ভাগবত পুরাণ
১ম স্কন্ধ / ৮ম অধ্যায়
সূত উবাচ
অথ সম্পরেতানাং স্বানামুদকমিচ্ছতাম্।
দাতুং সকৃষ্ণা গঙ্গায়াং পুরস্কৃত্য যযুঃ স্ত্রিয়ঃ ।।
সরলার্থ – সূত ঋষি বললেন
- এরপর পরলোকগত আত্মীয় স্বজনদের জন্য জল অর্পণ
করতে পাণ্ডবগণ দ্রৌপদী সহ গঙ্গাতীরে গেলেন। মহিলারা সামনে যাচ্ছিলেন।
তে নিনীয়োদকং সর্বে বিলপ্য চ ভৃশং পুনঃ।
আপ্লুতা হরিপাদাব্জরজঃপূতসরিজ্জলে
॥ ২॥
সরলার্থ – পাণ্ডবেরা মৃতপুত্রদের
উদ্দেশ্যে জলদান করে বিলাপ করতে করতে শ্রীহরির চরণ কমলরেণু পূত জলে আবার স্নান করলেন।
তত্রাসীনং কুরুপতিং ধৃতরাষ্ট্রং সহানুজম্।
গান্ধারীং পুত্রশোকার্তাং
পৃথাং কৃষ্ণাঞ্চ মাধবঃ ।। ৩।।
সান্ত্বয়ামাস মুনিভির্হতবন্ধন্ শুচার্পিতান্।
ভূতেষু কালস্য গতিং দর্শয়ন্নপ্রতিক্রিয়াম্
।। ৪৷৷
সরলার্থ - শ্রীকৃষ্ণ সেই
গঙ্গাতীরে অন্যান্য ঋষিদের সঙ্গে শোককাতর গান্ধারী,কুন্তী,দ্রৌপদীকে
সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। সংসারে জীবমাত্রেই কালের অধীন, মৃত্যুর হাত থেকে কারুরই পরিত্রাণ
নেই।
আমন্ত্র্য পাণ্ডুপুত্রাংশ শৈনেয়োদ্ধবসংযুতঃ
দ্বৈপায়নাদিভির্বিপ্রৈঃ
পূজিতৈঃ প্রতিপূজিতঃ
গন্তুং কৃতমতিব্রহ্মন্ দ্বারকাং রথমাস্থিতঃ
উপলেভে৳ভিধাবন্তীমুত্তরাং
ভয়বিহ্বলাম্ ॥ ৭
সরলার্থ – হে শৌনক, তারপর পাণ্ডবদের
বিদায় জানিয়ে, সাত্যকি ও উদ্ধবসহ দ্বারকায় ফিরে যেতে ইচ্ছুক হয়ে শ্রীকৃষ্ণ যখন রথে
উঠেছেন, তখন দেখলেন যে অভিম্ন্যুপত্নী উত্তরা অত্যন্ত ভয়বিহ্বল হয়ে তাঁর দিকে ছুটে
আসছেন ।
পাহি পাহি মহাযোগিন্ দেবদেব জগৎপতে।
নান্যং ত্বদভয়ং পশ্যে যত্র মৃত্যুঃ পরস্পরম্ ।।৮৷৷
বঙ্গানুবাদ: হে মহাযোগী দেবদেব, জগন্নাথ, আমাকে রক্ষা কর, রক্ষা
কর। তুমি ছাড়া আমার আর কোন ভরসাস্থল নেই, কারণ
এই জগতে একে অন্যের মৃত্যুর হয়ে থাকে॥৮॥
অভিদ্রবতি মামীশ শরস্তপ্তায়সো বিভো।
কামং দহতু মাং নাথ মা মে গর্ভো নিপাত্যতাম্ ।।৯
সরলার্থ – হে সর্বশক্তিমান প্রভু,
উত্তপ্ত লৌহশলাকা যুক্ত বাণ আমার দিকে এগিয়ে আসছে। হে নাথ, এইবাণ বরং আমাকে দগ্ধ করুক,
কিন্তু আমার গর্ভস্থিত শিশুকে যেন বিনষ্ট না করে।
উপধার্য বচস্তস্যা ভগবান্ ভক্তবৎসলঃ।
অপাণ্ডবমিদং কর্তৃং দ্রৌণেরস্ত্রমবুধ্যত।।
১০
সরলার্থ – সূত বললেন ভক্তবৎসল
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উওরার কথা শুনে বুঝতে পারলেন যে পৃথিবীকে পাণ্ডবশূন্য করার জন্য দ্রোণপুত্র
অশ্বত্থামা ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করেছে।
তর্হ্যেবাথ মুনিশ্রেষ্ঠা পাণ্ডবাঃ পঞ্চ সায়কান্।
আত্মনোত৳ভিমুখান্
দীপ্তানালক্ষ্যান্ত্রাণ্যপাদদুঃ ।। ১১
সরলার্থ – সেই সময় নিজেদের দিকে
পাঁচটি জ্বলন্ত বাণকে এগিয়ে আসতে দেখে পাণ্ডবেরা অস্ত্র ধারণ করলেন।
ব্যসনং বীক্ষ্য তত্তেষামনন্যবিষয়াত্মনাম্।
সুদর্শনেন স্বাস্ত্রেণ
স্বানাং রক্ষাং ব্যধাবিভুঃ।। ১২
সরলার্থ – শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের
ঘোর বিপদ লক্ষ্য করে তাঁর নিজ অস্ত্র সুদর্শনের দ্বারা অন্তরঙ্গ পাণ্ডবদের রক্ষা করলেন।
অন্তঃস্থঃ সর্বভূতানামাত্মা যোগেশ্বরো হরিঃ।
স্বমায়য়াহবৃণোদ্ গর্ভং বৈরাট্যাঃ কুরুতম্ভবে।। ১৩
সরলার্থ – যোগেশ্বর হরি সকল জীবে
অন্তর্যামি রূপে থাকলেও কুরুবংশের সন্তানকে রক্ষা করার জন্য উত্তরার গর্ভে যোগবলে প্রবেশ
করলেন ও নিজ মায়াশক্তির দ্বারা গর্ভকে আচ্ছাদন করলেন।
যদ্যপ্যস্ত্রং ব্রহ্মশিরস্তমোঘং চাপ্রতিক্রিয়ম্।
বৈষ্ণবং তেজ আসাদ্য সমশাম্যদ্ ভূগূদ্বহ। ১৪
সরলার্থ – হে শৌনক, যদিও ব্রহ্মশির
অস্ত্রটি অব্যর্থ তবুও বিষ্ণুতেজের সংস্পর্শে তার তেজের তীব্রতা কমে গেল।
মা মংস্থা হ্যেতদাশ্চর্যং সর্বাশ্চর্যময়েহচ্যুতে।
য ইদং মায়য়া দেব্যা সৃজত্যবতি হন্ত্যজঃ ।। ১৫
সরলার্থ – যিনি জন্মহীন অবিকারী,
নিজ মায়াশক্তির দ্বারা সৃষ্টি স্থিতি লয় করেন সেই অতি আশ্চর্যময় অচ্যুতের পক্ষে এটা
আশ্চর্য কিছু নয়।
ব্রহ্মতেজোবিনির্মুক্তৈরাত্মজৈঃ সহ কৃষ্ণয়া।
প্রয়াণাভিমুখং কৃষ্ণমিদমাহ
পৃথা সতী। ১৬
সরলার্থ – কুন্তী, দ্রৌপদী ও
ব্রহ্মতেজ থেকে রক্ষাপ্রাপ্ত পুত্রদের সঙ্গে, দ্বারকার ফিরে যেতে উদ্যত শ্রীকৃষ্ণকে
এই কথা বললেন।
কুন্তী উবাচ
নমস্যে পুরুষং ত্বাহদ্যমীশ্বরং প্রকৃতেঃ পরম্।
অলক্ষ্যং সর্বভূতানামন্তর্বহিরবস্থিতম্
।। ১৭
সরলার্থ – কুন্তী বললেন – হে প্রভু
তুমি সনাতন,সর্বনিয়ন্তা, মায়াতীত পুরুষ। সর্বজীবের অন্তরে ও বাহিরে পূর্ণরূপে থেকেও ইন্দ্রিয়ের অগোচর। তোমাকে প্রণাম
করি।
মায়াযবনিকাচ্ছন্নমজ্ঞাধোক্ষজমব্যয়ম্।
ন লক্ষ্যসে মূঢ়দৃশা নটো
নাট্যধরো যথা।। ১৮
সরলার্থ – মায়া-যবনিকার অন্তরালে,
ইন্দ্রিয়াতীত , সনাতন তোমার স্বরূপ অজ্ঞ আমি উপলব্ধি করতে পারি না। যেমন দক্ষ অভিনেতার
অভিনয় চাতুর্যকে রসজ্ঞানহীন নির্বোধ দর্শক বুঝতে পারে না। সুতরাং আমি তোমাকে কেবল নমস্কার
করি।
তথা পরমহংসানাং মুনীনামমলাত্মনাম্।
ভক্তিযোগবিধানার্থং কথং
পশ্যেম হি স্ত্রিয়ঃ ।। ১৯
সরলার্থ – এই ভাবে তুমি পরমহংস,
মুনি ও শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তিদের ভক্তি শিক্ষা দেবার জন্য আবির্ভূত হয়েছ।আমার মতো অজ্ঞ তথা ভক্তিহীন স্ত্রীলোক
কেমন করে তোমার স্বরূপ বুঝবে?
কৃষ্ণায় বাসুদেবায় দেবকীনন্দনায় চ।
নন্দগোপকুমারায় গোবিন্দায়
নমো নমঃ। ২০
নমঃ পঙ্কজনাভায় নমঃ পঙ্কজমালিনে।
নমঃ পঙ্কজনেত্রায় নমস্তে
পঙ্কজায়ে। ২১
সরলার্থ – কৃষ্ণ, বাসুদেব, দেবকী
নন্দন, নন্দগোপ কুমার,ও গোবিন্দ – এই পাঁচটি ভাব যুক্ত
তোমাকে নমস্কার করি। তোমার নাভিদেশে পদ্ম, কণ্ঠদেশে পদ্মমালা, পদ্মের মত শোভন ও প্রশন্ন
দুটি নয়ন, পদ্মলাঞ্ছিত তোমার চরণযুগল – তোমাকে
নমস্কার করি, নমস্কার করি।
যথা হৃষীকেশ খলেন দেবকী
কংসেন রুদ্ধাতিচিরং শুচার্পিতা।
বিমোচিতাহং চ সহাত্মজা বিভো
ত্বয়ৈব নাথেন মুহুর্বিপদ্গণাৎ
।। ২২
সরলার্থ – হে প্রভু। তুমি নিষ্ঠুর
কংসের দ্বারা কারাগারে অবরুদ্ধ, পুত্রশোকে কাতর দেবকীকে যেমন মুক্ত করেছ,তেমনি আমিও
পুত্রদের সঙ্গে তোমার দ্বারা অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।
বিষান্মহাগ্নেঃ পুরুষাদদর্শনা-
দসৎসভায়া বনবাসকৃতঃ।
মৃধে মৃধেহনেকমহারথাস্ত্রতো
দ্রৌণ্যস্ত্রতশ্চাস্ম হরে৳ভিরক্ষিতাঃ ।। ২৩
সরলার্থ – হে শ্রী হরি ,বিষ,
অগ্নি, রাক্ষস, কপট, পাশাখেলা, বনবাস,যুদ্ধে বড় বড় অস্ত্রাঘাত এমনকি শেষ পর্যন্ত অশ্বত্থামার
ব্রহ্মাস্ত্র থেকে তোমার দ্বারা আমরা রক্ষা পেয়েছি।
বিপদঃ সন্তু নঃ শশ্বত্তত্র তত্র জগদ্গুরো।
ভবতো দর্শনং যৎ স্যাদপুনর্ভবদর্শনম্।।
২৪
সরলার্থ – হে জগদ্ গুরু শ্রীকৃষ্ণ,
সর্বদাই আমাদের সেই রকম বিপদ ঘটুক – যে বিপদে সংসারগতি
নিবারক তোমার দর্শন লাভ ঘটবে।
জন্মৈশ্বর্যশ্রুতশ্রীভিরেধমানমদঃ পুমান্।
নৈবার্হত্যভিধাতুং বৈ
ত্বামকিঞ্চনগোচরম্।। ২৫
সরলার্থ – উচ্চবংশে জন্মলাভ,
বহু বৈভব, বিদ্যা, সৌভাগ্য – এগুলি মানুষের অহং
কার বাড়ায়, দম্ভের বশবর্তী হয়ে তারা তোমার নাম উচ্চারণ করতে পারে না। কিন্তু তুমি দীনের
আশ্রয়স্থল।
নমো৳কিঞ্চনবিত্তায় নিবৃত্তগুণবৃত্তয়ে।
আত্মারামায় শান্তায় কৈবল্যপতয়ে নমঃ।।২৬
সরলার্থ – হে দীনবৎসল, নির্গুণ,
পূর্ণানন্দস্বরূপ, শান্ত, মোক্ষদাতা কৃষ্ণ – তোমাকে
বার বার নমস্কার করি।
মন্যে ত্বাং কালমীশানমনাদিনিধনং বিভুম্ ।
সমং চরন্তং সর্বত্র ভূতানাং যন্মিথঃ কলিঃ।।.২৭
সরলার্থ – হে কৃষ্ণ, তুমি অন্তরে
ও বাহিরে সকল বিষয়েরই নিয়ন্তা, প্রভু। তোমার
আদি অন্ত নেই – সর্বত্র বিরাজিত। তুমি সর্বত্র সম ভাবে
বিরাজ কর, তোমার কাছে কোন বৈষম্য নেই।
ন বেদ কশ্চিদ্ভগবংশ্চিকীর্ষিতং
তবেহমানস্য নৃণাং বিড়ম্বনম্ ।
ন যস্য কশ্চিদ্দয়িতো৳স্তি কর্হিচিদ্
দ্বেষ্যশ্চ যস্মিন্ বিষমা মতির্নৃণাম্।। ২৮
সরলার্থ – কোন কালে তোমার কেউ
প্রিয় নয়, কেউ অপ্রিয়ও নয়। মনুষ্যরূপে তুমি যে
অনুকরণ করছ, সেটা তোমার ইচ্ছায় হচ্ছে। কিন্তু তোমার সেই কাজ মানুষ বুঝতে পারে
না। তারা তোমার মধ্যে অনুগ্রহ – নিগ্রহ এই রকম বৈষম্য
বুদ্ধি করে থাকে।
জন্ম কর্ম চ বিশ্বায়ন্নজস্যাকর্তৃরাজনঃ।
তির্যনূষিযু” যাদঃসু
তদত্যন্তবিড়ম্বনম্।। ২৯
সরলার্থ – হে নিখিলাত্মা, তুমি
জন্মহীন, কর্তৃত্বহীন, নিষ্ক্রিয় হয়েও বরাহ ইত্যাদি পশুরূপে, রাম প্রভৃতি নররূপে, নরনারায়ণ
ইত্যাদি ঋষিরূপে,মৎস্য প্রভৃতি জলজন্তুরূপে
ভিন্ন ভিন্ন সময়ে জন্মগ্রহণ করে যে
লীলা করেছ, তা এক সার্থক নিখুঁত অনুকরণ এবং
বুদ্ধির অগম্য।
গোপ্যাদদে ত্বয়ি কৃতাগসি দাম তাবদ্
যা তে দশাশ্রুকলিলাঞ্জনসম্ভ্রমাক্ষম।
বজ্রং নিনীয় ভয়ভাবনয়া
দ্বিতস্য
সা মাং বিমোহয়তি ভীরপি যদ্বিভেতি।। ৩০
সরলার্থ – স্বয়ং ভয় যাঁর ভয়ে
ভীত, সেই তুমি যখন দধি ভাণ্ড ভেঙ্গেছিলে, তখন তোমাকে বাঁধার জন্য মা যশোদা দড়ি নিয়ে
এলে তুমি ভীতসন্ত্রস্ত চোখে অশ্রু ও কাজল মাখা মুখ নত করে দাঁড়িয়েছিলে – তোমার সেই
অপরূপ মূর্তি স্মরণ করে আমি বিমোহিত হয়ে যাই।
কেচিদাহুরজং জাতং পুণ্যশ্লোকস্য কীর্তয়ে।
যদোঃ প্রিয়স্যাম্ববায়ে
মলয়স্যেব চন্দনম্।। ৩১
সরলার্থ – কোন কোন পণ্ডিত বলেন
যে, তুমি জন্মহীন হয়েও যদুকুলে জন্মগ্রহণ করেছ তোমার প্রিয় রাজা যুধিষ্ঠিরের কীর্তি
ঘোষণার জন্য। যেমন মলয় পর্বতে চন্দনবৃক্ষ জন্মায় তাকে প্রসিদ্ধ করার জন্য।
অপরে বসুদেবস্য দেবক্যাং যাচিতোহভ্যগাৎ।
অজত্ত্বমস্য ক্ষেমায় বধায়
চ সুরদ্বিযাম্।। ৩২
সরলার্থ – কেই বলেন, অজ তুমি
অসুর নিধন করে এই জগতের মঙ্গল সাধনের জন্য
বসুদেব ও দেবকীর দ্বারা প্রার্থিত হয়ে
তাদের পুত্র বলে স্বীকার করেছ।
ভারাবতারণায়ান্যে ভুবো নাব ইবোদধৌ।
সীদন্ত্যা ভূরিভারেণ জাতো হ্যাত্মভুবার্থিতঃ।। ৩৩
সরলার্থ – কেউ কেউ বলেন নৌকা
যেমন অধিক ভারে সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়, সেই রকম পৃথিবী যখন পাপের ভারে ডুবে
যাওয়ার মত অবস্থা হয় তখন ব্রহ্মার প্রার্থনায় তুমি অবতীর্ণ হয়েছ।
ভবে৳স্মিন্ ক্লিশ্যমানামাবিদ্যাকামকর্মভিঃ।
শ্রবণস্মরণার্হাণি করিষ্যন্নিতি কেচন।৩৪
সরলার্থ – আবার কেউন কেউ বলেন
অবিদ্যা জনিত কাম ও কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ জীবেরা যাতে ভক্তির দ্বারা
জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে সেই জন্য ভক্তির পথ দেখানোর জন্য তুমি অবতরণ করেছিলে।
শৃন্বন্তি গায়ন্তি গৃণন্ত্যভীক্ষ্ণশঃ
স্মরন্তি নন্দন্তি তবেহিতং জনাঃ।
ত এব পশ্যন্ত্যচিরেণ তাবকং
তবপ্রবাহোপরমং পদাম্বুজম্।।
সরলার্থ – ভক্তগণ বার বার তোমার
লীলা কথা শ্রবণ করেন, গান করেন, কীর্তন করেন ও স্মরণ করে আনন্দিত হয়ে থাকেন। তাঁরা
অচিরেই তোমার চরণ কমলের দর্শন লাভ করেন। যার ফলে বার বার জন্ম মৃত্যুর প্রবাহ থেকে
নিস্তার লাভ করে।
অদ্যপ্য নস্ত্বং স্বকৃতেহিত
প্রভো
জিহাসসি স্বিৎ সুহৃদো৳নুজীবিনঃ।
যেষাং ন চান্যদ্ভবতঃ পদাম্বুজাৎ
পরায়ণং রাজসু যোজিতাং হসাম্ ।।৩৭
সরলার্থ - হে ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু
প্রভু, তুমি কি আজ তোমার আশ্রিত ও স্বজন দের ছেড়ে চলে যেতে চাইছো? তুমি জানো যে তোমার চরণ কমল ছাড়া আমাদের আর কোন
আশ্রয় নেই। পৃথিবীর সব রাজাদের কাছে আমরা তো শতেরু হয়ে গেছি।
কে বয়ং নামরূপাভ্যাং যদুভিঃ সহ পাণ্ডবাঃ।
ভবতো৳দর্শনং যর্হি হৃযীকাণামিবেশিতুঃ।। ৩৮
সরলার্থ – প্রাণ বায়ুর অবর্তমানে
ইন্দ্রিয়গণ যেমন শক্তি হীন হয়ে যায়, তোমার অদর্শনে যাদব বা আমার পুত্র পাণ্ডবদের নাম
অথবা রূপের কী অস্বিত্ব আছে?
নেয়ং শোভিষ্যতে তত্র
যথেদানীং গদাধর।
ত্বৎপদৈরঙ্কিতা ভাতি
স্বলক্ষণবিলক্ষিতৈঃ।। ৩৯
সরলার্থ – হে গদাধর, এখন তোমার
ধ্বজ বজ্র অঙ্কুশলক্ষণ যুক্ত চিহ্ন দ্বারা অঙ্কিত হয়ে এই হস্তিনা পুর যে শোভা পাচ্ছে,
তুমি চলে গেলে সে শোভা আর থাকবে না।
ইমে জনপদাঃ স্বৃদ্ধাঃ সুপকৌষধিবীরুধঃ।
বনাদ্রিনদ্যুদন্বন্তো
হ্যেধন্তে তব বীক্ষিতৈঃ।।৪০
সরলার্থ – তোমার কৃপাতেই এই দেশ সুপক্ব ফসল ও লতা বৃক্ষাদিতে সমৃদ্ধ হয়েছে।
এই বন, পর্বত নদী এবং সমুদ্রও তোমার
কৃপাদৃষ্টিতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে।
অথ বিশ্বেশ বিশ্বাত্মন্ বিশ্বমূর্তে স্বকেষু মে।
স্নেহপাশমিমং ছিন্ধি দৃঢ়ং
পাণ্ডুযু বৃষ্ণিযু। ৪১ ।।
সরলার্থ – হে জগদীশ, হে সর্বান্তর্যামী,
হে বিশ্বরূপ দয়া করে তুমি আমার আত্মীয়-স্বজন, পাণ্ডব এবং যাদবদের প্রতি গভীর স্নেহের
বন্ধন ছিন্ন করে দাও।
ত্বয়ি মেহনন্যবিষয়া মতির্মধুপতেহসকৃৎ।
রতিমুহতাদদ্ধা গঙ্গেবৌঘমুদন্বতি।।
৪২
সরলার্থ – হে মধুপতি, গঙ্গা যেমন
অপ্রতিহত ভাবে সমুদ্র অভিমুখে প্রবাহিত হয়, তেমনই আমার একনিষ্ঠ মতি যেন নিরন্তর তোমাতেই
আকৃষ্ট হয়।
শ্রীকৃষ্ণ কৃষ্ণসখ বৃষ্ণ্যষভাবনিধ্রুগ্
রাজন্যবংশদহনানপবগবীর্য।
গোবিন্দ গোদ্বিজসুরার্তিহরাবতার
যোগেশ্বরাখিলগুরো ভগবন্নমস্তে।। ৪৩
সরলার্থ – হে শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুনের
প্রিয়সখা যদুকুল শিরোমণি, তুমি পৃথিবীর ভারস্বরূপ
রাজবেশধারী দৈত্যদের দহনের জন্য অগ্নিতুল্য। তোমার অনন্ত শক্তি। হে গোবিন্দ, তোমার
এই অবতার গো-ব্রাহ্মণ ও দেবতাদের দুঃখ নিবারণের
জন্য হয়েছে। হে যোগেশ্বর, হে জগদ্গুরু, আমি তোমাকে প্রণাম করি।
সূত উবাচ
পৃথয়েথং কলপদৈঃ পরিণুতাখিলোদয়ঃ।
মন্দং জহাস বৈকুণ্ঠো মোহয়ন্নিব
মায়য়া। ৪৪
সরলার্থ – সূত বললেন, এই ভাবে
কুন্তীমাতা মধুর বাক্যের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের লীলার বর্ণনা করলেন। তা শুনে শ্রীকৃষ্ণ
মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন।
তাং বাঢ়মিত্যুপামন্ত্র্য প্রবিশ্য গজসাহ্বয়ম্।
স্ত্রিয়শ্চ স্বপুরং যাস্যন্ প্রেম্ণা রাজ্ঞা নিবারিতঃ।। ৪৫
সরলার্থ – কুন্তীমাতাকে শ্রীকৃষ্ণ
বললেন – আচ্ছা তাই হবে,এবং রথ থেকে নেমে হস্তিনাপুরে প্রবেশ করলেন। সেখানে কুন্তী ও সুভদ্রা প্রমুখ রমণীদের থেকে বিদায়
নিয়ে যখন তিনি দ্বারকাতে যেতে উদ্যত হলেন তখন রাজা যুধিষ্ঠির অত্যন্ত প্রীতির সঙ্গে
তাঁকে নিবারণ করলেন।
ব্যাসাদ্যৈরীশ্বরেহাজ্ঞৈঃ কৃষ্ণেনাদ্ভূতকর্মণা।
প্রবোধিতো৳পীতিহাসৈর্নাবুধ্যত শুচার্পিতঃ।। ৪৬
সরলার্থ - নিজের ভাই বন্ধুদের মৃত্যুতে রাজা খুবই শোকার্ত ছিলেন। ভগবৎলীলামর্মজ্ঞ ব্যাস প্রভৃতি মহর্ষিগণ এবং স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বহু ভাবে শান্ত করার চেষ্টা করলেন।কিন্তু রাজা কিছুতেই প্রবোধ মানলেন না।
আহ রাজা ধর্মসূতশ্চিন্তয়ন সুহৃদাং বধম্।
প্রাকৃতেনাত্মনা বিপ্রাঃ
স্নেহমোহবশং গতঃ।।৪৭
অহো মে পশ্যতাজ্ঞানং হৃদি রূঢ়ং দুরাত্মনঃ।
পারকাস্যৈব দেহস্য বহ্ব্যো
মে৳ক্ষৌহিণীর্হতাঃ।। ৪৮
সরলার্থ – হে শৌনকাদি ঋষিগণ, রাজা যুধিষ্ঠির যুদ্ধে আত্মীয়দের বিনাশে অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। তিনি অজ্ঞানাচ্ছন্ন
চিত্তে স্নেহ ও মোহবশে বলতে লাগলেন – আমি এতই দুষ্টাত্মা ও অজ্ঞ যে – শেয়াল কুকুরের
ভক্ষ্য এই অনাত্মা দেহের সুখের জন্য কত অক্ষৌহিণী
সেনা নাশ করলাম।
(২১৮১০ টি রথ, ২১৮৭০টি হাতি, ১০৯৩৫০ জন পদাতিক, ৬৫৬১০ অশ্বারোহী
সমন্বিত সেনাবাহিনীকে এক অক্ষৌহিনী বলে।)
বালদ্বিজসুহৃন্মিত্রপিতৃভ্রাতৃগুরুদ্রুহঃ।
ন মে স্যান্নিরয়ান্মোক্ষো হ্যপি বর্ষাযুতাযুতৈঃ।। ৪৯
সরলার্থ – আমি বালক, ব্রাহ্মণ
আত্মীয় মিত্র পিতৃব্য ভাই বন্ধু ও গুরুজনদের প্রতি শত্রুতা করে তাঁদের বধ করেছি। অনন্তকাল
নরকভোগেও আমার নিস্তার হবে না।
নৈনো রাজ্ঞঃ প্রজাভর্তুর্ধর্মযুদ্ধে বধো দ্বিষাম্।
ইতি মে ন তু বোধায় কল্পতে
শাসনং বচঃ ॥ ৫০
সরলার্থ – শাস্ত্র যদিও বলে যে
প্রজাপালনের জন্য রাজা যদি ধর্মযুদ্ধে শত্রুনাশ করে তাহলে তাতে পাপ হয় না। তবুও এই
শাস্ত্র বচন আমাকে প্রবোধ দিতে পারছে না।
স্ত্রীণাং মদ্ধতবন্ধুনাং দ্রোহো যোহসাবিহোত্থিতঃ।
কর্মভিগৃহমেধীয়ৈর্নাহং কল্পো ব্যপোহিতুম্ ।। ৫১
সরলার্থ – কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে
কুলরমণীদের পতি, পুত্র ভ্রাতা বন্ধুদের বধ করতে তাঁদের প্রতি আমার যে অপরাধ হয়েছে, গৃহস্থাশ্রমোচিত
যাগ-যজ্ঞাদি ক্রিয়াকর্মের অনুষ্ঠানে সেই অপরাধ দূর হবে না।
যথা পঙ্কেন পক্ষান্তঃ সুরয়া বা সুরাকৃতম্।
ভূতহত্যাং তথৈবৈকাং ন যজ্ঞৈর্মাষ্টুমর্হতি।। ৫২
সরলার্থ – কাদা দিয়ে যেমন ঘোলা
জল স্বচ্ছ করা যায় না, অপবিত্র জিনিস যেমন সুরা দিয়ে ধুলেও পবিত্র হয় না, তেমনই প্রাণীবধরূপ
হিংসাময় দুষ্কর্ম যজ্ঞের দ্বারা দূর করা যায় না।
অষ্টম অধ্যায়
সমাপ্ত
সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ 🙏 এই ভাবে আগে থেকে পাঠালে আমরা খুব উপকৃত হয়ে থাকি। অনেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি 🙏🌻🍁
ReplyDeleteজয় শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ 🙏🌻🍁
প্রনাম মহারাজ। অপূর্ব কাজ আপনি আমাদের জন্য করছেন। আমরা সবাই উপকৃত হচ্ছি এই ভাবে সরলার্থ করে উপস্থাপন করায়খব ভালো লাগছে।
DeletePronum Maharaj aebhabe age porre upakrita hachhi , anudhhaner samay bujhte subibha habe .
ReplyDeleteSubhrasree Daw
Rishra om
🌺🙏🙏🙏🌺
ReplyDeleteপরম শ্রদ্ধায় আন্তরিক প্রণাম মহারাজ 🙏। আজকের অনুধ্যান শ্রী মদ ভাগবত পাঠের পিডিএফ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত যা রেগুলারই দিয়ে থাকেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জয় দিব্যত্রয়ী'র জয় 🙏🙏🙏।
ReplyDelete28march 204 at 2.01
ReplyDeleteReply
মহারাজ ভগবত পুরান PDF পেয়ে খুব ভাল হল লিখে নিতে পারলাম।সশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন মহারাজ।
Class shuru r agei PDF peye amara natun lesson jante pari class e bashe anudhyan niteo subidhe hoy Maharaj amar antarik vakti grahan karun Maharaj 🙏🌹
ReplyDeleteপ্রনাম মহারাজ 🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeletePranam maharaj agee pathanor jonno khub subhidha hoyechey
ReplyDelete🙏💐💐🙏
ReplyDeletePDF peye parameswar er amrita shab kathagulo jante pere khub valo laglo Maharaj khub upakrita hoyechi Maharaj🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeletepronum Maharaj parabarti pdf paye upakrita holum anudhyaner samay subidha hay Sreeharir apurba katha jene samridhha hochhi
ReplyDeleteSubhrasree Daw
Rishra
আমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏 গ্ৰহণ করুন আচার্য দেব। 🙏🙏
ReplyDeleteখুব উপকৃত হলাম মহারাজ জী।
ReplyDeleteProñam Maharaj Ji 🙏🌹🙏 PDF peye khub upokrito, sotti anek অজানা তথ্য জেনে খুব ভালো লাগছে, আপনি আমাদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রমে মূল্যবান সময়ের দ্বারা আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে আকৃষ্ট করেছেন তার জন্য ধন্য বাদ o kritoggota janai , কোটি কোটি প্রণাম মহারাজ জি 🙏🌸🙏। অঞ্জলি বিশ্বাস নৈহাটি।
ReplyDeleteআমরা অনেক সৌভাগ্যবান।🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteআমার সভক্তি প্রনাম গ্রহণ করবেন মহারাজ। আপনার এই সহজ ভাষায় লেখা পড়তে এত ভালো লাগে। মনে হয় আমি সেই সময়ে পৌঁছে গেছি্
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Opurbo bodh holo 1-33 No. Spoke paath o Ter byakhya porey. Kichui janer prayash agey korini, aaj oti agroho niyey ta jantey perechi khubei dhonnyo bodh korchi, Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Sotokoti vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌷 🙏
ReplyDeleteUporiukto comments parbati Banerjee, Siliguri thekey 🙏
ReplyDeleteP d f paya gachi pronam Maharajji thank you
DeletePronum janai Maharaj aj anek natun sloke o sloker artha jene khub bhalo laglo anudhhaner samay bisad bhabe aro janba .
ReplyDeleteNamaskar ante
Subhrasree Daw .
Rishra
আগের থেকে pdfপেয়েখুব ভালো লাগে।আগে পড়ি আবার আপনার সুমধুর কন্ঠে শুনি।অপূর্ব লাগে।
ReplyDelete🙏🏻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteMaharaj bar bar sata bar apnar ratul charane amar antarik vakti shuva kamana tuku nibedan kari🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteপরম পুজনীয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে অন্তরের অন্তঃস্থলের আভূমি লুন্ঠিত ভক্তিপূর্ণ প্রণাম 🌷💥🙏 জয় ঠাকুর 🌷💥🙏 জয় মা 🌷💥🙏 জয় স্বামীজি 🌷💥🙏
ReplyDeleteমহারাজ আপনার চরণে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম
DeletePronam neben maharaj ji 🙏 Sampurna astham adhyay er PDF peye ek sathe porte paray khub upokrito holam. Class er aage pore nite parle bujhte khub subidha hoy. Apni asirbad karun jeno ei bhabe adhyatmik pothe nijeke rakhte pari.🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteRanjita Mazumder, New Delhi
Antarer gabhir sradha purno pranam janai maharajji...khub bhalo thakben...
ReplyDelete🌹🙏🌹
Jaya choudhury..
সশ্রদ্ধ প্রনাম মহারাজ জী🙏
ReplyDeleteসুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট
আগের থেকে pdfপেয়ে উপকৃত হ ই।আপনি যখন ব্যাখা করেন বুঝতে সুবিধা হয়।🙏🙏
ReplyDeletePromam Maharajji thank you for p d f Aparna Roy Chowdhury
Delete🕉️🌷🙏🙏🏻🔱🌻🤚সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন মহারাজ জি ।।🪔🌷🙏🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🙏🕉️
Delete