‘আমিই রাধা’ -- শ্রীমা সারদাদেবী
---- স্বামী হরিময়ানন্দ
©
শ্রীমা নিজের সম্পর্কে প্রায়ই নীরব থাকতেন। কখনও অসতর্ক ভাবে হয়ত কিছু বলে ফেলতেন। বা কখনও খুব সামান্য কিছু কথা একান্তে কখনও বলেছেন। তাঁর আধ্যাত্মিক ভাব বা বিভূতি যথাসাধ্য গোপন রাখতেন। সাধারণ নারীরূপে সংসারের নানা কাজে নিযুক্ত থাকতেন। স্নেহময়ী জননী রূপে অগণিত সন্তানের উপর স্নেহাশিষ বিতরণ করেছেন। আবার গুরুরূপে অধ্যাত্ম পথের দিশা দেখাচ্ছেন, কিন্তু এ সবের আড়ালে ছিল তাঁর প্রকৃত স্বরূপ। কদাচিৎ তাঁর মুখ দিয়ে কিছু কথা বেরিয়ে পড়ত, যা অত্যন্ত গভীর ভাব ব্যঞ্জক। এরকমই একটি কথা - ‘আমিই রাধা’।
ব্রজধাম বৃন্দাবনে জনৈক ভক্তের কৌতুহল নিবৃত্তির উত্তর এটি। আসলে এই উত্তরের ভেতর রয়েছে আত্মপ্রকাশের স্পষ্ট ইঙ্গিত। আমরা মায়ের এই কথাটিকে তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘটনার ভেতর দিয়ে অনুচিন্তন করবার চেষ্টা করব।
শাস্ত্রকারেরা বলেন ভগবান যখন মানব শরীরে আসেন, তখন তাঁর কাজ কর্ম ব্যবহার সবই মানুষের মত হয়। ভগবানের যিনি লীলাসঙ্গিনী তিনি হলেন ভগবতী। ভগবতীও যখন মানবীরূপে পৃথিবীতে আসেন, তিনিও মনুষ্য জীবনের সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করেই আসেন। অনন্ত অসীম স্বরূপকে ঢেকে রাখেন যথাসম্ভব। তবুও কখনও কখনও ওই ‘ছদ্মবেশ’ –এর আড়াল থেকে বিদ্যুৎ প্রভার মত আত্মস্বরূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ে। সেই চকিত প্রকাশের চমৎকারিত্বে আমরা বিস্মিত হই এই ভেবে যে কে ছিলেন এই মা সারদা – তিনি কি দেবীরূপে মানবী, না-কি মানবীরূপে দেবী। ব্রজেশ্বরী শ্রীরাধা যে বর্তমানকালে শ্রীমা সারদার জীবনে প্রকট হয়ে উঠেছিল। সেই কাহিনিতে আসছি।
শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সহধর্মিণীকে সীতা, সরস্বতী, আদ্যাশক্তি, মা ভবতারিনী প্রভৃতি রূপে যেমন চিনেছিলেন,তেমনি উপলব্ধি করেছিলেন ‘রাধা’ রূপে। অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দক্ষিণেশ্বরে একদিন বলেন – ‘অনন্তরাধার মায়া কহনে না যায়।/কোটি কৃষ্ণ কোটি রাম হয় যায় রয়’। এর দ্বারা তিনি মা সারদাকে কেবল রাধারূপে নির্দেশ করেছেন, তাই নয় বলেছেন তিনি অবতারাদিরও কারণ, অনন্তগুণময়ী মায়া, যাঁর ইচ্ছায় কোটি কৃষ্ণ,কোটি রামের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় হচ্ছে। একদিন দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণ মায়ের সামনেই গৌরী মাকে মজা করে জিজ্ঞাসা করেন "বল তো গৌর-দাসী, তুই কাকে বেশী ভালবাসিস?' এর উওরে তিনি গান গেয়ে জানিয়ে দিয়ে ছিলেন - রাই হতে তুমি বড় নও বাঁকা বংশীধারী!
লোকের বিপদ হলে ডাকে মধুসূদন বলে,
তোমার বিপদ হলে পরে বাঁশীতে বল, 'রাই কিশীরী'
কে এই শ্রীরাধিকা? ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে বলা হয়েছে ‘মমার্ধাংশস্বরূপা ত্বং মূলপ্রকৃতিরীশ্বরী’ অর্থাৎ শ্রীরাধা হলেন আমার (শ্রীকৃষ্ণের) অর্ধাংশস্বরূপ এবং তিনি মূল প্রকৃতি ঈশ্বরী। স্বরূপত যিনি এক ও অদ্বিতীয় নরলীলা আস্বাদনের জন্য তিনি দ্বৈতরূপ ধারণ করেন। শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতেও পাই ‘রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ ।
লীলারস আস্বাদিতে ধরে দুই রূপ’।।
শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপত স্বয়ং ঈশ্বর। শ্রীরাধা তাঁর শক্তি, মূর্তিমতী হ্লাদিনী শক্তি। রাধা শব্দের তাৎপর্য পুরাণে বলা হয়েছে, ‘র’ – বর্ণে কোটি জন্মের পাপ, ‘আ’ –বর্ণে গর্ভবাস, মৃত্যু ও রোগ, ‘ধ’- বর্ণে আয়ুর ক্ষয় এবং ‘আ’- এর দ্বারা সংসার বন্ধন বোঝায়। অর্থাৎ যাঁর নাম শ্রবণ, স্মরণ ও কীর্তন দ্বারা এই সব দুঃখ বিনষ্ট হয় তিনি রাধা।
গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতে ভগবানের হ্লাদিনী শক্তি শ্রীরাধা নিত্যবৃন্দাবনে লীলা করে চলেছেন। অবতার ও অবতার শক্তির লীলাও চিরকালের নিত্যলীলা। কেবল নাম ভিন্ন, রূপ ভিন্ন ও অবস্থা ভিন্ন। কোন কোন ভাগ্যবান তা ধারণা করতে পারেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের পর শ্রীমা সারদা অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছিলেন। জীবন তাঁর কাছে তখন অর্থহীন বলে মনে হয়েছিল। একদিকে স্বামীর বিয়োগ ব্যথা অন্যদিকে সহায় সম্বলহীন অবস্থা। এই সময় কিছু ভক্তের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তীর্থ ভ্রমনের ব্যবস্থা করা হয়। যাতে কিছুটা হলেও শোক ও অন্তরের ব্যথা কমবে। সেই উদ্দেশে কাশী, অযোধ্যা প্রভৃতি দর্শন করে শ্রীমাকে বৃন্দাবনে নিয়ে আসা হয়। কলকাতার বলরামবাবুদের ঠাকুর বাড়ি বংশীবটে ‘কালাবাবুর কুঞ্জে’ এসে উঠলেন। দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের বিরহে কাতর শ্রীরাধার চোখের জলে ব্রজভূমি অভিষিক্ত করেছিলেন। সেই বিরহ অশ্রুর প্রতি বিন্দু দিব্যপ্রেমের পুণ্য জ্যোতিতে আজও সমান ভাবে উজ্জ্বল। এতকাল পর শ্রীরামকৃষ্ণের বিয়োগ ব্যথায় কাতর শ্রীসারদারূপিণী শ্রীরাধা উপযুক্ত স্থানেই এসেছেন।
শ্রীবৃন্দাবনে কিছুদিন থাকবার পর ধীরে ধীরে অন্তরের ব্যথা একটু কমতে থাকে। মায়ের সঙ্গীরাও নিজ নিজ কাজে ফিরে যান। শ্রীমা বিভিন্ন মন্দির দর্শন ও ধ্যান জপ করেই বেশ আনন্দে ছিলেন। এই সময় শ্রীমা বৃন্দাবন পরিক্রমা করেছিলেন। এই সময়ের অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা সরাসরি উদ্ধৃত করছি। “বৃক্ষে বৃক্ষে শ্যামল শোভা, সমস্ত ভূমি নবোদ্গত তৃণাদিতে আচ্ছাদিত, বাতাসে বিবিধ কুসুমের মনোহর সুবাস, দিকে দিকে ময়ূরের কেকা ও গাভীর হাম্বারব, নিঃশঙ্ক মৃগসমূহ পথপার্শ্বে শষ্পাহার করিতে করিতে অকস্মাৎ মনুষ্য-পদশব্দে উৎকর্ণ হইয়া দ্রুত পলাইতেছে, আর পুণ্য সলিলা কালিন্দী কল্কল-নিনাদে চঞ্চল গতিতে আপন মনে চলিয়াছে।সে বৃন্দাবনের শোভা, সেই নিকুঞ্জকানন, সেই শ্রীরাধিকার বিরহাশ্রুসিক্ত ধূলিকণা সেই ব্রজ-গোপীর সতৃষ্ণ-দৃষ্টি নিষ্ণাত ব্রজভূমি’’।
এই সব মনোরম দৃশ্য মায়ের মনে সততই ব্রজরাজ শ্রীকৃষ্ণের দর্শন আকাঙ্খাকে জাগিয়ে তুলে ছিল। কৃষ্ণ-বিরহে রাধার হৃদয়ের আর্তি, কুঞ্জে কুঞ্জে তাঁর প্রাণনাথের অন্বেষণ – এমনি কত কথাই হয়ত তাঁর মানস পটে উদ্ভাসিত হয়েছিল। পথ চলতে চলতে রাস্তাঘাট, গাছপালা গভীরভাবে নিরিক্ষণ করছেন। যেন তিনি পথ খুঁজছেন, যে –পথ তাঁর বহু পরিচিত। আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই বিরহ ব্যথায় স্তব্ধ, মৌন ও তন্ময় ব্রজগোপীদের প্রাণনাথের অন্বেষণের মধুর দিব্য প্রেমকাহিনি। গোপবালারা জিজ্ঞাসা করছে, হে অশ্বত্থ, অশোক, তুলসী, চম্পকাদিকে যদি তারা প্রাণকান্ত নন্দনন্দনের সংবাদ দিতে পারে।ব্রজভূমিকে জিজ্ঞাসা করছে, শ্রীগোবিন্দের পাদস্পর্শে তোমার দেহে কী সুন্দর আনন্দ শিহরণের চিহ্ন।তুমি নিশ্চয় জানো আমাদের প্রাণবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের সন্ধান।এই সব চিন্তা ও দৃশ্যাবলির স্মৃতি মা সারদার মানস পটে নিশ্চয় প্রস্ফুটিত হয়ে থাকবে। তিনি পথ চলতে চলতে মাঝে মাঝে ভাবাবিষ্ট হয়ে কোথাও দাঁড়িয়ে পড়ছেন। সঙ্গীরা মায়ের এমন ভাব তন্ময়তার কারণ জানতে চাইলে শ্রীমা সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলছেন ‘না, চল’।
এখানে মনে করতে পারি, এই ঘটনার প্রায় আঠার বছর আগে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনের অভিজ্ঞতা। তিনি তীর্থ দর্শনে এসেছিলেন শ্রীবৃন্দাবনে। বৃন্দাবন দর্শনের কথা তিনি নিজ মুখে বলেছেন, ‘কালীয় দমনের ঘাট দেখামাত্রই উদ্দীপন হত – আমি বিহ্বল হয়ে যেতাম। হৃদে আমায় যমুনায় সেই ঘাটে ছেলেটির মতন নাওয়াত। যমুনার তীরে সন্ধায় সময় বেড়াতে যেতাম। যমুনার চড়া দিয়ে সেই সময় গোষ্ঠ থেকে গরু সব ফিরে আসত। দেখবামাত্র আমার কৃষ্ণের উদ্দীপন হল। উন্মত্তের ন্যায় আমি দৌড়তে লাগলাম – কৃষ্ণ কই, কৃষ্ণ কই এই বলতে বলতে। পালকি করে শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ডের পথে যাচ্ছি, গোবর্ধন দেখতে লাগলাম। গোবর্ধন দেখবামাত্রই একেবারে বিহ্বল, দৌড়ে গিয়ে গোবর্ধনের উপরে দাঁড়িয়ে পড়লুম –আর বাহ্যশূন্য হয়ে গেলাম। তখন ব্রজবাসীরা গিয়ে আমায় নামিয়ে আনে। শ্যামকুণ্ড রাধাকুণ্ড পথে সেই মাঠ, আর গাছপালা, পাখি হরিণ – এই সব দেখে বিহ্বল হয়ে গেলাম।চক্ষের জলে কাপড় ভিজে যেতে লাগল। মনে হতে লাগল, কৃষ্ণরে সবই রয়েছে, কেবল তোকে দেখতে পাচ্ছি না’।

শ্রীমা এখানে শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে সকলের অলক্ষ্যে যমুনায় চলে যেতেন। নিধুবনের কাছে রাধারমণের মন্দিরে শ্রীবিগ্রহ দর্শন করতেন। বৃন্দাবনের দেব বিগ্রহের মধ্যে গোবিন্দ, গোপীনাথ, বাঁকে বিহারী এবং মদনমোহনজীর প্রতি মায়ের আকর্ষণ ছিল সব থেকে বেশি। কখনও কখনও নৌকা করে যমুনাতে শ্রীমাকে নিয়ে যাওয়া হত। একদিন অপলক দৃষ্টিতে মা যমুনার জলে কী যেন দেখচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ স্পর্শে যমুনার জলও নীল বর্ণ ধারণ করেছে। মা যেন কাউকে ধরবার জন্য দু হাত বাড়ালেন। প্রায় পড়ে যাবেন এমন সময় মায়ের সঙ্গে এক মহিলা তাড়াতাড়ি ধরে ফেলেন। অনেক ক্ষণ ভাবাবিষ্ট ছিলেন। পরে রাধাকুণ্ড, শ্যামকুণ্ড, গিরি গোবর্ধন ইত্যাদি অন্য সব স্থান গুলি দর্শন করেন।
রাধাকুণ্ড
শ্যামকুণ্ডে মা স্নান করেছিলেন, কিন্তু রাধাকুণ্ডের জলে মা নামলেন না। মাথায় একটু জল স্পর্শ করলেন মাত্র। কেন তিনি রাধাকুণ্ডের জলে নামলেন না, কোন বাধা আছে ? এর উত্তরে বলেছিলেন “শ্রীরাধা চিন্ময়ী, রাধাকুণ্ডে আমি নাবতে পারব না। কিছু একটা বাধা আছে, রাধাকুণ্ডে আমি নাববো না”।
এই বৃন্দাবন যে কত জাগ্রত, রাধারানি যে এযুগেও ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন তাঁর একটি ঘটনা বোধহয় খুব অপ্রাসঙ্গিক হবে না। একবার স্বামীজীর এক গুরু ভাই স্বামী তুরীয়ানন্দ মহারাজ বৃন্দাবনে তীর্থ দর্শনে গিয়েছিলেন। কুঠিয়াতে মাধুকরী করেই থাকতেন। একদিন মনে মনে স্থির করলেন সেদিন আর ভিক্ষায় যাবেন না। রাধারানি যদি সত্যি থাকেন তিনি নিশ্চয় তাকে অভুক্ত রাখবেন না। এই স্থির বিশ্বাসে ক্ষুধাতৃষ্ণা অগ্রাহ্য করে সারা দিন-রাত জপধ্যানে কাটালেন। পরদিন বেলা ন’টার সময় জনৈক ভক্ত অযাচিত ভাবে প্রচুর খাবার দাবার নিয়ে হাজির। রাধারানির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সানন্দে তা গ্রহণ করলেন।

পরিব্রাজক অবস্থায় স্বামী বিবেকানন্দও এসেছিলেন এই রাধাকুণ্ডে। রাধাকুণ্ডে স্নান করে উঠে দেখেন যে, কৌপিনটি পাড়ে রেখে স্নান করতে নেমে ছিলেন সেটি নেই। একটি বানর সেটি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে দেখতে পেলেন। স্বামীজী পেছনে পেছনে গিয়ে কৌপিনটি পেলেন কিন্তু সেটির যা অবস্থা ব্যবহারের অযোগ্য। দ্বিতীয় কোন বস্ত্র ছিল না স্বামীজীর কাছে। নিরুপায় হয়ে লজ্জানিবারণের আর কোন উপায় না পেয়ে রাধারানির উপর অভিমানে ঠিক করলেন, তিনি আর লোকালয়ে ফিরে যাবেন না। দেখা যাক রাধারানি কোন ব্যবস্থা করেন কিনা।
এই ভেবে তিনি বনের মধ্যে প্রবেশ করলেন। অবাক কাণ্ড! স্বামীজী দেখলেন একটি লোক তাকে পেছন থেকে ডাকতে ডাকতে ছুটে আসছে। স্বামীজীর কাছে এসে লোকটি বলল সে এখানেই থাকে। কিছু খাবার জিনিস আর একটি নতুন কাপড় নিয়ে এসে বলল আপনাকে এগুলি নিতে হবে, তবে আমি ধন্য হব। শ্রীরাধার কৃপাজ্ঞানে স্বামীজী আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করেন।
শ্রীমা নিজে যেমন তাঁর আত্মস্বরূপ প্রকাশ করেছেন, তেমনি অনেক ভাগ্যবানও তাঁর ঐরূপ দর্শন করবার দুর্লভ সৌভাগ্য লাভ করেছে। এখানে কয়েকটি ঘটনা আমরা উল্লেখ করছি। মায়ের অন্যতম জীবনী লেখিকা শ্রীদুর্গাপুরী দেবী লিখছেন।
কলকাতার গড়পার অঞ্চলে শীতলা মায়ের মন্দিরের এক পূজারী ব্রাহ্মণ গৌরীমাকে একবার অনুরোধ করেন যে তাকে বৃন্দাবনে ব্রজেশ্বরী রাধারানিকে দর্শন করাতে হবে।গৌরীমা মাঝে মাঝে বৃন্দাবন ধামে যান তাই ব্রাহ্মণ প্রস্তাব করেছেন বৃন্দাবন যাত্রার। আর এই ব্রাহ্মণ মা শীতলার পূজারী হলে কী হবে ভেতরে খুব বিষ্ণু ভক্ত। গৌরীমা শুনে বললেন – তা আর এমন কি? আচ্ছা, তোমায় একদিন ‘জ্যান্ত রাধারানি’ দেখিয়ে আনব। এর কিছু দিন পর গৌরীমা ওই শীতলা মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে গেলে ব্রাহ্মণ আবার সেই পুরনো অনুরোধ করে বসেন। গৌরীমা তখন ওই ব্রাহ্মণকে শ্রীশ্রীমায়ের কাছে নিয়ে আসেন। শ্রীমাকে দেখিয়ে বলেন ‘এঁকে ভাল করে দেখ, স্বাভীষ্ট দেখতে পাবে’। ব্রাহ্মণ বলেন ইনি তো মানুষ! এই সংশয় নিয়ে ব্রাহ্মণ শ্রীমাকে প্রণাম করলেন। প্রণাম শেষে মুখ তুলে যখন দেখেন বিস্ময় বিহ্বল দৃষ্টিতে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টি ফেরাতে পারছেন না। দর্শন যেন আর শেষ হয় না। আনন্দ গদ্গদ চিত্তে ব্রাহ্মণ হাত জোড় করে বলতে লাগলেন ‘বন্দে রাধাং আনন্দরূপিণীং, বন্দে রাধাং আনন্দরূপিণীং বন্দে রাধাং আনন্দরূপিণীং’। রাহ্মণের জ্যান্ত-রাধা দর্শন হল।
শ্রীমায়ের জীবনী লেখক ব্রহ্মচারী অক্ষয়চৈতন্য একটি ঘটনা জানিয়েছেন। শৈশবে মা হারা এক বালক একবার শ্রীমায়ের কাছে আসে। মায়ের শরীর তখন খুব অসুস্থ ছিল। মায়ের পাদস্পর্শ করে ছেলেটির আবেশের মতো অবস্থা হয়। ওই অবস্থায় তার মনে পর পর চারটি চিন্তার উদয় হয়। ১।‘গুরু ও ইষ্ট অভেদ’ ২। ঠাকুর ও মা অভেদ’, ঠাকুর মাকে জগদম্বারূপে পুজো করে ছিলেন। অতএব ইনিই ৩। মা-কালী, ৪।যিনি রাধা তিনিই সারদা – এই চারটি চিন্তা পর পর তার মনে দেখা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালক মায়ের মূর্তির জায়গায় শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি, ঠাকুর মা-কালী এবং শ্রীরাধা মূর্তি দর্শন করে। কালীরূপ দর্শন করে সে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়ে। তখন মা শ্রীহস্ত স্পর্শ দ্বারা তাকে প্রকৃতিস্থ করেন। রাধারূপ দর্শনের পর শ্রীমা ঐ বালককে বলেছিলেন, ‘তুমি বৈষ্ণব বংশে জন্মেছ, সেই সুকৃতির ফলে এই দর্শন পেলে, যদি আর কখনও এঁকে দর্শন কর, মা বলে ডেকো না’।
শ্রীমতী ক্ষীরোদবালা রায়ের স্মৃতিকথা থেকে জানা যায় প্রমদা দত্ত নামে এক মহিলা পেশায় ডাক্তার একবার শ্রীমাকে দর্শন করতে আসেন। তিনি ব্রাহ্মমতে বিশ্বাসী ছিলেন। মায়ের বাড়িতে ঢুকে সিঁড়ির পাশের ঘরটিতে মায়ের একটি ফটো টাঙ্গান ছিল। সেটি দেখে তিনি জানতে চান কার ছবি এটি। অনেকক্ষণ ছবিটির দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন ‘ইনিই স্বয়ং রাধা’। সেদিন বেশ কিছু সময় মায়ের কাছে থেকে তিনি প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে ওই দিনের অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর স্বামীকে জানিয়েছিলেন এই বলে ‘দেখ, আজ আমি যেখানে গিয়েছিলাম তা স্বর্গ, যাঁকে দর্শন ও স্পর্শ করে এসেছি তিনি স্বয়ং রাধা। ... আজ বৃন্দাবনে গিয়ে রাধারানির পাদপদ্ম দর্শন করে এসেছি, ধন্য হয়ে এসেছি’।

সেদিন ছিল দোল পূর্ণিমা। দুটি অল্প বয়স্ক ছেলে মাকে প্রণাম করতে আসে। তাদের সঙ্গে আবীর ছিল। প্রণাম করে তারা মাকে বলল “আমরা আবীর দেব’’। এই কথা শোনা মাত্র মায়ের মনে এক অদ্ভূত ভাবান্তর উপস্থিত হয়। তিনি ‘আবীর দেবে’ এই কথা বলে ছেলেদের আবীর দিতে না দিতে নিজেই ওই আবীর নিয়ে চপলা বালিকার মতো তাদের গায়ে ছুঁড়তে লাগলেন। সেই মুহূর্তে মায়ের মনে বৃন্দাবন লীলার কোন দোল পূর্ণিমার কথা মনে পড়ায় সহসা মাতৃমূর্তিতে চপলা বালিকার ভাব হয়েছিল কিনা কে বলতে পারে। শ্রীমায়ের জীবনে রাধারূপের আত্মস্বীকৃতি আমরা প্রথমেই আলোচনা করেছি।
আর একটি ঘটনা। জনৈক ভক্ত মাকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মা, ঠাকুরের জপ তো আমাকে বলে দিয়েছেন। আপনার জপ কীকরে করব? শ্রীমা অকপটে সেই ভক্তকে বলেছিলেন, রাধা বলে পার, কি অন্য কিছু বলে পার, যা তোমার সুবিধে হয় তা-ই করবে। অনেক সময় আধুনিক যুক্তিবাদী মন সব কিছুতে সন্দেহ করে বসে। মনে হয় এ-সব কি সত্যি ‘ শ্রীরাধা’ বলে কি কেউ কোন কালে ছিলেন। কালের প্রবাহ আমাদের সব কিছু ভুলিয়ে দেয়, মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। ইতিহাস নিয়ে ভক্তরা মাথা ঘামান না। কারণ তাদের কাছে মূল বিষয়ের রসাস্বাদনে এটি কোন অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় না।
স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন প্রবল যুক্তিবাদী। তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে রাধাকৃষ্ণের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, “আচ্ছা, ধরিলাম যেন শ্রীমতী রাধা বলিয়া কেহ কখন ছিলেন না – কোন প্রেমিক সাধক রাধাচরিত্র কল্পনা করিয়াছেন। কিন্তু উক্ত চরিত্র কল্পনাকালেও ঐ সাধককে শ্রীরাধা ভাবে এককালে তন্ময় হইতে হইয়াছিল, এ কথা তো মানিস? তাহা হইলে উক্ত সাধকই যে ঐকালে আপনাকে ভুলিয়া রাধা হইয়াছিল এবং বৃন্দাবন লীলার অভিনয় যে ঐরূপে স্থূল ভাবেও হইয়াছিল, এ কথা প্রমাণিত হয়।[লীলাপ্রসঙ্গ ১/২৫৩] তিনি আরও বলেন “তোরা ঐ লীলার ভিতর শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীমতীর মনের টানটাই শুধু দেখ না, ধর না – ঈশ্বরে মনের ঐরূপ টান হইলে তবে তাঁহাকে পাওয়া যায়”
শ্রুতি বলছেন ‘রসো বৈ সঃ’- তিনি রসস্বরূপ আনন্দস্বরূপ। ভগবানের ভগবতার নির্যাস হল তার মাধুর্য। এই মাধুর্য আস্বাদনের জন্য ভগবান যখন ধরাধামে আসেন তখন সশক্তিক আসেন। শাস্ত্রমতে শিব ও শক্তি,কৃষ্ণ ও রাধা অভিন্ন। ব্রহ্মস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ প্রকৃতিকে অতিক্রম করে রয়েছেন তেমনি রয়েছেন ব্রহ্মস্বরূপা শ্রীরাধা। দুধ ও তার ধলবত্বের মধ্যে যেমন কোন ভেদ নেই তেমনি রাধা ও কৃষ্ণের মধ্যে কোন ভেদ নেই। রাধা যেমন কৃষ্ণময়ী, মা সারদাও তেমনি রামকৃষ্ণময়ী। সারদাদেবীর রাধা-সত্তার পূর্ণ প্রকাশ হল যে তিনি ‘রামকৃষ্ণগতপ্রাণা’।কৃষ্ণ অবতারে যিনি রাধা, রাম- অবতারে যিনি সীতা, শ্রীচৈতন্যের সঙ্গে যিনি বিষ্ণুপ্রিয়া, তিনিই শ্রীরামকৃষ্ণের লীলাসঙ্গিনী সারদাদেবী। তাঁর রাধাভাব স্বরূপের একটি দিক মাত্র।যুগ প্রয়োজনে মাতৃভাবের প্রাধান্য দেখা গেলেও অনন্তভাবময়ীর একটি নিঃসন্দেহে রাধাভাব।©
শরণাগত , শরণাগত ,শরণাগত , কৃপা, কৃপা, কৃপা। 🙏🙏🙏
ReplyDeleteশ্রী শ্রী মায়ের রাধা রূপের বিভিন্ন ঘটনা পড়ে খুবই ভালো লাগলো, প্রণাম নিয়ো মা গো।🙏🌹🙏
Deleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏।
মৌসুমী রায় কোচবিহার।
মায়ের কথা শুনে ভীষন ভালো লাগলো । মাধুরী ঘোষাল
Deletekhub ভালো লাগল। নতুন করে কতো কিছু জানতে পারছি।🙏🏻🙏🏻কৃষ্ণা দত্ত বেলঘরিয়া।
Deleteখুব খুব ভালো লাগলো মায়ের রাধা রূপ মা যে আমাদের জগৎ জননী সীতা রাধা মাতা মেরি মা যে আমাদের আনন্দময়ী মাকে আমরা খুব নিজের করে পাই আমরা যে মায়ের সন্তান আপনার কাছে আমরা অনেক অজানা জিনিস জানতে পারছি আপনার শ্রী চরণে এসেছি বলে, আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম শিখা মন্ডল বজবজ।
ReplyDeletePranam Prabhuji, khub sundar lekhani, apurba Brindaban er prakritik barnana, mon jeno Brindaban ei chale gelo, Sri Sri Sarada MA er bibhinna rup jeno darshan holo.
DeleteSundar lekhatir janya antorik kritagyata janai.
Pujaniya Sri Sri Ma, er sambandhe anek natun tathya janlam, ja amader mugdha korlo.
Thanks with regards.
🌹🍀🌹🙏🙏🙏🌹🍀🌹
Nilanjana Ghosh Biswas Hailakandi Assam.Maa er kotha pore khub valo laglo Maharaj ji upna ke peya amra dhanno onek thatta jante parchi.Upni susto thakun valo thakun sobar mongol hoke.Joy Maa . Acharya Maharaj ji amar sosradha voktipurno pronam grohon korben.🙏🙏🙏🌼☘️🌼
Deleteমায়ের রাঁধা ভাব এর ভীষন ভালো লাগলো প্রণাম
Deleteজয় মা।
ReplyDeleteকৃপাময়ী আমাদের কৃপা করে।
মা এর কথা শুনে খুব আনন্দ পেলাম মহারাজের কাছে আমরা অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছি জয় মা 🙏 আমার আন্তরিক ভক্তি পূর্ণ প্রনাম জানাই মহারাজের চরণে
ReplyDeleteআলো ব্যনার্জী
ReplyDeleteজয় মা! আমাদের মায়ের কতো রূপ , খুব ভালো লাগলো মায়ের রাধা রূপের বর্ণনা। মা যে আমাদের জগৎ জননী জগদ্ধাত্রী কৃপাময়ী। মহারাজ আপনার আশীর্বাদে কতো কিছু জানতে পারছি। আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি🙏 আপনার চরণে শতকোটি প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏
জয়শ্রীরাধা,শ্রী মা সারদাদেবীয় যে শ্রী রাধিকা, তা পূজনীয় আচার্যদেবের লেখায় ফুটে উঠেছে।তার,নানা দিক তুলে ধরেছেন!অসাধারণ লেখাটি!খুবই উপকৃত হলাম এভাবে জানতে পেরে।আপনার অসীম কৃপা।শ্রী ভগবান কে অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এভাবে আপনার দ্বারা উপকৃত হচ্ছি বলে।তিনিই বড়ো দাতা,যিনি জ্ঞান দান করেন।অনেক, অনেক ধন্যবাদ জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই পূজনীয় আচার্যদেব কে।জয়শ্রীমা।নাম বিনু চক্রবর্তী,পান্ডে। বাড়ি মালদা।জয় ঠাকুর
ReplyDeleteJoy maa sarada debir joy.
ReplyDeleteJai Radharupini Swang Ma Sarada pronomamyoham🌷🌷♥️♥️🙏🙏. Sotokoti sosrodheyo vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌷🌷🌻🌻🙏🙏. Maharajji, opurbo Aponer ei uposthapona, dhonyo holam amra sokol vaktobrindo ei pothonermadhyomey👏🙏🙏. Ki opurbo upoma diyey Maer Radharoop byakto korechen ta ontor e gethey acchey, osadharon🙏🙏. Ma sober mangol koro Ma🌷🌷🙏🙏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷 🙏
ReplyDeleteঅপূর্ব লাগলো মায়ের রাধা রুপের কথা। মা অতুলনীয়
ReplyDeleteজয় মা প্রনাম 🙏🙏🙏
Pranam Maa....🙏pranan maharajji...🙏🙏
ReplyDeleteKi apoorbo laglo Maharaj Mayer ei Radha roopini roop o upoma. Uposthapona eto monograhi je antore gethe gechhe. Ei bhabe eto gobhire kokhono abogahon korini. Shato koti pronam apnar sricharone.
ReplyDeleteনবীনং হেমগৌরাঙ্গীং পূর্ণানন্দবতীং সতীং।
ReplyDeleteবৃষভানুসুতাং দেবীং বন্দে রাধাং জগৎপ্রসূং।।
অপূর্ব লাগল পড়ে। প্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏
হৃদয়ের সুর দিয়ে নামটুকু ডাকা
ReplyDeleteঅকারনে কাছে এসে হাতে হাত রাখা
দুরে গেলে একা বসে মনে মনে ভাবা।
কাছে এলে দুই চোখে কথা ভরা আভা,
তাহারে জড়ায়ে ঘিরে ভরিয়া তুলিবে ধীরে,
জীবন ক'দিনের কাদা আর হাসা
ধন নয় মান নয় কিছু ভালোবাসা করেছিনু আশা।
প্রণাম মহারাজ জী🙏 শ্রীমা সারদা র রাধা রূপের কথা পড়ে খুব আনন্দ পেলাম।মায়ের কথা আপনার লেখনি র গুনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে , মনে মনে বৃন্দাবন পৌঁছে গিয়ে ছিলাম।
ReplyDeleteরূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম
অপূর্ব।শ্রীমায়ের রাধা রুপের কথা জেনে খুব ভাল লাগল।প্রণাম মহারাজ🙏🙏ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর
ReplyDeleteশ্রী শ্রী মায়ের রাধা রূপের কথা খুব ভালো লাগলো। আপনার সান্নিধ্যে এসে আমরা বিভিন্ন দিক দিয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছি। আমার সভক্তি প্রণাম নেবেন মহারাজ। শুভ্রা লালা।
ReplyDelete🙏🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো মহারাজ মায়ের রাধা রূপের কথা শুনে।যত শুনি পড়ি ততই ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ হই । জয় মা প্রণাম নাও মা । প্রণাম গ্রহন করুন মহারাজ জী।
ReplyDeleteশ্রীরাধা রূপে মা সারদা, আমাদের জগৎ জননী তোমার শ্রীকোমল চরণে আশ্রয় দাও। মা গো, যারা তোমায় দর্শন করেছে তারা ধন্য। অপূর্ব লেখা মহারাজ প্রণাম নেবেন।
ReplyDelete🙏❤️🙏প্রণাম মাগো🙏❤️🙏
ReplyDelete🙏🙏🙏প্রণাম শ্রীগুরুজী🙏🙏🙏
ReplyDeleteApurbo laglo maer Radha roop bornona
ReplyDeleteপ্রথমেই আপনাকে আমার হৃদয়ের আন্তরিকভাবেই প্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏। শ্রী রাধারানি রূপে মা সারদা, আমাদের জগৎজনণী মা, সবাইকে কৃপা কর মা। আপণার পথ অনুসরণ করে চলেছি শুরু থেকেই। তাই আপণাকে আমার হৃদয়ের 🙏🙏🙏.
ReplyDeleteREBA Banerjee Anànda pelam Ami Radha Ma SARADA
ReplyDelete🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteঅপূর্ব , মায়ের কথা👌, মায়ের বিভিন্ন রূপের বর্ণনা আপনার লেখনী তে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মহারাজ। আরো জানলে ভালো লাগবে। সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই , আপনার সুস্থতা প্রার্থনা করি মায়ের কাছে।🙏🏻🌹🙏🏻
ReplyDeleteBulu Mukherjee Alipore 🙏