহারাজ!🙏🏻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteখুব ভাল লাগল।পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।প্রণাম মহারাজ।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্ব
ReplyDeleteKhub bhalo laglo। প্রণাম মহারাজ। 🙏🙏🙏
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো পরের পর্বে জানতে ইচ্ছে করছে কেমন ভাবে আবার স্থূল শরীরে। ফিরে এলেন প্রণাম গ্রহন করবেন মহারাজ
ReplyDeleteপ্রণাম। মহারাজ
ReplyDeleteখুব ভালো লাগছে
আমার প্রণাম গ্রহণ করবেন মহারাজ
সোনালী ভট্টাচার্য্য। হাওড়া