অনাদেরপি বিধ্বংস্নগ প্রাগভাবস্য বীক্ষিতঃ।
যদবুদ্ধ্যুপাধিসম্বন্ধাৎ পরিকল্পিত্মাত্মনি্ ।।২০০
জীবত্বং তু ততো৳ন্যস্তু স্বরূপেণ বিলক্ষণঃ।
সম্বন্ধস্ত্বাত্মনো বুদ্ধ্যা মিথ্যাজ্ঞানপুরঃসরঃ।। ২০১
সরলার্থ – প্রাগভাব অনাদি হলেও
তার বিনাশ দেখা যায়। কাজেই বুদ্ধিরূপ উপাধির সঙ্গে সংযোগ থেকে আত্মার মধ্যে যে জীবভাবের
প্রকাশ হয় তা কল্পিত। আত্মা স্বরূপে জীবের থেকে আলাদা। বুদ্ধির সঙ্গে আত্মার সম্বন্ধ
মিথ্যাজ্ঞান থেকে উৎপন্ন।
বিনিবৃত্তির্ভবেৎ তস্য সম্যগ্জ্ঞানেন নান্যথা।
ব্রহ্মাত্মৈকত্ববিজ্ঞানং সম্যগ্জ্ঞানং শ্রুতের্মতম্।।২০২
সরলার্থ – যথার্থ জ্ঞানের দ্বারা জীবের অবিদ্যারূপ উপাধির বিনাশ হয়, অন্য কোন উপায়ে তার নাশ হয় না। ব্রহ্মের সঙ্গে আত্মার একত্ব অনুভবই জ্ঞান, শ্রুতি তাই বলেন।
তদাত্মানাত্মনোঃ সম্যগ্বিবেকেনৈব সিদ্ধ্যতি।
ততো বিবেকঃ কর্তব্যঃ প্রত্যগাত্মসদাত্মনোঃ।২০৩
সরলার্থ – আত্মা কি, অনাত্মাই
বা কি, এই বিচার যথাযথ ভাবে করতে পারলে আত্মজ্ঞানের উৎপত্তি হয়। অতএব জীব ও
ব্রহ্মের স্বরূপ বিচারের দ্বারা নির্ণয় করা কর্তব্য।
জলং পঙ্কবদত্যন্তং পঙ্কাপায়ে জলং স্ফুট্ম্।
যথা ভাতি তথাত্মাপি দোষাভাবে স্ফুটপ্রভঃ।।২০৪
সরলার্থ – অত্যন্ত কর্দমাক্ত
জল যেমন ফটকিরি ইত্যাদির দ্বারা কাদা থিতিয়ে যাওয়ার পর স্বচ্ছ ও নির্মল হয়ে যায়, অবিদ্যা-দোষ
দূরীভূত হলে আত্মাও সেরূপ স্ব-মহিমায় প্রকাশ পায়।
অসন্নিবৃত্তৌ তু সদাত্মনা স্ফুটং প্রতীতিরেতস্য ভবেৎ প্রতীচঃ।
ততো নিরাসঃ করণীয় এব সদাত্মনঃ সাধ্বহমাদিবস্তুনঃ।।২০৫
সরলার্থ - মিথ্যা জ্ঞানের
নিবৃত্তি হলে জীবের অন্তরতম আত্মাই যে নিত্যশুদ্ধ ব্রহ্ম, তা প্রত্যক্ষরূপে অনুভূত
হয়। এই কারণে সম্যক্রূপে বিচারের দ্বারা
অতো নায়ং পরাত্মা স্যাদ্ বিজ্ঞানময়শব্দভাক্।
বিকারিত্বাজ্ জড়ত্বাচ্চ পরিচ্ছিন্নত্বহেতুতঃ।
দৃশ্যত্বাদ্ব্যভিচারিত্বান্নানিত্যো নিত্য ইষ্যতে।। ২০৬
সরলার্থ – পূর্বের আলোচনা থেকে
বিজ্ঞানময় শব্দযুক্ত বস্তু বা বিজ্ঞানময়কোশ কখনও পরমাত্মা হতে পারেন না।কারণ এই বিজ্ঞানময়
কোশ বিকারশীল,জড়, একটা পরিধির মধ্যে আবদ্ধ, দৃশ্যবস্তু ও পরিবর্তনশীল। কাজেই এই অনিত্য
বস্তু কখনও নিত্যবস্তু পরমাত্মা হতে পারে না।
আনন্দপ্রতিবিম্বচুম্বিততনুবৃত্তিস্তমোজৃম্ভিতা
স্যাদানন্দময়ঃ প্রিয়াদিগুণকঃ
স্বেষ্টার্থলাভোদয়ঃ পুণ্যস্যানুভবে বিভাতি কৃতিনামানন্দরূপঃ স্বয়ং
সর্বো নন্দতি যত্র সাধু
তনুভৃন্মাত্রঃ প্রযত্নং বিনা।।২০৭
সরলার্থ -আনন্দময়কোশ
যেন আনন্দস্বরূপ আত্মার প্রতিবিম্বরূপ। কিন্তু অজ্ঞানের দ্বারা আনন্দময় বৃত্তির প্রকাশ
হচ্ছে বলে এ তমোতে আবৃত। বস্তু লাভের ফলে তিন প্রকারের আনন্দ হয় – প্রিয়,
মোদ, প্রমোদ, এ গুলি আনন্দময় কোশের অন্তর্গত। আবার পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠানের ফলে যে আনন্দ
তাও অনন্দময়কোশ-ভুক্ত। জীবমাত্রই বিনা চেষ্টায় পর্যাপ্ত সুখ অনুভব করে কিন্তু এই সুখ
অজ্ঞানমিশ্রিত বিষয়ানন্দ বলে স্থায়ী নয়।
আনন্দময়কোশস্য সুষুপ্তৌ
স্ফূর্তিরুৎকটা।
স্বপ্নজাগরয়োরীষদিষ্টসন্দর্শনাদিনা।।
২০৮
সরলার্থ – আনন্দময়কোশের
সুষুপ্তিতে সর্বাধিক প্রকাশ। স্বপ্নে, জাগরণে, বাঞ্ছিত বস্তুর দর্শন ইত্যাদিতে এই প্রকাশ অল্প।
নৈবায়মানন্দময়ঃ পরাত্মা
সোপাধিকত্বাৎ প্রকৃতের্বিকারাৎ।
কার্যত্বহেতোঃ সুকৃতক্রিয়ায়াঃবিকারসংঘাতসমাহিতত্বাৎ।।২০৯
সরলার্থ – আনন্দময়কোশ
কখনই পরমাত্মা হতে পারে না। কারণ দেহাদি উপাধি যুক্ত , অবিদ্যার জন্যে বিকারশীল, পুণ্যকর্মের
অনুষ্ঠান নির্ভর ও বিকারশীল পঞ্চকোশের অন্তঃস্থ আর জাগ্রৎ স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন
অবস্থার বিকারের সংগে যুক্ত।
পঞ্চানামাপি কোশানাং নিষেধে যুক্তিতঃ শ্রুতেঃ।
তন্নিষেধাবধি সাক্ষী
বোধরূপো৳বশিষ্যতে।। ২১০
সরলার্থ – যুক্তি
ও শ্রুতি প্রমাণের সাহায্যে অন্নময় ইত্যাদি পঞ্চকোশই নেতি নেতি বিচারে মিথ্যা ও অনাত্মা বলে অগ্রাহ্য হয়ে গেলে
যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো সেই সাক্ষীস্বরূপ, বোধস্বরূপ পরমাত্মা।
Comments
Post a Comment