বিবেকচূড়ামণি
অন্ধত্বমন্দত্বপটুত্বধর্মাঃ
সৌ গুণ্যবৈগুণ্যবশাদ্ধি চক্ষুষঃ।
বাধির্যমুকত্বমুখাস্তথৈব
শ্রোত্রাদিধর্মা ন তু বেত্তুরাত্মনঃ ।। ১০১
শব্দার্থ – অন্ধত্ব-মন্দত্ব-পটুত্ব-ধর্মাঃ
– অন্ধ, অল্পদৃষ্টি বা তীক্ষ্ণদৃষ্টি হওয়া, সৌগুণ্য-বৈগুণ্য-বশাৎ,
হি চক্ষুষঃ – চোখেরই। বাধির্য-মূকত্ব-মুখাঃ – বধিরতা,
মূকতা প্রভৃতি, শ্রোত্রাদিধর্মাঃ -কর্ণ প্রভৃতির ধর্ম, তথা এব- সে রকম, তু- কিন্তু,
বেত্তুঃ আত্মনঃ ন -বেত্তা আত্মার নয়।
সরলার্থ – চোখের দোষে বা গুণে
মানুষ অন্ধ হয়, অল্প দেখে বা তীক্ষ্ণদৃষ্টি হয়। ঠিক সে রকম কান প্রভৃতি ইন্দ্রিয়ের
দোষেই বধির, মূক প্রভৃতি হয়। অন্ধত্ব প্রভৃতি দোষ ও গুণের জ্ঞাতা আত্মার হয় না। অর্থাৎ
আত্মা এর দ্বারা সংস্পৃষ্ট হন না।
উচ্ছ্বাসনিঃশ্বাসবিজৃম্ভণক্ষুৎ-
প্রস্যন্দনাদ্যুৎক্রমাণাদিকাঃ ক্রিয়াঃ।
প্রাণাদিকর্মাণি বদন্তি তজ্জ্ঞাঃ
প্রাণস্য ধর্মাবশনাপিপাসে।। ১০২
শব্দার্থ- উচ্ছ্বাস-নিঃশ্বাস-বিজৃম্ভন-ক্ষুৎ-প্রস্যন্দনাদি-উৎক্রমণাদিকাঃ
– শ্বাস ত্যাগ , শ্বাস গ্রহণ,হাইতোলা, হাঁচি,
কফাদির নিঃসরণ, দেহ পরিত্যাগ প্রভৃতি, ক্রিয়াঃ – কর্ম, প্রাণাদি
কর্মাণি – প্রাণ প্রভৃতি পঞ্চবায়ুর কাজ, তজ্জ্ঞাঃ
– প্রাণাদির স্বরূপ যাঁরা জানেন তারা, বদন্তি
– বলেন। অশনা -পিপাসে – ক্ষুধা
ওপিপাসা, প্রাণস্য ধর্মৌ – প্রাণের দুই ধর্ম।
সরলার্থ – শ্বাস ত্যাগ , শ্বাস
গ্রহণ, হাইতোলা, হাঁচি, নাকের বা কানের ময়লা নির্গমন প্রভৃতি প্রাণাদি পঞ্চবায়ুর কাজ।
অভিজ্ঞ ব্যক্তি এরূপ বলে থাকেন। ক্ষুধা ও পিপাসা প্রাণের দুই ধর্ম।
অন্তঃকরণমেতেষু চক্ষুরাদিষু বর্ষ্মণি।
অহমিত্যভিমানেন তিষ্ঠত্যাভাসতেজসা।।১০৩
শব্দার্থ – অন্তঃকরণম্ - অন্তঃকরণ,
এতেষূ- এই সব, চক্ষুঃ -আদিষু – চোখ প্রভৃতি জ্ঞানেন্দ্রিয়
ও কর্মেন্দ্রিয় সকলে, বর্ষ্মণি – শরীরে, অহম্ ইতি অভিমানেন
– আমি দেখি, খাই ইত্যাদি বৃত্তি উৎপন্ন করে, আভাস-তেজসা
– চিদাভাসের তেজে উদ্ভাসিত হয়ে, তিষ্ঠতি – অবস্থান
করে।
সরলার্থ – অন্তঃকরণ আত্মার তেজে
উদ্ভাসিত হয়ে চক্ষু প্রভৃতি জ্ঞানেন্দ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয় সকলে এবং দেহে আমি আমি এই
প্রকার বৃত্তি উৎপাদন করে বর্তমান থাকে।
অহংকারঃ স বিজ্ঞেয়ঃ কর্তা ভোক্তাভিমান্যয়ম্।
সত্ত্বাদিগুণযোগেন চাবস্থাত্রয়মশ্নুতে।।১০৪
শব্দার্থ – সঃ অহংকারঃ – অন্তঃকরণের
পরিণতি সেই অহংকার, কর্তা ভোক্তা অভিমানী – পাপপুণ্যাদি
ক্রিয়ার স্বাধীন কর্তা, সুখ-দুঃখের ভোক্তা – এই প্রকার
অভিমান, বিজ্ঞেয়ঃ – জানবে, অয়ং চ – এটি আবার,
সত্ত্বাদিগুণযোগেন – সত্ত্বাদি তিন গুণের
সঙ্গে যুক্ত হয়ে, অবস্থাত্রয়ম্ - জাগ্রৎ স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থা, অশ্নুতে
– প্রাপ্ত হয়।
সরলার্থ – দেহাদি ইন্দ্রিয়ের
অভিমানী এবং অন্তঃকরণের পরিণতি এই অহংকারকে আমি কর্তা, আমি ভোক্তা, এই প্রকার অভিমানী
বলে জানবে। এই অহংকার সত্ত্ব , রজঃ ও তমঃ প্রকৃতির এই তিন গুণের সঙ্গে সম্বন্ধ হয়ে
জাগ্রৎ স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থা হয়।
বিষয়াণামানুকুল্যে সুখী দুঃখী বিপর্যয়ে।
সুখং দুখং চ তদ্ধর্মঃ সদানন্দস্য নাত্মনঃ।।১০৫
শব্দার্থ – [অহ্ংকার ] বিষয়াণাম্
আনুকূল্যে – বিষয়সকল অনুকূল হলে, সুখী – সুখী, বিপর্যয়ে
– বিষয়সকল প্রতিকূল হলে, দুঃখী – দুঃখী হয়।
সুখং দুঃখং চ – সুখ ও দুখঃ, তৎ- ধর্মঃ – সেই অহংকারের
ধর্ম। সদানন্দস্য আত্মনঃ ন – সর্বদা
আনন্দময় আত্মার নয়।
সরলার্থ – বিষয় সকল অনুকূল হলে,
অহংকার সুখী হয়। আর বিষয় সমূহ প্রতিকূল হলে অহংকারই দুঃখ বোধ করে। এই সুখ ও দুঃখ অহংকারের
ধর্ম। আনন্দময় আত্মার ধর্ম নয়।
আত্মার্থত্বেন হি প্রেয়ান্ বিষয়ো ন স্বতঃ প্রিয়ঃ।
স্বত এব হি সর্বেষাত্মা প্রিয়তমো যতঃ।
তত আত্মা সদানন্দো নাস্য দুঃখং কদাচন।। ১০৬
শব্দার্থ – বিষয়ঃ -বিষয়, আত্মার্থত্বেন হি – আত্মার
প্রয়োজনেই, প্রিয়ঃ – প্রিয় হয়, স্বতঃ – বিষয় নিজের
গুণে, ন – প্রিয় হয় না। যতঃ – যে হেতু,
আত্মা – আত্মা , স্বতঃ এব হি – নিজের স্বভাবেই
, সর্বেষাং প্রিয়তমঃ – সকলের প্রিয়তম, ততঃ – সেই হেতু,
আত্মা – আত্মা , সদানন্দ – সর্বদা
আনন্দময়, অস্য – এর কদাচন – কখন, দুঃখং
ন – দুঃখ হয় না।
সরলার্থ – আত্মাতে বর্তমান থেকে
আত্মার ভেতর দিয়ে প্রকাশ পায় বলে বিষয় সমুহ জীবের এত প্রিয় হয়, বিষয় নিজের গুণে প্রিয়
হয় না। যে হেতু আত্মা স্বরূপতঃ সকলের প্রিয়তম, তাই আত্মা সর্বদা আনন্দময়। কখনও এর দুঃখ
হয় না।
যৎ সুষুপ্তৌ নির্বিষয় আত্মানন্দো৳নুভূয়তে।
শ্রুতিঃ প্রত্যক্ষমৈতিহ্যমনুমানং চ জাগ্রতি।।১০৭
শব্দার্থ – যৎ - যে কারণে অর্থাৎ
আত্মা আনন্দময় বলে, সুষুপ্তৌ – প্রগাঢ
নিদ্রায়, নির্বিষয়ঃ – বিষয়শূন্য , আত্মানন্দঃ
-স্বরূপসুখ্, অনুভূয়তে – অনুভূত হয়। এই বিষয়ে
শ্রুতি, প্রত্যক্ষ, ঐতিহ্য ও অনুমান – এই চার
প্রকার প্রমাণ বর্তমান রয়েছে।
সরলার্থ – আত্মা সর্বদা আনন্দময়
বলে মানুষ সুষুপ্তির সময় বিষয়শূন্য আত্মানন্দ অনুভব করে। আত্মা যে আনন্দস্বরূপ সে বিষয়ে
শ্রুতি, প্রত্যক্ষ, ঐতিহ্য ও অনুমান – এই চার
প্রকার প্রমাণ রয়েছে।
মায়া-নিরূপণ
অব্যক্তনাম্নী পরমেশশক্তিরনাদ্যবিদ্যা ত্রিগুণাত্মিকা পরা।
কার্যানুমেয়া সুধিয়ৈব মায়া জগৎ সর্বমিদং প্রসূয়তে.১০৮
শব্দার্থ – ত্রিগুণাত্মিকা – তিন গুণ-যুক্ত,
অব্যক্ত-নাম্নী = অব্যক্ত নামে,পরমেশ-শক্তি = ব্রহ্মের শক্তি, অনাদি-অবিদ্যা = আদি-রহিত
অবিদ্যা, পরা = কারণ-স্বরূপ, মায়া এব = মায়া-ই। সুধিয়া – তীক্ষ্ণবুদ্ধিমান
ব্যক্তির দ্বারা, কার্য-অনুমেয়া = কার্যের দ্বারা অনুমান করা যায়, যয়া = যে মায়া দ্বারা, ইদং সর্বং জগৎ =এই সকল জগৎ, প্রসূয়তে =সৃষ্টি হয়।
সরলার্থ – অব্যক্ত নামে বিদিত
ত্রিগুণাত্মিকা অনাদি অবিদ্যা পরমেশ্বরের যে পরা-শক্তি তা হল মায়া। মায়া থেকেই সম্পূর্ণ
জগৎ উৎপন্ন হয়েছে। ব্যদ্ধিমান ব্যক্তি এর কার্যের দ্বারা এর অনুমান করেন।
[এই জগৎ রচনা মায়া কি করে করে এই সম্বন্ধে গীতাতে শ্রীভগবান বলেছেন
- ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূয়তে সচরাচরম্ ।
আমার সান্নিধ্য-বশত আমার দৈবী মায়া চরাচর জগতের
রচনা করে থাকে। তা না হলে জড় প্রকৃতি কী করে জগৎ সৃষ্টি করবেন? জড়ের সৃজন শক্তি
কোথায়?
কীভাবে মায়ার অনুমান করা হয়?
সন্নাপ্যসন্নাপ্যুভয়াত্মিকা নো
ভিন্নাপ্যভিন্নাপ্যুভয়াত্মিকা নো।
সাঙ্গাপ্যনঙ্গা হ্যুভয়াত্মিকা নো
মহাদ্ভূতা৳নির্বচনীয়রূপা।। ১০৯
শব্দার্থ - সৎ ন = সৎ
- স্ত্য নয়, অসৎ অপি ন = অসৎ - মিথ্যা নয়, উভয়াত্মিকা অপি নো = সৎ ও অসতের মিশ্রণ নয়।
ভিন্না অপি ন = আত্মা থেকে ভিন্নও নয়, অভিন্না
অপি ন = আত্মার সঙ্গে অভিন্নও নয়, অপি উভয়াত্মিকা নো = আত্মা থেকে ভিন্ন ও অভিন্ন এই
উভয়-রূপা নয়, স-অঙ্গা অপি ন = অঙ্গে সহিত বর্তমান
নয়, অনঙ্গা অপি ন = অঙ্গ-রহিত নয়, হি উভয়াত্মিকা নো = অঙ্গের সহিত বর্তমান , আবার অঙ্গ
রহিত - তাও নয়, মহা- অদ্ভূতা = অতি আশ্চর্য-রূপ,
অনির্বচনীয়রূপা = বাক্যের দ্বারা অবর্ণনীয়।
সরলার্থ – এই মায়া সৎ নয়, অসৎ
নয় এবং সত-অসৎ উভয়-রূপও নয়। মায়া ভিন্ন নয়, অভিন্নও নয় এবং ভিন্ন-অভিন্ন উভয়-রূপও নয়,
মায়া অঙ্গ-সহিত নয় আবার অঙ্গ-রহিত নয় এবং উভয়াত্মিকাও নয়। কিন্তু মায়া অত্যন্ত অদ্ভূত ও অনির্বচনীয় বলে প্রসিদ্ধ অর্থাৎ
বাক্য দ্বারা প্রকাশ করা যায় না।
[মায়া যদিও অনাদি, কিন্তু এর অন্ত আছে, অনন্ত নয়]
মায়া-অতিক্রমের উপায়
শুদ্ধাদ্বয়ব্রহ্মবিবোধনাশ্যা
সর্পভ্রমো রজ্জুবিবেকতো যথা।
রজস্তমঃসত্ত্বমিতি প্রসিদ্ধা
গুণাস্তদীয়াঃ প্রথিতৈঃ স্বকার্যৈঃ।।১১০
শব্দার্থ – শুদ্ধ-অদ্বয়-ব্রহ্মবিরোধ-ন্যাশ্যা
= শুদ্ধ অদ্বয় ব্রহ্মের স্বরূপ-জ্ঞানের দ্বারা নাশ হয়, যথা = যেমন, রজ্জু-বিবেকতঃ
= রজ্জুকে রজ্জু বলে জানার ফলে, স্বর্পভ্রমঃ = সর্পভ্রম নষ্ট হয়। স্বকার্যৈঃ = নিজ
নিজ কাজের স্বারা, প্রথিতৈঃ = প্রসিদ্ধ, রজঃ-তমঃ-সত্ত্বম্ ইতি প্রসিদ্ধাঃ = রজঃ তম
ও সত্ত্ব নামে পরিচিত, তদীয়াঃ = সেই মায়ার,
গুণাঃ = গুণসমূহ।
সরলার্থ – রজ্জুর জ্ঞান হলে যেমন
সর্প-ভ্রম থাকে না, তেমন শুদ্ধ অদ্বয় জ্ঞানের দ্বারাই মায়া নষ্ট হতে পারে। নিজ নিজ
প্রসিদ্ধ কার্যের দ্বারা সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ মায়ার তিন গুণ সকলেই জানেন।
রজোগুণ
বিক্ষেপশক্তী রজসঃ ত্রিয়াত্মিকা
যতঃ প্রবৃত্তিঃ প্রসৃতা পুরাণী।
রাগাদয়ো৳স্যাঃ প্রভবন্তি নিত্যং
দুঃখাদয়ো যে মনসো বিকারাঃ।।১১১
শব্দার্থ- রজসঃ = রজগুণ থেকে, ক্রিয়াত্মিকা = ক্রিয়াত্মিকা, বিক্ষেপশক্তিঃ
= বিক্ষেপশক্তি, যতঃ = যে বিক্ষেপশক্তি থেকে, পুরাণী = চিরপ্রবৃত্ত, প্রবৃত্তিঃ= বিষয়প্রবৃত্তি,
প্রসৃতা = বিস্তার লাভ করছে, রাগ-আদয়ঃ =বিষয়াসক্তি প্রভৃতি, দুঃখাদয়ঃ =দুঃখসুখ প্রভৃতি,
যে = যে সব,মনসঃ = মনের, বিকারাঃ = বিকার সকল, নিত্যম্ = চিরকাল, অস্যাঃ = এই বিক্ষেপশক্তি
থেকে, প্রভবন্তি = উৎপন্ন হয়।
সরলার্থ = যে ক্রিয়াত্মিকা বিক্ষেপ-শক্তি থেকে অনন্তকাল ধরে বিষয়
প্রবৃত্তি প্রবাহ আকারে চলেছে, সেই বিক্ষেপ শক্তি রজোগুণ থেকে উৎপন্ন। জীবের বিষয়াসক্তি
প্রভৃতি এবং সুখ-দুঃখাদি যে সব মনের বিকার, সে সব চিরকাল অবিচ্ছেদে এই বিক্ষেপ শক্তি
থেকে নির্গত হচ্ছে।
কামঃ ক্রোধো লোভদম্ভাদ্যসুয়া-
৳হঙ্কারের্ষ্যামৎসরাদ্যাস্তু ঘোরাঃ।
ধর্মা এতে রাজসাঃ পুংপ্রবৃত্তি-
র্যস্মাদেষা তদ্রজো বন্ধহেতুঃ ।।১১২
শব্দার্থ =কামঃ ক্রোধঃ
লোভ-দম্ভাদি-অসূয়া-অহংকার-ঈর্ষ্যা-মৎসরদ্যাঃ তু এতে = কাম, ক্রোধ, লোভ, দম্ভাদি, অসূয়া,
অহংকার, ঈর্ষ্যা, মাৎসর্য প্রভৃতি, ঘোরাঃ = দুঃখদায়ক ও জীবের সংসারভ্রমণের কারণরূপ,
ধর্মাঃ = বৃত্তিসমূহ, রাজসাঃ = রজোগুণের। যস্মাৎ =যে রজোগুণ থেকে, এষা= কাম ক্রোধাদি,
পুংপ্রবৃত্তিঃ = পুরুষের প্রবৃত্তিসমূহ উৎপন্ন হয়, তৎ =সেই, রজঃ = রজোগুণ, বন্ধহেতুঃ
=বন্দনের কারণ।
সরলার্থ – কাম,ক্রোধ, লোভ, দম্ভ
(অহংকার, দর্প), অসূয়া অর্থাৎ গুণে দোষ দৃষ্টি বা পরশ্রীকাতরতা, অভিমান, ঈর্ষা(দ্বেষ,হিংসা)
এবং মাৎসর্য – এ সব ঘোর রজোগুণের ধর্ম। যা থেকে জীব
কর্মে প্রবৃত্ত হয়ে থাকে। এই রজোগুণই জীবের বা মানুষের বন্ধনের কারণ।
তমোগুণ
এষা৳বৃতির্নাম তমোগুণস্য।
শক্তির্যয়া বস্ত্ববভাসতে৳ন্যথা
সৈষা নিদানং পুরুষস্য সংসৃতে-
র্বিক্ষেপশক্তেঃ প্রবশস্য* হেতুঃ।।১১৩
*প্রসরস্য বা
শব্দার্থ – যয়া = যার দ্বারা,
বস্তু = বস্তু, অন্যথা = যেমন নয় তেমন, অবভাসতে = প্রকাশ পায়, এষা- তা, তমোগুণস্য=তমোগুণের,
আবৃত্তিঃ নাম শক্তিঃ = আবরণ শক্তি, সা এষা = সেই আবরণ শক্তি, পুরুষস্য সংসৃতে নিদানং
= পুরুষের সংসৃতির নিদান, বিক্ষেপশক্তেঃ =বিক্ষেপশক্তির, প্রবণস্য হেতুঃ =প্রবৃত্তির
হেতু।
সরলার্থ – যার দ্বারা কোন বস্তুর
যথার্থ স্বরূপের জ্ঞান না হয়ে অন্য প্রকারে প্রতীতি হয় তা হল তমোগুণের আবরণশক্তি, তা-ই
জীবের জন্ম – মরণরূপ সংসারের আদিকারণ এবং বিক্ষেপশক্তির
প্রসারের হেতু বা চাঞ্চল্যের বিস্তারের হেতু।
[অজ্ঞানের দুটি কাজ। আবরণ ও বিক্ষেপ। একটি হল স্বরূপের আচ্ছাদন
করা এবং সংসার সৃষ্টি করা। দ্বিতীয়টি হল রজোগুণের দ্বারা উৎপন্ন কামক্রোধাদি ঘোর কার্যে
জীবকে প্রবৃত্ত করে চঞ্চল করা।]
প্রজ্ঞাবানপি পণ্ডিতো৳পি চতুরো৳প্যত্যন্তসূক্ষ্মাত্মদৃগ্-
ব্যালীঢ়স্তমসা ন বেত্তি বহুধা সংবোধিতো৳পি স্ফুটম্।
ভ্রাত্যারোপিতমেব সাধু কলয়ত্যালম্বতে তদ্গুণান্
হন্তাসৌ প্রবলা দুরন্ততমসঃ শক্তির্মহত্যাবৃতিঃ।।১১৪
শব্দার্থ= প্রজ্ঞাবান্ অপি =প্রজ্ঞাবান বা মেধাবী হলেও, পণ্ডিতঃ
অপি =শাস্ত্রজ্ঞ হলেও, চতুরঃ অপি = চতুর, লৌকিক ব্যবহারে অভিজ্ঞ হলেও, অত্যন্তসূক্ষ্মাত্মদৃক্=
শাস্ত্রসহায়ে অতিন্দ্রীয় সূক্ষ্ম দেহাদির বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন, বহুধা সংবোধিতঃ অপি
= নানা যুক্তির দ্বারা জ্ঞাপিত হলেও, তমসা ব্যালীঢ়ঃ = তমোগুণের আবরণ শক্তি দ্বারা অভিভূত
হয়ে, স্ফূটং ন বেত্তি = নিঃসন্দিগ্ধরূপে জানতে পারে না।
সরলার্থ = যে ব্যক্তি মেধাবী, শাস্ত্রজ্ঞ, চতুর, সূক্ষ্মদেহাদির
তত্ত্বজ্ঞ, তেমন ব্যক্তি নানা যুক্তি সহায়ে উপদিষ্ট হলেও তমোগুণের আবরণশক্তির দ্বারা
অভিভূত থাকার জন্য আত্মতত্ত্ব নিঃসন্দিগ্ধরূপে জানতে পারে না। ভ্রান্তিবশতঃ মিথ্যা
বা তুচ্ছ পদার্থে গুণের আরোপ করে সেগুলিকে সুখপ্রদ মনে করে। হায়, দুরন্ত তমোগুণের আবৃতিশক্তি
বড়ই প্রবল।
[আবরণ শক্তির দুটি কাজ। প্রথম – পরে আর
সংশয় আসে না, এবং অন্য জ্ঞানের দ্বারা নষ্ট হয় না। আত্মার স্বরূপ জ্ঞানের প্রতিবন্ধক
হয়। দ্বিতীয় - বিপরীত জ্ঞান উৎপন্ন করে।]
আবরণ শক্তির বশীভূত পুরুষের শান্তি নেই
অভাবনা বা বিপরীতভাবনা৳-
সংভাবনা বিপ্রতিপত্তিরস্যাঃ
সংসর্গযুক্তং ন বিমুঞ্চতি ধ্রুবং
বিক্ষেপশক্তিঃ ক্ষ্যপয়ত্যজস্রম্ ।।১১৫
শব্দার্থ – অস্যাঃ =এই আবরণশক্তির,
সংসর্গযুক্তং = সম্বন্ধযুক্ত, পুরুষং = পুরুষকে, অভাবনা =বিচারের অভাব, ন বিমুঞ্চতি
= ত্যাগ করে না। বিপরীত-ভাবনা বা = বিপরীত ভাবনাও, অসংভাবনা =সংশয়, বিপ্রতিপত্তিঃ
=অনুভবের অভাব। বিক্ষেপশক্তিঃ = বিক্ষেপশক্তি, ধ্রুবম্ =অবশ্যই, অজস্রং = নিরন্তর,
ক্ষপয়তি =বিভ্রান্ত করে।
সরলার্থ = এই আবরণ শক্তি পুরুষকে অভাবনা, বিপরীত ভাবনা, অসম্ভাবনা
ও বিপ্রতিপত্তি – এই সব তমোগুণের শক্তি
রেহাই দেয় না। এবং বিক্ষেপশক্তি তাকে নিরন্তর সংশয়ে দোদুল্যমান রাখে।
[ব্রহ্ম বা পরমাত্মা বলে কিছু নেই’ – এই জ্ঞানকে
অভাবনা বলে। ‘শরীরই আমি’ – এই জ্ঞান
হল বিপরীরভাবনা। কোন বস্তুর ‘অস্তিত্বে সন্দেহ’ হল অসম্ভাবনা।
এবং আছে কি নেই এই রকম সংশয়কে বলে বিপ্রতিপত্তি। প্রপঞ্চের ব্যবহার বা সাংসারিক ব্যবহার
– এই হল মায়ার বিক্ষেপশক্তি। সত্যবস্তুকে আবৃত
করে মিথ্যাবস্তুকে নিয়ে যে ব্যবহার তা হল মায়ার বিক্ষেপশক্তি।]
তমোগুণের স্বভাব
অজ্ঞানমালস্য-জড়ত্ব-নিদ্রা-
প্রমাদমূঢ়ত্বমুখাস্তমোগুণাঃ।
এতৈঃ প্রযুক্তো ন হি বেত্তি কিঞ্চিন্-
নিদ্রালুবৎ স্তম্ভবদেব তিষ্ঠতি।। ১১৬
শব্দার্থ – অজ্ঞানম্ =অজ্ঞান,
আলস্য-জড়ত্ব-নিদ্রা-প্রমাদ-মূঢ়ত্বমুখাঃ = আলস্য, জড়ত্ব, নিদ্রা, প্রমাদ, মূঢ়ত্ব প্রভৃতি,
তমোগুণাঃ – তমোগুণের কাজ। এতৈঃ = এই সবের দ্বারা,
প্রযুক্তঃ =সংসৃষ্ট, কিঞ্চিৎ হি = কিছুমাত্রও, ন বেত্তি = জানে না, নিদ্রালুবৎ - কিন্তু
নিদ্রিত ব্যাক্তির ন্যায়, স্তম্ভবৎ এব= কাঠের থামের মত জড়বৎ, তিষ্ঠতি = অবস্থান করে।
সরলার্থ -অজ্ঞান, আলস্য, জড়তা, নিদ্রা, প্রমাদ(অনবধানতা,ভ্রান্তি),
মূঢ়তাদি তমোগুণ। এর দ্বারা যুক্ত বা এর দ্বারা অধিকৃত পুরুষ কিছু বুঝতে পারে না, সে
নিদ্রালুর মত বা স্তম্ভের মত জড়বৎ অবস্থান করে।
[সত্ত্বগুণের আশ্রয় নিয়ে রজোগুণ, তমোগুণ উভয়কে পরিত্যাগ করা উচিত।]
সত্ত্বগুণের ধর্ম
সত্ত্বং বিশুদ্ধং জলবৎ তথাপি
তাভ্যাং মিলিত্বা সরণায় কল্পতে।
যত্রাত্মবিম্বঃ প্রতিবিম্বিতঃ সন্
প্রকাশয়ত্যর্ক ইবাখিলং জড়ম্।। ১১৭
শব্দার্থ -সত্ত্বং – সত্ত্বগুণ,
বিশুদ্ধং জলবৎ = বিশুদ্ধ জলের মত স্বচ্ছ। তথ অপি = তা হলেও, তাভ্যাং মিলিত্বা = রজঃ
ও তমগুণের সঙ্গে মিলিত হয়ে, সরণায় =জন্মমৃত্যুর কারণ থেকে, কল্পতে – সমর্থ হয়।
যত্র – যে সত্ত্বগুণে, আত্মবিম্বঃ = শুদ্ধচৈতন্য-স্বরূপ
আত্মা, প্রতিবিম্বিতঃ সন্ =প্রতিফলিত হয়ে, অর্কঃ ইব = সূর্যের মত, অখিলং – সমগ্র,
জড়ং = জড়বস্তু, প্রকাশয়তি =প্রকাশ করে।
সরলার্থ -সত্ত্বগুণ জলের মত শুদ্ধ। তবুও রজ ও তমো গুণের সঙ্গে
মিলিত হলে জীবের সংসার বন্ধনের কারণ হয়ে থাকে। এতে আত্মবিম্ব প্রতিবিম্বিত হয়ে সূর্যের
মতো সমস্ত জড় পদার্থকে প্রকাশিত করে।
[শ্রীমদ্ ভগবদ্গীতাতে ভগবান বলছেন সত্ত্বাৎ সংজয়তে জ্ঞানম্]
মিশ্রস্য সত্ত্বস্য ভবন্তি ধর্মা-
স্ত্বমানিতাদ্যা নিয়মা যমাদ্যাঃ।
শ্রদ্ধা চ ভক্তিশ্চ মুমুক্ষুতা চ
দৈবী চ সম্পত্তিরসন্নিবৃত্তিঃ।।১১৮
সরলার্থ – অমানিত্বাদি, যমনিয়মাদি
শ্রদ্ধা ভক্তি, মুমুক্ষুতা , দৈবীসম্পত্তি এবং অসতের ত্যাগ – এই গুলি
মিশ্র সত্ত্বগুণের ধর্ম।
শুদ্ধ সত্ত্বগুণের ধর্ম
বিশুদ্ধসত্ত্বস্য গুণাঃ প্রসাদঃ
স্বাত্মানুভূতিঃ পরমা প্রশান্তিঃ
তৃপ্তিঃ প্রহর্ষঃ পরমাত্মনিষ্ঠা
যয়া সদানন্দরসং সমৃচ্ছতি।।১১৯
শব্দার্থ = বিশুদ্ধসত্ত্বস্য =বিশুদ্ধ সত্ত্বগুণের, গুণাঃ – গুণসমূহ,
প্রসাদঃ -চিত্তের প্রসন্নতা , স্ব-আত্মা-অনুভূতিঃ =স্ব-স্বরূপের অনুভব, পরমা প্রশান্তিঃ
= অত্যন্ত সন্তোষ, তৃপ্তিঃ -তৃপ্তি, প্রহর্ষঃ = উত্তম আহ্বাদ, এবং পরমাত্মনিষ্ঠা =
সর্বদা পরমাত্মার সঙ্গে ঐক্য অনুভূতি। যয়া – যে পরমাত্মনিষ্ঠার
ফলে, সদানন্দরসং =পরমানন্দ রস, সম্ম্রিছতি =প্রাপ্ত হয় – অনুভব করে।
সরলার্থ – প্রসন্নতা, আত্মানুভব,
পরমশান্তি, তৃপ্তি, আত্যন্তিক আনন্দ এবং পরমাত্মাতে স্থিতিলাভ – এই সব বিশুদ্ধ
সত্ত্বগুণের ধর্ম, যার দ্বারা মুমুক্ষু বা যারা মুক্তির ইচ্ছা করেন , এমন ব্যক্তি নিত্যনন্দরস
প্রাপ্ত হন।
কারণ শরীর
অব্যক্তমেতৎ ত্রিগুণৈর্নিরুক্তং
তৎ কারণং নাম শরীরমাত্মনঃ।
সুষুপ্তিরেতস্য বিভক্ত্যবস্থা
প্রলীনসর্বেন্দ্রিয়বুদ্ধিবৃত্তিঃ।।১২০
শব্দার্থ – ত্রিগুণৈঃ
– তিন গুণের দ্বারা, নিরুক্তং – বর্ণিত
হয়েছে, এতৎ অব্যক্তম্ -এই অব্যক্ত, তৎ - সেই, আত্মনঃ – চিদাভাস
আত্মার,কারণং নাম শরীরম্ - কারণ নামক শরীর। এতস্য -এই আত্মার, প্রলীন-সর্বেন্দ্রিয়-বুদ্ধিবৃত্তিঃ
– সকল ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির বৃত্তি যাতে লয় হয়।
বিভক্ত্যবস্থা – জাগ্রৎ ও স্বপ্ন থেকে পৃথক, সুষুপ্তিঃ
– সুষুপ্তি।
সরলার্থ – এই প্রকারে
তিন গুণের নিরুপণ দ্বারা অব্যক্ত বা প্রকৃতির বর্ণন করা হল। এটি হল আত্মার বা জীবের
কারণ শরীর। এর অভিব্যক্তি হয় সুষুপ্তিতে। যাতে বুদ্ধির বৃত্তি সকল লীন হয়ে যায়।
সুষুপ্তির স্বরূপ
সর্বপ্রকারপ্রমিতিপ্রশান্তি-
র্বীজাত্মনাবস্থিতিরেব
বুদ্ধেঃ।
সুষুপ্তিরেতস্য কিল
প্রতীতিঃ
কিংচিন্ন বেদ্মীতি জগৎপ্রসিদ্ধেঃ।।
১২১
শব্দার্থ – সর্ব-প্রকার-প্রমিতি-প্রশান্তিঃ
– সকল বিষয় জ্ঞানের নিবৃত্তি, বুদ্ধে – বুদ্ধির,
বীজাত্মনা – অবিদ্যারূপে, এব অবস্থিতিঃ – অবস্থান,
সুষুপ্তিঃ – সুষুপ্তির স্বরূপ, কিংচিৎ ন বেদ্মি – কিছু মাত্র
জানি না, ইতি জগৎপ্রসিদ্ধেঃ – এই জ্ঞান জগৎ প্রসিদ্ধ।
এতস্য – বীজভূত অজ্ঞানের , প্রতীতিঃ -প্রতীতি,
কিল – সম্ভব হয়।
সরলার্থ – যখন সকল
প্রকার প্রমা বা জ্ঞান শান্ত হয়ে যায়, এবং বুদ্ধি বীজরূপে স্থির থাকে তখনই সুষুপ্তি
অবস্থা। এই অবস্থায় আমি কিছু জানি নয়া – এই প্রকার
প্রতীতি জগৎ প্রসিদ্ধ।
[সার কথা হল, সুষুপ্তিতে
অর্থাৎ গভীর নিদ্রায় বাহ্যজ্ঞান থাকে না। আমি কিছু জানি না – এটা তো
একপ্রকার জানা। এই অজ্ঞানের জ্ঞানকে কে গ্রহণ করে? অজ্ঞানকে বীজাত্মারূপ-বুদ্ধিবৃত্তি
সুষুপ্তিতে গ্রহণ করে। যদি তা না হত, তা হলে নিদ্রা থেকে জেগে ওঠার পর নিজের অনুভব
বলতে পারত না।]
অনাত্ম-নিরূপণ /দেহ-ইন্দ্রিয় আত্মা নয়
দেহেন্দ্রিয়প্রাণমনো৳হমাদয়ঃ
সর্বে বিকারা বিষয়াঃ
দুখাদয়ঃ।।
ব্যোমাদিভূতান্যখিলং
চ বিশ্ব-
মব্যক্তপর্যন্তমিদং
হ্যনাত্মা ।।১২২
শব্দার্থ – দেহ-ইন্দ্রিয়-প্রাণ-মনঃ-অহম্
-আদয়ঃ =দেহ ইন্দ্রিয় প্রাণ মন অহংকার প্রভৃতি, সর্বে বিকারাঃ = সকল প্রকার দেহ চেষ্টা,
বিষয়াঃ – শব্দস্পর্শাদি বিষয়,
সুখাদয়ঃ – সুখ দুঃখাদি, ব্যোম-আদি-ভূতানি
= আকাশ প্রভৃতি পঞ্চমহাভূত, চ=এবং, অখিলং বিশ্বম্ = সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, অব্যক্তপর্যন্তম্
= অব্যক্ত নামে মায়া পর্যন্ত, ইদং = এই, ইন্দ্রিয় ও মনের গোচর সব কিছু, হি = অবশ্যই,
অনাত্মা = আত্মা নয়।
সরলার্থ – দেহ, ইন্দ্রিয়,
প্রাণ, মন ও অহংকারাদি সমস্ত বিকার, সুখাদি বিষয়,
আকাশ প্রভৃতি ভূত সকল, অব্যক্ত বা প্রকৃতি পর্যন্ত নিখিল বিশ্ব – সবই অনাত্মা।
মায়া মায়াকার্যং সর্বং
মহদাদিদেহপর্যন্তম্।
অসদিদমনাত্মতত্ত্বং
বিদ্ধি ত্বং মরুমরীচিকাকল্পম্।।১২৩
শব্দার্থ – মায়া – মায়া, মহৎ-আদি-দেহ-পর্যন্তং
– মহৎ-তত্ত্ব থেকে দেহ পর্যন্ত, মায়াকার্যং – মায়ার সৃষ্টি,
সর্বং – সব কিছু, অসৎ - মিথ্যা। ইদং – এই, অনাত্ম-তত্ত্বং
– আত্মা থেকে ভিন্ন বস্তু সকল, ত্বং- তুমি, মরু-মরীচিকাকল্পং
– মরুভূমিতে মরীচিকার মতো, বিদ্ধি – জানবে।
সরলার্থ – মায়া ও
মায়ার কার্য মহতত্ত্ব থেকে দেহ পর্যন্ত সকলকে তুমি মরুমরীচিকার সমান অসৎ এবং অনাত্মা
বলে জানবে।
[ব্রহ্ম অতিরিক্ত যা
কিছু সবই অনাত্মা]
আত্ম নিরূপণ
অথ তে সংপ্রবক্ষ্যামি
স্বরূপং পরমাত্মনঃ।
যদ্বিজ্ঞায় নরো বন্ধান্মুক্তঃ
কৈবল্যমশ্নুতে।।১২৪
শব্দার্থ- অথ – এরপর, তে
– তোমাকে, পরমাত্মনঃ স্বরূপং – পরমাত্মার
স্বরূপ, সংপ্রবক্ষ্যামি – বিশেষরূপে বলব। নরঃ
– অধিকারী ব্যক্তি, যৎ বিজ্ঞায় – যা জেনে,
বন্ধাৎ মুক্তঃ – বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে, কৈবল্যম্ - কৈবল্য,
অশ্নুতে- লাভ করে।
সরলার্থ – এখন আমি তোমাকে পরমাত্মার
স্বরূপ বলছি, যা জানলে মানুষ বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে কৈবল্য প্রাপ্ত হয়।
অস্তি কশ্চিৎ স্বয়ং
নিত্যমহংপ্রত্যয়লম্বনঃ।
অবস্থাত্রয়সাক্ষী সন্
পঞ্চকোশবিলক্ষণঃ।।১২৫
শব্দার্থ – পঞ্চকোশ-বিলক্ষণ
– পঞ্চকোশ থেকে পৃথক, অবস্থাত্রয়-সাক্ষী সন্
- তিন অবস্থার সাক্ষী হয়ে, নিত্যং -সর্বদা, অহং-প্রত্যয়-লম্বনঃ – অহং প্রত্যয়ের
আশ্রয়, কশ্চিৎ - কেউ একজন, যার নাম ও রূপ জানা নেই, স্বয়ম্ অস্তি – আত্মা আছেন।
সরলার্থ -পঞ্চকোশ থেকে
পৃথক, জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্তি এই তিন অবস্থার দ্রষ্টা, মরণ পর্যন্ত জীবের যে ‘আমি আমি’ জ্ঞান হয়
সেই জ্ঞানের সাক্ষী জড়পদার্থসমূহ থেকে ভিন্ন, চেতন পরমাত্মা আছেন।
যো বিজানাতি সকলং জাগ্রৎস্বপ্নসুষুপ্তিষু।
বুদ্ধিতদ্বৃত্তিসদ্
ভাবমভাবমহমিত্যয়ম্।।১২৬
শব্দার্থ – যঃ- যিনি,
জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্তিষু – জাগ্রৎ স্বপ্ন ও সুষুপ্তি
কালে, সকলং বুদ্ধি-তদ্বৃত্তি-সদ্ ভাবম্ অভাবম্ - বুদ্ধির এবং বুদ্ধিবৃত্তির বর্তমানতা
ও অভাব, অহম্ ইতি – আমি এই, বিজানাতি – জানেন,
সঃ – সেই, অয়ম্ - এই আত্মা।
সরলার্থ – যিনি জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্তি
এই তিন অবস্থাতেই বুদ্ধিকে এবং বুদ্ধির বৃত্তিসমূহের বর্তমানতা ও অভাবকে জানেন এবং
অহং জ্ঞানের সাক্ষিরূপে থাকেন।
যঃ পশ্যতি স্বয়ং সর্বং
যন্ন পশ্যতি কশ্চন।
যশ্চেতেয়তি বুদ্ধ্যাদি
ন তদ্ যং চেতয়ত্যয়ম্।। ১২৭
শব্দার্থ -যঃ – যিনি, স্বয়ং
– নিজে, সর্বং – সব কিছু,
পশ্যতি – দেখেন, কঃ চন – কেউই যং
– যাক্ ন পশ্যতি – দেখে না,
যঃ – যিনি, বুদ্ধ্যাদি – বুদ্ধি
প্রভৃতিকে, চেতয়তি – চেতনা দান করেন। যম্
- যাকে, তৎ - বুদ্ধি, ন চেতয়তি – প্রকাশ করে না, অয়ম্
- এই সেই আত্মা।
সরলার্থ – যে স্বয়ং
সকলকে দেখছে, কিন্তু যাকে কেউ দেখতে পায় না। যে বুদ্ধি ইত্যাদিকে প্রকাশ করে, কিন্তু
যাকে বুদ্ধি ইত্যাদি প্রকাশ করতে পারে না।
[এ কথাই কেনোপনিষদে
বলা হয়েছে – যচ্চক্ষুষা ন পশ্যতি যেন চক্ষূংষি পশ্যতি।
তদেব ব্রহ্ম ত্বং বিদ্ধি”। চোখের দ্বারা যাকে
কেউ দেখে না, যার সহায়ে লোকে দৃশ্যকে দেখে, তাকে তুমি ব্রহ্ম বলে জানবে।]
বিশ্বব্যাপী আত্মা
যেন বিশ্বমিদং ব্যাপ্তং
যন্ন ব্যাপ্নোতি কিংচন।
আভারূপমিদং সর্বং যং
ভান্তমনুভাত্যয়ম্।। ১২৮
শব্দার্থ –শব্দার্থ – ইদং বিশ্বং – এই বিশ্ব, যেন ব্যাপ্তং – যার দ্বারা পরিব্যাপ্ত, যৎ -যাকে,
কিঞ্চন -কোন পদার্থই, ন বাপ্নোতি – ব্যাপ্ত ক্করতে পারে না। ইদং সর্বং – এই সব স্থূল ও সূক্ষ্ম জগৎ, আভারূপং – প্রতিবিম্বস্বরূপ, যং ভান্তং – যিনি স্বয়ং প্রকাশমান বলে, অনুভাতি – এই বিশ্ব প্রকাশ পায়, অয়ম্ - এই আত্মা ।
সরলার্থ – যিনি সম্পূর্ণ বিশ্বকে ব্যাপ্ত
করে আছেন। কিন্তু যাকে কেউ ব্যাপ্ত করতে পারেন না এবং যার প্রকাশে সমগ্র বিশ্ব প্রকাশিত
হচ্ছে।
[কঠোপনিষদ বলছেন – তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং তস্য ভাসা
সর্বমিদং বিভাতি”। ২.২.১৫ – যিনি প্রকাশমান বলেই সমস্ত বস্তু প্রকাশিত হয়। তাঁর দীপ্তিতেই এই সমস্ত নানারূপে
প্রকাশিত হয়]
আত্মা সম্বন্ধে
যস্য সন্নিধিমাত্রেণ
দেহেন্দ্রিয়মনোধিয়ঃ।
বিষয়েষু স্বকীয়েষু বর্তন্তে
প্রেরিতা ইব।।১২৯
শব্দার্থ – যস্য – যাঁর, সন্নিধিমাত্রেণ – উপস্থিতি মাত্র থেকে, দেহেন্দ্রিয়মনোধিয়ঃ
– দেহ, ইন্দ্রিয় , মন ও বুদ্ধি, স্বকীয়েষু
বিষয়েষু – নিজ নিজ বিষয়ে, প্রেরিতাঃ ইব – ভৃত্যের ন্যায় প্রেরিত হয়ে, বর্তন্তে
– চেষ্টা করতে থাকে।
সরলার্থ – যাঁর সান্নিধ্যমাত্র দ্বারা অর্থাৎ
যাঁর উপস্থিতিতে দেহ ইন্দ্রিয় মন ও বুদ্ধি নিজ নিজ বিষয়ে বর্তমান থাকে। তিনিই আত্মা।
অহংকারাদিদেহান্তা বিষয়াশ্চ
সুখাদয়ঃ।
বেদ্যন্তে ঘটবদ্ যেন
নিত্যবোধস্বরূপিণা।।১৩০
শব্দার্থ – অহংকারাদি-দেহান্তাঃ – অহংকার, মন , প্রাণ, ইন্দ্রিয় ও
দেহ , বিষয়াঃ – বিষয়সমূহ, চ-এবং, সুখদয়ঃ – সুখ-দুঃখ প্রভৃতি, নিত্যবোধস্বরূপিনা যেন – নিত্যবোধস্বরূপ যে আত্মার দ্বারা,ঘটবৎ - ঘটাদির ন্যায়, বেদ্যন্তে
– জ্ঞাত হয়।
সরলার্থ – অহংকার থেকে দেহপর্যন্ত এবং সুখাদি সমস্ত বিষয়, যে নিত্যজ্ঞান-স্বরূপের দ্বারা
ঘটজ্ঞানের ন্যায় প্রতীত হয়, তাঁকেই তুমি আত্মা বলে জানবে।
এষো৳ন্ত্রাত্মা পুরুষঃ
পুরাণো
নিরন্তরাখণ্ডসুখানুভূতিঃ।
সদৈকরূপঃ প্রতিবোধ্মাত্রো
যেনেষিতা বাগসবশ্চরন্তি।।১৩১
শব্দার্থ – এষঃ অন্তরাত্মা – এই অন্তরাত্মা, পুরাণঃ পুরুষঃ – সনাতন পুরুষ্ নিরন্তর-অখণ্ড-সুখানুভূতিঃ
-নিত্য -অখণ্ড – সুখানুভবস্বরূপ, যেন ইষিতাঃ – যার দ্বারা প্রেয়িত হয়ে বা যার ইচ্ছায়, বাক্-অসবঃ – বাক্ প্রভৃতি ইন্দ্রিয় ও প্রাণ,
চরন্তি – নিজ নিজ বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়।
সরলার্থ – এই হল নিত্য অখন্ড-আনন্দ-অনুভব-রূপ
অন্তরাত্মা পুরাণপুরুষ, যা সদা একরূপ এবং বোধমাত্র এবং যাঁর প্রেরণায় বাগাদি ইন্দ্রিয়
ও প্রাণ চালিত হয়, তাঁকেই তুমি আত্মা বলে জানবে।
অত্রৈব সত্ত্বাত্মনি
ধীগুহায়া
মব্যাকৃতাকাশ উশৎপ্রকাশঃ।
আকাশ উচ্চৈ রবিবৎ প্রকাশতে
স্বতোজসা বিশ্বমিদং
প্রকাশয়ন্।। ১৩২
শব্দার্থ – অতএব – এই দেহে, সত্ত্ব-আত্মনি – সত্ত্ব গুণ প্রধান অন্তঃকরণে, ধী-গুহায়াম্
- বুদ্ধিরূপ গুহায়, অব্যাকৃত-আকাশে – মায়া নামের কারণ শরীরে, উশৎপ্রকাশঃ – কমনীয় তেজোযুক্ত, আকাশঃ – আত্মা, স্বতেজসা – নিজের তেজ দ্বারা,ইদং বিশ্বং – এই বিশ্বকে, প্রকাশয়ন্ - প্রকাশ করে, উচ্চৈঃ – উচ্চে অবস্থিত, রবিবৎ প্রকাশতে
– সূর্যের ন্যায় প্রকাশিত হন।
সরলার্থ – এই সর্বাত্মা অর্থাৎ বুদ্ধিরূপ
গুহাতে অবস্থিত অব্যক্ত আকাশের মধ্যে এক পরম প্রকাশময় আকাশ সূর্য্যের মতো নিজ তেজের
দ্বারা এই সম্পূর্ণ জগৎকে দেদীপ্যমান করে অত্যন্ত
তীব্রভাবে প্রকাশমান হছে।
আত্মা কিরূপ?
জ্ঞাতা মনো৳হংকৃতিবিক্রিয়াণাং
দেহেন্দ্রিয়প্রাণকৃতক্রিয়াণাম্।
অয়ো৳গ্নিবৎতাননুবর্তমানো
ন চেষ্টতে নো বিকরোতি
কিংচন।। ১৩৩
শব্দার্থ – মনঃ-অহংকৃতি-বিক্রিয়াণাং - মন ও অহংকারের বিকারসমূহের, দেহ-ইন্দ্রিয়-প্রাণ-কৃত-ক্রিয়াণাম্
- দেহ, ইন্দ্রিয়, ও প্রাণের দ্বারা কৃত কর্মের, জ্ঞাতা – জ্ঞাতা, অগ্নিবৎ অয়ঃ – লৌহপিণ্ডে অগ্নির মত, তান্ - মন
-অহংকার-দেহ-ইন্দ্রিয়াদিকে, অনুবর্তমানঃ – অনুবর্তন করে, কিংচন ন চেষ্টতে – কোন চেষ্টা করেন না, ন বিকরোতি – বিকারী হন না।
সরলার্থ – আত্মা মন ও অহংকার রূপ বিকার সমূহকে
এবং দেহ ইন্দ্রিয় ও প্রাণাদির ক্রিয়াকে জানে কিন্তু স্বয়ং বিকারপ্রাপ্ত হয় না এবং ক্রিয়াদিও
করে না। যেমন উত্তপ্ত লৌহপিণ্ডের উত্তাপ বা অগ্নি তার সঙ্গে থেকেও কিছু করে না এবং কোন প্রকার বিকারও প্রাপ্ত হয় না।
আত্মা সর্ববিধ বিকার
বর্জিত
ন জায়তে নো ম্রিয়তে
ন বর্ধতে
ন ক্ষীয়তে নো বিকরোতি
নিত্যঃ।
বিলীয়মানে৳পি বপুষ্যমুষ্মিন্
ন লীয়তে কুম্ভ ইবাম্বর
স্বয়ম্।। ১৩৪
শব্দার্থ – নিত্যঃ -চিরবর্তমান, ন জায়তে – জন্মগ্রহণ করেন না, নো ম্রিয়তে
– মারা যান না, ন বর্ধতে – বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় না, ন ক্ষীয়তে
– ক্ষয় প্রাপ্ত হয় না, নো বিকরোতি
– বিকার প্রাপ্ত হয় না। অমুষ্মিন্
বপুষি – এই দেহ, বিলীয়মানে অপি – নাশ পেলেও, স্বয়ং – আত্মা নিজে, ন লীয়তে – নাশ প্রাপ্ত হয় না, কুম্ভে অম্বর
ইব – কুম্ভমধ্যস্থ আকাশের মতো।
সরলার্থ – এই আত্মা জন্মায় না, মরেও না, বৃদ্ধি
প্রাপ্তও হয় না, হ্রাসও হয় না আর কোন প্রকার বিকার হয় না। এই আত্মা নিত্য এবং শরীরের
নাশ হলেও তার নাশ হয় না, যেমন ঘটের নাশ হলেও ঘটাকাশের নাশ হয় না।
[ ব্রহ্ম যে ষড়্বিকার
রহিত এ কথাই এখানে বলা হচ্ছে]
শুদ্ধ আত্মার স্বরূপ
বর্ণনা
প্রকৃতিবিকৃতিভিন্নঃ
শুদ্ধবোধস্বভাবঃ
সদসদিদমশেষং ভাসয়ন্
নির্বিশেষঃ।
বিলসতি পরমাত্মা জাগ্রদাদিষ্ববস্থা-
স্বহমহমিতি সাক্ষাৎ
সাক্ষিরূপেণ বুদ্ধেঃ।।১৩৫
শব্দার্থ – প্রকৃতি-বিকৃতি-ভিন্নঃ – প্রকৃতি অর্থাৎ অব্যাকৃত এবং বিকৃতি
অর্থাৎ দেহ থেকে ব্রহ্মাণ্ড পর্যন্ত কার্য
থেকে ভিন্ন, শুদ্ধ-বোধস্বভাবঃ – শুদ্ধজ্ঞানস্বরূপ, নির্বিশেষঃ – নাম- জাতি-গুণ-ক্রিয়াশূন্য, পরমাত্মা – পরমাত্মা, ইদম্ - এই, অশেষং- নিখিল,
সৎ-অসৎ - কার্য ও কারণসমূহ, ভাসয়ন্ - প্রকাশ করে, বুদ্ধেঃ – বুদ্ধির, সাক্ষাৎ সাক্ষিরূপেণ – সাক্ষাৎ সাক্ষিরূপে, জাগ্রৎ-আদিষু অবস্থাষু – জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তিতে, অহম্
অহম্ ইতি – আমি আমি এই প্রকারে, বিলসতি – যেন লীলা করছেন।
সরলার্থ – প্রকৃতি এবং তার বিকার থেকে ভিন্ন,
শুদ্ধজ্ঞান স্বরূপ ঐ নির্বিশেষ পরমাত্মা সৎ-অসৎ সকলকে প্রকাশিত করেও জাগ্রৎ, স্বপ্ন
ও সুষুপ্তি অবস্থাকে অহংভাবে স্ফুরিত হয়ে বুদ্ধির
সাক্ষীরূপে সাক্ষাৎ বিদ্যমান আছেন।
আত্মসাক্ষাৎকারের
উপায় ও ফল
নিয়মিতমনসা ত্বং স্বমাত্মানমাত্মা-
ন্যয়মহমিতি সাক্ষাৎ
বিদ্ধি বুদ্ধিপ্রসাদাৎ।
জনিমরণতরংগাপারসংসারসিন্ধুং
প্রতর ভব কৃতার্থো ব্রহ্মরূপেণ
সংস্থঃ।।১৩৬
শব্দার্থ – ত্বম্ - তুমি, অমুং – এইসব লক্ষণ, স্বম্ আত্মানম্
- স্বীয় আত্মস্বরূপকে, নিয়মিতমনসা – বিষয়গ্রহণে বিরত মনের দ্বারা, বুদ্ধিপ্রসাদাৎ
- বুদ্ধি নির্মল হওয়ার ফলে, আত্মনি – নিজ দেহে, অয়ম্ অহম্ ইতি – এই শুদ্ধাত্মাই আমি, সাক্ষাৎ বিদ্ধি
– প্রত্যক্ষরূপে অনুভব কর। জনি-মরণ-তরঙ্গ-অপার-সংসারসিন্ধুং – জন্মমৃত্যু তরঙ্গ সংকুল অপার ভব
সাগর, প্রতর – উত্তীর্ণ হও, ব্রহ্মরূপেণ সংস্থঃ – ব্রহ্মরূপে স্থিত হয়ে, কৃতার্থ ভব – কৃতার্থ হও।
সরলার্থ – তুমি এই আত্মাকে সংযত চিত্ত হয়ে
নির্মল বুদ্ধির দ্বারা এই আমি - এই প্রকার
নিজ অন্তঃকরণে সাক্ষাৎ অনুভব কর এবং এভাবে জন্ম-মরণ তরঙ্গিত এই অপার সংসার সাগরকে পার
করে ব্রহ্মস্বরূপে স্থিত হয়ে কৃতার্থ হও।
বন্ধন কী
অত্রানাত্মন্যহমিভি
মতির্বন্ধ এষো৳স্য পুংসঃ
প্রাপ্তো৳জ্ঞানাজ্জননমরণক্লেশসংপাতহেতুঃ।
যেনৈবায়ং বপুরিদমসৎ
সত্যমিত্যাত্মবুদ্ধ্যা
পুষ্যত্যুক্ষত্যবতি
বিষয়ৈস্তন্তুভিঃ কোশকৃদ্বৎ।।১৩৭
শব্দার্থ – অত্র -এই, অনাত্মনি- দেহাদিতে,
অহম্ ইতি মতিঃ – আমি-জ্ঞান, বন্ধঃ – বন্দন। অজ্ঞানাৎ প্রাপ্তঃ -অজ্ঞান থেকে উদ্ভুত, এষঃ – এই বন্ধ, অস্য পুংসঃ – এই পুরুষের, জনন-মরণ-ক্লেশ-সংপাথেতুঃ
– জন্মমরণরূপ ক্লেশ প্রাপ্তির কারণ,
যেন এব – যে অজ্ঞানের দ্বারা, অয়ম্ -এই
পুরুষ, ইদম্ অসৎ বপুঃ – এই অনিত্য দেহকে, সত্যম্ ইতি আত্মবুদ্ধ্যা – সত্যই এটি আমি এই বুদ্ধিতে, বিষয়ৈঃ
-ভোগ্যবিষয়ের দ্বারা, পুষ্যতি – পোষণ করে, উক্ষতি – স্নানাদি করায়, অবতি – পালন করে, তন্তুভিঃ -সূত্রদির দ্বারা, কোশকৃৎবৎ - গুটিপোকার মতো।
সরলার্থ – অনাত্মবস্তুতে অহং বা আমি – এই আত্মবুদ্ধি হওয়ায় জন্ম ও মৃত্যুরূপ ক্লেশ প্রাপ্তির হেতু অজ্ঞান। যার দ্বারা জীব বা
পুরুষ বন্ধন প্রাপ্ত হয়। এই অজ্ঞান থেকে জীব এই অসৎ শরীরকে সৎ মনে করে। এতে আত্মবুদ্ধি
হওয়ার ফলে গুটিপোকা যেমন নিজের তন্তু দ্বারা নিজের পোষণ করে সেরকম এই শরীরকে বিষয়দ্বারা
পোষণ, মার্জন এবং সংরক্ষণ করে থাকে।
[গুটি পোকার নিজের বন্ধনের
কারণ যেমন নিজের তন্তু, তেমনি জীবের বন্ধনের কারণ তার নিজের শরীর। অর্থাৎ দেহে যে আত্মবুদ্ধি
বা আমিজ্ঞান এটি হল জীবের সংসার বন্দনের কারণ।
অজ্ঞানবশতঃ দুঃখের
দৃষ্টান্ত
অতস্মিংস্তদ্বুদ্ধিঃ প্রভবতি বিমূঢ়স্য তমসা
বিবেকাভাবাদ্ বৈ স্ফুরন্তি
ভুজগে রজ্জুধিষণা।
ততো৳নর্থব্রাতো নিপততি
সমাদাতুরধিক
স্ততো যো৳সদ্গ্রাহঃ
স হি ভবতি বন্ধঃ শৃণু সখে।।১৩৮
শব্দার্থ – তমসা- অজ্ঞানের দ্বারা, বিমূঢ়স্য
– মোহগ্রস্তব্যক্তির,অতস্মিন্ -
যা যা নয় তাতে, তৎ-বুদ্ধিঃ – সেই বস্তু জ্ঞান, প্রভবতি – প্রকাশ পায়। বিবেক-অভাবাৎ বৈ – বিবেকের অভাববশতই, ভুজগে – সর্পে, রজ্জুধিষণা স্ফুরতি – রজ্জু বলে ভ্রম হয়। ততঃ – এই ভ্রমজ্ঞানের পর, সমাদাতুঃ – সর্পকে রজ্জু বলে গ্রহণকারীর,অধিকঃ -অনেক, অনর্থব্রাতঃ – বিপৎসমূহ, নিপততি – উপস্থিত হয়। ততঃ -অতএব, সখে – সখে, শৃণু – শোন, যঃ – যা, অসদ্গ্রাহ – মিথ্যা-গ্রহণ, সঃ হি – তা-ই, বন্ধঃ ভবতি – বন্ধন হয়।
সরলার্থ – বিবেক না হওয়ার কারণ সর্পে যেমন
রজ্জু বুদ্ধি হয়ে থাকে, তেমনি মোহগ্রস্ত ব্যক্তির তমোগুণের ফলে এক বস্তুতে অন্যবস্তুর জ্ঞান হয়ে থাকে। অর্থাৎ দেহাদি যে অসৎ
বস্তু তাতে আত্মবুদ্ধি হয়ে থাকে। এই প্রকারের যার বুদ্ধি তাকেই অনর্থ, অমঙ্গল ও বিপদ এসে আক্রমণ করে। অতএব হে সখে,
শোন এই যে অসৎগ্রহ অর্থাৎ অসত্যকে সত্য প্রতীতি এই হল বন্ধন।
কোথা থেকে বন্ধন
এলো?
অখন্ডনিত্যাদ্বয়বোধশক্ত্যা
স্ফুরন্তমাত্মানমনন্তবৈভবম্।
সমাবৃণোত্যাবৃতিশক্তিরেষা
তমোময়ী রাহুরিবার্কবিম্বম্।।
১৩৯
শব্দার্থ – এষা তমোময়ী আবৃতিশক্তিঃ – এই তমোগুণপ্রধান আবরণশক্তি,অখণ্ড-নিত্য-অদ্বয়-বোধশক্ত্যা
– অখণ্ড, নিত্য, ও অদ্বয় চৈতন্যস্বরূপের
দ্বারা, স্ফুরন্তম্ -প্রকাশমান্, অনন্তবৈভবম্
আত্মানম্ - অনন্ত প্রভাবশালী আত্মাকে, অর্কবিম্বম্ -সূর্যমণ্ডলকে, রাহুঃ ইব
– রাহু যেভাবে আবৃত করে সেইভাবে,
সম-আবৃণোতি – সম্যকরূপে আচ্ছাদন করে।
সরলার্থ – অখণ্ড (পরিপূর্ণ), নিত্য(চিরস্থায়ী,
অক্ষয়) এবং অদ্বয়( অদ্বিতীয়) বোধশক্তির দ্বারা স্ফুরিত বা প্রকাশিত হয়ে অখণ্ড ঐশ্বর্য
সম্পন্ন আত্মতত্ত্বকে এই তমোময়ী আবরণশক্তি এভাবে ঢেকে ফেলে যেমন সূর্যকে রাহু ঢেকে
ফেলে।
[সূর্যমণ্ডলকে ছায়া
ঢেকে ফেলতে পারে না, ঢেকে ফেলে আমাদের দৃষ্টিকে, সেরকম অনন্ত প্রকাশময় আত্মতত্ত্বকে
তমোময়ী আবরণশক্তি ঢেকে ফেলতে পারে না, ঢেকে ফেলে আমাদের দৃষ্টিকে। যেমন সূর্যমণ্ডলকে
রাহু কিছুক্ষণের জন্য যেন ঢেকে ফেলে, পরে সরে গিয়ে মুক্ত করে দেয়, সেই ভাবে অজ্ঞানের
দ্বারা কিছুক্ষণের জন্য অনন্ত প্রকাশময় আত্মতত্ত্বকে
ঢাকার মতো করে ফেলে। জ্ঞানের উদয় হলেই অজ্ঞান আবরণ চিরতরে পালিয়ে যায়।
তিরোভূতে স্বাত্মন্যমলতরতেজোবতি পুমা-
নানাত্মানং মোহাদহমিতি
শরীরং কলয়তি।
ততঃ কামক্রোধপ্রভৃতিভিরমুং
বন্ধনগুণৈঃ
পরং বিক্ষেপাখ্যা রজস
উরুশক্তির্ব্যথয়তি।। ১৪০
শব্দার্থ – অমলতর-তেজোবতি স্বাত্মনি তিরোভূতে -অতিনির্মল নিজ আত্মস্বরূপ অজ্ঞানের দ্বারা আবৃত হলে, পুমান্ - পুরুষ, মোহাৎ - অজ্ঞানবশতঃ,
অনাত্মানং শরীরং – অনাত্মা শরীরকে, অহম্
সরলার্থ – অতি নির্মল তেজোময় আত্মতত্ত্ব অদৃশ্য
হলে পুরুষ অনাত্ম দেহকেই মোহবশত আমি বলে মনে করে। তখন রজোগুণের বিক্ষেপ নামক অতি প্রবল
শক্তি কাম-ক্রোধাদি নিজ বন্ধনকারী গুণের দ্বারা তাকে বেধে ফেলে।
মহামোহ-গ্রাহগ্রসন-গলিতাত্মাবগমনো
ধিয়ো নানাবস্থাং স্বয়মভিনয়ংস্তদ্গুণতয়া।
অপারে সংসারে বিষয়বিষপুরে
জলনিধৌ
নিমজ্জ্যোন্মহজ্জ্যায়াং
ভ্রমতি কুমতিঃ কুৎসিতগতিঃ।। ১৪১
শব্দার্থ – অয়ং কুৎসিতগতিঃ কুমতিঃ – এই নিন্দিত দুঃখ ফলভোগী ভ্রান্ত
পুরুষ, মহামোহ-গ্রাহ-গ্রসন-গলিত-আত্ম-অবগমনঃ – অজ্ঞান রূপ কুমীরের গ্রাসে পতিত হওয়ার ফলে আত্ম-স্বরূপের জ্ঞান নষ্ট হয়ে যাওয়াতে,
ধিয়ঃ -বুদ্ধির , নানা – অবস্থাং – জাগ্রদাদি নানা অবস্থা , তদ্গুণতয়া- গুণসমূহ নিজের মনে করে,স্বয়ম্ অভিনয়ম্
- নিজে সে সকলের অভিনয় করে, বিষয়বিষপুরে – বিষয়বিষয়ের দ্বারা পূর্ণ, অপারে
সং সারে জলনিধৌ – অপার সংসার সমুদ্রে, নিমজ্জ্য উন্মজ্জ্য
– কখনও ডুবে কখনও ভেসে অর্থাৎ উচ্চ-নীচ
যোনিতে জন্মগ্রহণ করে, ভ্রমতি – ভ্রমণ করে।
সরলার্থ – তখন এর নানা প্রকারের নীচ বা কুৎসিতগতি প্রদায়ক কুমতি জীবকে
বিষয়রূপ বিষের দ্বারা পরিপূর্ণ এই অপার সংসার সমুদ্র মধ্যে একবার ডুবিয়ে ও একবার তুলে
মহামোহরূপ কুমীরের দ্বারা আত্মজ্ঞানের নাশ হলে বুদ্ধির গুণের অভিমানী হয়ে তার বিভিন্ন
অবস্থার অভিনয় করতে করতে ভ্রমণ করে।
ভানুপ্রভাসংজনিতাভ্রপঙ্ক্তি-
র্ভানুং তিরোধায় বিজৃম্ভতে
যথা।
আত্মোদিতাহংকৃতিরাত্মতত্ত্বং
তথা তিরোধায় বিজৃম্ভতে
স্বয়ম্।।১৪২
শব্দার্থ – ভানুপ্রভাসংজনিত -অভ্রপঙ্ক্তি
– সূর্যের প্রভায় উদ্ভাসিত মেঘের
সারি, ভানুং তিরোধায় – সূর্যকে আড়াল করে, যথা বিজৃম্ভতে – যেমন প্রকাশিত হয়, তথা – সে রকম, আত্ম-উদিত-অহংকৃতিঃ -আত্মা থেকে উত্থিত অহংকার, আত্ম-তত্ত্বং তিরোধায়
-আত্মতত্ত্বকে আড়ালে রেখে,স্বয়ং বিজৃম্ভতে – নিজেই প্রকাশ পায়।
সরলার্থ – যেমন সূর্যের তেজদ্বারা উৎপন্ন
মেঘ সূর্যকেই আচ্ছাদিত করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি আত্মা থেকে প্রকটিত অহংকার আত্মাকে
আচ্ছাদিত করে স্বয়ং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।
আররণ শক্তি ও বিক্ষেপশক্তি
কবলিতদিননাথে দুর্দিনে
সান্দ্রমেঘৈ-
র্ব্যথয়তি হিমঝঞ্ঝাবায়ুরুগ্রো
যথৈতান্।
অবিরততমসাত্মন্যাবৃতে
মূঢ়বুদ্ধিং
ক্ষপয়তি বহুদুঃখৈস্তীব্রবিক্ষেপশক্তিঃ
।। ১৪৩
শব্দার্থ – যথা – যেমন, দুর্দিনে – মেঘাচ্ছন্ন দিনে, সান্দ্র-মেঘৈঃ
– গাঢ় মেঘের দ্বারা, কবলিত – দিননাথে – সূর্য আচ্ছাদিত হলে, উগ্র হিমঝঞ্ঝবায়ুঃ – প্রবল ঠাণ্ডা ঝোড়ো হাওয়া, এতান্ - এই মেঘ গুলোকে, ব্যথয়তি
– পীড়া দেয়, অবিরত -তমসা – ছেদহীন অজ্ঞান অন্ধকারের দ্বারা, আত্মনি আবৃতে - আত্মা আবৃত হলে, তীব্র- বিক্ষেপশক্তিঃ -তীব্র বিক্ষেপশক্তি,
মূঢ়বুদ্ধিং – স্থূলবুদ্ধি পুরুষকে,বহুদুঃখৈঃ – বহু দুঃখের দ্বারা, ক্ষপয়তি - পীড়িত
করে।
সরলার্থ – যেমন দুর্দিনে সঘন মেঘের দ্বারা
সূর্য আচ্ছাদিত হলে অতি ভয়ঙ্কর এবং শীতল বায়ু সকলকে ব্যথিত করে। তেমনি বুদ্ধি নিরন্তর
তমোগুণের দ্বারা আবৃত হলে মূঢ় পুরুষকে তীব্র
বিক্ষেপ শক্তি নানা প্রকার দুঃখ দ্বারা সন্তপ্ত করে থাকে।
এতাভ্যামেব শক্তিভ্যাং
বন্ধঃ পুংসঃ সমাগতঃ।
যাভ্যাং বিমোহিতো দেহং
মত্বাত্মানং ভ্রমত্য্যম্।।১৪৪
শব্দার্থ – এতাভ্যাম্ - এই দুই, শক্তিভ্যাম্
এব – শক্তির দ্বারাই, পুংসঃ – পুরুষের , বন্ধঃ সমাগতঃ – বন্ধন এসেছে। যাভ্যাং – যে দুই শক্তির দ্বারা, বিমোহতঃ
-মোহিত, অয়ং – জীব, দেহং – দেহকে, আত্মানং মত্বা – আত্মা মনে করে, ভ্রমতি – সংসার ভ্রমণ করছে।
সরলার্থ – এই দু প্রকার শক্তি অর্থাৎ আবরণ
ও বিক্ষেপশক্তি পুরুষকে বন্ধন প্রাপ্ত করিয়েছে এবং এদের দ্বারা মোহিত হয়ে পুরুষ দেহকে
আত্মা মনে করে সংসার চক্রে ভ্রমণ করে।
[দেহকে আত্মা মনে করাই
জীবের সব থেকে বড় ভুল]
বন্ধ – নিরুপণ
বীজং সংসৃতিভূমিজস্য
তু তমো দেহাত্মধীরঙ্করো
রাগঃ পল্লবমম্বু কর্ম তু বপুঃ স্কন্ধো৳সবঃ শাখিকাঃ
অগ্রাণীন্দ্রিয়সং হতিশ্চ
বিষয়াঃ পুষ্পাণি দুঃখং ফলং
নানাকর্মসমুদ্ভবং বহুবিধং
ভোক্তাত্র জীবঃ খগঃ।। ১৪৫
শব্দার্থ – সংসৃতিভূমিজস্য -সংসারবৃক্ষের,
বীজং – উপাদান কারণ , তু তমঃ – অজ্ঞানই, দেহাত্মধীঃ – দেহে আত্মবুদ্ধি, অঙ্কুরঃ – অঙ্কুর, রাগঃ – ইচ্ছা, পল্লবঃ – পল্লব, কর্ম – কর্মসকল, অম্বু – জল, বপুঃ -শরীর, স্কন্ধঃ -কাণ্ড,
অসবঃ – প্রাণবায়ু, শাখিকাঃ – শাখা, ইন্দ্রিয়সংহতিঃ চ – ইন্দ্রিয় সমূহ, অগ্রাণি – অগ্রভাগ সমূহ, বিষয়াঃ – শব্দাদি বিষয় সকল, পুষ্পাণি – পুষ্পসকল, নানাকর্মসমুদ্ভবং বহুবিধং
দুঃখং – নানা প্রকার কর্ম থেকে জাত দুঃখ,
ফলম্ - ফল। অত্র – এই সংসারবৃক্ষে, ভোক্তা জীবঃ – কর্মফলভোগকারী জীব, খগঃ – পাখি।
সরলার্থ – সংসাররূপ বৃক্ষের বীজ অজ্ঞান, দেহাত্মবুদ্ধি
তার অঙ্কুর, রাগ বা আসক্তি পত্র, কর্ম হল জল, শরীর স্তম্ভ বা কাণ্ড, প্রাণ শাখা, ইন্দ্রিয়
উপশাখা, বিষয় পুষ্প এবং নানা প্রকারের কর্ম থেকে উৎপন্ন দুঃখ ফল, এবং জীবরূপ পাখি তার
ভোক্তা।
অজ্ঞানমূলো৳য়মনাত্মবন্ধো
নৈসর্গিকো৳নাদিরনন্ত
ঈরিতঃ।
জন্মাপ্যয়ব্যাধিজরাদিদুঃখ-
প্রবাহপাতং জনয়ত্যমুষ্য।।
১৪৬
শব্দার্থ – অয়ম্ - এই, অনাত্মবন্ধঃ -সংসারবন্ধন, অজ্ঞানমূলঃ – অজ্ঞান থেকে উৎপন্ন , নৈসর্গিকঃ -স্বাভাবিক, অনাদিঃ -আদি
রহিত, অনন্তঃ – একমাত্র জ্ঞানের দ্বারা নাশ হয়, ঈরিতঃ – কথিত হয়, অমুষ্য – জীবের, জন্ম-অপ্যয়-ব্যাধি-জরাদি-দুঃখপ্রবাহপাতং – জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধিরূপ দুঃখ
-প্রবাহে পতন, জনয়তি – করায়।
সরলার্থ – এই অজ্ঞানজনিত অনাত্মবন্ধনকে স্বাভাবিক,
অনাদি (কবে শুরু কেউ বলতে পারে না) ও অনন্ত ( জ্ঞান ছাড়া এর অন্ত বা নাশ হয় না) বলা
হয়েছে। এই অজ্ঞানই জীবের জন্ম, মরণ , ব্যাধি ও জরাদি দুঃখের প্রবাহ উৎপন্ন করে দেয়।
আত্ম-অনাত্ম বিবেক
নাস্ত্রৈর্ন শস্ত্রৈরনিলেন
বহ্নিনা
ছেত্তুং ন শক্যো ন চ
কর্মকোটিভিঃ।
বিবেকবিজ্ঞানমহাসিনা
বিনা
ধাতুঃ প্রসাদেন সিতেন
মঞ্জুনা। ১৪৭
শব্দার্থ – অস্ত্রৈঃ শস্ত্রৈঃ অনিলেন বহ্নিনা
– এই বন্ধন অস্ত্র শস্ত্র বায়ু বা
আগুণের দ্বারা, ছেত্তুং ন শক্যঃ – ছেদন করা সম্ভব নয়, চ কর্মকোটিভিঃ ন – কোটি শ্রুতি স্মৃতি বিহিত কর্মের দ্বারা নয়, ধাতুঃ প্রসাদেন – ধাতার বা জীবের চিত্তের প্রসন্নতা,
সিতেন মঞ্জুনা – তীক্ষ্ণ ও শোভন, বিবেক -বিজ্ঞান-মহা-অসিনা বিনা – আত্ম অনাত্ম বিচারের দ্বারা ব্রহ্মের
ও আত্মার অভেদ জ্ঞানরূপ খড়্গ ছাড়া, এই বন্ধনের নাশ হয় না।
সরলার্থ – এই বন্ধন বিধাতার বিশুদ্ধ কৃপা
দ্বারা প্রাপ্ত বিবেক-বিজ্ঞান-রূপ শুভ্র সুন্দর তীক্ষ্ণ মহাখড়্গ ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র
বা শস্ত্র ,বায়ু, অগ্নি অথবা কোটি কোটি কর্মসমূহ দ্বারা কাটা যায় না।
[এই বন্ধন অজ্ঞান মূলক
হওয়ার ফলে ব্রহ্মজ্ঞান দ্বারা অজ্ঞান নিবৃত্তি হলে তার নাশ সম্ভব। অন্ধকার যেমন প্রকাশ
দ্বারা দূর হয়, তেমনি অজ্ঞান জ্ঞান দ্বারাই নাশ হয়ে থাকে।]
শ্রুতিপ্রামাণৈকমতেঃ
স্বধর্মনিষ্ঠা
তয়ৈবাত্মবিশুদ্ধিরস্য।
বিশুদ্ধবুদ্ধেঃ পরমাত্মবেদনং
তেনৈব সংসারসমূলনাশঃ।।১৪৮
শব্দার্থ- শ্রুতিপ্রমাণ-
একমতে – বেদের প্রামাণ্যে যার বিশ্বাস আছে,
স্বধর্ম-নিষ্ঠা -স্বধর্মে নিষ্ঠা, তয়া এব – স্ব-ধর্মনিষ্ঠা দ্বারা, অস্য – এই পুরুষের, আত্মবিশুদ্ধিঃ - চিত্তশুদ্ধি
হয়, বিশুদ্ধবুদ্ধেঃ – যার বুদ্ধি শুদ্ধ হয়েছে, পরমাত্মবেদনং – ব্রহ্ম ও আত্মার ঐক্যজ্ঞান হয়, তেন এব – এই জ্ঞানের দ্বারাই, সংসারসমূলনাশঃ
– মূল অজ্ঞানের সঙ্গে সংসারের নাশ
হয়।
সরলার্থ – যাঁর শ্রুতির প্রামাণ্য বাক্যে
দৃঢ় নিশ্চয় বা বিশ্বাস আছে, তাঁরই স্বধর্মে নিষ্ঠা হয় এবং এর দ্বারা চিত্তশুদ্ধি হয়ে
থাকে। যাঁর চিত্ত শুদ্ধ হয় তাঁর পরমাত্মার জ্ঞান হয় এবং জ্ঞানের দ্বারাই সংসাররূপ বৃক্ষের সমূলে বিনাশ হয়।
কোশৈরন্নময়াদ্যৈঃ পঞ্চভিরাত্মা
ন সংবৃতো ভাতি।
নিজশক্তিসমুৎপন্নৈঃ
শৈবালপটলৈরিবাম্বুবাপীস্থম্।।১৪৯
শব্দার্থ -নিজশক্তি
-সমুৎপন্নৈঃ – নিজ শক্তির দ্বারা উৎপন্ন, শৈবাল পটলৈঃ – শৈবাল সমূহের দ্বারা,
বাপীস্থম্ - জলাশয়স্থিত, অম্বু ইব – জলের মত, অন্নময়াদ্যৈঃ – অন্নময় প্রভৃতি, পঞ্চভিঃ কোশৈঃ – পাঁচটি কোশের দ্বারা, সংবৃতঃ – আবরিত, আত্মা ন ভাতি
– আত্মা প্রকাশ পান না।
সরলার্থ – আপন শক্তিদ্বারা উৎপন্ন
শেওলা দ্বারা আচ্ছাদিত পুষ্করিণীর জল যেমন দেখা যায় না, তেমনি অন্নময়াদি পঞ্চকোশের
দ্বারা আবৃত আত্মা দৃষ্টি গোচর হয় না।
তচ্ছৈবালাপনয়ে সম্যক্
সলিলং প্রতীয়তে শুদ্ধম্।
তৃষ্ণাসন্তাপহরং সদ্যঃ
সৌখ্যপ্রদং পরং পুংসঃ।। ১৫০
শব্দার্থ – তৎ-শৈবাল-অপনয়নে – সেই শেওলায় অপসারণ হলে, তৃষ্ণাসন্তাপহরং
– তৃষ্ণার কষ্ট দূরকারী্ সদ্যঃ সৌখ্যপ্রদং
– পানমাত্র তৃপ্তি দায়ক, সম্যক্
শুদ্ধম্ সলিলং – অত্যন্ত নির্মল জল, পুংসঃ পরং প্রতীয়তে – পুরুষের আনন্দ বর্ধন করে দেখা যায়।
সরলার্থ - জলের ওপরে ভাসমান শেওলা দূর করে ফেললে তৃষ্ণানাশক,
পানমাত্র আনন্দদায়ক, স্বাভাবিক শুদ্ধ নির্মল জল স্পষ্ট দেখা যায়। যেমন ঐ শেওলা পূর্ণভাবে
সরানো হলে পিপাসা দূরকারক ও পরম সুখপ্রদ জল স্পষ্ট দেখা যায় তেমনি পঞ্চকোশ দূরীভূত
হলে ঐ শুদ্ধ নিত্য আনন্দ স্বরূপ অন্তর্যামী স্বয়ংপ্রকাশ পরমাত্মা দীপ্তিমান হয়ে থাকেন।
[পঞ্চকোশের অর্থাৎ অন্নময়,
প্রাণময়, মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় কোশের সম্যক্ নিরাকরণ করা হলে আত্মার সাক্ষাৎকার হয়ে থাকে, যার
ফলে সকল দুঃখের নিবৃত্তি ও সর্বসুখ প্রাপ্তি
হয়।]
[গীতাতেও শ্রীভগবান
বলেছেন নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়া সমাবৃতঃ
। নিজের যোগমায়া দ্বারা আবৃত থাকার জন্য আমি সকলের কাছে প্রত্যক্ষ হই না।]
পঞ্চানামপি কোশানামপবাদে
বিভাত্যয়ং শুদ্ধঃ।
নিত্যানন্দৈকরসঃ প্রত্যগ্রূপঃ
পরঃ স্বয়ংজ্যোতিঃ।।১৫১
শব্দার্থ – পঞ্চানাম্-অপি কোশানাম্ - পাঁচটি
কোশেরই , অপবাদে – এগুলি অনাত্মবস্তু এই স্থির ধারণা হলে, শুদ্ধঃ নিত্যানন্দ একরসঃ – নির্মল সদানন্দ একরসস্বরূপ, প্রত্যক্-রূপঃ
– প্রত্যেকের সত্তাস্বরূপ, পরঃ – শ্রেষ্ঠ, স্বয়ংজ্যোতিঃ -স্বয়ংপ্রকাশ,
অয়ং – এই আত্মা, বিভাতি – প্রকাশ হন।
সরলার্থ – যখন বিবেক-বিচারের দ্বারা পাঁচটি
কোশের কোনটিই আত্মা নয়, এই প্রকার দৃঢ় নিশ্চয় জন্মায়, তখন শুদ্ধ, সদানন্দময়, প্রত্যেকের
অন্তরে সাক্ষিরূপে স্থিত, শ্রেষ্ঠ, প্রকাশ
স্বভাব আত্মা স্বতই প্রকাশ পান।
আত্মানাত্মবিবেকঃ কর্তব্যো
বন্ধমুক্তয়ে বিদুষা।
তেনৈবানন্দী ভবতি স্বং
বিজ্ঞায় সচ্চিদানন্দম্।। ১৫২
শব্দার্থ – বিদুষা – বিচারশীল ব্যাক্তির দ্বারা, বন্ধমুক্তয়ে
– বন্ধন মুক্তির জন্য, আত্মা-অনাত্ম-বিবেকঃ
– আত্মা কি, অনাত্মা কি – এই বিচার, কর্তব্যঃ – করণীয়, তেন এব – তার দ্বারাই, স্বং – নিজেকে, সৎ-চিৎ-আনন্দম্ - সচ্চিদানন্দ
ব্রহ্ম, বিজ্ঞায় – জেনে, আনন্দী ভবতী – আনন্দরূপ হয়ে যান।
সরলার্থ – বন্ধনের নিবৃত্তির জন্য বিদ্বান্
ব্যক্তি আত্মা ও অনাত্মার বিচার করবেন। বিবেকের দ্বারা স্বয়ং নিজেকে সচ্চিদানন্দ স্বরূপ
জেনে আনন্দিত হন।
মুঞ্জাদিষীকামিব দৃশ্যবর্গাৎ
প্রত্যঞ্চমাত্মানমসঙ্গমক্রিয়ম্।
বিবিচ্য তত্র প্রবিলাপ্য
সর্বং
তদাত্মনা তিষ্ঠতি যঃ
স মুক্তঃ।। ১৫৩
শব্দার্থ – মুঞ্জাৎ (মুঞ্জা ঘাস থেকে) ইষীকাম্-ইব
( ওপরের আবরণ ফেলে দিয়ে ভেতরের ডাঁটার মতো অংশ বার করা) দৃশ্যবর্গাৎ ( সমস্ত দৃশ্যবস্তু
থেকে) প্রত্যঞ্চম্-অসঙ্গম্-অক্রিয়ম্ আত্মানম্ (দ্রষ্টা, নির্লিপ্ত ও অক্রিয় আত্মাকে)
বিবিচ্য (বিচার করে) তত্র ( সেই শুদ্ধ আত্মায়) সর্বং প্রবিলাপ্য ( সব কিছু বিলীন করে
দিয়ে) যঃ (যিনি) তদাত্মনা (সেই আত্মার সঙ্গে এক হয়ে তিষ্ঠতি (অবস্থান করেন) সঃ মুক্তঃ
( তিনি মুক্ত পুরুষ)
সরলার্থ – যে পুরুষ নিজ অসঙ্গ ও অক্রিয় প্রত্যগাত্মাকে অর্থাৎ অন্তরাত্মাকে
মুঞ্জঘাস থেকে ইশীকা বা শিষ পৃথক করার মতো দৃশ্যবর্গ থেকে পৃথক করে এবং ওই সব দৃশ্যকে
আত্মায় লয় করে আত্মভাবে স্থিত থাকেন, তিনিই মুক্ত।
অন্নময় কোশ
দেহো৳য়মন্নভবনো৳ন্নময়স্তু
কোশ-
শ্চান্নেন জীবতি বিনশ্যতি
তদ্বিহীনঃ।
ত্বক্চর্মমাংসরুধিরাস্থিপুরীষরাশি-
র্নায়ং স্বয়ং ভবিতুমর্হতি
নিত্যশুদ্ধঃ।।১৫৪
শব্দার্থ – অন্নভবনঃ (অন্ন থেকে উৎপন্ন) অয়ং
দেহঃ তু(এই দেহই) অন্নময়ঃ কোশঃ ( অন্নময় কোশ)
সরলার্থ – মাতাপিতার ভুক্ত অন্নের পরিণাম
থেকে উৎপন্ন এই দেহই অন্নময় কো যা অন্ন দ্বারাই জীবিত থাকে এবং অন্নের অভাবে বিনাশ
প্রাপ্ত হয়। ত্বক্, চর্ম, মাংস, রক্ত, অস্থি ও মলাদি কখন নিত্যশুদ্ধ আত্মা হতে পারে
না।
পূর্বং জনেরধিমৃতেরপি
নায়মস্তি
জাতক্ষণঃ ক্ষণগুণো৳নিয়তস্বভাবঃ।
নৈকো জড়শ্চ ঘটবৎপরিদৃশ্যমানঃ
স্বাত্মা কথং ভবতি ভাববিকারবেত্তা।।১৫৫
শব্দার্থ – অয়ং – এই অন্নময়কোশ, জনেঃ পূর্বং – জন্মের পূর্বে, মৃতে অধি অপি – এবং মৃত্যুর পরেও, ন অস্তি – থাকে না। জাতক্ষণঃ -ক্ষণিক অস্তিত্ব, জন্ম ও মৃত্যুর মাঝের সময় বর্তমান, ক্ষণগুণঃ
– অল্প দিনের জন্য রমণীয়,অনিয়ত স্বভাবঃ
– প্রতিক্ষণে পরিবর্তিত, ন একঃ – সর্বদা একরূপ নয়, চ জড়ঃ – এবং জড়, ঘটবৎ পরিদৃশ্যমানঃ – ঘটের মতো কিছুকাল মাত্র দৃশ্যমান,
ভাববিকারবেত্তা- দেহাদির পরিনামের দ্রষ্টা, স্ব-আত্মা – নিজের আত্মা, কথং ভবতি – কি করে হয়?
সরলার্থ – এই অন্নময় কোশ জন্মের পূর্বে এবং
মৃত্যুর পরেও থাকে না, প্রতিক্ষণে জন্মগ্রহণ করে, প্রতিক্ষণে নাশ হয় অর্থাৎ ক্ষণভঙ্গুর
এবং অস্থির স্বভাব সম্পন্ন। এটি অনেক তত্ত্বের সংঘাত বা সমষ্টি, জড় ও ঘটের সমান দৃশ্য।
অতএব এটি ভাব ও বিকারের জ্ঞাতা নিজ আত্মা কি প্রকারে হতে পারে।
পাণিপাদাদিমান্ দেহো
নাত্মা ব্যঙ্গে৳পি জীবনাৎ।
তত্তেচ্ছক্তেরনাশাচ্চ
ন নিয়ম্যো নিয়ামকঃ।।১৫৬
শব্দার্থ -বি-অঙ্গে
অপি – অঙ্গহীন হলেও, জীবনাৎ - জীবন থাকে বলে, পাণিপাদাদিমান্ দেহ – হস্তপদাদিযুক্ত দেহ, আত্মা ন – আত্মা নয়,তৎ-তৎ-শক্তেঃ – সেই সেই শক্তির, অনাশাৎ - নাশ হয়
না বলে, নিয়ম্যঃ ন – সীমার অধীন নয়, নিয়ামকঃ – দেহাদির নিয়ন্তা।
সরলার্থ – কোন অঙ্গ বিশেষের নাশ হলেও মানুষ
জীবিত থাকে। অঙ্গনাশের সঙ্গে অঙ্গের শক্তি নষ্ট হয় না ( ভেতরে অনুভব হয়)। তাই হস্তপদাদিযুক্ত
দেহ আত্মা হতে পারে না। আত্মা দেহাদির অধীন নয়, কিন্তু দেহাদির পরিচালক।
পঞ্চানামপি কোশানামপবাদে
বিভাত্যয়ং শুদ্ধঃ।
নিত্যানন্দৈকরসঃ প্রত্যগ্রূপঃ
পরঃ স্বয়ংজ্যোতিঃ।।১৫১
শব্দার্থ – পঞ্চানাম্-অপি কোশানাম্ - পাঁচটি
কোশেরই , অপবাদে – এগুলি অনাত্মবস্তু এই স্থির ধারণা হলে, শুদ্ধঃ নিত্যানন্দ একরসঃ – নির্মল সদানন্দ একরসস্বরূপ, প্রত্যক্-রূপঃ
– প্রত্যেকের সত্তাস্বরূপ, পরঃ – শ্রেষ্ঠ, স্বয়ংজ্যোতিঃ -স্বয়ংপ্রকাশ,
অয়ং – এই আত্মা, বিভাতি – প্রকাশ হন।
সরলার্থ – যখন বিবেক-বিচারের দ্বারা পাঁচটি
কোশের কোনটিই আত্মা নয়, এই প্রকার দৃঢ় নিশ্চয় জন্মায়, তখন শুদ্ধ, সদানন্দময়, প্রত্যেকের
অন্তরে সাক্ষিরূপে স্থিত, শ্রেষ্ঠ, প্রকাশ
স্বভাব আত্মা স্বতই প্রকাশ পান।
আত্মানাত্মবিবেকঃ কর্তব্যো
বন্ধমুক্তয়ে বিদুষা।
তেনৈবানন্দী ভবতি স্বং
বিজ্ঞায় সচ্চিদানন্দম্।। ১৫২
শব্দার্থ – বিদুষা – বিচারশীল ব্যাক্তির দ্বারা, বন্ধমুক্তয়ে
– বন্ধন মুক্তির জন্য, আত্মা-অনাত্ম-বিবেকঃ
– আত্মা কি, অনাত্মা কি – এই বিচার, কর্তব্যঃ – করণীয়, তেন এব – তার দ্বারাই, স্বং – নিজেকে, সৎ-চিৎ-আনন্দম্ - সচ্চিদানন্দ
ব্রহ্ম, বিজ্ঞায় – জেনে, আনন্দী ভবতী – আনন্দরূপ হয়ে যান।
সরলার্থ – বন্ধনের নিবৃত্তির জন্য বিদ্বান্
ব্যক্তি আত্মা ও অনাত্মার বিচার করবেন। বিবেকের দ্বারা স্বয়ং নিজেকে সচ্চিদানন্দ স্বরূপ
জেনে আনন্দিত হন।
মুঞ্জাদিষীকামিব দৃশ্যবর্গাৎ
প্রত্যঞ্চমাত্মানমসঙ্গমক্রিয়ম্।
বিবিচ্য তত্র প্রবিলাপ্য
সর্বং
তদাত্মনা তিষ্ঠতি যঃ
স মুক্তঃ।। ১৫৩
শব্দার্থ – মুঞ্জাৎ (মুঞ্জা ঘাস থেকে) ইষীকাম্-ইব
( ওপরের আবরণ ফেলে দিয়ে ভেতরের ডাঁটার মতো অংশ বার করা) দৃশ্যবর্গাৎ ( সমস্ত দৃশ্যবস্তু
থেকে) প্রত্যঞ্চম্-অসঙ্গম্-অক্রিয়ম্ আত্মানম্ (দ্রষ্টা, নির্লিপ্ত ও অক্রিয় আত্মাকে)
বিবিচ্য (বিচার করে) তত্র ( সেই শুদ্ধ আত্মায়) সর্বং প্রবিলাপ্য ( সব কিছু বিলীন করে
দিয়ে) যঃ (যিনি) তদাত্মনা (সেই আত্মার সঙ্গে এক হয়ে তিষ্ঠতি (অবস্থান করেন) সঃ মুক্তঃ
( তিনি মুক্ত পুরুষ)
সরলার্থ – যে পুরুষ নিজ অসঙ্গ ও অক্রিয় প্রত্যগাত্মাকে অর্থাৎ অন্তরাত্মাকে
মুঞ্জঘাস থেকে ইশীকা বা শিষ পৃথক করার মতো দৃশ্যবর্গ থেকে পৃথক করে এবং ওই সব দৃশ্যকে
আত্মায় লয় করে আত্মভাবে স্থিত থাকেন, তিনিই মুক্ত।
অন্নময় কোশ
দেহো৳য়মন্নভবনো৳ন্নময়স্তু
কোশ-
শ্চান্নেন জীবতি বিনশ্যতি
তদ্বিহীনঃ।
ত্বক্চর্মমাংসরুধিরাস্থিপুরীষরাশি-
র্নায়ং স্বয়ং ভবিতুমর্হতি
নিত্যশুদ্ধঃ।।১৫৪
শব্দার্থ – অন্নভবনঃ (অন্ন থেকে উৎপন্ন) অয়ং
দেহঃ তু(এই দেহই) অন্নময়ঃ কোশঃ ( অন্নময় কোশ)
সরলার্থ – মাতাপিতার ভুক্ত অন্নের পরিণাম
থেকে উৎপন্ন এই দেহই অন্নময় কো যা অন্ন দ্বারাই জীবিত থাকে এবং অন্নের অভাবে বিনাশ
প্রাপ্ত হয়। ত্বক্, চর্ম, মাংস, রক্ত, অস্থি ও মলাদি কখন নিত্যশুদ্ধ আত্মা হতে পারে
না।
পূর্বং জনেরধিমৃতেরপি
নায়মস্তি
জাতক্ষণঃ ক্ষণগুণো৳নিয়তস্বভাবঃ।
নৈকো জড়শ্চ ঘটবৎপরিদৃশ্যমানঃ
স্বাত্মা কথং ভবতি ভাববিকারবেত্তা।।১৫৫
শব্দার্থ – অয়ং – এই অন্নময়কোশ, জনেঃ পূর্বং – জন্মের পূর্বে, মৃতে অধি অপি – এবং মৃত্যুর পরেও, ন অস্তি – থাকে না। জাতক্ষণঃ -ক্ষণিক অস্তিত্ব, জন্ম ও মৃত্যুর মাঝের সময় বর্তমান, ক্ষণগুণঃ
– অল্প দিনের জন্য রমণীয়,অনিয়ত স্বভাবঃ
– প্রতিক্ষণে পরিবর্তিত, ন একঃ – সর্বদা একরূপ নয়, চ জড়ঃ – এবং জড়, ঘটবৎ পরিদৃশ্যমানঃ – ঘটের মতো কিছুকাল মাত্র দৃশ্যমান,
ভাববিকারবেত্তা- দেহাদির পরিনামের দ্রষ্টা, স্ব-আত্মা – নিজের আত্মা, কথং ভবতি – কি করে হয়?
সরলার্থ – এই অন্নময় কোশ জন্মের পূর্বে এবং
মৃত্যুর পরেও থাকে না, প্রতিক্ষণে জন্মগ্রহণ করে, প্রতিক্ষণে নাশ হয় অর্থাৎ ক্ষণভঙ্গুর
এবং অস্থির স্বভাব সম্পন্ন। এটি অনেক তত্ত্বের সংঘাত বা সমষ্টি, জড় ও ঘটের সমান দৃশ্য।
অতএব এটি ভাব ও বিকারের জ্ঞাতা নিজ আত্মা কি প্রকারে হতে পারে।
পাণিপাদাদিমান্ দেহো
নাত্মা ব্যঙ্গে৳পি জীবনাৎ।
তত্তেচ্ছক্তেরনাশাচ্চ
ন নিয়ম্যো নিয়ামকঃ।।১৫৬
শব্দার্থ -বি-অঙ্গে
অপি – অঙ্গহীন হলেও, জীবনাৎ - জীবন থাকে বলে, পাণিপাদাদিমান্ দেহ – হস্তপদাদিযুক্ত দেহ, আত্মা ন – আত্মা নয়,তৎ-তৎ-শক্তেঃ – সেই সেই শক্তির, অনাশাৎ - নাশ হয়
না বলে, নিয়ম্যঃ ন – সীমার অধীন নয়, নিয়ামকঃ – দেহাদির নিয়ন্তা।
সরলার্থ – কোন অঙ্গ বিশেষের নাশ হলেও মানুষ
জীবিত থাকে। অঙ্গনাশের সঙ্গে অঙ্গের শক্তি নষ্ট হয় না ( ভেতরে অনুভব হয়)। তাই হস্তপদাদিযুক্ত
দেহ আত্মা হতে পারে না। আত্মা দেহাদির অধীন নয়, কিন্তু দেহাদির পরিচালক।
দেহ-তদ্ধর্ম-তৎকর্ম-তদবস্থাদিসাক্ষিণঃ।
সত এব স্বতঃসিদ্ধং তদ্বৈলক্ষণ্যমাত্মনঃ।।১৫৭
শব্দার্থ – দেহ-তদ্ধর্ম-তৎকর্ম-তৎ-অবস্থাদি-সাক্ষিণঃ
– দেহ ও দেহের ধর্ম-কর্ম-অবস্থাদির
সাক্ষী, সতঃ আত্মনঃ – সৎস্বরূপ আত্মার, তৎ- বৈলক্ষণ্যম্ - দেহের থেকে পার্থক্য, স্বতঃসিদ্ধম্ এব
– নিজের থেকেই প্রমাণিত।
সরলার্থ – দেহ, তার ধর্ম(জন্ম, মৃত্যু, স্থূলতা,কৃশতা
ইত্যাদি), তার কর্ম(গমন, অবস্থান প্রভৃতি), তার অবস্থাদির(বাল্য, যৌবন, গৌর বর্ণ ইত্যাদি)
দ্রষ্টা সত্যস্বরূপ আত্মা দেহ থেকে পৃথক অতি সহজে প্রমাণিত হয়।
[ঘটের দ্রষ্টা ঘট থেকে
পৃথক হয়ে থাকে। তেমন শরীরের দ্রষ্টা শরীর থেকে
পৃথক হয়ে থাকে। কেননা শরীর জড় হওয়ার শরীরের
সাক্ষী বা দ্রষ্টা হতে পারে না। সাক্ষী সর্বদাই সাক্ষ্য থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এই তথ্য এত যুক্তিযুক্ত যে
তা প্রমাণ করতে কোন কিছুর প্রয়োজন হয় না। এটি স্বতঃসিদ্ধ।]
শল্যরাশির্মাংসলিপ্তো
মলপূর্ণো৳তিকশ্মলঃ।কথং ভবেদয়ং বেত্তা স্বয়মেতদ্বিলক্ষণঃ।।১৫৮
শব্দার্থ – শল্যরাশিঃ -অস্থির সমাবেশে গঠিত,
মাংসলিপ্তঃ – মাংসের দ্বারা ঢাকা, মলপূর্ণ – মলপূর্ণ, অতি কশ্মলঃ – অত্যন্ত মলিন,অয়ম্ - এই দেহ, এতৎ বিলক্ষণঃ – এর থেকে পৃথক, স্বয়ং বেত্তা – কোন প্রমাণ ছাড়া জানা যায়, কথং
ভবেৎ - কী করে হতে পারে?
সরলার্থ – অস্থি সকল মাংস দ্বারা আবৃত এবং
মলপূর্ণ এই অতি কুৎসিৎ দেহ। এ কী করে নিজ থেকে ভিন্ন আপন জ্ঞাতা স্বয়ং আত্মা হতে পারে?
[আত্মা প্রকাশকঃ স্বচ্ছো
দেহস্তামস উচ্যতে।
তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি
কিমজ্ঞানমতঃ পরম্।।-- অপরোক্ষানুভূতি
আত্মা সর্ব প্রকাশক
এবং নির্মল, দেহ তমোময় ঐ দুয়ের একতা দেখবার মত আর বড় অজ্ঞান কি হতে পারে?
ত্বঙ্মাংসমেদো৳স্থিপুরীষরাশা-
বহংমতিং মূঢ়জনঃ করোতি।
বিলক্ষণং বেত্তি বিচারশীলো
নিজস্বরূপং পরমার্থভূতম্।।
১৫৯
শব্দার্থ – মূঢ়জনঃ – অজ্ঞ ব্যক্তি, ত্বক্-মাংস-মেদ-পুরীষরাশৌ-
ত্বক্ মাংস ইত্যাদি দ্বারা পূর্ণ শরীরে, অহংমতিং – আমি জ্ঞান, করোতি – করে,বিচারশীলঃ -বিচারশীলব্যক্তি, নিজস্বরূপং -নিজের স্বরূপকে, পরমার্থভূতং
– পরমার্থস্বরূপ, বিলক্ষণং বেত্তি
– অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা জানে।
সরলার্থ – চর্ম, মাংস, মেদ, অস্থি ও মলরাশির
সমষ্টি এই শরীরে মূঢ়জনই অহং বুদ্ধি বা আমি বুদ্ধি করে থাকে। বিচারশীল ব্যক্তি তো আপন
পরমার্থ স্বরূপকে এর থেকে পৃথক জানেন।
দেহো৳হমিত্যেব জড়স্য
বুদ্ধি-
র্দেহে চ জীবে চ বিদুষস্ত্বহংধীঃ।
বিবেকবিজ্ঞানবতো মহাত্মনো
ব্রহ্মাহমিত্যেব মতিঃ
সদাত্মনি।। ১৬০
শব্দার্থ – জড়স্য এব – জড়বুদ্ধি ব্যক্তিরই, অহম্ দেহঃ – আমি দেহ, , ইতি বুদ্ধিঃ – এই রকম বুদ্ধি হয়, তু বিদুষঃ – কিন্তু বিদ্বানের, দেহে জীবে চ
- দেহে ও জীবাত্মায়, অহংধীঃ -অহং বুদ্ধি হয়,
বিবেকবিজ্ঞানবতঃ – বিচারের দ্বারা জ্ঞানবান, মহাত্মনঃ -মহাত্মার, সদা – সর্বদা, আত্মনি – আত্মায়, অহং ব্রহ্ম এব – আমি ব্রহ্মই, ইতি মতিঃ – এই ধারণা হয়।
সরলার্থ – জড় ব্যক্তিদের আমিই দেহ বা দেহই
আমি এই প্রকার অহংবুদ্ধি হয়ে থাকে। বিদ্বান্ অর্থাৎ যারা কেবল শাস্ত্র পড়েছেন কিন্তু
আত্মজ্ঞান লাভ করেন নি তারা জীবাত্মাকে অহংবুদ্ধি করেন। বিবেক-বিজ্ঞানযুক্ত মহাত্মাদের
আমি ব্রহ্ম সত্যস্বরূপ আত্মাতেই সর্বদা দৃঢ় বুদ্ধি হয়।
অত্রাত্মবুদ্ধিং ত্যজ
মূঢ়বুদ্ধে
ত্বঙ্মাংস-মেদো৳স্থি-পুরীষ্রাশৌ।
সর্বাত্মনি ব্রহ্মণি
নির্বিকল্পে
কুরুষ্ব শান্তিং পরমাং
ভজস্ব।। ১৬১
শব্দার্থ – মূঢ়বুদ্ধে - ওরে নির্বোধ, অত্র ত্বক্-মাংস-মেদঃ-অস্থি-পুরীষরাশৌ
– এই ত্বক্ মাংস, মেদ অস্থি ও পুরীষের
রাশিতে, আত্মবুদ্ধিং ত্যজ – আমি বুদ্ধি ত্যাগ কর, সর্বাত্মনি নির্বিকল্পে ব্রহ্মণি – সকলের আত্মস্বরূপ নির্বিকল্প ব্রহ্মে,
কুরুষ্ব – কর, পরমাং শান্তিং ভজস্ব- পরম শান্তি লাভ কর।
সরলার্থ -ওরে মুর্খ,
এই ত্বক্, মাংস, মেদ, অস্থি ও মলাদিসমূহে আত্মবুদ্ধি পরিত্যাগ কর এবং সর্বাত্মা নির্বিকল্প
ব্রহ্মেই আত্মভাব করে পরশান্তি লাভ কর।
দেহেন্দ্রিয়াদাবসতি
ভ্রমোদিতাং
বিদ্বানহংতাং ন জহাতি
যাবৎ।
তাবন্ন তস্যাস্তি বিমুক্তিবার্তাহ-
প্যস্ত্বেষ বেদান্তনয়ান্তদর্শী।
১৬২
শব্দার্থ – বিদ্বান্ - বিদ্বান ব্যক্তি, অসতি
দেহ-ইন্দ্রিয়াদৌ – মিথ্যা দেহ ইন্দ্রিয় প্রভৃতিতে, ভ্রমোদিতাং – ভ্রম থেকে উদিত, অহংতাং – ‘আমি’ জ্ঞানকে, যাবৎ - যতক্ষণ, ন জহাতি – ত্যাগ না করছে, তাবৎ - ততক্ষণ,
তস্য – তার, বিমুক্তিবার্তা ন – মুক্তির বার্তা আসে না, অপি – যদিও, এষঃ – এই ব্যক্তি, বেদান্ত-নয়ন্তদর্শী
– বেদান্ত ও নীতিশাস্ত্রে পণ্ডিত,
অস্তু – হয়।
সরলার্থ – বিদ্বান্ যে পর্যন্ত অসৎ দেহ ও
ইন্দ্রিয়াদিতে ভ্রমবশত উৎপন্ন অহংভাব ত্যাগ না করেন, সে পর্যন্ত তিনি বেদান্ত সিদ্ধান্তের
পারদর্শী হলেও তার মুক্তির কোন কথাই উঠতে পারে না।
[ সার কথা হল ব্রহ্মবিদ্যা
বিষয়ক শাস্ত্র পড়লেই মুক্তি হয় না। জীব-ব্রহ্মের একতার অপরোক্ষ অনুভব বা সাক্ষাৎ অনুভব
হওয়া প্রয়োজন।
ছায়াশরীরে প্রতিবিম্বগাত্রে
যৎ স্বপ্নদেহে হৃদি কল্পিতাঙ্গে।
যথাত্মবুদ্ধিস্তব নাস্তি
কাচিজ্-
জীবচ্ছরীরে চ তথৈব মাস্তু।।
১৬৩
শব্দার্থ - শব্দার্থ
– যথা – যেমন , ছায়া শরীরে – নিজের ছায়ায়, প্রতিবিম্বগাত্রে – জলে বা দর্পণে দেখা প্রতিবিম্বে,
যৎ স্বপ্ন দেহে, যেমন স্বপ্নে দেখা শরীরে, হৃদি কল্পিতাঙ্গে – হৃদয়ের মধ্যে কল্পিত শরীরে, যথা
তব – যেমন তোমার, কাচিৎ - কোন রকমেরই,
আত্মবুদ্ধিঃ – আমি জ্ঞান, ন অস্তি – থাকে না, জীবৎ-শরীরে চ – জীবিত শরীরেও , তথা এব -সেই রকমই, মা অস্তু – না থাকুক।
সরলার্থ – ছায়া, প্রতিবিম্ব, স্বপ্ন এবং মনের
কল্পিত কোন শরীরে যেমন তোমার কখনও আত্মবুদ্ধি হয় না, তেমনি জীবিত শরীরেও কখন আত্মবুদ্ধি
যেন না হয়।
[নিজের ছায়া দেখে যেমন
কেউ বলে না আমি ছায়া অথবা দর্পণে নিজ প্রতিবিম্ব থেকে যেমন কেউ বলে না আমি প্রতিবিম্ব।
এই যুক্তি দ্বারা এই স্থূল শরীর দেখে বলা উচিত নয় যে আমি স্থূল শরীর]
দেহাত্মধীরেব নৃণামসদ্ধিয়াং
জন্মাদিদুঃখপ্রভবস্য
বীজম্।
যতস্ততস্তং জহি তাং
প্রযত্নাৎ
ত্যক্তে তু চিত্তে ন
পুনর্ভবাশ।। ১৬৪
শব্দার্থ -যতঃ -যেহেতু
, দেহাত্মধীঃ এব -দেহে আত্মবুদ্ধিই, অসৎ-ধিয়াং নৃণাম্ - অশুদ্ধ বুদ্ধির সব মানুষের,
জন্মাদি-দুঃখ-প্রভবস্য -জন্মমরণাদি দুঃখের উৎপত্তির, বীজম্ - কারণ, ততঃ – সে কারণে, ত্বং- তুমি, তাং – দেহে আত্মবুদ্ধিকে, প্রযত্নাৎ
- যত্নের সঙ্গে, জহি -ত্যাগ কর, তু – অবশ্যই, চিত্তে ত্যক্তে – চিত্তে উৎপন্ন দেহে আত্মবুদ্ধি ত্যাগ হলে, পুনঃ -পুনরায়, ভব-আশা ন – জন্মাদির সম্ভাবনা থাকে না।
সরলার্থ – যেহেতু দেহাত্মবুদ্ধিই মানবের জন্মাদি
দুঃখসমূহের উৎপত্তির কারণ। অতএব তুমি যত্নসহকারে তা ত্যাগ কর। ঐ প্রকার বুদ্ধির পরিত্যাগে
আর পুনর্জন্মের কোন আশঙ্কা থাকবে না।
[দেহে আত্মবুদ্ধির জন্যই
বার বার দেহ ধারণ করতে হয়। এই বুদ্ধির পরিত্যাগে
ব্রহ্মে অহংবুদ্ধি হয়। ব্রহ্মে অহংভাব সুদৃঢ় হলে আর জন্ম কোথায়।]
প্রাণময় কোশ
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ পঞ্চভিরঞ্চিতো৳য়ং
প্রাণো ভবেৎ প্রাণময়স্তু
কোশঃ।
যেনাত্মবানন্নময়ো৳নুপূর্ণঃ
প্রবর্ততে৳সৌ সকলক্রিয়াসু।।
১৬৫
শব্দার্থ – পঞ্চভিঃ কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ – পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে, অঞ্চিতঃ
-সহযুক্ত, অয়ং প্রাণঃ তু – এই প্রাণই, প্রাণময়ঃ কোশঃ ভবেৎ - প্রাণময়
কোশ হয়েছে, যেন – যে প্রাণময়কোশের দ্বারা, অনুপূর্ণঃ -ভেতর থেকে পূর্ণ, আত্মবান্ - চেতনাযুক্ত,
অসৌ অন্নময়ঃ – এই অন্নময়কোশ, সকলক্রিয়াসু – সকল কর্মে, প্রবর্ততে – প্রবৃত্ত হয়।
সরলার্থ – পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা যুক্ত
এই প্রাণই প্রাণময় কোশ বলে কথিত হয়ে থাকে। এই প্রাণময় কোশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্নময়
কোশ অন্নদ্বারা তৃপ্ত হয়ে সমস্ত কাজ করে থাকে।
নৈবাত্মাপি প্রাণময়ো
বায়ুবিকারো
গন্তাগন্তা বায়ুবদন্তর্বহিরেষঃ।
যস্মাৎ কিঞ্চিৎ ক্বাপি
ন বেত্তিষ্টমনিষ্টং
স্বং বান্য বা কিঞ্চন
নিত্যং পরতন্ত্রঃ।। ১৬৬
শব্দার্থ – এষঃ প্রাণময়ঃ অপি – এই প্রাণময়কোশও, বায়ুবিকারঃ – অপঞ্চীকৃত বায়ুর বিকার, আত্মা ন
এব – জীবাত্মা নয়, যস্মাৎ - যেহেতু, এষঃ বায়ুবৎ - এ বায়ুর মতো,অন্তঃ -বহিঃ – ভেতরে ও বাইরে, গন্তা-আগন্তা – যাতায়াতকারী , ক্ব-অপি – কখনও, কিম্-চিৎ -কিছু মাত্র, ইষ্টম্
অনিষ্টম্ - ভালো মন্দ, স্বং বা – নিজেকে বা, কিম্ চন অন্যং বা – অন্য কাকেও, ন বেত্তি – জানে না, নিত্যং পরতন্ত্রঃ – সর্বদা পরের অর্থাৎ মনের অধীন।
সরলার্থ – প্রাণময় কোশ কিন্তু আত্মা নয়। তা
বায়ুর বিকার। বায়ুর সমানই তা বাইরে ও ভেতরে গতিশীল। এবং নিত্য পরতন্ত্র বা পরবশ। বায়ু
কখনও নিজের ইষ্ট-অনিষ্ট, আপন পর কিছুই জানে না, কারণ তা নিজে জড় বস্তু।
মনোময় কোশ
জ্ঞানেন্দ্রিয়াণি চ
মনশ্চ মনোময়ঃ স্যাৎ
কোশো মমাহমিতি বস্তুবিকল্পহেতুঃ।
সংজ্ঞাদিভেদকলনাকলিতো
বলীয়াং-
স্তৎপূর্বকোশমভিপূর্য
বিজৃম্ভতে যঃ।। ১৬৭
শব্দার্থ – জ্ঞানেন্দ্রিয়াণি – জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলি, চ মনঃ – এবং মন, মনোময়ঃ কোশঃ স্যাৎ - মনোময়কোশ
রূপে বিদ্যমান, মম-অহম্-ইতি – আমার ও আমি এই ভাব, বস্তু বিকল্পহেতুঃ – নানা বস্তুর বিভিন্ন রূপ ভাবনার হেতু, সংজ্ঞাদিভেদ-কলনাকলিতঃ
-নাম, রূপ ও ক্রিয়ার বিভিন্নতার ধারণাযুক্ত, বলীয়ান্- বলবান, যঃ- যে, তৎ পূর্বকোশম্
-তার আগের কোশকে, অভিপূর্য বিজৃম্ভতে – পরিবৃত করে প্রকাশ পায়।
সরলার্থ – জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং মনই আমি আমার
ইত্যাদি বিকল্পের হেতু মনোময় কোশ। এই মনোময় কোশকে নামাদি ভেদ-কলনার বা স্ফুরণের দ্বারা
জানা যায় এবং এটি অত্যন্ত বলবান্ ও অন্নময় ও প্রাণময় কোশ দুটিকে ব্যাপ্ত করে থাকে।
পঞ্চন্দ্রিয়ৈঃ পঞ্চভিরেব
হোতৃভিঃ
প্রচীয়মানো বিষয়াজ্যধারয়া।
জাজ্বল্যমানো বহুবাসনেন্ধনৈ-
র্মনোময়াগ্নির্বহতি
প্রপঞ্চম্।। ১৬৮
শব্দার্থ – পঞ্চেন্দ্রিয়ৈঃ পঞ্চভিঃ এব হোতৃভিঃ
– পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয়রূপ পাঁচজন হোতার
দ্বারা, বহু-বাসনা-ইন্ধনৈঃ -বহু বাসনার ইন্ধনের দ্বারা, জাজ্বল্যমানঃ – প্রজ্বালিত, বিষয়-আজ্য-ধারয়া – বিষয়রূপ ঘৃতাহুতির দ্বারা, প্রচীয়মানঃ
– পরিবর্ধিত, মনোময়াগ্নিঃ -মনোময়কোশ
রূপ অগ্নি, প্রপঞ্চম্ বহতি – বিশ্বজগৎকে বয়ে নিয়ে আসে।
সরলার্থ – পাঁচ ইন্দ্রিয়রূপ পাঁচ হোতার দ্বারা
বিষয়রূপী ঘৃতের আহুতির সাহায্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত এবং নানা প্রকারের বাসনা এরূপ ইন্ধনের
যোগে প্রজ্বলিত এই মনোময় অগ্নি সম্পূর্ণ দৃশ্য প্রপঞ্চকে দগ্ধ বা সন্তপ্ত করে।
[সার কথা হল যখন ইন্দ্রিয়বর্গ
বাসনারূপ ইন্ধনকে জ্বালিয়ে প্রকটিত মনোময় অগ্নিতে বিষয়কে আহুতি দেয় তখন এই সম্পূর্ণ
বিশ্বসংসার সন্তপ্ত হয়।]
ন হ্যস্ত্যবিদ্যা মনসো৳তিরিক্তা
মনোহ্যবিদ্যা ভববন্ধহেতুঃ।
তস্মিন্ বিনষ্টে সকলং
বিনষ্টং
বিজৃম্ভিতে৳স্মিন্
সকলং বিজৃম্ভতে।। ১৬৯
শব্দার্থ – মনসঃ অতিরিক্তা – মনের থেকে আলাদা অন্য, অবিদ্যা
ন হি অস্তি – অবিদ্যা কিছুই নেই, মনঃ হি ভববন্ধহেতুঃ - মনই সংসার বন্ধনের হেতু, অবিদ্যা
– অবিদ্যা, তস্মিন্ বিনষ্টে – সেই মনের নাশ হলে, সকলং বিনষ্টং
– সমস্ত সংসারবন্ধন বিনষ্ট হয়ে যায়,
অস্মিন্ বিজৃম্ভিতে – এই মনের প্রকাশ হলে, সকলং বিজৃম্ভিতে – সব কিছু প্রকাশ হয়।
সরলার্থ – মনের অতিরিক্ত অবিদ্যা নামে অন্য
কিছুই নেই। মনই ভব বন্ধনের একমাত্র হেতু অবিদ্যা। তা নষ্ট হলে সবই নষ্ট হয়ে যায়। এবং
তার জাগরণে সব কিছুর প্রতীতি বা উপলব্ধি হয়ে থাকে।
[মন এব মনুষ্যাণাং কারণং
বন্ধমোক্ষয়োঃ…]
স্বপ্নে৳র্থশূন্যে সৃজতি
স্বশক্ত্যা
ভোক্তাদি বিশ্বং মন
এব সর্বম্।
তথৈব জাগ্রত্যপি নো
বিশেষ-
স্তৎসর্বমেতন্মনসো বিজৃম্ভনম্
।।১৭০
শব্দার্থ – মনঃ এব – মনই, অর্থশূন্যে স্বপ্নে – বিষয়শূন্যে,স্বশক্ত্যা – নিজের শক্তির দ্বারা, সর্বং – সমস্ত, ভোক্তৃ-আদি বিশ্বম্ - ভোক্তা ও ভোগরূপ বিশ্ব, সৃজতি -সৃষ্টি করে, তথা
এব – সে ভাবেই, জাগ্রতি অপি – জেগে থাকা অবস্থাতেও, নো বিশেষঃ
– কোন তফাৎ নেই, তৎ - সেজন্য, এতৎ
সর্বম্ -এই সব স্বপ্ন ও জাগ্রত অবস্থায় দেখা বস্তু, মনসঃ বিজৃম্ভণম্ - মনেরই প্রকাশ।
সরলার্থ – যে অবস্থাতে পদার্থ বলে কিছুই থাকে
না, সেই স্বপ্নাবস্থাতে মনই নিজ শক্তির প্রভাবে সম্পূর্ণ ভোক্তা-ভোগ্যাদি প্রপঞ্চ রচনা
করে। সেই রকম জাগ্রৎ অবস্থাতেও কোন বৈশিষ্ট্য বা প্রভেদ নেই। অতএব এ সবই মনের বিলাসমাত্র
বলে জানবে।
সুষুপ্তিকালে মনসি প্রলীনে
নৈবাস্তি কিঞ্চিৎসকলপ্রসিদ্ধেঃ।
অতো মনঃকল্পিত এব পুংসঃ
সংসার এতস্য ন বস্তুতো৳স্তি।।
১৭১
শব্দার্থ – সুষুপ্তিকালে
– সুষুপ্তির সময়, মনসি প্রলীনে – মন অবিদ্যাতে
লীন হয়ে গেলে, কিম্-চিৎ-এব – কিছুমাত্রও, ন অস্তি
– নেই, সকলপ্রসিদ্ধেঃ – সকলের কাছে
অনুভূত হয় বলে, অতঃ -এই কারণে, এতস্য পুংসঃ – এই পুরুষের,
সংসারঃ – সংসার, মনঃকল্পিত এব – মনের দ্বারাই
কল্পিত, বস্তুতঃ ন অস্তি – বস্তুত তা নেই।
সরলার্থ – সুষুপ্তিকালে
অর্থাৎ গভীর নিদ্রাতে মন লীন হয়ে গেলে কিছুই যে থাকে না, তা সকলের জানা আছে। অতএব পুরুষের
অর্থাৎ জীবের এই সংসার মনেরই কল্পনা মাত্র। বস্তুতঃ এর কোন অস্তিত্ব নেই।
[বন্ধন ও মুক্তি মনের
কল্পনা]
বায়ুনা৳নীয়তে মেঘঃ পুনস্তেনৈব
নীয়তে।
মনসা কল্প্যতে বন্ধো
মোক্ষস্তেনৈব কল্প্যতে।। ১৭২
শব্দার্থ – বায়ুনা
– বায়ুর দ্বারা, মেঘঃ আনীয়তে – মেঘ আনীত
হয়, পুনঃ – আবার, তেন এব – তার দ্বারাই,
নীয়তে- অপসারিত হয়। বন্ধঃ – বন্ধন, মনসা – মনের দ্বারা,
কল্প্যতে -কল্পিত হয়, তেন এব – সেই মনের দ্বারাই,
মোক্ষঃ – মুক্তি, কল্প্যতে – কল্পিত
হয়।
সরলার্থ – মেঘ যেমন
বায়ুর দ্বারাই চালিত হয়ে আসে এবং পুনরায় বায়ুর দ্বারাই চালিত হয়ে চলে যায়, সেই রকম
মনের কল্পনা থেকেই বন্ধন ও মনের কল্পনা থেকেই মোক্ষ হয়ে থাকে।
[বাস্তবিক আত্মার বন্ধন
ও মোক্ষ বলে কিছু নেই, আত্মা সর্বদাই মুক্ত। বন্ধ মোক্ষৌ ন বিদ্যতে নিত্যমুক্তস্য চাত্মনঃ
। সার কথা হল , মনঃ এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমোক্ষয়োঃ। মনই মনুষ্যের বন্ধন ও মোক্ষের
কারণ। অতএব মন নাশ করতে পারলেই সব ঝঞ্ঝাট মিটে যায়। বাসনার ক্ষয় না হলে মনের নাশ হয়
না।]
দেহাদিসর্ববিষয়ে পরিকল্প্য
রাগং
বধ্নাতি তেন পুরুষং
পশুবদ্ গুণেন।
বৈরস্যমত্র বিষবৎ সুবিধায়
পশ্চাদেনং
বিমোচয়তি তন্মন এব বন্ধাৎ।।
১৭৩
শব্দার্থ – তৎ মনঃ
এব – সেই মনই, দেহাদি-সর্ব বিষয়ে – দেহ ইন্দ্রিয়
ও রূপরসাদিতে, রাগং – অনুরাগ , পরিকল্প্য
– সৃষ্টি করে, তেন গুণের – সেই অনুরাগের
রজ্জু দিয়ে, পশুবৎ - পশুর মতো, পুরুষং -পুরুহকে,
বধ্নাতি – বেঁধে রাখে, পশ্চাৎ
- অন্য সময়ে, অত্র – সব বিষয়ে,
বিষবৎ - বিষের মত, বৈরস্যং -বিতৃষ্ণা, সু-বিধায় – সম্যক্
রূপে বিধান করে, এনং এই জীবকে, বন্ধাৎ বিমোচয়তি – বন্ধন থেকে
মুক্ত করে।
সরলার্থ – এই মনই
দেহাদি সব বিষয়সমূহে আসক্তি কল্পনা করে পশুকে যেমন রজ্জুদ্বারা বন্ধন করে সেই রকম জীবকে
উত্তমরূপে বেঁধে ফেলে। আবার বিষয়ের প্রতি বিষবৎ দৃষ্টি উৎপন্ন করে জীবকে বন্ধন থেকে
মুক্ত করে।
[ বিষয়াসক্তিই বন্ধন
এবং বিষয়-বিরক্তিই মোক্ষ]
তস্মান্মনঃ কারণস্য
জন্তো
র্বন্ধস্য মোক্ষস্য
চ বা বিধানে।
বন্ধস্য হেতুর্মলিনং
রজোগুণৈ-
র্মোক্ষস্য শুদ্ধং বিরজস্তমস্কম্।।
১৭৪
শব্দার্থ – তস্মাৎ
- সেজন্য, অস্য জন্তোঃ – এই জাতকের, বন্ধস্য মোক্ষস্য চ বা বিধানে – বন্ধন বা
মুক্তির বিধান করতে, মনঃ কারণম্ - মনই কারণ, রজোগুণৈঃ মলিনং – রজোগুণের
দ্বারা মলিন, বন্ধস্য হেতুঃ – বন্ধনের কারণ, বিরজঃ
– স্তমস্কম্ - রজঃ ও তমোগুণ বর্জিত, শুদ্ধং – শুদ্ধ মন,
মোক্ষস্য – মোক্ষের কারণ।
সরলার্থ – এই জন্য
জীবের বন্ধন ও মোক্ষের বিধানে মনই একমাত্র
কারণ। রজোগুণের দ্বারা এই মন মলিন হয়ে বন্ধনের হেতু হয় এবং এই মনই রজ-তম বিরহিত শুদ্ধ
সাত্ত্বিক হয়ে মোক্ষের কারণ হয়ে থাকে।
বিবেকবৈরাগ্যগুণাতিরেকাচ্-
চ্ছুদ্ধত্বমাসাদ্য মনো
বিমুক্তৈ।
ভবত্যতো বুদ্ধিমতো মুমুক্ষো-
স্তাভ্যাং দৃঢ়াভ্যাং
ভবিতব্যমগ্রে।। ১৭৫
শব্দার্থ – বিবেক-বৈরাগ্য-গুণাতিরেকাৎ
- বিবেকবৈরাগ্য গুণের বৃদ্ধি থেকে, শুদ্ধত্বম্-আসাদ্য
– শুদ্ধত্ব প্রাপ্ত হয়ে, মনঃ – মন, বিমুক্ত্যৈ
ভবতি - মুক্তির কারণ হয়, অতঃ – অতএব, বুদ্ধিমতঃ
মুমুক্ষোঃ – বুদ্ধিমান মুমুক্ষুর, অগ্রে – প্রথমেই,
দৃঢ়াভ্যাম্ তাভ্যাং – দৃঢ় বিবেকবৈরাগ্য যুক্ত,
ভবিতব্যম্ - হওয়া কর্তব্য।
সরলার্থ – বিবেক-বৈরাগ্যাদি
গুণের উৎকর্ষ নিবন্ধন মন শুদ্ধতা প্রাপ্ত হয়ে মুক্তির হেতু হয়, অতএব বুদ্ধিমান মুমুক্ষুর
প্রথমে এই দুটি অর্থাৎ জ্ঞান ও বৈরাগ্য দৃঢ় হওয়া আবশ্যক।
[জ্ঞান ও বৈরাগ্য মুমুক্ষুকে
শীঘ্র মুক্তির দিকে নিয়ে যায়, তাই সাধন পথে এদের এত মহত্ত্ব।]
মনো নাম মহাব্যাঘ্রো
বিষয়ারণ্যভূমিষু।
চরত্যত্র ন গচ্ছন্তু
সাধবো যে মুমুক্ষুবঃ।।১৭৬
শব্দার্থ – মনঃ নাম
মহাব্যাঘ্রঃ – মন নামের মহাব্যাঘ্র, বিষয়-অরণ্যভূমিষু
– বিষয়ের অরণ্যভূমিতে, চরতি – বিচরণ করে,
অত্র – এরি বিষয়ের মধ্যে, মুমুক্ষবঃ -মুমুক্ষু,
যে সাধবঃ – যে সব সাধু আছেন তারা, ন গচ্ছন্তু – যেন না
যান।
সরলার্থ – মন নামে
ভয়ঙ্কর বাঘ বিষয়রূপ বনে বিচরণ করে। যে সাধু
মুমুক্ষু তিনি যেন কখনও সেখানে না যান।
মনঃ প্রসূতে বিষয়ানশেষান্
স্থূলাত্মনা সূক্ষ্মতয়া চ ভোক্তুঃ।
শরীরবর্ণাশ্রমজাতিভেদান্
গুণক্রিয়াহেতুর্ফলানি নিত্যম্।।১৭৭
শব্দার্থ – স্থূল-আত্মনা
– জাগ্রত অবস্থায় স্থূলরূপে, সূক্ষ্মতয়া – স্বপ্নে
সূক্ষ্মরূপে, অশেষান্ বিষয়ান্ - অসংখ্য বিষয়, মনঃ প্রসূতে – মন সৃষ্টি
করে, চ -এবং, ভোক্তুঃ -ভোক্তা জীবের, শরীর-বর্ণ-আশ্রম-জাতি-ভেদান্ - গুণ ক্রিয়া হেতু
ও সমস্ত ফল , নিত্যম্ - অনবরত সৃষ্টি করে।
সরলার্থ -মনই সম্পূর্ণ
স্থূল-সূক্ষ্ম বিষয়সমূহকে, শরীর, বর্ণ, আশ্রম,জাত্যাদি নানা প্রকারভেদ এবং গুণ ক্রিয়া,
হেতু ও ফলাদি ভোক্তার জন্য সদা উৎপন্ন করে থাকে।
অসঙ্গচিদ্রূপমমুং বিমোহ্য দেহেন্দ্রিয়প্রাণগুণৈর্নিবধ্য।
অহং মমেতি ভ্রময়ত্যজস্রং
মনঃ স্বকৃত্যেষু ফলোপভুক্তিষু।। ১৭৮
শব্দার্থ – অসঙ্গ-চিৎ-রূপম্
- সঙ্গরহিত ও চৈতন্যস্বরূপ, অমুং -জীবাত্মাকে, বিমোহ্য – বিমোহিত
করে, দেহ-ইন্দ্রিয়-প্রাণ-গুণৈঃ – দেহ-ইন্দ্রিয় প্রাণরূপ
রজ্জুর দ্বারা বন্ধন করে, অহং মম ইতি – আমি ও আমার
এই ভাবে, ফল উপভুক্তিষু – সুখ-দুঃখাদি ফলের উপভোগে,
স্বকৃত্যেষু – নিজের যা করার আছে সেইভাবে, মনঃ -মন,অজস্রং
– নিরন্তর, ভ্রময়তি – ভ্রমণ করায়।
সরলার্থ – এই অসঙ্গ
চিদ্রুপ আত্মাকে মোহিত করে এবং একে দেহ ইন্দ্রিয়, প্রাণাদি গুণের দ্বারা বেঁধে, এই
মনই আমি ও আমার ভাবে ভাবিত করে নিজ কর্ম ও তার ফল ভোগের জন্য নিরন্তর ভ্রমণ করাচ্ছে।
অধ্যাসদোষাৎ পুরুষস্য
সংসৃতিরধ্যাসবন্ধত্বমুনৈব কল্পিতঃ।
রজস্তমোদোষবতো৳বিবেকিনঃ
জন্মাদিদুঃখস্য নিদানমেতৎ।।১৭৯
শব্দার্থ – পুরুষস্য
– পুরুষের, অধ্যাসদোষাৎ - অধ্যাস দোষ থেকেই, সংসৃতিঃ
– জন্মমরণের সংসার, অধ্যাসবন্ধঃ-তু-অমুনা-এব – অধ্যাসরূপ
বন্ধন অবশ্যই এই মনের দ্বারা, কল্পিতঃ – কল্পিত, রজঃ-তমঃ-দোষবতঃ – রজঃ ও তমোরূপ
দোষযুক্ত, অবিবেকিনঃ – বিচারবিহীন পুরুষের,
এতৎ - এই মন, জন্মাদি-দুঃখস্য – জন্ম মরণাদি দুঃখের,
নিদানম্ -কারণ।
সরলার্থ – অধ্যাস
দোষে দূষিত পুরুষেরই জন্ম- মরণরূপ সংসার ভোগ
হয়ে থাকে এবং এই অধ্যাসের বন্ধন পুরুষের অর্থাৎ জীবের দ্বারা কল্পিত। রজঃ তমাদি দোষযুক্ত
অবিবেকী পুরুষের অধ্যাসই জন্মাদি দুঃখের মূল
হেতু।
অতঃ প্রাহুর্মনো৳বিদ্যাং
পণ্ডিতাস্তত্ত্বদর্শিনঃ।।
যেনৈব ভ্রাম্যতে বিশ্বং
বায়ুনেবাভ্রমণ্ডলম্।। ১৮০
শব্দার্থ – অতঃ -এই
কারণে, তত্ত্বদর্শিনঃ -তত্ত্বদর্শী, পণ্ডিতাঃ – পণ্ডিতগণ,
মনঃ – মনই, অবিদ্যাম্ -অবিদ্যা, প্রাহুঃ
-বলে থাকেন, বায়ুনা – বায়ুর দ্বারা, অভ্রমন্ডলম্
ইব - মেঘ মন্ডলের মত, যেন এব – যার দ্বারা,
বিশ্বং -বিশ্ব, ভ্রাম্যতে – পরিচালিত হচ্ছে।
সরলার্থ – সেই জন্য
তত্ত্বদর্শী বিদ্বান ব্যক্তি মনকেই অবিদ্যা বলেন । বায়ুদ্বারা মেঘ যেমন ভাসতে থাকে
তেমনি সম্পূর্ণ বিশ্ব এই অবিদ্যাদ্বারা ঘুরতে থাকে।
তন্মনঃশোধনং কার্যং
প্রযত্নেন মুমুক্ষুণা।
বিশুদ্ধে সতি চৈতস্মিন্
মুক্তিঃ করফলায়তে।। ১৮১
শব্দার্থ – মুমুক্ষুণা-
মুক্তিকামীর দ্বারা, প্রযত্নেন – বিশেষ যত্নের দ্বারা
তৎ-মনঃ-শোধনং – সেই মলিন মনের শোধন করা, কার্যম্ -
কর্তব্য, চ এতস্মিন বিশুদ্ধে সতি – এই মন বিশুদ্ধ হলে,
মুক্তিঃ - ,মুক্তি, করফলায়তে – হাতে থাকা
ফলের মতো স্পষ্ট।
সরলার্থ – মুমুক্ষুর
যত্নসহাকারে মনের শোধন করা আবশ্যক। মনের শুদ্ধি
হলে মুক্তি হস্তে আমলকির ন্যায় অর্থাৎ অনায়াসে প্রাপ্ত হয়।
মোক্ষৈকসক্ত্যা বিষয়েষু
রাগং নির্মূল্য সংনস্য চ সর্বকর্ম।
সচ্ছ্রদ্ধয়া যঃ শ্রবণাদিনিষ্ঠো
রজঃস্বভাবং স ধুনোতি বুদ্ধেঃ।। ১৮২
শব্দার্থ – যঃ – যিনি, মোক্ষ-এক-সক্ত্যা
– মোক্ষের প্রতি একান্ত অনুরক্ত, বিষয়েষু – রূপরসাদি,
রাগং- আসক্তি,নির্মূল্য – মূল থেকে বিনষ্ট করে,
চ – এবং, সর্বকর্ম – সকল সকামকর্,
সংনস্য – ত্যাগ করে, সৎ-শ্রদ্ধয়া – সত-স্বরূপে
পূর্ণ বিশ্বাস রেখে, শ্রবণাদি-নিষ্ঠঃ – শ্রবণ,
মনন ও নিদিধ্যাসনে নিষ্ঠাযুক্ত, স; - তিনি, বুদ্ধেঃ -বুদ্ধির, রজঃ-স্বভাবং – বহির্মুখী
বৃত্তিকে, ধুনোতি – নাশ করেন।
সরলার্থ – মোক্ষের
অনুরাগে যে ব্যক্তি বিষয়ের আসক্তি নির্মূল করে এবং সব কাজ ত্যাগ করে, শুদ্ধ শ্রদ্ধাযুক্ত
হয়ে শ্রবণাদিতে তৎপর থাকেন, তিনি বুদ্ধির রজোময় স্বভাব যে চঞ্চলতা তা নষ্ট করেন।
মনোময় কোশ
মনোময়ো নাপি ভবেৎ পরাত্মা
হ্যাদ্যন্তবত্ত্বাৎ পরিণামিভাবাৎ।
দুঃখাত্মক্ত্বাদ্ বিষয়ত্বহেতোর্দ্রষ্টা
হি দৃশ্যাত্মতয়া ন দৃষ্টঃ।। ১৮৩
শব্দার্থ -আদি-অন্তবৎ-ত্বাৎ
- উৎপত্তি ও বিনাশশীল বলে, পরিণামিভাবাৎ - পরিণাম আছে বলে, দুঃখাত্মকত্বাৎ - দুঃখাত্মক
বলে, বিষয়ত্বহেতোঃ – জ্ঞানের বিষয় বলে,
মনোময়ঃ অপি – মনোময় কোশও, ন হি পরাত্মা ভবেৎ
- কখনই পরমাত্মা হতে পারে না। দ্রষ্টা হি – দ্রষ্টা
নিশ্চয়, দৃশ্যাত্মতয়া – দৃশ্যরূপে,
ন দৃষ্টঃ – দৃষ্ট হয় না।
সরলার্থ – মনোময় কোশোও
উৎপত্তি ও বিনাশশীল, পরিণামী, দুঃখদায়ক ও বিষয়রূপ। তা কখনও পরমাত্মা হতে পারে না। কারণ
দ্রষ্টা কখনও দৃশ্য হতে পারে না।
[দ্রষ্টা সর্বদাই দৃশ্য থেকে পৃথক হয়ে থাকে]
বিজ্ঞানময় কোশ
বুদ্ধির্বুদ্ধীন্দ্রিয়ৈঃ
সার্ধং সবৃত্তিঃ কর্তৃলক্ষণঃ।
বিজ্ঞানময়কোশঃ স্যাৎ
পুংসঃ সংসারকারণম্।।১৮৪
শব্দার্থ – বুদ্ধি-ইন্দ্রিয়ৈঃ
সার্ধং – পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় সহ, সবৃত্তিঃ – বৃত্তি
যুক্ত, কর্তৃলক্ষণঃ – আমি কর্তা এই লক্ষণযুক্ত,
বুদ্ধিঃ – বুদ্ধি, বিজ্ঞানময় কোশঃ স্যাৎ
- বিজ্ঞানময় কোশরূপে বিদ্যমান, পুংসঃ সংসার-কারণম্
- পুরুষের জন্মমৃত্যুর কারণ হয়।
সরলার্থ – জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলির
সঙ্গে বৃত্তিযুক্ত বুদ্ধিই কর্তৃত্বাভিমানী লক্ষণযুক্ত বিজ্ঞানময় কোশ। এই বিজ্ঞানময়
কোশ জীবের জন্মমরণরূপ সংসারের কারণ।
[একই অন্তকরণের সংশয়াত্মিকা
বৃত্তি মন ও নিশ্চয়াত্মিকা বৃত্তি বুদ্ধি। তাই মনের করণত্ব ও বুদ্ধির কর্তৃত্ব]
অনুব্রজচ্চিৎ প্রতিবিম্বশক্তিবিজ্ঞান্সংজ্ঞঃ
প্রকৃতের্বিকারঃ।
জ্ঞানক্রিয়াবানহমিত্যজস্রং
দেহেন্দ্রিয়াদিষ্বভিমন্যতে ভৃশম্।।১৮৫
শব্দার্থ – অনুব্রজৎ-চিৎপ্রতিবিম্ব
শক্তিঃ – চিৎ শক্তির প্রতিবিম্ব যাকে অনুসরণ করে, প্রকৃতেঃ বিকার – প্রকৃতির
বিকার, জ্ঞানক্রিয়াবান্ - জ্ঞান ও ক্রিয়াশক্তি সম্পন্ন, বিজ্ঞান-সংজ্ঞঃ – বিজ্ঞান
বলে খ্যাত, অজস্রং ভৃশম্ - সর্বদা সম্পূর্ণরূপে,
দেহেন্দ্রিয়াষু – দেহ ও ইন্দ্রিয়তে,
অহম্ -আমিই এই সব, ইতি – এই রকম, অভিমন্যতে
– অভিমান করে থাকে।
সরলার্থ – চিত্ত ও
ইন্দ্রিয়ের অনুগমনকারী চৈতন্যের প্রতিবিম্বশক্তিই ‘বিজ্ঞান’ নামক প্রকৃতির
বিকার। যা আমি জ্ঞানবান্ ও ক্রিয়াবান্ - এই প্রকার দেহ ও ইন্দ্রিয়াদিতে নিরন্তর অভিমান করছে।
অনাদিকালো৳ইয়মহংস্বভাবো
জীবঃ সমস্তব্যবহারবোঢ়া।
করোতি কর্মাণ্যপি পূর্ববাসনঃ
পুণ্যান্যপুণ্যানি চ তৎফলানি চ।।১৮৬
সরলার্থ – অহং বোধের
আশ্রয়, উৎপত্তি রহিত, বিজ্ঞানময় কোশ-রূপ এই জীব লৌকিক ও বৈদিক সকল কর্মের অনুষ্ঠান করে থাকে। পুনর্বাসনা দ্বারা পরিচালিত হয়ে তা সৎ অসৎ কর্মের অনুষ্ঠান
করে এবং সুখ দুঃখাদিরূপ কর্মের ফল ভোগ করে থাকে।
ভুঙ্ক্তে বিচিত্রাস্বপি
যোনিষু ব্রজন্নায়াতি নির্যাত্যধ ঊর্ধমেষঃ।
অস্যৈব বিজ্ঞানময়স্য
জাগ্রতস্বপ্নাদ্যবস্থাঃ সুখদুঃখভোগ।। ১৮৭
দেহাদিনিষ্ঠাশ্রমধর্মকর্মগুণাভিমানং
সততং মমেতি।
বিজ্ঞানকোশো৳ইয়মতিপ্রকাশঃ
প্রকৃষ্টসান্নিধ্যবশাৎ পরাত্মনঃ।।
অতো ভবত্যেষ উপাধিরস্য
যদাত্মধীঃ সংসরতি ভ্রমেণ।।১৮৮
শব্দার্থ – পরাত্মনঃ
– পরমাত্মার,প্রকৃষ্ট সান্নিধ্যবশাৎ - অত্যন্ত
নিকট সান্নিধ্যের ফলে, অতিপ্রকাশঃ – অতি প্রকাশধর্মী, অয়ং
বিজ্ঞানকোশঃ – এই বিজ্ঞানয় কোশ, দেহাদিনিষ্ঠ-আশ্রম-ধর্ম-কর্ম-গুণাভিমানং
– দেহাদিতে মনোযোগ ও আশ্রম বিহিত ধর্ম-কর্ম-গুণাদিতে
অভিমান, মম ইতি – আমারই সব, সততং – সর্বদা,
অতঃ – এজন্য, এষঃ – এই বিজ্ঞানময়
কোশ, অস্য – এই শুদ্ধ আত্মার, উপাধিঃ ভবতি – উপাধি হয়,
ভ্রমেণ – ভুল বশত, যৎ আত্মধীঃ – যাতে আমিত্ব
বুদ্ধি আরোপিত হয়, সংসরতি – সংসার করে।
সরলার্থ – পরমাত্মার একান্ত নিকটে থাকার জন্য বিজ্ঞানময় কোশ অত্যন্ত
প্রকাশ ধর্মী। দেহাদিকে আশ্রয় করে এ থাকে, আর আশ্রম বিহিত ধর্ম কর্ম গুণাদিতে আমারই
সব এই অভিমান নিয়ে সর্বদা আচরণ করে। এজন্য বিজ্ঞানময় কোশ শুদ্ধ আত্মার একটা উপাধিরূপে
থাকে ও ভ্রান্তি বশত একেই আমি বলে আত্মা সংসার করে।
যো৳য়ং বিজ্ঞানময়ঃ প্রাণেষু
হৃদি স্ফুরত্যয়ং জ্যোতিঃ।
কূটস্থঃ সন্নাত্মা কর্তা
ভোক্তা ভবত্যুপাধিস্থঃ।।১৮৯
শব্দার্থ – যঃ অয়ং
– এই যে, বিজ্ঞানময়ঃ – বিজ্ঞানময়,
প্রাণেষু – প্রাণের নিকটস্থ সব কর্ম ও জ্ঞানেন্দ্রিয়ে।
স্বয়ং পরিচ্ছেদমুপেত্য
বুদ্ধেস্তাদাত্ম্যদোষেণ পরং মৃষাত্মনঃ।
সর্বাত্মকঃ সন্নপি বীক্ষতে
স্বয়ং
স্বতঃ পৃথক্ত্বেন মৃদো
ঘটানিব।।১৯০
সরলার্থ – আত্মা স্বয়ং
সর্বাত্মক। কিন্তু মিথ্যা আত্মস্বরূপ বিজ্ঞানময় কোশের সসীমতা, তার সঙ্গে একাত্মবোধ
করার দোষে পরে স্বয়ং আত্মা নিজের থেকেই সবকিছু পৃথক পৃথক ভাবে দেখতের থাকেন। যেমন মাটির
তৈরী ঘটকে মাটি বলে না দেখে ঘট বলে ভাবে সাধারণ মানুষ।
উপাধিসম্বন্ধবশাৎপরাত্মা
হ্যুপাধিধর্মাননুভাতি
তদ্গুণ।
অয়োবিকারানবিকারিবহ্নিবৎ
সদৈকরূপো৳পি পরঃ স্বভাবাৎ।।
১৯১
সরলার্থ – উপাধিগুলির
সঙ্গে সম্বন্ধবশত সর্বদা একরূপ হয়েও পরমাত্মা নিজের স্বভাবের থেকে ভিন্ন উপাধির গুণযুক্ত
হয়ে উপাধির ধর্মগুলিই প্রকাশ করেন। অবিকারী অগ্নি যেমন লৌহপিণ্ডের সংযোগে তার আকার
অনুযায়ী বিকারপ্রাপ্তরূপে প্রতিভাত হয়।
[মুক্তি কি করে হবে?]
শিষ্য উবাচ
ভ্রমেণাপ্যন্যথা বা৳স্তু
জীবভাবঃ পরাত্মনঃ।
তদুপাধেরনাদিত্বান্নানাদের্নাশ
ইষ্যতে।।১৯২
সরলার্থ – শিষ্য বললেন, শুদ্ধ আত্মার জীবভাব ভ্রমবশত হোক বা অন্য যে কোনও
কারণে হোক না কেন তিনি যে উপাধি গ্রহণ করেন সেই অবিদ্যা উপাধি অনাদি বলা হয়। আনাদিবস্তুর
নাশ সম্ভব নয়।
অতো৳স্য জীবভাবো৳পি
নিত্যা ভবতি সংসৃতিঃ।
ন নিবর্তেত তন্মোক্ষঃ
কথং মে শ্রীগুরো বদ।।১৯৩
সরলার্থ – উপাধি অনাদি
বলে এদের নাশ হবে না আর দেহাভিমানী আত্মার জীবভাবও নিবৃত্ত হবে না। সংসারে যাতায়াতও
নিত্যকাল ধরে চলবে। তাহলে তার মুক্তি কি করে হবে? কাজেই, হে গুরুদেব, আমার নিজের মুক্তি
কি করে হবে। সেইটা আমায় একটু বুঝিয়ে বলুন।
[আত্মজ্ঞানই মুক্তির উপায়]
শ্রীগুরুঃ উবাচ
সম্যক্ পৃষ্টং ত্বয়া
বিদ্বন্ সাবধানেন তচ্ছৃণু।
প্রামাণিকী ন ভবতি ভ্রান্ত্যা
মোহিতকল্পনা।। ১৯৪
সরলার্থ – শ্রীগুরু
বললেন,হে বিদ্বান,তুমি খুব ভালো প্রশ্ন করেছ। ভ্রান্তির কারণে উদ্ভূত মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের
আমি জীব এই মিথ্যা কল্পনা প্রমাণসিদ্ধ নয়। এখন যা বলছি তা খুব মন দিয়ে শোন।
ভ্রান্তিং বিনা ত্বসংগস্য
নিষ্ক্রিয়স্য নিরাকৃতেঃ।
ন ঘটেতার্থসম্বন্ধো নভসো নীলতাদিবৎ।। ১৯৫
সরলার্থ – আকাশের
নীলবর্ণ বলে ধারণা যেমন অজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনও
কারণে ঘটে না, তেমনি অসঙ্গ, নিষ্ক্রিয়, নিরাকার আত্মার বিষয়ের সঙ্গে সম্বন্ধের বোধ
অজ্ঞান ছাড়া অন্য কোন কারণে ঘটে না।
[অসঙ্গ, নিষ্ক্রিয়,
নিরাকার আকাশে মূঢ় ব্যক্তি নীল বর্ণের আরোপ করে থাকে, আকাশে নীলিমা আছে, এই প্রকার
বলে থাকে।প্রকৃত পক্ষে আকাশ বর্ণ রহিত, ব্যবধান -বশতঃ আকাশে বর্ণ প্রতিভাসিত হয়।অজ্ঞানের দরুন আকাশে যেমন নীলিমা ভাসিত হয়, সে প্রকার শুদ্ধ
সচ্চিদানন্দঘন পরমাত্মায় জগৎ দেখায়।]
স্বস্য দ্রষ্টুনির্গুণস্যাক্রিয়স্য
প্রত্যগ্বোধানন্দ্রূপস্য
বুদ্ধেঃ।
ভ্রান্ত্যা প্রাপ্তো
জীবভাবো ন সত্যো
মোহাপায়ে নাস্ত্যবস্তুস্বভাবাৎ।।
১৯৬
সরলার্থ – দ্রষ্টা,
নির্গুণ, অক্রিয়, প্রত্যকের অন্তরে বোধ ও আনন্দ রূপে বিরাজমান আত্মার জীবভাব বুদ্ধির
বিভ্রান্তির কারণে আসে।এ সত্য নয়। এই অজ্ঞান অবস্তু বলে, অজ্ঞানজনিত মোহ সরে গেলেই
এই জীবভাব আর থাকে না।
[প্রতি শরীরে অনুভবকারী
যে আত্মা রয়েছেন তাঁকে প্রত্যগাত্মা বলে, তিনি সৎস্বরূপ, চিৎস্বরূপ বা জ্ঞানস্বরূপ
এবং আনন্দস্বরূপ]
যাবদ্ভ্রান্তিস্তাবদেবাস্য
সত্তা মিথ্যাজ্ঞানোজ্জৃম্ভিতস্য প্রমাদাৎ।।
রজ্জাং সর্পো ভ্রান্তিকালীন এব ভ্রান্তের্নাশে নৈবতসর্পো৳পি তদ্বৎ।। ১৯৭
সরলার্থ – যতক্ষণ
ভ্রান্তি থাকে, আত্মস্বরূপ বিচারের অভাববশতঃ মিথ্যাজ্ঞান থেকে উৎপন্ন জীবভাবও ততক্ষণ
মাত্র বিদ্যমান থাকে। যেমন রজ্জুতে সর্পজ্ঞান ভ্রমকালে মাত্র থাকে, রজ্জুতে সর্পভ্রম
নষ্ট হলে আর সর্প দৃষ্ট হয় না, সেই ভাবে অজ্ঞাননাশের সঙ্গে সঙ্গে জীবভাবও নষ্ট হয়ে
যায়।
অনাদিত্বমবিদ্যায়াঃ
কার্যস্যাপি তথেষ্যতে।
উৎপন্নায়াং তু বিদ্যায়াবিদ্যকমনাদ্যপি।।১৯৮
প্রবোধে স্বপ্নবৎ সর্বং
সহমূলং বিনশ্যতি।
অনাদ্যপীদং নো নিত্যং
প্রাগভাব ইব স্ফুট্ম্।। ১৯৯
সরলার্থ – এই সংসারে
অবিদ্যা ও তার কার্য জীবভাবের অনাদিত্ব স্বীকার
করা হয়। কিন্তু জাগ্রৎ হলে যেমন সম্পূর্ণ স্বপ্ন প্রপঞ্চ অর্থাৎ স্বপ্ন জগৎ এর মূল
সহ নষ্ট হয়ে যায়, সে রকম জ্ঞান অলাভ হলে অবিদ্যাজনিত জীবভাবের নাশ হয়।
অনাদেরপি বিধ্বংসঃ প্রাগভাবস্য
বীক্ষিতঃ।
যদ্বুদ্ধ্যুপাধিসম্বন্দাৎ
পরিকল্পিত্মাত্মনিঃ।। ২০০
সরলার্থ- এই জীবভাব অনাদি হলেও প্রাগভাবের মতো নিত্য নয় অর্থাৎ
অনিত্য কারণ অনাদি যে প্রাগভাব তাও নাশ হয়ে যায়।
-----------()------
🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteসভক্তি প্রণাম জানাই মহারাজের শ্রী চরণে 🙏
Deleteমৌসুমী রায় কোচবিহার
Apni haat dhore niye cholar proyas korchen kotodik theke koto vabe .Eri dara bojha jay "ISWAR" achen Suryo ,Chandrer moto apnader rupe.
ReplyDeleteSotokoti pronaam Maharaj.
বিবেক চূড়া মনি আমাদের খুব ভালো লাগছে এটা এটা সম্ভব হয়েছে, আপনার জন্য আপনার জন্য আমরা কত ধর্মগ্রন্থ পড়তে পারছি শিখতে পারছি আপনি এত সুন্দর ব্যাখ্যা করে বলেন বলে আমরা শিখতে পারছি। প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ
ReplyDeleteBibek churamoni arbyakha paya khub valo laglo pronam maharaj ji Aparna Roy chowdury Delhi Ajaodiota the Aparna Roy chowdury berhompur Ajkkaoaktodistrab Delhi
DeleteApnar madhyame amra adhatmic pather sandhan payachhi anek kichhu jante parchhi apnake janai amar antarik shradhha o pranam
DeleteBibek chura monir ei je ortho ta apnar dwara e amra jante parchi noyto sombhob hoto na amra kritartho apluto 🌻👏pronam janai apnar sree chorone maharaj ji,Hari omm tatsat 🌻👏,,,,
Delete🙏🙏
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো মহারাজ,শংকরাচার্যের বিবেকচূড়ামণি এখন সকলের প্রিয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে,এটা শুধু মাত্র সম্ভব হয়েছে ঠাকুরের আর্শীবাদ আর আপনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। আমাদের সকলের বিবেক জাগ্ৰত হোক এই প্রর্থনা করি ঈশ্বরের কাছে 🙏🙏🙏 জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏 ভালো থাকবেন মহারাজ 🙏 শুভ দুপুর 🙏🙏
ReplyDeleteআপনি যেভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ReplyDeleteআমাদের পরম ভাগ্য এই রকম একজন গুরুকে পেয়েছি। অনন্তকোটী প্রণাম আপনার চরণে🙏🙏
দেরিতে হলেও আপনার সাহচর্য আমাদের পরবর্তী জীবন টুকুর আলোর দিশারি আপনি আমার অন্তরের প্রণাম নেবেন। খুব ভালো থাকবেন
ReplyDeleteখুব ভালো লাগছে আচার্য দেব এ শুধু আপনার কৃপায়।আপনার মত আচার্য দেব পেয়ে আমরা ধন্য।শত কোটি প্রনাম আপনাকে।
ReplyDeleteরুপালি বিশ্বাস
🙏
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ । আপনি আমার পরবর্তী জীবনের আলোর দিশারী খুব ভালো লাগছে বিবেক চূড়ামনী পড়তে । ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ।
ReplyDeleteবিবেক চূড়ামনি আমাদের খুব ভাল লাগছে।আপনার সান্নিধ্য আমাদের ভীষন ভাবে সমৃদ্ধ করছে। আপনাকে শতকোটি প্রণাম জানাই। ভাল থাকবেন।
ReplyDeleteঅনেক ভাগ্য করে আপনাকে গুরুদেব হিসাবে পেয়েছি।ধন্য আমি।ইতিদাস। হাইদ্রাবাদ ।
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ 🙏আজ আপনার জন্যই আমরা আধ্যাত্মিক পথে দিন দিন এগিয়ে চলেছি তা নাহলে কোন অন্ধকারে পরে থাকতাম l অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই আপনাকে l ভালো থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন 🙏🙏🙏
ReplyDeleteপূর্ণিমা মুখার্জী //paikparall
খুব সুন্দর একটা বিষয় বিবেক চূড়ামণি , আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম , আমরা সকলে যদি একটু গ্রহন করতে পারি। আপনার আশীর্বাদ এবং শ্রী শ্রী দিব্য ত্রয়ী র আশীর্বাদ সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব । আপনার শ্রী চরণে প্রণাম 🙏🙏
ReplyDelete🙏বিবেকচূড়ামণী পড়ে জীবন দর্শনের অনেক রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। খুব আনন্দ পাই। আপনি এত সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেন, না হলে এই অমূল্য সম্পদ এ জীবনে অধরাই থেকে যেত।🙏
Deleteআপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম । অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছি। মহারাজ আমার অনেক অনেক ধন্যবাদ রইল। প্রণাম নেবেন মহারাজ
Deleteমীনা সিনহা রাজারহাট
পরবর্তী শ্লোক পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম 🙏
ReplyDeleteখুব উপকৃত হলাম। সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই।
ReplyDeleteভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ।খুব ই উপকৃত হচ্ছি,আপনার অসাধারন ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের মধ্যে দিয়ে নতুন আলোর দিশা পেয়ে,মন আনন্দে ভরে থাকে।ঠাকুরের অনেক কৃপা,তাই আপনার স্যানিধ্যে আসতে পেরেছি।জীবন যেন ধন্য হচ্ছে।জয় ঠাকুর🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ জী 🙏 ঠাকুরের অসীম কৃপা তাই এত শাস্ত্র পাঠ করতে পারছি যেটা কোন সম্ভব বলে ভাবিনি,সব ই হয়েছে আপনার অদম্য পরিশ্রমের ফলে।আজ প্রায় তিন বছর আপনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি কিন্তু এমন কখনো ই হয়নি যে আজকের অনুধ্যানে মন বসছে না বলে মনে হয়েছে, প্রতিদিন অধীর আগ্ৰহে অপেক্ষা করে থাকি বিকেল চারটা জন্য। ঠাকুর মা স্বামী জী আপনাকে ভালো রাখুন এই প্রার্থনা করি।
ReplyDeleteরূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম
শুভ সকাল। প্রণাম আচার্যদেব। 🙏
ReplyDeleteআমি আপনার প্রথম থেকেই নিয়মিত শ্রোতা।।সবই ঠিক আঠে তবে
এইটা বলতেই হবে আপনার সান্নিধ্যে এসে অনেক জ্ঞানের আলোর সন্ধান পেয়েছি।আপনার বোঝানোর শক্তি এবং ধৈর্য অপরিসীম বর্ননাতীত। পরিশেষে--
দুঃখিত ; আজকের এই বিবেক চূড়ামণির আত্মজ্যোতি ঠিক একটা মাথায় ঢোকেনি মহারাজ।
শেফালী চৌধুরী । কৈখালী।
Maharaj apni khub sundar sahaj saral pranabanta vasay Atmoyoti te vivek chudamani r byakhya diyechen kintu khub beshi bujhte pari ni Maharaj🙏🙏 Shampa Dhar
ReplyDeleteBibek churamoni eroded peyechi pranam maharaj ji thankyou for this part
ReplyDeleteObolunthito vaktivora pranam Achariyo Maharajji 🙏. Maharajji, amader Sattyer alokey Obolombon Swarup hoyey ki sundor vabey ogrosor hower jonnyo ei Swalikhito Upohaar Vaktobrindo ke prodaan korlen🌷🙏. Er sothik mulyayon kora amader kartobyo🙏. Aponer ashirbad kamyo, Achariyo Maharajji 🌷🌷🙏🙏🌷🌷🙏🙏🌷🌷🙏🙏🙏
ReplyDeleteবিবেক চূড়ামণি খুব ভালো লাগা একটা বিষয় , আপনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমরা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাব , আপনার ও শ্রী শ্রী দিব্য ত্রয়ী র আশীর্বাদ সঙ্গে নিয়ে প্রণাম 🙏🙏
ReplyDelete🙏🏻🙏🏻Achariyo Maharajji, Vivekochuramoni r 2nd part er Mantra peyey dhonyo holam🙏🏻. Sotokoti vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌹🌹🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ । আপনি কত কষ্ট করে আমাদের সুবিধার জন্যে বড় বড় করে লিখেছেন । সত্যি আমরা খুব
ReplyDeleteআনন্দ অনুভব করি পড়ে। তাই ঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করি এই আপনার কষ্ট যেনো বিফলে না যায় । কিছু যেন শিখতে পারি । প্রণাম আমার বাবাকে । শতকোটি বার প্রণাম জানাই আমার বাবাকে ।
বিবেকচুড়ামনির 150 টি শ্লোক পেলাম, নিজেকে আপডেট করে নিলাম। আপনার এই পরিশ্রমের জন্য আপনাকে সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই। ভালো থাকবেন।
ReplyDelete🙏🙏🌹🌷
ReplyDeleteAPURBO LAGLO SATOKOTI PRANAM JANYE MAHARAJ
DeleteMaharaj Thakur Ma Swamiji r ashim kripay apnar parama sangsarga peye Vivek Chudamani r mato ayee sakal Dharma Grantha jante pere satyee dhanyavaad hoyechi apnar sri charane amar sata sata antarik vakti nibedan kari🙏🌷 Shampa Dhar
ReplyDeleteবিবেক চূড়ামনি বইটি আমার নেই বলে খুব অসুবিধা হচ্ছিলো। আপনি এটি ব্যাখ্যা সমেত পাঠিয়ে দিয়েছেন। এতো সুবিধা জগতে আর কেউ দিতে পারেনা। আপনি আমার কাছে ঈশ্বর প্রেরিত। আপনার চরণে প্রণাম জানাই। শুভ্রা লালা। দমদম
ReplyDelete🙏🏻☘️🪷☘️🙏🏻
ReplyDeleteভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের দূত মহারাজ শ্রীহরিময়ানন্দজীর শ্রীচরণকমলে নতমস্তকে প্রনাম🙌
ReplyDeleteআপনার পাঠানো pdf শুধু বিবেকচূড়ামণিই নয়, আরো সমস্ত pdf এ আমরা সকলেই ভীষণ ভাবে উপকৃত হচ্ছি।
প্রত্যেকটি বিষয় আমাদের সেই চরম লক্ষের দিকে অনুপ্রানিত করে চলেছে। আপনার মতো একজন মহারাজের সান্নিধ্যে এসে ধন্য হয়েছি আমরা সবাই। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন মহারাজ 🙏🙏🙏 শুভ রাত্রি 🙏🙏🙏 জয় ঠাকুর মা স্বামীজি 🌷🌷🙏
হে ভগবান ,শুনবো,আমার ধৈর্য্য কম এসব পড়তে পারবো নি।খুব ভাল,অনেকেই উপকৃত হচ্ছে। পূজনীয় আচার্য দেব কে ভক্তি পূর্ণ প্রণাম জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।নাম বিনু চক্রবর্তী,বাড়ি মালদা।জয় ঠাকুর
ReplyDelete🙏🙏
ReplyDeleteমহারাজ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করবেন। আপনার প্রেরণা তে আমরা অনেক অজানা জিনিস জানতে পারছি।যেমন বিবেক চূড়ামণি,আচার্য্য শঙ্করের লেখা বই আপনার মাধ্যমে আমাদের কাছে অনেক সহজ হয়েছে খুবই ভাল লাগে।আপনি ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। অসিত কুমার বিশ্বাস সোদপুর
DeleteEi Matra sesh holo purota pora, ( 1to157 sloak ) vishan valo laglo . Saboie aapner jannya sambhab hoeachhe , ato kichhu je sikhte parchhi . bujhte parchhi o anubhab korete parchhi ei Adhyatmic jagater , ta saboie aapner Sat Prochestay. Kritagma roilam . Kintu , kichu sabder inner meaning mone korte parlam na ( ja aapni anudhyane byakhya korte giea bolechhilen ) . Swabhakti pronam naben aapni ! Nijai abak hoea jachhi je ato valo lagchhe Sankrit sloak gulo porte! Saboie aapner kripay holo . Aantarik o shradhyajukto Poonam naben pujonio Maharaj.
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌼 🌻 🙏. Maharajji, Apni amader subidharthey Tattyogyan bidhya ekebarey hatey tuley dicchen🙏, amra jeno er sothik morjyata rekhey jetey pari👏🙏🙏. Abhumi naman Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🙏
ReplyDeleteঅন্তরের গভীর শ্রদ্ধাবনত চিত্তে দন্ডবৎ প্রণাম শ্রদ্ধেয় গুরু মহারাজজী। বিবেক চূড়ামণি‘র PDF File 101 – 156 পযর্ন্ত শ্লোক,শব্দাথ এবং সরলাথ সহ পেয়ে খুব উপকৃত হয়েছি এবং খুশিও হয়েছি দারুণভাবে! কারণ আমার শুধুমাত্র শ্রীমদভাগবদ গীতা আর কথামৃত ১ম খন্ড ও ২য় খন্ড ছাড়া আর কোন বই নেই।
ReplyDeleteএই আপনার পিডিএফ ধরে আর সহজ সরল আলোচনা অনুধ্যান নিয়মিত শুনে শুনে ত্যাগের পদযাত্রায় মনটা অনেকখানি তৈরি হচ্ছে যা অন্তরে তুষ্টি ও শান্তি অনুভব করি। এই জড়জগতে…সংসার, পারিপার্শ্বিক, সামাজিক, আর্থিক ও আত্মীয়-স্বজন- এসকল বাঁধা অতিক্রম করে বা সাইটে সাইটে ফেলে (Avoid)করে সবদিক থেকে আধ্যাত্মিকতায় উন্নীত করার কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু মন তৈরি আত্মজ্ঞান লাভে বা আধ্যাত্মিক আনন্দ পেতে আপনার সান্নিধ্যে থাকায়। তাই একটু একটু করে এগিয়েও যাচ্ছি, আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী। কায়মনোবাক্যে ঈশ্বরের কাছে প্রাথনা করি আপনি পরিপূর্ণে সুস্থ থাকেন, ভাল থাকেন। জয় ঠাকুর মা স্বামিজীকে আন্তরিক প্রণাম জানাই শ্রীচরণে। সুজাতা দে, লন্ডন-ইউ.কে।
অসম্ভব সুন্দর বিবেকচূড়ামণি। আপনাকে প্রথম পেয়েছি এর অনুধ্যান ক্লাসে। অদ্ভুত এক ভালোলাগায় মন আজো ভরে আছে। এর প্রত্যেকটা ক্লাস এতো মিষ্টি করে উপস্থাপন করেন, অবর্ণনীয় সুন্দর। আর এর কথাগুলো অপূর্ব সুন্দর। সীমাহীন কৃতজ্ঞ আপনার কাছে। এসব কোনদিন পড়তে পারবো স্বপ্নেও চিন্তা করিনি। ঈশ্বরের অশেষ কৃপা। 🙏🙏🙏🙏🌹🌹🌹🌹❤️❤️❤️❤️
ReplyDelete