।। ভাগবত ।।
প্রথম স্কন্ধ/ সপ্তম অধ্যায়
শৌনক উবাচ
নির্গতে নারদে সূত ভগবান্
বাদরায়ণঃ।
শ্রুতবাংস্তদভিপ্রেতং
ততঃ কিমকরোদ্বিভুঃ।।
সরলার্থ – শৌনক ঋষি
জিজ্ঞাসা করলেন – হে সূত ঋষি, অত্যন্ত
মহৎ এবং দিব্য গুণসম্পন্ন ব্যাসদেব নারদমুনির কাছ থেকে সব কিছু শুনেছিলেন। নারদ মুনি
চলে যাওয়ার পর ব্যাসদেব কি করলেন?
সূত উবাচ
ব্রহ্মনদ্যাং সরস্বত্যামাশ্রমঃ
পশ্চিমে তটে।
শম্যাপ্রাস ইতি প্রোক্ত
ঋষীণাং সত্রবর্ধনঃ।।
সূত ঋষি বললেন – দেবের সংগে
অতি অন্তরঙ্গ ভাবে সম্পর্কিত সরস্বতী নদীর পশ্চিম তটে ঋষিদের চিন্ময় কার্যকলাপের আনন্দ
বর্ধনকারী শম্যাপ্রাস নামক স্থানে একটি আশ্রম আছে।
ভক্তিযোগেন মনসি সম্যক্
প্রণিহিতে৳মলে।
অপশ্যৎপুরুষংপূর্ণং
মায়াং চ তদপাশ্রয়ম্।।৪
সরলার্থ – ব্যাসদেব
সমাধিমগ্ন হয়ে ভক্তিযোগের দ্বারা নির্মল হৃদয়ে
পরব্রহ্মকে ও তাঁর অধীনস্থ মায়া শক্তিকে দর্শন
করলেন।
যয়া সম্মোহিতো জীব আত্মানং ত্রিগুণাত্মকম্ ।
পরো৳পি মনুতে৳নর্থং
তৎকৃতঞ্চাভিপদ্যতে।।
সরলার্থ – মায়া বা
অবিদ্যার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়েই জীব মায়া শূন্য হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে তিন গূণযুক্ত দেহধারী
বলে মনে করে আর নিজেকে কর্তা ভেবে মায়াকৃত সংসার দুঃখ ভোগ করে।
[ব্যাসদেব জীবের মঙ্গলের
জন্য ভাগবত প্রণয়ন করেন]
যস্যাং বৈ শ্রূয়মাণায়াং কৃষ্ণে পরমপুরুষে।
ভক্তিরুৎপদ্যতে পুংসঃ শোকমোহভয়াপহা।।
সরলার্থ – এই ভাগবত
কথা শ্রবণ করা মাত্রই জীবের পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সর্বপ্রকার শোক-মোহ-ভয় নাশক
ভক্তির উদয় হয়।
স সং হিতাং ভাগবতীং কৃত্বানুক্রম্য চাত্মজম্।
শুকমধ্যাপয়ামাস নিবৃত্তিনিরতং
মুনিঃ।।
সরলার্থ – এর পর ব্যাসদেব
ভাগবতশাস্ত্র রচনা করেন ও শ্লোক সমূহ সংশোধন করেন ও তাঁর পুত্র অনাসক্ত শুকদেবকে অধ্যয়ন
করালেন।
শৌনক উবাচ
স বৈ নিবৃত্তিনিরতঃ সর্বত্রোপেক্ষকো মুনিঃ।
কস্য বা বৃহতীমেতামাত্মারামঃ
সমভ্যসৎ।।
সরলার্থ – শৌনক জিজ্ঞাসা
করলেন - হে সূত, সেরি নিস্পৃহ , উদাসীন, আত্মারাম মুনি শুকদেব কি
কারণে বৃহৎ ভাগবত সং হিতা অধ্যয়ন করেছিলেন।
সূত উবাচ
আত্মারামাশ্চ মুনয়ো
নির্গন্থা অপ্যুরুক্রমে।
কুর্বন্ত্যহৈতুকীং ভক্তিমিথম্ভূতগুণো
হরিঃ।।
সরলার্থ -আত্মারাম জীবন্মুক্ত
মুনিগণও ভগবান শ্রীহরির প্রতি অহৈতুকী ভক্তি পরায়ণ হয়ে থাকেন – এমনই শ্রীহরির
আকর্ষণী শক্তি।
হরের্গুণাক্ষিপ্তমতিওর্ভগবান্
বাদরায়ণিঃ
অধ্যগান্মহদাখ্যানং
নিত্যং বিষ্ণুজনপ্রিয়ঃ।।
পরীক্ষিতো৳র্থ রাজর্ষের্জন্মকর্মবিলাপনম্।
সংস্থাং চ পাণ্ডুপুত্রাণাং
বক্ষ্যে কৃষ্ণকথোদয়ম্ ।।
সরলার্থ – সূত ঋষি
শৌনকাদি ঋষিদের বললেন – এখন মুখ্যবাহবে কৃষ্ণ
কথাই যাতে উদিত হয় সেই ভাবে আমি রাজর্ষি পরীক্ষিতের জন্ম ও কর্মবৃত্তান্ত এবং দেহত্যাগ
বা মুক্তি বৃত্তান্ত ও পাণ্ডবদের মহাপ্রস্থান বর্ণনা করব।
যদা মৃধে কৌরব-সৃঞ্জয়ানাং বীরেষ্বথো বীরগতিং গতেষু।
বৃকোদরাবিদ্ধ-গদাভিমর্ষ-ভগ্ন-উরুদণ্ডে
ধৃতরাষ্ট্রপুত্রে।।
ভর্তুঃ প্রিয়ং দ্রৌণিরিতি
স্ম পশ্যন্ কৃষ্ণাসুতানাং স্বপতাং শিরাংসি।
উপাহরৎ-বিপ্রিয়ম্-এব
তস্য জুগুপ্সিতং কর্ম বিগর্হয়ন্তি।।
সরলার্থ -কৌরব ও পাণ্ডব উভয় পক্ষের বীরেরা যখন কুরুক্ষেত্রের
রণাঙ্গণে হত হয়ে বীরগতি প্রাপ্ত হলে, ভীমের
গদার আঘাতে দুর্যোধনের উরুভঙ্গ হলে, দ্রোণপুত্র অশ্বথামা প্রভু দুর্যোধনের সন্তুষ্টির
জন্য দ্রৌপদীর নিদ্রিত পুত্রদের মস্তক ছেদন
করে প্রভুর কাছে উপহার স্বরূপ এনেছিল। কিন্তু দুর্যধনের কাছে এই কাজ অত্যন্ত অপ্রীতিকর
মনে হয়েছিল কারণ গর্হিত কর্মকে সকলেই নিন্দা করে।
তদা শুচস্তে প্রমৃজামি
ভদ্রে
যৎব্রহ্মবন্ধোঃ শির
আততায়িনঃ।
গাণ্ডীবমুক্তৈর্বিশিখৈরুপাহরে
ত্বাক্রম্য যৎস্নাস্যাসি
দগ্ধপুত্রা ।। ১৬
সরলার্থ – হে ভদ্রে,
আমার গাণ্ডীবের থেকে নিক্ষিপ্ত তীর দিয়ে তোমার পুত্রদের হত্যাকারীর মস্তক ছেদন করে
আমি তোমাকে তা উপহার দেব। তখন আমি তোমার চোখের জল মুছিয়ে দেব এবং আমি তোমাকে সান্ত্বনা
দেব। তারপর তোমার পুত্রদের মৃতদেহ সৎকার করে তুমি তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে স্নান করো।
তমাপতন্তং স বিলক্ষ্য
দূরাৎ
কুমারহোদ্বিগ্নমনা রথেন।
পরাদ্রবৎপ্রাণপরীপ্সুরুর্ব্যাং
যাবদ্গমং রুদ্রভয়াদ্যথাকঃ।।
সরলার্থ – রাজপুত্রদের
হত্যাকারী অশ্বথামা দূর থেকে অর্জুনকে প্রচণ্ড গতিতে তার দিকে আসতে দেখে খুব ভয় পেয়ে
জীবন রক্ষার জন্য রথে পালিয়ে যায়। ঠিক যেমন ব্রহ্মা রুদ্রের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
যদাশরণমাত্মানমৈক্ষত
শ্রান্তবাজিনম্।
অস্ত্রং ব্রহ্মশিরো
মেনে আত্মত্রাণং দ্বিজাত্মজঃ।।
সরলার্থ – অশ্বথামা,
দ্বিজপুত্র যখন দেখল যে তার ঘোড়াগুলি ক্লান্ত হয়েছে, তখন সে ব্রহ্মশির নামক চরম অস্ত্র
ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনুপায় নেই বিবেচনা করল।
অর্জুন উবাচ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ মহাবাহো
ভক্তানামভয়ঙ্কর।
ত্বমেকো দহ্যমানানামপবর্গো৳সি
সংসৃতেঃ।।
অর্জুন বললেন – হে কৃষ্ণ,
তুমি সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর ভগবান। তোমার শক্তির সীমা পরিসীমা নেই। তুমি তোমার ভক্তদের হৃদয়ে অভয় দান করতে পার। জগতের
তাপ দগ্ধ করে মুক্তির পথ দেখাও তুমি।
স এব জীবলোকস্য মায়ামোহিতচেতসঃ।
বিধৎসে স্বেন বীর্যেণ
শ্রেয়ো ধর্মাদিলক্ষণম্।।২৪
সরলার্থ – তুমি তোমার
অলৌকিক কৃপাশক্তিরূপ ঐশ্বর্যের দ্বারা সর্বদা
মায়াবদ্ধ জীবের ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ লাভরূপ মঙ্গল বিধান করে চলেছ।
কিমিদং স্বিৎকুতো বেতি
দেবদেব ন বেদ্ম্যহম্।
সর্বতোমুখমায়াতি তেজঃ
পরমদারুণম্।।
সরলার্থ – হে দেবতাদের
দেবতা, এই ভয়ঙ্কর তেজ কীভাবে সর্বত্র বিস্তৃত হচ্ছে। তা এল কোথাথেকে, আমি বুঝতে পারছি
না।
শ্রীভগবান উবাচ
বেত্থেদং দ্রোণপুত্রস্য
ব্রহ্মামস্ত্রং প্রদর্শিতম্ ।
নৈবাসৌ বেদ সং হারং
প্রাণাবাধ উপস্থিতে।।
ভগবান বললেন- এটি দ্রোণপুত্র
অশ্বত্থামার কর্ম। যদিও সে ব্রক্ষ্মাস্ত্র সংবরণ করার উপায় জানে না, তবুও সে এই ব্রহ্মাস্ত্র
নিক্ষেপ করেছে। আসন্ন মৃত্যু ভয়ে সে অত্যন্ত ভীত হয়ে এই কাজ করেছে।
ন হ্যস্যান্যতমং কিঞ্চিদস্ত্রং
প্রত্যবকর্শনম্।
জহ্যস্ত্রতেজ উন্নদ্ধমস্ত্রজ্ঞো
হ্যস্ত্রতেজসা।।২৮
সরলার্থ – হে অর্জুন,
অশ্বত্থামা কর্তৃক নিক্ষিপ্ত এই অস্ত্রের তেজ প্রশমিত করতে পারে এমন আর কোন অস্ত্র
নেই। তুমি অস্ত্র বিশারদ, তুমি কোন অস্ত্র প্রয়োগ করে এর তেজ প্রশমিত কর।
সূত উবাচ
শ্রুত্বা ভগবতা প্রোক্তং ফাল্গুনঃ পরবীরহা।
স্পৃষ্ট্বাপস্তং পরিক্রম্য
ব্রাহ্মং ব্রাহ্মায় সন্দধে।।২৯
সরলার্থ – সূত ঋষি
বললেন – অর্জুন তখন কৃষ্ণের কথা শুনে, জলস্পর্শ
করে আচমন করে কৃষ্ণকে প্রদক্ষিণ করে অশ্বত্থামার ব্রহ্মাস্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য অস্ত্র নিক্ষেপ করলেন।
সং হত্যান্যোন্যমুভয়োস্তেজসী
শরসংবৃতে।
আবৃত্য রোদসী খংচ ববৃধাতে৳র্কবহ্নিবৎ।।
৩০
সরলার্থ – দুটি ব্রহ্মাস্ত্রের সংঘর্ষের ফলে সম্মিলিত ভাবে স্বর্গ-মর্ত্য-আকাশ ব্যাপ্ত করে প্রলয়
কালের সূর্যের মতো ক্রমশ বাড়তে লাগল।
তত আসাদ্য তরসা দারুণং
গৌতমীসুতম্।
ববন্ধামর্ষতাম্রাক্ষঃ পশুং রশনয়া যথা।।
অনুবাদ - ক্রোধে অর্জুনের চোখ দুটি তাম্র গোলকের মতো রক্ত
বর্ণ হয়ে উঠল। অশ্বথামা, কৃপীর পুত্র তিনি হলেন গৌতম কুলোদ্ভুতা। তাকে অর্জুন পশুর মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললেন।
মৈনং পার্থার্হসি ত্রাতুং
ব্রহ্মবন্ধুমিমং জহি।
যো৳সাবনাগসঃ সুপ্তানবধীন্নিশি
বালকান্।।
সরলার্থ – শ্রীকৃষ্ণ
বললেন – হে পার্থ, অশ্বত্থামা নিরপরাধ, নিদ্রিত শিশুদের রাত্রে হত্যা
করেছে। এই ব্রহ্মবন্ধু বা অধম ব্রাহ্মণকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, একে বধ কর।
প্রতিশ্রুতং চ ভবতা
পাঞ্চাল্যৈ শৃণ্বতো মম।
আহরিষ্যে শিরস্তস্য
যস্তে মানিনি পুত্রহা,।। ৩৮
সরলার্থ – হে অর্জুন, আমি শুনেছি যে তুমি দ্রৌপদীর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছ
এই বলে যে তাঁর পুত্রহত্যাকারীর মস্তক তাঁকে উপহার দেবে।
সূত উবাচ
এবং পরীক্ষতা ধর্মং পার্থঃ কৃষ্ণেন চোদিতঃ।
নৈচ্ছদ্ধন্তুং গুরুসুতং
যদ্যপ্যাত্মহনং মহান্ ।।
সরলার্থ – সূত ঋষি
বললেন – এভাবে অর্জুনের ধর্মনিষ্ঠা পরীক্ষা করতে
করতে শ্রীকৃষ্ণ যদিও তাঁকে উত্তেজিত করছিলেন, তবুও মহাত্মা অর্জুন গুরুপুত্র অশ্বত্থামাকে
হত্যা করতে চান নি।
তথাহৃতং পশুবৎ পাশবদ্ধমবাঙ্মুখং
কর্মজুগুপ্সিতেন।
নিরীক্ষ্য কৃষ্ণাপকৃতং
গুরোঃ সুতং বামস্বভাবা কৃপয়া ননাম চ।। ৪২
সরলার্থ - পশুর মতো রজ্জুবদ্ধ ও অত্যন্ত জঘন্য কাজ করার ফলে
মাথা নিচু করে থাকা ও মৌন গুরুপুত্রকে দর্শন করে দ্রৌপদী দয়ার্দ্র চিত্তে সম্ভ্রমে
তাকে প্রণাম করলেন।
স এষ ভগবান্ দ্রোণঃ
প্রজারূপেণ বর্ততে।
তস্যাত্মনো৳র্ধং পত্ন্যাস্তে নাম্বগাদ্বীরসূঃ কৃপী।। ৪৫
সরলার্থ – পূজনীয়
দ্রোণাচার্য তাঁর পুত্র এই অশ্বত্থামা রূপেই বিদ্যমান। তাঁর স্ত্রী কৃপীও জীবিত আছেন।
বীর পুত্র প্রসবিনী বলে তিনি তাঁর মৃত পতির সঙ্গে সহমরণে যাননি।
মা রোদীদস্য জননী গৌতমী
পতিদেবতা।
যথাহং মৃতবৎসার্তা রোদিম্যশ্রুমুখী
মুহুঃ।। ৪৭
দ্রৌপদী বললেন আমি যেমন
পুত্রহারা হয়ে অশ্রুপূর্ণ নয়নে রোদন করছি, এই অশ্বত্থামার মাতা পতিব্রতা গৌতমী যেন
সেভাবে রোদন না করেন।
সূত উবাচ
ধর্ম্যং ন্যায্যং সকরুণং
নির্ব্যলীকং সমং মহৎ।
রাজা ধর্মসুতো রাজ্ঞ্যাঃ
প্রত্যনন্দদ্বচো দ্বিজাঃ।।
সরলার্থ – সূত ঋষি
বললেন – হে ব্রাহ্মণগণ, ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির
ধর্মনীতি অনুসারে দ্রৌপদীর সেই ন্যায়সঙ্গত মহৎ সকরুণ এবং সমতাপূর্ণ উক্তি সমর্থন করেছিলেন।
নকুলঃ সহদেবশ্চ যুযুধানো
ধনঞ্জয়ঃ।
ভগবান্ দেবকীপুত্রো
যে চান্যে যাশ্চ যোষিতঃ।।৫০
সরলার্থ – মহারাজ
যুধিষ্ঠিরের কনিষ্ঠ দু ভাই নকুল ও সহদেব এবং
সাত্যকি, অর্জুন, পরমেশ্বর ভগবান দেবকী পুত্র শ্রীকৃষ্ণ এবং অন্যান্য সমস্ত মহিলারা
সকলেই মহারাজের সঙ্গে একমত হলেন।
নিশম্য ভীমগদিতং দ্রৌপদ্যাশ্চ
চতুর্ভুজঃ।
আলোক্য বদনং সখ্যুরিদমাহ
হসন্নিব।।
সরলার্থ – ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
ভীম দ্রৌপদী ও অন্যান্য দের কথা শুনে অর্জুনের দিকে তাকালেন ও মৃদু হাসলেন।
সূত উবাচ
অর্জুনঃ সহসাজ্ঞায় হরের্হার্দ্মথাসিনা।
মণিং জহার মূর্ধন্যং
দ্বিজস্য সহমূর্ধজম্।।৫৫
সরলার্থ – তখন অর্জুন
ভগাবনের নির্দেশ বুঝতে পেরে তরবারি দ্বারা অশ্বত্থামার মস্তকের মণি ও কেশরাশি ছেদন
করলেন।
বিমুচ্য রশনাবদ্ধং বালহত্যাহতপ্রভম্।
তেজসা মণিনা হীনং শিবিরান্নিরয়াপয়ৎ।।
৫৬
সরলার্থ – শিশু হত্যার
ফলে অশ্বত্থামাত দেহের দীপ্তি ইতিমধ্যে হারিয়ে গিয়ে ছিল। এখন মস্তকের মণি কেটে নেওয়ার
ফলে সম্পূর্ণ তেজহীন হয়ে পড়ল। এই অবস্থায় তাকে বন্ধিওন মুক্ত করে শিবির থেকে বার করে
দেওয়া হল।
বপনং দ্রবিণাদানং স্থানান্নির্যাপণং
তথা।
এষ হি ব্রহ্মবন্ধুনাং
বধো নান্যো৳স্তি দৈহিকঃ।।৫৭
সরলার্থ – মস্তক মুণ্ডন
করা, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা, বাসস্থান থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে ব্রহ্মবন্ধুর উপযুক্ত
শাস্তি। হত্যা করারা নির্দেশ নেই।
পুত্রশোকাতুরাঃ সর্বে
পাণ্ডবাঃ সহ কৃষ্ণয়া ।
স্বানাং মৃতানাং যৎকৃত্যং
চক্রুনির্হরণাদিকম্।।
সরলার্থ – তারপর পাণ্ডবেরা
এবং দ্রৌপদী শোকার্ত চিত্তে তাঁদের মৃত আত্মীয়দের সৎ কার অনুষ্ঠান সম্পাদন করেছিলেন।
----সমাপ্ত----
🙏💐💐🙏
ReplyDeleteদারুণ, পরবর্তী র জন্য বসে রইলাম।প্রণাম
DeleteHare Krishna Harey Krishna Krishna Krishna Harey Harey, Harey Ramo Harey Ramo Ram Ram Harey Harey 🌼🙏. Om Shree Krishnayo Govidayo Namo Namaha 🌼🙏. Opurbo Vagabat Kotha aaj aber sunbo Aponer srutimodhur konthey, Achariyo Maharajji 🌼🙏. Aajker PDF peyey dhonyo holam Maharajji 🙏. Vakter jonnyo Aponer ei aporishim prochestha r jonnyo chirokritagno 👏🙏🙏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷 🌼🙏🙏
ReplyDeleteAchariyo Maharajji, uporer comments ti Parbati Banerjee, Siliguri thekey 🙏🙏
ReplyDelete🙏☝️Comments ti Parbati Banerjee, Siliguri thekey🙏
ReplyDeleteআজ ক্লাস শুরুর আগেই পিডিএফ পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম। মহারাজ জী আপনি সব দিক এত সুন্দর ভাবে কিভাবে সামলে চলেন, আমাদের ভাবতেই কেমন লাগে। সুস্থ থাকবেন দিব্য ত্রয়ীর কাছে এই প্রার্থনা জানাই। প্রণাম নেবেন।
ReplyDeleteAlo Ghosh. Amar ontorer swabhakti pranam grahan karun acheryadev🙏🙏 💐🌿🙏🙏
ReplyDeleteমাধুরী ঘোষাল
Deleteক্লাশ আরম্ভ হ ওয়ার আগে পড়ে নিলাম খুব ভালো হয়েছে। প্রণাম আচার্য্য দেব ।
ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ই পড়ে নিলাম, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।প্রণাম নেবেন আচার্যদেব। 🙏🙏
ReplyDelete🙏🙏🙏
ReplyDeleteOm Shree Krishnayo Govindayo Namo Namaha 🌼 🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🌼 🙏. Vakter jonnyo Achariyo Maharajji r abodan otuloniyo 🙏. Korojorey antorik kritogyota gyapan korchi 👏🙏. Parbati Banerjee, Siliguri.
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী 🙏 প্রত্যেক ক্লাস এর আগে ই আপনি মনে করে pdf পাঠিয়ে দেন যাতে আমাদের অসুবিধা না হয়। আপনার এই অক্লান্ত প্রচেষ্টা যেন কাজে লাগাতে পারি🙏 ঠাকুর মা স্বামী জী আপনাকে ভালো রাখুন এই প্রার্থনা করি🙏
ReplyDeleteরূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম
🕉🙏🙏🙏🕉
ReplyDelete,🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম জানাই মহারাজ জী কে। 🌺🙏🙏🙏🌺
ReplyDeleteকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা নেই মহারাজ 🙏আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি 🙏🌹🙏
ReplyDeleteMaharaji.opner.koti.porisrom.amader.jonu.
ReplyDelete🙏🙏 প্রণাম মহারাজ
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ।🙏🙏🙏ক্লাসের আগে ঘটনা জানা থাকলে বুঝতে সুবিধা হয়।
ReplyDelete"ভাগবত" ধর্ম পুস্তকটি আমার কাছে না থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত..অর্থ,সরলার্থ সহ মন্ত্রে'র পিডিএফ পেয়ে যাচ্ছি সময়মতো ; রেগুলার অনুধ্যান করে সমৃদ্ধ হচ্ছি..এ-ই দূর দেশে লন্ডনে বসে!! শ্রদ্ধেয় মহারাজে'র অক্লান্ত পরিশ্রম ও অত্যন্ত আন্তরিকতা.. কী বলবো! অন্তরে যে কী অনুভব হয়; চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।শ্রদ্ধাপূর্ণ আন্তরিক প্রণাম জানাই 🙏। সুজাতা দে, লন্ডন থেকে।
ReplyDelete