শ্রীমদ্ ভাগবত পুরাণ কথা
অনুবাদ ঃ স্বামী হরিময়ানন্দ

প্রথম স্কন্ধ
প্রথম অধ্যায়
© মঙ্গলাচরণ
শ্লোক - ১
জন্মাদ্যস্য যতো৳ন্বয়াদিতরত-
শ্চার্থেষ্বভিজ্ঞঃ স্বরাট্
তেনে ব্রহ্ম হৃদা য
আদিকবয়ে মুহ্যন্তি যৎসূরয়ঃ।
তেজোবারিমৃদাং যথা বিনিময়ো
যত্র ত্রিসর্গো৳মৃষা
ধাম্না স্বেন সদা নিরস্তকুহকং
সত্যং পরং ধীমহি।।১
শব্দার্থ – জন্মাদি
– সৃষ্টি-স্থিতি-লয়, অস্য – এই বিশ্বের,
যতঃ – যে পরমেশ্বর থেকে, অন্বয়াৎ চ ইতরতঃ – কারণরূপে
অর্থাৎ সত্তারূপে ও ব্যতিরেক অর্থাৎ অকার্যে অসত্তারূপে, অর্থেষু -কার্যে,অভিজ্ঞঃ – জ্ঞানবান,
স্বরাট্ - স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞানবান, তেনে -প্রকাশ করেছিলেন, ব্রহ্ম – বেদ, হৃদা
– মনের দ্বারা, যঃ – যে পরমেশ্বর,
আদিকবয়ে – ব্রহ্মাকে, মুহ্যন্তি -মোহপ্রাপ্ত হন,
যৎ - বেদে, সূরয়ঃ – দেবতাগণ।
তেজোবারিমৃদাং – সূর্যকিরণ,
জল ও মাটিতে, যথা – যেমন, বিনিময়ঃ – একটিতে
অন্যের মিথ্যা প্রকাশ। ত্রিসর্গঃ -সত্ত্ব-রজঃ-তমঃ – এই তিন
মায়া গুণের সৃষ্টি, অমৃষা – সত্যের মত,[প্রতীয়তে
-মনে হয়]। স্বেন ধাম্না – নিজ তেজের দ্বারা,
সদা – তিন কালেই, নিরস্তকুহকং -মায়া দূরীভূত
হয়েছে যাঁর, সত্যং – সত্যস্বরূপ, পরমং – পরমেশ্বরকে,
ধীমহি – আমরা ধ্যান করি।
সরলার্থ – যাঁর থেকে
এই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় হয়ে থাকে কারণ তিনিই সমস্ত পদার্থে সদ্রুপে বিদ্যমান
আছেন। তিনি অসৎ পদার্থ থেকে পৃথক্, জড় নয় চেতনরূপে আছেন। পরতন্ত্র নয় স্বয়ং প্রকাশরূপে
আছেন। যিনি ব্রহ্মা বা হিরণ্যগর্ভ নন, বস্তুত যিনি নিজ সংকল্প মাত্রই ব্রহ্মার নিকটে সেই
বেদজ্ঞান প্রকাশ করেছেন। যাঁর তত্ত্বনিরূপণে পণ্ডিতেরাও স্তব্ধ হয়ে যান। যেমন তেজোময়
সূর্যরশ্মিতে জলের, জলেতে স্থলের ও স্থলে জলের ভ্রম হয় তেমনই যাঁর মধ্যে এই ত্রিগুণময়ী
সৃষ্টি মিথ্যা হলেও অধিষ্ঠান সত্তাতে সত্যের মতো প্রতীত হচ্ছে, নিজের স্বয়ংপ্রকাশ জ্যোতি
দ্বারা সর্বদা ও সর্বতোভাবে মায়া এবং মায়ার কার্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রূপে অবস্থিত
পরম সত্যরূপ পরমাত্মাকে আমরা ধ্যান করি।
শ্লোক – ২
ধর্মঃ প্রোজ্ঝিতকৈতবো৳ত্র
পরমো নির্মৎসরাণাং
সতাং বেদ্যং বাস্তবমত্র
বস্তু শিবদং তাপত্রয়োন্মূলনম্।
শ্রীমদ্ভাগবতে মহামুনিকৃতে
কিং বা পরৈরীশ্বরঃ
সদ্যোহৃদ্যবরুধ্যতে৳ত্র
কৃতিভঃ শুশ্রুষুভিস্তৎক্ষণাৎ।। ২
শব্দার্থ – ধর্ম – ধর্ম,প্রোজ্ঝিত-কৈতবঃ
- মোক্ষ পর্যন্ত ফল আকাঙ্খা রহিত, অত্র – এখানে,
পরমঃ – সর্বশ্রেষ্ঠ, নির্মৎসরাণাম্ -অসূয়াবিহীন
নির্মল হৃদয় যাঁর, সতাং – সজ্জনদের, শিবদং – পরমমঙ্গল
জনম, তাপত্রয় – ত্রিতাপ, উন্মূলনম্ - সমূলে উৎপাটিত
করে, শ্রীমৎ - সুন্দর, ভাগবতে – ভাগবত পুরাণ, মহামুনি
– মহামুনি ব্যাসবেদ, কৃতে – রচিত, কিম্
- কি, বা – প্রয়োজন, পরৈঃ – অন্যকিছু,
ঈশ্বরঃ -পরমেশ্বর, সদ্যঃ -অবিলম্বে, হৃদি – হৃদয়ে,
অবরুধ্যতে – অবরুদ্ধ হয়, অত্র- এখানে, কৃতিভিঃ – সুকৃতি
সম্পন্ন মানুষের দ্বারা, শুশ্রুষূভিঃ – অনুশীলনের
ফলে, তৎক্ষণাৎ - অবিলম্বে।
সরলার্থ -মহামুনি ব্যাসদেব
রচিত এই শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণে মোক্ষফল কামনা থেকেও মুক্ত পরম ধর্মের নিরূপণ করা হয়েছে।
এই পুরাণে অসূয়াশূন্য ও সর্বভূতে দয়াশীল সাধু ব্যক্তিগণের অনুষ্ঠানযোগ্য সেই যথার্থ
পরমাত্মতত্ত্বের নিরূপণ করা হয়েছে, যা ত্রিতাপ জ্বালা নাশকারী। তাহলে এখন অন্য কোন
শাস্ত্রের আর কী প্রয়োজন? সুকৃতী পুরুষের যখনই এই পুরাণ শ্রবণের ইচ্ছা হয়, সেই মুহূর্তেই
অবিলম্বে ঈশ্বর তাঁর হৃদয়ে আসন গ্রহণ করেন।
শ্লোক – ৩
নিগমকল্পতরোর্গলিতং
ফলং শুকমুখাদমৃতদ্রবসংযুতম্ ।
পিবত ভাগবতং রসমালয়ম্
মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ।।
শব্দার্থ – নিগম- বৈদিক
শাস্ত্রসকল, কল্প-তরোঃ – কল্পবৃক্ষ, গলিতম্
- অত্যন্ত সুপক্ক, ফলম্ - ফল, আলয়ং -মোক্ষকাল পর্যন্ত , মুহুঃ – অহরহ, পিবত
– পান কর।
সরলার্থ – হে রসিক
ভক্তবৃন্দ, এই শ্রীমদ্ভাগবত বেদরূপ কল্পবৃক্ষের সুপক্ক ফল। শুকদেবরূপ তোতাপাথির মুখনিঃসৃত
হওয়াতে এই গ্রন্থ পরম আনন্দময় সুধাতে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। এই ফলের মধ্যে খোসা, আঁটি
ইত্যাদি ত্যাজ্য অংশ একটুও নেই। এ শুরু রসে পরিপূর্ণ। দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে ততক্ষণ
এই দিব্য ভগবৎরস নিরন্তর পান করতে থাক। এই রস কেবল মর্ত্যভূমিতেই সুলভ।
নৈমিষে৳নিমিষক্ষেত্রে
ঋষয়ঃ শৌনকাদয়ঃ।
সত্রং স্বর্গায় লোকায়
সহস্রসমমাগত।।৪
শব্দার্থ – অনিমিষক্ষেত্রে
– বিষ্ণুক্ষেত্রে, ঋষয়ঃ -ঋষিগণ, নৈমিশে – নৈমিশারণ্যে,
শৌনকাদয়ঃ – শৌনক প্রভৃতি, স্বর্গায় লোকায় - বিষ্ণুলোক
প্রাপ্তি কামনায়, সহস্রসমং – সহস্রবছর ব্যাপী, সত্রং
– সত্র নামক যজ্ঞ, আসত – করেছিলেন।
সরলার্থ – পুরাকালে
একদা ভগবান বিষ্ণু এবং দেবতাদের পরম পুণ্যময় ক্ষেত্র নৈমিষারণ্যে শৌনকাদি ঋষিগণ ঈশ্বরলাভের
জন্য হাজার বছর ব্যাপী সত্র-যজ্ঞ করেছিলেন।
ত একদা তু মুনয়ঃ প্রাতর্হুতহুতাগ্নয়ঃ।
সৎকৃতং সূতমাসীনং পপ্রচ্ছুরিদমাদরাৎ।।
৫
শব্দার্থ – একদা প্রাতর্হুতহুতাগ্নয়ঃ
– একদিন প্রাতঃকালীন নিত্যনৈমিত্তিক যজ্ঞক্রিয়া
সমাপন করে, তে – শৌনকাদি, মুনয়ঃ – মননশীল
মহাত্মাগণ, তু আসীনং – সুখে উপবিষ্ট,
সৎকৃতং – পূজিত, সূতং – রোমহর্ষণ
মুনির পুত্র উগ্রসবা, ইদং – এই প্রশ্ন, আদরাৎ
- সমাদরে, পপ্রচ্ছুঃ – জিজ্ঞাসা করলেন।
সরলার্থ – একদিন সেই
ঋষিগণ প্রাতঃকালে নিত্যনৈমিত্তিক হোমাদি কর্ম সমাপ্ত করে সূতকে সমাদরে আপ্যায়ন করে
পূজা করেছিলেন এবং তাঁকে উচ্চাসনে বসিয়ে আগ্রহ সহকারে এই প্রশ্ন করেছিলেন।
*নিত্য কর্ম – সন্ধ্যাকালে
বন্দনা, ও প্রাতঃকালীন হোম ইত্যাদিকে নিত্যকর্ম বলে। এ গুলি অনুষ্ঠিত হলে স্বর্গাদি
ফললাভ হয় না ঠিক, কিন্তু সঞ্চিত পাপ ক্ষয় হয় ও ভবিষ্যৎ পাপকর্ম হয় না। নিত্যকর্ম অকরণে
প্রত্যবায়ঃ – না করলে পাপ হবে।
নৈমিত্তিক কর্ম – যে সব কর্ম
কোন বিশেষ কারণ উপলক্ষে করা হয় – যেমন পুত্রেষ্টি যাগ,
জাতকর্ম ইত্যাদি।
ঋষয় ঊচুঃ
ত্বয়া খলু পুরাণানি সেতিহাসানি চানঘ।
আখ্যাতান্যপ্যধীতানি ধর্মশাস্ত্রাণি যান্যুত।। ৬
শব্দার্থ – হে অনঘ – নিষ্পাপ,
ত্বয়া – তোমার দ্বারা, সেতিহাসানি – মহাভারত
প্রভৃতি ইতিহাস সহ, পুরাণানি – ১৮ পুরাণ, উত – আরও, যানি
ধর্মশাস্ত্রাণি – মন্বাদি কৃত অন্যান্য
ধর্মশাস্ত্র, খলু – নিশ্চয়ই, অধীতানি – পঠিত হয়েছে,
চ অপি – শুধু তাই নয়, আখ্যাতানি চ – তোমার দ্বারা
ব্যাখ্যাত হয়েছে।
সরলার্থ – ঋষিগণ সূতকে বললেন
– হে নিষ্পাপ সূত, তুমি মহাভারত প্রভৃতি ইতিহাস
গ্রন্থ, অষ্টাদশ পুরাণ ও যে সব ধর্মশাস্ত্র আছে তা সবই অধ্যয়ন করেছ। শুধু তাই নয় সেগুলি
ব্যাখ্যাও করেছ।
যানি বেদবিদাং শ্রেষ্ঠো ভগবান্ বাদরায়ণঃ।
অন্যে চ মুনয়ঃ সূত পরাবরবিদো বিদুঃ।। ৭
শব্দার্থ – সূত – হে সূত,
বেদবিদাং – বিদ্বৎজনদের মধ্যে, শ্রেষ্ঠঃ – প্রধান,
ভগবান্ বাদরায়ণঃ – ভগবান বেদব্যাস, যানি
– যে সব শাস্ত্র, অন্যে চ – এবং অন্যান্য,
পরাপরবিদঃ -সগুণ ও নির্গুণ ব্রহ্মকে যাঁরা জানেন,
মুনয়ঃ - ঋষিগণ
বেত্থ ত্বং সৌম্য তৎসর্বং তত্ত্বতস্তদনুগ্রহাৎ।
ব্রূয়ুঃ স্নিগ্ধস্য শিষ্যস্য গুরবো গুহ্যমপ্যুত।।৮
শব্দার্থ – সৌম্য – সে সাধু,
তদনুগ্রহাৎ - তাঁদের কৃপায়, ত্বং – তুমি, তৎ - সেই , সর্বং
-সমূহ, তত্ত্বতঃ -যথাযথরূপে, বেত্থ – জান, গুরবঃ
– উপদেষ্টাগণ, স্নিগ্ধস্য শিষ্যস্য অপি – বিনীত শিষ্যদের
কাছেই, গুহ্যম্ উত – শাস্ত্র রহস্যও, ব্রূয়ুঃ
-উপদেশ দেন।
সরলার্থ – হে সূত, বেদবেত্তাগণের
মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভগবান বাদরায়ণ এবং ভগবানের সগুণ-নির্গুণ
ব্রহ্মতত্ত্বে অভিজ্ঞ অন্যান্য মুনিগণও যা
জেনেছেন – তাঁদের যে জ্ঞান সে সবই আপনি যথাযথ জানেন।
আপনার মন সরল ও শুদ্ধ, তাই আপনি তাঁদের কৃপা লাভ করেছেন। গুরুজনগণ তাঁদের স্নেহের পাত্র
শিষ্যকে গুহ্য থেকে গুহ্যতম তত্ত্বও উপদেশ
দিয়ে থাকেন।(৭-৮)
তত্র তত্রাঞ্জসা৳য়ুষ্মন্
ভবতা যদ্বিনিশ্চিতম্।
পুংসামেকান্ততঃ শ্রেয়স্তন্নঃ শংসিতুমর্হসি।। ৯
শব্দার্থ – আয়ুষ্মন্ - হে আয়ুষ্মন্
, তত্র তত্র – সেই সেই শাস্ত্রে, পুংসাং – জীবগণের,
অঞ্জসা – অনায়াসেই, যৎ - যা, একান্ততঃ – নিশ্চিত,
শ্রেয়ঃ – হিতকর উপায়,ভবতা – তোমার দ্বারা,
বিনিশ্চিতং – স্থিরীকৃত হয়েছে, তৎ - তা, নঃ – আমাদেরকে,শংসিতুং
– উপদেশ দিতে, অর্হসি – পার।
সরলার্থ -হে আয়ুষ্মান! সেই সব শাস্ত্র, পুরাণ আর গুরুজনদের উপদেশ – সকলের মধ্যে কলিযুগের জীবের পরম কল্যাণকারী সহজ সাধন আপনি কী মনে করেন, আমাদের উপদেশ করুন।
প্রায়েণাল্পায়ুষঃ সভ্য কলাবস্মিন্ যুগে জনাঃ।
মন্দাঃ সুমন্দমতয়ো মন্দভাগ্যা হ্যুপদ্রুতাঃ।। ১০
শব্দার্থ – সভ্য – হে সাধু,
অস্মিন্ - বর্তমান , কলৌযুগে – কলি নামক যুগে, প্রায়েণ
– প্রায়ই,জনাঃ – লোকেরা,
অল্পায়ুষঃ – অল্প আয়ুযুক্ত, মন্দাঃ – অলস, সুমন্দমতয়ঃ
– অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন, মন্দভাগ্যাঃ – দুর্ভাগ্যযুক্ত,
হি – নিশ্চিৎভাবে, উপদ্রুতাঃ -রোগাদি পীড়িত।
সরলার্থ – হে সাধু, এই কলি যুগে
মানুষ অল্পায়ু, অলস, অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন, দুর্ভাগ্যযুক্ত এবং সর্বোপরি রোগাদি পীড়িত
হয়ে থাকে।
ভূরীণি ভূরিকর্মাণি শ্রোতব্যানি বিভাগশঃ।
অতঃ সাধোত্র যৎসারং সমুদধৃত্য মণীষয়া।
ব্রূহি নঃ শ্রদ্ধধানানাং যেনাত্মা সম্প্রসীদতি।। ১১
শব্দার্থ – ভূরীণি- প্রচুর, ভূরিকর্মাণি
-নানা প্রকার কর্ম, শ্রোতব্যানি- শ্রবণযোগ্য শাস্ত্রগুলি, বিভাগশঃ -বিভিন্ন বিভাগে
আছে।অতঃ – সে হেতু, সাধোঃ -হে বিদ্বান, অত্র – এই শ্রেয়
সাধনের মধ্যে, যৎ সারং – যেটি সর্ব উৎকৃষ্ট, মনীষয়া -তীক্ষ্ণ বুদ্ধির দ্বারা, সমুদ্ধৃত্য - বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে সারবাক্য সংগ্রহ করে, ভূতানাং - প্রাণীদের, ভদ্রায়- মঙ্গলের জন্য, ব্রূহি -আমাদের বল, যেন - যার দ্বারা, আত্মা - জীবের বুদ্ধি, সুপ্রসীদতি -সম্যক্ প্রসন্ন হয়।
সরলার্থ – শাস্ত্রও অনেক কিন্তু
তার মধ্যে কোনও একটা নিশ্চিত সাধন বলা হয়নি, বহু প্রকার কর্মের কথা বলা আছে। তা ছাড়া,
সে সব এত বিস্তারিত যে তার এক অংশও শোনা বেশ কঠিন। আপনি পরোপকারী, আপনার অভিজ্ঞতায়
জীবের মঙ্গলের জন্য সকল শাস্ত্রের সারতত্ত্ব আমাদের বলুন, যাতে আমাদের অন্তঃকরণ নির্মল
হয়।
সূত জানাসি ভদ্রং তে ভগবান্ সাত্বতাং পতিঃ ।
দেবক্যাং বসুদেবস্য জাতো
যস্য চিকীর্ষয়া।। ১২
শব্দার্থ – সূত- হে সূত, তে- তোমার,
ভদ্রং – মঙ্গল হোক, সাত্বতাং – ভক্তদের
, পতিঃ – পালক, ভগবান, যস্য – যে কাজের,
চিকীর্ষয়া – সম্পন্ন করার ইচ্ছায়, বসুদেবস্য – বসুদেবের
ঔরসে, দেবক্যাং - তাঁর পত্নী দেবকীতে,জাতঃ
– জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তৎ সর্বং – তা সব কিছু,
জানাসি – আপনি জানেন।
সরলার্থ – হে প্রিয় সূত! আপনার
মঙ্গল হোক। যদুবংশীয়দের রক্ষক ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বসুদেবের পত্নী দেবকীর গর্ভে
কেন অবতীর্ণ হয়েছিলেন তা তো আপনি জানেনই।
তন্নঃ শুশ্রূষমাণানামর্হস্যঙ্গানুবর্ণিতুম্ ।
যস্যাবতারো ভূতানাং ক্ষেমায়
চ ভবায় চ।। ১৩
পদবিচ্ছেদ – তৎ-নঃ শুশ্রূষমাণানাম্-অর্হসি-অঙ্গ-অনুবর্ণিতুং।
যস্যাবতারঃ
ভূতানাং ক্ষেমায় চ ভবায় চ ।।
শব্দার্থ - অঙ্গ - হে সূত, যস্যাবতারঃ - অবতারগণ , ভূতানাং - জীবগণের, ক্ষেমায় - মঙ্গলের জন্য, চ - এবং , ভবায় চ - সমৃদ্ধির জন্য, শুশ্রূষমাণানাং নঃ - শুনতে ইচ্ছুক আমাদের, তৎ - তাঁর, অনুবর্ণিতুং - বর্ণনা করতে, অর্হসি - যোগ্য হও।
সরলার্থ – আমরা সে
বৃন্তান্ত শুনতে চাই। আপনি দয়া করে আমাদের সেই কাহিনী বর্ণনা করুন। কারণ জীবের মঙ্গল
এবং জীবের ভগবৎপ্রেম বৃদ্ধি করার জন্যই ভগবানের
অবতার হয়।
আপনঃ সংসৃতিং ঘোরাং
যন্নাম বিবিশো গৃণন্।
ততঃ সদ্যো বিমুচ্যেত
যদ্বিভেতি স্বয়ং ভয়ম্।। ১৪
শব্দার্থ – ঘোরাং – অতি দুস্তর,
সংসৃতিং – সংসার প্রবাহ, আপন্নঃ – অযাচিত
মানুষ, বিবশঃ – সংসারাধীন ভাবে, যৎ - যে ভগবানের, নাম
– নাম, গৃণন্ -উচ্চারণ করে, ততঃ -সংসার বন্ধন
থেকে, সদ্যঃ -তৎক্ষণাৎ, বিমুচ্যতে – মুক্ত হয়,
যৎ - নাম থেকে, স্বয়ং ভয়ম্ বিভেতি – ভয়ের অর্থাৎ
যমেরও ভয় হয়।
সরলার্থ – ভয়ঙ্কর
সংসারে পতিত ব্যক্তি যদি বিবশভাবেও নাম উচ্চারণ করে, তাহলে সংসার থেকে অচিরেই মুক্ত
হয়। সেই ভগবানের নামের জোরে স্বয়ং যমরাজও ভীত হন।
যৎপাদসংশ্রয়াঃ সূত মুনয়ঃ প্রশমায়নাঃ।
সদ্যঃ পুনন্ত্যুপস্পৃষ্টাঃ স্বর্ধুন্যাপো৳নুসেবয়া।। ১৫
শব্দার্থ - সূত - হে সূত, যৎ পাদসংশ্রয়াঃ - যাঁর
চরণাশ্রিত, প্রশমায়নাঃ - অতি শান্ত, মুনয়ঃ - মুনিগণ, উপস্পৃষ্টাঃ - নিকটে এলে
দর্শনের দ্বারা জীবগণকে , পুনন্তি - পবিত্র করেন, স্বর্ধুনী-আপঃ - সুরধুনী -
গঙ্গার জল, অনুসেবয়া - স্নান বা স্পর্শের দ্বারা, সদ্যঃ - সদ্য পবিত্র করে।
সরলার্থ – হে সূত, পরম অনাসক্ত
ও শান্ত মুনিগণ সর্বদা ভগবানের শ্রীচরণের শরণেই
থাকেন। তাই তাঁদের স্পর্শমাত্রেই জীবকুল তৎক্ষণাৎ পবিত্র হয়ে যায় কিন্তু গঙ্গাজলে স্নান
বহুদিন করলে তবে পবিত্র হয়।
কো বা ভগবতস্তস্য পুণ্যশ্লোকেড্যকর্মণঃ।
শুদ্ধিকামো ন শৃণুয়াদ্
যশঃ কলিমলাপহম্।। ১৬
শব্দার্থ – শুদ্ধিকামো কো বা – কে এমন
আছে যে আত্মশুদ্ধি চায়,তস্য ভগবতঃ – সেই ভগবানের, পুণ্যশ্লোকেড্যকর্মণঃ
– পবিত্র চরিত্র ব্যাক্তিদের স্তবনীয় এমন, কলিমলাপহম্
- কলির কলুশ নাশক, যশঃ – লীলাকথা, ন শৃণুয়াৎ
- শুনতে না চায়।
সরলার্থ – এমন পুণ্যকীর্তি ভক্ত
যাঁর লীলাকীর্তন করতে থাকে সেই ভগবানের কলির কলুষ নাশক পবিত্র কীর্তি কোন মুমুক্ষু
ব্যক্তিই বা না শুনতে চান?
তস্য কর্মাণ্যুদারাণি
পরিগীতানি সূরিভিঃ।
ব্রূহি নঃ শ্রদ্ধধানানাং
লীলয়া দধতঃ কলাঃ।।১৭
শব্দার্থ – লীলয়া – স্বেচ্ছায়,
কলাঃ -অবতার -রূপগুলিকে, দধতঃ তস্য – প্রকটিত
করেছেন যিনি,সূরিভিঃ -দেবতাদের দ্বারা, পরিগীতানি – বার বার
গীত, উদারাণি কর্মাণি - পরম আনন্দের কর্মগুলি,
শ্রদ্ধধানানাং – শ্রদ্ধাশীলদের, ব্রূহি – বলুন।
সরলার্থ – যিনি লীলাচ্ছলেই
অবতার ধারণ করেন। নারদাদি মহাত্মাগণ তাঁর উদার কাহিনী গান করেছেন। দয়া করে সেই কাহিনী
আমাদের কাছে বর্ণনা করুন।
অথাখ্যাহি হরের্ধীমন্নবতার-কথাঃ
শুভাঃ।
লীলা বিদধতঃ স্বৈরমীশ্বরস্যাত্মমায়য়া।।১৮
শব্দার্থ – অথ- এরপর, ধীমান্
- হে ধীমান্, আত্মমায়য়া – যোগমায়া শক্তির দ্বারা,
স্বৈরং – স্বাধীন ভাবে, লীলা – সৃষ্টি
প্রভৃতি কর্ম, বিদধতঃ – যিনি করেছেন তাঁর,
ঈশ্বরস্য হরেঃ – ভগবান হরির, শুভাঃ -মঙ্গলপ্রদ, অবতার
কথাঃ – মৎস্যাদি অবতারের কর্ম বিবরণ, আখ্যাহি – আপনি বলুন।
সরলার্থ – হে ধীমান
সূত, সর্ব সমর্থ প্রভু নিজ মায়াশক্তি দ্বারা
স্বচ্ছন্দে লীলা বিহার করেন। আপনি এবার সেই ভগবান শ্রীহরির মঙ্গলময় অবতার কাহিনী বর্ণনা
করুন।
বয়ন্তু ন বিতৃপ্যাম
উত্তমঃ শ্লোকবিক্রমে।
যচ্ছৃণ্বতাং রসজ্ঞানাং
স্বাদু স্বাদু পদে পদে।।১৯
শব্দার্থ – বয়ং তু
– আমরা কিন্তু, উত্তমঃশ্লোকবিক্রমে – ভগবানের
গুণকথায়, ন বিতৃপ্যামঃ -পরিতুষ্ট হয় না, অতৃপ্তি থেকে যায়। যৎ - যেহেতু, শৃণ্বতাং
-আমরা শ্রবণ করছি, রসজ্ঞানাং – আমরা রসিক, পদে পদে
– প্রতি পদে, স্বাদু স্বাদু – সুমধুর।
সরলার্থ – আমরা শ্রীভগবানের
গুণকথা শুনে তৃপ্তিলাভ করতে পারি না। কারণ রসজ্ঞ শ্রোতার পদে পদে ভগবানের লীলার মধ্যে
নব নব রসের অনুভূতি হয়।
কৃতবান্ কিল কর্মাণি
সহ রামেণ কেশবঃ।
অতিমর্ত্যানি ভগান্
গূঢ়ঃ কপটমানুষঃ।। ২০
শব্দার্থ – গূঢ়ঃ -আত্মগোপনকারী,
কপটমানুষঃ – মায়াশ্রিত নরদেহধারী, ভগবান কেশব – ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,
রামেণ সহ – বলরামের সঙ্গে, যানি -যে সব, অতিমর্ত্যানি
কর্মাণি – অলৌকিক মর্ত্যলীলা, কৃতবান্ কিল – করেছিলেন।
সরলার্থ -ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে গোপন রেখে লোকচক্ষুর সামনে
এমন আচরণ করতেন যেন মনেব হত তিনি কোনও সাধারণ মানুষ, যদিও বলরামের সাথে এমন লীলাও করেছেন,এমন
পরাক্রম দেখিয়েছেন, যা মানুষের পক্ষে অসাধ্য।
কলিমাগতমাজ্ঞায় ক্ষেত্রে৳স্মিন্
বৈষ্ণবে বয়ম্।
আসীনা দীর্ঘসত্রেণ কথায়াং
সক্ষণা হরেঃ।।২১
শব্দার্থ – কলিম্ - কলিকাল,আগতং
– উপস্থিত, আজ্ঞায় – জানতে পেরে,
বয়ং – আমরা, অস্মিন্ - এই বৈষ্ণব ক্ষেত্রে,
দীর্ঘসত্রেণ – দীর্ঘকাল সত্রযজ্ঞ করার কালে, হরেঃ কথায়াং
– শ্রীহরির লীলাকথা , সক্ষণাঃ আসীনাঃ – সকলে অবসর
কালে প্রতীক্ষা করছি।
সরলার্থ – কলিযুগ
আগত জেনে আমরা এই বিষ্ণুক্ষেত্রে এক দীর্ঘকাল ব্যাপী যজ্ঞের সঙ্কল্প করেছি। শ্রীহরির কথা শ্রবন করার সুযোগ পেয়েছি।
ত্বং নঃ সন্দর্শিতো
ধাত্রা দুস্তরং নিস্তিতীর্যতাম্।
কলিং সত্ত্বহরং পুংসাং
কর্ণধার ইবার্ণবম্ ।। ২২
শব্দার্থ – পুংসাং
– মানুষের, সত্ত্বহরং -সত্ত্বগুণ অপহরণকারী, দুস্তরং
কলিং – দুস্তরনীয় কলিকালকে, নিস্তিতীর্ষতাং
নঃ – নিশ্চিতরূপে অতিক্রম করতে ইচ্ছুক আমাদের কাছে,
অর্ণবং -সাগরকে, কর্ণধার ইব – কর্ণধারের মতো, ত্বং
– তুমি, ধাত্রা – ঈশ্বর কর্তৃক,
সন্দর্শিতঃ – প্রেরিত।
সরলার্থ - এই এই কলিযুগ
অন্তঃকরণের পবিত্রতা ও বীর্যনাশ কারী। এর থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন। সমুদ্র পার হওয়ার
জন্য যেমন কর্ণধার প্রয়োজন সেরকম কলিযুগের দুষ্ট প্রভাব থেকে নিস্তার পেতে ইচ্ছুক আমাদের
কাছে ব্রহ্মা আপনাকে এনেছেন।
ব্রূহি যোগেশ্বরে কৃষ্ণে
ব্রহ্মণ্যে ধর্মবর্মণি।
স্বাং কাষ্ঠামধুনোপেতে
ধর্মঃ কং শরণং গতঃ।। ২৩
শব্দার্থ – ব্রহ্মণ্যে
– ব্রাহ্মণ, ধর্মবর্মণি – ধর্মরক্ষক,
যোগেশ্বরে কৃষ্ণে - সর্বশক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ,
স্বাং কাষ্ঠাং – স্বীয় অপ্রকটলীলা, উপেতে -প্রাপ্ত হলে,
অধুনা – সম্প্রতি, ধর্মঃ – ধর্ম, কং
– কাকে, শরণং গতঃ – আশ্রয় করল।
ব্রূহি – তুমি বল।
সরলার্থ – ব্রাহ্মণ পালক ও ধর্ম
রক্ষক যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নিজ ধামে গমন করেছেন। এই সময় ধর্ম কার শরণাগত হয়েছে – তা আপনি
বলুন।
প্রথম
অধ্যায় সমাপ্ত
( প্রথম অধ্যায় সার সংক্ষেপ)
মহামুনি বেদব্যাস বিভিন্ন পুরাণ শাস্ত্র রচনা
করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যেন তৃপ্ত হতে পারেননি। ঠিক সেইসময় মহান
দেবর্ষি নারদের উপদেশ তিনি লাভ করলেন। যার দরুণ তিনি শ্রীমদ ভাগবত শাস্ত্র প্রণয়ন
করতে চাইলেন। এই গ্রন্থে শ্রীভগবান-এর সমস্ত গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।
এই
শাস্ত্র তিনি যখন প্রণয়ন করতে চলেছেন, তখন তিনি এইরূপে মঙ্গলাচরণ করেছেন
যা
থেকে এই বিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে স্থিতি ও লয়, তেজ, বারি এবং মৃত্তিকার মতো
পদার্থের বিনিময়, সেই ধরনের যে ভাগবত স্বরূপে তম, রজ এবং সত্ত্ব গুণের কার্যাদি
সত্যের মতোই পতিত হয়, যিনি স্বয়ং অভিজ্ঞ এবং স্বরাট, যে বেদে দৈবগণ স্বয়ং
বিমোহিত হয়ে যান, যে বেদ যিনি আদি কবি ব্রহ্মার হৃদয় পদ্মে প্রকাশ করেছিলেন,
নিজের তেজের দ্বারা সবসময় যাতে কুহক নিরস্ত হয়ে রয়েছে, সেই সত্য স্বরূপ স্বয়ং
পরমেশ্বরকে আমরা নিয়ত ধ্যান করে থাকি।
মহামুনি
বেদব্যাস রচিত শ্রীমদভাগবত গ্রন্থে ঈর্ষাশূন্য সাধুদের ঈশ্বর আরাধনার সমস্ত ধর্ম
নিরূপিত হয়েছে। এই বর্ণিত ঈশ্বর আরাধনা রূপ গ্রন্থে ধর্মের তিনটি দিক আছে।
আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক এবং আধিভৌতিক। যা পরম মঙ্গল দান করে, সেই বাস্তব বস্তু এখান
থেকে জানা যায়। শ্রীমদভাগবত যে গ্রন্থটি সেটি বেদরূপ কল্পবৃক্ষের গলিত ফল। সেই
গলিত ফলই শুকদেবের মুখ থেকে পতিত হয়ে পড়েছে পৃথিবীতে। হে রসিক পাঠকগণ, আপনারা
অমৃত দ্রব সংযুক্তা এই রসময় ফল রূপ বেদবারি শ্রবণের পরেও বারংবার পান করতে
চাইবেন।
বিষ্ণুক্ষেত্র–যার নাম নৈমিষারণ্য, সেই অরণ্যে শৌণক প্রমুখ
ঋষিরা সহস্র বছর যাবৎ একটি যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে চলেছিলেন। এই রকমই যজ্ঞের অনুষ্ঠান
চলাকালীন একদিন শৌণক প্রভৃতি ঋষিরা প্রাতঃকালে নিত্য নৈমিত্তিক হোম সমাপণ করেছেন।
এমন সময় সেখানে রোমহর্ষণের পুত্র সূত এলে ঋষিগণ তাঁকে বসতে আসন দিলেন। সেই ঋষিরা
সূতকে সাদরে আপ্যায়ণ করে জিজ্ঞাসাও করলেন–হে সূত, তুমি পবিত্র মহাভারত আদি ইত্যাদি ইতিহাস ধর্মশাস্ত্রগুলি
অধ্যয়ন করেছ। যে সমস্ত বেদ বিদ্ৰা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভগবান বেদব্যাস
এবং অন্যান্য সগুণ ও নিগুর্ণ সমস্ত তত্ত্ববিদ মুনিরা যা জানেন, হে সৌম্য তুমি স্বয়ং
সেই তত্ত্ববিদ মুনিদের অনুগ্রহেই সব জানতে পেরেছ। কারণ হিসাবে বলা যায় সমস্ত
গুরুরাই তাঁদের প্রিয় শিষ্যের কাছে সমস্ত গোপনীয় তত্ত্ব অনায়াসে ব্যক্ত করেন।
হে আয়ুষ্মন, যে সমস্ত অর্থবোধক রাজ্য রয়েছে তাদের মধ্যে কলি ভাবাপন্ন মানুষের যে
সমস্ত মঙ্গলময় বলে তুমি মনে করছ তার সব কিছুই আমাদের কাছে বল,
হে
সভ্য তুমিতো জানোই বর্তমান এই কলিযুগে মানুষের আয়ু তো ক্রমশ কমেই আসছে। দিনে দিনে
মানুষ ক্রমশ অলস এবং অল্প বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে উঠেছে। ফল স্বরূপ নানা রোগ তাদেরকে
দিনে দিনে আক্রমণ করে চলেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন শাস্ত্র, বিভিন্ন কর্ম এবং তাদের
শ্রবণের বিষয়েও বিবিধ কথা বলা হয়েছে। হে সুজন, আগে উল্লিখিত বিষয়গুলির মধ্যে যা
সার বস্তু, সমস্ত মানুষদের কাছে যা কাঙ্খিত, তুমি তার সমস্ত কিছুই ব্যক্ত কর। হে
সূত, ভগবান তোমার সদাই মঙ্গল করুক। সমস্ত ভক্তগণদের পালক পিতা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু
যে কাজ করবার জন্য বসুদেবের পত্নী এবং কংসের প্রিয় ভগিনী দেবকীর গর্ভে অবতীর্ণ
হয়েছিলেন, তা নিশ্চয়ই তোমার অজানা নয়।
এই
মায়াময় ঘোর সংসার প্রবাহে পতিত সমস্ত মানুষ বিবশের বশীভূত হয়েও যার নাম উচ্চারণ
করলে সমস্ত ভয় থেকে মুক্তি লাভ করে, যে ভগবানের পাদরূপ পদ্মশ্রিত প্রসন্নচেতা
মুনিরা তাদের চরণ প্রান্তে উপনীত সমস্ত জনগণকে দর্শনমাত্র পবিত্র করেন, সঙ্গাদি
পুণ্যবারিযুক্ত নদী তীর্থ বারবার স্নানের দ্বারা তাদের পবিত্র করে থাকেন, উচ্চারিত
যত পুণ্য শ্লোকসমূহ, প্রশংসিত কর্ম সেই ভগবানের কলুষতা বিনাশক, যশ, শুদ্ধি, কাম
সমূহ কোন্ ব্যক্তি না শ্রবণ, করতে ইচ্ছুক?
মানব
সমাজের কল্যাণার্থে স্বেচ্ছায় যে ভগবান নারায়ণ অবতার মূর্তি ধারণ করেন, সেই
শ্রীকৃষ্ণের লীলাকাহিনি নারদ প্রভৃতি ঋষিগণ কর্তৃক পরিগীত উদার কর্মসমূহ শুনতে
শ্রদ্ধাশীল আমরা, আমাদের কাছে তুমি কর্মসমূহের বর্ণনা কর। হে ধীমান, যিনি নিজ
মায়ারূপ লীলার দ্বারা নিজের ইচ্ছায় সৃষ্টাদি কর্ম এবং ভূ-ভার হরণরূপ লীলা করে
থাকেন, সেই ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গলময় মৎস্যাদি দশটি অবতার সকলের কথাও আমাদের
কাছে বর্ণনা কর। আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ লীলা শ্রবণে কখনই উদাসীন হই না। এই
শ্রীকৃষ্ণ লীলা শ্রবণে রসিককুলের অন্তরে ক্ষণে ক্ষণে মধুর থেকে মধুরতর অনুভূতির
আবির্ভাব ঘটতে থাকে।
ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ তার বিভিন্ন অবতার লীলায় নিজেকে আত্মগোপন করে মানুষের দেহ ধারণ করেছেন।
তিনি তার ভ্রাতা রূপে আবির্ভূত বলরামের সাথে অলৌকিক কার্য সমূহও সম্পাদন করেছেন।
তুমি তা আমাদের কাছে ব্যক্ত কর। কলিকাল আগত প্রায় জেনে তার ভয়ে দীর্ঘকাল সাধ্য
যজ্ঞের ছলে ঐ বৈষ্ণব ক্ষেত্র যাতে আমরা কলির কথা শ্রবণ করার অবসর পেয়েছি। যারা
মহাসমুদ্র পার করবার জন্য ইচ্ছুক বা প্রস্তুত সেই সব মানুষের কাছে এই শাস্ত্র
মাঝির মতো, যা জীবদের বিচার করার বুদ্ধি বিনষ্ট করে সেই বিনষ্টকারী কলিরূপ দুস্তর
সমুদ্র পার হতে আমরা ইচ্ছুক। তাই তো বোধ হয় তোমাকে কর্ণের ন্যায় বীর করে আমাদের
কাছে পাঠিয়েছেন। সমস্ত ব্রাহ্মণগণের পরিপালক, পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের রক্ষক, সমস্ত
যজ্ঞের ঈশ্বর স্বরূপ শ্রীবিষ্ণু এক্ষণে স্বধামে গমন করেছেন। তাহলে এক্ষণে ধর্ম
কাকে আশ্রয় করে আবর্তিত হচ্ছে? হে মহাত্মা, তুমি তা আমাদের সবার নিকট বর্ণনা কর।
============================
প্রথম স্কন্ধ/
দ্বিতীয় অধ্যায়
ইতি সংপ্রশ্নসং হৃষ্টো বিপ্রাণাং রৌমহর্ষণিঃ।
প্রতিপূজ্য বচস্তেষাং প্রবক্তুমুপচক্রমে।। ১
পদচ্ছেদ – ইতি সংপ্রশ্ন-সংহৃষ্টঃ
বিপ্রাণাং রৌমহর্ষণিঃ।
প্রতিপূজ্য বচঃ তেষাং
প্রবক্তুং উপচক্রমে।।
শব্দার্থ – বিপ্রাণাং
– শৌনকাদি ঋষিদের, ইতি
– এরূপ, সংপ্রশ্ন-সংহৃষ্টঃ
– সম্যক প্রশ্নের দ্বারা
আনন্দিত হয়ে, রৌমহর্ষণিঃ – রোমহর্ষণের
পুত্র সূত উগ্রশ্রবা, তেষাং – ঋষিদের,
বচঃ – বাক্যকে প্রতিপূজ্য
– সমাদর করে, প্রবক্তুং
– প্রশ্নের উত্তর দিতে, উপচক্রমে – আরম্ভ করলেন।
সরলার্থ – শৌনকাদি
ঋষিদের এরূপ সমীচীন প্রশ্ন শুনে পরম সন্তুষ্ট হয়ে রোমহর্ষণের পুত্র সূত উগ্রশ্রবা ঋষিবাক্যকে
সাধুবাদ জানিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে আরম্ভ করলেন।
সূত উবাচ
যং প্রব্রজন্তমনুপেতমপেতকৃত্যং
দ্বৈপায়নো বিরহকাতর আজুহাব।
পুত্রেতি তন্ময়তয়া তরবো৳ভিনেদুঃ
তং সর্বভূতহৃদয়ং মুনিমানতো৳স্মি।।২
পদচ্ছেদ – যং প্রব্রজন্তং
অনুপেতং অপেতকৃত্যং
দ্বৈপায়নঃ বিরহ-কাতরঃ আজুহাব।
পুত্র ইতি তন্ময়তয়া তরবঃ অভিনেদুঃ
তং সর্বভূত-হৃদয়ং মুনিং আনতঃ অস্মিঃ।।
শব্দার্থ – অনুপেতং
– উপনয়ন হীন অবস্থায়,
প্রব্রজন্তং – সন্ন্যাস গ্রহণ করেছে
এমন, অপেতকৃত্যং – কর্তব্যকর্মবিহীন
অবস্থায়, যং- যাকে অর্থাৎ শুকদেবকে, বিরহকাতরঃ – পুত্রবিচ্ছেদ
ব্যাকুল, দ্বৈপায়নঃ -ব্যাসদেব, পুত্র ইতি – পুত্র পুত্র এই বলে,
আজুহাব – আহ্বান
করেছিলেন। তন্ময়তয়া – শুকভাবে
তন্ময় হয়ে, তরবঃ – গাছ গুলি,
অভিনেদুঃ – প্রত্যুত্তর করেছিল,
তং সেই সর্বভূত হৃদয়ং – সর্বজীবের
হৃদয়ে প্রবিষ্ট, মুনিং – শুকদেবকে,
আনতঃ অস্মি – আমি প্রণাম করি।
সরলার্থ – উপনয়ন সংস্কার
বিহীন, যিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে চলেছেন, সেই শুকদেবকে পুত্রবিরহকাতর ব্যাসদেব পুত্র-পুত্র
বলে উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করেছিলেন এবং তখন শুকভাবে তন্ময় হয়ে গিয়ে বৃক্ষগুলি প্রতিধ্বনিচ্ছলে
উওর করেছিল, সেই সর্ব প্রাণীর হৃদয়স্থিত শুকদেব মুনিকে আমি প্রণাম করি।
যঃ স্বানুভাবমখিলশ্রুতিসারমেকম্
অধ্যাত্মদীপমতিতিতীর্ষতাং তমো৳ন্ধম্।
সংসারিণাং করুণয়াহ পুরাণগুহ্যং
তং ব্যাসসূনুমুপযামি গুরুং মুনীনাম্।।৩
পদচ্ছেদ – যঃ স্বানুভাবং-অখিল-শ্রুতিসারং-একম্
অধ্যাত্মদীপং অতি-তিতীর্ষতাম্ তমঃ অন্ধম্ ।
সংসারিণাং করুণয়া-আহ পুরাণ-গুহ্যং
তং ব্যাসসূনুং-উপযামি গুরুং মুনীনাম্ ।।
শব্দার্থ – অন্ধং তমঃ
– গাঢ় অন্ধকার, অতিতিতীর্ষতাং
– অতিক্রম করতে ইচ্ছুক,
সংসারিণাং – সংসারী ব্যক্তিদের
প্রতি, করুণয়া – কৃপার দ্বারা, যঃ – যিনি অর্থাৎ
শুকদেব, স্বানুভাবং – নিজের অসাধারণ
ভাব, অখিলশ্রুতিসারং – সর্ববেদসার, একং – অদ্বিতীয়,
অধ্যাত্মদীপং – পরতত্ত্ব প্রকাশক,
পুরাণগুহ্যং – শ্রীমদ্ভাগবত শাস্ত্র,
আহ – বলেছিলেন,তং – তাঁকে,
মুনীনাং গুরুং – মুনিদের
উপদেষ্টা, ব্যাসসূনুং – ব্যাসদেবের
পুত্র শুকদেবকে, উপযামি – আশ্রয় করি।
সরলার্থ – ঘোর অজ্ঞান
অন্ধকারময় সংসার পার হতে ইচ্ছুক জীবদের প্রতি কৃপাপরবশ যিনি অসাধারণ প্রভাবশালী, সর্ববেদসার,
পরতত্ত্ব প্রকাশক অনুপম শ্রীমদ্ ভাগবত শাস্ত্র
প্রচার করেছেন, সেই মুনিদের উপদেষ্টা ব্যাসনন্দন শুকদেবের পরণাপন্ন হই।
নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।। ৪
শব্দার্থ – নারায়ণং
নরং – নর ও নারায়ণ নামক ঋষিদের,
নরোত্তমং - পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণকে, দেবীং
সরস্বতীং -দেবী সরস্বতীকে, ব্যাসং চ এব – এবং ব্যাসদেবকে,
নমস্কৃত্য – প্রণাম করে, ততঃ – তারপর,
জয়ং – জয় নামক গ্রন্থ, উদীরয়েৎ
- পাঠ করবে।
সরলার্থ – নারায়ণ,
নর, নরোত্তম, দেবী সরস্বতী এবং ব্যাসদেবকে প্রণাম করে জয়-গ্রন্থ পাঠ করবেন।
মুনয়ঃ সাধু পৃষ্টো৳হং
ভবদ্ভির্লোকমঙ্গলম্।
যৎ কৃতঃ কৃষ্ণ-সম্প্রশ্নো যেনাত্মা সুপ্রসীদতি।।৫
পদচ্ছেদ – মুনয়ঃ সাধু
পৃষ্টঃ অহং ভবদ্ভিঃ লোক-মঙ্গলম্ ।
যৎ কৃতঃ কৃষ্ণ-সংপ্রশ্নঃ যেন আত্মা সুপ্রসীদতি।।
শব্দার্থ – মুনয়ঃ
-হে মুনি গণ, ভবদ্ভিঃ – আপনারা,
অহং – আমাকে, সাধু – সুন্দরভাবে, পৃষ্টঃ – জিজ্ঞাসা
করেছেন, যৎ - যেহেতু, লোক-মঙ্গলং – জীবের মঙ্গলদায়ক,
কৃষ্ণ-সংপ্রশ্নঃ – কৃষ্ণ বিষয়ক
প্রশ্ন, কৃত – করা হয়েছে, যেন আত্মা
সুপ্রসীদতি – আত্মা সুপ্রশন্ন হয়।
সরলার্থ – হে মুনিগণ,
আপনারা আমাকে অতি সুন্দর প্রশ্ন করেছেন। যেহেতু, জগতের পক্ষে সাক্ষাৎ মঙ্গলজনক এই কৃষ্ণ-প্রশ্নের
দ্বারা চিত্ত সুপ্রসন্ন হয়।
স বৈ পুংসাং পরো ধর্মো যতো ভক্তিরধোক্ষজে।
অহৈতুক্যপ্রতিহতা যয়াত্মা
সম্প্রসীদতি।। ৬
শব্দার্থ -যতঃ -যে ধর্ম
থেকে, অধোক্ষজে – শ্রীকৃষ্ণে,
অহৈতুকী – ফলাকাঙ্খাহীন, অপ্রতিহতা
– বাধাহীন, ভক্তিঃ – ভক্তি,যয়া
– যার দ্বারা, আত্মা
– বুদ্ধি, সম্প্রসীদতি
– বিশেষভাবে প্রসন্ন
হয়, স বৈ -সেইটিই, পুংসাং – জীবমাত্রের
, পরঃ ধর্মঃ – শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
সরলার্থ – যে ধর্ম
পালনে স্থূল ইন্দ্রিয়ের অগোচর শ্রীকৃষ্ণের
প্রতি ফলাকাঙ্ক্ষা শূন্য শুদ্ধ প্রেমভক্তি জন্মায় ও অন্তর বিশেষভাবে সুমার্জিত হয়,
তাই হল জীবমাত্রের পরম ধর্ম।
বাসুদেবে ভগবতি ভক্তিযোগঃ
প্রযোজিতঃ।
জনয়ত্যাশু বৈরাগ্যং
জ্ঞানঞ্চ যদহৈতুকম্।।৭
শব্দার্থ – ভগবতি বাসুদেবে
– ভগবান শ্রীকৃষ্ণে
, প্রযোজিতঃ -অনুষ্ঠিত, ভক্তিযোগঃ -সাধন ভক্তি,
আশু – শীঘ্র, বৈরাগ্যং – ভগবান ব্যতীত
অন্য বিষয়ে বিরাগ, যৎ -যেটি, অহৈতুকম্ - আকাঙ্ক্ষা রহিত, জ্ঞানঞ্চ – শুদ্ধজ্ঞানই,
জনয়তি – উৎপন্ন করে।
সরলার্থ – ভগবান শ্রীকৃষ্ণে
ভক্তি হওয়া মাত্রই অর্থাৎ অনন্য প্রেমে তাঁর সংগে মনকে যুক্ত করা মাত্রই, নিষ্কাম জ্ঞান
ও বৈরাগ্যের উদয় হয়।
ধর্মঃ স্বনুষ্ঠিতঃ পুংসাং বিষ্বক্সেনকথাসু যঃ।
নোৎপাদয়েদ্ যদি রতিং
শ্রম এব হি কেবলম্।।৮
পদচ্ছেদ – ধর্মঃ স্বনুষ্ঠিতঃ
পুংসাং বিষ্বক্সেন-কথাসু যঃ।
ন উৎপাদয়েৎ যদি রতিং
শ্রম এব হি কেবলম্।।
শব্দার্থ – পুংসাং-জীবের,
যঃ – যে, ধর্মঃ – বর্ণাশ্রম
ধর্ম, স্বনুষ্ঠিতঃ ত্রুটিহীন ভাবে সম্পন্ন হলেও, যদি – যদি, বিষ্বক্সেনকথাসু
– শ্রীকৃষ্ণের গুণলীলা
কথায়, রতিং – রুচি, ন উৎপাদয়েৎ
- উৎপন্ন না করে, কেবলং শ্রম এব হি – কেবল পরিশ্রম
মাত্রি হয়।
সরলার্থ – ঠিক ঠিক
ধর্ম পালন করেও যদি মনুষ্য হৃদয়ে ভগবানের লীলাকথার প্রতি অনুরাগ বা অভিরুচি না জন্মায়,
তাহলে সেই কর্ম বৃথা শ্রমমাত্র(পণ্ডশ্রম)।
ধর্মস্য হ্যাপবর্গস্য
নার্থো৳র্থায়োপকল্পতে।
নার্থস্য ধর্মৈকান্তস্য
কামো লাভায় হি স্মৃতঃ।।৯
শব্দার্থ – আপবর্গস্য
ধর্মস্য – মোক্ষসাধক ধর্মের,
অর্থঃ – কাম্য বস্তু, অর্থায়
– প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য,
ন হি উপকল্পতে -কল্পিত হয়নি। ধর্মৈকান্তস্য – ধর্মের
সঙ্গে একীভূত, অর্থস্য কামঃ – বিষয়ভোগরূপ
কাম্যবস্তু, লাভায় – লাভ করার
জন্য, ন হি স্মৃতঃ – মুনিগণের
দ্বারা স্বীকৃত হয়নি।
সরলার্থ – ধর্মের
ফল হল মোক্ষ, তার ফল অর্থলাভ নয়। অর্থ কেবল ধর্ম কর্মের অনুষ্ঠানের জন্য। ভোগবিলাস
বা ভোগ্যপদার্থ লাভ ধর্ম কর্মের ফল নয়।
কামস্য নেন্দ্রিয়প্রীতির্লাভো
জীবেত যাবতা।
জীবস্য তত্ত্বজিজ্ঞাসা
নার্থো যশ্চেহ কর্মভিঃ।।১০
শব্দার্থ – কামস্য
– বিষয়ভোগের, লাভঃ -ফল,
ন ইন্দ্রিয়প্রীতিঃ – ইন্দ্রিয়ভোগ
নয়, যাবতা - যে পরিমাণ বিষয়ের দ্বারা, জীবেত
– প্রাণ ধারণের জন্য
গ্রহণীয়। জীবস্য – জীবের,
তত্ত্বজিজ্ঞাসা – তত্ত্বানুসন্ধান, কর্মভিঃ – কাম্য কর্মের
অনুষ্ঠান দ্বারা, যঃ চ ইহ – প্রসিদ্ধ
স্বর্গবাদ, অর্থঃ ন – লাভ নয়।
সরলার্থ – ইন্দ্রিয়ের
তৃপ্তি বিষয় ভোগের ফল নয়, বিষয় ভোগ প্রয়োজন কেবলমাত্র জীবন নির্বাহের জন্য। জীবনের
লক্ষ্য হল তত্ত্বজিজ্ঞাসা। নানা রকম কর্মের অনুষ্ঠান করে স্বর্গাদি লাভ করাও এর ফল
বা লক্ষ্য নয়।
বদন্তি তত্তত্ত্ববিদস্তত্ত্বং
যজ্জ্ঞানমদ্বয়ম্।
ব্রহ্মেতি পরমাত্মেতি
ভগবানিতি শব্দ্যতে।।১১
শব্দার্থ – তত্ত্ববিদঃ
– তত্ত্বজ্ঞানিগণ, তৎ
অদ্বয়ং জ্ঞানম্ - সেই অদ্বিতীয় জ্ঞান, তত্ত্বং -সারবস্তু,বদন্তি – বলে থাকেন,
যৎ - সেই তত্ত্ববস্তুকে, ব্রহ্মেতি- ব্রহ্মরূপে, পরমাত্মেতি – পরমাত্মারূপে,
ভগবান্ ইতি – ভগবান রূপে, শব্দ্যতে – উক্ত হয়।
সরলার্থ – তত্ত্ববেত্তাগণ
জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়ের অভেদ অখণ্ড অদ্বিতীয় সচ্চিদানন্দস্বরূপ জ্ঞানকেই তত্ত্ব বলে থাকেন।
সেই তত্ত্বকেই কেউ বলেন ব্রহ্ম, কেউ বলেন পরমাত্মা আর কেউ বলেন ভগবান।
তচ্ছ্রদ্দধানা মুনয়ো
জ্ঞানবৈরাগ্যযুক্তয়া।
পশ্যন্ত্যাত্মনি চাত্মানং
ভক্ত্যা শ্রুতগৃহীতয়া।।১২
শব্দার্থ – তৎ - সেই
তত্ত্ববস্তুতে, শ্রদ্ধধানাঃ মুনয়ঃ – শ্রদ্ধাযুক্ত
ভক্তগণ,শ্রুতগৃহীতয়া -গুরুমুখে শুনে সাধনের দ্বারা, জ্ঞানবৈরাগ্যযুক্তয়া ভক্ত্যা
- জ্ঞান বৈরাগ্যযুক্ত ভক্তির দ্বারা, আত্মনি
– শুদ্ধচিত্তে, আত্মানং
– পরতত্ত্বকে , পশ্যন্তি
– অনুভব করে।
সরলার্থ – শ্রদ্ধালু
মুনিগণ ভাগবত শ্রবণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান বৈরাগ্য যুক্ত ভক্তিতে নিজ হৃদয়ে সেই পরমাত্মস্বরূপ
পরমাত্মার অনুভব করেন।
অতঃ পুম্ভির্দ্বিজশ্রেষ্ঠা
বর্ণাশ্রমবিভাগশঃ।
স্বনুষ্ঠিতস্য ধর্মস্য
সংসিদ্ধির্হরিতোষণম্।। ১৩
শব্দার্থ - দ্বিজশ্রেষ্ঠা – হে শৌনকাদি
শ্রেষ্ঠ ঋষিগণ, অতঃ – অতএব, বর্ণাশ্রমবিভাগশঃ
– বর্ণাশ্রমাদি বিভাগের
দ্বারা, পুংভিঃ -মানব কর্তৃক, স্বনুষ্ঠিতস্য ধর্মস্য – সম্যক অনুষ্ঠিত
ধর্মের, হরিতোষণং – হরির আরাধনাই,
সংসিদ্ধিঃ – ফল।
সরলার্থ – হে শৌনকাদি
ঋষিগণ, নিজ নিজ বর্ণ ও আশ্রম অনুসারে মানুষ
যে ধর্মের অনুষ্ঠান করে তার পূর্ণসিদ্ধি হল শ্রীহরির প্রীতি সম্পাদন।
তস্মাদেকেন মনসা ভগবান্
সাত্বতাং পতিঃ।
শ্রোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ
ধ্যেয়ঃ পূজ্যশ্চ নিত্যদা।।১৪
শব্দার্থ- তস্মাৎ -সেহেতু,
একেন মনসা – স্থির চিত্তে, সাত্বতাং
পতিঃ ভগবান্ - ভগবানের গুণলীলা, নিত্যশঃ শ্রোতব্যঃ – নিত্য শোনা
দরকার, কীর্তিতব্যঃ চ – নাম গুণগান
করা উচিত, ধ্যেয়ঃ পূজ্যঃ চ – ধ্যান ও
পূজার যোগ্য।
সরলার্থ – তাই একাগ্র
মনে ভক্তবৎসল ভগবানের নিত্য নিরন্তর শ্রবণ, কীর্তন, ধ্যান ও আরাধনা করা দরকার।
যদনুধ্যাসিনা যুক্তাঃ
কর্মগ্রন্থিনিবন্ধনম্ ।
ছিন্দন্তি কোবিদাস্তস্য
কো ন কুর্যাৎকথারতিম্।।১৫
শব্দার্থ – যুক্তাঃ
কোবিদাঃ -সংযতচিত্ত বিবেকিগণ, যৎ - যে হরির, অনুধ্যাসিনা – ধ্যানরূপ
খড়্গের দ্বারা, গ্রন্থিনিবন্ধনং – বিভিন্ন
দেহে অবস্থিত, কর্ম – অশুভ কর্ম,
ছিন্দন্তি – সমূলে ছেদন করে, তস্য
-সেই ভগবানের, কথারতিং – লীলাকথা
শ্রবণে আগ্রহ, কঃ ন কুর্যাৎ - কে এমন হীনব্যক্তি,
যে করে না।
সরলার্থ -কর্মের বন্ধন
বড় কঠিন। বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ভগবৎ চিন্তনরূপ তরোয়াল দিয়ে সেই গ্রন্থিবন্ধন ছিন্ন
করেন। অতএব সেই ভগবৎ লীলাকথামৃতে এমন কোন মানুষ আছে যার অনুরাগ না হবে।
শুশ্রূষোঃ শ্রদ্ধধানস্য
বাসুদেব কথারুচিঃ।
স্যান্মহৎসেবয়া বিপ্রাঃ
পুণ্যতীর্থনিষেবণাৎ।।১৬
শব্দার্থ – বিপ্রাঃ
– হে ব্রাহ্মণ ঋষিগণ,পুণ্যতীর্থনিষেবনাৎ
- পুণ্যতীর্থে বাস করার ফলে, মহৎসেবয়া -ভগবানের ভক্তের দর্শন ও তাঁর কথা শোনার দ্বারা,
শ্রদ্ধধানস্য – গুরু সাধু ও শাস্ত্রের
প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসীর, শুশ্রূষোঃ – শ্রবণেচ্ছুর,
বাসুদেবকথারুচিঃ – হরিকথা
শ্রবণে আসক্তি, স্যাৎ - হয়।
সরলার্থ – হে বিপ্রগণ,
পবিত্র তীর্থে বাস করলে মহৎসেবা, তারপর শ্রবণের ইচ্ছা, অতঃপর শ্রদ্ধা, তারপর ভগবত কথায়
রুচি জন্মে।
শৃণ্বতাং স্বকথাং কৃষ্ণঃ
পুণ্যশ্রবণকীর্তনঃ।
হৃদ্যন্তঃস্থো হ্যভদ্রাণি
বিধুনোতি সুহৎসতাম্।। ১৭
শব্দার্থ – পুণ্যশ্রবণকীর্তনঃ
– যাঁর নামরূপ গুণলীলা
কথা শ্রবন ও কীর্তন অতিপবিত্র, সতাং সুহৃৎ - সাধুদের হিতকারী, কৃষ্ণঃ – ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,
স্বকথাঃ শৃণ্বতাং – নিজ নামগুণ
কথা শ্রবনকারীদের, অন্তস্থঃ হৃদি -হৃদয়স্থ অন্তরে,অভদ্রাণি – অমঙ্গলগুলি,
হি – নিশ্চিতভাবে, বিধুনোতি
– সমূলে নাশ করে।
সরলার্থ – ভগবান শ্রীকৃষ্ণের
যশোগাথা শ্রবণ ও কীর্তন দুইই পুণ্যকারী। তাঁর লীলাকাহিনী শ্রবণকারীর হৃদয়ে তিনি প্রকাশিত
হন এবং তার অশুভ কামনাবাসনাকে বিনাশ করেন, কারণ তিনি সজ্জনদের নিত্য হিতকারী।
নষ্টপ্রায়েষ্বভদ্রেষু
নিত্যং ভাগবতসেবয়া।
ভগবত্যুত্তমশ্লোকে ভক্তির্ভবতি
নৈষ্ঠকী।। ১৮
শব্দার্থ – নিত্যং
– সর্বদা, ভাগবতসেবয়া – ভগবানের
কথা শুনে, অভদ্রেষু নষ্টপ্রায়েষু – কামনা বাসনা
অশুভ বিষয়গুলি নষ্ট হলে, উত্তমঃ শ্লোকে ভগবতি – উৎকৃষ্ট
যশ যাঁর এমন ভগবান কৃষ্ণে, নৈষ্ঠিকী ভক্তিঃ – নিশ্চলা
ভক্তি জন্মায়।
সরলার্থ – ভগবানের
ভক্তের কাছে ভগবৎ কথা শুনতে শুনতে হৃদয়ের কামনা বাসনা ক্ষীণ হয়ে গেলে শ্রীগোবিন্দে
অচলাভক্তি (সাধনভক্তি) জন্মায়।
তদা রজস্তমোভাবাঃ কামলোভাদয়শ্চ
যে।
চেত এতৈরনাবিদ্ধং স্থিতং
সত্বে প্রসীদতি।। ১৯
শব্দার্থ – তদা – নৈষ্ঠিকী
ভক্তি হলে, রজস্তমোভাবাঃ - রজ ও তমো গুণের
প্রভাব, যে চ কামলোভাদয়ঃ – কামলোভাদি
ষড়রিপু, এতৈঃ – এগুলির দ্বারা, অনাবিদ্ধং চেতঃ – অভিভূত
নয় এমন মন, সত্ত্বে স্থিতং
প্রসীদতি – শুদ্ধ সত্ত্বে
স্থিত হয়ে প্রসন্ন হয়।
সরলার্থ – তখন রজোগুণ
ও তমোগুণের থেকে উৎপন্ন কাম ও লোভ প্রভৃতি রিপু শান্ত হয়ে যায় এবং মন এদের থেকে মুক্ত
হয়ে সত্ত্বগুণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নির্মল হয়।
এবং প্রসন্নমনসো ভগবদ্ভক্তিযোগতঃ।
ভগবত্তত্ত্ববিজ্ঞানং
মুক্তসঙ্গস্য জায়তে।। ২০
শব্দার্থ – এবং – এই প্রকারে,
ভগবদ্ভক্তিযোগতঃ – শুদ্ধ ভক্তিসাধনের
দ্বারা, প্রসন্নমনসঃ মুক্তসঙ্গস্য – প্রশান্ত
চিত্ত কামাদিশূন্য সাধকের, ভগবত্তত্ত্ববিজ্ঞানং – ভগবৎ তত্ত্ব
সাক্ষাৎকার, জায়তে – উপলব্ধ
হয়।
সরলার্থ – প্রেমময়ী
ভক্তির প্রভাবে যখন সংসারের সমস্ত আসক্তি শেষ হয়ে যায়, হৃদয় আনন্দে ভরপুর হয়ে যায় তখন
ভগবানের তত্ত্ব আপনা থেকেই অনুভব হয়।
ভিদ্যতে হৃদয়গ্রন্থিশ্ছিদ্যন্তে
সর্বসংশয়াঃ।
ক্ষীয়ন্তে চাস্য কর্মাণি
দৃষ্ট এবাত্মনীশ্বরে।। ২১
শব্দার্থ – আত্মনি
– শুদ্ধচিত্তে, ঈশ্বরে
– শ্রীভগবানের,দৃষ্টে
-সাক্ষাৎকার হলে, অস্য – সাক্ষাৎকারীর,
এব – জ্ঞানোদয় হলেই,হৃদয়গ্রন্থিঃ
– সর্বপ্রকার অহংবুদ্ধি,ভিদ্যতে
– নষ্ট হয়ে যায়, সর্বসংশয়াঃ
- সকল সন্দেহ, ছিদ্যন্তে -ছিন্ন হয়, চ- এবং, কর্মাণি – পূর্বজন্মের
কর্মের ফল, ক্ষীয়ন্তে – লোপ পায়।
সরলার্থ – হৃদয়ে আত্নস্বরূপ
ভগবানের দর্শনমাত্রই হৃদয়গ্রন্থি অর্থাৎ আমিত্ব ছিন্ন হয়, সমস্ত সন্দেহের নিরসন হয়
এবং কর্মবন্ধন ক্ষীণ হয়ে যায়।
অতো বৈ কবয়ো নিত্যং
ভক্তিং পরময়া মুদা।
বাসুদেব ভগবতি কুর্বন্ত্যাত্মপ্রসাদনীম্।।২২
শব্দার্থ – অতো বৈ
– অতএব, কবয়ঃ -মনীষিগণ,
ভগবতি বাসুদেবে – ভগবান বাসুদেবের
প্রতি, নিত্যং – নিরন্তর,পরময়া
মুদা – অতি আনন্দ সহকারে, আত্মপ্রসাদনীম্ - অন্তরের আনন্দকারী, ভক্তিং – শ্রবণাদি
রূপ ভক্তি , কুর্বন্তি – প্রকাশ
করে থাকেন।
সরলার্থ – পন্ডিত
ব্যক্তিরা এজন্য সর্বদাই অত্যন্ত আনন্দ সহকারে শ্রীভগবানে ভক্তি করে থাকেন, যার দ্বারা
আত্মপ্রসাদ লাভ হয়ে থাকে।
সত্ত্বং রজস্তম ইতি
প্রকৃতের্গুণাস্তৈ
র্যুক্তঃ পরঃ পুরুষঃ
এক ইহাস্য ধত্তে।
স্থিত্যাদয়ে হরিবিরিঞ্চিহরেতি
সংজ্ঞাঃ
শ্রেয়াংসি তত্র খলু
সত্ত্বতনোর্নৃণাং স্যুঃ।।২৩
শব্দার্থ – সত্ত্বং
রজঃ তমঃ ইতি – সত্ত্বাদি এই তিনটি,
প্রকৃতেঃ -বহিরঙ্গ মায়ার, গুণাঃ – মায়াজাত
গুণ, তৈঃ – গুণের দ্বারা
বন্ধন রজ্জুর ন্যায়, যুক্তঃ – চালকরূপে
যুক্ত, একঃ – স্বজাতীয় দ্বিতীয় রহিত,
পরঃ – সর্বেশ্বর, পুরুষঃ
– ভগবান, ইহ-এখানে ,অস্য
– বিশ্বের, স্থিত্যাদয়ে – পালন সৃষ্টি
ও সং হারের জন্য, হরিবিরিঞ্চিহরেতি – বিষ্ণু-ব্রহ্মা
ও শিব, সংজ্ঞাঃ -নামগুলি, ধত্তে – ধারণ করেন।
তত্র – এই তিনের মধ্যে, সত্ত্বতনোঃ
– সত্ত্বাধিষ্ঠাতা শ্রীভগবান
থেকেই, খলু – নিশ্চিতরূপে, নৃণাং – জীবগণের,
শ্রেয়াংসি – শুভফল, স্যুঃ -হয়ে
থাকে।
সরলার্থ – প্রকৃতিতে
সত্ত্ব, রজ ও তম এই তিন গুণ আছে। এই তিনটি গুণকে স্বীকার করে এর মধ্যে অধিষ্ঠিত হয়ে,
এদের আশ্রয় করে, এক অদ্বিতীয় পরমাত্মাই সৃষ্টি, স্থিতি ও সং হারের জন্য ব্রহ্মা বিষ্ণু
ও মহেশ্বর এই তিন রূপে প্রকাশিত হন। তবুও বিশুদ্ধ সত্ত্বমূর্তি ভগবান শ্রীহরির থেকেই
মানুষের পরম মঙ্গল হয়ে থাকে।
পার্থিবাদ্দারুণো ধূমস্তস্মাদগ্নিস্ত্রয়ীময়ঃ।
তমসস্তু রজস্তস্মাৎ
সত্ত্বং যদ্ ব্রহ্মদর্শনম্।।২৪
পদচ্ছেদ – পার্থিবাৎ-দারুণঃ
ধূমঃ-তস্মাৎ-অগ্নিঃ-ত্রয়ীময়ঃ।
তমসঃ-তু রজঃ-তস্মাৎ
সত্ত্বং যদ্ ব্রহ্মদর্শনম্।।
শব্দার্থ – পার্থিবাৎ
- প্রবৃত্তিপ্রকাশহীন জড়, দারুণঃ – কাঠ থেকে,
ধূমঃ – প্রবৃত্তিস্বভাব ধূম,
তস্মাৎ - ধূম থেকে, ত্রয়ীময়ঃ – বেদোক্ত
সাধন, অগ্নিঃ – অগ্নি,[যেমন কাঠের
থেকে ধূম শ্রেষ্ঠ, আবার ধূমের থেকে অগ্নি শ্রেষ্ঠ] তস্মাৎ - রজোগুণ থেকে, সত্ত্বং – সত্ত্বগুণ
শ্রেষ্ঠ, যৎ - সেই সত্ত্বগুণ, ব্রহ্মদর্শনম্ - ব্রহ্মদর্শনের হেতু।
সরলার্থ - জড় কাঠ থেকে
ঈষৎ প্রবৃত্তিস্বভাব ধূম শ্রেষ্ঠ, ধূম থেকে পূর্ণপ্রকাশস্বভাব অগ্নি যজ্ঞকর্মের সাধক – তাই শ্রেষ্ঠ।
আবরণ স্বভাব তমোগুণ থেকে প্রবৃত্তিস্বভাব রজোগুণ এবং রজোগুণ থেকে সাক্ষাৎ ব্রহ্মদর্শনের
হেতু সত্ত্বগুণ শ্রেষ্ঠ।
ভেজিরে মুনয়ো৳থাগ্রে
ভগবন্তমধোক্ষজম্।
সত্ত্বং বিশুদ্ধং ক্ষেমায়
কল্পতে যে৳নু তানিহ।।২৫
শব্দার্থ – অথ – সেহেতু,
অগ্রে – পুরা কালে, মুনয়ঃ – মুনিগণ,
বিশুদ্ধং সত্ত্বং – বিশুদ্ধ
সত্ত্বাত্মক মূর্তিতে, ভবন্তম্ অধোক্ষজং- অপ্রাকৃত ভগবান বিষ্ণুকে, ভেজিরে – ভজনা করতেন।
ইহ – এই সংসারে, যে – যে জনেরা,
তান্ - মুনিদের, অনু – অনুসরণ
করেন, তে – তাঁদের, ক্ষেমায় – পরম মঙ্গলের
জন্য, কল্পতে – কল্পিত হয়।
সরলার্থ – প্রাচীন
কালে মহাত্মাগণ নিজ কল্যাণের জন্য বিশুদ্ধ
সত্ত্বগুণময় ভগবান বিষ্ণুরই পূজা করতেন। আজও যারা তাদের অনুসরণ করেন, তারাও কল্যাণ
লাভ করেন।
মুমুক্ষবো ঘোররূপান্
হিত্বা ভুতপতীনথ।
নারায়ণকলাঃ শান্তা ভজন্তি
হ্যনসূয়বঃ ।।২৬
শব্দার্থ -অথ - এরপর,
মুমুক্ষবঃ – মোক্ষলাভেচ্ছুক, ঘোররূপান্
- রজ তম প্রকৃতি যুক্ত ঘোরাকৃতি, ভূতপতীন্ - পিতৃভূত প্রজাপতি ভৈরব প্রভৃতিকে, হিত্বা – পরিত্যাগ করে, অনসূয়বঃ
-কাউকে নিন্দা না করে, শান্তাঃ – স্থির চিত্ত হয়ে,নারায়ণকলাঃ – নারায়ণের অবতারগণকে, ভজন্তি – উপাসনা করেন।
সরলার্থ – যারা এই
ভগসাগর পার হতে চায়, যদিও তারা কারও নিন্দা
করে না বা কারও দোষ দেখে না তবুও ভীষণমূর্তি তমোগুণী রজোগুণী ভৈরবাদি ভূতপতি
প্রজাপতিদের পূজা না করে সত্ত্বগুণী বিষ্ণু ভগবান এবং তাঁর অংশভূত অবতার গণেরই পূজা করেন।
রজস্তমঃ প্রকৃতয়ঃ সমশীলা
ভজন্তি বৈ।
পিতৃভূতপ্রজেশাদীন্
শ্রিয়ৈশ্বর্যপ্রজেপ্সবঃ ।।২৭
শব্দার্থ – রজস্তমঃ
প্রকৃতয়ঃ – ক্ষিপ্ত মূঢ় স্বভাব
যুক্ত, সমশীলাঃ – পিতৃভূতপ্রজেশাদির
সমান প্রকৃতি যাদের, শ্রিয়ৈশ্বর্যপ্রজেপ্সবঃ – ধন পুত্রাদির
কামনা করে যারা, পিতৃভূতপ্রজেশাদীন্ - পিতৃভূতপ্রজেশাদি দেবতার, ভজন্তি বৈ – উপাসনা
করে থাকেন।
সরলার্থ – কিন্তু
রাজস ও তামস স্বভাবাপন্ন মানুষ ধন, ঐশ্বর্য ও সন্তান কামনায় ভূত , প্রজাপতি ও পিতৃ প্রভৃতি দেবতাদের পূজা করে, কারণ এই সব মানুষদের স্বভাবও ওই সব দেবতাদের স্বভাবের
মত।
বাসুদেবপরা বেদা বাসুদেবপরা
মখাঃ।
বাসুদেবপরা যোগা বাসুদেবপরা
ক্রিয়াঃ।। ২৮
বাসুদেবপরং জ্ঞানং বাসুদেবপরন্তপঃ।
বাসুদেবপরো ধর্মো বাসুদেব
পরা গতিঃ।।২৯
শব্দার্থ – বেদাঃ – চারটি বেদ,
বাসুদেবপরাঃ – শ্রীগোবিন্দতত্ত্ব
প্রতিপাদক,
মখাঃ – বেদ বিহিত
যজ্ঞগুলি, বাসুদেবপরাঃ – বিষ্ণু
যজ্ঞেশ্বর তাই, যোগাঃ – যমনিয়মাদি
অষ্টাঙ্গ যোগ, বাসুদেবপরাঃ – বাসুদেবপ্রাপ্তির
উপায়স্বরূপ, ক্রিয়াঃ – কর্ম, বাসুদেবপরাঃ
– সমস্ত কর্ম ভগবানে
সমর্পিত হয়, জ্ঞানং – উপনিষদের
জ্ঞান, বাসুদেবপরং – বাসুদেবই
সেই জ্ঞানের লক্ষ্যবস্তু, তপঃ – কায়মনোবাক্যের
সংযম অর্থাৎ বৈরাগ্য, বাসুদেবপরং – পরম্পরায়
বাসুদেবনির্ভর, ধর্মঃ -দানব্রতাদি, বাসুদেবপরঃ
– বাসুদেবে সমর্পিত, গতিঃ – স্বর্গাদি
ফলপ্রাপ্তি , বাসুদেবপরাঃ – বাসুদেবের
আনন্দাংশ পরিচায়ক।(২৮-২৯)
সরলার্থ – ঋগ্বেদাদি
চার বেদ, যাগ-যজ্ঞাদি, যমনিয়মাদি অষ্টাংগ যোগ, নিত্যনৈমিত্তিকাদি কর্ম, উপনিষদের জ্ঞান,
কায়মনোবাক্যের তপস্যা, দান ব্রত ইত্যাদি ধর্মের অনুষ্ঠান, স্বর্গাদি ফলপ্রাপ্তি – এই সব বাসুদেব
প্রাপ্তির উপায় স্বরূপ। ২৮-২৯
স এবেদং সসর্জাগ্রে
ভগবানাত্মমায়য়া।
সদসদ্রূপয়া চাসৌ গুণময্যা৳গুণো
বিভুঃ।।৩০
শব্দার্থ – অগুণঃ -প্রাকৃত
গুণহীন,বিভু – সর্বব্যাপক, স এব অসৌ
ভগবান্ , অগ্রে – পূর্বে,
সৎ-অসৎ-রূপয়া – কার্যকারণরূপী, চ
-এবং , গুণময্যা – ত্রিগুণাত্মিকা
মায়া যুক্ত, আত্মমায়য়া – নিজ বহিরঙ্গ
শক্তির দ্বারা, ইদং – এই বিশ্ব,সসর্জ
– সৃষ্টি করলেন।
সরলার্থ – সর্বব্যাপক
পরমেশ্বর স্বয়ং নির্গুণ হয়েও প্রথমে কর্যকারণরূপী ত্রিগুণময়ী নিজ বহিরঙ্গ মায়া শক্তির
সাহায্যে এই বিশ্বকে সৃষ্টি করলেন।
তয়া বিলসিতেষ্বেষু গুণেষু
গুণবানিব।
অন্তঃ প্রবিষ্টঃ আভাতি
বিজ্ঞানেন বিজৃম্ভিতঃ।।৩১
শব্দার্থ -বিজ্ঞানেন-
চিৎশক্তির দ্বারা, বিজৃম্ভিতঃ – সম্যকভাবে
প্রকাশিত ভগবান, তয়া – গুণ মায়ার
দ্বারা, বিলসিতেষু এষু গুণেষু – উদ্ভূত
এই ব্রহ্মাণ্ডে, অন্তঃ প্রবিষ্টঃ – অন্তর্যামীরূপে
প্রবিষ্ট, গুণবান্ ইব – গুণবানের
মত, আভাতি – প্রকাশ পান।
সরলার্থ – সত্ত্ব, রজ ও তম – এই তিনটি গুণ তাঁর মায়াবিলাসমাত্র, দেখলে মনে হয় যে এর মধ্যে
প্রবিষ্ট থেকে তিনি এই গুণযুক্ত, বাস্তবে তিনি বিজ্ঞানানন্দঘন।
যথা হ্যবহিতো বহ্নির্দারুষ্বেকঃ
স্বযোনিষু।
নানেব ভাতি বিশ্বাত্মা
ভূতেষু চ তথা পুমান্ ।। ৩২
শব্দার্থ – যথা হি
স্বযোনিষু – যেমন নিজের প্রকাশক,
দারুষু -কাঠে, অবহিতঃ - নিহিত হয়ে, বহ্নিঃ – অগ্নি,
একঃ – এক হয়েও, নানা ইব – নানা প্রকারে,
ভাতি – প্রকাশ
পান।
সরলার্থ - অগ্নি তো
বস্তুত একই কিন্তু অভিব্যক্তির তারতম্য অনুসারে বিভিন্নরূপে প্রকাশিত হয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রতীয়মান
হয়। সেই রকমই সকলের আত্মস্বরূপ ভগবান তো একই কিন্তু প্রাণী জগতের বিভিন্নতা হেতু নানারূপে প্রতীয়মান হন।
অসৌ গুণময়ৈর্ভাবৈর্ভূতসূক্ষ্মেন্দ্রিয়াত্মভিঃ।
স্বনির্মিতেষু নির্বিষ্টো
ভুঙ্তে ভূতেষু তদ্গুণান্।।৩৩
শব্দার্থ – অসৌ – শ্রীভগবান
, ভূত-সূক্ষ্ম-ইন্দ্রিয়-আত্মভিঃ – আকাশাদি
সূক্ষ্মভূত,ইন্দ্রিয় , মন ও জীবাত্মার দ্বারা,
গুণময়ৈঃ ভাবৈঃ - গুণযুক্ত বস্তুর দ্বারা,
স্বনির্মিতেষু ভূতেষু – স্ব-উৎপাদিত স্বেদজ-
উদ্ভিজ্জ-অণ্ডজ-জরায়ুজ – এই চার প্রকার প্রাণীতে,
নির্বিষ্টঃ – প্রবিষ্ট
হয়ে, তদ্ গুণান্ - সেই সেই প্রাণীর অনুরূপ বিষয়গুলিকে, গুঙক্তে – ভোগ করান।
সরলার্থ – ভগবানই
সূক্ষ্ম ভূত তন্মাত্রা, ইন্দ্রিয়াদি তথা অন্তঃকরণ
প্রভৃতি গুণের পরিবর্তনের মাধ্যমে নানা প্রকার স্থূল দেহের নির্মাণ করেন ও তার মধ্যে
ভিন্ন ভিন্ন জীব রূপে প্রবিষ্ট হয়ে সেই সব দেহের অনুরূপ বিষয়ের উপভোগ করেন ও করান।
ভাবয়ত্যেষ সত্ত্বেন
লোকান্ বৈ লোকভাবনঃ।
লীলাবতারানুরতো দেবতির্যঙ্নরাদিষু।।৩৪
শব্দার্থ – এষ – এই , লোকভাবনঃ
– লোকপালক বিষ্ণু, দেবতির্যঙনরাদিষু
লীলাবতারাঃ – দেবতা পশুপক্ষী ও মানুষরূপে
নানা লীলাবতারে, অনুরতঃ -প্রকটিত হয়ে, সত্ত্বেন – সত্ত্বগুণের
দ্বারা, লোকান্ - প্রাণীগণকে, ভাবয়তি – পালন করেন।
সরলার্থ – তিনিই সম্পূর্ণ
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ও দেবতা, পশু পাখি মানুষ ইত্যাদি নানা রূপ স্থূলদেহ
ধারণ করে, সত্ত্বগুণের দ্বারা জীবের পালন করে থাকেন।
।। দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত।।
KOOOB SUNDAR LAGLO..ANEK AJANA KE JANLAM ...AE ANUDHAN AK SOUVAGO LAV KORCHI..SATOKOTI PRANAM GRAHAN KORBEN MAHARAJ 🙏
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ ভুলুন্ঠিত প্রণাম নিবেদন করি মহারাজের শ্রী চরণে 🙏।
Deleteমৌসুমী রায় কোচবিহার।
প্রণাম মহারাজ । শ্রী মদ ভাগবত পুরাণ কথার Pdf peye খুবই খুশি হলাম । জয় মা আপনাকে যেনো ভালো রাখেন । প্রণাম ঠাকুর , মা। প্রণাম আমার বাবা কেও।
ReplyDeletePranam maharaj...sree madbhagabat ...pdf peye atyanta khushi holam...ami pichiye chilam...ajkei sakale para suru korlam...bhisoni bhalo lagche...kritaygya apnar kache...pranam maharajji
ReplyDeleteJaya choudhury...
জয় শ্রীমদ্ভগবদ পুরান কতা🙏🙏🙏
ReplyDeleteপুজনীয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে অন্তরের অন্তঃস্থলের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি 🙏🙏🙏
Pronam Maharaj 🙏 khub bhalo kore bujte parlam. Bhalo laglo. Keya Bhattacherjee Cuttack.
Deleteআলো ব্যনার্জী
ReplyDeleteশ্রী মদ্ ভাগবতের পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম মহারাজ🙏 আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম মহারাজ🙏🙏🙏
প্রণাম মহারাজ। খুব উপকৃত হলাম।
ReplyDeleteAbhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Maharajji, pdf peyey ontor e attyontik tripi bodh holo🌷🙏. Khubei upokrito holam, Achariyo Maharajji 🌷🙏. Sotokoti vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌷 🙏
ReplyDeleteআমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏 গ্ৰহণ করুন আচার্য দেব। পিডিএফ পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। ক্লাসে আরও মনোযোগী হব। জয় মা, জয় ঠাকুর। 🌺🙏🙏🌺🌹🙏🙏🌹🌹
ReplyDeleteRanjita Mazumder, New Delhi
ReplyDeleteSrimad Bhagavad er pdf peye khub anondo pelam.Onek din theke opekkha te chilam pdf er jonno.
Pronam neben maharaj ji 🙏🙏🙏🙏
শ্রীমদ্ভাগবতপুরাণ এর পিডিএফ পেয়ে খুব খুশি হলাম মহারাজ।বই আছে কিন্তু আপনার অনুবাদ সহজে বুঝতে পারি।প্রণাম নেবেন মহারাজ।🙏🌹🙏🌹🙏
ReplyDeleteস্বপ্না পান্ডা নরেন্দ্রপুর
Joy Maharaj Ji 🙏🙏 khub sundar laglo upokrito, class korte aro Valo lagbe, 9/8/23,, Anjali Biswas Naihati,
ReplyDeleteমহারাজ,খুব আনন্দের সাথে এবারে অনুধ্যান শুনবো।এখনও বইটি সংগ্রহ করে উঠতে পারিনি।খাতায় লিখে রাখছি।অপূর্ব,অসাধারণ!
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ। 🌷🌷🌷
খুব ভালো লাগছে এই বিষয়টা।সশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন মহারাজ।🙏🌻
ReplyDeleteপ্রনাম গুরুজী , "ভাগবত এর pdf পেয়ে আনন্দ পেলাম , যদিও গীতানন্দজীর বইটি আমার আছে তবুও আপনার অনবদ্য সহজ সরল লেখনী পড়তে বুঝতে বেশী ভাল লাগে ! শ্রীধর শ্লোকটি দেওয়া থাকলে ভাল হত ৷ দিব্যত্রয়ীর চরণে জানাই শতকোটি প্রনাম .. মীনা বোস দমদম
ReplyDeleteপিডিএফ টি পেয়ে খুব ভালো লাগছে মহারাজ! বই টা এখনও পাই নি! তাই ভীষণ ভাবে উপকৃত হলাম মহারাজ! আপনার চরণে আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি মহারাজ!🙏🏻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী।সরল লেখা বুঝতে অসুবিধা হবে না।
ReplyDeleteশ্রীমদ্ ভাগবতের পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম মহারাজ। আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আপনার এই অশেষ কৃপা যেন আমরা সফল করতে পারি মহারাজ, আমাদের সেই আশীর্বাদ করুন। আমার সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি। 🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী 🙏 শ্রীমৎভাগবতম্ pdf পেয়ে খুব ভালো লাগলো, না হলে অনুধ্যান করতে অসুবিধা হচ্ছিল কারন আমার কাছে বই নেই তাই খুব উপকৃত হলাম , আপনি আমাদের মতো মানুষ দের জন্য প্রত্যেক টা বিষয়ে pdf তৈরী করে পাঠান এতে আপনার
ReplyDeleteযে কতটা পরিশ্রম হয় সেটা ভেবে কৃতজ্ঞতা শে্ষ থাকে না । ঠাকুর মা স্বামী জী আপনাকে ভালো রাখুন এই কামনা করি🙏
রূপা চক্রবর্তী Texas
খুব ভাল লাগছে আপনি শ্রীমদ ভাগবত পূরান আরম্ভ করেছেন মঙ্গলাচারণের মধ্য দিয়ে
ReplyDeleteআপনার এই উদ্যোগ আমাদের খুবই ভাল লাগবে
সুব্রত ঘোষাল
Dhanyawad Maharaj ji. Pdf ti peye bhalo laglo.
ReplyDeleteVagabat পুরান এর সংস্কৃত খুব কঠিন বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিলো আপনি প্রতিটি শব্দের অর্থ ও শ্লোক এর মানে লিখে দেওয়াতে বুঝতে খুবই সুবিধা হয়েছে মহারাজ। আপনার এতো পরিশ্রমের মূল্য যেনো দিতে পারি ।আমার ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ ও ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteরীতা দত্ত ।
খুবই উপকৃত হলাম এটি পেয়ে, আপনার এই পরিশ্রমের যেন সঠিক ভাবে দিতে পারি এই গুলি অনুধাবন করে। আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।
ReplyDeleteশ্রীমদ্ভাগবত শুরু করলেন মহারাজ জী , খুব ভালো লাগলো। লেখাগুলো বড় বড় হওয়ায় পড়তে খুব সুবিধা হয়।
ReplyDeleteসশ্রদ্ধপ্রণাম মহারাজ জী 🙏। অলকানন্দা মিত্র বাগবাজার
এইটি পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম, আপনার এই পরিশ্রমের যেন সঠিক মুল্য দিতে পারি এগুলি অনুধাবন করে। আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।
ReplyDeleteভক্তি পূর্ণ প্রণাম মহারাজ
ReplyDeleteএই অর্থ সহ ব্যাখ্যা পেয়ে খুবই উপকৃত হলাম। আপনার নিরলস প্রচেষ্টা কে শ্রদ্ধা ও ভক্তি জানাই। ভক্তিপূর্ণ প্রনাম জানাই মহারাজ। প্রবীর ঘোষ
ReplyDeleteঅনেক দিনের ইচ্ছা আপনি পূরন করে দিলেন।ভাগবত পড়ার খুব ইচ্ছা ছিল । আপনি সেটা পূরণ করে দিলেন।ব ই কিনেছি । ভালো লাগছে পড়তে । প্রণাম নেবেন ।
ReplyDeletePronam Maharaj Joy Thakur maa Swamiji. Pdf peye upokrito holam
ReplyDeleteApnar kalame aye natun bisoy jante pere sotty nijeke khub samriddha mone kari vakti purna antare jeno ayee sakal adhyatmik bisoy grahan karte pari Maharaj 🙏🌷 shampa Dhar🙏🙏
ReplyDeletePronam maharaj ekhonegulor artho janar chestakorbo🙏
ReplyDeleteমহারাজ, আপনার আপনার পাঠানো pdf পেয়ে খুবই উপকৃত। যেহেতু বই নেই তাই চিন্তায় ছিলাম। এখন স্বস্তি। জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🌷🙏
ReplyDeleteখুব ভালো থাকবেন মহারাজ 🙏🌷🙏
দেবশ্রী বিশ্বাস পুনে থেকে 🙏🌷🙏
আপনার পিডিএফ পেলাম বুঝতে সুবিধা হবে প্রণাম নেবেন মহারাজ
DeleteHari Om Tat Sath Shreemad Vagabatam 🌻🌻🙏🏻🙏🏻. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🏻🙏🏻🌻🌻🙏🏻🙏🏻🌻🌻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteজয় শ্রীমদ্ভগবদ পুরান কথা 🌷💥🙏পিডিএফ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে এবার পড়তে সুবিধা হলো।
ReplyDeleteঅনেক কৃতজ্ঞতা অন্তরের অন্তঃস্থলের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🌷💥🙏
মহারাজ, আপনার পাঠানো pdf পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত ও উপকৃত হলাম। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে একটা সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে। শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ভালো জেনেছিলাম এতো টা ভালো লাগবে বলে বুঝাতে পারিনি,এটা ঠাকুরের আর্শীবাদ আর আপনার কৃপাতেই সম্ভব হয়েছে 🙏🌷🙏
ReplyDeleteদেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏🌷🙏
Maharaj apnar ayee parama pavitra satsagna jeno antarer vakti diye grahan karte pari🙏🙏
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো মহারাজ । আপনার pdf পেয়ে খুব উপকৃত হোলাম । আমার প্রণাম নেবেন ।
ReplyDeleteজীবনে কোন দিন ভাবি নিএরকম দিন আসবে যে আমিও এসব পড়ব আপনার জন্য ই অসাধ্য সাধন হচ্ছে। প্রণাম নেবেন মহারাজ। ইন্দ্রাণী কুন্ডু
ReplyDeletePronam Maharaj
ReplyDeleteমহারাজ আপনার এতো সুন্দর সহজ সরল পিডিএফ পেয়ে খুব আনন্দিত হলাম। বই থেকে পড়া অনেক কঠিন। আপনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ভাগবত আমাদের বোধগম্য করে তুলেছেন।সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর
ভীষণ উপকৃত হলাম, প্রণাম নেবেন মহারাজ
ReplyDelete🙏🏻🌷🙏🏻
ReplyDeleteএটাই এতো দিন খুঁজছিলাম। গ্রুপেরএকসদস্যা সিপ্রাদি পাঠালেন। অনেক ধন্যবাদ সিপ্রা দিদিভাই।প্রণাম মহারাজ।
ReplyDeleteখুবই ভালো লাগলো এই pdf পেয়ে মহারাজ🙏ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন 🙏
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই মহারাজ জী🙏🏼🙏🏼🙏
ReplyDeleteসুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট
খুব সুন্দর 🙏🙏🌹🌹❤️❤️
ReplyDeleteEi Bhagath Puran kathar path kore atibo aananda pelam . Sabcheye baro katha je nijai abak hoea jachhi , ki kore ato valo lagchhe Sanskrit Verse / sloak porte , ! Darun aar er sabdartha . Sloak bivajon . SARAL ARTHA .. khubie calo lago. Hriday o mone ei Amrita rash dara shikto holo . ! Parabolic angsha sonar o byakhya r jannya unmukh hoea roilam . Sab kichhu aaoner Sat prichhestay sambhab hoeachhe . . VED .PURAN . UPINISHAD . O ANANNYA SCRIPTURE, THAKUR MAA SWAMIJI R ANANNYA JIBON .. . AAPNER mahati echhay sambhab hoeachhe . Kritagma roilam . Swabhakti pronam naben pujonio Maharaj.
ReplyDeleteMaharaj ji ei Sreemad Vagbat Puran er pdf peye khub upokrito holam. Vabtei parina je upni ato parisram kore vaktoder konny
Deleteপিডিএফ (ভাগবত পুরান)পেয়ে খুব আনন্দিত হলাম ।
ReplyDeleteভালো থাকবেন মহারাজ। প্রণাম নেবেন। 🙏
রুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর।
🙏🌷
ReplyDeleteকোনদিন ভাবনায় ও আসেনি ভাগবত পড়ার সুযোগ আসবে জীবনে। ঈশ্বর কতই না ভালোবাসেন! কী করে যে আপনাকে পেলাম আচার্যদেব সেটাই অবাক হয়ে যাই!সীমাহীন কৃতজ্ঞ আপনার কাছে। 🙏🙏❤️❤️🌹🌹🌹
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌼 🌻 🙏.
ReplyDeleteপিডিএফ পেয়ে অনেক সুবিধা হচ্ছে পড়তে বুঝতে অনেক কৃতজ্ঞতা ও অন্তরের অন্তঃস্থলের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি পরম পূজনীয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে 🌷💥🙏 জয় ঠাকুর 🌷💥🙏 জয় মা 🌷💥🙏 জয় স্বামীজি 🌷💥🙏
ReplyDelete🙏🏻🙏🏻💐💐
ReplyDeletePdf porlam ! Valo laglo . Protham Adhayer byakhya porte porte anudhyaner katha mone pore jete bujhte subidha holo .. kintu besh kathin .. swathik dharana karar jannya bar bar porte hobe ! Swabhakti pronam naben pujonio Maharaj 🙏🏻 ♥️ ❤️. Gouri Pal. Garia.
ReplyDeleteমহারাজ ভীষণ ভাবে উপকৃত হচ্ছি! আপনি কত সময় নষ্ট করে কত পরিশ্রম করে আমাদের আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন! আপনার চরণে আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করছি মহারাজ!🙏🏻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteKhub bhalo lagche...but paribarik karane thik mato follow korte asbidha hocche...samay kore likhe nebo...kritagyata janai...pranammaharajji..🌹🙏🌹jaya choudhury
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏। আপণার চরণে আমার আন্তরিক প্রণাম 🙏🙏🙏.
ReplyDeleteপ্রণাম আচার্য দেব।🙏🙏🙏.
ReplyDeleteপুজনীয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে অন্তরের অন্তঃস্থলের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি 🌷💥🙏 পিডিএফ পেয়ে পড়তে অনেক সুবিধা হচ্ছে। অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও প্রানের প্রণাম।
ReplyDeleteপরম শ্রদ্ধা ও পূর্ণ ভক্তিতে আন্তরিক প্রণাম জানাই শ্রদ্ধেয় গুরু মহারাজ জী কে, সেই সঙ্গে অশেষ কৃতজ্ঞতা। অত্যন্ত আনন্দ বোধ করছি... যে আপনি সংস্কৃত শ্লোক, শব্দাথ' সহ বাংলা সরলাথ' সমেত শ্রী ভাগবত পুরাণ এর Pdf পাঠিয়েছেন। আমাদের অনেকেরই বই নেই, ভাবছি... আপনি শিষ্যদের জন্য কতটা ভয়াবহ আন্তরিক প্রাণ! আপনার মতো না হতে পারলেও কিছুটাই হবো কবে!! ঠাকুরের কাছে প্রাথনা করি। সুজাতা দে। লন্ডন, ইউ.কে।
ReplyDelete🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম নেবেন মহারাজ।অনুধ্যান খুব ভালো লাগছে।🙏🙏🙏🍀🌷🍀
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ , পিডিএফ পরে খুব সম্বৃদ্ধ হলাম , অসংখ্য ধন্যবাদ
ReplyDeleteরীতা ভৌমিক ভিলায়
Deleteপ্রণাম মহারাজ. PDF পেলাম. অনেক ধন্যবাদ , জনা ঘোষ, নিউ দিল্লী
DeleteClass করে ও এখানে বার বার পড়ে খুব ভালো করে বুঝতে পারছি ও অশেষ আনন্দ পাচ্ছি মহারাজ।
ReplyDeleteরত্না ব্যানার্জী।
Joy Thakur 🌻 🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Maharajji, Aponer ei oporisim prochesta, ekmatro vaktobrinder jonnyo, kodapi byartho hotey debo na👏🙏. Amader Vagabat Puran Kotha onudhyan korey khubei valo lagchey. Hei, amra Adhyatmik Tattyogyan Aponer madhyomey sikhbo o e jiboney choler pothey nijeder Tat disha te dhabito korer prayash korey jabo. Otibo dhonyo ei writeup byakhya peyey🙏🙏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🙏🙏
ReplyDelete🙏🙏🙏প্রণাম শ্রীগুরুজী🙏🙏🙏
ReplyDeleteযেমন সুন্দর বিষয় ..আমার গুরুজীর পবিত্র উপস্থাপনায় তেমন সুন্দর ক্লাস!অথচ আমার এমন দুর্ভাগ্য যে ঠিক মতো ক্লাস করতে পারছিনা। কি যে কষ্ট ..!
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
Khub sundar shab katha jante parlum Maharaj joy Thakur joy Thakur joy Thakur🙏🙏🌷🌹
ReplyDeleteশ্রী মদ ভাগবত এর পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। যদিও আমার গীতা নন্দ মহারাজ এর বই আছে। কিন্তু আপনার সহজ সরল ব্যাখ্যা আমার বুঝতে সুবিধে হচ্ছে। খুব ভালো হলো। ঠাকুর মা স্বামীজি ও
ReplyDeleteখুব … আনন্দ পেলাম মহারাজ । এইভাবে শব্দার্থ ধরে বানানো pdf পেয়ে অসম্ভব উপকৃত হলাম । প্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏🏻🙏🏻🙏🏻🌹💐
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🌷💥🙏 জয় ঠাকুর 🌷💥🙏 জয় মা 🌷💥🙏 জয় স্বামীজি 🌷💥🙏
ReplyDeleteঅপূর্ব সুন্দর। মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ! এতো মিষ্টি মিষ্টি শ্লোক, অভাবনীয়। আমার প্রণাম নেবেন। ঈশ্বর মঙ্গল করুন সবার 🙏🙏🌹🌹❤️❤️
ReplyDelete🙏🙏🌹🌹❤️❤️
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ জী ৷ রুনা পপালিত কেঁচুয়াডাঙা নদীয়া ৷
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ। "ভাগবত পাঠ" অনুধ্যান খুব ভাল লাগছে। Pdf. পাওয়াতে আরো বুঝতে সহজ হচ্ছে। ভগবানের গুণলীলা মন ভরিয়ে দিচ্ছে। প্রণাম নেবেন মহারাজ জী।ভাল থাকবেন ,সুস্থ থাকবেন বীথিকা দাস,আগরতলা। 9.11.2023 ,
ReplyDeleteMaharaj apnar lekha Srimad Vagwat er ayee sundar saralartha peye khub upskrita hoyechi 🙏🙏
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🙏. Shreemad Vagabatam er opurbo writeup peyey otibo dhonnyo holam, Achariyo Maharajji 🌻🙏.
ReplyDeleteমহারাজ,আজকে পি ডি এফ টি পেয়ে যারপরনাই আনন্দিত হলাম। আমি বই নেবো না,কারণ অর্থ একেবারেই বুঝতে পারবো না।আমি পিডিএফ টি লিখতে শুরু করেছি।ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসেবেই লিখে রাখছি।আপনার সান্নিধ্যে এসেছি তাই এগুলো সম্ভব হচ্ছে।ভক্তিসহ প্রণাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteরুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর।
অপেক্ষার অবসান ঘটল, সকালে চিন্তা হচ্ছিলো আজকের অনুধ্যানের ব্যাপারে, আপনার এতটা স্নেহ ধন্য আমরা যে আমাদের মানসিক অবস্থা সবই আপনি ধরে ফেলেন, প্রণাম নেবেন মহারাজ জী। আপনি সুস্থ থাকন ঠাকুরের কাছে এই প্রার্থনা জানাই।
ReplyDelete🌷🌷🙏🙏🌷🌷
ReplyDeleteKhub upokrito holam
ReplyDeleteJoy shree ramkrishna 🙏🙏
🙏
Pronam neben maharaj🙏🙏🙏
Pdf peye khub upokrito holam. Bhalo thakben. Pronam neben maharaj. 🙏
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন আচার্য দেব। আপনার পাঠানো শ্রীমদ ভাগবতের পিডিএফ আমি ডেসক্রিপশনে বুঝতে পারিনা তাই সেগুলো সব বসে খাতায় লিখে নিয়ে বুঝি এবং পড়ি। বুড়ো বয়সে ভালোই হাতের লেখা অভ্যেস হচ্ছে। ভক্তিপুর প্রণাম আপনার চরণে নিবেদন করি। ভাল থাকবেন। শিউলি রায় রানীগঞ্জ
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী। আজ ভাগবতের দ্বিতীয় অধ্যায় পড়ানো শেষ হলো। আপনার থেকে ভাগবতের ব্যখ্যা শুনে মনটা ভালো হয়ে যায়।
ReplyDeleteভালো থাকবেন মহারাজ জী। ঠাকুর সকলের মঙ্গল করো।
সোমা চক্রবর্তী দিল্লি
মহারাজ প্রণাম নেবেন l
ReplyDeleteChicago te meyer barir prathom sokal e Bhagavat er PDF dekhe attyanto anando hochhe antorer gobhir kritognyota ar pronam nibedon korchhi Maharaj.
ReplyDelete