শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

PDFভাগবত পুরাণ ।। ১ম স্কন্ধ।। ৪র্থ অধ্যায়

 

                        ভাগবত পুরাণ

                      ১ম স্কন্ধ / ৪র্থ অধ্যায়

 

                       ব্যাস উবাচ

ইতি ব্রুবাণং সংস্তূয় মুনীনাং দীর্ঘসত্রিণাম্‌ ।

বৃদ্ধঃ কুলপতিঃ সূতং বহ্‌বৃচঃ শৌনকো৳ব্রবীৎ।।

সরলার্থ ব্যাসদেব বললেন এই দীর্ঘকালব্যাপী যজ্ঞে সম্মিলিত মুনিদের মধ্যে জ্ঞানবৃদ্ধ  ঋশিকুল শ্রেষ্ঠ  ঋগবেদবেত্তা শৌনক ঋষি  সূত ঋষির পূর্বোক্ত কথা শুনে  তাঁর প্রশংসা করে বললেন।

শৌনক উবাচ

সূত সূত মহাভাগ বদ নো বদতাং বর।

কথাং ভাগবতীং পুণ্যাং যদাহ ভগবাঞ্ছুকঃ।।২

সরলার্থ -  শৌনকমুনি বললেন হে সূত, হে বাগ্মিশ্রেষ্ঠ, হে মহাভাগ্যশালিন্‌, ভগবান শুকদেব যে পবিত্র ভাগবত কথা বলেছিলেন সে কথা আমাদের বলুন।

কস্মিন্‌ যুগে প্রবৃত্তেয়ং স্থানে বা কেন হেতুনা।

কুতঃ সঞ্চোদিতঃ কৃষ্ণঃ কৃতবান্‌ সংহিতাং মুনিঃ ।.৩

সরলার্থ সে ভাগবত কথা কোন যুগে কোন স্থানে ও কী কারণে হয়েছিল? মুনিবর শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন কার প্রেরণাতে এই পরমহংস সং হিতা প্রণয়ন করেন?

তস্য পুত্রো মহাযোগী সমদৃঙ্‌নির্বিকল্পকঃ।

একান্তমতিরুন্নিদ্রো গূঢ়ো মূঢ় ইবেয়তে।। ৪

সরলার্থ তাঁর পুত্র শুকদেব তো পরম যোগী, সমদর্শী, ভেদজ্ঞানশূন্য, সংসারনিদ্রার থেকে জাগরূক অর্থাৎ আত্মস্বরূপে অবস্থিত, প্রচ্ছন্নভাবে থাকার জন্য অন্যের কাছে মূঢ়ের মতো প্রতীত হয়ে থাকতেন।

দৃষ্ট্বানুযান্তমৃষিমাত্মজমপ্যনগ্নং

দেব্যো হ্রিয়া পরিদধুর্ন সুতস্য চিত্রম্‌।

তদ্বীক্ষ্য পৃচ্ছতি মুনৌ জগদুস্তবাস্তি

স্ত্রীপুম্ভিদা ন তু সুতস্য বিবিক্তদৃষ্টেঃ।।

সরলার্থ -  ব্যাসদেবের পুত্র যখন  সন্ন্যাস গ্রহণের জন্য বনপথে  যাচ্ছিলেন, ব্যাসদেব তখন তাঁর অনুগমন করেছিলেন। সে সময় জলক্রীড়ারত নারীগণ  নগ্ন শুকদেবকে দেখে তো বস্ত্র পরেনি, কিন্তু বস্ত্র পরিহিত ব্যাসদেবকে দেখে লজ্জায় কাপড় পরে নিয়েছিল। এই আশ্চর্য ব্যাপার দেখে ব্যাসদেব যখন সেই অপ্সরাদের এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তারা উত্তর দিয়েছিল যে আপনার দৃষ্টিতে তো এখনও স্রী-পুরুষ ভেদজ্ঞান রয়েছে, কিন্তু আপনার পুত্রের শুদ্ধ দৃষ্টিতে এই ভেদজ্ঞান নেই।

কথমালক্ষিতঃ পৌরৈঃ সম্প্রাপ্তঃ কুরুজাঙ্গলান্‌।

উন্মত্তমূকজড়বদ্‌বিচরন্‌  গজসাহ্বয়ে।। ৬

সরলার্থ কুরুজাঙ্গল দেশে পৌঁছে হস্তিনাপুরে তিনি যখন উন্মাদ, মূক ও জড়ের মতো বিচরণ করছিলেন, পুরবাসীগণ তাঁকে কিরূপে চিনতে পেরেছিল?

কথং বা পাণ্ডবেয়স্য রাজর্ষের্মুনিনা সহ।

সংবাদঃ সমভূৎ তাত যত্রৈষা সাত্বতী শ্রুতিঃ।।৭

সরলার্থ- পাণ্ডবগণ রাজর্ষি পরীক্ষিতের  সাথে এই মৌনী শুকদেবের আলাপ কীভাবে হয়েছিল, যার ফলে ভাগবতের প্রবচভন হয়েছিল?

স গোদোগহনমাত্রং হি গৃহেষু গৃহমেধিনাম্‌।

অবেক্ষতে মহাভাগস্তীর্থীকুর্বংস্তদাশ্রমম্‌।। ৮

সরলার্থ মহাভাগ শুকদেব গৃহস্থের বাড়ি তীর্থস্বরূপ করার জন্য গোদহনকাল সময় মাত্র সেখানে দাঁড়াতেন।

অভিমন্যুসূতং সূত প্রাহুর্ভাগবতোত্তমম্‌।

তস্য জন্ম মহাশ্চর্যং কর্মাণি চ গৃণীহি নঃ।। ৯

সরলার্থ হে সূত, আমরা জানি যে অভিমন্যুর পুত্র পরীক্ষিৎ একজন শ্রেষ্ঠ ভগবদ্‌ ছিলেন। তাঁর অদ্ভূত আশ্চর্যন জন্মবৃত্তান্ত ও  কর্মসকল আমাদের কাছে বর্ণনা করুন।

স সম্রাট্‌ কস্য বা হেতোঃ পাণ্ডূনাং মানবর্ধনঃ।

প্রায়োপবিষ্টো গঙ্গায়ামনাদূত্যাধিরাট্‌শ্রিয়ম্‌।।১০

সরলার্থ -  তিনি তো পাণ্ডুবংশের কীর্তিবর্ধক সম্রাট ছিলেন। তিনি কী কারণে সাম্রাজ্য লক্ষ্মীকে পরিত্যাগ করে গঙ্গাতটে আমৃত্যু অনশনব্রত ধারণ করেছিলেন?

 

নমন্তি যৎপাদনিকেতমাত্মনঃ

শিবায় হানীয় ধনানি শত্রবঃ।

কথং স বীরঃ  শ্রিয়মঙ্গ দুস্ত্যজাং

যুবৈষতোৎস্রষ্টুমহো সহাসুভিঃ।।১১

সরলার্থ শত্রু রাজারা কৃপা  ভিক্ষার জন্য বহুবিধ ধনরত্ন নিয়ে তাঁর চরণে উপঢৌকন দিতেন। তিনি নিজে একজন বীর যুবক। সেই দুস্ত্যজ্য রাজলক্ষ্মীসহ নিজের প্রাণ ত্যাগ করার সংকল্প তিনি কেন করেছিলেন?

শিবায় লোকস্য ভবায় ভূতয়ে

য উত্তমশ্লোকপরায়ণা জনাঃ।

জীবন্তি নাত্মার্থমসৌ পরাশ্রয়ং

মুমোচ্চ নির্বিদ্য কুতঃ কলেবরম্‌ ।।১২

সরলার্থ যে সব মানুষ ভগবানের  শরণাপন্ন তারা জগতের মঙ্গলের জন্য, ঐশ্বর্যের জন্য ও সমৃদ্ধির জন্যই জীবন ধারণ করেন। এতে তাঁদের কোন স্বার্থ থাকে না। তাঁর দেহধারণ জনহিতের জন্য, সেই জীবনে বিরাগী হয়ে কী কারণে তিনি শরীর ত্যাগ করেছিলেন?

 

 

Comments

  1. অপূর্ব, লাগলো, মহারাজ আপনার জন্য আর ইশ্বরের কৃপা আমরা এত কিছু জানতে পারছি আরো কিছু জানতে চাই আপনি আমার প্রণাম নেবেন

    ReplyDelete
    Replies
    1. Khub bhalo lagche Maharaj bhagabatam er class kore oo pore,apnake pronam janai Maharaj

      Delete
    2. Khub valo lagla

      Delete
  2. Om Shree Krishnayo Govindayo Namo Namaha 🌻 🙏. Sovakti pranam Achariyo Gurudeva 🌻🙏. Opurbo Shree Vagabatam Puran Kotha r 1st Scandha , 4th chapter, er lekhoni porey jototuku bujhtey perechi, tatey onek onek sundor jiggyasa porey, amader mon o vishan vabe agroho niyey poth cheyey acchi Aponer madhyomey Ter osadharon byakhya srobon korer jonnyo, Achariyo Maharajji 👏🙏.

    ReplyDelete
  3. আপনাকে অনেক ধন‍্যবাদ মহারাজ জী, আজকের অনুধ‍্যানের আগেই এইটি পাঠানোর জন‍্য। প্রণাম নেবেন মহারাজ জী।

    ReplyDelete
  4. আমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏 গ্ৰহণ করুন আচার্য দেব।

    ReplyDelete
  5. মহারাজ আপনাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি l Bhagavat আমার ধারণা ছিলো শুধু rishi হলেই কেবল আস্বাদন করা যায় আপনার সহজ সরল ভাবে বর্ননা ও বিশ্লেষণ এর ফলে একটি নতুন আবিষ্কার করলাম খুব ভালো লাগছে কতো অজানা তথ্য আবিষ্কার করছি. আপনি খুব ভালো থাকবেন

    ReplyDelete
    Replies
    1. Asit chattopadhyay
      Khub valo lagche maharaj.pranamneben

      Delete
  6. Khub sundar barnana jante perechi Maharaj🙏🙏🍀☘️

    ReplyDelete
  7. Khub bhalo laglo. Pranam Maharaj 🙏 🙏. Pulakesh Sinha Roy.

    ReplyDelete
  8. প্রণাম মহারাজ, ধন্য আমি

    ReplyDelete

Post a Comment