শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

#ভক্তির অবতার শ্রীচৈতন্য ।। পর্ব -২২।।

 


                                       ভক্তির অবতার শ্রীচৈতন্য




                   ©                                                           --- স্বামী হরিময়ানন্দ

ধারাবাহিক রচনা

                  চৈতন্যদেব ভক্তির অবতার; জীবকে ভক্তি শিখাতে এসেছিলেন। - শ্রীরামকৃষ্ণ 


জননী ও জন্মভূমি দর্শন

             চৈতন্যদেবের আগমনের কথা নবদ্বীপে জানাজানি হল। মা শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কানেও এই কথা পৌঁছল। বহুলোক চৈতন্যদেবকে দর্শনের জন্য দূর থেকে আসতে লাগল।  সন্ন্যাসীকে দর্শনের জন্য বেশ একটা সাড়া পড়ে গেল চারিদিকে। মা শচীদেবীর মনও ছেলেকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। নবদ্বীপের উল্টোদিকেই চৈতন্যদেব রয়েছেন। এত কাছে যখন এসেছেন, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীও একবার প্রাণনাথকে দেখতে চান। কিন্তু তিনি নিজে না ডাকলে কী করে যাওয়া যায়? লোকমুখে সন্ন্যাসীর নানা অলৌকিক কাহিনী, নৃত্যগীত মহাসংকীর্তনের কথা শুনে মানুষ অধিক পরিমাণে তাঁর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর কথা শুনতে ও তাঁর পবিত্র সঙ্গ লাভের জন্য ছুটে ছূটে আসেন।

      এই সময় সহসা একদিন খবর এলো আগামী কাল ভোরে সন্ন্যাসী জননী ও জন্মভূমি দর্শনে আসছেন। আনন্দে ও উল্লাসে রাতে কারও ঘুম হল না। সন্ন্যাসিচূড়ামণি নবদ্বীপে এসে শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারী নামে জনৈক ব্রহ্মচারীর আশ্রমে রাতে থাকলেন। পরদিন সকালে গঙ্গাস্নান করে মিশ্র ভবনের সামনে হাজির হলেন। আত্মীয়স্বজন পাড়া প্রতিবেশিরা কে কী বলবেন, মনে মনে নানা কথা ভেবে রেখেছিলেন। কীভাবে সন্ন্যাসীকে তাঁরা গ্রহণ করবেন তাও মোটামোটি ঠিক করা ছিল। কিন্তু দীপ্তজ্যোতি সন্ন্যাসীকে দেখে ও তাঁর মুখমণ্ডল দেখে কারও কোন কথা মনে এল না। সকলের মাথা শ্রদ্ধায় নিচু হয়ে গেল। এ যেন সে নিমাই পণ্ডিত নয়, দিব্যধাম থেকে কোন দেবতা যেন নেমে এসেছেন এই মাটির পৃথিবীতে। কী তাঁর অঙ্গকান্তি, কী তাঁর ভাবভক্তি, নিজের চোখকে তারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

     সন্ন্যাসী শিরোমণি একবার জন্মস্থান ও ঘরগুলি ভালো করে দেখে নিলেন। কত স্মৃতি যে মাখা রয়েছে এই সব স্থানে! ধীর স্থির ভাবে যতিরাজ সব  কিছু দেখলেন। কিন্তু কোন প্রকার চিত্ত চঞ্চলতা দেখা গেল না। সাধারণ মানুষ যেমন আবেগে ভাসতে থাকে এমন অবস্থায়, প্রশান্ত ও নির্বিকার চিত্তে কোন প্রকার তরঙ্গ উঠল না। কোন কিছুতে কোন প্রকার আমার বুদ্ধি হল না। নির্মল আকাশের মতো তাঁর উজ্জ্বল  ও উন্নত ললাটে কোনও মেঘের সঞ্চার হল না। জ্যোতির্ময় সন্ন্যাসীকে ঘিরে চারিদিকে অসংখ্য লোক নির্বাক বিস্ময়ে কেবল দেখছেন। হঠাৎ একটি স্ত্রীলোক যার  সারা দেহ কাপড়ে সম্পূর্ণ ঢাকা, মহাপ্রভুর চরণে এসে দণ্ডের মতো পড়ে গেলেন। অত্যন্ত দীনহীন বেশ, খুবই রুগ্ন শরীর। মহাপ্রভু চিনতে না পেরে একটু পিছিয়ে এলেন। কি করেই বা চিনবেন তিনি!

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী

      যিনি এক সময় এই মিশ্র ভবনকে পূর্ণ চন্দ্রের মত আলোকিত করে রাখতেন, আজ যেন কৃষ্ণা চতুর্দশীর রাতের অবশানে সেই চন্দ্রের কেবল সামান্য রেখা মাত্র অবশিষ্ট রয়েছে। তাই সহসা চিনতে পারা মোটেই স্বাভাবিক ছিল না।

      ত্যাগ ও বৈরাগ্যে পূর্ণ সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী পরে পরিচয় পেয়ে তাঁকে গম্ভীর অথচ প্রেমপূর্ণ ভাষায় বললেন শোক কোরো না বিষ্ণুপ্রিয়া, তোমার নাম সার্থক কর। অন্য চিন্তা দূর করে কেবল শ্রীকৃষ্ণে মন প্রাণ সমর্পণ কর

      দেবী নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। মুখ দীর্ঘ ঘোমটায় ঢাকা। প্রভুর চরণ যুগলে  দৃষ্টি স্থির করে দাড়িয়ে রইলেন। এই দৃশ্য দেখলে মনে হবে যেন মন্দিরের দ্বারে কোন ধ্যানমগ্ন পূজারিনী প্রতীক্ষা করছেন। অথবা মনে হবে কোন রাজাধিরাজের সামনে কোন ভিখারিনী।


       মহাপ্রভু অত্যন্ত স্নেহ মাখা স্বরে তাঁর  কাঠের পাদুকা দুটি খুলে দিয়ে বললেন , আমি নিঃসম্বল সন্ন্যাসী, দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই, - যা আছে দিলাম, গ্রহণ কর। জননী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শুরু হল কঠোর তপস্যার জীবন। কোন প্রকার কান্নাকাটি বা চঞ্চলতা দেখা গেল না। ধীর স্থির ও ধৈর্য সহিষ্ণুতার প্রতিমূর্তি তিনিও সন্ন্যাসীনীর জীবন যাপনের ব্রত গ্রহণ করলেন। পাদুকা যুগল মস্তকে স্পর্শ করে হৃদয়ে ধারণ করলেন। আরাধ্য দেবতার এই সর্ব শ্রেষ্ঠ দান। দুহাতে পাদুকা যুগল ধারণ করলে দেবীর নয়ন থেকে অশ্রু বিন্দু ঝরে পড়ল।

      প্রেম অশ্রুতে সেদিন পাদুকার  অভিষেক হল। এই নিধি সম্বল করে সারা জীবন শ্রীকৃষ্ণে মনপ্রাণ সমর্পণ করে দেবী একান্তে নিভৃতে আরাধনায় ব্রতী থেকেছেন। মহাপ্রভুর ত্যাগময় জীবনের মতো বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর জীবনও  তাঁর অনুগত শিষ্যার মত অলৌকিক ত্যাগ ও তপস্যায় পূর্ণ। চৈতন্যদেবের তিরোভাবের পর দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া ছিলেন ভক্তদের আশ্রয় ও আদর্শ। মহাপ্রভু দ্রুত গৃহদেবতাকে প্রণাম করে ও জননী শচীমাতাকে প্রণাম করে  সেখান থেকে চলে আসেন।

শান্তিপুরে

    নবদ্বীপ থেকে চৈতন্যদেব আসেন শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্যের বাড়িতে। এখানেও অগণিত ভক্তের ভীড়। মহাপ্রভুর আগমনে আগের মতোই রাত দিন সংকীর্তন ও আনন্দোৎসব চলতে লাগল। অদ্বৈতাচার্য সানন্দে সকলের সেবার ব্যবস্থা করলেন। চৈতন্যদেবের ইচ্ছা অনুসারে পালকি পাঠানো হলো নবদ্বীপে শচীদেবীর জন্য। মা এলেন ও আগের মতো নিজের হাতে রান্না করে সন্ন্যাসী পুত্রকে ভিক্ষা দিলেন। মায়ের কাছে তিনি আজও আদরের নিমাই। ধন্য শচীমাতা এমন দেবতুল্য মহাপুরুষকে গর্ভে ধারণ করেছেন, এমন সন্ন্যাসী প্রবরকে নিজ হাতে ভিক্ষা প্রদান করার সুযোগ লাভ করেছেন। এই ভাবে প্রায় দশ দিন আচার্য গৃহে থেকে ও মায়ের স্নেহ আশীর্বাদে ঋদ্ধ হয়ে তীর্থ যাত্রা শুরু করেন। জননীর চরণে প্রণতি জানিয়ে উত্তর পশ্চিমের বিভিন্ন তীর্থ, কাশী প্রয়াগ ব্রজধাম প্রভৃতি দর্শনের অনুমতি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন। মায়ের অনুমতি ও আশিস্‌ নিয়ে পালকি করে মাকে নবদ্বীপে পাঠিয়ে দিয়ে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে পরিব্রাজক সন্ন্যাসী তীর্থযাত্রা শুরু করলেন।

      পথে যেতে যেতে বিভিন্ন স্থানে অনেক ভক্তও যোগ দিলেন। এর ফলে দল বেশ বেড়েই চলল। ক্রমে বিরাট জনতায় পরিণত হল। বিশাল দল যেখানে যান, স্থানীয় মানুষ তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিশাল জনতা হলেও নিঃসম্বল চৈতন্যদেব কেবল ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেই চলতেন। সঙ্গীদেরও সঞ্চয় করার উপায় ছিল না। যখন যেমন পাওয়া যায় তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে সকলকে চলতে হত।

সন্ন্যাসী সঞ্চয় করবে না

   সন্ন্যাসীর কঠোর নিয়ম যেখানেই থাকুন তা তিনি পালন করে চলতেন।

     একদিন মহাপ্রভু প্রসাদ গ্রহণের পর মুখশুদ্ধির জন্য কিছু চাইলে জনৈক  গোবিন্দ ঘোষ নামক এক তরুণ গ্রাম থেকে একটি হরিতকী নিয়ে আসেন। হরিতকীটি ভেঙ্গে অর্ধেক চৈতন্যদেবের হাতে দিলেন ও বাকী অর্ধেক কাপড়ের এক খুঁটে বেঁধে রাখলেন। পরদিন ভিক্ষা প্রসাদ গ্রহণের পর যখন মুখশুদ্ধি চাইলেন, তখন কাপড়ের খুঁট থেকে তাড়াতাড়ি বার করে হাতে দিলেন। মহাপ্রভুর মনে সংশয় হল এত তাড়াতাড়ি কী করে নিয়ে এল? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন গোবিন্দ আজ এত তাড়াতাড়ি কোথায় পেলে? উওরে গোবিন্দ জানালো যে কাল খানিকটা সে কাপড়ে বেঁধে রেখেছিল। এই কথা শোনা মাত্র সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর মুখে এক অস্বাভাবিক গম্ভীর ভাব দেখা গেল। তিনি গোবিন্দকে একান্তে ডেকে বললেন গোবিন্দ ত্যাগের পথে চলা বড়ই কষ্টকর। আমার মনে হচ্ছে, ভগবানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে আত্মরক্ষার জন্য সঞ্চয়ের ভাব এখনও তোমার মধ্যে রয়েছে। কাজেই তুমি ত্যাগের পথ ছেড়ে সঞ্চয়ের পথে চল গার্হস্থ্য আশ্রম অবলম্বন কর'।

    নিজের অপরাধের জন্য গোবিন্দ বার বার ক্ষমা চাইলেন। পায়ে পড়ে কাঁদতে লাগলেন। চৈতন্যদেব তাকে সান্ত্বনা দিয়ে অনেক বোঝাতে লাগলেন। তাকে তিনি বললেন, প্রত্যেক মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের কর্ম অনুসারে সংস্কার পৃথক পৃথক হয়। তত্বজ্ঞানী গুরুর আশ্রয় ও উপদেশ নিয়ে নিজ নিজ অধিকার অনুসারে অগ্রসর হলেই শ্রেয়োলাভ হয়। নিজের অধিকার বিবেচনা না করে কেবল অপরের দেখাদেখি যে-কোন পথ গ্রহণ করলে উন্নতি ব্যাহত হয়।

      এই গোবিন্দ পরে সংসার করে ছিলেন। কিন্তু এই সংসার আশ্রমে তিনি ভোগ সুখে মগ্ন থাকেন নি। বরং ভগবানকে  বাৎসল্যভাবে  সেবা করে চিন্ময় পুত্ররূপে লাভ করে পরমানন্দ লাভ করে ছিলেন। অগ্রদ্বীপের বিখ্যাত গোপীনাথ বিগ্রহ তাঁরই প্রতিষ্ঠিত। তিনি ভগবানকে পুত্ররূপে সেবা করেছেন।

রামকেলিতে

        মহাপ্রভু চলেছেন উওর পশ্চিমের তীর্থ দর্শনে।  পথে যেতে যেতে সংকীর্তন, হরিনামের বিরাম নেই। আচণ্ডাল যেখানে যাকে পাচ্ছেন হরিনামের সুধায় সকলকে মোহিত করে তোলেন। ভক্তদের নিয়ে গৌড়ের রামকেলিতে এসে হাজির হলেন। রামকেলি খুব সুন্দর সমৃদ্ধশালী গ্রাম। বহু শিক্ষিত ও ধণী মানুষের বাস এখানে। সন্ন্যাসীকে দেখে তাদের মনে শ্রদ্ধা ভক্তির সঞ্চার হল। মহাপ্রভু সহ সমস্ত ভক্তদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। একে একে গ্রামের বহু মানুষ এসে যুক্ত হলেন। একটি বিরাট দল তৈরি হল। সকলে মিলে মনের আনন্দে হরিনাম ও সংকীর্তন করতে লাগলেন। এই ভাবে ক্রমশ মহাপ্রভুর কথা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। মহাপ্রভুকে কেন্দ্র করে একটা ধর্ম অন্দোলনের প্রবল ঝড় শুরু হল।

হুসেন শাহ

         তখন গৌড়ের রাজা ছিলেন হুসেনশাহ। কথা তাঁর কানেও গিয়ে পৌঁছল। তিনি আশঙ্কা করতে লাগলেন ধর্মের নামে কোন বিপ্লব বা বিদ্রোহ যদি হয়। হুসেনশাহ তাই গোপনে এক কর্মচারীকে পাঠালেন সন্ন্যাসীর কার্যকলাপ জানতে। যাকে পাঠিয়ে ছিলেন এই কাজের জন্য তার নাম ছিল কেশব ছত্রী। তিনি নিজে ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। খোঁজ খবর নিয়ে তিনি নবাবকে জানালেন যে সন্ন্যাসী অত্যন্ত ভাল মানুষ, কোন ভয়ের কারণ নেই। নবাব কিন্তু এই কথায় নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না।  সন্ন্যাসীর প্রভাব প্রতিপত্তির কথা লোক মুখে  শুনে তিনি বেশ চঞ্চল হয়ে উঠলেন। শুধু তাই নয় চৈতন্যদেবের গতি বিধি নজরে রাখার জন্য তিনি চর নিযুক্ত করলেন।

             চর বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাহিনী নবাবের কানে দিল। নবাব এর ফলে বুঝতে পারলেন যে এই সন্ন্যাসীর সাধারণ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব রয়েছে। কি করা উচিত তা নির্ধারণ করার জন্য নবাব তাঁর বিশ্বস্ত মন্ত্রী দবীর খাসের সঙ্গে পরামর্শ করেন। দবীর খাস অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। নবাব তাঁর পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতেন। নবাব দবীর খাসের কাছে জানতে চান, কেন এত লোক এই সন্ন্যাসীকে অনুসরণ করছে? রাজ্যের মানুষের সুখের জন্য নানা রকম ব্যবস্থা করেও লোককে বশে আনা যাচ্ছে না। আর এই সন্ন্যাসীর কিছুই নেই অথচ তাঁর পেছনে এত মানুষ কেন ঘুরছে? কী এর রহস্য? এটা জানতেই হবে।

দবীর খাস

          দবীর খাস নবাবকে নানা ভাবে বোঝাতে চেষ্টা করলেন যে এই সন্ন্যাসী বাস্তবিক সাধারণ মানুষ নন। এর মধ্যে বিশেষ দৈব শক্তি রয়েছে, না হলে এত মানুষ মানতো না। তবে নবাবের এতে ভয়ের বা চিন্তার কিছু নেই। কারণ সন্ন্যাসী রাজ্য ধন সম্পদের প্রত্যাশা করেন না। বরং বিষয়কে তিনি বিষের মত পরিত্যাগ করেন। তিনি কেবল ঈশ্বর চিন্তা করেন ও তাঁর নাম গুণগান করেন। তাঁর ধর্ম ভাবও উদার। সেখানে হিন্দু মুসলমান কোন ভেদ নেই, সকলকে সমান চোখে দেখেন। তাছাড়া তিনি এখানে তীর্থযাত্রা উপলক্ষে এসেছেন। কিছু দিন এখানে থেকে বিশ্রাম করছেন। শীঘ্রই পশ্চিমে রওনা হবেন।

     নবাব এই সব কথা শুনে সন্তুষ্ট হলেন। মন্ত্রী আরও জানালেন যে এই রকমের সাধু মহাপুরুষের থেকে কোন অনিষ্ট হবে না। বরং মানুষের মধ্যে ধর্ম ভাব বাড়লে রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলাা বজায় রাখা সহজ হবে। নবাব অনেক ভাগ্যবান যে এমন মহাপুরুষ নিজের থেকে এখানে এসেছেন। সন্ন্যাসী যতদিন এখানে থাকেন আমাদের উচিত তাঁর সেবাযত্ন করা। নবাব খুশী হয়ে দবীর খাসকে সন্ন্যাসীর সেবাযত্নের ভার দিলেন।

শাকর মল্লিক

       দবীর খাসের  ভাই শাকর মল্লিকও নবাবের রাজকর্মচারী ছিলেন। কেউ কেউ বলেন দবীর খাস ছিলেন নবাবের মন্ত্রণা সচিব আর শাকর মল্লিক ছিলেন অর্থ সচিব। নবাবের খুব গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এরা। আসলে এই দু ভাই ছিলেন ব্রাহ্মণের সন্তান। তা হলেও শিক্ষা দীক্ষা চাল চলন সবই প্রায় মুসলমানের মত ছিল। তাই সমাজে এরা খুব একটা সম্মানের জায়গায় ছিলেন না। সমাজের লোকেরা এদের বিধর্মী বলে মনে করত। কিন্তু বাইরে যা হোক না কেন ভেতরে এরা দুজন ছিলেন নিষ্ঠাবান হিন্দু, শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত। ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি নিষ্টা খুব ছিল।

       দু ভাই চৈতন্যদেবের অলৌকিক মহিমা বিশেষভাবে জানতেন। কিন্তু দু জনের কেউই সাক্ষাৎ মহাপ্রভুর সঙ্গে কথাবার্তা বলার সুযোগ পান নি। পত্রে যোগাযোগ ছিল। রাজকর্ম চারী হিসাবে দায়িত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাই সাক্ষাৎ করা সহজ ছিল না।

        যখন পুরীতে মহাপ্রভু ছিলেন তখন দু ভাই চিঠি লিখে জানিয়ে ছিলেন যে তারা রাজকর্ম ও সংসার আশ্রম ত্যাগ করে পুরীতে তাঁর সঙ্গ লাভের জন্য আসতে চান। কিন্তু তখন অনুমতি পান নি। চৈতন্যদেব উত্তরে জানিয়েছিলেন অনাসক্ত ভাবে সব কাজ করে ঈশ্বর চিন্তা ও উপদেশ নিয়ে সংসারে থাকতে।

      একটি শ্লোক তিনি উল্লেখ করে ছিলেন যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তা কেবল যে দুই ভায়ের জন্য ছিল তা নয় আমাদের সকলের জন্য মহাপ্রভুর অসাধারণ উপদেশ।

            তিনি লিখেছিলেন

 পরব্যসনিনী নারী ব্যগ্রাপি গৃহকর্মণি।

তদেবাস্বাদয়ত্যন্তঃ পরসঙ্গরসায়নম্‌।। (বাশিষ্ট রামায়ণ)

--- দুষ্টা নারী স্বামীর গৃহে কাজকর্মে নিযুক্ত থেকেও অন্তরে উপপতির সঙ্গসুখের রস আস্বাদন করে, তেমনি সংসারের কাজকর্ম করেও ভগবানের দিকে মন রাখা প্রয়োজন। মহাপ্রভুর এই উপদেশ মতো দু ভাই ভগবানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন।

রূপ ও সনাতনের পূর্ব কথা

       দবীর খাস বাড়িতে ফিরে ভাই শাকর মল্লিকের কাছে সন্ন্যাসীর প্রতি নবাবের  সন্দেহের কথা প্রকাশ করলেন। দু জনে পরামর্শ করে ঠিক করলেন যে চৈতন্যদেবের সঙ্গে তারা দেখা করবেন ও রাজার মনোভাব তাঁকে জানাবেন। এবং অনুরোধ করবেন যাতে শীঘ্র এই স্থান ত্যাগ করে চলে যান। কেন না দিনে দিনে এত লোক সমাগম হচ্ছে, নবাবের মনের গতি বদলে গেলে বিপদ হতে পারে।

      নবাব দবীর খাসকে সন্ন্যাসীর সেবা যত্নের ভার দিয়েছেন ফলে তাঁর পক্ষে চৈতন্যদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার খুব একটা অসুবিধা নেই। সেই মত এক রাত্রে দু ভাই মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হন।  জানতে পেরে মহাপ্রভু সানন্দে বাইরে এলেন। দু জনকে প্রেমালিঙ্গন করার জন্য দু হাত বাড়িয়ে এগিয়ে গেলেন। যদিও দু জনে খুবই সম্মানীয় ব্যক্তি তবুও তারা এসেছেন খুব দীন হীন ভাবে। দু ভাই হাত জোড় করে বললেন আমরা আপনার স্পর্শের যোগ্য নই। এই বলে দু জনে সন্ন্যাসীর পায়ে দণ্ডবৎ লুটিয়ে পড়ল। তাদের দীনতা দেখে চৈতন্যদেবের হৃদয় বিগলিত হল।

     তাদেরকে বললেন তোমাদের জন্যই এখানে এসেছি। তোমাদের নাম আজ থেকে রূপ-সনাতন রাখা হল। দবীর হলেন রূপ, শাকর হলেন সনাতন। দু ভাইকে নিত্যানন্দ প্রভু ও অন্যান্য ভক্তদের সংগে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাদের ভক্তি বিশ্বাস ও বিনয় দেখে সকলে খুবই অনন্দিত হলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর মুখে ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গ শুনে দু জনে খুবই প্রীত হলেন।

    বিদায় নেওয়ার পূর্বে চৈতন্যদেবকে নবাবের মনোভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এখানে বেশি দিন না থাকার কথা বললেন। এবং রাজকার্য থেকে অব্যাহতি পেয়ে একান্তে ভগবানের সাধনায় মন দেবেন, যে কথা আগেই চিঠিতে জানিয়ে ছিলেন, সে কথা পুনরায় জানালেন।  তাতে মহাপ্রভু বললেন আগে চিঠিতে যেমন বলেছি তেমন কর। অর্থাৎ বাইরে সংসার কর আর অন্তরে ভগবানের ভজনা কর। সময় হলে তিনি পথ দেখাবেন।

     সনাতন যাবার সময় মহাপ্রভুকে চুপি চুপি বললেন, তীর্থযাত্রাতে এত লোকজন সঙ্গে না নিয়ে যাওয়া ভাল। একা হলে ভাল অথবা মনের মত একজন সঙ্গে থাকাই যুক্তি যুক্ত।

                                                        ----- ক্রমশ



Comments

  1. মহাপ্রভুর সম্পর্কে যতই জানতে পারছি তত জানার আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে। আশাকরি আরো অনেক কিছু জানতে পারবো ।ভালো থাকবেন ।প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
    মীনা সিনহা রাজারহাট

    ReplyDelete
    Replies
    1. জয় চৈতণ্য মহা প্রভুর জয় 🙏
      সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই মহারাজের শ্রী চরণে 🙏।
      মৌসুমী রায় কোচবিহার।

      Delete
    2. আপনার শ্রী চরনকমলে ভক্তিপূর্ন প্রনাম।আপনি সুস্হ থাখূন আমাদের জন‍্য। বটবৃক্ষের মত আপনার আশ্রয়ে রাখুন।আর্শীবাদ করুন ঠাকুরের কৃপা পাই। 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌺🌺🌺🌺🌺

      Delete
    3. Pronam Maharaj 🙏. Apnar lekha amake mugdho koreche. Nijeke vetor theke annyo manush monehochhy.🙏

      Delete
    4. Pore khub bhalo laglo. Aro jante chai

      Delete
    5. Apurba Mohaprovu Sri chitannyadeber jibon. Porte 2monehoi amio sei sonkirtone cholechi ki apurbo Krishna nam

      Delete
    6. প্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏🙏🙏। মহাপ্রভু সম্পর্কে আপনার এই অসাধারণ লেখা শুধু পড়ছি না।সেই সময়ের পুরো একটা ছবি দেখছি।মন আপ্লুত হয়ে গেল। 🙏 স্বস্তিকা ভট্টাচার্য। নিউ আলিপুর। কলকাতা

      Delete
    7. Pronam neben Maharaj 🙏🙏

      Delete
  2. প্রনাম মহারাজ🙏🙏🙏🙏🙏🙏 আপনার কাছে যত শিখি তত আরও জানতে ইচ্ছা করে। আপনি ভালো থাকুন 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  3. পর্বের পর পর্ব অতি সাবলীল ভাবে এগিয়ে চলেছে আকর্ষণ ও বেড়ে চলেছে। খুব মনোগ্রাহী হতে চলেছে এই রচনাটি।

    ReplyDelete
  4. জয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু 🌷💥🙏
    সশ্রদ্ধ প্রণাম গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🌷💥🙏

    ReplyDelete
  5. আনন্দের সঙ্গে পড়ছি মহাপ্রভুর জীবন কাহিনী,🙏অপেক্ষায় থাকি নুতন লেখার,খুব ভালো লাগছে মহারাজ🙏প্রনাম নেবেন🙏
    সুমিতা চক্রবর্তী

    ReplyDelete
  6. শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা যত জানছি আগ্রহ বেড়েই চলেছে। আপনার মতন সাধু সঙ্গ করতে পারছি বলে এত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে পারছি। খুব ভালো লাগছে প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ।

    ReplyDelete
  7. প্রণাম মহারাজ জী । শ্রী চৈতন্য মহা প্রভুর জীবনী পড়ে খুবই ভালো লাগছে । ইতু দত্ত

    ReplyDelete
  8. Mahaprabhu r Shree padopodmey pranam nibedon kori🌻🍀🙏🏻. Sosrodhyeyo pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌻🌻🍀🍀🙏🏻🙏🏻. Maharajji, Mahaprabhu r 22nd porbo er lekhoni porey mugdho holam. Ki opurbo Bishnupriya Devi Tyeg o Vakti ebong Roop-Sanatan naamkoron etc. Jantey perey ridhyo holam🙏🏻. Maharajji, Aponer oklanto prochestha amader ei manabjonmo sarthok korey tulchey🙏🏻. Ek onabil shanti bodh hoi o moner molinata doribhuto hoyey oporishim anondo onubhuti hoi🌹🙏🏻. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌹🌹🌻🌻🍀🍀🙏🏻🙏🏻.

    ReplyDelete
  9. মহাপ্রভুর জীবনকথা আপনার মাধ্যমে যতই জানতে পারছি ভীষণ ই ভাল লাগছে।প্রনাম মহাপ্রভু।প্রনাম নেবেন মহারাজ। manjushri Bhattacharya. Billagram. Purba bardhaman.

    ReplyDelete
  10. Apurbo mahaprabhur r jibani....ja maharajji ato sunder bhabe likhechen....ja ki bhabe likhe janabo ...jana nei...apurbo bishnupriya r bedana ..o tyager pathe chala...pranam sachimata🙏pranam mahaprabhu🙏pranam maharajji...🌹🙏🌹jaya choudhury......

    ReplyDelete
  11. Darun sundor lagche Mahaprabhu r Natun ajana tathya valo laglo Rup Sanatan Visnupria r Sachimatake Pronam Mahaprabhu r Pronàm Maharaj

    ReplyDelete
  12. প্রণাম মহারাজ জী 🙏 অপূর্ব আপনার লেখনী,প্রতি পর্বে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছি যেমন এই পর্বে রূপ সনাতনের কথা তাই প্রতিটি পর্বে র অপেক্ষায় থাকি।
    রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  13. Mohaprobhur jiboni khub bhalo lagche. Amar pronam neben moharaj subhra Lala.dumdum

    ReplyDelete
  14. মহাপ্রভুর লীলার কথা যত পড়ছি ততই সমৃদ্ধ হচ্ছি দিন দিন, আপনার কাছে চির ঋিনী থাকবো।আপনি সুস্থ থাকুন ঠাকুরের কাছে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি।

    ReplyDelete
  15. সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏 অনেক দিন পর আবার কমেন্ট করছি। মহাপ্রভুর জীবনের কথা পড়ে অনেক কিছু না জানা তথ্য জানতে পারছি। খুব সুন্দর ভাবে এগিয়ে চলেছে এই লেখায়।আপ আপনি সুস্থ থাকুন ও ভালো থাকুন

    ReplyDelete
  16. কি যে ভালো লাগছে মহারাজ , আপনার লেখা চৈতন্য মহাপ্রভুর এই জীবনী। শচী মাতা, মা বিষ্ণুপ্রিয়া, রূপ, সনাতন সকলের অমূল্য কথা খুব ভালো লাগল মহারাজ। আপনি খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আমার সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করবেন মহারাজ।
    সুমিত্রা সরকার, লেকটাউন। 🙏🌷🙏🌷🙏🌷🙏

    ReplyDelete
  17. কত অজানা তথ্য জানতে পারছি মহারাজ। জয় মহাপ্রভুর জয়।🙏🏼🙏🏼
    প্রনাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ জী। 🙏🏼🙏🏼

    ReplyDelete
  18. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রী চরণে আমার প্রণাম নিবেদন করি।
    খুবই তথ্য সম্বৃদ্ধ লেখা। যত পড়ছি তত ই মুগ্ধ হচ্ছি।
    আপনি আমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏 গ্ৰহণ করুন আচার্য দেব।

    ReplyDelete
  19. প্রণাম মহাপ্রভু
    প্রণাম মহারাজ

    ReplyDelete
  20. অত্যন্ত হৃদয়-স্পর্শী...ঐতিহ্য-বাহী ইতিহাস!! মনে দাগ কেটে গেল।
    🙏🙏🙏 প্রণাম গুরুজী🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  21. অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে মুগ্ধ হচ্ছি। মহারাজকে প্রণাম। আমরা এই বিষয়ে আরো সমৃদ্ধশালী হচ্ছি। জয় রাম জয় গোবিন্দ

    ReplyDelete
  22. pronam maharaj.

    ReplyDelete
    Replies
    1. মহাপ্রভুর জীবনী পরে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হচ্ছি।খুব ভাল লাগছে পড়তে।আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।

      Delete
  23. মহারাজ আমার প্রণাম নেবেন আমি এই ষাট বছর পার করে এসে রূপ সনাতন এর কথা পড়লাম। আজ ওঁদের পূর্ব নাম জানলাম

    ReplyDelete
  24. Maharaj sri Chaitanya Mahapravu r jibaner ayee natun lekhati O kuhb pranabanta khub sundar Bishnuoriya devi r sannyash jiban jante pralum Rup Sanatan er ashal parichoy jante parlum Sachimata r katha kata shan na jana bisoy jante perechi Maharaj apnar ratul Charane amar antarer sata sata vakti biswas valobasha nibedan kari.. 🙏🌷 Shampa Dhar Dum Dum Cantonment🙏🙏

    ReplyDelete
  25. অপূর্ব এই ধারাবাহিকরচনা,পড়ে মন প্রান তৃপ্তিতে ভরে যাচ্ছে ।আরো জানার আঘ্রহ বাড়ছে।ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  26. 🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  27. প্রণাম মহারাজ । খুব ভালো লাগলো ।।

    ReplyDelete
  28. খুবই. ...খুবই সুন্দর এই অসাধারণ মহাপ্রভুর জীবনের ধারাবাহিকতায় আমরা সবাই খুবই উপকৃত । প্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏। আপণাকে ভগবান্ আমাদের মতন সাধারণ মানুষের জন্য এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন । 🙏🙏🙏 . Tapas Kumar Deb, Ahmedabad


    ReplyDelete
  29. খুব সুন্দর মহাপ্রভুর জীবনকাহিনী আপনার লেখা থেকে ধারাবাহিক ভাবে জানতে পারছি।খুব ভালো লাগছে।সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ।
    রুবী গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য। ইছাপুর

    ReplyDelete
  30. খুব ভালো লাগছে মহা প্রভৃর জীবন কাহিনী পড়তে...অনেক নতুন নতুন তথ্য জানতে পারছি আপনার লেখা পড়ে। বিষ্ণু priya সম্বন্ধে কি সুন্দর লিখেছেন ...মনে দাগ কেটে গেলো ।
    আমার ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ ও ভালো থাকবেন ।

    রীতা দত্ত , kharagpur.

    ReplyDelete
  31. প্রণাম শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  32. খুব ভালো লাগছে মহাপ্রভুর কথা পড়তে ।
    অনেক প্রনাম মহারাজ ।
    এটি বই আকারে বেরুলে খুব ভালো হয় ।

    ReplyDelete
  33. প্রণাম শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।ইতিদাস হাইদ্রাবাদ

    ReplyDelete
  34. Khub sunder pranam maharaj ji thankyou

    ReplyDelete
  35. 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  36. খুব ভালো লাগলো মহাপ্রভুর কথা জেনে, এইভাবেই আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি। প্রণাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  37. খুব ভালো লাগলো প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  38. অসাধারণ লাগছে মহাপ্রভুর সম্বন্ধে জানতে পারছি, সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই মহাপ্রভুর শরীর চরণে🙏🙏

    ReplyDelete
  39. Apurba laglo.mon bhora galo.
    Pranam Maharaj. Pulakesh Sinha Roy.

    ReplyDelete
  40. অপূর্ব সুন্দর পরিবেশনায় আমরা ভাগ্যবান বোধ করছি। কয়েকটি ছোট খাটো বানান প্রমাদ রয়েছে। সংশোধন হলে সর্বাঙ্গ সুন্দর হয়। ,,,,,মদনমোহন বেজ। ব্যান্ডেল।

    ReplyDelete
  41. ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নিবেদন করি মহারাজ তথা শিক্ষা গুরুর শ্রী চরনে।,,,,,, মদনমোহন বেজ।ব্যান্ডেল।

    ReplyDelete
  42. Mahaprovur sambndhe aro jante chai 🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  43. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন কাহিনী সম্বন্ধে আপনার লেখা ধারাবাহিকভাবে, অনেক তথ্য জানতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছে। আরও ভাল লাগলো - তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া'র ত্যাগ ও তপস্যায়পূর্ণ জীবন। প্রেমাশ্রুতে অভিষেককৃত প্রভুর পাদুকাগুলো নিধি সম্বল করে ই

    ReplyDelete
  44. জয় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জয়।মা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী কে আন্তরিক ভালবাসা জানাই ও বিনম্র শ্রদ্ধা যুক্ত প্রণাম জানাই।খুব ভাল লাগলো ব্লগ ২২ পড়ে।পরম পূজনীয় লেখক আচার্য দেবকে অবনত মস্তকে প্রণাম জানাই।আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই মহান বিষয়ে অবগত হচ্ছি।আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।নাম - বিনু চক্রবর্তী।বাড়ি - মালদা।জয় ঠাকুর

    ReplyDelete
  45. প্রণাম মহারাজ🙏🙏।যত পড়ছি ততই নতুন তথ‍্য জানতে পারছি।রূপ সনাতনের পূর্ব নাম জানতে পারলাম।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দুবাই

    ReplyDelete
  46. Asadharan pprabhur kripay aj amra ato kichu jante parchi joy thakur joy ma joy swamiji🙏🙏🙏 tomar srikomol chorone abhumi voktipurno pronam janai🙏🙏🙏 Dipa Choudhury Andul Howrah🙏

    ReplyDelete
  47. জয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু'র জয়🙏🇬🇧। মহাপ্রভু'র জীবন কাহিনীর অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে ভীষণ ভাল লাগলো! জন্মভূমি দশ'নে সর্ব ত্যাগী সন্নাসী শ্রীচৈতন্যদেবের সাথে তাঁর স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া'র অংশটুকুতে - আমাদের শ্রদ্ধেয় মহারাজজী খুব চমৎকার একটু অলংকার যুক্ত করেছেন যা আমার দারুণ ভাল লাগলো! তাহলো "এই দৃশ্য দেখলে মনে হবে - যেন মন্দিরের দ্বারে কোন ধ্যানমগ্ন পুজারিনী প্রতীক্ষা করছেন"। জয় গুরু মহারাজ জী অন্তরের গভীর শ্রদ্ধাযুক্ত প্রণাম জানাই 🙏🇬🇧।

    ReplyDelete
  48. Ki apurbo laglo .aponar sreecharan e shatokoti pronam janai. Sutapa Airport1

    ReplyDelete
    Replies
    1. প্রণাম মহারাজ। এবার রূপ-সনাতন সম্বন্ধে যদি কিছু জানান খুব ভালো হয়।
      সোমা ব্যানার্জী, বেহালা।

      Delete
  49. প্রণাম নেবেন মহারাজ। রুপ সনাতনের পূর্ব পরিচয় সম্বন্ধে জানলাম। বিষ্ণুপ্রিয়া পরবর্তীতে কিভাবে কাটিয়েছিলেন জেনে খুব ভালো লাগল। মহাপ্রভুর তীর্থযাত্রা সম্বন্ধে অনেক তথ্যবহুল অপূর্ব লেখায় অনেক কিছু জানতে পারছি। 🙏🙏😊

    ReplyDelete
  50. Mahaprabhu sombondha onek ojana tattha jante parchi.khub valo lagche likha gulo pore.Acharya Maharaj ji amar sosradha voktipurno pronam grohon korben. Nilanjana Ghosh Biswas Hailakandi Assam

    ReplyDelete
  51. মহাপ্রভুর। কথা। জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো আরো জানতে চাই আপনি খুব ভালো থাকবেন , তাহলে আমরা অনেক কিছু জানার সুযোগ পাবো, প্রণাম নেবেন অসীমা বট ব্যল হাওড়া শিবপুর

    ReplyDelete
  52. খুব ভালো লাগছে মহাপ্রভুর কাহিনী জানতে পেরে ৷অনেক দেরীতেই পড়লাম যদিও ৷
    সীমা আচার্য বারাণসী

    ReplyDelete

Post a Comment