শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

# প্রভু যিশু ও পরম্পরা।। Christmas Eve।। Swami Harimayananda।।

                                              ।।  প্রভু যিশু ও পরম্পরা ।।


                                                                                                                  স্বামী হরিময়ানন্দ





©

খ্রিষ্টের আবির্ভাব

    সারা বিশ্ব ২৫ ডিসেম্বর প্রভু যিশুর আবির্ভাব দিন বলে উদ্‌যাপন করে আসছে। ঈশ্বরের প্রেরিত পুরুষ হিসাবে অর্ধেক পৃথিবী আজ তাঁর উপাসনা করে। কোটি কোটি মানুষের কাছে তাঁর বাণী শান্তি ও সান্ত্বনার প্রেরণা যোগায়। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী ছাড়াও অনেকের কাছে যিশুর আবির্ভাব দিন বা বড়দিন সমান মর্যাদার।  খ্রিষ্টের মহান চরিত্র ও আদর্শ সারা বিশ্বের কাছে এক বিশেষ প্রেরণার। তিনি কেবল ঈশ্বরের পুত্রই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল জাতির ঈশ্বর ও পরম পিতার প্রেরিত দূতঈশ্বরের যথার্থ প্রতিনিধি। তিনি নিজে যেমন বলতেন আমি ও আমার পরম পিতা এক।

সমন্বয় 


       আমরা জানি, শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সমন্বয় ধর্মমত ও পথ নিয়ে জগতে হানাহানি কাটাকাটি কম হয়নি পরধর্ম অসহিষ্ণুতা আমাদের যেন মজ্জাগত ব্যাধি নিজের ধর্মের মহত্ত্ব জাহির করতে হলে, সহজ পন্থা হল অপরের মতের নিন্দা করা আমরা তাই করে এসেছি কিন্তু এতে যে প্রকৃত ধর্ম পালন করা যায় না, এ বোধ আমাদের অনেক সময় থাকে না যিনি নিজ সাধন পথে যথেষ্ট সচেতন, তাঁর অন্তরে অপর ধর্মের প্রতি সহানুভূতির ভাব থাকাই স্বাভাবিক, বিদ্বেষ নয়তাই ধর্মে ধর্মে পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর করতে শ্রীরামকৃষ্ণ শুনিয়েছেন একটি অসাধারণ বাণী যত মত তত পথ সব পথই সত্য

       যে-কোন পথ আন্তরিকভাবে অবলম্বন করেই সত্য লাভ করা যায় শ্রীরামকৃষ্ণের এই শিক্ষা বিশ্বের কাছে প্রচার করেছেন স্বামী বিবেকানন্দ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দর্শনে সুপরিচিত স্বামীজীর  মননে শ্রীরামকৃষ্ণের অধ্যাত্ম চেতনা এবং বুদ্ধের ত্যাগ ও বৈরাগ্য যেমন যুক্ত হয়েছিল, একই ভাবে ভগবান যিশুর আত্মত্যাগের মহান আদর্শ তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল

      শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনেও ঈশাবতার যিশুর প্রভাব লক্ষনীয়বিভিন্ন ধর্ম পথে সাধনা করেছেন তিনি যেমন বেদান্তের সাধনা করেছেন ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের সাধনাও করেছেন দক্ষিণেশ্বরে যখন ছিলেন, কাছে যদুলাল মল্লিকের বাগান বাড়িতে মাঝে মাঝে বেড়াতে যেতেন একদিন বৈঠক খানার দেওয়ালে টাঙ্গানো মাতা মেরীর কোলে যিশুর একটি ছবি দেখে তিনি ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন তন্ময় হয়ে দেখতে দেখতে জীবন্ত জননী ও দেবশিশুর দেহ থেকে জ্যোতি এসে তাঁর শরীরে প্রবেশ করে সেই সময় তাঁর অন্তর খ্রিষ্টধর্মের প্রতি এমন শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে আজন্মলালিত হিন্দুসংস্কার তাঁর মন থেকে সম্পূর্ণ মুছে গিয়েছিল পঞ্চবটীতে বেড়াতে গিয়ে একদিন অপূর্ব সৌম্যদর্শন এক দেবমানবের দর্শন পান। সেই মূর্তি শ্রীরামকৃষ্ণের দেহে লীন হয়ে যায়তাঁর অন্তরে ধ্বনিত হয় ইনি সেই মানব প্রেমিক খ্রিষ্ট যিনি জীবের দুঃখে কাতর হয়ে মুক্তির পথ দেখিয়ে ছিলেন।

     রামকৃষ্ণ সংঘের বেলুড় মঠ সহ প্রায় প্রতিটি শাখাকেন্দ্রে যিশুর আবির্ভাবের প্রাক্‌-সন্ধ্যা (Christmas Eve) গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়প্রভু যিশুর ত্যাগপূর্ণ জীবন ও আদর্শ বিশেষত ওই প্রাক্‌-সন্ধ্যা, সংঘের উৎপত্তি পর্বে একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করেসে বিষয়ে পরে আসছি

সু-সমাচার

       প্রভু যিশু সম্পর্কে মোট চারটি সুসমাচার (Gospel) পাওয়া যায়মথি, মার্ক, লুক ও যোহন লিখিত। এঁরা সকলে যিশুর শিষ্য বা সঙ্গী ছিলেন। তবে এগুলিকে সম্পূর্ণ জীবনী গ্রন্থ বলা যায় না তাঁর জীবনের কিছু ঘটনা ও উপদেশ নিয়ে আমরা এ বিষয়ে অনুচিন্তন করতে পারি। ইহুদিদের দেশ প্যালেস্টাইন ছিল ভূমধ্যসাগরের পূর্বতীরে। যিশু যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন  প্যালেস্টাইনের উত্তরে ছিল গ্যালিলি, মাঝে সমেরিয়া, আর দক্ষিণে জুডিয়া। গ্যালিলির একটি ছোট্ট গ্রাম ন্যাজারেথ। এখানেই বাস করতেন যিশুর পিতা মাতা, যোশেফ ও মেরী।

যিশুর বাল্যকাল

     ছুতোর মিস্ত্রীর কাজ করে কোন রকমে সংসার চলত তাঁদেরকিন্তু তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৎ ও পবিত্র। এ সময় প্যালেস্টাইন ছিল রোম সাম্রাজ্যের অন্তর্গতরোম সম্রা  সীজার অগাস্টাস রাজ্যে আদেশ জারি করলেন প্রত্যেক প্রজাকে নামধাম লেখাতে হবে। ন্যাজারেথের লোকেদের নাম লেখানোর জন্য নির্দিষ্ট ছিল বেথলেহেম। তাই যোশেফ স্ত্রী মেরীকে নিয়ে এলেন বেথলেহেমে তখন সেখানে এত লোকের ভীড় যে মাথা গোঁজবার ঠাঁই নেইঅগত্যা যোশেফ দম্পতী এক আস্তাবলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন।

     এই আস্তাবলেই মাতা মেরীর কোল আলো করে এলেন অপূর্ব  এক দেবশিশু। কোন রকমে একটা কাপড় জড়িয়ে পশুদের খাওয়ার দেওয়ার পাত্রে শুইয়ে রাখলেন। ভাবলে অবাক হতে হয়, যিনি একদিন পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য গড়বেন সেই ঈশ্বরপুত্র যিশু এই ভাবে পৃথিবীতে এলেন  

     শীতের রাতে একদল মেষপালক ওই অঞ্চলে পাহাড়ের কোলে মাঠে আগুণ জ্বেলে ভেড়াগুলি পাহারা দিচ্ছিল হঠাৎ তারা দেখল মাথার উপর আকাশ স্বর্গীয় জ্যোতিতে আলোকময় একজন দেবদূত তাদের সামনে এসে বলল -  ভয় পেয়ো না তোমাদের জন্য সুসংবাদ নিয়ে এসেছি বেথলেহেমে যাও সেখানে তোমাদের ত্রাণকর্তা জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁকে দেখে ধন্য হও রাখালেরা তাড়াতাড়ি রওনা হলেন বেথলেহেমের দিকে যিশুর অপূর্ব চোখ জুড়ানো রূপ আর দিব্য হাসি দেখে তারা অবাক হয়ে গেল   ধীরে ধীরে এই কথা ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে প্রচুর মানুষ নানা জায়গা থেকে বেথলেহেমে এসে হাজির হল যিশুকে দেখতে


     ওই সময় একদল পণ্ডিত জেরুজালেমে এসে বললেন, আমরা গণনা করে জেনেছি, ইহুদিদের রাজা এই দেশে জন্মেছেন পূর্ব আকাশে তারা দেখে আমরা জেনেছি আমরা তাঁকে পুজো করতে এসেছি কারণ  এই রাজপুত্র একদিন পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য সৃষ্টি করবেন সে সময় গ্যালিলির রাজা ছিলেন হেরোদ তিনি পণ্ডিতদের মুখে এই কথা শুনে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন তিনি ভাবলেন যিশুর যদি এমনই প্রভাব ও প্রতিপত্তি হয়, তবে তাঁর আর রাজত্ব করা চলবে না তিনি সমস্ত পণ্ডিত ও পুরোহিতদের ডেকে আদেশ দিলেন, গণনা করে বার করতে কোথায় সেই শিশু জন্ম গ্রহণ করেছেন নানা পুঁথিপত্র ঘেঁটে গণনা করে দেখলেন বেথলেহেম হল সেই শিশুর জন্মস্থান রাজা হেরোদ পণ্ডিতদের বললেন আপনারা বেথলেহেমে যান ভাল করে শিশুটির সন্ধান করুন সন্ধান পেলে আমায় এসে জানাবেন আমিও সেখানে গিয়ে তাঁর পুজো করবো

     পণ্ডিতরা রাজার আদেশ মত বেথলেহেমে এলেন। মাতা মেরী ও শিশুপুত্রকে দেখে তাদের মন আনন্দে ভরে গেল ফিরে গিয়ে এই শিশুর সংবাদ জানাতে বলেছিলেন রাজা হেরোদ আসলে রাজা হেরোদের মতলব ছিল শিশুটির সন্ধান জেনে তাঁকে মেরে ফেলা পণ্ডিতরা এই কথা বুঝতে পেরে যোশেফ ও মেরীকে সাবধান করে দিলেন পণ্ডিতরা আর রাজার কাছে ফিরে গেলেন না রাতের অন্ধকারে মেরী ও শিশুকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে যোশেফ পালিয়ে এলেন মিশরে কারণ মিশরের ওপর রাজা হেরোদের আধিপত্য ছিল নাএদিকে, হেরোদ যখন বুঝতে পারলেন পণ্ডিতরা তাকে ঠকিয়ে চলে গেছে, তিনি রেগে আগুণ হয়ে উঠলেন দুবছরের নিচে যেখানে যত ছেলে বেথলেহেম ও তার আশেপাশে ছিল সব মেরে ফেলার আদেশ দিলেন। এই কাহিনি আমাদের দুরাচারী রাজা কংসের কথা মনে করিয়ে দেয়

     একটু বড় হলে, মাতা মেরী পুত্রকে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে সুন্দর সুন্দর গল্প শোনাতেন আর যিশু তা তন্ময় হয়ে শুনতেন হেরোদের মৃত্যুর পর পিতা-মাতা সহ যিশু গ্যালিলিতে ফিরে এসে নিজেদের গ্রাম ন্যাজারেথে বাস করতে লাগলেন তখন বয়স প্রায় বারো বছর এমনি  করে কাটছিল, হঠাৎ একদিন যোশেফ মারা গেলেন শুরু হয় যিশুর সংগ্রামের জীবন সংসারের সব চাপ এসে পড়ল তাঁর উপর ছুতোর মিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালাতে হত তাঁকে

     মোট ৩৩ বছরের জীবনের ১৩ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কালের কোন কথা বিশেষ কিছু জানা যায় না। মনে করা হয় এই সময় তিনি কোন নির্জন স্থানে কঠোর সাধনায় মগ্ন ছিলেন।

     ইহুদিদের কাছে জর্ডন নদী খুব পবিত্রতার তীরে যোহন নামে এক সাধু ঈশ্বরের নাম ও তাঁর মহিমা কীর্তন করতেন। প্রচুর লোক তাঁর কাছে উপদেশ শোনার জন্য আসত। তিনি তাঁদের বলতেন, তোমরা পাপের জন্য এমন ভুগছোকিন্তু ভয় নেই, তোমাদের মধ্যে ঈশ্বর প্রেরিত মহাপুরুষ শীঘ্রই আসবেন। তিনি তোমাদের কাছে স্বর্গের দ্বার খুলে দেবেন। তোমরা অনুতাপ কর, প্রার্থনা কর। অনুতাপের অশ্রুতে নিজেকে নির্মল কর। সাধু যোহনের সঙ্গে দেখা হল যিশুর। দেখেই যোহন বুঝতে পারলেন এই সেই ঈশপুত্র যিশু  তিনি তাঁকে দীক্ষা (Baptism) দিলেন

     তখন যিশুর বয়স প্রায় তিরিশ। দীক্ষার পর পথে বেরিয়ে পড়লেন মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে এই সময় একদিন মরুভূমিতে শয়তান তাঁকে পরীক্ষা করতে এল সত্যি ইনি ভগবানের পুত্র কিনা। চল্লিশ দিন চল্লিশ রাত উপবাস করে কাটাতে হল। এরপর প্রতারক যিশুর কাছে এসে বলল তুমি যদি সত্যি ঈশ্বরের পুত্র হও, তা হলে এই পাথরগুলোকে রুটিতে পরিণত করে দেখাও। উপাসনা ঘরের চূড়া থেকে লাফ দাও দেখি। শেষে শয়তান বলল তাকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করতে ও প্রভু বলে স্বীকার করতে তা হলে পৃথিবীর সব রাজ্য ঐশ্বর্য যিশুর হয়ে যাবে যিশু তখন বললেন, দূর হও শয়তান! শাস্ত্রে লেখা রয়েছে তুমি কেবল ঈশ্বরকে পূজা করবে, কেবল তাঁরই সেবা করবে

       এখন আর তিনি সূত্রধর যোশেফের পুত্র মাত্র নন এখন তিনি জগতের উদ্ধারকর্তা যিশুখ্রিষ্ট। অনুভব করলেন পৃথিবীতে স্বর্গরাজ্য সৃষ্টির জন্য ঈশ্বরের আহ্বান। ঘরবাড়ি, আত্মীয়, পরিজন সব পেছনে পড়ে রইল তিনি বেরিয়ে পড়লেন পথে। প্যালেস্টাইনের গ্রামে গ্রামে, নদীর তীরে, পর্বতের শিখরে সর্বত্র প্রচার করতে লাগলেন অমৃতময় বাণী। তিনি বলতে লাগলেন নির্ধারিত সময়টি এসে গেছে ঈশ্বরের রাজ্য আসন্ন মন ফেরাও আর এই সুসমাচারে বিশ্বাস কর আশেপাশে গ্রামে গ্রামে প্রচারিত হল তাঁর কথা সমস্ত লোকের মুখে প্রভু যিশুর প্রসংশা ছড়িয়ে পড়ল

         যিশুও সবাইকে তাঁর কাছে ডেকে বললেন, ঈশ্বর আমাদের সকলের পিতা, আমরা সবাই তাঁর সন্তান সকলের প্রতি তাঁর সমান ভালবাসা কেউ ছোট নয়, কেউ বড় নয় লোকের কাছ থেকে তোমরা যে রকম ব্যবহার পেতে চাও, তোমরাও তাদের সঙ্গে তেমনই ব্যবহার কোরো সত্যিকারের মহাপুরুষ যখন কথা বলেন, যদিও সে কথা নতুন কিছু নয়, তবুও এমন শক্তি থাকে তার ভেতরে যা অবিশ্বাসীর মনেও দাগ কেটে যায় খ্রিষ্টের উপদেশে অনেকে এগিয়ে এল নতুন আদর্শে জীবন গড়ে তুলতে অনেকে আবার তাঁর মতো সব কিছু ছেড়ে দিয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করল। এদের মধ্যে প্রধান বারো জন হলেন  পিটার, অ্যান্ড্রু, জেমস্‌, যোহন, ফিলিপ, বার্থেলমিউ, থমাস, মথি, যাকোব, থদ্দেয়, সাইমন, ও জুডাস্‌। যিশু এদেরকে বলতেন খ্রিষ্টদূত 

     এরা সকলেই খুব সাধারণ পরিবারের ছিলেন। লেখাপড়াও তেমন জানতেন না। কিন্তু খ্রিষ্টের সান্নিধ্যে এসে তাদের জীবন আমূল বদলে যায়। সত্যের জন্য, ন্যায়ের জন্য তাঁরা প্রাণ দিতেও ভয় পেতেন না। বহু অত্যাচার সহ্য করেও এঁরাই যিশুর বাণী দেশে দেশে প্রচার করেন। রোম সম্রাটের নির্মম অত্যাচারে তাদের অনেককে প্রাণ দিতেও হয়েছে। তবুও অটুট বিশ্বাস কোন দিন ভঙ্গ করেননিএকমাত্র জুডাসই বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। পরে আসছি সে কথায়।

      যিশুর উপদেশ এত সরল ও হৃদয়গ্রাহী ছিল যে, মানুষকে সহজে আকর্ষণ করত। গভীর তত্ত্বকথা না বলে ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে মানুষের মনে তা গেঁথে দিতে পারতেন। আর ছিল অলৌকিক ক্ষমতার দ্বারা মানুষের উপকার করা। মুমুর্ষুকে রোগমুক্ত করা, কুষ্ঠরোগীর অরোগ্য করা, মরা মানুষকে বাঁচিয়ে তোলা প্রভৃতিও তিনি করতেন। রোগ-শোক ব্যথা-বেদনা নিয়ে যে কেউ তাঁর কাছে কান্নাকাটি করত, করুণার অবতার যিশু অমনি তার প্রার্থনা পূরণ করতেন। যদিও এই সব অলৌকিক ক্ষমতার থেকে শ্রেষ্ঠ হল চারিত্রিক পবিত্রতা ও ঈশ্বরলাভ, তবুও যিশু এই  সব সিদ্ধাই প্রয়োগ করেছেন তার কারণ, তিনি  নিজে বলেছেন তোমরা নিদর্শন কিংবা অলৌকিক কিছু দেখতে চাও, না হলে কিছুতেই তোমরা বিশ্বাস করবে না সেই সব মানুষের মনে বিশ্বাস উৎপাদনের জন্য অলৌকিক শক্তির প্রয়োগও তিনি করেছেন।


শৈল-উপদেশ

     এই সময় একবার যিশু তাঁর বারো জন শিষ্যকে নিয়ে পাহাড়ের উপর ঈশ্বরের প্রার্থনা করেন। প্রার্থনায় সারা রাত কেটে গেলসকালে যুদেয়া, জেরুজালেম প্রভৃতি জায়গা থেকে বহু লোক তাদের ঘিরে বসল। তখন যিশু সকলের উদ্দেশে নানা বিষয়ে উপদেশ দিলেনসেই সব বাণী বা শৈলোপদেশ (Sermon on the Mount) বিশ্ববাসীর কাছে এক অমূল্য সম্পদ। প্রভু যিশু তাদের বলতে লাগলেন, অন্তরে যারা দীনহীন তারাই প্রকৃত সুখী, কারণ ধর্মরাজ্য তাদের। যাদের মধ্যে কঠোরতা নেই তারাই প্রকৃত সুখী কারণ ধর্মরাজ্য তাদের। যারা কাঁদে তারা প্রকৃত সুখী, কারণ তারাই সান্ত্বনা পাবে। যারা অন্তরে পবিত্র তারা প্রকৃত সুখী, কারণ তারা ভগবানের সাক্ষাৎ পাবে

      তোমরা শুনেছ প্রাচীনকালে লোকদের বলা হত তোমরা খুন কোরো না। যদি কেউ খুন করে তাহলে বিচারালয়ে গিয়ে এই খুনের জন্য তাকে কৈফিয়ৎ দিতে হবে। কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে লোক তার ভাইদের ওপর রাগ করে তাকেও বিচারসভায় গিয়ে এই রাগের জন্য কৈফিয়ৎ দিতে হবে বাইরে মেষের বেশ ধারণ করে অন্তরে ব্যাঘ্রের হিংস্রতা নিয়ে যারা তোমাদের কাছে আসে সেই সব ভণ্ডদের থেকে সাবধান হও 

      আবার বলছেন পরের বিচার কোরো না, নিজেই বিচারের জালে পড়ে যাবে। কারণ তুমি যে ভাবে বিচার করবে সেই একই আইনে তোমারও বিচার হবে। কাকেও দোষী করতে যেও না, তা হলে তোমাকেও কেউ দোষী করবে না। অপরকে ক্ষমা কর, তোমাকেও ক্ষমা করা হবে।

       মানুষের দুঃখে প্রভু যিশুর কোমল হৃদয় ব্যথিত হত 

      একটি ঘটনা একদিন গীর্জায় তিনি অনেক লোকের মাঝে বসে উপদেশ দিচ্ছিলেন এমন সময় শাস্ত্রী ও ফরিসিরা(Pharisees) একটি স্ত্রীলোককে তাঁর কাছে নিয়ে এল তার অপরাধ সে ব্যধিচারী ধরে নিয়ে এসেছে বিচারের জন্য সকলের সামনে স্ত্রীলোকটিকে দাঁড় করিয়ে যিশুকে বললেন, এই মহিলা ব্যভিচারী শাস্ত্রে এর শাস্তি লেখা রয়েছে, এ রকম লোককে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে হবে আপনি কী বলেন? উদ্দেশ্য, যিশুকে পরীক্ষা করা যদি তিনি পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেন তবে তিনি নিশ্চয় খ্রিষ্ট হতে পারেন না তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আনা যাবে যিশু তখন মাথা হেঁট করে থাকলেন কোন উত্তর দিলেন না যখন দেখলেন তারা বার বার  ঐ কথা জিজ্ঞাসা করছে তখন তিনি মাথা তুলে বললেন, তোমাদের মধ্যে যে নিষ্পাপ সে-ই প্রথমে ওকে পাথর ছুঁড়ে মারুক’’ তারপর তিনি আবার মাথা নিচু করে রইলেন

       যারা এসেছিল একে একে সবাই চলে যেতে আরম্ভ করল শেষ পর্যন্ত যিশু একা বসে থাকলেন স্ত্রীলোকটি তখনও তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে যিশু মাথা তুলে বললেন, মা, তোমার অভিযোগকারীরা কোথায়? কেউ যখন তোমায় শাস্তি দেয়নি আমিও তোমায় কোন শাস্তি দোব না তুমি চলে যাও এরপর থেকে আর পাপ কোরো না

      এতে ইহুদিদের মধ্যে একদল যিশুকে খুব শ্রদ্ধা করলেও, একদল তাঁর বিরোধী হয়ে উঠল। বিরোধীরা ভাবত যিশু তাদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে লাগল স্বার্থে আঘাত লাগায় গীর্জার পুরোহিতরাও বিদ্রোহী হয়ে উঠল তাছাড়া যিশু বলতেন তাঁর স্বর্গস্থ পিতার আদেশে তিনি সব কিছু করছেন এ কথায় উত্যক্ত ইহুদিরা যিশুকে মারবার জন্য চেষ্টা করতে লাগল

     পুরোহিতদের ভণ্ডামি যিশু কিছুতেই সহ্য করতেন না কারণ এরা ধর্মের নামাবলী গায়ে দিয়ে লোকেদের যা উপদেশ দেয় তা নিজেরা পালন করে না সাধারণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে নিষ্পেষিত করছে ফরিসি ও শাস্ত্রীদের প্রতি যিশু বললেন, ধিক! তোমরা ভণ্ডের দল মানুষের মুখের উপর স্বর্গের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছ তোমরা নিজেরাও স্বর্গে যাবে না, অপরকেও যেতে দেবে না

      যিশু বুঝতে পারছিলেন তার দিন ফুরিয়ে আসছে শিষ্যদের তিনি নানা উপদেশ দিয়ে বিদায়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন একদিন সবাইকে এক সঙ্গে বসিয়ে নিজে পরিবেশন করে খাওয়ালেন। শিষ্যদের নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি তাদের পা ধুইয়ে দিলেন। ঈশপুত্র নিজেকে প্রভুর দাস বলে মনে করতেন শিষ্যদের নিয়ে তিনি এক বাগানে প্রার্থনা করছিলেন, এমন সময় বিশ্বাসঘাতক জুডাস সশস্ত্র একদল লোক নিয়ে সেখানে হাজির হয় সে-ই তাদের ধরিয়ে দিয়েছিল মাত্র ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রার লোভে

       যিশু যেহেতু সবই জানতেন, তিনি নিজেই তাদের বললেন, কাকে চাই? খ্রিষ্টকে? আমিই খ্রিষ্ট যিশুকে বন্দী করে প্রধান পুরোহিতের কাছে নিয়ে গেল প্রধান পুরোহিতেরা, কর্মচারীরা এবং প্রবীনলোকেরা যারা যিশুকে খুঁজতে এসেছিল তাদেরকে তিনি বললেন, তোমরা তলোয়ার লাঠি নিয়ে কেন এসেছ, আমি কি ডাকাত? দিনের পর দিন প্রকাশ্যে আমি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছি কিন্তু তখন তোমরা আমায় ধরলে না কেন? কিন্তু, কোন কথা তারা শুনল না ধরে নিয়ে এল মহাযাজকের কাছে বিচারের জন্য

      প্রহরীরা তাঁকে অকথ্য গালাগালি, অপমান ও বিদ্রুপ করতে লাগলএমনকি গালে চড় মারতে ও গায়ে থুতু দিতেও কুণ্ঠা করল না প্রধান পুরোহিত চেষ্টা করল যিশুর বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ আনতে যাতে প্রাণদণ্ড দেওয়া যায় কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ খুঁজে পেল না সকলে চেষ্টা করল মিথ্যা অভিযোগ করতে কোন কিছু বিশেষ অভিযোগ না পেয়ে সবাই একসঙ্গে বলে উঠল - এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

      যারা বিচার করছিলেন তারা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন প্রাণদণ্ডের আদেশ দেওয়া হবে কাজেই বিচারের নামে প্রহসন চলল রোমের শাসন কর্তার আদেশ ছাড়া তখন কারও প্রাণদণ্ড হত না তাই সকলে শাসনকর্তা পাইলটের কাছে গেলেন তিনি সকলের সঙ্গে মত দিলেন একে ক্রুশে দেওয়া হোক অনুচরেরাও চিৎকার করে উঠল ওকে ক্রুশে দাও, ক্রুশে দাও

আত্ম-বলিদান

   

   শহরের কাছেই একটি জায়গায় ক্রশের স্থান ঠিক করা হল। মাথায় কাঁটার মুকুট আর বেগুনি রংয়ের কাপড় পরিয়ে দেওয়া হল। সৈন্যেরা তাঁকে চড় মারতে লাগল আর বিদ্রুপ করে বলতে লাগল ওহে ইহুদিরাজ, জয় হোকএকান্ত ঈশ্বর নির্ভর প্রভু যিশু ছিলেন শান্ত নিজে ক্রুশ বয়ে নিয়ে এলেন। স্ত্রী পুরুষ সবাই দাঁড়িয়ে দেখল সেই মর্মান্তিক দৃশ্য। কিন্তু যিশুর মুখে একটুও যন্ত্রণার কোন চিহ্ন ছিল না। বরং চোখে মুখে ছিল এক স্বর্গীয় জ্যোতি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে বিশ্ববাসীর জন্য তাঁর অন্তিম প্রার্থনা পিতা, এদের ক্ষমা কর কারণ এরা কী করছে তা জানে না কী অদ্ভুত ক্ষমা, কী অপূর্ব মহত্ব! একটি মহৎ জীবনের পরিসমাপ্তি হল ঠিক, কিন্তু তাঁর বাণী আজও অমর হয়ে রয়েছে এবং তা থাকবে চিরকাল

পরম্পরা

     ১৮৮৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর। প্রভু যিশুর ত্যাগ ও আত্মবলিদানের কাহিনি, স্বামী বিবেকানন্দ, তখন তিনি নরেন্দ্রনাথ, উদ্দীপনাময় ভাষায় বলেছিলেন কয়েকজন তরুণের সামনেতাদের সামনে চিরকালের জন্য এঁকে দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ সংঘের  আদর্শ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

 ১৮৮৬-এর ১৬ আগষ্ট শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের পর তরুণ শিষ্যেরা বরাহনগরে এক পোড়ো বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন সেখানেই নরেন্দ্রনাথ সবাইকে একত্র  করে মঠ শুরু করলেন সকলের ভেতরে তখন জ্বলছে ত্যাগের তীব্র আগুন

      সেই সময় একদিন বাবুরামের মা মাতঙ্গিনীদেবী সবাইকে আমন্ত্রণ করলেন তাঁর আঁটপুরের বাড়িতে সদলবলে শশী, কালী, বাবুরাম, তারক, শরৎ, নিরঞ্জন, গঙ্গাধর ও সারদাপ্রসন্ন মোট আটজন গুরুভাই সহ নরেন্দ্রনাথ ওই বছর ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আঁটপুরে উপস্থিত হলেন গ্রামের মনোরম নির্জন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত আহার পেয়ে সাধন ভজনে ডুবে গেলেন



    ওই সময় এক সন্ধ্যায় সবাই ধুনি জ্বেলে শান্ত আকাশের নিচে বসলেন তখন নরেন্দ্রনাথ গুরুভাইদের উদ্দেশে প্রভু যিশুর মহান আদর্শ ও আত্মবলিদানের কাহিনি তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে বলতে শুরু করলেন কীভাবে শিষ্যদের ত্যাগ-তপস্যায় ধীরে ধীরে খ্রিষ্টধর্ম প্রচার ও প্রসারলাভ করেছিল সেইসব কথাও বললেন গুরুর চাপরাশ পাওয়া নরেন্দ্রনাথ সেদিন যেন ভাবাবিষ্ট হয়ে ভাবি রামকৃষ্ণ সংঘের গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সকলের সামনে তুলে ধরেছিলেন



     বীর সেনাপতি সেদিন সবাইকে আহ্বান করেছিলেন মনপ্রাণ উৎসর্গ করে শ্রীরামকৃষ্ণ আবির্ভাবকে সার্থক করতে সকলের প্রাণে এমন শিহরণ জেগে ছিল যে, তারা সকলে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে সমবেত ভাবে পবিত্র অগ্নিশিখাকে সাক্ষী রেখে সংসার ত্যাগের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন আশ্চর্য! কেউ জানত না যে, সেই শুভক্ষণটি ছিল ২৪ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা, যিশুর আবির্ভাবের প্রাক্‌-সন্ধ্যা। পরে সবাই ফিরে এসে বরাহনগরে আনুষ্ঠানিত সন্ন্যাস নিয়েছিলেন সেদিন যাঁরা সংকল্প নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে তারক (স্বামী শিবানন্দ) পরবর্তীকালে ওই প্রসঙ্গে বলেছিলেন আঁটপুরেই আমাদের সংঘবদ্ধ হওয়ার সংকল্প দৃঢ় হল এই ভাবে সেদিন সকলের অজান্তে এক নতুন সন্ন্যাসী সম্প্রদায়ের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা বলা যায়, সেই সন্ধ্যার সংকল্প শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবপ্রবাহের এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল


     প্রভু যিশুর আবির্ভাবের প্রাক্‌-সন্ধ্যা বেলুড় মঠ সহ বিভিন্ন শাখাকেন্দ্রে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয় মাতা মেরীর কোলে যিশুর প্রতিকৃতি সুন্দর করে সাজানো হয়মোমবাতি জ্বেলে দেওয়া হয় সাজানো হয় খ্রিষ্টমাস ট্রিফল-মিষ্টি ছাড়াও নিবেদন করা হয় কেক, চকলেট, বিস্কুট, চা, কফি প্রভৃতি নানা জিনিস  মেনোরা দিয়ে আরতি করা হয় সন্ন্যাসী-ব্রহ্মচারীগণ সমবেত ভাবে পরিবেশন করেন ক্যারল সঙ্গীত - O come, let us adore Him, Christ the Lord!... , Silent night, holy night!... পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ ও আলোচনা করা হয় তৈরি হয় ভাব গম্ভীর আনন্দময় এক পরিবেশ।

     মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকাশ হয়, এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন যিশুখ্রিষ্ট। মানবপ্রেমিক যিশু তাঁর জীবনমূল্য দিয়ে যে মহাসত্য  জগতে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তারই প্রদীপ্ত শিখা আজও মানব মনকে কালিমা মুক্ত করে নতুন চলার পথ দেখায়সত্যের বেদীমূলে আত্মোৎসর্গ করে, মানব প্রেমের মহান আদর্শ রেখে গেছেন চির কালের জন্য আমরা যেন সেই আদর্শে উদ্ধুদ্ধ হতে পারি - এই আমাদের সকলের প্রার্থনা হোক।©

          

Comments

  1. প্রণাম মহারাজ। প্রভু যীশুর জীবন কাহিনী সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা ছিল। আপনার সান্নিধ্য লাভ করে অনেক তথ্য জানতে পারছি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি আমরা যেন সকল মহাপুরুষ দের জীবন আদর্শ অনুসরন করে নিজেদের উচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে পারি। হে ঈশ্বর আপনাকে প্রণাম করি।ভাল থাকবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. যিশুর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম খুব ভালো লাগলো আশা করছি আরো অনেক কিছু জানতে পারবো প্রনাম নেবেন মহারাজ ।
      মীনা সিনহা

      Delete
    2. Pranam Prabhuji, Bhagaban Jishu sambandhe lekhati pare mugdha holam. Tnar prati amader sasradhya pranam janai o ashirbad prarthana kori.
      🌹🌹🙏🙏🙏🌹🌹

      Delete
  2. Replies
    1. প্রভু যীশুর শ্রী চরণে শতকোটি ভক্তিপূর্ণ প্রণাম 🙏। খুব ভালো লাগলো এক সাথে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
      প্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏।
      মৌসুমী রায় কোচবিহার।

      Delete
  3. খুব ভালো লাগলো প্রভু যীশুর কথা আপনার কাছে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি সাধু সঙ্গ অতি দুর্লভ সাধু সঙ্গ করতে পারছি বলে আমরা নিজেকে ধন্য মনে করি আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম। শিখা মন্ডল বজবজ

    ReplyDelete
  4. Debodoot Prabhu Jishu r Shree Padopodmey Vaktivora obolunthito pranam nibedon kori 🙏. Sotokoti vaktivora pranam nibedon kori Tobo Shree Padopodmey Maharajji 🙏🙏. Maharajji, ki opurbo Prabhu Jishu r Jibon Charitabali amader samney tuley dhorechen, ta obornoniyo🙏. Thik Thakur Shree Ramakrishna er neyey Prabhu Jishu bolechen-b8char kortey jeno na taholey tumi sei bicharer jaley porbey. Ki sundor sundor Upodeshabali, ta obogoto hoyey mon pran pobitro o shanti bodh holo. Hei, Prabhu Jishu r Atmo bolidaan prosongo porey nijer oshrubari songboron kortey parlam na, Maharajji. Swang Vagabaan abirbhuto hoyey poromogyanrashi bitoron korey gachhen, Prabhu Jishu🙏. Maharajji, Apni amader hatey tuley gyanrashi bitoron korey jachhen just amra jeno nijeder supothey chalito kortey pari. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷 🙏

    ReplyDelete
  5. অনন্যসাধারণ লেখা।
    🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  6. Pronam Thakur 🙏🙏🙏🌺🌺🌺Amake tomar srichorone asroy dao. Joy Ramkrishna. Joy Ma Sarada Soroswati. Joy Swamijee.

    ReplyDelete
  7. আপনার লেখা পড়ে সমৃদ্ধ হচ্ছি মহারাজ, "যত মত তত পথ" আমাদের ঠাকুরের এই বাণী মর্মেমর্মে উপলব্ধি হয় যেন, ধর্মের সংকীর্ণতা র উর্দ্ধে যেন পৌঁছাতে পারি।🙏🏼🙏🏼
    অর্পিতা বসু বাগবাজার

    ReplyDelete
    Replies
    1. Pranam Prabhuji, Bhagaban Jishur jiban kahini atyanta hridaysparshi lekhani. Prabhu Jusus Crista er bani o tyag amader manab jibaner adarsh. Manusher madhyei bhagaban prakashita hon. Tnar mrityu danda er kahini ajo amader chokhe jal ane. Oi (1886 24th December)dine Swami Vivekanand (Narendra Nath) o aro anyanna sannyashi gan tyag er mantre dikkhita hoye Sangha gathan korechilen jana gelo, aro sab tathya jene bhalo laglo. Thanks with regards. 🌺🌺🙏🙏🙏🌺🌺

      Delete
  8. Asadharan.... Asadharan prabhu
    Jishu... Sambandhe Ajker Lekha pore.. Khub bhalo laglo Maharajji... Mon bhore gelo... Asadharan.... Nijeke soubhagbati mone Kori.... Emon akjan gyani sadhu sang labh korechi bole... ki sunder bhabe barnana diyechen... Apurbo..
    Pranam Maharajji 🙏🙏
    Jaya choudhury......

    ReplyDelete
  9. প্রনাম ঠাকুর মা স্বামিজী . প্রনাম মহারাজ জী. খুব ভালো লাগলো অনেক কিছু জানতে পারছি আমার .

    ReplyDelete
  10. আলো ব্যনার্জী

    খুব লাগলো মহারাজ। আপনার আশীর্বাদে প্রভু যীশুর জীবনীর কতো কিছু জানতে পারলাম। ঠাকুর মা স্বামীজীর চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি🙏 আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম মহারাজ🙏🙏🙏 আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি। 🙏🌹🙏

    ReplyDelete
  11. আচার্য দেব আপনার কৃপায় আমরা অনেক কিছুই অজানা তথ্য জানতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    ReplyDelete
  12. খুব ভালো প্রভু যীশুর কথা,🙏🏼🙏🏼
    প্রনাম নেবেন মহারাজ।
    অর্পিতা বসু বাগবাজার।

    ReplyDelete
  13. খুব ভালো লাগলো মহারাজ।প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আগে এত জানতাম না।আপনার লেখা গুলো পড়ে অনেক বিষয়ে জানতে পারছি।আরো জানার অপেক্ষায় থাকলাম।🙏🌹🙏🌹🙏

    ReplyDelete
  14. অপূর্ব উপস্থাপনা
    আপনার জন্য অনেক কিছু জানতে পারলাম আমার প্রনাম নেবেন
    সুব্রত ঘোষাল মুম্বাই

    ReplyDelete
  15. প্রণাম প্রভু যীশু।প্রণাম ঠাকুর, প্রণাম মা, প্রণাম স্বামীজী।প্রণাম নেবেন মহারাজ ।ইতিদাস হাইদ্রাবাদ।

    ReplyDelete
  16. প্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏
    প্রভু যীশুর কথা পড়ে খুব ভালো লাগলো অনেককিছু জানতে পারলাম এবং সমৃদ্ধি হলাম ll
    পূর্ণিমা মুখার্জী
    পাইকপাড়া ll

    ReplyDelete
    Replies
    1. একদিন যারা মেরেছিল তারে গিয়ে রাজার দোহাই দিয়ে এ য়ুগে তাঁরা জন্ম নিয়েছে আজি মন্দিরে তাঁরা এসেছে ভক্ত সাজি।
      খুব ভাল লাগল মহারাজ।

      Delete
  17. খুব ভালো লাগলো প্রভু যীশুর কথা। প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  18. প্রভু যীশু র জীবন কথা জেনে সম্বৃদ্ধ হলাম।‌প্রণাম মহারাজ জী 🙏 অলকানন্দা মিত্র বাগবাজার

    ReplyDelete
  19. Maharaj khub valo laglo apnar lekhti pare pravu jishu sambandhe anek na jana bisoy jante pere satyee upakrita hoyechi Shampa Dhar🙏🙏

    ReplyDelete
  20. Maharaj opurbo sundor apnar lekha pore provu "Jisu" somporko onek kichu jene samridhya holam .. Pronam Maharaj. . Basanti chatterjee shibpur howrah.

    ReplyDelete
  21. প্রণাম মহারাজ জী 🙏 প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সম্বন্ধে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম, আপনার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি ধন্য।
    রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  22. খুব ভালো লাগলো মহারাজ 🙏🙏🙏

    পূর্ণিমা মুখার্জী
    পাইকপাড়া l

    ReplyDelete
  23. Proñam Maharaj 🙏🙏
    Proñam Thakur Maa Swamiji 🙏🙏🙏🙏🙏 probhu Jishur kotha anek kichu janlam

    ReplyDelete
  24. প্রভু যীশুর জীবন কথা জেনে সমৃদ্ধ হলাম। প্রণাম মহারাজ।🙏🙏 রীতা নাগ দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  25. আজকের বিশেষ দিনে ভগবানের পুত্র যীশুর জীবন কাহিনী পড়লাম।খুবই ভাল লাগল মহারাজ। অনবদ্য লেখনী আপনার।যাই বলি কম বলা হবে।
    সভক্তি সশ্রদ্ধ প্রণাম গ্রহণ করুন মহারাজ।
    আগামী নতুন বছর সবাইয়ের জন্য যেন ডাল হয় ।এই আশীর্বাদ করুন।
    আপনারাও সবাই ভাল থাকুন। ঠাকুর মায়ের ও স্বামীজীর আশীর্বাদে।

    ReplyDelete
  26. প্রভু যীশু খ্রীষ্টের জীবন কাহিনী পড়ে খুব আনন্দ পেলাম ও অনেক কিছু জানতে পারলাম । প্রণাম ভগবান যীশু খ্রীষ্ট , প্রণাম স্বামী শিক্ষা গুরু মহারাজ জী

    ReplyDelete
  27. আপনি ধন্য মহারাজ আর আমরা খুবই ভাগ্যশালী আপনার মত আর্চায্য পেয়ে। এমন ভাবে ব্যাখ্যা আগে কখনও শুনি নি। প্রনাম নেবেন।

    ReplyDelete
  28. আজকের দিনে এই ব্লগ পড়ে মনে হচ্ছে ভগবানের পুজো করলাম আর আপনি তাঁর পুরোহিত। প্রণাম জানাই মহারাজ।

    ReplyDelete
  29. প্রভু যীশুর জীবনী পড়ে খুবই ভালো লাগলো।এতো সুন্দর সহজ ভাবে লেখাটি প্রকাশ করেছেন ।অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।
    মাতা মেরী সহ যীশু কে প্রণাম জানাই।
    প্রণাম মহারাজ।
    রুবী গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য ,ইছাপুর

    ReplyDelete
  30. প্রণাম মহারাজ🙏🙏।অসাধারণ।প্রভূ যীশু র সম্বন্ধে অনেক অজানা তথ‍্য জানলাম।ভাল লাগল।ভাল থাকবেন। মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  31. আজ এই প্রবিএ দিনে যীশুর অনেক কাহিনী জানতে পারলাম খুব ভালো লাগলো। প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
    মীনা সিনহা । রাজারহাট ঘোষ পাড়া।

    ReplyDelete
  32. জয় ভগবান যিশুর চরনে শতকোটি প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন কর।আর নিজে ধন‍্য মনে করি ,এত সুন্দর কথা উপভোগ করার জন‍্য ঠাকুরের কৃপায় ।নিজেকে যেন উদ্ধমুখী করতে পারি।ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  33. প্রভু যীশুর জীবনী পাঠের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ মনন করলাম।প্রণাম নেবেন মহারাজ ।শঙ্করী চক্রবর্তী।আগরতলা।

    ReplyDelete
  34. খুব সুন্দর লাগল ।প্রনাম নেবেন মহারাজ। কৃষ্ণা নাগ ।

    ReplyDelete
  35. প্রণাম মহারাজ।
    অসাধারণ ! মন ছুঁয়ে গেলো।

    ReplyDelete
  36. খুব ভালো লাগলো।🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  37. Prabhu Jishu r Shree Padopodmey Vaktivora pranam nibedon kori 🌻🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Prabhu Jishu r Atmobolidan satti khubei hridoy e dukkher aghat sparshakari. Osadharon lekhoni, Achariyo Maharajji 🌷🙏

    ReplyDelete
  38. প্রভু যীশুর অনেক অজানা তথ্য মহারাজের কৃপায় জানতে পারলাম খুব ভালো লাগলো জয় প্রভু যীশু🙏 আমার আন্তরিক ভক্তি পূর্ণ প্রনাম জানাই মহারাজের চরণে

    ReplyDelete
  39. আলো ব্যনার্জী
    প্রভু যিশুর আত্মবলিদানের কথা পড়লে খুব কষ্ট হয়। প্রণাম মহারাজ🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  40. 🙏🙏 প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  41. অপূর্ব অপূর্ব অপূর্ব সুন্দর আপনার লেখনি আজ আবার দ্বিতীয় বার পড়লাম ও সমৃদ্ধ হলাম ।প্রণাম মহারাজ জী 🙏🌷🙏
    রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  42. অপূর্ব সুন্দর লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো ও অনেক কিছু জানতে পারলাম।প্রনাম প্রভু যীশু 🌷💥🙏প্রণাম জানাই দিব্যত্রয়ীর শ্রীচরণ পাদপদ্মে 🌷💥🙏 প্রণাম নেবেন গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🌷💥🙏

    ReplyDelete
  43. He Biswapita Jishu amar antarer vakti valobasha tuku grahan kara🙏🙏

    ReplyDelete
  44. Shampa Dhar🙏🌹

    ReplyDelete
  45. He pravu Jishu He Biswapita amar antarer vakti prem anurag tuku grahan kara Shampa Dhar🙏🌹

    ReplyDelete
  46. অপূর্ব লেখা 🙏মন্ত্র মুগ্ধের মতো পড়লাম লেখাটি🙏 কিছু জানা-কিছু অজানা তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধটি, খুবই মনোগ্রাহী🙏🙏খুব ভালো লাগলো মহারাজ জী🙏 সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই🙏
    সুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট

    ReplyDelete
  47. প্রনাম মহারাজ 🙏 আপনার মতো শিক্ষাগুরু পেয়ে আমরা খুব ধন্য হয়ে যাই। আপনি খুব ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই কামনা করি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কাছে ।

    ReplyDelete
  48. অপূর্ব শুনলাম। অনেক নতুন কিছু জানতে পারলাম। প্রণাম মহারাজ 🙏🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. প্রজ্ঞা ভাদুড়ী শ্রীরামপুর। ভগবান যীশু সম্পর্কে আরও অনেক নতুন তথ্য জানলাম।
      খুব ভালো লাগল। প্রণাম গ্রহণ করবেন আচার্য্যদেব 🙏🙏

      Delete
  49. Pranam prabhu jishu...prabhu jishu samndhe apnar lekha asadharan...anek kichui jante parlam....pranam maharajji...
    Happy Merry Christmas...🌹🌹🌲🌲

    ReplyDelete
  50. অপূর্ব একটি লেখা পড়লাম ও অনেক আজানা কথাও জানলাম। প্রণাম শিক্ষা গুরুদেব। শুভ্রা লালা।

    ReplyDelete
  51. ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ, অপূর্ব লাগলো মহারাজ।
    🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  52. জয় ভগবান যীশু,মানুষের মধ্যেই ভগবানের বিশেষ প্রকাশ এই সত্যই প্রতিষ্টিত করে গেছেন ভগবান যীশু খ্রীষ্ট।একথাটি জেনে ভাল লাগলো।ভাবলে অবাক লাগে,সমস্ত মহাপুরুষ ও অবতারদের জীবনে এতো কষ্ট কেন? এতো দুঃখ সহ্য করা কি জীবকে শিক্ষা দেওয়া জন্য? কেন এতো কষ্ট দুঃখ পাবেন তারা যারা,অসীম অনন্ত ভগবানের উদ্দেশ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সাধারন ভাবে জানি যারা অন্যায় ও পাপ কর্ম করে তারা দুঃখ, কষ্ট,শাস্তি পাই।তিনিই জানেন। পূজনীয় আচার্য দেব কে ভক্তি পূর্ণ প্রণাম ও আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।নাম - বিনু চক্রবর্তী, বাড়ি মালদা।জয় ঠাকুর

    ReplyDelete
  53. প্রণাম মহারাজ। এত্ত সুন্দর ভাবে, সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পেলাম ভগবান যীশুখ্রীষ্টের , মন-প্রাণ ভরে গেল। বিশাল বাইবেল আর ঘাঁটবো না।

    ReplyDelete
  54. Khub valo laglo🙏🙏🙏🙏🙏🙏Maharaj.
    Mithu Datta, Garia

    ReplyDelete

Post a Comment