শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

#ভক্তির অবতার শ্রীচৈতন্য ।। ধারাবাহিক ।। পর্ব -১০ ( নতুন)।।পর্ব-৯।। পর্ব-৭ ।। পর্ব-৮।।

 

                    ভক্তির অবতার শ্রীচৈতন্য

                    --   স্বামী হরিময়ানন্দ



ধারাবাহিক রচনা

              ©                চৈতন্যদেব ভক্তির অবতার; জীবকে ভক্তি শিখাতে এসেছিলেন। - শ্রীরামকৃষ্ণ

==============পর্ব-১০============

পুরীতে বাস

    বাসুদেব সার্বভৌমের সঙ্গে শাস্ত্র চর্চা ও ঈশ্বরীয় প্রসঙ্গে মহাপ্রভু আনন্দে পুরীতে বাস করছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর অদ্ভুত ভাব ও ভক্তির কথা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ তাঁর ভক্ত হয়ে পড়েন। মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ দর্শন, মহাপ্রসাদ গ্রহণ , সমুদ্রে স্নান, নাম-গুণগান, ও ধ্যান ধারণাতে বিভোর হয়ে থাকেন। এই সময়ে তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান দর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ভক্তদের অনুরোধ, তিনি যেন দোলযাত্রার পরে তীর্থে যান। সেই মত তিনি রাজী হলেন ও পুরীতে দোলের আনন্দে সকলের সঙ্গে খুবই আনন্দ করলেন। পুরীর ভক্তদের সংগে নিত্যানন্দ , মুকুন্দ ও জগদানন্দ বাংলা থেকে এসে যুক্ত হলেন ও কিছুদিন পুরীতে থাকলেন। যার ফলে তীর্থ যাত্রা কিছুটা বিলম্ব হল।

দারুব্রহ্ম


    মহাপ্রভু রোজ ভোরে মন্দির দর্শনে যেতেন। নাটমন্দিরে গরুড়-স্তম্ভের কাছে তিনি দাঁড়িয়ে জগন্নাথদেবকে দর্শন করতেন। কারণ জগন্নাথদেবকে দর্শন করলে তাঁর হৃদয় প্রেম-ভাবে এমন পূর্ণ হত যে, তিনি বেশি দূর অগ্রসর হতেন না। ভয়ে, যাতে তিনি বিহ্বল না হয়ে যান। দারুব্রহ্মকে চৈতন্যদেব পরমাত্মা শ্রীকৃষ্ণ-রূপে দর্শন করেছিলেন। সর্বদা তিনি প্রাণের প্রাণ শ্রীকৃষ্ণকে দর্শনের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতেন। কোন বাহ্যজ্ঞান থাকত না, প্রেমে অবিরল অশ্রু বর্ষণ হত, কখনও কখনও মাটিতে পড়ে যেতেন। দেহে নানা প্রকার পরিবর্তন দেখা দিত। এই রকম অবস্থায় নিত্যানন্দ প্রভু খুব সাবধানে তাঁর দেহরক্ষা করতেন। ভক্তরা অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখতেন। 

দাক্ষিণাত্য ভ্রমণ

    এর কিছু কাল পর চৈতন্যদেব দাক্ষিণাত্য ভ্রমণে বার হন। তখন দক্ষিণ ভারত ছিল উত্তর ভারত থেকে অনেকটা পৃথক। বিশেষ করে ধর্ম ও সংস্কৃতি ছিল মুসলমান প্রভাব থেকে মুক্ত। দক্ষিণ ভারতে বিশেষ করে বিন্ধ পর্বতের দক্ষিণ অংশে  শিক্ষা-সংস্কৃতি ধর্ম অক্ষুণ্ণ ছিল। এরও আগে উত্তর ভারতে আর্য ঋষিরা যখন ছিলেন তাঁদের প্রভাব ছিল। পরবর্তী সময়ে যে সব আচার্য জন্মেছেন তারা সকলেই দক্ষিণ ভারতে জন্মেছিলেন। যেমন আচার্য শংকর থেকে শুরু করে রামানুজাচার্য ও মধ্বাচার্য সকলের জন্ম স্থান দক্ষিণ ভারত। চৈতন্যদেবের ইচ্ছা ছিল এই সব আচার্যদের জন্মভূমি ও প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান ও মন্দির দর্শন করার। এছাড়াও কখন কখন বলতেন তাঁর অগ্রজ বিশ্বরূপকে খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছাও ছিল। বিশ্বরূপ বহুকাল আগে গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়ে তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।

   সাধু মহাত্মাগণ মনকে স্থির করার জন্য বৈরাগ্য অবলম্বন করে তীর্থে তীর্থে ভ্রমণ করতেন। এই ভাবে বেশ কিছুকাল ভ্রমণ করার পর ভগবানের উপর নির্ভরতা আসে। তখন সংসারের মায়া ত্যাগ করে এক স্থানে আসন করে ভগবান লাভের সাধনায় মগ্ন হন। জগন্নাথদেবের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করলেন – "প্রভু, চিত্তের চাঞ্চল্য মলিনতা সম্পূর্ণ ভাবে দূর কর। তীর্থ দর্শনের শেষে যেন স্থিরচিত্তে  তোমার চরণপ্রান্তে বাস করতে পারি।"

    যেহেতু নিত্যানন্দ প্রভু পূর্বেই ভারতের বিভিন্ন তীর্থ ভ্রমণ করেছেন, ফলে তাঁর রাস্তাঘাট ও তীর্থস্থান সব জানা ছিল। তিনি মহাপ্রভুর সংগে যেতে চাইলেন। অন্যান্য অন্তরঙ্গ ভক্তরাও চৈতন্যদেবের তীর্থ দর্শনের সঙ্গী হতে চাইলেন। কিন্তু মহাপ্রভু কাউকেই তাঁর সঙ্গে নিতে রাজী হলেন না। একান্ত ঈশ্বর নির্ভর ও নিঃসম্বল হয়ে পথ চলার সংকল্প করলেন। বাসুদেব সার্বভৌম অনুরোধ করলেন এই ভাবে একাকী না গিয়ে কাউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। সকলের বিশেষ আগ্রহ ও অনুরোধে এক ব্রাহ্মণ ভক্ত নাম কৃষ্ণদাস তাকে নিয়ে যেতে রাজী হলেন। ভক্তরা অনেকে মহাপ্রভুর যাকে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র সঙ্গে দিতে চাইলেন। কিন্তু একান্ত ঈশ্বর নির্ভর মহাপ্রভু কিছুই গ্রহণ করলেন না ।

বরং বললেন –       "কৌপীন বহির্বাস আর জলপাত্র

আর কিছু সঙ্গে নাহি যাবে এই মাত্র।"

   এখনকার মতো তখনকার দিনে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অনেক কষ্ট করে তখন লোকে পায়ে হেঁটে তীর্থ ভ্রমণ করতেন। তাই পথে ধনী ব্যক্তিরা বিশ্রামের স্থান ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। সাধু মহাত্মারা পথে বিশ্রাম করে আবার অগ্রসর হতে পারতেন।

তীর্থ যাত্রা



   শ্রীভগবানের নাম নিয়ে চৈতন্যদেব যাত্রা শুরু করলেন। পুরী থেকে বেরিয়ে প্রথমে এলেন  আলারনাথ মন্দিরে। এখানে রাত্রি বাস করেন। অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে নিত্যানন্দ আলারনাথ পর্যন্ত এসেছিলেন। পর দিন ভোরবেলা সন্ন্যাসীকে চোখের জলে বিদায় জানিয়ে তারা পুরী ফিরে আসেন। ভগবানের নাম করতে করতে সন্ন্যাসী রাজ ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে চললেন। পথে কোন আশ্রমে বা মন্দিরে রাত কাটাতেন। এই ভাবে দীর্ঘ পথ চলতে লাগলেন। নতুন নতুন মন্দির  ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মনে খুব আনন্দ অনুভব করলেন।

   যেখানেই তিনি যান তাকে দেখে লোকে মুগ্ধ হয়ে যান।  তাঁর দিব্য কান্তি ও উজ্জ্বল মুখশ্রী ও অলৌকিক ভাবাবেশ দেখে লোকে বুঝতে পারে যে ইনি কেবল সামান্য সন্ন্যাসী নন। অনেকে জিজ্ঞাসু হয়ে এলে তিনি তাদের শাস্ত্র অনুসারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিয়ে থাকেন। এই ভাবে ধর্ম প্রচার করতে করতে তিনি গঞ্জাম জেলার কূর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হন।

কূর্মক্ষেত্র

    কূর্মক্ষেত্রে  ভগবানের কূর্ম বিগ্রহ পূজিত হন। খুবই বিখ্যাত স্থান। মহাপ্রভু খুবই হৃষ্ট মনে দর্শন করে সেখানে কিছু সময় থাকেন। ঐ সময়ে ওখানে এক ভক্ত বাস করতেন। তার নাম বাসুদেব। তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছিলেন। এমন অবস্থা যে  শরীরে কিছু কিছু স্থান পচে গিয়েছিল। ও ঘায়ের মধ্যে পোকা হয়ে গিয়েছিল। বাসুদেব এই ভীষণ কষ্ট মুখ-বুজে সহ্য করতেন ও ভগবানের ভজন করতেন। এমন শোনা যায় যে শরীরের ক্ষত থেকে পোকা নিচে পড়ে গেলে তিনি আবার ওই স্থানে রেখে দিতেন। চৈতন্যদেবকে দেখে সবাই চারিদিকে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছেন। বাসুদেব ও নাম শুনে এসেছেন দর্শন করতে। কিন্তু শরীরের ওই অবস্থা নিয়ে সামনে আসতেও পারছেন না। মহাপ্রভু এত লোকের মাঝে তাকে দেখতে পেলেন ও তার দিকে তাকালেন। মহাপ্রভু তার কাছে গিয়ে তাকে প্রেমালিঙ্গন করেন। বাসুদেব নিষেধ  করলেও  তিনি অগ্রাহ্য করেন।  বাসুদেবের অন্তর বিগলিত হন। এই মহান দৃশ্য দেখে লোকে স্তম্ভিত হয়ে গেল। তিনি তাকে নাম কীর্তনের উপদেশ দেন। পরে তার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছিল ও তিনি একজন যথার্থ ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

সিংহাচলম্‌



    এরপর মহাপ্রভু আসেন অধুনা বিশাখাপত্তনমের সিংহাচলম্‌ তীর্থে।  এই স্থানকে নৃসিংহক্ষেত্র বা প্রহ্লাদপুরীও বলা হত।এখানে নৃসিংহ দেবের মন্দির রয়েছে। উঁচু পাহাড়ের উপর বেশ মনোরম দৃশ্য।  মহাপ্রভু এখানে দর্শন, আরাধনা ও প্রার্থনা জানিয়ে আরও দক্ষিণ দিকে এগিয়ে চললেন ।


                                                                                         ক্রমশ......




   ===========পর্ব-৯===========

পুরী ধামে মহাপ্রভু





      অনেক পথ পেরিয়ে মহাপ্রভু পৌছলেন শ্রীক্ষেত্র পুরী ধামে। গভীর ব্যাকুল অন্তরে জগন্নাথদেবকে দর্শনের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হবে। প্রেম সমুদ্র যেন উথলে উঠল শ্রীধামে এসে। ভাবস্থ অবস্থায় দৌড়ে গেলেন ভেতরে। দীর্ঘ আকাঙ্খিত দারু-ব্রহ্ম-মূর্তি দর্শন করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ভাবস্থ অবস্থায়। এদিকে মন্দিরে ঢুকে বিগ্রহ স্পর্শ করাতে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রহরী বেত নিয়ে মারতে এলো। ওই সময়  মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব সার্বভৌম। তিনি হলেন রাজা প্রতাপরুদ্রের সভাপণ্ডিত।  সন্ন্যাসীর দিব্য কান্তি ও ভাবাবেশ দেখে তিনি এগিয়ে এলেন। প্রহরীরা শান্ত হলেন। কিন্তু তখনও সন্ন্যাসীর বাহ্যজ্ঞান ফেরেনি। খানিকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে সন্ন্যাসীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান পণ্ডিত বাসুদেব সার্বভৌম।

    এর কিছুক্ষণ পরে নিত্যানন্দ ও তার সঙ্গীসাথীরা মন্দিরে আসেন। কিন্তু সেখানে মহাপ্রভুকে না দেখতে পেয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েন।এবং জানতে পারলেন যে মহাপ্রভু সার্বভৌমের বাড়িতে গিয়েছেন। ছুটলেন সার্বভৌমের বাড়িতে। পথে দেখা হল গোপীনাথ আচার্যের সঙ্গে। গোপীনাথ হলেন নবদ্বীপের অধিবাসী ও সার্বভৌমের ভগ্নিপতি। এখন পুরীতেই থাকেন। সকলে হাজির হলেন সার্বভৌমের বাড়িতে। মহাপ্রভু খানিকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বাহ্যজ্ঞান ফিরেছে। নিত্যানন্দ ও অন্যান্যদের দেখে মহাপ্রভু খুবই আনন্দিত হলেন। সার্বভৌমের অনুরোধে সকলে তার বাড়িতে থাকলেন ও বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে বাসুদেব তাঁর পুত্রকে সঙ্গে পাঠিয়ে সকলের জগন্নাথ দর্শন, সমুদ্র স্নান করান।

মহাপ্রভুর ইচ্ছা অনুসারে সার্বভৌমের বাড়ির কাছে  নির্জন স্থানে সকলের থাকার ব্যবস্থা হয়।

    আচার্য শংকর যেমন বেদান্তের প্রচার করেছেন। একই ভাবে সনাতন ধর্মকে রক্ষার জন্য ভারতে চারটি প্রধান পীঠ স্থাপন করেন। পুরীতেও গোবর্ধন মঠ নামে একটি পীঠস্থান ছিল। সেখানে সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারীরা থাকতেন।  তারা একদিকে নিজেদের জীবন গঠন ও পরম পুরুষার্থ লাভের চেষ্টা করতেন এবং অন্যদিকে ধর্মের প্রচারে ও জীব কল্যাণে অংশ নিতেন। ঐ সময় পুরীতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মঠ, আখড়া বা আশ্রম ছিল। শাস্ত্র পাঠ বা চর্চার সুযোগ ছিল বেশ।

বাসুদেব সার্বভৌম

   বাসুদেব সার্বভৌম খুব বড় নৈয়ায়িক ও মীমাংসক পণ্ডিত ছিলেন। এ ছাড়া বেদান্ত শাস্ত্রেও খুব পাণ্ডিত্য ছিল। পুরীর অনেক সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী শাস্ত্র পাঠের জন্য তাঁর কাছে আসতেন।

     চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে আলাপ পরিচয়ের পর তিনি সব কিছু জানতে পারলেন। জানতে পারলেন যে তাদের সঙ্গে সার্বভৌমের পরিবারের আত্মীয়তাও রয়েছে। খুবই দুঃখিত হলেন এই জন্য যে এই কম বয়সে মা ও স্ত্রীকে ছেড়ে তিনি সন্ন্যাসী হয়েছেন। আরও যখন জানলেন যে তিনি ভারতী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীর কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন, তখন আরও দুঃখিত হলেন। এর দ্বারা বেশ বোঝা যায় সার্বভৌম পণ্ডিত হলেও বিষয়ী লোকের মত মান-যশ, সামাজিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দিতেন। 

    তখন ভারতী সম্প্রদায়ের থেকে অন্য সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের গৌরব লোক-সমাজে  অধিক ছিল। এই সব কিছুকেই লোকে সারবস্তু মনে করে। কাজেই সার্বভৌম চেষ্টা করতে লাগলেন মহাপ্রভুকে অন্য কোন নাম করা সন্ন্যাসী দল-ভুক্ত করতে। এও ভেবেছিলেন পুনরায় সংস্কার করিয়ে অন্য সম্প্রদায়-ভুক্ত করবেন। চৈতন্যদেবের মন বৈরাগ্যে প্রতিষ্ঠিত, ফলে এই সবের মূল্য তাঁর কাছে কিছু মাত্র ছিল না। বিনীতবাবে তিনি জানালেন তাঁর মতো অধম অধিকারীর জন্য এই যথেষ্ট। অন্য আর কোন চেষ্টার প্রয়োজন নেই। সার্বভৌম এ কথায় খুশী না হলেও আর অনুরোধ করলেন না।

    তবে পণ্ডিত সার্বভৌম বেদান্তশাস্ত্র পাঠ করানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। বেদান্ত-শাস্ত্র পাঠ  করলে সন্ন্যাস-জীবনের উচ্চ আদর্শ অনুযায়ী জীবন যাপনের সহায়তা হবে। তিনি খুবই যত্ন সহকারে চৈতন্যদেবকে বেদান্তশাস্ত্র অধ্যয়ন করাবেন স্থির করলেন। চৈতন্যদেব আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সম্মত হলেন শাস্ত্র পাঠ করতে।

    বেদান্তশাস্ত্র পাঠ আরম্ভ হল। আচার্য শংকরের ভাষ্যসহ ব্যাখ্যা করে বোঝাতে লাগলেন। সগুণ ব্রহ্মবাদ, ভক্তি-উপাসনা প্রভৃতি খণ্ডন করে একমাত্র নির্গুণ নির্বিশেষ ব্রহ্মতত্ত্বই যে উপনিষদের প্রতিপাদ্য তা তিনি বোঝাতে লাগলেন। জ্ঞান লাভের জন্য শ্রবন, মনন ও নিদিধ্যাসনের প্রয়োজন একথাও বললেন। ভক্তি ও ভগবৎ প্রেমের প্রতিমূর্তি চৈতন্যদেবের এই সব যুক্তি খুব একটা ভালো লাগত না, কিন্তু কিছু না বলে তিনি চুপ করে কেবল শুনে  যেতেন।

     কোন প্রশ্ন না করতে দেখে পণ্ডিতের মনে সংশয় হল। সাত দিন পর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কিছু জিজ্ঞাসা কর না কেন? কিছুই কি বুঝতে পার না? চৈতন্যদেব উত্তর দিলেন সূত্রভাষ্য বেশ বুঝি, কিন্তু আপনার ব্যাখ্যাতেই সব গোলমাল হয়ে যায়। আপনার ব্যাখ্যা ঠিক ঠিক মনে লাগে না। ভারত বিখ্যাত পণ্ডিত বাসুদেব সার্বভৌমের মুখের উপর এত বড় কথা! যুবক সন্ন্যাসীর এ হেন উত্তর শুনে খুব রেগে উঠলেন পণ্ডিত।"আচ্ছা, সুত্রভাষ্য কি বুঝেছ বল দেখি?"

    আচার্য শংকর ব্রহ্মের সবিশেষ ও নির্বিশেষ তত্ত্বের উল্লেখ করেছেন।  অর্থাৎ উপাসনা বা ভক্তির স্থান শ্রুতি ও স্মৃতি দ্বারা যে সমর্থিত তা বেশ বোঝা যায়। মুক্তিলাভের জন্য ভগবানের একান্ত উপাসনার প্রয়োজন স্বীকার করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু পণ্ডিত আচার্যের ভাষ্যের অর্থ ঠিক মতো ধরতে না পেরে, একপেশে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করেছেন। সার্বভৌম হয়তো এই ধরণের মত পোষন করতেন।

    তা যাহোক, মহাপ্রভু ধীর স্থির ভাবে মূল ভাষ্যের ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। এবং সার্বভৌমের যে একদেশী ব্যাখ্যা তার দোষ দেখাতে লাগলেন। দু জনেই মহাপণ্ডিত, ঘোরতর তর্কযুদ্ধ চলতে লাগল। শ্রুতি, স্মৃতি ও ন্যায় থেকে দু জনেই নিজ নিজ পক্ষ সমর্থন করে যুক্তি উত্থাপন করলেন। কয়েকদিন ধরে যুক্তি বিচার চলতে লাগল।

ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ দর্শন



   প্রেমভক্তির সঙ্গে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার ফলে একদিকে যেমন সার্বভৌম যুক্তিতে পরাস্ত হলেন, অন্য দিকে তাঁর হৃদয়ে ভক্তির অঙ্কুর ফুটতে লাগল। সার্বভৌমের অতি অদ্ভুত একটি অনুভব হয়। তিনি দেখেন যে  একই দেহে ষড়ভুজ মূর্তি। শ্রীরামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণ একই দেহে শ্রীচৈতন্য রূপে আবির্ভূত। ঐ ভাবে দর্শন করে চোখের জলে লুটিয়ে পড়লেন মহাপ্রভুর শ্রীচরণে। চিরদিনের জন্য নিজেকে সমর্পণ করেন।

   শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে লেখা হয়েছে

দেখি সার্বভৌম পড়ে দণ্ডবৎ করি।

পুনঃ উঠি স্তুতি করে দুই কর জুড়ি।।

এখন থেকে  মহাপ্রভুকে তিনি ইষ্ট দেবতা রূপে দেখতেন ও খুব ভক্তি করতেন।

  সকলেই হঠাৎ এমন পরিবর্তন দেখে অবাক। সার্বভৌম ভক্তির উপাসনা খুব একটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু এখন নিজে ভক্তিতে গড়াগড়ি দেন। পণ্ডিতের হৃদয় ভক্তিতে এমন বিগলিত হয়েছিল যে  একদিন মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শন করে ভোরবেলা প্রসাদী মালা ও অন্ন নিয়ে বাসুদেবের বাড়িতে আসেন ও তার হাতে দেন। পণ্ডিত তখন প্রাতঃকৃত্য সম্পাদন করেননি, ওই অবস্থায় নিঃসঙ্কোচে ও সানন্দে তা গ্রহণ করে ছিলেন।

                                                                  ......ক্রমশ

 

   =============পর্ব -৮=============

 

পর্ব -৮

এই ভাবে হরিনাম ও ভগবানের প্রতি ভক্তির কথা প্রচার করতে করতে ডায়মন্ডহারবার ও জয়নগর মজিলপুর প্রভৃতি স্থানে আসেন। এখানে অম্বুলিঙ্গ মহাদেবের মন্দিরে দর্শন ও শিব পূজা করেছিলেন। স্তবপাঠ করে মন্দিরে ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন। কাছেই সাগরসঙ্গম। খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অতুলনীয় মন্দিরে মহাদেবের মহিমায় মহাপ্রভু সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম করেন। স্থানীয় জমিদার ছিলেন রামচন্দ্র খাঁ। তিনি জানতে পেরে মন্দিরে আসেন, সন্ন্যাসীকে দেখতে। সন্ন্যাসীর তেজোময় শরীর ও অপূর্ব ভক্তিভাব দেখে রামচন্দ্র আকৃষ্ট হন। তিনি সভক্তি প্রণাম জানিয়ে মহাপ্রভুর সেবার ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

ওই কালে পুরী যাওয়া এখনকার মত এত সুগম ছিল না। কারণ বাঙ্গালার মুসলমান নবাবের সংগে ওড়িশার হিন্দু রাজার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। তার ফলে এর প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাওয়া সংকট ও ভয়ের ছিল। সীমান্তরক্ষীরা নানাভাবে উৎপীড়ন করত। এ ছাড়া চোর-ডাকাত ইত্যাদির ভয় তো ছিলই। রামচন্দ্র খাঁ মহাপ্রভুর নীলাচল গমনের ইচ্ছা জানতে পেরে জলপথে যাতে কোন অসুবিধা হয় সে ব্যবস্থা করে দিলেন। ভালো নৌকোর ব্যবস্থা করে দিলেন যাতে সীমান্ত পারে কোন বাধা না হয়। কারণ সাধু বেশে দেখলে অনেকে ছদ্মবেশী ভেবে অযথা হয়রানি করত।

ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে ভগবানের নাম উচ্চারণ করতে করতে নৌকোয় করে বঙ্গোপ্সাগরের কিনারা ধরে ধীরে ধীরে ওড়িশাতে আসেন। বালেশ্বরের কাছে প্রয়াগঘাট নামক স্থানে আসেন। নৌকো ছেড়ে দিয়ে এবার হেঁটে চললেন। পথে সাধারণ লোকজন থেকে শুরু করে  নগরের প্রহরী, যারাই মহাপ্রভুকে দর্শন করেন, তারাই মুগ্ধ হয় তাঁর শ্রীমুখে ঈশ্বরীয় কথা শুনে। এমনকি চোর-ডাকাতদের মনেও ভক্তিভাবের সঞ্চার হল তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে এসে।

এই ভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌছোলেন রেমুনা গ্রামে। রেমুনাতে ছিল ক্ষীরচোরা গোপীনাথের মন্দির। মহাপ্রভু দর্শন করলেন। স্তবস্তুতি পাঠ ও ভজন কীর্তনও করলেন। মন্দিরের পূজারীরাও খুব ভক্তিভরে প্রসাদী ক্ষীর মহাপ্রভুর জন্য পাঠালেন। কিছুটা নিয়ে বাকি অন্যদের জন্য বিলিয়ে দিলেন।

এরপর মহাপ্রভুর অগ্রসর হন যাজপুরের দিকে। যাজপুর খুব বিখ্যাত স্থান। এখানে গয়ার মতোর লোকে পিতৃপুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধ-কর্ম করে থাকেন। বৈতরণী নদীতে স্নান ও তর্পণ করে থাকেন। মহাপ্রভু উপস্থিত হলেন যাজপুরে। পীঠদেবী হলেন শ্রীবিরজাদেবী। আর ভৈরব হলেন মহাদেব ত্রিলোচনেশ্বর। খুব মনোরম ও সুদৃশ্যে সাজানো মন্দির দর্শন করলেন। ঐ সময়ে যাজপুরে অনেক মন্দির ছিল। এবং খুব প্রসিদ্ধ স্থান হিসাবে পরিগণিত হত। কালাপাহাড়ের আক্রমণে সবই প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। মহাপ্রভু যাজপুরে মনের আনন্দে দেবীর আরাধনা ও মহাদেবের পুজো করেন।

এরপর কটকের দিকে রওনা হলেন। এখানে সাক্ষীগোপালের দর্শন করেন।

 

নিত্যানন্দের এই সব স্থান আগেই দেখা ছিল। তিনি সাক্ষীগোপালের কাহিনী মহাপ্রভুকে শোনালেন।

এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কোন এক সময় একটি যুবকের সঙ্গে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। তীর্থে যাতে কোন অসুবিধা যাতে না হয় তাই যুবকটি বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে সেবা সাহায্য করত। যুবকের সেবা যত্নে বৃদ্ধ খুবই সন্তুষ্ট। এতটাই তার ভালো লাগল যে, তিনি তার কন্যাকে যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেবেন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। যুবক ঠিক রাজি ছিলেন না। তিনি বার বার বৃদ্ধকে ওই ইচ্ছা ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। বৃদ্ধ কোন কথাই শুনলেন না। তিনি মন্দিরে গিয়ে শ্রীগোপালের সামনে কন্যার সংগে যুবকের বিবাহ দেবেন এই অঙ্গীকার করেন।

তীর্থ দর্শন করে দু-জনেই ফিরে এলেন। এখন বৃদ্ধ তার সংকল্প পুরণের জন্য যুবককে বললেন। কিন্তু এদিকে যুবকের বাড়ির লোক বা প্রতিবেশী আত্মীয় কেউ রাজি হল না। বৃদ্ধ খুব বিপদে পড়লেন। তার সত্যরক্ষা যাতে হয়, যুবক  সেই জন্য বিচারকের কাছে নালিশ জানালো। বিচারক বললেন ওই ব্রাহ্মণ যে তার কন্যাকে সম্প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন তার প্রমাণ কী? ভক্ত যুবক তখন নিরুপায় হয়ে ওই গোপালের মন্দিরে গিয়ে কাতর প্রার্থনা করেন। প্রভো, তুমি যদি এই বিষয়ে সাক্ষী না দাও, তা হলে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের ধর্ম নষ্ট হবে।

ভক্তের আকুল প্রার্থনায় গোপাল প্রত্যাদেশ দিলেন। তুমি ভয় পেয়ো না, আমি সাক্ষী দোব। তোমার পেছনে পেছনে আমি যাব। কিন্তু সাবধান, যদি অবিশ্বাস মনে আসে ও পেছনে ফিরে তাকাও, তা হলে কিন্তু আমি আর যাব না। তুমি পথে যেতে যেতে আমার পায়ের নুপুরের শব্দ শুনতে পাবে। আমি যে তোমাকে অনুসরণ করছি, তা বুঝতে পারবে।

যুবক খুবই আনন্দিতে হয়ে শ্রীগোপালকে প্রণাম করে ফিরে আসতে লাগল। বেশ অনেকটা পথ আনন্দে চলে এলেন। নুপুরের শব্দও শুনতে পাচ্ছিলেন।  সরল মনে যুবকের মনে হল, যিনি সাক্ষী দেবেন তাকে তো একবার চোখেও দেখলাম না। এই ভেবে তিনি পেছনে তাকালেন, অমনি নুপুরের শব্দ বন্ধ হয়ে গেল। যুবক নিজের নির্বুদ্ধিতা বুজতে পারলেন। মনের দুঃখে চোখের জলে শ্রীগোপালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা জানালেন। গোপাল প্রসন্ন হয়ে জানালেন, তাঁর বাক্য অনুযায়ী, তিনি আর অগ্রসর হবেন না। এখানে থেকেই সাক্ষী দেবেন।

বাড়ি ফিরে যুবক সব কথা বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে জানালেন। আত্মীয়স্বজন সকলে এই আশ্চর্য কথা শুনলেন। যারা এই বিবাহে বাধা দিয়েছিলেন, তারা সকলে এখন রাজি হয়ে গেলেন। বিবাহ হয়ে গেল।

সেই থেকে সস্ত্রীক যুবক শ্রীগোপালের সেবাতে আত্মনিয়োগ করলেন। এই গোপাল মূর্তি সেদিন থেকে সাক্ষীগোপাল রূপে প্রসিদ্ধ হলেন। সাক্ষীগোপালের মন্দির ওই সময় কটকে ছিল। বর্তমানে ঐ মন্দির পুরীর কাছাকাছি স্থানে রয়েছে।

এরপর আসেন ভুবনেশ্বরে। পুরাণে এই স্থানের নাম একাম্রকানন উল্লেখ রয়েছে। খুবই পবিত্র এই স্থান। গুপ্তকাশী বলা হয়।  লিঙ্গরাজ মহাদেব বিরাজ করছেন এখানে। বিন্দু-সরোবর খুবই পবিত্র তীর্থ। ভক্তরা এখানে স্থান করে নিজেদেরকে পবিত্র বোধ করেন। ভারতের চারটি পবিত্র সরোবরের অন্যতম এটি। মানস সরোবর, গুজরাটে নারায়ণ সরোবর, পম্পা-সরোবর, ও ভুবনেশ্বরে বিন্দু-সরোবর।  চৈতন্যদেব বিন্দু-সরোবরে স্নান করে মহাদেবের পুজো ও স্তব-স্তুতি করে বিশেষ আনন্দ লাভ করেন।সু মধুর কণ্ঠে ও মনোহর ছন্দে স্তব শুনে সবাই খুব আকৃষ্ট হন।

মন্দিরে প্রসাদ গ্রহণের ইচ্ছা হয়। কিন্তু কাউকে সে কথা জানালেন  না। অন্তর্যামী পরমেশ্বরের কাছে তা কি অজানা থাকে? আবার এমন পরম ভক্তের মনের ইচ্ছা। এক পূজারী ব্রাহ্মণ প্রচুর প্রসাদ নিয়ে হঠাৎ হাজির হলেন। অযাচিত করুণার কথা স্মরণ করে তিনি সানন্দে প্রসাদ গ্রহণ করলেন।






============পর্ব-৮===============
সাগরসঙ্গমে

         এই ভাবে হরিনাম ও ভগবানের প্রতি ভক্তির কথা প্রচার করতে করতে ডায়মন্ড হারবার ও জয়নগর মজিল-পুর প্রভৃতি স্থানে আসেন। এখানে অম্বু-লিঙ্গ মহাদেবের মন্দিরে দর্শন ও শিব পূজা করেছিলেন। স্তব-পাঠ করে মন্দিরে ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন। কাছেই সাগরসঙ্গম। খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অতুলনীয় মন্দিরে মহাদেবের মহিমায় মহাপ্রভু সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম করেন। স্থানীয় জমিদার ছিলেন রামচন্দ্র খাঁ। তিনি জানতে পেরে মন্দিরে আসেন, সন্ন্যাসীকে দেখতে। সন্ন্যাসীর তেজোময় শরীর ও অপূর্ব ভক্তিভাব দেখে রামচন্দ্র আকৃষ্ট হন। তিনি সভক্তি প্রণাম জানিয়ে মহাপ্রভুর সেবার ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

    ঐ সময়ে পুরী যাওয়া এখনকার মত এত সুগম ছিল না। কারণ বাংলার মুসলমান নবাবের সংগে ওড়িশার হিন্দু রাজার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। তার ফলে এর প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাওয়া সংকট ও ভয়ের ছিল। সীমান্ত-রক্ষীরা নানাভাবে উৎপীড়ন করত। এ ছাড়া চোর-ডাকাত ইত্যাদির ভয় তো ছিলই। রামচন্দ্র খাঁ মহাপ্রভুর নীলাচল গমনের ইচ্ছা জানতে পেরে জলপথে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে ব্যবস্থা করে দিলেন। ভালো নৌকোর ব্যবস্থা করে দিলেন যাতে সীমান্ত পারে যেতে কোন বাধা না হয়। কারণ সাধু-বেশে দেখলে অনেকে ছদ্মবেশী ভেবে অযথা হয়রানি করত।

      ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে ভগবানের নাম উচ্চারণ করতে করতে নৌকোয় করে বঙ্গোপসাগরের কিনারা ধরে ধীরে ধীরে ওড়িশাতে আসেন। বালেশ্বরের কাছে প্রয়াগ-ঘাট নামক স্থানে আসেন। নৌকো ছেড়ে দিয়ে এবার হেঁটে চললেন। পথে সাধারণ লোকজন থেকে শুরু করে  নগরের প্রহরী, যারাই মহাপ্রভুকে দর্শন করেন, তারাই মুগ্ধ হয় তাঁর শ্রীমুখে ঈশ্বরীয় কথা শুনেন। এমনকি চোর-ডাকাতদের মনেও ভক্তিভাবের সঞ্চার হল, তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যে এসে।

      এই ভাবে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা এসে পৌঁছলেন রেমুনা গ্রামে। রেমুনাতে ছিল ক্ষীরচোরা গোপীনাথের' মন্দির। মহাপ্রভু তা দর্শন করলেন। স্তব-স্তুতি পাঠ ও ভজন কীর্তনও করলেন। মন্দিরের পূজারীরাও খুব ভক্তিভরে প্রসাদী ক্ষীর মহাপ্রভুর জন্য পাঠালেন। নিজে  কিছুটা নিয়ে বাকি অন্যদের জন্য বিলিয়ে দিলেন।

যাজপুরে





     এরপর মহাপ্রভু অগ্রসর হন যাজপুরের দিকে। যাজপুর খুব বিখ্যাত স্থান। এখানে গয়ার মতো লোকে পিতৃপুরুষদের জন্য শ্রাদ্ধ-কর্ম করে থাকেন। বৈতরণী নদীতে স্নান ও তর্পণ করে থাকেন। মহাপ্রভু উপস্থিত হলেন যাজপুরে। পীঠ-দেবী হলেন শ্রীবিরজাদেবী। আর ভৈরব হলেন মহাদেব ত্রিলোচনেশ্বর। খুব মনোরম ও সুদৃশ্যে সাজানো মন্দির দর্শন করলেন। ঐ সময়ে যাজপুরে অনেক মন্দির ছিল। এবং খুব প্রসিদ্ধ স্থান হিসাবে পরিগণিত হত। কালাপাহাড়ের আক্রমণে সবই প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। মহাপ্রভু যাজপুরে মনের আনন্দে দেবীর আরাধনা ও মহাদেবের পুজো করেন।

সাক্ষীগোপাল 

  এরপর কটকের দিকে রওনা হলেন। এখানে সাক্ষীগোপালের দর্শন করেন। নিত্যানন্দের এই সব স্থান আগেই দেখা ছিল। তিনি সাক্ষীগোপালের কাহিনী মহাপ্রভুকে শোনালেন।

      এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কোন এক সময় একটি যুবকের সঙ্গে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। তীর্থে যাতে কোন অসুবিধা না হয় তাই যুবকটি বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে সেবা সাহায্য করত। যুবকের সেবা যত্নে বৃদ্ধ খুবই সন্তুষ্ট। এতটাই তার ভালো লাগল যে, তিনি তার কন্যাকে যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেবেন ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। যুবক কিন্তু ঠিক রাজি ছিলেন না। তিনি বার বার বৃদ্ধকে ওই ইচ্ছা ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। বৃদ্ধ কোন কথাই শুনলেন না। তিনি মন্দিরে গিয়ে শ্রীগোপালের সামনে কন্যার সংগে যুবকের বিবাহ দেবেন এই অঙ্গীকার করলেন।

    তীর্থ দর্শন করে দু-জনেই ফিরে এলেন। এখন বৃদ্ধ তার সংকল্প পুরণের জন্য যুবককে বললেন। কিন্তু এদিকে যুবকের বাড়ির লোক বা প্রতিবেশী আত্মীয় কেউ রাজি হল না। বৃদ্ধ খুব বিপদে পড়লেন। তার সত্যরক্ষা যাতে হয়, যুবক  সেই জন্য বিচারকের কাছে নালিশ জানালো। বিচারক বললেন ওই ব্রাহ্মণ যে তার কন্যাকে সম্প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন তার প্রমাণ কী? ভক্ত যুবক তখন নিরুপায় হয়ে ওই গোপালের মন্দিরে গিয়ে কাতর প্রার্থনা করেন। প্রভু, তুমি যদি এই বিষয়ে সাক্ষী না দাও, তা হলে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের ধর্ম নষ্ট হবে।

     ভক্তের আকুল প্রার্থনায় গোপাল প্রত্যাদেশ দিলেন। তুমি ভয় পেয়ো না, আমি সাক্ষী দোব। তোমার পেছনে পেছনে আমি যাব। কিন্তু সাবধান, যদি অবিশ্বাস মনে আসে ও পেছনে ফিরে তাকাও, তা হলে কিন্তু আমি আর যাব না। তুমি পথে যেতে যেতে আমার পায়ের নূপুরের শব্দ শুনতে পাবে। আমি যে তোমাকে অনুসরণ করছি, তা বুঝতে পারবে।

    যুবক খুবই আনন্দিতে হয়ে শ্রীগোপালকে প্রণাম করে ফিরে আসতে লাগল। বেশ অনেকটা পথ আনন্দে চলে এলেন। নূপুরের শব্দও শুনতে পাচ্ছিলেন।  সরল মনে যুবকের মনে হল, যিনি সাক্ষী দেবেন তাকে তো একবার চোখেও দেখলাম না। এই ভেবে তিনি পেছনে তাকালেন, অমনি নূপুরের শব্দ বন্ধ হয়ে গেল। যুবক নিজের নির্বুদ্ধিতা বুজতে পারলেন। মনের দুঃখে চোখের জলে শ্রীগোপালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা জানালেন। গোপাল প্রসন্ন হয়ে জানালেন, তাঁর বাক্য অনুযায়ী, তিনি আর অগ্রসর হবেন না। এখানে থেকেই সাক্ষী দেবেন।

     বাড়ি ফিরে যুবক সব কথা বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে জানালেন। আত্মীয়স্বজন সকলে এই আশ্চর্য কথা শুনলেন। যারা এই বিবাহে বাধা দিয়েছিলেন, তারা সকলে এখন রাজি হয়ে গেলেন। বিবাহ হয়ে গেল।

    সেই থেকে সস্ত্রীক যুবক শ্রীগোপালের সেবাতে আত্মনিয়োগ করলেন। এই গোপাল মূর্তি সেদিন থেকে সাক্ষীগোপাল রূপে প্রসিদ্ধ হলেন। সাক্ষীগোপালের মন্দির ওই সময় কটকে ছিল। বর্তমানে ঐ মন্দির পুরীর কাছাকাছি স্থানে রয়েছে।

ভুবনেশ্বরে 

  


  এরপর মহাপ্রভু আসেন ভুবনেশ্বরে। পুরাণে এই স্থানের নাম একাম্রকানন উল্লেখ রয়েছে। খুবই পবিত্র এই স্থান। গুপ্তকাশী বলা হয়।  লিঙ্গরাজ মহাদেব বিরাজ করছেন এখানে। বিন্দু-সরোবর খুবই পবিত্র তীর্থ। ভক্তরা এখানে স্থান করে নিজেদেরকে পবিত্র বোধ করেন। ভারতের চারটি পবিত্র সরোবরের অন্যতম এটি। মানস সরোবর, গুজরাটে নারায়ণ সরোবর, কর্ণাটকে পম্পা-সরোবর, ও ভুবনেশ্বরে বিন্দু-সরোবর।  চৈতন্যদেব বিন্দু-সরোবরে স্নান করে মহাদেবের পুজো ও স্তব-স্তুতি করে বিশেষ আনন্দ লাভ করেন।সু মধুর কণ্ঠে ও মনোহর ছন্দে স্তব শুনে সবাই খুব আকৃষ্ট হন।

    মন্দিরে প্রসাদ গ্রহণের ইচ্ছা হয়। কিন্তু কাউকে সে কথা জানালেন  না। অন্তর্যামী পরমেশ্বরের কাছে তা কি অজানা থাকে? আবার এমন পরম ভক্তের মনের ইচ্ছা। এক পূজারী ব্রাহ্মণ প্রচুর প্রসাদ নিয়ে হঠাৎ হাজির হলেন। অযাচিত করুণার কথা স্মরণ করে তিনি সানন্দে প্রসাদ গ্রহণ করলেন।

     এরপর ভার্গী নদীতে স্নান করে কপোতেশ্বর মহাদেবকে দর্শন করেন।©

                                                                   .                                                    .....ক্রমশ--



===============পর্ব -৭==============

নিত্যানন্দ


    এদিকে নিত্যানন্দ ভক্তদের সংগে নিয়ে চৈতন্যদেবকে ছায়ার মতো অনুসরণ করলেন। নিমাইয়ের দেহের এই অবস্থা দেখে নিত্যানন্দ খুবই চিন্তিত হলেন। খবর পাঠালেন শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্যের কাছে। কাটোয়ার কাছাকাছি স্থানে চৈতন্যদেবের সঙ্গে নিত্যানন্দের দেখা হয়। তিনিও বৃন্দাবন যাবেন ইচ্ছা প্রকাশ করেন। নিত্যানন্দকে পেয়ে ও তার বৃন্দাবন যাওয়ার ইচ্ছা শুনে চৈতন্যদেব খুবই আনন্দিত হলেন। একসঙ্গে দুজনে বৃন্দাবন দর্শনে যেতে রাজি হলেন। নিত্যানন্দ চললেন পথ দেখিয়ে সামনে,  আর চৈতন্যদের তাকে অনুসরণ করলেন।  রাস্তা ঘাট কোন কিছুর কোন খেয়াল নেই।



        কেবল বৃন্দাবন যাচ্ছেন ভেবে এগিয়ে চলেছেন। এ জগতের কোন হুঁস নেই, শরীরের বোধ নেই। নিত্যানন্দ চৈতন্যদেবকে ভুলিয়ে শান্তিপুরের দিকে নিয়ে চললেন। ভাব বিহ্বল অবস্থায় তিনি কোন টেরই পেলেন না। বার বার বলতে লাগলেন, কত দূর সেই বৃন্দাবন। কোথায় সেই ব্রজভূমি। 

    গঙ্গা দেখিয়ে নিতাই বললেন, এই তো যমুনার তীর দেখা যায়। যমুনার নাম শুনেই চৈতন্যদেবের ভাব আরও উথলে উঠল। যমুনায় স্নান করবার ইচ্ছা করলেন। স্নান করে তিনি চারিদিকে তাকালেন। ভালো করে দেখলেন। খানিকটা জগতের হুঁস ফিরে এসেছে। সব যেন চেনা চেনা। না, এতো বৃন্দাবন নয়। শান্তিপুরের চিরপরিচিত গঙ্গার ঘাট। 

   ওদিকে খবর পেয়ে নৌকো নিয়ে অদ্বৈতাচার্য হাজির শান্তিপুরের ঘাটে। চৈতন্যদেব অবাক হয়ে নিত্যানন্দের মুখের দিকে তাকালেন। তিনি তখন হাসতে হাসতে সব কথা প্রকাশ করলেন ও নিজের অপরাধ স্বীকার করলেন।


অদ্বৈতাচার্য

   অদ্বৈতাচার্য অবাক বিস্ময়ে  সন্ন্যাসীর প্রশান্তমূর্তি দর্শন করে আনন্দিত হলেন। সেই নিমাই পণ্ডিত আর নেই। খসে পড়েছে পাণ্ডিত্যের অহমিকা, সরে গেছে সব উপাধি। ত্যাগ ও বৈরাগ্যের দীপ্তিতে চমকিত হচ্ছে মুখশ্রী। অন্তরের আনন্দ যেন ফেটে পড়ছে।

    তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন নতুন গেরুয়া বস্ত্র ও কাঠের পাদুকা। নিবেদন করলেন জ্বলন্ত পাবককে।  নতুন কাপড় পরে দিব্যকান্তি সন্ন্যাসী দাঁড়ালেন আচার্যের সামনে। আচার্য বিনীত ভাবে প্রার্থনা জানালেন তাঁর গৃহে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য। চৈতন্যদেব রাজি হলেন। এলেন শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্যের বড়িতে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল সর্বত্র। সবাই এসে হাজির হতে লাগল আচার্যের বাড়িতে। মুণ্ডিত মস্তক সন্ন্যাসীর বেশে দেখে প্রথমে সকলে দুঃখিত হলেও, তার ভুবনমোহিনী মূর্তি দেখে অন্তরে আনন্দের বোধ হল। আচার্য অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে চৈতন্যদেবের সেবার ব্যবস্থা করলেন।

    আচার্য অদ্বৈতের ভবনে চৈতন্যদেব কিছু দিন থাকলেন। বলা ভালো, সকলের অনুরোধে তিনি কিছু দিন থাকতে সম্মত হলেন। সর্বদাই ভগবৎ প্রসঙ্গে ও নাম কীর্তনে নিযুক্ত থাকলেন। 

    পরদিন ঠিক হল নবদ্বীপ থেকে মা শচীদেবীকে শান্তিপুরে নিয়ে আসবেন। সেই মত পালকি পাঠানো হল। কিন্তু বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর আসার অনুমতি হল না। তিনি শোকে দুঃখে জর্জরিত হয়ে গৃহেই রইলেন। বাড়ির বিশ্বস্ত পুরনো লোক ছিলেন ঈশান। ঈশানের উপর বিষ্ণুপ্রিয়াকে দেখা শোনার ভার দিয়ে গৃহদেবতাকে প্রণাম করে শচীদেবী পালকিতে উঠলেন। চোখের জলে, পলক হীন দৃষ্টিতে বিদায় দিলেন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া।

শচীমাতা

     শচীমাতার পালকি এলো শান্তিপুরে, অদ্বৈত ভবনে। গর্ভধারিণীকে দেখতে পেয়ে ছুটে গিয়ে পায়ে লুটিয়ে পড়লেন, প্রাণের দুলাল। পুত্রের মাথায় চুল নেই, মুণ্ডিত মস্তক, গেরুয়া বসন দেখে মায়ের বুকে যেন শেল বিঁধল। "দোঁহার দর্শনে দোঁহে হইল বিহ্বল। কেশ না দেখিয়া শচী হইল বিকল"।শচীদেবী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ওরে বাছা নিমাই, বিশ্বরূপের মতো তুই নিষ্ঠুর হোস না। তোকে ছাড়া যে আমি বাঁচব না।

     মায়ের কাতর বাক্যে সন্ন্যাসীর মন বিগলিত হল। সন্ন্যাসীর চোখেও জল। কেঁদে কেঁদে তিনি শচীমাকে বললেন -  মাগো, এই যে তোমার দেওয়া শরীর, আমার বলে কিছু নেই। তুমি আমার এই দেহ কত যত্নে লালন পালন করেছ। কোটি জন্মেও সে ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। মাগো, তোমার কাছে আমার কীসের সন্ন্যাস? তুমি যেখানে থাকতে বলবে, যা করতে বলবে আমি তাই করব

      প্রাণের প্রিয় পুত্রকে বুকে ধরে মা খানিকটা শান্ত হলেন। পুত্রের এমন ব্যবহার ও তুলনাহীন মাতৃভক্তির কথা শুনে মায়ের মন আনন্দিত হল। শচীমাতা কিছু দিন আচার্যের ভবনেই থাকলেন। মা নিজের হাতে রান্না করে সন্ন্যাসী পুত্রকে ভিক্ষা দান করলেন। এই ভাবে কিছু দিন জননী একদিকে যেমন নিজ হাতে রান্না করে পুত্রকে খাওয়ালেন ও অন্য দিকে  পুত্রকে দেখার সুযোগও পেলেন।

    এই ভাবে কিছুদিন কাটার পর ভক্তদেরকে মহাপ্রভু ও আচার্য জানলেন যে, সন্ন্যাসীর পক্ষে এটা উচিত নয় যে নিজ জন্মস্থানে আত্মীয়দের সঙ্গে বাস করেন। এই কথা শুনে সকলে খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বিশেষ করে শচীমাতা।

    চৈতন্যদেব তার ইচ্ছার কথা বলেলেন। উত্তর-পশ্চিমে যাত্রা করতে চান তিনি। ভক্তগণ সকলে অনুরোধ করল অন্যত্র না গিয়ে এখানেই থাকতে। ভক্তদের আকুতি মিনতি উপেক্ষা করতে না পেরে তিনি বললেন, মা যেখানে বলবেন তিনি সেখানেই থাকবেন। সবাই গিয়ে শচীদেবী কাছে পুত্রের মনের এই অভিপ্রায় জানালেন। সমস্ত ব্যাপার শুনে এবং চিন্তা করে শচীদেবী পুত্রের সন্ন্যাস ধর্ম রক্ষার জন্য সবাইকে বললেন নীলাচলে গিয়ে যেন থাকে।

নীলাচল



   নবদ্বীপ ও নীলাচল এ-ঘর আর ও-ঘর। তিনি আরও বললেন চৈতন্যদেব যদি নীলাচলে পুরীতে গিয়ে থাকেন তাহলে নবদ্বীপ থেকে খবরা-খবর নেওয়া যাবে। ধন্য ধন্য করতে লাগলো সকলে এই কথা শুনে। এমন মা না হলে কি এমন পুত্র হয়!  মায়ের অভিপ্রায় জেনে চৈতন্যদেব খুব আনন্দিত হলেন ।  তিনি মায়ের চরণে লুটিয়ে পড়লেন এবং মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন।

 অদ্বৈতাচার্যের বাড়িতে আনন্দের হাট বাজার বসেছে। কত দেশ থেকে লোকজন আসছে। নবীন সন্ন্যাসীকে দর্শন করছে  ও তার উপদেশ গ্রহণ করে সকলে শান্তি লাভ করছে।  

বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী

    এই আনন্দের পরিবেশে একজন রইলেন চির বঞ্চিতা। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী। মহাপ্রভুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার জীবনের অন্তরালে  নিভৃতে তিনি সাধনার আসন পাতলেন।  স্বামী যে কেবল আমার নয়, তিনি যে জগৎস্বামী। তাঁর সন্ন্যাস ধর্ম রক্ষার জন্য তিনি নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে সারা জীবন কিভাবে গৃহে সন্ন্যাসিনীর জীবন যাপন করে ছিলেন, তা চির-আদর্শ হয়ে রয়েছে। ভক্ত ও আর্তের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।  তিনি ছিলেন তিতিক্ষার মূর্ত বিগ্রহ। কখনো কোনো পুরুষের সঙ্গে আলাপ করা দূরে থাক, কেউ তাঁর মুখদর্শন করতেও পারতেন না।

   মায়ের ইচ্ছে অনুসারে আরো কিছুদিন অদ্বৈত ভবনে থেকে চৈতন্যদেব নীলাচল যাত্রার করলেন।  সঙ্গে গেলেন নিত্যানন্দ, মুকুন্দ, দামোদর প্রভৃতি কয়েকজন অন্তরঙ্গ ভক্ত।  কয়েকজন যুবক শান্তিপুরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সঙ্গে সঙ্গে এসে হৃদয়ের ধনকে বিদায় দিলেন।  প্রশান্তচিত্ত সন্ন্যাসী দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ও ঈশ্বরের উপর ভবিষ্যতকে পূর্ণ সমর্পণ করে,  অগ্রসর হয়ে চলেন। শান্তিপুরের আনন্দের হাট ভেঙ্গে গেল।

শান্তিপুর ত্যাগ 


   মহাপ্রভু ভগবানের নাম স্মরণ করতে করতে শান্তিপুর থেকে দক্ষিণ মুখে গঙ্গার তীরে চলতে থাকলেন।  চারিদিক থেকে লোক ছুটে এলো তাঁকে দেখার জন্য। সবার জন্য তিনি প্রার্থনা করেন ও সুমধুর বাক্যে ও উপদেশে সবাইকে আনন্দিত করেন। আবার জায়গায় জায়গায় হরিনাম সংকীর্তনে সবাইকে মুগ্ধ করেন। 'করতল ভিক্ষা, তরুতল বাস।"  ভিক্ষান্নে যা পাওয়া যায় তাই খান। আর পুরনো পরিত্যক্ত  মন্দিরে অথবা গাছের তলায় রাত্রি যাপন করেন। 

  সংসারে আর কোথাও কোন বন্ধন নেই। আজ তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। মুক্ত বিহঙ্গের কাজ শুধুই এগিয়ে চলা। চরৈবেতি চরৈবেতি। মহাপ্রভু এগিয়ে চললেন আনন্দ থেকে মহানন্দের পথে।©                                                                   ---contd







     == ============পর্ব -৬==============



©                     ।। কেশব ভারতীর আশ্রমে ।।



    শীতের সকাল। খুব ভোরে ভারতী মহারাজ দেখলেন নিমাইকে আশ্রমে। ভিজে কাপড়ে এতো ভোরে দেখে অবাক হলেন সন্ন্যাসী। নিমাই তাঁকে প্রণাম করলেন ভূমিষ্ট হয়ে। করজোড়ে সন্ন্যাসের প্রার্থনা জানালেন। মায়া-মোহমুক্ত সন্ন্যাসীর হৃদয়ও নিমাইকে এইভাবে দেখে নরম হয়ে গেল। তিনি যেহেতু তাঁর পরিবারের অবস্থা জানতেন, তাই সন্ন্যাসে সম্মত হলেন না। নিমাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বার বার বললেন। নানা ভাবে বুঝিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে চেষ্টা করলেন সন্ন্যাসের সংকল্প ত্যাগ করতে। কিন্তু নিমাইয়ের চিত্ত টলল না কিছুতেই। 

        বরং বার বার ভারতীজীর চরণে প্রার্থনা জানতে থাকেন  "হে প্রভু, কৃপা করে আমার সংসার পাশ কেটে দিন, আমাকে ভব বন্ধন থেকে মুক্ত করুন।" ভারতীজী বললেন , "নিমাই, বৃদ্ধা জননীকে তুমি ছাড়া কে দেখবে? তাছাড়া স্ত্রী নিতান্ত বালিকা, এই অবস্থায় তোমার সন্ন্যাস গ্রহণ ঠিক নয়।" তুমি ফিরে গিয়ে গৃহস্থ আশ্রমের যা কর্তব্য, তাই কর। পরে অনুকূল অবস্থা হলে আবার এসো, তখন সন্ন্যাস গ্রহণ করতে পারবে। মাথায় যার বৈরাগ্যের আগুণ লেগেছে, কোনো কথায় কি তা ঠাণ্ডা হয়! এক মুহুর্তও এই সংসারের সম্পর্ক আর সহ্য হচ্ছে না। তা ছাড়া, মৃত্যুর তো কালাকাল নেই। কখন যে মৃত্যু এসে সব ছিনিয়ে নিয়ে যাবে, কে বলতে পারে। শাস্ত্রে তো বলা হয়েছে, যখন চিত্তে ব্যাকুলতা আসবে, তখনই প্রবজ্যা গ্রহণ করবে। নিমাইয়ের দৃঢ়তা ও তীব্র ব্যাকুলতার পরিচয় পেয়ে আশ্রমের অন্যান্য সকলে অবাক হলেন। কেশব ভারতীজী মনে মনে জ্বলন্ত বৈরাগ্যবানকে দেখে মনে মনে খুশি হলেন।

                    ।। সন্ন্যাসের অনুমতি প্রদান ।।

     ভারতী মহারাজ আশীর্বাদ করে নিমাইকে সন্ন্যাসের অনুমতি প্রদান করলেন। সন্ন্যাসের পূর্বে মস্তক মুণ্ডন ও শ্রাদ্ধাদি কর্ম করতে হয়। ভারতী মহারাজ আদেশ দিলেন সন্ন্যাসের জন্য প্রস্তুত হতে। আনন্দিত চিত্তে নিমাই বার বার প্রণাম করে অগ্রসর হলেন অভীষ্ট সাধনের লক্ষ্যে...

                          ।। মধু নাপিত ।।

     মস্তক মুণ্ডন করতে হবে প্রথমে। প্রয়োজন নাপিতের। আশ্রমের কাছেই থাকতেন মধু নামে এক নাপিত। তিনি মুণ্ডনের কাজ করতেন। আগে যারা সন্ন্যাস নিয়েছেন এখান থেকে, তিনি তাদের মুণ্ডন করেছেন। ফলে তাঁর এই ব্যাপারে আবেগ আর তেমন নেই। হৃদয় কঠিন হয়ে গিয়েছে। জীবিকা হিসাবে করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। কিন্ত আজ সকালে নিমাইকে মুণ্ডন করতে এসে মধুর কঠিন হৃদয় বেশ নরম হয়ে গেল। মধু নিমাইকে অনুনয় বিনয় করে বলল, "ঠাকুর, আমাকে ক্ষমা কর। তোমার এই বয়স, আর এমন দেহের রূপ। তোমাকে মুণ্ডন করে পথের ভিখারী করতে আমি পারব না। তোমার পায়ে পড়ছি, বাড়ি ফিরে যাও।"

         নিমাই কিন্তু ফিরলেন না। বরং মিষ্টি কথায় তাকে বুঝিয়ে বললেন, "ভাই, তুমি আমার প্রতি নির্দয় হয়ো না। আমি অত্যন্ত দীনহীন, আমাকে তুমি দয়া কর। তুমি দয়া করে আমাকে ভগবানের পথের পথিক করে দাও।"

   মধুকে সুমধুর বাক্যে ও যুক্তিতে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করালেন। অগত্যা মধু চোখের জল মুছতে মুছতে মুণ্ডন করে দিলেন। মুণ্ডন হয়ে গেলে চোখের জল মুছে, মধু হাতের ক্ষুর গঙ্গায় বিসর্জন দিলেন। এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন ,এমন নিষ্ঠুর কাজ আর সে কোন দিন করবে না।

                        ।। মুণ্ডিত মস্তক।।

    শচীমায়ের নয়নের মণি মস্তক মুণ্ডন করে চললেন গঙ্গাস্নানে। স্নান করে ভারতীজীর সামনে এসে প্রণত হলেন। মুণ্ডিত মস্তকে নিমাইয়ের অপূর্ব শোভা দেখার মতো। স্বর্গের দেবতারাও বোধ করি বিস্মিত চিত্তে এই দুর্লভ দৃশ্য দেখছিলেন। ভারতীজী প্রসন্ন চিত্তে নিমাইকে দেখলেন। দেখলেন  -  কোথায় সেই কালো চাঁচর কেশদাম। কোথায় সেই নিমাই পণ্ডিত। কোথায় তার পাণ্ডিত্যের অভিমান। সব কিছুকে তুচ্ছ করে জীবনের মূল লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্পে দৃঢ় এর অভিযাত্রী।

     আজ মকর সংক্রান্তি। পুণ্যযোগে অনেকে স্নান করতে গঙ্গায় এসেছেন। ঘাটের কাছেই আশ্রম। নবদ্বীপের নিমাইকে সকলেই চেনে। তাঁর মধুর কীর্তন ও  ভাবে সমবেত নৃত্য সবাইকে মুগ্ধ করত। তাই সকলের খুব পরিচিত। আশ্রমে এই ভাবে মুণ্ডিত মস্তকে দেখে সবাই বিস্মিত হল। সব কিছু জেনে খুবই দুঃখ পেল। কেউ কেউ ভারতীজীকে অনুরোধ করল, এমন কাজ না করার জন্য। "সন্ন্যাসী ঠাকুর, আপনার হৃদয়ে মায়া-মমতা নেই। একে না দেখতে পেয়ে মা, স্ত্রী কী নিদারুন দুঃখ না অনুভব করছেন, একবার ভেবে দেখুন।" একই ভাবে নিমাইকেও ফিরে যেতে বার বার অনুরোধ করল। অনেক প্রবীন সম্ভ্রান্ত লোকেরা আশ্রমে এসে ভারতীজীকে করজোড়ে অনুরোধ করলেন, যাতে তিনি সন্ন্যাস  প্রদান না করেন।


                   ।।   সন্ন্যাস না গ্রহণের অনুরোধ  ।।

      বিধির যা বিধান তা তো হবেই। কেউ বাধা দিতে পারবে না। ব্রহ্মবিদ্‌ ভারতীজী ধীর স্থির হয়ে আসনে বসে রয়েছেন। অপেক্ষা করছেন।  আর নিমাই তখনও হাত জোড় করে সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। উপস্থিত সকলে নিমাইয়ের যাতে সন্ন্যাস গ্রহণ না হয়, সেই ব্যাপারে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছেন। নিমাই  সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বললেন, "আপনারা আমাকে কৃপা করুন। আমি বড় দুর্ভাগা। আপনারা নির্দয় হলে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করতে পারব না। সংসারে থেকে আমার প্রাণ ধারণ অসম্ভব।" নিমাইয়ের এমন প্রবল বৈরাগ্য ও ব্যাকুলতা দেখে উপস্থিত লোকজনের মনেও শ্রদ্ধার উদয় হল। কোনভাবেই যখন থামাতে পারলেন না, সকল চেষ্টা যখন বিফল হোল, সমবেত সকলে আর বিশেষ কিছু না বলে, যে যার বাড়ি ফিরে গেল।

    নিমাই এবার নিশ্চিন্ত মনে সন্ন্যাস গ্রহণের যে সব শাস্ত্রীয় বিধান তার জন্য উদ্যোগী হলেন। এমন সময় নবদ্বীপ থেকে নিমাইয়ের আত্মীয় স্বজন- নিত্যানন্দ, মুকুন্দ, দামোদর প্রভৃতি ভক্ত আশ্রমে উপস্থিত হলেন।

     নিমাই রাত্রে বাড়ি থেকে চলে আসার পরে ভোরে সবাই জানতে পারে যে সর্বনাশ হয়ে  গেছে। নিমাই গৃহত্যাগ করেছে। মায়ের মনের আশঙ্কাই সত্যি হল। শচীমা 'নিমাই, নিমাই' বলে জোরে জোরে ডাকতে থাকেন। মায়ের সেই ডাক ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে  আকাশে বাতাসে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

                         ।। সংকল্পে দৃঢ় ।।

        কোনো অনুরোধ আজ নিমাইয়ের বজ্রের মতো কঠোর হৃদয়কে নরম করতে পারল না। সব শুনলেন  আগত ভক্ত ও প্রতিবেশীদের মুখে। শোক ও কান্নার  বর্ণনা শুনেও অটল থাকলেন নিজ সংকল্পে। নবদ্বীপ থেকে যারা এসেছিলেন তাদেরকে খুব বোঝালেন। তিনি নিরুপায় হয়ে এই কাজ করতে চলেছেন। ঈশ্বরের পথে যেন তিনি অগ্রসর হতে পারেন এই প্রার্থনা জানালেন।

    যা হোক, আত্মীয় স্বজনদের কোন ভাবে বুঝিতে নবদ্বীপ পাঠিয়ে দিলেন। এরপর সন্ন্যাসের পূর্বে শাস্ত্র বিধি মেনে শ্রাদ্ধকর্ম করা হল।সন্ন্যাসের পরে আর কোন শাস্ত্র বিধি করতে নেই বলে, তার পূর্বে বংশের পূর্ব পুরুষদের শ্রাদ্ধ করতে হয়। এমনকি পিতামাতার শ্রাদ্ধও করতে হয়। আত্মশ্রাদ্ধ বা নিজের শ্রাদ্ধও করে নিতে হয় সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে। শ্রাদ্ধাদি সব কাজ সমাপ্ত হল।

      গভীর রাতে  জ্বালানো হল হোমকুণ্ড। যজ্ঞের অগ্নিতে আহুতি প্রদান করে সংকল্প গ্রহণের পালা এলো। হোমকুণ্ডের চারদিকে অন্যান্য সন্ন্যাসীরা উপস্থিত রয়েছেন। প্রজ্বলিত অগ্নির সামনে স্থির হয়ে বসে রয়েছেন নিমাই, শ্রীবিশ্বম্ভর মিশ্র। মুণ্ডিত মস্তক। দেহ থেকে যেন জ্যোতি বেরিয়ে আসছে। তাঁর পাশের আসনে বসেছেন ব্রহ্মজ্ঞানী সন্ন্যাসী শ্রীমৎ স্বামী কেশবানন্দ ভারতী। মহারাজের নির্দেশে শাস্ত্র সম্মত সমস্ত ক্রিয়া সুসম্পন্ন হল। 

                         ।। বিরজা হোম ।।




      শুরু হল বিরজা হোম। নিমাই  যজ্ঞে আহুতি প্রদান করলেন।  বর্ণ, আশ্রম, দেহ, মন বুদ্ধি চিত্ত  অহংকার, সমস্ত ভোগ বাসনা হোমাগ্নিতে ভস্মীভুত হয়ে যাক - এই প্রার্থনা জানালেন। ব্রহ্মজ্ঞ কেশব ভারতী মহারাজ গেরুয়া বসন, ব্রহ্মমন্ত্র, দণ্ড-কমণ্ডলু দিলেন। এখন থেকে তাঁর নাম হল শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ভারতী। কারও কারও মতে তাঁর নাম হয়েছিল স্বামী চৈতন্যানন্দ, পরবর্তী সময়ে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণযোগ করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য বলে উল্লেখ করতেন। তবে শ্রীচৈতন্য নাম প্রাচীন গ্রন্থে অধিক উল্লেখ পাওয়া যায়।

    গুরুর কাছে সন্ন্যাসের মহামন্ত্র শোনা মাত্র তিনি গভীর সমাধি মগ্ন হয়ে পড়েন।শিষ্যের এমন উচ্চ অবস্থা লক্ষ্য করে গুরু ভারতীজী খুবই বিস্মিত ও আনন্দিত হলেন। কিছুক্ষণ পর নিমাইয়ের মন একটু নিচে মেনে এলে, ভাবস্থ অবস্থায় তিনি সর্বত্র লীলাময় শ্রীকৃষ্ণের সর্বব্যাপী রূপ দর্শন করেন। অদ্ভুত প্রেমে বিহ্বল হয়ে পড়েন। বার বার মন সমাধিতে মগ্ন হয়ে এই জগত থেকে বহু দূরে কোন অনন্তের পথে পাড়ি দেয়। উপস্থিত অন্যান্য সন্ন্যাসীদের কাছেও এটি খুবই অভিনব ও বিস্ময়ের ঘটনা।            

                                                                                                 ।। সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ ।।

     প্রাচীন কালের নিয়ম ছিল সন্ন্যাস গ্রহণের পর নবীন সন্ন্যাসী মহাপ্রস্থানের পথে হিমালয়ের দিকে যাত্রা করবেন। আর লোকালয়ে ফিরবেন না। পরবর্তী কালে এই প্রথার কিছুটা পরিবর্তন হয়। সন্ন্যাসের পর বিভিন্ন তীর্থে সন্ন্যাসীরা বাস করে সাধন ভজন করতেন। সন্ন্যাসের পর মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রার  যে প্রাচীন প্রথা এখনও অনেক মঠে দেখা যায়। সন্ন্যাস গ্রহণের পর নতুন সন্ন্যাসী তাই উত্তরে হিমালয়ের দিকে খানিকটা এগিয়ে যায়। এবং প্রবীন সন্ন্যাসীরা তাদের জগদ্ধিতায়, জগতের মঙ্গলের জন্য ফিরে আসতে  অনুরোধ করে। তখন তারা ফিরে আসেন।

                           ।। পরিব্রাজক ।।




     পরদিন নবীন সন্ন্যাসী গুরুর আশীর্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। বেরিয়ে  পড়লেন উত্তরাখণ্ডের পথে পরিব্রাজক হয়ে। গৃহছাদ তব অনন্ত আকাশ। শয়ন তোমার সুবিস্তৃত ঘাস। মনে  মনে ঠিক করলেন কাশী, প্রয়াগ বৃন্দাবন প্রভৃতি তীর্থ দর্শন করে যাবেন। বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি ব্রজধাম দর্শন করার প্রবল আগ্রহ নিয়ে অগ্রসর হবেন।

      রাস্তায় বেরোলেন ঠিক। কিন্তু বাইরের জগতের প্রতি কোনো দৃষ্টি নেই। বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ভাবাবেগে কখনও 'কোথা কৃষ্ণ', 'কোথা বৃন্দাবন'  বলে ছুটতে থাকেন। কোন দিকে যাবেন, কোন দিকে পথ, কোনও কিছুই খেয়াল নেই। এমন ভগবৎ ভাবে বিভোর হয়ে ছিলেন গয়ায় বিষ্ণু  পাদপদ্ম দর্শনের পর। এই ভাবে   সন্ন্যাস জীবনের প্রথম দিন কাটল। আহার নেই, নিদ্রা নেই। মুখে কেবল হরিনাম । আশ্রয় নিলেন পথে এক বটগাছের তলায়।©

                                                   ...... ক্রমশ পর্ব-৭ 


আগের পর্বগুলি পড়ুন

https://www.blogger.com/u/1/blog/post/edit/6107766662397436021/8392015575612233379

Comments

  1. অপূর্ব লাগলো মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবের কথা বিস্তারিতভাবে জানতে পেরে আপনার শ্রী চরণে এসেছি বলে এত বিস্তারিতভাবে জানতে পারছি সাধু সঙ্গ অতি দুর্লভ আপনার শ্রী চরণে যেন পড়ে থাকতে পারি আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম শিখা মন্ডল বজবজ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. অপূর্ব অপূর্ব চৈতন মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণপর্ব খুব ভালো লাগলো সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ 🙏🙏🙏

      Delete
    2. মহারাজ অপূর্ব লাগলো। প্রনাম নেবেন🙏🙏🙏🙏

      Delete
    3. Apurbo laglo.khub valo laglo jore uchaaron kore porate ar o valo laglo.pronam neben Maharaj

      Delete
    4. অপূর্ব অপূর্ব লাগছে চৈতন্যমহা প্রুভর জীবনী পড়তে জয় চৈতণ্য মহাপ্রুভর জয় 🙏
      সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই মহারাজের শ্রী চরণে 🙏
      মৌসুমী রায় কোচবিহার
      S

      Delete
    5. চৈতণ্য মহা প্রুভর এত সুন্দর জীবনী পড়তে খুব ভালো লাগছে 🙏
      সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ । 🙏
      মৌসুমী রায় কোচবিহার

      Delete
    6. জয় চৈতণ্য মহা প্রভুর জয় 🙏
      সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই মহারাজের শ্রী চরণে 🙏
      মৌসুমী রায় কোচবিহার

      Delete
    7. জয় চৈতন্য মহাপ্রভুর জয় 🙏
      ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ 🙏
      মৌসুমী রায় কোচবিহার

      Delete
  2. আমার প্রনাম নেবেন 🙏 আগের পর্ব গুলো পরেছি।এটাও পরবো।
    আপনার উপস্থাপনা তো সর্বদাই সুন্দর লাগছে।
    ভালো থাকবেন 🙏🏻🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
    Replies
    1. Pranam Prabhuji, Bhaktir Abatar Sri Chaitannya, sundar lekhani, Maha Prabhu Sannyash grahan er parba, bojha gelo Bhagaban jakhan Bhakta ke chan, Bhakta takhan Bhagaban er preme unmad hoye jan, Bhagaban er sathe milan chara ar kono dike tnar mon thake na, Sri Krishna preme nimagna, Sri Chaitannya Maha Prabhur jibane tahai dekha jay. Khubi sundar o interesting part, sundar bhabe barnana korechen, thanks.
      Antorik sradhya o kritagyata janai.
      Apnar anugata sishya.
      🍀🌷🙏🙏🙏🌷🍀

      Delete
    2. Opurbo, 🙏🙏

      Delete
    3. Manika das, onek kichu jantha parchi

      Delete
    4. যত পড়ছি মুগ্ধ হচ্ছি।পরবর্তী র দিকে তাকিয়ে-----.প্রণাম

      Delete
  3. অপূর্ব লাগলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা যত শুনছি ততোই এরপর কি হবে জানবার জন্য মন ছটফট করছে। প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ

    ReplyDelete
    Replies
    1. Apurbo mon samoyik somoy holeo annyo ek jagat e bicharon korlo pronam maharaj

      Delete
    2. Apurba lagche Acharya guru Moharaj pore Chitonno mohaprovu somondhye onek kichu jante parchi Sobi Thakurer Asirbad Ami sobguloi porechi Shyamali chaki

      Delete
  4. 🙏🙏 খুব ভালো লাগছে মহারাজ।
    রীতা নাগ।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  5. এক কথায় "অনবদ্য "রচনা।চৈতন্য দেবের মহাজীবনের সত্য কাহিনী পড়ে ভক্তির আবেগে আপলুত হয়ে যাচ্ছি সবাই।কী অপূর্ব লেখা মহারাজ। অন্তর স্পর্শ করে যায়।অশ্রুসিক্ত প্রণাম জানাই আপনার শ্রীচরণে।
    কাজল লাহিড়ী
    নিউ আলিপুর। ।

    ReplyDelete
  6. Khub valo laglo maharaj,

    ReplyDelete
  7. প্রণাম মহারাজ।
    খুব ভালো লাগলো পড়ে। যদিও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা বিভিন্ন লেখকের বইয়ে পড়েছি তবুও আপনার সহজ সরল ভাষায় ধারাবাহিক পর্বগুলি হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আপনার এই নিরলস প্রচেষ্টাকে যেন আমরাও সন্মান দিতে পারি এই প্রার্থণা করি দিব্যত্রয়ীর কাছে।

    ReplyDelete
  8. অসাধারন, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ভক্ত মন্ডলীর কাছে অনেক বড়ো inspiration... 🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. খুব ভালো লাগলো মহারাজ 🙏🙏

      Delete
  9. 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  10. অদ্ভুত এক মুগ্ধতায় মন ভরে গেল। প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  11. মহারাজ অপূর্ব লাগছে ধারাবাহিক ভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন বৃত্তান্ত পড়তে ও জানতে। সব পর্ব গুলি একবার করে পড়া হয়ে গেছে আবার পড়তে ইচ্ছে করছে! জয় চৈতন্য মহাপ্রভুর জয়! জয় মহারাজের জয়! আপনার কৃপায় এত কিছু সম্ভব হচ্ছে মহারাজ! আপনার চরণে আভূমি লুণ্ঠিত প্রণাম নিবেদন করছি মহারাজ!🙏🌿🌷🌿🙏

    ReplyDelete
  12. অপূর্ব লাগলো। ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ইন্দিরা ভট্টাচার্য বিষ্ণুপুর

    ReplyDelete
  13. আলো ব্যনার্জী।
    খুব ভালো লাগছে ধারাবাহিক ভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী পড়তে। আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ। 🙏🌹🙏

    ReplyDelete
  14. 🙏🏻🙏🏻সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  15. Joy Shree Krishna Chaitanyo Bharati 🙏ShreeKrishna Chaitananda Prabhu👏Sastanga pranam nibedon kori Tobo Shree Padopodmey 👏 🙏. Sotokoti obolunthito vaktivora pranam nibedon kori Achariyo Gurudeva er Shree Padopodmey 🙏🙏. Maharajji, Apner ei opurbo lekhoni khubei Vaabobyanjokpurno o pranobonto 🙏. Aaj Aponer ashroy thekey ejonmey eto sohojvabey Dybo onubhuti o Adhyatmik Gyan siksha prapti kortey parchi, Maharajji 🙏. Amader pipasuchittyo opeksharoto next gyansiksha prapti r asha te, Maharajji 👏. Abhumi naman Achariyo Maharajji 🙏

    ReplyDelete
  16. Aj natun adhyayti pore khub e bhalo laglo. Shree chaitanya de ver ai ankshati monke khub e shporsha korlo. Bakita parar apekshyay roilam. Pronam neben maharaj. Krishnadey, jamshedpur.

    ReplyDelete
    Replies
    1. ...খুব ভালো লাগলো

      Delete
  17. আপনার সানিধ্যে আসার পর থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি শ্রী চৈতন্য দেবের কাহিনী পর পর জানতে পারছি খুব ভালো লাগছে, আপনাকে প্রণাম জানাই,

    ReplyDelete
  18. 🙏🏻🙏🏻🙏🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
    Replies
    1. অপূর্ব লাগলো শ্রী চৈতন্যদেব এর কাহিনী পড়ে।
      প্রণাম নেবেন মহারাজ জী।

      Delete
  19. প্রণাম মহারাজ । আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল চৈতন্য চরিতামৃত পড়ার সেটা আপনার জন্য সম্ভব হচ্ছে । খুব ভালো লাগছে পড়তে । প্রণাম নেবেন ।

    ReplyDelete
  20. Khub sundar barnana diyechen Maharaj. Khub valo laglo. Anek na jana bisoy jante pere khub upakrita holum. Antarer vakti tuku nibedan kari. Joy sri Chaitanya Mahaprabhu. Joy amader parama prema Maya Maharaj. Amader parama priya Acharya Deva🙏🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. মহাপ্রভুর ব্যপারে অনেক কিছু জানতে পেরে খুব ভাল লাগল। আরো অনেক কিছু জানার আশায় রইলাম। প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
      মি না সিনহা রাজারহাট

      Delete
  21. Khub valo laglo sree chaytanya mohaprovu r kotha pore .apni sahaj golper moto likechen jeta pore mone rakha subidha .Apni amar sotokoti pronam neben Moharaj.sikha Bal Burdwan.

    ReplyDelete
  22. কি সরল ভাষায় শ্রী চৈতন্য দেবের ষষ্ঠ ভাগে র বর্ণনা অসাধারণ লাগলো। জয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু আমার ভক্তি পূর্ন প্রনাম গ্রহণ করুন আচার্য দেব🙏🙏

    ReplyDelete
  23. অপূর্ব নিমাই সন্ন্যাস গাথা, কত কিছু জানতে পারছি
    আমার সশ্রদ্ধ প্রনাম নেবেন মহারাজ জী। 🙏🙏

    অর্পিতা বসু বাগবাজার

    ReplyDelete
  24. এতো সুন্দর ভাবে লেখা, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু র সন্ন্যাস গ্রহণের কাহিনী, মনের অন্তঃস্থল ছুঁয়ে গেল🙏🙏
    এই ভাবে লেখা পড়ে মুগ্ধ হলাম।
    জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏🙏
    দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏

    ReplyDelete
  25. Darun. Khub sundar.
    Pranam maharaj 🙏🙏
    Pulakesh SinhaRoy.

    ReplyDelete
  26. Asadharan.... Sree chaitanya
    Mahaprabhu r Sambandhe... ati sahaj o sunder barnana... Apurbo.... Bhison bhalo laglo
    pore... Joy Mahaprabhusree Chaitanya deb🙏Pranam Maharajji.. 🙏🙏

    ReplyDelete
  27. খুব ভালো লাগল মহারাজের এইভাবে অতি সহজ করে লেখা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণ বিষয় টি ভালো ভাবে জানতে পারলাম ।সশ্রদ্ধ প্রণাম মহারাজের শ্রী চরণে ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. Apurbo maharaj ji khub Valo laglo pronam maharaj ji

      Delete
  28. Apurbo maharaj ji khub Valo laglo pronam maharaj ji

    ReplyDelete
  29. Aparna Roy chowdury Delhi Aja

    ReplyDelete
  30. অপূর্ব শ্রীচৈতন্যদেবের সন্ন্যাসগ্রহণ.. মহারাজ খুব সুন্দর করে চিত্রায়িত করলেন এ সর্বত্যাগী বৈরাগ্যের জ্বলন্ত মূর্তি ইতিহাসের মহামহিম কৃষ্ণপ্রেমের পরাকাষ্ঠা.. যাঁর দ্বারা এক মহাভাবের ইতিহাস রচিত হলো.. এ মহা মানব কৃষ্ণ নামে সকল কে রাস্তায় পথ মিছিলে আহবান করলেন.. তার আগে এমন কোনো ভাব কিংবা বিষয়ে এমন জন জোয়ার দেখা যায় নি.. শ্রীচৈতন্য ই প্রথম এ রকম ভাবান্দোলনের প্রবর্তক.. এ লেখা পড়তে পড়তে সে চৈতন্য ময় মূর্তি টি ভেসে উঠছে.. মহারাজের বর্ণনা অতি চমৎকার ভাবময়, ছবি হয়ে উঠে.. প্রণাম মহারাজ! প্রণাম সে মহাযোগী, মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেব কে! 🙏🙏🙏
    নীলিমা সিংহ রায় চৌধুরী
    ঢাকা

    ReplyDelete
    Replies
    1. মহারাজ লেখা গুলি যত বার পড়ি তত বারই নতুন লাগে। প্রণাম মহারাজ।

      Delete
  31. অপূর্ব। অনেক কিছু জানতে পারলাম।

    ReplyDelete
  32. অপূর্ব।শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভূর সন্ন‍্যাস গ্রহণ সম্বন্ধে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারলাম।খুব ভাল লাগল।প্রণাম নেবেন মহারাজ।🙏🙏।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  33. অপূর্ব আপনার লেখার বর্ননা
    পরের লেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
    সুব্রত ঘোষাল
    মুম্বাই

    ReplyDelete
  34. অপূর্ব শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য দেবের সব বর্ণনা পাঠ করে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম ।খুব সুন্দর মহারাজের সহজ করে লেখার জন্য খুব ভালো লাগল ।এর পরবর্তী অংশ পাঠের অপেক্ষায় থাকলাম ।মহারাজের চরণে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই ।

    ReplyDelete
  35. Khub bhalo laglo.Amra onek katha jante parlam -- Bela Bej

    ReplyDelete
  36. আমরা খুবই ভাগ্যবান যে নানা বিষয়ে এই ধরনের তথ্যবহুল আলোচনা জানতে পারছি।---মদন মোহন বেজ। ব্যান্ডেল।

    ReplyDelete
  37. প্রনাম নেবেন মহারাজ। অপূর্ব লাগল। চৈতন্য দেবের অনেক ঘটনাই জানতে পারলাম ।আগে অতটা বিস্তারিত ভাবে যাইতাম না।প্রনাম ঠাকুর মা স্বামীজি।billagram. Purba bardhaman
    Manjushri Bhattacharya.

    ReplyDelete
  38. আহা, কতো দিনে হবে এ প্রেম সঞ্চার। অপূর্ব সুন্দর ভগবত প্রেমের উচ্ছাস, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনে দেখলাম। আপনার কলমের মধ্যে দিয়ে আচার্যদেব।এই মহতী বিষয়ে অবগত হচ্ছি আপনার,আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও অসীম কৃপায়।বার, বার অবনত মস্তকে প্রণাম জানাই পূজনীয় লেখক আচার্য দেবকে।জয় ঠাকুর।

    ReplyDelete
    Replies
    1. নাম,বিনু চক্রবর্ত্তী।বাড়ি - মালদা।জয় ঠাকুর

      Delete
  39. অপূর্ব মন খুব ভালো লাগলো শ্রীচৈতন্যদেব মহাপুরুষের কথা বিস্তারিতভাবে জানলাম মন ছুয়ে গেল ভগবান লাভের জন্য কোন কিছু বাধা আসবে না একমাত্র ঈশ্বরই সব। আপনার কাছে এসে আমরা অনেক আধ্যাত্মিক জ্ঞান পাচ্ছি। আপনার শ্রী চরণে যেন পড়ে থাকতে পারি। প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ।

    ReplyDelete
  40. প্রণাম মহারাজ 🙏🙏🙏। আপণার অসাধারণ প্রতিভার জোরে বেঁচে আছি আমরা । চৈতন্যে মহাপ্রভুর জীবন 🙏🙏🙏। তাপস কুমার দেব। আমেদাবাদ ।

    ReplyDelete
  41. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী পড়তে পড়তে চোখে জল এসে গেল, মহারাজ আপনার আশীর্বাদে কি সুন্দর ধারাবাহিক ভাবে মহাপ্রভুর জীবনী পড়ে অনেক কিছু জানতে পারছি যা জানতাম না সেই সব জানতে পারছি। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  42. প্রণাম মহারাজ। আপনার লেখনী এত সুন্দর মনে হয় ছবির মতন সব দেখতে পাচ্ছি।। রীতা নাগ দক্ষিনেশ্বর

    ReplyDelete
  43. খুব খুব সুন্দর মহারাজ। আপনার মাধ্যমে কত কিছু জানতে পারছি। প্রণাম মহারাজ। ইতিদাস। হাইদ্রাবাদ।

    ReplyDelete
  44. ভগবৎ প্রেমে বিভোর অবতার পুরুষ শ্রী চৈতন্যের জীবন কাহিনী খুবই আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছি মহারাজ🙏 পরবর্তী পর্বের অধীর অপেক্ষায় রইলাম🙏ভক্তিপূর্ণ প্রনাম জানাই🙏

    ReplyDelete
  45. জয় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জয় 🌷💥🙏
    জয় আমাদের সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় পুজনীয় গুরু আচার্যদেবের জয় 🌷💥🙏 গুরু কৃপাহি কেবলম 🙏🌷🙏🙏

    ReplyDelete
  46. কি অপূর্ব সুন্দর বর্ননা করে লেখা হয়েছে ,এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম।কিরে আনন্দ পেলাম কি
    বলবো । শ্রীচতৈন্য মহাপ্রভু ও ঠাকুরের আর্শীবাদ আপনার মাধ্যমে আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হচ্ছে।
    এই অপূর্ব জ্ঞান ,ত্যাগের কণা যেন আমাদের মধ্যে আসে,তো ধন্য হই।
    জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏🙏

    দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  47. প্রণাম মহারাজ।
    ৭ম পর্ব পড়তে পড়তে চোখে জল এসে গেলো। এতটাই ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম যে মনে হচ্ছে মানস চক্ষে দেখতে পাচ্ছি। আপনার অসাধারণ লেখনীই আমাদের অনুভব শক্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
    পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। আপনি ভালো থাকবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  48. Saptam parbo eto sundar kore uposthapan korechen pore khub bhalo laglo. Apner lekhan porte porte mone hoy jeno chokher samne sob charitra gulo chole asche. Pronam neben maharaj ji🙏🙏🙏🙏
    Ranjita Mazumder, New Delhi

    ReplyDelete
  49. মহারাজ সপ্তম পর্ব খুব ভালো লাগলো পড়ে । ভালো থাকবেন । প্রণাম মহারাজ ।

    ReplyDelete
  50. Joy Shree Chaitanyo Mahaprabhu r joy🌻🙏🏻Joy Thakur 🌻🙏🏻Joy Ma 🌻🙏🏻Joy Swamiji🌻🙏🏻. Joy Achariyo Maharajji r joy 🌻🍀🙏🏻. Sei prothom porbo thekey Saptam porbo porjontyo Mahaprabhu r Jibono Charitaboli porey ei feelings hochhey je mortodham e Vagaban er Avtar rupey abirvaab e ek pobitro suddhyo annondo srot boyey jei🙏🏻. Todrup , Thakur Ma Swamiji r ei prithivi te Avtar rupey obotoron korey lokosikshya diyey gachen 🙏🏻. Vaktivora pranam nibedon kori Shree Shree Chaitanyo Mahaprabhu Amrito Chorono jugoley 🌻🌻🍀🍀🙏🏻🙏🏻. Maharajji, khubei valo lagchey protiti porbo porey, kichui janer prayash etodin hoini, aaj Apni amader hatey tuley dichen tei jantey parchi👏 Amra chirokritgnyo Aponer proti👏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌻🌻🌹🌹🙏🏻🙏🏻.

    ReplyDelete
  51. Mahaprabhu Sree Chaitanya deber.... Saptam parbe... Maharajji... Ato sunder Kore
    Barnana korechen.... Asadharan... Bar bar Porchi.. Bhison bhalo lagche... Pranam Mahaprabhu Sree Chaitanya deb... 🙏Pranam Maharajji... Jaya choudhury....

    ReplyDelete
  52. Apurbo khub valo laglo maharaj ji pranam naban apnara Roy chowdury Delhi

    ReplyDelete
  53. খুব ভালো লাগলো মহারাজ শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্কে জানতে পেরে।
    শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর চরণে সশ্রদ্ধ প্রনাম।
    আপনি আমার প্রনাম নেবেন।

    ReplyDelete
  54. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জয়।পরম পূজনীয় লেখক আচার্য দেবকে প্রণাম জানাই। এখানে মাতা ও পুত্রের অপূর্ব সুন্দর ভালবাসা,দেখলাম যা অতী সুন্দর।আর বিষ্ণু প্রিয়া দেবী কে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করি।আহা, এ দুঃখ কি প্রাণে সয় ।হে প্রভু, যুগে ,যুগে তোমারে নেহারী দিও মোর চরণে ঠাঁই। জয় ঠাকুর।

    ReplyDelete
    Replies
    1. নাম - বিনু চক্রবর্তী,বাড়ি মালদা।

      Delete
  55. অসাধারন । দারুন লাগলো মহারাজ । এমন হৃদয় গ্রাহী ও মর্মস্পশী লেখা পড়ে মনটা ভরে গেলো । আগামীদিনের প্রতীক্ষায়
    রইলাম । আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম গ্রহন করবেন । ভালো থাকবেন ও সুস্হ থাকবেন।
    লিলি সাহা ।দমদম ।

    ReplyDelete
  56. অসাধারণ লাগছে পড়তে, মহারাজ আপনার সান্নিধ্য লাভ করে, অনেক অনেক কিছু জানতে পারলাম 🙏🙏

    ReplyDelete
  57. 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  58. Saptam parbo pore mone holo jini nijeke Ishware nivedan karar janya jonmechhen tnake je kono akarshanei bendhe rakha jabe na. Apurbo! Porte porte mon oi samaye chole jachchhilo. Ananda pelam. Pronam neben maharaj. Krishnadey, jamshedpur.

    ReplyDelete
  59. Apurba. Khub sundar lakha

    Pranam Maharaj 🙏🙏
    Pulakesh Sinha Roy.

    ReplyDelete
  60. প্রনাম মহারাজ অপূর্ব 🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  61. মহাপ্রভু র কত অজানা কথা জানতে পারছি আপনার লেখা পড়ে।
    🙏🙏🙏।
    অর্পিতা বসু বাগবাজার।

    ReplyDelete
  62. মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের সব পর্বগুলো পড়লাম। অনেক কিছু জানতে পারলাম। খুব ভালো লাগলো। প্রণাম নেবেন মহারাজ। 🙏🌺🙏

    ReplyDelete
  63. খুব ভালো লাগছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের আত্ম কাহিনী জেনে৷ আগে অতি অল্প ই জানতাম৷ আমাদের সৌভাগ্য আমরা এই মহানুভবদের জীবনী জানতে পারছি ৷
    Seema Acharjee

    ReplyDelete
  64. আপনার লেখায় মহাপ্রভু চৈতন‍্যদেবের জীবনকাহিনী পড়ে খুব ভাল লাগলো।
    অনেককিছু জানলাম।
    আপনাকে আমার ভক্তীপূ্র্ণ প্রণাম জানাই।

    ReplyDelete
  65. অপূর্ব অপূর্ব জীবন।যত পড়ছি যত জানছি তত ভাল লাগছে।প্রণাম নেবেন শিক্ষাগুরু

    ReplyDelete
  66. খুব ভালো লাগলো মহাপ্রভুর জীবনের সপ্তম পর্ব পড়ে মহাপ্রভুর জীবনের অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে খুব আনন্দ পেলাম। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকবো। জয় মহাপ্রভু। আমার ভক্তি পূর্ন প্রনাম গ্রহণ করুন আচার্য দেব🙏🙏

    ReplyDelete
  67. খুব ভাল লাগল মহারাজ 🙏🙏🙏💐💐💐💐🙏🙏🙏🪴🪴🪴

    ReplyDelete
  68. চৈতন্য মহাপভুর সম্পর্ক এ যত জানছি ততই জানার আগ্রহ বাড়ছে।অনেক বিষয় অজানা ছিল, আপনার কৃপায় অনেক তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানতে পারছি।ভাল থাকবেন। প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  69. খুব ভালো লাগলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা এত বিস্তারিতভাবে জানতে পারছি খুব ভালো লাগছে আপনার মতন সাধুর কাছে এসেছি বলে, এত আধ্যাত্মিক জ্ঞান পাচ্ছি। সাধু সঙ্গ দুর্লভ আমরা ধন্য প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ

    ReplyDelete
    Replies
    1. খুব ভাল লাগল।। মহা প্রভুর বিষয়ে জানতে পেরে। আরও জানার আগ্রহ রইলো। আমরা ভাগ্য বান তাই মহারাজের কাছ থেকে এত কিছু জানতে পারছি। মীনা সিনহা রাজারহাট ।

      Delete
  70. Apurbo laglo Maharajji... Ajeker
    Parbo..porlam bistarita bhabe
    Jante Pere... Bhison bhalo laglo. Joy Mahaprabhu r joy🙏joy
    Maharajjir joy... Sradhapurno
    Pranam Janai.... 🙏Jaya Choudhury....

    ReplyDelete
  71. শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণ পাদপদ্মে আমার আন্তরিক ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি 🌷💥🙏 খুব ভালো লাগছে মহারাজজী অনেক কিছু এই লেখা পড়ে শিখতে ও জানতে পারছি অনেক কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ আন্তরিক ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি আমাদের সকলের প্রিয় শ্রদ্ধেয় পুজনীয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে 🌷💥🙏

    ReplyDelete
  72. প্রণাম মহারাজ। ৮ম পর্ব পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আরও একটু পড়ি কিন্তু যেহেতু ধারাবাহিক তাই থামতে তো হবেই। আর একটু বেশি করে যদি পর্বগুলি পড়তে পারতাম!
    আপনার এত সহজ সরল ভাষায় বর্ণনা আমাদের অনুভব শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    এবারে অনেকদিন পরে ৮ম পর্ব পড়তে পারলাম।
    আপনি ভালো থাকবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  73. প্রণাম মহারাজ। আজ আবার মহারাজ প্রভুর সমন্ধে অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম।সাক্ষী গোপাল গল্প, গুপ্ত কাশী,চারটি প্রসিদ্ধ সরোবর।এই সব তথ্য মনকে শুদ্ধ এবং করে দিল।এমন সুন্দর সাধু সঙ্গ করে আমরা অনেক দুর্লভ জিনিস ঘরে বসে লাভ করছি।ধন্য মহারাজ। আপনি ভাল থাকবেন।

    ReplyDelete
  74. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🙏🏻🙏🏻. Shree Shree Chaitanyo MahaPrabhu r 8th porbo porey koto Tirtho darshan korey nilam onubhob hochhey Apner ei lekhoni r madhyoymey. Koto koto ojana Dharma Kotha, Dharma Pithosthan sombondhey jantey parlam, Maharajii 🙏🏻. Tei to Aponer sannidhyo peyey amra otibo dhonnyo🙏🏻. Abhumi naman, Maharajii 🌻🙏🏻. Aro janer jonnyo opeksharoto, Maharajji 🌷🌷🙏🏻🙏🏻.

    ReplyDelete
  75. আপনার লেখা পড়ে মহাপ্রভুর জীবনের অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।।
    সুপ্রভাত , আমার প্রনাম নেবেন মহারাজ জী ।🙏🙏

    ReplyDelete
  76. অর্পিতা বসু বাগবাজার।🙏

    ReplyDelete
  77. প্রণাম মহারাজ 🙏🙏।খুব ভাল লাগছে।এত বিস্তারিত ভাবে জানতাম না। আরও জানার আগ্রহ রইল।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  78. Pronam maharaj. Khub valo laglo 8 no.block to pora thanks. Bola choto korbona pranam janai Stober Amader jonoo ato prison korchen

    ReplyDelete
  79. প্রনাম মহারাজ। খুব খুব সুন্দর ও ভালো লাগলো এত সুন্দর ভাবে এর পূর্বে একটি উপাখ্যান পাওয়া গিয়েছে বলে জানা নেই। প্রতিটি পর্ব পড়ে থাকি। ঠাকুর মন্গল করুন।

    ReplyDelete
  80. আপনার আশীর্বাদে অনেক কিছ জানতে পারি মহারাজ । মহাপ্রভূর জীবনের অনেক অজানা তথ্য জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম, কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা নেই মহারাজ। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ। 🙏🌹🙏

    ReplyDelete
  81. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জয়।পর্ব ৮,পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। পূজনীয় লেখক আচার্য দেবকে আন্তরিক ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা,প্রণাম জানাই।আপনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সমস্ত মহতী বিষয়ে জানতে পেরে ভাল লাগছে।জয় ঠাকুর

    ReplyDelete
  82. প্রতি পর্বের মত এই অষ্টম পর্ব ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক নিঃ শ্বাসে পড়ার মতই পড়লাম মহারাজ। চৈতন্য মহাপ্রভুর কথা , এমন সর্বত্যাগী মহা সন্ন্যাসীর জীবনী পড়তে পেরে আমরা ধন্য । আপনি আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করুন মহারাজ। 🙏🌷🙏🌷🙏🌷🙏
    সুমিত্রা সরকার, লেকটাউন 🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  83. নিত্য নুতন অনেক তথ্য আপনার কৃপায় জানতে পারছি। আমার ভুলুন্ঠিত প্রনাম নেবেন।

    ReplyDelete
  84. আপনার লেখা, হৃদয় ছুঁয়ে যায়, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু র সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম, আর ও আরো লেখা পড়তে চাই, আপনার লেখা অপূর্ব অনবদ্য,, অসীমা বোটব্যাল, হাওড়া

    ReplyDelete
  85. মহারাজ অপূর্ব লাগলো ।প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  86. বড়োই ভালো লাগলো শ্রী মহাপ্রভুর কাহিনীটি। সহজ সরল ভাষায় আপনার লেখাটি অপূর্ব।
    প্রণাম মহারাজ। 🙏

    ReplyDelete
  87. খুব ভাল লাগছে মহারাজ। কৃষ্ণা নাগ্ন্ আনদুল

    ReplyDelete
  88. শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর অষ্টম পর্ব অসাধারণ লাগলো। মুগ্ধ হয়ে গেলাম মহাপ্রভুর জীবনের কাহিনী পড়ে এবং অনেক অজানা তথ্য জানতে পেড়ে আনন্দ পেলাম । কি সরল ভাষায় লেখা আপনার চৈতন্য দেবের জীবনী। জয় মহাপ্রভু 🙏🙏আমার ভক্তি পূর্ন প্রনাম গ্রহণ করুন আচার্য দেব🙏🙏 অপর্না দেওয়ানজী, সুভাষ গ্রাম। 🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  89. প্রণাম মহারাজ। শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপভুর সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে বিস্তারিত ভাবে জানতেপারছি।ভী ভাবে উপকৃত হচ্ছি। এটা ঈশ্বর রের কৃপা ছাড়া আর কিছুই নয়।আরও আরও জানার অপেক্ষায় রইলাম। আপনার শ্রী চরনে শতকোটি প্রণাম জানাই। ভাল থাকবেন। জয় ঠাকুর।

    ReplyDelete
  90. অপূর্ব মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়লাম মহারাজ ।প্রনাম নেবেন মহারাজ ।

    ReplyDelete
  91. সত্যিই অপূর্ব এত সুন্দর ভাবে লেখা মন ভরে গেলো আপনার সান্নিধ্য পেয়েছি বলে মহাপ্রভুর সম্পর্কে এত সুন্দভাবে জানতে পারছি প্রণাম নেবেন সুস্থ থাকবেন 🙏🏻 মহারাজ

    ReplyDelete
  92. অপূর্ব লাগলো। অনেক কিছু জানতে পারছি। আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  93. Bhaktir abatar Sree Chaitanya... Nabam parichhed e....tanr jibani sunder bhabe barnita hoyeche... Maharajjir Lekha Darun... Khub bhalo laglo... Ato sunderbbhabe
    barnana korechen...khub bhalo laglo... Pranam mahaprabhu
    🙏Pranam Maharajji.. 🙏

    ReplyDelete
  94. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Sri Sri Chaitanya Mahaprabhu r 9th porbo er lekhoni r uposthapona khubei opurbo laglo porey Maharajji 🙏. Pandit Sorbobhoyum er Sri Chaitanya Mahaprabhu ke ekei dehey Sadrabhujo murti (SriRamachandra+Sri Krishna=Sri Chaitanya Roop) darshan obogoto hoyey dhonyo holam🙏. Thakur bolechen na je Vaktiyog e Ishor ke darshan kora ek sulav upay. Sotokoti naman Aponer Shree Padopodmey Achariyo Maharajji 🙏. Next janer adhatey opeksharoto achhi, Achariyo Maharajji 🌷🙏

    ReplyDelete
  95. প্রণাম মহারাজ ।মহা প্রভুর সম্পর্কে পর পর অনেক কিছু জানতে পারছি,আপনার সান্নিধ্য লাভ করে।খুব ভাল লাগছে।অনেক কিছুই জানতাম না।মহাপুরুষ দের জীবনের আদর্শ ধরে যেন আমরা অনেক অনেক উচ্চ স্তরে পৌছে পারি।ঠাকুর আমাদের কৃপা করুন ভাল থাকবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  96. খুব ভালো লাগলো মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনী পড়ে, অনেক কিছু জানতাম না আপনার আশীর্বাদে জানতে পারছি। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  97. আলো ব্যনার্জী
    খুব ভালো লাগছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের জীবনী পড়তে, অনেক কিছু জানতাম না আপনার আশীর্বাদে জানতে পারছি মহারাজ🙏আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  98. খুব ভালো লাগলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা বিস্তারিতভাবে জানতে পারছি অনেক অজানা তথ্য জানতে পারছি আপনার শ্রী চরণে এসেছি বলে, এত কথা জানতে পারছি সাধুসঙ্গ অতি দুর্লভ আপনার মতন গুরু পেয়েছি বলে আমরা ধন্য আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম। শিখা মন্ডল বজবজ।

    ReplyDelete
    Replies
    1. মহাপ্রভুর জীবনের অনেক কথা জানা ছিল না। আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনেক অনেক প্রনাম নেবেন মহারাজ। ভালো থাকবেন ।মীনা সিনহা রাজারহাট

      Delete
  99. প্রণাম মহারাজ🙏🙏। নবম পর্ব পড়ে খুব ভাল লাগল। অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী পর্বের জন‍্য।ভাল থাকবেন। মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  100. মহারাজ জি নবম পাঠ খুব ভালো লাগলো। পরের কথা জানার অপেক্ষায় থাকলাম।

    ReplyDelete
  101. 🙏🙏🙏
    রুবী ভট্টাচার্য ইছাপুর

    ReplyDelete
  102. নবম পর্ব পড়ে খুব ভালো লাগলো । প্রণাম মহারাজ ।।

    ReplyDelete
  103. প্রণাম মহারাজ জী 🙏 নবম পর্ব পড়লাম খুব ভালো লাগলো 🙏 পরের পর্ব অপেক্ষায় থাকলাম।
    রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  104. প্রণাম মহারাজ জী 🙏 নবম পর্ব পড়লাম খুব ভালো লাগলো 🙏 পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।। রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  105. ষড়ভুজ শ্রীপ্রভুর কথা জানতে পারলাম পরম সৌভাগ্য এটা। পূজনীয় লেখক আচার্যদেব কে সভক্তি প্রণাম জানাই, আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।অনেক কিছু জানতে পারছি আপনার অসীম কৃপায়।জয় ঠাকুর।

    ReplyDelete
  106. এত সহজ ও সরল ভাবে ব্যাখ্যা সত্যই অতুলনীয়, ধন্য ভাগ্য আমাদের যে আপনার কৃপা লাভ করেছি। এই সব কাহিনীর মর্ম বোঝার চেষ্টা করছি। সব সময় আপনার নির্দেশিত পথে আধ্যাত্মিক ভাবনায় আছি। প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।

    ReplyDelete
  107. প্রণাম মহারাজ। খুব সুন্দর ।

    ReplyDelete
  108. অপূর্ব।পরবর্তী র দিকে তাকিয়ে রইলাম।অজস্র প্রণাম।

    ReplyDelete
  109. যত পড়ছি, ততই মহাপ্রভু কে নুতন করে জানতে পারছি, আরও জানার আগ্রহ বাড়ছে,🙏🏼
    প্রনাম নেবেন মহারাজ। 🙏🏼
    অর্পিতা বসু বাগবাজার ।🙏🏼🙏🏼

    ReplyDelete
  110. খুব ভালো লাগছে আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারছি। অনেক ভালোবাসা কৃতজ্ঞতা আন্তরিক ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🙏🌷🙏

    ReplyDelete
  111. প্রণাম মহারাজ। মহারাজ ধারাবাহিক ভাবে মহা প্রভুর জীবন কাহিনী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরে খুব ভাল লাগছে।মহা প্রভুর কৃপায় আজ আমরা ঘরে বসে এমন সুন্দর সাধু সঙ্গ করার সুযোগ পেয়েছি,তাই অনেক মহাপুরুষ দের সম্পর্কে জানতে পারছি।এটা আমাদের পরম সৌভাগ্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন এমন সাধু সঙ্গ পেয়ে নিজেকে উচ্চ স্তর নিয়ে যেতে পারি ভাল থাকবেন মহারাজ। আপনি ধন্য।

    ReplyDelete
  112. Pranam Maharaj. 🙏🙏🙏Khub bhalo laglo 🙏🙏
    Jay Shree Chinya Mahaprabhu

    ReplyDelete
  113. প্রণাম মহারাজ🙏🙏। ধারাবাহিক ভাবে মহাপ্রভূ র সম্পর্কে জানতে পারছি।খুব ভাল লাগছে।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর।

    ReplyDelete
  114. প্রণাম মহারাজ পড়তে খুব ভালো লাগছে । ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ।

    ReplyDelete
  115. 10 পর্ব খুব আনন্দের সাথে পড়লাম। অজানা তথ্য গুলি পেয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করে চলেছি।🙏💐

    ReplyDelete
  116. খুব ভালো লাগছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা এত বিস্তারিতভাবে জানতে পারছি সেটা আপনার সংস্পর্শে এসেছি বলে এত বিস্তারিত ভাবে জানতে পারছি। সাধু সঙ্গ অতি দুর্লভ আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম শিখা মন্ডল বজ বজ

    ReplyDelete
  117. দশম পর্ব পড়ে খুব ভাল লাগল। মহারাজের কৃপায় অনেক কিছু জানতে পারলাম। আশাকরি আরো অনেক কিছু জানতে পারবো। ভালো থাকবেন ।প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
    মীনা সিনহা রাজারহাট

    ReplyDelete
  118. প্রণাম মহারাজ জী, 🙏 মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেব সম্বন্ধে দশম পর্ব পড়লাম ও সমৃদ্ধ হলাম। মহারাজ জী চৈতন্য দেব সীমাচলম এসেছিলেন এটি জেনে খুব ভালো লাগলো, এতদিন বিশাখাপত্তনম থেকে ও বহুবার সীমাচলম দর্শন করেও কোন দিন এই তথ্য জানতে পারিনি কত অজানা তথ্য এখন জানতে পারি একমাত্র আপনার কৃপায়। আমি ধন্য আপনার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে।
    রূপা চক্রবর্তী বিশাখাপত্তনম

    ReplyDelete
  119. Shree Chaitanyo Mahaprabhu r Shree padopodmey vaktivora pranam nibedon kori🌻🌻👏🙏🏻🙏🏻. Hey Prabhu, moner chanchyolota o molinota duur korey dao o ekonishthochittey jeno Tomer Shree Choroney mononibesh korey thaktey pari👏👏. Pranam Dibyotroyee🌻🌻🌻🙏🏻🙏🏻🙏🏻. Sotokoti Vaktivora pranam nibedon kori Tobo Shree Padopodmey Achariyo Gurudevo🌻🌻🙏🏻🙏🏻. Maharajii, Aponer ei 10No. Porbo er opurbo lekhoni portey portey thik Mahaprabhu r sathey jeno Dakhin Bharater Tirtho korchilam, mone hochhilo. Khub valo lagchey protiti porbo porey. Kichui jantam na. Sudhu Oner naam tei jantam. Ar aaj Aponer ei lekhoni r madhyomey Prabhu r Jibon kotha jantey parchi, amra dhonnyo, Maharajji 🙏🏻. Next, porbo porer jonnyo opekshyaroto achhi, Maharajji 👏🙏🏻.

    ReplyDelete
  120. প্রণাম নেবেন মহারাজ।মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য দেবার জীবন কাহিনীর দশম পর্ব পড়লাম, কুষ্ঠ রোগী যার শরীরে পোকা হয়ে গেছে। তাকেও মহাপ্রভু আলিঙ্গন করলেন।খুব ভালো লাগলো। মন ভরল না আরো জানতে ইচ্ছে করছে। অপেক্ষায় থাকলাম মহারাজ

    ReplyDelete
  121. Apurba Porte porte mone hochhe sobi jeno amar samnei hochhe amar dristi pote Soni jeno bastobe ghote choleche Thakur Maa o Swamijir Kripai apnar moto gyan jogi Acharya guru Moharajke peyechi

    ReplyDelete
  122. আলো ব্যনার্জী
    খুব ভালো লাগছে ধারাবাহিক ভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী পড়তে, আপনার আশীর্বাদে কতো কিছু জানতে পারছি মহারাজ🙏🙏🙏 আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  123. মহারাজ প্রণাম নেবেন,চৈতন্য মহাপ্রভু র জীবনী পড়তে খুব ভালো লাগছে,কবে আবার নতুন লেখা পড়তে পারবো তার জন্য অপেক্ষা করে থাকি,আপনাকে শতকোটি প্রণাম আপনার জন্য আজ এত কিছু জানার সৌভাগ্য হচ্ছে।

    ReplyDelete
  124. Apurbo sundor ,sakhti gopaler kotha janlam ,sundor kahini mon vore gelo ,pronam maharaj ...Basanti chatterjee shibpur howrah.

    ReplyDelete
  125. Apurbo. Khub sundar.
    Pranam Maharaj 🙏🙏
    Pulakesh Sinha Roy.

    ReplyDelete
  126. খুউব ভালো লাগছে ধারাবাহিক ভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী পড়তেও জানতে। প্রাঞ্জল ও চিত্র ধর্মী ভাষায় মহাপ্রভুকে জানতে পেরে জীবন ধন্য হচ্ছে।জয় মহাপ্রভুর জয়।জয় মহারাজের জয়।

    ReplyDelete

Post a Comment