শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

ভাগবত /১ম স্কন্ধ/৩য় অধ্যায় PDF


 

                       ।। ভাগবত পুরাণ ।।

                     ১ম স্কন্ধ / ৩য় অধ্যায়

                         সূত উবাচ

জগৃহে পৌরুষং রূপং ভগবান্‌ মহাদাদিভিঃ।

সম্ভূতং ষোড়শকলমাদৌ লোকসিসৃক্ষয়া।। ১

সরলার্থ সূত ঋষি বললেন ভগবান লোকসৃষ্টির ইচ্ছায় প্রথমে মহাদাদিতত্ত্ব মিলিত পরিপূর্ণ শক্তিযুক্ত পুরুষ মূর্তি ধারণ করেন। তার মধ্যে দশ ইন্দ্রিয়,মন আর পঞ্চভূত এই ষোলটি কলা ছিল।

যস্যানভসি শয়ানস্য যোগনিদ্রাং বিতন্বতঃ।

নাভিহৃদাম্বুজাদাসীৎ ব্রহ্মা বিশ্বসৃজাং পতিঃ ।।২

সরলার্থ -তিনি যখন কারণ সমুদ্রে শায়িত হয়ে যোগনিদ্রায় নিদ্রিত ছিলেন, তখন তাঁর নাভিহ্রদ থেকে এক পদ্মের সৃষ্টি হল, এবং এই কমল থেকে প্রজাপতিগণের অধিপতি ব্রহ্মা উৎপন্ন হলেন।

যস্যাবয়বসংস্থানৈঃ কল্পিতো লোকবিস্তরঃ।

 তদ্বৈ ভগবতো রূপং  বিশুদ্ধং সত্ত্বমূর্জিতম্‌।।৩

সরলার্থ ভগবানের সেই বিরাট রূপের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যেই সমস্ত লোকের কল্পনা করা হয়েছে, তাঁর সেই রূপ বিশুদ্ধ ও নিরতিশয় সত্ত্বময় শ্রেষ্ঠ রূপ।

পশ্যন্ত্যদো রূপমদভ্রচক্ষুষা

সহস্রপাদোরুভুজাননাদ্ভুতম্‌।

সহস্রমূর্ধশ্রবণাক্ষিনাসিকং

সহস্রমৌল্যম্বরকুণ্ডলোল্লসৎ।।৪

সরলার্থ- যোগীগণ বিদ্যদৃষ্টি  দিয়ে ভগবানের সেই রূপ দর্শন করেন। ভগবানের সেই রূপে অসংখ্য পদ, ঊরু, হস্ত ও মুখ থাকায় তা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক, তার মধ্যে অসংখ্য নাসিকা, অসংখ্য মুকুট, বস্ত্র ও কুণ্ডলাদি অলংকারে সুশোভিত।

এতন্নানাবতারাণাং নিধানং বীজমব্যয়ম্‌।

যস্যাংশাংশেন সৃজ্যন্তে দেবতির্যঙ্‌নরাদয়ঃ।। ৫

সরলার্থ -ভগবানের সেই পুরুষরূপ, যাঁকে নারায়ণ বলা হয়, অনেক অবতারের অক্ষয় বীজ এখান থেকেই সকল অবতারের প্রকাশ। এই রূপের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ দ্বারা দেবতা, পশুপক্ষী ও মনুষ্যাদি দেহের সৃষ্টি হয়।

স এব প্রথমং দেবঃ কৌমারং সর্গমাস্থিতঃ।

চচার দুশ্চরং ব্রহ্মা ব্রহ্মচর্যমখণ্ডিতম্‌।। ৬

সরলার্থ সেই  প্রভু প্রথমে কৌমারসর্গে সনক, সনন্দন, সনাতন,ও সনৎকুমার এই চার ব্রাহ্মণের রূপে অবতার গ্রহণ করে অত্যন্ত কঠিন অখন্ড ব্রহ্মচর্য পালন করেন।

দ্বিতীয়ং তু ভবায়াস্য রসাতলগতাং মহীম্‌।

উদ্ধরিষ্যন্নুপাদত্ত যজ্ঞেশঃ সৌকরং বপুঃ।।৭

সরলার্থ সেই ভগবান বিষ্ণু এই পৃথিবীর সৃষ্টি বা মঙ্গলের জন্য  রসাতলগত পৃথিবীকে উদ্ধার করার জন্য দ্বিতীয় অবতার বরাহরূপ ধারণ করেছিলেন।

তৃতীয়মৃষিসর্গং চ দেবর্ষিত্বমুপেত্য সঃ।

তন্ত্রং সাত্বত্মাচষ্ট নৈষ্ক্রর্ম্যং কর্মণা যতঃ।। ৮

সরলার্থ তৃতীয় অবতারে সেই ভগবান বিষ্ণু মুনিগণের মধ্যে অবির্ভূত হয়ে বেদর্ষি নারদরূপ প্রাপ্ত হয়ে বৈষ্ণবপঞ্চরাত্র নামক তন্ত্র ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই পঞ্চরাত্রের উক্তি থেকেই বর্ণাশ্রম কর্মানুষ্ঠানগুলির বন্ধন মোচনের কারণ জানা যায়।

 

তুর্যে ধর্মকলাসর্গে নরনারায়ণাবৃষী।

ভূত্বা৳ত্মোপশ্মোপেত্মকরোদ্‌ দুশ্চরং তপঃ।। ৯

সরলার্থ এই ভগবান চতুর্থ অবতারে ধর্মের কলা অর্থাৎ ভার্যার গর্ভে নর ও নারায়ণ এই ঋষিদ্বর রূপে প্রকট হয়ে অতি কঠোর তপস্যা করেছিলেন।

পঞ্চমঃ কপিলো নাম সিদ্ধেশঃ কালবিপ্লুতম্‌।

 প্রোবাচাসুরয়ে সাংখ্যং তত্ত্বগ্রামবিনির্ণয়ম্‌।। ১০

সরলার্থ শ্রীভগাবন পঞ্চম বারে সিদ্ধপুরুষগণের অগ্রগণ্য কপিল নামে অবতীর্ণ হয়ে  কালক্রমে নষ্টপ্রায় সাংখ্যশাস্ত্র আসুর নামক ব্রাহ্মণের কাছে উপদেশ দিয়ে ছিলেন।

 

ষষ্ঠে অত্রেরপত্যত্বং বৃতঃ প্রাপ্তো৳নসূয়য়া।

আন্বীক্ষিকীমলর্কায় প্রহ্লাদাদিত্য ঊচিবান্‌ ।।১১

সরলার্থ ভগবান অত্রিপত্নী কর্তৃক যাচিত হয়ে ষষ্ঠ অবতারে দত্তাত্রেয় নামে  অত্রিমুনির পুত্ররূপে আবির্ভূত  হলেন এবং অলর্ক নামক ব্রাহ্মণকে ও প্রহ্লাদ হৈহয় প্রভৃতি রাজগণকে আত্মবিদ্যা উপদেশ দিয়েছিলেন।

ততঃ সপ্তম আকূত্যাং রুচের্যজ্ঞো৳ভ্যজায়ত।

 স যামাদ্যৈঃ সুরগণৈরপাৎ স্বায়ম্ভুবান্তরম্‌ ।।১২

সরলার্থ এরপর সপ্তম অবতারে  শ্রীভগবান রুচি নামক ব্রাহ্মণ থেকে তাঁর পত্নী আকুতির গর্ভে যজ্ঞ নামক অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং নিজ পুত্র যাম নামক দেবতার সঙ্গে স্বায়ম্ভুব মন্বন্তরকে পালন করেছিলেন।

 

 অষ্টমে মেরুদেব্যাং তু নাভের্জাত উরুক্রমঃ।

দর্শয়ন্‌ বর্ত্ম ধীরাণাং সর্বাশ্রমনমস্কৃতম্‌।। ১৩

সরলার্থ- অষ্টম অবতারে শ্রীভগবান রাজা নাভির পত্নী মেরুদেবীর গর্ভে ঋষভদেব রূপে  জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই অবতারে তিনি পণ্ডিতগণকে  সমস্ত আশ্রমের শ্রেষ্ঠ পরমহংস সেবিত পথ প্রদর্শন করেছিলেন। 

 

ঋষিভির্যাচিতো ভেজে নবমং পার্থিবং বপুঃ।

দুগ্ধেমামোষধীর্বিপ্রাস্তেনায়ং স উশত্তমঃ।।১৪

সরলার্থ ঋষিদের প্রার্থনায় নবমবার তিনি রাজা পৃথুরূপে এসেছিলেন। হে শৌনকাদি ঋষিগণ, এই অবতারে তিনি পৃথিবী থেকে সমস্ত ওষধি প্রভৃতি বস্তু দোহন করেছিলেন, এর ফলে পৃথু অবতার অতীব কমনীয় হয়েছিলেন।

রূপং স জগৃহে মাৎস্যং চাক্ষুষোদধিসমপ্লবে।

নাব্যারোপ্য মহীময্যামপাদ্‌ বৈবস্বতং মনুম্‌।।১৫

সরলার্থ চাক্ষুষ মন্বন্তরের শেষে যখন সমগ্র ত্রিভুবন সমুদ্র প্লাবিত হয়েছিল তখন তিনি মৎস্যরূপে দশম অবতার গ্রহণ করেছিলেন এবং পৃথীরূপী (পৃথিবীরূপ) নৌকাতে আরোহণ করিয়ে পরবর্তী মন্বন্তরের অধিপতি বৈবস্বত মনুকে রক্ষা করেছিলেন।

সুরাসুরাণামুদধিং মথনতাং মন্দরাচলম্‌ ।

 দধ্রে কমঠরূপেণ পৃষ্ঠ একাদশো বিভুঃ।।১৬

সরলার্থ দেবতা ও দানবেরা যখন সমুদ্র মন্থন করেছিলেন সেই সময় কূর্মরূপ ধারণ করে তিনি একাদশ অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করে মন্দার পর্বতকে নিজের পিঠে ধারণ করেছিলেন।

ধান্বতরং দ্বাদশমং ত্রয়োদশমমেব চ ।

অপায়য়ৎ সুরানন্যান্‌ মোহিন্যা মোহয়ন্‌ স্ত্রিয়া।১৭

সরলার্থ দ্বাদশ অবতার রূপে ধন্বন্তরি মূর্তি ধারণ করে অমৃতভাণ্ড হাতে নিয়ে সমুদ্র থেকে উঠে এসেছিলেন। এবং ত্রয়োদশ  অবতারে মোহিনীরূপ ধারণ করে দানবদের মোহিত করে দেবতাদের অমৃত পান করিয়েছিলেন।

 

চতুর্দশং নারসিং হং বিভ্রদ্দৈত্যেন্দ্রমূর্জিতম্‌।

দদার করজৈর্বক্ষস্যেরকাং কটকৃদ্‌ যথা।।১৮

সরলার্থ চোদ্দতম অবতার হলেন নৃসিং হরূপ। নিজের নখ দিয়ে প্রবল পরাক্রান্ত দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে নিজের ঊরুর ওপর ফেলে বুক বিদীর্ণ করেছিলেন।

পঞ্চদশং বামনকং কৃত্বাগাদ্ধ্বরং বলেঃ।

পদত্রয়ং যাচমানঃ প্রত্যাদিৎসুস্ত্রিবিষ্টপম্‌।। ১৯

সরলার্থ পনের তম অবতার হলেন বামন। বামনরূপ ধারণ করে দৈত্যরাজ বলির কাছ থেকে স্বর্গ গ্রহণ করার ইচ্ছায় বলির যজ্ঞস্থলে গমন করেন ও কেবল তিনপাদ পরিমিত ভূমি চান।

অবতারে ষোড়শমে পশ্যন্‌ ব্রহ্মদ্রুহো নৃপান্‌।

ত্রিঃসপ্তকৃত্বঃ কুপিতো নিঃক্ষত্রামকরোন্মহীম্‌।। ২০

সরলার্থ ষোলতম অবতারে  পরশুরাম রূপে ক্ষত্রিয় রাজাদের ব্রহ্মবিদ্বেষী ও ব্রাহ্মণহন্তারূপে দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি একুশবার পৃথিবীকে নিঃক্ষত্রিয় করে দিয়েছিলেন।

ততঃ সপ্তদশো জাতঃ সত্যবত্যাং পরাশরাৎ।

চক্রে বেদতরো শাখা দৃষ্ট্বা পুংসো৳ল্পমেধসঃ।।২১

সরলার্থ এরপর সতেরতম অবতারে তিনি সত্যবতীর গর্ভে পরাশর মুনির ঔরসে ব্যাসরূপে অবতীর্ণ হন। সে সময় মনুষ্যদের অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন দেখে বেদ বৃক্ষের শাখাবিভাজন করেছিলেন।

নরদেবত্বমাপন্নঃ সুরকার্যচিকীর্ষয়া।

সমুদ্রনিগ্রহাদীনি চক্রে বীর্যাণ্যতঃ পরম্‌।।২২

সরলার্থ আঠারতম অবতারে দেবকার্য সম্পাদনের জন্য নরপতি রূপে রাম অবতার  গ্রহণ করেন এবং সেতুবন্ধন, রাবণ-বধ প্রভৃতি লীলা করেন।

একোনবিংশে বিংশতিমে বৃষ্ণিষু প্রাপ্য জন্মনী।

রামকৃষ্ণাবিতি ভুবো ভগবানহরদ্ভরম্‌।।২৩

সরলার্থ ঊনিশ ও বিশতম অবতারে যদুবংশে তিনি বলরাম ও শ্রীকৃষ্ণ নাম নিয়ে প্রকট হয়ে পৃথিবীর ভার হরণ করেছিলেন।

 ততঃ কলৌ সম্প্রবৃত্তে সম্মোহায় সুরদ্বিষাম্‌।

বুদ্ধো নাম্নাজনসুতঃ কীকটেষু ভবিষ্যতি।।২৪

সরলার্থ এরপর কলিযুগ এসে গেলে মগধ দেশে দেবদ্বেষী দানবদের মোহিত করার জন্য অজনের পুত্ররূপে বুদ্ধাবতার হলেন।

অত্থাসৌ যুগসংধ্যায়াং দস্যুপ্রায়েষু রাজসু।

জনিতা বিষ্ণুযশসো নাম্না কল্কির্জগৎপতিঃ।।২৫

সরলার্থ এর অনেক পরে যখন কলিযুগের অবসান হয়ে আসবে এবং রাজারা সব দস্যুভাবাপন্ন হয়ে যাবে তখন জগৎপালক ভগবান বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের ঘরে কল্কিরূপে অবতীর্ণ হবেন।

বতারা হ্যসংখ্যেয়া হরেঃ সত্ত্বনিধের্দ্বিজাঃ।

যথাবিদাসিনঃ কুল্যাঃ সরসঃ স্যুঃ সহস্রশঃ।। ২৬

সরলার্থ হে শৌনকাদি ঋষিগণ! অগাধ জলাশয় থেকে যেমন হাজার হাজার ছোট ছোট জলপ্রবাহ নির্গত হয়ে থাকে সে রকম সত্ত্বনিধি ভগবান শ্রীহরির থেকেই অসংখ্য অবতার আবির্ভূত হয়ে থাকেন।

ঋষয়ো মনবো দেবা মনুপুত্রা মহৌজসঃ।

কলাঃ সর্বে হরেরেব সপ্রজাপতয়স্তথা।। ২৭

সরলার্থ ঋষি,মনু, দেবতা, প্রজাপতি, মনুপুত্র এবং যত মহাবীর্যশালী আছেন এরা সকলেই শ্রীভগবানের অংশ।

এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্‌ স্বয়ম্‌।

ইন্দ্রারিব্যাকুলং লোকং মৃড়য়ন্তি যুগে যুগে।।২৮

সরলার্থ -এই সব অবতার হল ভগবানের অংশাবতার বা কলাবতার, কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান ( অবতারী)।

অসুরদের অত্যাচারে যখন মানুষ পীড়িত ঝয়ে পড়ে তখন যুগে যুগে নানা রূপ ধারণ করে ভগবান তাদের রক্ষা করেন।

জন্ম গুহ্যং ভগবতো য এতৎ প্রযতো নরঃ।

সায়ং প্রাতর্গৃণন্‌ ভক্ত্যা দুঃখগ্রামাদ্‌ বিমুচ্যতে।।২৯

সরলার্থ ভগবানের এই দিব্য জন্মের কাহিনী অত্যন্ত গুহ্য ও রহস্যময়, যে মানুষ একাগ্রচিত্তে প্রাতঃকাল ও সায়ংকালে নিয়মিতভাবে ভক্তিসহকারে এই কথা পাঠ করে সে সব রকম দুঃখের হাত থেকে পরিত্রাণ পায়।

এতদ্‌ রূপং ভগবতো হ্যরূপস্য চিদাত্মনঃ।

মায়াগুণৈর্বিরচিতং মহদাদিভিরাত্মনি।।৩০

সরলার্থ পরমাত্মার এই প্রাকৃত অতএব অনিত্য। স্থূলরূপ মহৎ অহং কার পঞ্চতন্মাত্রদি রূপ বহিরঙ্গাদিশক্তি প্রসূত গুণ-সমূহের দ্বারা জীবশরীর নির্মিত হয়ে থাকে।

 

যথা নভসি মেঘৌঘো রেণুর্বা পার্থিবো৳নিলে।

এবং দ্রষ্টরি দৃশ্যত্বমারোপিতমবুদ্ধিভিঃ।। ৩১

সরলার্থ মেঘ যেমন বায়ুর আশ্রয়ে থাকে এবং ধূসর বর্ণ পৃথিবীর ধূলিকনার থেকেই সৃষ্টি হয়, কিন্তু  বুদ্ধিহীন নির্বোধ মানুষ মনে করে মেষ আকাশে থাকে এবং ওই ধূসর বর্ণকে বায়ুতে আরোপ করে, সেই রকমই অজ্ঞব্যক্তি সব কিছুর সাক্ষী আত্মাতে স্থূল দৃশ্যরূপ জগৎকে আরোপ করে।

অতঃ পরং যদব্যক্তমব্যূঢ়গুণব্যূহিতম্‌।

অদৃষ্টাশ্রুতবস্তুত্বাৎ স জীবো যৎ পুনর্ভবঃ।।৩২

সরলার্থ এই স্থূলদেহ থেকে উৎকৃষ্ট, ভগবানের এক সূক্ষ্ম অব্যক্তরূপ আছে যে রূপ না স্থূলের মতো আকাশাদি গুণযুক্ত আর না তাকে দেখা বা শোনা যায়, সেটাই হল সূক্ষ্ম শরীর তাতে আত্মাকে  আরোপ করা বা তার মধ্যে আত্মার অনুপ্রবিষ্ট হওয়াতেই তাকে জীব বলা হয়। এবং জীবেরই বার বার জন্মহয়।

যত্রেমে সদসদ্‌রূপে প্রতিষিদ্ধে স্বয়ংবিদা।

অবিদ্যয়া৳ত্মনি কৃতে ইতি তদ্‌ ব্রহ্মদর্শনম্‌।। ৩৩

সরলার্থ যখন স্বরূপের সম্যক জ্ঞানলাভের প্রভাবে অজ্ঞানতার দ্বারা পরমাত্মায় আরোপিত স্থূলসূক্ষ্মরূপ সম্বন্ধ দূরীভূত হয়, তখনই জীবের ব্রহ্মসাক্ষাৎ হয়।

যদ্যেষোপরতা দেবী মায়া বৈশারদী মতিঃ।

সম্পন্ন এবেতি বিদুর্মহিম্নি স্বে মহীয়তে।। ৩৪

সরলার্থ জীবন্মুক্তি ব্যক্তিরা জানেন যে এই বুদ্ধিরূপা পরমেশ্বরের মায়া যখন নিবৃত্ত হয়ে যায়, সেই সময়েই জীব পরমানন্দে মগ্ন হয়ে যায় এবং ধ্রুবাস্মৃতি প্রাপ্ত হয়ে নিজ মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এবং জন্মানি কর্মাণি হ্যকর্তুরজনস্যন চ।

বর্ণয়ন্তি স্ম কবয়ো বেদ্গুহ্যানি হৃৎপতেঃ।।৩৫

সরলার্থ প্রকৃতপক্ষে তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তি গণপ্রাকৃত জন্মকর্ম রহিত অন্তর্যামিরূপ ভগবানের  বেদ্গুহ্য পরমরহস্য জন্ম কর্মাদি অপ্রাকৃত বলে কীর্তন করে থাকেন।

স বা ইদং বিশ্বমমোঘলীলঃ

সৃজত্যবত্যত্তি ন সজ্জতে৳স্মিন্‌।

ভূতেষু চান্তর্হিত আত্মতন্ত্রঃ

 

ষাড়বর্গিকং জিঘ্রতি ষড়্গুণেশঃ ।।৩৬

সরলার্থ- ভগবান এই বিশ্বের সৃষ্টি স্থিতি ও লয় করেন, কিন্তু কিছুতেই লিপ্ত হন না। যদিও তিনি বড় ইন্দ্রিয়-নিয়ন্তা এবং সর্বভূতে গূঢ়পুরুষ, তথাপি রূপ-রসাদি ষড়-ইন্দ্রিয়ের বিষয়কে অন্বেষণ করে দূর থেকে আস্বাদন করেন।

ন চাস্য কশ্চিন্নিপুণেন ধাতুঃ

 অবৈতি জন্তুঃ  কুমনীষ ঊতীঃ।

নামানি রূপাণি মনোবচোভিঃ

সন্তন্বতো নটচর্যামিবাজ্ঞঃ।৩৭

 সরলার্থ কোন অজ্ঞ ব্যক্তি যেমন অভিনেতার অভিনয় কৌশল দেখেও বুঝতে পারে না, তেমন কুবুদ্ধি যুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিধাতার লীলানামরূপ কিছুই বুঝতে পারে না।

স বেদ ধাতুঃ পদবীং  পরস্য

দূরন্তবীর্যস্য রথাঙ্গপাণেঃ।

যো৳মায়য়া সন্ততয়ানুবৃত্ত্যা

ভজেত তৎপাদসরোজগন্ধম্‌।।৩৮

সরলার্থ -যে ভাগ্যবান ব্যক্তি নিষ্কামভাবে নিরন্তর শ্রীভগবানের শ্রীচরণ ভক্তিভরে ভজনা করে একমাত্র সেই  অশেষ মহিমময় চক্রপাণি ভগবানের লীলাদি জানতে পারেন।

অথেহ ধন্যা  ভগবন্ত ইত্থং যদ্বাসুদেবে৳খিললোকনাথে।

কুর্বন্তি সর্বাত্মকমাত্মভাবং ন যত্র ভূয়ঃ পরিবর্ত উগ্রঃ।। ৩৯

সরলার্থ এই ধরনের প্রশ্ন করার মাধ্যমেই কেবল এই জগতে সফল হওয়া যায় ও পূর্ণ জঙান লাভ করা যায়। কেন না এই ধরনের প্রশ্ন পরমেশ্বরের প্রতি অপ্রাকৃত প্রেম বিকশিত করে এবং জন্ম -মৃত্যুর ভয়ানক আবর্ত থেকে জীবকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে।

ইদং ভাগবতং নাম পুরাণং ব্রহ্মসম্মিতম্‌।

উত্তমশ্লোকচরিতং চকার ভগবানৃষিঃ।

নিঃশ্রেয়সায় লোকস্য ধন্যং স্বস্ত্যয়নং মহৎ।। ৪০

সরলার্থ শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে পরমেশ্বরের বাঙ্ময় বিগ্রহ যা সর্বশ্রেষ্ঠ পুরাণশাস্ত্র, সংকলন করেছেন ভগবানের অবতার ঋষি ব্যাসদেব।

তদিদং গ্রাহয়ামাস সুতমাত্মবতাম্বরম্‌।।

সর্ববেদেতিহাসানাং সারং সারং সমুদ্ধৃতম্‌।।৪১

সরলার্থ মহর্ষি বেদব্যাস সকল বেদ ও ইতিহাস গ্রন্থের সার সংকলনের দ্বারা এই শ্রীমদ্ভাগবতশাস্ত্র রচনা করে নিজপুত্র সর্বশ্রেষ্ঠ আত্নজ্ঞানী শুকদেবকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।

স তু সংশ্রাবয়ামাস মহারাজং পরীক্ষিতম্‌।

প্রায়োপবিষ্টং গঙ্গায়াং পরীতং পরমর্ষিভিঃ।।

সরলার্থ শুকদেব সেই পরমভাগবত শাস্ত্র আবার গঙ্গাতীরে মৃত্যুপথযাত্রী ও মহর্ষিগণ পরিবেষ্টিত  মহারাজ পরীক্ষিৎকে শুনিয়ে ছিলেন।

কৃষ্ণে  স্বধামোপগতে ধর্মজ্ঞানাদিভিঃ সহ।

কলৌ নষ্টদৃশামেষঃ পুরাণার্কো৳ধুনোদিতঃ।।৪৩

সরলার্থ -  পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ধর্মজ্ঞানাদি সহ স্বধামে অপ্রকটলীলায় প্রবেশ করলে, ঘোর কলি কালে ধর্মজ্ঞানহীন জীবের মঙ্গলের জন্য সূর্যের মত সর্বপ্রকাশক এই শ্রীমদ্ভাগবত এখন আবির্ভূত হয়েছে।

তত্র কীর্তয়তো বিপ্রা বিপ্রর্ষের্ভূরিতেজসঃ।

অহঞ্চাধ্যগমং তত্র নিবিষ্টস্তদনুগ্রহাৎ

সো৳হং বঃ শ্রাবয়িষ্যামি যথাধীতং যথামতি।।

সরলার্থ হে বিপ্রগণ, মহাতেজস্বী শ্রীশুকদেব যখন গঙ্গাতীরে ভাগবত কথা কীর্তন করেন, তখন আমি উপস্থিত থেকে তাঁর কৃপায় তা শ্রবণ করেছি। এখন আমার সাধ্যমত ও ধারণা অনুযায়ী আপনাদের কাছে সেটি কীর্তন করব।

তৃতীয় অধ্যায় সমাপ্ত

Comments

  1. আমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏 গ্ৰহণ করুন আচার্য দেব।

    ReplyDelete
  2. এইসব অজানা তথ্য সংগ্রহ, করে আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন, এটা আমাদের ইশ্বরের আশীর্বাদ, প্রতিদিন, আপনার কাছ থেকে,কিছু না কিছু জানতে পারছি, আমি বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করি ইশ্বর আপনাকে ভালো রাখুন, প্রণাম মহারাজ asima batabyal howrah

    ReplyDelete
  3. Pronam Maharaj ji.

    ReplyDelete
  4. আলো ব্যনার্জী।
    কি ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব সেই ভাষা খুঁজে পাই না । কিছুই জানতাম না ,আপনার আশীর্বাদে একটু হলেও বুঝতে চেষ্টা করছি। আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি মহারাজ🙏 আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  5. খুবই ভালো হলো আগামী অনুধ‍্যানের জন‍্য কিছুটা পড়ে নিতে পারব, আপনার সব দিক ঠিকই মনে থাকে, আপনাকে অনুসরণ করছি এই নিয়মর্বত্তিতা বজায় রাখার জন‍্য। আপনি আমার প্রণাম নেবেন সসুস্থ থাকবেন।

    ReplyDelete
  6. আমার সভক্তি প্রনাম গ্রহণ করবেন মহারাজ। আপনার লেখাগুলি পড়ে অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে পারি। খুব ভালো লাগে।

    ReplyDelete
  7. "Hare Krishna Hare Krishna Krishna Krishna Hare Hare Hare Rama Hare Rama Rama Rama Hare Harey"🌻🙏. Joy Shree Hari 🌻🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🙏. Maharajji, Shree Vagabatam Kotha r ei lekhoni peyey dhonyo holam🙏. Maharajji, Apni valomotobujhiyey onudhyan e jokhon byakhya korey deben, tokhon amra valomoto gyato hotey parbo🙏. Khubei interest pacchi Vaktir adhar Shree Vagabatam paath sohoj byakhya r madhyomey obogoto hotey parchi boley🙏🙏. Sotokoti vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🙏. Onudhyan srobon korer opekhya te roto achhi Maharajji 👏.

    ReplyDelete
  8. Amar antarer vakti shuva kamana grahan karun Maharaj apnar deyoa ayee Pdf theke anek na jana bisoy jante pere dhanya hoyechi anek katha apni anudhyan e O anek somoy balechen khub sundar khub valo lage apnar kalamer lekha ami note karechi 🙏🙏

    ReplyDelete
  9. অপূর্ব অসংখ্য অবতার দের কথা জানতে পেরে অভিভূত হয়ে গেলাম 🙏🌸🌿 জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🌷🙏 জয় শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ 🙏🌷🙏
    দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏🌷🙏

    ReplyDelete

Post a Comment