শ্রীমদ্ ভাগবত পুরাণ
প্রথম স্কন্ধ / নবম অধ্যায়
সূত উবাচ
ইতি ভীতঃ প্রজাদ্রোহাৎ
সর্বধর্ম্বিবিৎসয়া।
ততো বিনশনং প্রাগাদ্
যত্র দেবব্রতো৳পতৎ।।
সরলার্থ – সূত ঋষি
বললেন – কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বহু প্রজা হত্যা
করার জন্য ভীত হয়ে যুধিষ্ঠির ধর্মতত্ত্ব জানার জন্য সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রে গমন করলেন।
তদা তে ভ্রাতরঃ সর্বে
সদশ্বৈঃ স্বর্ণভূষিতৈঃ।
অন্বগচ্ছন্ রথৈবিপ্রা
ব্যাসধৌম্যাদয়স্তথা।।
সরলার্থ – সে সময়
অন্যান্য ভাইয়েরা স্বর্ণ অলংকারে সজ্জিত হয়ে অশ্ব চালিত রথে চড়ে যুধিষ্ঠিরের পেছনে
যেতে লাগলেন। তাঁদের সঙ্গে ব্যাসদেব, পাণ্ডবদের প্রধান পুরোহিত ধৌম্যের মতো ঋষিরা ও
অন্যেরা ছিলেন।
দৃষ্ট্বা নিপতিতং ভূমৌ
দিবশ্চ্যুতমিবামরম্ ।
প্রণেমুঃ পাণ্ডবা ভীষ্মং
সানুগাঃ সহ চক্রিণা।.১.৯.৪
সরলার্থ - আকাশ থেকে বিচ্যুত এক দেবতার মতো ভীষ্মদেবকে ভূমিতে
পড়ে থাকতে দেখে যুধিষ্ঠির অন্যান্য ভ্রাতা ও শ্রীকৃষ্ণ তাঁর উদ্দেশ্যে প্রণতি নিবেদন
করলেন।
কৃষ্ণঞ্চ তৎ প্রভাবজ্ঞ
আসীনং জগদীশ্বরম্।
হৃদিস্থং পূজয়ামাস মায়য়োপাত্তবিগ্রহম্।।
১.৯.১০
সরলার্থ – ভীষ্ম নিকটে
সমবেত পূজনীয় ঋষিদের দেখে তাঁদের যথোপযুক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন।
অহো কষ্টমহো৳ন্যায্যং
যদ্ যূয়ং ধর্মনন্দনাঃ।
জীবিতুং নার্হথ ক্লিষ্টং বিপ্রধর্মাচ্যুতাশ্রয়াঃ।। ১.৯.১২
সরলার্থ – ভীষ্মদেব
বললেন – তোমরা ধর্মপুত্র, ব্রাহ্মণ, ধর্ম ও শ্রীকৃষ্ণের
একান্ত আশ্রিত। তোমরা কখনই কষ্টময় জীবন যাপন করার যোগ্য নও, তবুও তাই করছ, হায় ! এ
বড়ই অন্যায়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
যত্র ধর্মসুতো রাজা
গদাপাণির্বৃকোদরঃ।
কৃষ্ণো৳স্ত্রী গাণ্ডিবং
চাপং সুহৃৎকৃষ্ণস্ততো বিপৎ।। ১.৯.১৫
সরলার্থ – যেখানে
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির, গদাহস্তে ভীম,অস্ত্রধারী অর্জুন, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের মতো পরম বন্ধু,-
সেখানেও বিপদের শেষ নেই।
এষ বৈ ভগবান্ সাক্ষাদাদ্যো
নারায়ণঃ পুমান্।
মোহয়ন্ মায়য়া লোকং
গূঢ়শ্চরতি বৃষ্ণিষু।। ১.৯.১৮
সরলার্থ – এই কৃষ্ণই
সাক্ষাৎ ভগবান, আদি পুরুষ নারায়ণ, তথাপি ইনি কৃপা করে নিজের ভক্তদের আনন্দ দেবার জন্য
যদুকুলে অবতীর্ণ হয়ে ভক্তিহীনদের বুদ্ধির অগোচর নানা লীলা করে থাকেন।
অস্যানুভাবং ভগবান্
বেদ গুহ্যতম্ শিবঃ।
দেবর্ষিনারদঃ সাক্ষাদ্ভগবান্
কপিলো নৃপ।।১.৯.১৯
সরলার্থ – হে রাজন,
শিব, দেবর্ষি নারদ ও ভগবানের অবতার কপিলদেব আদি সকলেই সাক্ষাৎ সংস্পর্শের মাধ্যমে তাঁর
অতি নিগূঢ় মহিমা সম্বন্ধে জানেন।
সর্বাত্মনঃ সমদৃশো হ্যদ্বয়স্যানহঙ্কৃতেঃ।
তৎকৃতং মতিবৈষম্যং নিরবদ্যস্য
ন ক্বচিৎ।।১.৯.২১
সরলার্থ – পরমেশ্বর
ভগবান তিনি প্রত্যেকের হৃদয়ে বিরাজমান। তিনি সকলের প্রতি সমভাবে করুণাশীল, ভেদবুদ্ধি
ও অভিমান শূন্য এবং সকল প্রকার আসক্তি শূন্য।
তথাপ্যেকান্তভক্তেষু
পণ্য ভূপানুকম্পিতম্।
যন্মে৳সূংস্ত্যজতঃ সাক্ষাৎ
কৃষ্ণো দর্শনমাগতঃ।।১.৯.২২
সরলার্থ -সকলের প্রতি
সমদর্শী হওয়া সত্ত্বেও আমার জীবনের অন্তিম সময়ে কৃপা করে আমাকে দর্শন দিতে এসেছেন,
কারণ আমি তাঁর ঐকান্তিক সেবক।
ভক্ত্যাবেশ্য মনো যস্মিন্
বাচা যন্নাম কীর্তয়ন্।
ত্যজন্ কলেবরং যোগী
মুচ্যতে কামকর্মভিঃ।।১.৯.২৩
সরলার্থ – যে সব ভক্ত
ভক্তিসমাহিত চিত্তে তাঁর ভাবে আবিষ্ট হয়ে তাঁর মহিমা কীর্তন করেন, তিনি তাঁদের দেহত্যাগের
সময় সকাম কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করেন।
সময়ে কৃপা করে আমাকে দর্শন দিতে এসেছেন,
কারণ আমি তাঁর ঐকান্তিক সেবক।
ভক্ত্যাবেশ্য মনো যস্মিন্
বাচা যন্নাম কীর্তয়ন্।
ত্যজন্ কলেবরং যোগী
মুচ্যতে কামকর্মভিঃ।।১.৯.২৩
সরলার্থ – যে সব ভক্ত
ভক্তিসমাহিত চিত্তে তাঁর ভাবে আবিষ্ট হয়ে তাঁর মহিমা কীর্তন করেন, তিনি তাঁদের দেহত্যাগের
সময় সকাম কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করেন।
স দেবদেবো ভগবান্ প্রতীক্ষতাং
কলেবরং যাবদিদং হিনোমহ্যম্।
প্রসন্নহাসারুণলোচনোল্লস-
ন্মুখাম্বুজো ধ্যানপথশ্চতুর্ভুজঃ।।
২৪
সরলার্থ – হে আমার
প্রভু, (ইষ্টরূপ) যিনি চতুর্ভজ ও যাঁর বদন কমল নতুন সূর্যের মত রক্তিম। প্রভুল্ল হাস্য
, তিনি কৃপা করে আমার এই দেহ ত্যাগ করার মুহূর্তে আমার জন্য প্রতীক্ষা করুন।
সূত উবাচ
যুধিষ্ঠিরস্তদাকর্ণ্য
শয়ানং শরপঞ্জরে।
অপৃচ্ছদ্বিবিধান্ধর্মানৃষীণাং
চানুশৃণ্বতাম্ ।।২৫
সরলার্থ – সূত ঋষি
বললেন – ভীষ্মদেবের সেই মর্মস্পর্শী বাক্য শ্রবণ
করে মহারাজ যুধিষ্ঠির সমস্ত মহান ঋষিদের সামনে শরশয্যাতে ভীষ্মদেবের কাছে বিভিন্ন নীতি
নিয়মাদি সংক্রান্ত প্রশ্ন জিজ্ঞসা করতে লাগলেন।
পুরুষস্বভাব্বিহিতান্
যথাবর্ণং যথাশ্রমম্।
বৈরাগ্যরাগোপাধিভ্যামাম্নাতোভয়লক্ষণান্।।
২৬
সরলার্থ – রাজা যুধিষ্ঠিরের
প্রশ্নের উত্তরে ভীষ্মদেব মানুষের স্বভাব ও যোগ্যতা অনুসারে সমস্ত আশ্রম ও বর্ণ বিভাগের
সজ্ঞা বললেন। তার পর তিনি অনাসক্তির প্রতিরোধী ক্রিয়া আর আসক্তির অন্তঃক্রিয়ায়া বর্ণনা
করলেন।
দানধর্মান্ রাজধর্মান্
মোক্ষধর্মান্ বিভাগশঃ।
স্ত্রীধর্মান্ ভগবদ্ধর্মান্
সামসব্যাসযোগতঃ।।২৭
সরলার্থ – এরপর ভীষ্ম
বিভাগ অনুসারে দানধর্ম, রাজধর্ম ও মোক্ষধর্ম ব্যাখ্যা করলেন। তারপর স্ত্রীলোক ও ভক্তদের
কর্তব্য সংক্ষেপে ও বিস্তারে দুভাবেই বললেন।
ধর্মার্থকামমোক্ষাংশ্চ
সহোপায়ান্ যথা মুনে।
নানাখ্যানেতিহাসেষু
বর্ণায়ামাস তত্ত্ববিৎ।। ২৮
সরলার্থ – তারপর ভীষ্মদেব
ধর্ম অর্থ কাম ও মোক্ষের উপায় যথাপূর্বক বর্ণনা প্রসঙ্গে ইতিহাস থেকে দৃষ্টান্ত দিয়ে
বিভিন্ন বর্ণ ও আশ্রমের কর্তব্য কর্ম সম্বন্ধে বললেন।
ধর্মং প্রবদতস্তস্য
স কালঃ প্রত্যুপস্থিতঃ।
যো যোগিনশ্ছন্দমৃত্যোর্বাঞ্ছিতস্তূত্তরায়ণঃ
।।২৯
সরলার্থ – ভীষ্মদেব
যখন উপদেশ দিচ্ছিলেন তখন সূর্যের গতিপথ উত্তর গোলার্ধের অভিমুখী হয়। সিদ্ধ যোগীরা যারা
ইচ্ছানুসারে দেহত্যাগ করতে চান তারা এই বিশেষ সময়ের অভিলাষ করেন।
তদোপসং হৃত্য গিরঃ সহস্রণী
র্বিমুক্তসঙ্গং মন আদিপুরুষে।
কৃষ্ণে লসৎপীতপটে চতুর্ভুজে
পুরঃস্থিতে৳মীলিতদৃগ্ব্যধারয়ৎ।।
৩০
সরলার্থ – যিনি নানা
বিষয়ে উপদেশ দিতেন, কতো রণাঙ্গনে সংগ্রাম করেছেন, হাজার হাজার মানুষকে রক্ষা করেছিলেন
তিনি এখন অন্য কথা বলা বন্ধ করলেন, সমস্ত বিষয় থেকে মনকে সরিয়ে নিলেন, তাঁর চোখের সামনে
দীপ্তিময় চতুর্ভুজ পরম পুরুষ শ্রীভগবান। এখন সেই দিকে নির্নিমেষ দ্রৃষ্টি স্থির করলেন।
বিশুদ্ধয়া ধারণয়া হতাশুভ-
স্তদীক্ষয়ৈবাশু গতায়ুধশ্রমঃ।
নির্বৃত্তসর্বেন্দ্রিয়বৃত্তিবিভ্রম-
স্তুষ্টাব জন্যং বিসৃজন্
জনার্দনম্ ।।৩১
সরলার্থ – ধ্যানে
মগ্ন হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দর্শন লাভ করার ফলে তিনি সমস্ত অশুভ বিষয় থেকে মুক্ত হয়ে
গেলেন, শরাঘাতে প্রাপ্ত দেহের আঘাতে বেদনার উপশম হল। ইন্দ্রিয়ের বাইরের কাজ বন্ধ হয়ে
গিয়েছিল। দেহত্যাগ করার পূর্বে তিনি ভগবানের উদ্দেশ্যে স্তব করতে লাগলেন।
শ্রীভীষ্ম উবাচ
ইতি মতিরুপকল্পিতা বিতৃষ্ণা
ভগবতি সাত্বতপুঙ্গবে
বিভূম্নি।
স্বসুখমুপগতে ক্বচিদ্বিহর্তুং
প্রকৃতিমুপেয়ুষি যদ্ভবপ্রবাহঃ।।৩২
সরলার্থ – ভীষ্মদেব
বললেন আমার চিন্তা, অনুভব ইচ্ছা যা এতদিন বিভিন্ন বিষয় ও কর্তব্যে নিয়োজিত ছিল এখন
শ্রীভগবানে নিযুক্ত হোক। ভগবান সর্বদা আত্মতৃপ্ত কিন্তু কখনও কখনও এই জগতে তিনি অবতীর্ণ
হন। অপার আনন্দ অনুভব করেন ,যদিও এই জগৎ তাঁর থেকেই সৃষ্ট হয়েছে।
ত্রিভুবনকমনং তমালবর্ণং
রবিকরগৌরবরাম্বরং দধানে।
বপুরলককুলাবৃতাননাব্জং
বিজয়সখে রতিরস্তু মে৳নবদ্যা।।৩৩
সরলার্থ – যাঁর দেহ
ত্রিভুবনের মধ্যে সব থেকে সুন্দর, তমালের মতো নীলাভ বর্ণ, সূর্য কিরণের মতো নির্মল
দীপ্ত বসনে বিভূষিত, রাশি রাশি কুঞ্চিত কেশদামে আবৃত শ্রীমুখ আচ্ছাদিত দিব্য শরীর ধারী
সেই অর্জুন সখা শ্রীকৃষ্ণে আমার কর্মফল বাসনা রহিত অকপট মতি হোক।
যুধি তুরগরজোবিধুম্রবিষৃক্-
কচলুলিতশ্রমবার্যলঙ্কৃতাস্যে।
মম নিশিতশরৈর্বিভিদ্যমান-
ত্বচি বিলসৎকবচে৳স্তুকৃষ্ণ
আত্মা।।৩৪
সরলার্থ –কুরুক্ষেত্র
যুদ্ধে তাঁর সেই বিলক্ষণ মূর্তি আমার মনে আসছে। তাঁর মুখমণ্ডলে ইতস্তত সঞ্চারিত কেশরাশি
ঘোড়ার খুরে ওঠা ধুলোতে মলিন হয়ে গিয়েছিল আর তাঁর মুখ মণ্ডলে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু চকচক
করছিল। আমি আমার তীক্ষ্ণ শরাঘাতে তাঁর শরীর
ক্ষতবিক্ষত করেছিলাম। সেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার মন, প্রাণ, চিত্ত সমর্পিত
হোক।
সপদি সখিবচো নিশম্য
মধ্যে
নিজপরয়োর্বলয়ো রথং নিবেশ্যে।
স্থিতবতি পরসৈনিকায়ুরক্ষ্ণা
হৃতবতি পার্থসখে রতির্মমাস্তু।।৩৫
সরলার্থ – অর্জুনের
আদেশ পালনের জন্য তাঁর সখা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে অর্জুন ও দুর্যোধনের সৈন্যদের মাঝখানে তাঁর রথটি নিয়ে গিয়েছিলেন
এবং তখন সেখানে তাঁর কৃপা-কটাক্ষের দ্বারাই বিপক্ষ দলের আয়ু হরণ করে নিলেন। শত্রুর
দিকে শুধুমাত্র তাঁর দৃষ্টিপাতের ফলেই তা হল।আমার চিত্ত সেই শ্রীকৃষ্ণে নিবদ্ধ হোক।
ব্যবহিতপৃতনামুখং নিরীক্ষ্য
স্বজনবধাদ্বিজমুখস্য
দোষবুদ্ধ্যা।
কুমতিওমহরদাত্মবিদ্যয়া
য-
শ্চরণরতিঃ পরমস্য তস্য
মে৳স্তু।। ৩৬
সরলার্থ – দূরে পূতনা
নামক সেনাবাহিনীর অগ্রভাগে অবস্থিত ভীষ্ম প্রভৃতিকে
দেখে অর্জুন যখন মায়াবশত স্বজনবধ থেকে প্রতিনিবৃত্ত হলেন, তখন তাঁর সেই দুর্মতিতে যিনি
নিজের প্রজ্ঞাসহায়ে হরণ করেছিলেন, সেই পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে আমার অনুরাগ হোক।
ত্রিভুবনকমনং তমালবর্ণং
রবিকরগৌরবরাম্বরং দধানে।
বপুরলককুলাবৃতাননাব্জং
বিজয়সখে রতিরস্তু মে৳নবদ্যা।।৩৩
সরলার্থ – যাঁর দেহ
ত্রিভুবনের মধ্যে সব থেকে সুন্দর, তমালের মতো নীলাভ বর্ণ, সূর্য কিরণের মতো নির্মল
দীপ্ত বসনে বিভূষিত, রাশি রাশি কুঞ্চিত কেশদামে আবৃত শ্রীমুখ আচ্ছাদিত দিব্য শরীর ধারী
সেই অর্জুন সখা শ্রীকৃষ্ণে আমার কর্মফল বাসনা রহিত অকপট মতি হোক।
যুধি তুরগরজোবিধুম্রবিষৃক্-
কচলুলিতশ্রমবার্যলঙ্কৃতাস্যে।
মম নিশিতশরৈর্বিভিদ্যমান-
ত্বচি বিলসৎকবচে৳স্তুকৃষ্ণ
আত্মা।।৩৪
সরলার্থ –কুরুক্ষেত্র
যুদ্ধে তাঁর সেই বিলক্ষণ মূর্তি আমার মনে আসছে। তাঁর মুখমণ্ডলে ইতস্তত সঞ্চারিত কেশরাশি
ঘোড়ার খুরে ওঠা ধুলোতে মলিন হয়ে গিয়েছিল আর তাঁর মুখ মণ্ডলে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু চকচক
করছিল। আমি আমার তীক্ষ্ণ শরাঘাতে তাঁর শরীর
ক্ষতবিক্ষত করেছিলাম। সেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার মন, প্রাণ, চিত্ত সমর্পিত
হোক।
সপদি সখিবচো নিশম্য
মধ্যে
নিজপরয়োর্বলয়ো রথং নিবেশ্যে।
স্থিতবতি পরসৈনিকায়ুরক্ষ্ণা
হৃতবতি পার্থসখে রতির্মমাস্তু।।৩৫
সরলার্থ – অর্জুনের
আদেশ পালনের জন্য তাঁর সখা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে অর্জুন ও দুর্যোধনের সৈন্যদের মাঝখানে তাঁর রথটি নিয়ে গিয়েছিলেন
এবং তখন সেখানে তাঁর কৃপা-কটাক্ষের দ্বারাই বিপক্ষ দলের আয়ু হরণ করে নিলেন। শত্রুর
দিকে শুধুমাত্র তাঁর দৃষ্টিপাতের ফলেই তা হল।আমার চিত্ত সেই শ্রীকৃষ্ণে নিবদ্ধ হোক।
ব্যবহিতপৃতনামুখং নিরীক্ষ্য
স্বজনবধাদ্বিজমুখস্য
দোষবুদ্ধ্যা।
কুমতিওমহরদাত্মবিদ্যয়া
য-
শ্চরণরতিঃ পরমস্য তস্য
মে৳স্তু।। ৩৬
সরলার্থ – দূরে পূতনা
নামক সেনাবাহিনীর অগ্রভাগে অবস্থিত ভীষ্ম প্রভৃতিকে
দেখে অর্জুন যখন মায়াবশত স্বজনবধ থেকে প্রতিনিবৃত্ত হলেন, তখন তাঁর সেই দুর্মতিতে যিনি
নিজের প্রজ্ঞাসহায়ে হরণ করেছিলেন, সেই পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণে আমার অনুরাগ হোক।
স্বনিগমমহায় মৎপ্রতিজ্ঞাং
ঋতমধিকর্তুমবপ্লুতো
রথস্থঃ।
ধৃতরথচরণো৳ভ্যয়াচ্চলদ্গুঃ
হরিরিব হন্তুমিভং গতোত্তরীয়ঃ
।।৩৭
সরলার্থ – শ্রীকৃষ্ণ
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ‘অস্ত্রধারণ করব না’ – এই প্রতিজ্ঞা
করে ছিলেন। ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবেন। শ্রীকৃষ্ণ নিজের
প্রতিজ্ঞা লঙ্ঘন করে আমার প্রতিজ্ঞাকে সত্যে পরিনত কররা জন্য লাভ দিয়ে নিচে নেমে এসে
রথের চাকা ধরে ছিলেন। তাঁর পায়ের ভারে পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল। উত্তরীয় খুলে পড়ে গিয়েছিল।
সিংহ যেমন হাতিকে বধ করার জন্য ছুটে যায় সেই ভাবে আমার দিকে ছুটে এসে ছিলেন।
শিতবিশিখহতো বিশীর্ণদংশঃ
ক্ষতজপরিপ্লুত আততায়িনো
মে।
প্রসভমভিসসার মদ্বধার্থং
স ভবতু মে ভগবান্ গতির্মুকুন্দঃ।।
৩৮
সরলার্থ – আততায়ী আমার তীক্ষ্ণ শরের আঘাতে জর্জরিত, রক্তাপ্লুত যিনি
প্রবল নিষেধ অগ্রাহ্য করে, আমাকে বধ করার জন্য আমার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন, সেই মুকুন্দ
ভগবান আমার সহায় হোন।
বিজয়রথকুটুম্ব আত্ততোত্রে
ধৃতহয়রশ্মিনি তচ্ছ্রিয়েক্ষণীয়ে।
ভগবতি রতিরস্তু মে মুমূর্ষোঃ
যমিহ নিরীক্ষ্য হতা
গতাঃ স্বরূপম্ ।। ৩৯
সরলার্থ – যুদ্ধে
নিহত যোদ্ধাগণ যাঁকে দর্শন করেই মোক্ষলাভ করেছে, ডান হাতে কশা ও বাম হাতে রশ্মি বা
লাগাম ধারণ করে যিনি অপূর্ব দর্শনীয় শোভা ধারণ
করেছেন, সেই পার্থ সারথির প্রতি আমার অনুরাগ হোক।
ললিতগতি বিলাস বল্গুহাস-
প্রণয়নিরীক্ষণক্লল্পিতোরুমানাঃ।
কৃতমনুকৃতবত্য উন্মদান্ধাঃ
প্রকৃতিমগন্ কিল যস্য
গোপবধ্বঃ।। ৪০
সরলার্থ -কৃষ্ণের কাছ
থেকে নৃত্য ভঙ্গিমা,রাস প্রভৃতি বিলাস বহু সমাদর প্রাপ্ত হয়ে প্রেম গর্বে গর্বিত ব্রজগোপীরা
পাগলের মতো কৃষ্ণের গোবর্ধন ধারণ ইত্যাদি লীলা অনুকরণ করে করে কৃষ্ণের স্বরূপ প্রাপ্ত
হয়েছিলেন বলে প্রসিদ্ধ আছে।
মুনিগণনৃপবর্যসঙ্কুলে৳ন্তঃ-
সদসি যুধিষ্ঠিররাজসূয়
এষাম্।
অর্হণমুপপেদ ঈক্ষণীয়ো
মম দৃশিগোচর এষ আবিরাত্মা।।
৪১
সরলার্থ – মহারাজ
যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে সমস্ত মুনি,ঋষি ও শ্রেষ্ঠ রাজারা উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই সভায়
শ্রীকৃষ্ণ সকলের দ্বারা পূজিত হয়েছিলেন। আমি তা প্রত্যক্ষ দর্শন করেছিলাম। তাঁর চরণে
আমার চিত্ত নিবদ্ধ করার জন্য আমি সেই ঘটনা স্মরণ করছি।
তমিমমহমজং শরীরভাজাং
হৃদি হৃদি ধিষ্ঠিতমাত্মকল্পিতানাম্।
প্রতিদিশমিব নৈকধার্কমেকং
সমধিগতোহস্মি বিধূতভেদমোহঃ।।
৪২
সরলার্থ – সূর্য এক
হয়েও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে যেমন বহু দেখায়, সে রকম প্রতিটি জীবের হৃদয়ে অধিষ্ঠান করায়
বহু বলে মনে হয়। আমার এখন দ্বৈত ভাব ও মোহ দূরীভূত হওয়ায় সেই জন্মহীন পরমাত্মাকে আমার
মধ্যে সম্যকভাবে লাভ করেছি।
contd.......
Joy ঠাকুর জয় মা জয় স্বামীজী প্রণাম নিও। প্রণাম বাবা মহারাজ জী।
ReplyDeletePronum janai Thakur Ma Swamijike pronum janai Maharaj apnake
DeleteJoy Sreekrishna , Bhagabat kathar p.d.f peye khub bhalo laglo .
Subhrasree Daw . Rishra.
Deleteজয় ঠাকুর জয় মা জয় স্বামীজী মহারাজ প্রণাম, প্রণাম নেবেন আচার্য্যদেব। PDF পেয়ে খুব উপকার হলো।
Deleteমৌসুমী রায় কোচবিহার।
🙏🙏পড়ে খুব ভালো লাগছে, শ্রদ্ধা সহকারে সমস্ত আচার্য দের প্রনাম জানাই,🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
Deleteঅপার করুণা সিন্ধু দীনের দীনবন্ধু ।🙏জয় ভগবান🙏
Delete🕉🙏🏻🙏🏻🙏🏻🕉
ReplyDeleteজয় ভাগবত কথা।কত কি জানতে পারছি মহারাজ জী আপনার দৌলতে।🙏🙏
ReplyDeleteওঁ নমঃ ভগবতে বাসুদবায় নমঃ। ভক্তি প্রদান কর আমার প্রিয় ভগবান। জ্ঞান চক্ষু খুলে দাও প্রভু।
ReplyDeleteভাগ বত,কথা জানতে পারছি, এটা আমাদের পরম সৌভাগ্য, প্রণাম নেবেন মহারাজ, ভালো থাকবেন, asima batabyal howrah
ReplyDeleteJoy sree madbhagbat puran🙏Pranam maharajji..🏵🙏🏵
ReplyDeleteOm Shree Krishnayo Govindayo Namo Namaha 🌷 🌼 🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌼🙏. Aaj, 1st scandha et 9th chapter er byakhya srobon Korey aro Shreemat Vagabat er Gyan sikhya grohon kortey parbo 🙏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷 🙏
ReplyDeleteUPoriukto comments by Parbati Banerjee, Siliguri
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী 🙏 অনুধ্যানের আগে pdf পেয়ে উপকৃত হলাম🙏
ReplyDeleteDebjani pronam Maharaj🙏
ReplyDeletePronam maharaj. Pdf peye khub upokrito holam.
ReplyDeletePromam Maharajji thank you for p d f
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ!🙏🏻💐🙏🏻
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী 🙏 অনুধ্যানের আগে pdf পেয়ে উপকৃত হলাম।
ReplyDeleteরূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম
প্রণাম আচার্য্য দেব। PDF পেয়ে অনেক সুবিধা হলো।
Deleteসশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ 🙏🌷🙏 খুবই উপকৃত হলাম। পড়েও খুব লাগলো 🙏🌷🙏 পরবর্তী লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম 🙏
ReplyDeleteদেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏
স্বভক্তি আন্তরিক প্রণাম জানাই আপনার শ্রীচরণে 🙏। শ্রী মদ্ ভাগবত পুরান - ৯ম অধ্যায়ের pdf পেয়েছি , যা আপনি সবসময় পাঠিয়ে থাকেন এবং অত্যন্ত উপকৃত হই। সংরক্ষণও করে রাখি। অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ReplyDeletePranam maharaj khub bhalo laglo
ReplyDeletePronam neben maharaj ji 🙏. Nabam adhyay er PDF peye khub bhalo laglo. Aage theke pore nebar sujog pelam.
ReplyDeleteRanjita Mazumder, New Delhi
জয় ঠাকুর প্রণাম নিও
Deleteপ্রনাম ঠাকুর মা স্বামীজি।প্রনাম নেবেন মহারাজ। পূর্ব বর্ধমান। manjushri Bhattacharya.
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ, ভাগবত কথা জানতে পেরে খুব ভাল লাগছে , অনেক সম্বৃদ্ধ হচ্ছি , অসংখ্য ধন্যবাদ মহারাজ , রীতা ভৌমিক ভিলায়
ReplyDeleteভক্তিপূর্ণ প্রনাম মহারাজ জী 🙏
ReplyDeleteসুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট
মহারাজ 🙏আগ্রহ বৃদ্ধি হচ্ছে আপনার সুন্দর
ReplyDeleteউপস্থাপনা র জন্যে। অনেক enlightened feel করছি। 🙏
মহারাজ,খুব ভালো লাগছে ভাগবত পাঠ করে।শ্রদ্ধাসহ প্রণাম জানাই।
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর
প্রণাম নেবেন মহারাজ জি । আন্তরিক ভাবে অভিবাদন গ্রহণ করবেন । কৃতজ্ঞ থাকবো । ।
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ প্রনাম মহারাজ 🙌 পরবর্তী pdf পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম 🙏
ReplyDeleteOm Shree Krishnayo Govindayo Namo Namaha 🌼 🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌼 🌿 🙏. Ki opurbo Swang Pitamoho Vishmodev er ontim yatra sompurno Vagabat Darshan e ontor poripurno bidhyoman chilo 🌷🌷🙏🙏.
ReplyDeleteParbati Banerjee, Siliguri
সব কিছু জানতে পারছি মহারাজ জী।খুব ভালো লাগছে।
ReplyDeleteমহারাজ এখন ই দেখলাম আপনি pdf পাঠিয়েছেন ...কিছু টা পড়ে ফেললাম খুব ভালো লাগলো ।ক্লাস করতে সুবিধে হবে। আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteরীতা দত্ত, kharagpur.
ভাগবতের পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হচ্ছি মহারাজ। আমি খাতায় পরপর লিখে রাখছি।ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন মহারাজ। 🙏💐
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর
শ্রদ্ধেয় গুরু মহারাজজী, আন্তরিক প্রণাম। ভাগবত পাঠের ১ম স্কন্ধের ৯ম অধ্যায়ের পিডিএফ অনুধ্যানের আগেই পেয়ে খুব আনন্দিত হলাম; যা সবসময়ই পাঠিয়ে থাকেন । অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ReplyDelete🙏💐🙏
ReplyDeletePdf Paya khub valo laglo pronam Maharajji thank you for p d f sustho thakun valo thakun.aparna Roy Chowdhury
ReplyDeleteঅপূর্ব লাগলো মহারাজ ,এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম। অমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রসন্নতা অনুভব করি যে, আপনার মতো মহানুভব মহারাজের সান্নিধ্য পেয়ছি।জয় ঠাকুর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের জয়। ভালো থাকবেন মহারাজ 🙏🌷🙏পরবর্তী লেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম
ReplyDeleteদেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏🌷🙏
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDelete🙏🌹🙏
ReplyDelete🕉️👏🌺⚜️🙏 প্রণাম নাও ঠাকুর মা ও স্বামীজি ⚛️⚛️🔯⚛️🕉️🙏 প্রণাম নিবেন মহারাজ জি 🙏👏🙏🙏
ReplyDeleteকথা
ReplyDelete🕉️🙏🏻 জয় ঠাকুর মা ও স্বামীজি।🙏🏻🙏🏻 প্রণাম নিন মহরাজ জি 🌹🌹🌻✋💮🕉️ উপকৃত হলাম। কোনো কিছুই বলার অপেক্ষা রাখে না ।🌹🌹🌹🌹🌻🌻🕉️
ReplyDeleteশ্রদ্ধেয় মহারাজ, অত্যন্ত আনন্দিত ও উপকৃত ভাগবত ১ম স্কন্ধ ৯ম অধ্যায়ের pdf পেয়ে যা সবসময়ই পাঠিয়ে দেন। সংরক্ষণও করে রাখি কপি,পেস্ট করে laptop এ। আন্তরিক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। পরিপূর্ণ সুস্থ থাকেন এক্সন্তভাবে প্রার্থনা করি 🙏।
ReplyDeleteমহারাজ পিডিএফ পেয়ে পাঠ শুনলে খুব ভালো হয়।ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন মহারাজ। শ্রদ্ধাসহ প্রণাম জানাই। 🙏💐
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর