কঠোপনিষদ্
দ্বিতীয় অধ্যায়/ প্রথম বল্লী
অনুবাদ – স্বামী হরিময়ানন্দ
©
পরাঞ্চি খানি ব্যতৃণৎ স্বয়ম্ভূ-
স্তস্মাৎ পরাঙ্ পশ্যতি নান্তরাত্মন্।
কশ্চীদ্ধীরঃ প্রত্যগাত্মানমৈক্ষদ্
আবৃত্তচক্ষুরমৃতত্বমিচ্ছন্।। ২.১.১
শব্দার্থ – পরাঞ্চি – বহির্মুখ করে, খানি – ইন্দ্রিয়সকলকে, স্বয়ম্ভূঃ – পরমেশ্বর, ব্যতৃণৎ - হিংসা বা বিনাশ
করেছেন। তস্মাৎ - সেজন্য, পরাক্ - শব্দাদি বাহ্য বিষয়কেই, পশ্যতি – দর্শন করে, ন অন্তরাত্মন্ - অন্তরাত্মাকে
দর্শন করে না। কঃ চিৎ - কোনও, ধীরঃ – বিবেকী প্রাজ্ঞ, অমৃতত্বম্ -মুক্তি,
ইচ্ছন্ - অভিলাষ করে। আবৃতচক্ষুঃ – বিষয় থেকে ইন্দ্রিয়কে নিবৃত্ত করে, প্রত্যক্ -সর্বভূতে অবস্থিত, আত্মানম্
- পরমাত্মা বা আত্মস্বরূপকে, ঐক্ষৎ - সাক্ষাৎ দর্শন করেন।
সরলার্থ – বহির্মুখ ইন্দ্রিয়দেরকে পরমেশ্বর
যেন মৃত করেই রেখেছেন। এবং সেজন্য জীব বাহ্য শব্দাদি বিষয়কেই দর্শন করতে থাকে। এর ফলে
অন্তরাত্মাকে দেখতে পায় না। কিন্তু কোন কোন বিবেকী মুক্তির ইচ্ছায় বাসনা ত্যাগ করে
বৃত্তিশূন্য হয়ে অন্তরাত্মস্বরূপকে সাক্ষাৎ অনুভব করেন।
পরাচঃ কামান্ অনুযন্তি বালা-
স্তে মৃত্যোর্যন্তি বিততস্য পাশম্।
অথ ধীরা অমৃতত্বং বিদিত্বা
ধ্রুবমধ্রুবেষ্বিহ ন প্রার্থয়ন্তে।.২.১.২
শব্দার্থ – বালাঃ – বালকের মতো অবিবেকী ব্যক্তিরা,
পরাচঃ -বাহ্য, কামান্ -ভোগ্য বিষয়সমূহের, অনুযন্তি – অনুসরণ করে, তে – তারা, তিততস্য – বহুকালব্যাপী,মৃত্যোঃ -অবিদ্যা-কামনা
ও কর্মরূপ মৃত্যুর, পাশম্ - বন্ধন, যন্তি – প্রাপ্ত হয়। অথ – সেজন্য, ধীরাঃ – বিবেকী পুরুষগণ, অধ্রুবেষু – অনিত্য বিষয়ের মধ্যে, অমৃতত্বম্ - অমৃতত্ব বা মোক্ষকে, ধ্রুবম্ - নিত্য, বিদিত্বা – জেনে, ইহ – এই সংসারে, ন প্রার্থয়ন্তে – কিছুই কামনা করেন না।
সরলার্থ – অল্পবুদ্ধি অবিবেকীগণ বাহ্য বিষয়ের পেছনে ছুটতে থাকে। ফলে তারা
অতিবিস্তৃত মৃত্যুপাশ অর্থাৎ নিরন্তর জন্মমৃত্যুকে
প্রাপ্ত হয়। সেজন্য ব্রহ্মনিষ্ঠগণ অনিত্য বস্তুর মধ্যে নিজ প্রত্যগাত্মস্বরূপের অনুভূতিকে
চিরন্তন নিত্য বলে বুঝতে পেরে এই সংসারের আর
কোন কিছুই পেতে ইচ্ছা করেন না।
যেন রূপং রসং গন্ধং শব্দান্ স্পর্শাংশ্চ মৈথুনান্।
এতেনৈব বিজানাতি কিমত্র পরিশিষ্যতে। এতদ্বৈ তৎ।.২.১.৩
শব্দার্থ – যেন – যে ,এতেন -এই, যেন এতেনৈব
- এই যে পরমাত্মা তাঁর দ্বারাই, (মানুষ) রূপম্
, রসম্, গন্ধম্, শব্দান্ ,স্পর্শান্ - রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ , স্পর্শ প্রভৃতি। মৈথুনান্
- পরস্পর মিলনজাত সুখ, বিজানাতি – বিশেষভাবে উপলব্ধি করে। অত্র – এই জগতে, কিম্ - কোন অবিজ্ঞাত বস্তু, পরিশিষ্যতে – অবশিষ্ট থাকে। এতৎ বৈ – এই আত্মাই , তৎ - নচিকেতার জিজ্ঞাসিত সেই পরম পদ।
সরলার্থ – যে জ্ঞানস্বরূপ আত্মার নিমিত্তই
লোকে রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ, স্পর্শ ও মিলনসম্ভূত
সুখানুভূতি জেনে থাকে, এই জগতে সেই সর্বজ্ঞ আত্মার কাছে কোন্ বস্তু অজানা থাকে? ইনিই
নচিকেতার জিজ্ঞাসিত সেই আত্মা।
স্বপ্নান্তং জাগরিতান্তং চোভৌ যেনানুপশ্যতি।
মহান্তং বিভুমাত্মানং মত্বা ধীরো ন শোচতি।। ২.১.৪
শব্দার্থ – যেন – যে আত্মার দ্বারা, স্বপ্নান্তম্
-স্বপ্নকালীন দৃশ্য সমূহ, জাগরিতান্তম্ চ – এবং জাগ্রৎকালীন দৃশ্যাবলী, উভৌ – উভয় বস্তুই, অনুপশ্যতি – দর্শন করে, মহান্তম্ - সেই মহানকে, বিভুম্ -সর্বব্যাপী, আত্মানম্ - পরমাত্মাকে,
মত্বা – মনন পূর্বক উপলব্ধি করে, ধীরাঃ
-ধীমান্ ন শোচতি – শোক করেন না।
সরলার্থ – যে আত্মার দ্বারা লোক স্বপ্ন ও
জাগরণ এই উভয় অবস্থার অন্তর্ভুক্ত দৃশ্যবস্তু সমূহ দর্শন করে, সেই মহান ও বিভু আত্মাকে
সাক্ষাৎ করে ধীর ব্যক্তি শোকাতীত হন।
য ইমং মধ্বদং বেদ আত্মানং জীবমন্তিকাৎ।
ঈশানং ভূতভব্যস্য ন ততো বিজুগুপ্সতে। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.৫
শব্দার্থ – যঃ – যিনি, ইমম্ - এই, মধ্বদম্ - মধু কর্মফল যিনি কর্মফল ভোগ করেন, জীবম্
- জীব, আত্মানম্ - আত্মাকে , ভূত – অতীত,ভব্যস্য – ভবিষ্যতের, ঈশানম্ - নিয়ন্তারূপে, অন্তিকাৎ - পরমাত্মা থেকে অভিন্নরূপে, বেদ – জানেন, ততঃ – সে জ্ঞানে পর, ন বিজুগুপ্সতে – গোপন, রক্ষা বা কাউকে ঘৃণা করেন না। এতৎ বৈ – ইনি সেই, তৎ - ব্রহ্ম।
সরলার্থ – এই কর্মফল ভোক্তা ও জীবরূপী আত্মাকে
যিনি আপনা থেকে অভিন্ন কালত্রয়ের ঈশ্বররূপে জানেন, তিনি সেই জ্ঞানের ফলে আর আপনাকে
রক্ষার জন্য ব্যাকুল হন না। ইনি সেই ব্রহ্ম।
যঃ পূর্বং তপসো জাতমদ্ভ্যঃ পূর্বমজায়ত।
গুহাং প্রবিশ্য তিষ্ঠন্তং যো ভূতেভির্ব্যপশ্যত। এতদ্বৈ
তৎ।।২.১.৬
শব্দার্থ – যঃ – যে হিরণ্যগর্ভ, অদ্ভ্যঃ – জলের, জলের দ্বারা অন্য পঞ্চভূতকে
বোঝানো হয়েছে, পূর্বং – পূর্বে, তপসঃ -জ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্ম থেকে, অজায়ত – উদ্ভূত হয়েছিল্, গুহাম্ - হৃদয়
গুহাতে বা হৃদয় আকাশে, প্রবিশ্য – প্রবেশ করে, ভূতেভিঃ -পাঞ্চভৌতিক দেহ ইন্দ্রিয়াদির সঙ্গে, তিষ্ঠন্তম্ - বিরাজমান
আছেন, পূর্বম্ জাতম্ - হিরণ্যগর্ভকে, যঃ
– যে সাধক, ব্যপশ্যতঃ – বিশেষ ভাবে উপলব্ধি করেন। এতৎ বৈ
তৎ - সে ব্রহ্মকেই দর্শন করেন।
সরলার্থ – জলাদি পঞ্চভূতের পূর্বে যিনি জ্ঞানস্বরূপ
ব্রহ্ম থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন, এবং যিনি প্রাণিদের হৃদয়াকাশে প্রবেশ করে দেহ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে অবস্থিত আছেন,সেই
হিরণ্যগর্ভকে যিনি দর্শন করেন, তিনি পূর্বোক্ত ব্রহ্মকেই দর্শন করে।
(সোনা থেকে উৎপন্ন বালা
দর্শন করলে যেমন সোনাকেই দর্শন করা হয়, তেমন হিরণ্যগর্ভাদি দর্শনে ব্রহ্মেরই দর্শন
হয়।)
যা প্রাণেন সম্ভবত্যদিতির্দেবতাময়ী।
গুহাং প্রবিশ্য তিষ্ঠন্তীং যা ভূতেভির্ব্যজায়ত। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.৭
শব্দার্থ – যা- যে, দেবতাময়ী -সর্বদেবস্বরূপা,
অদিতিঃ – শব্দাদি যাবতীয় বিষয়ের ভোগকর্ত্রী,
সূত্রাত্মা, প্রাণেন – হিরণ্যগর্ভরূপে, সম্ভবতি – জাত হন, যা- যিনি, ভূতেভিঃ – সর্বভূত সমন্বিত হয়ে, ব্যজায়ত- উৎপন্ন হয়েছেন, গুহাম্ - হৃদয়াকাশে, প্রবিশ্য
– প্রবেশ করে, তিষ্ঠন্তীম্ - অবস্থিত,
(অদিতিকে যিনি দর্শন করএন তিনি)। এতৎ বৈ তৎ - সেই ব্রহ্মকেই দর্শন করে।
সরলার্থ – সর্বদেবতা রূপিনী যে অদিতি (হিরণ্যগর্ভ)
ভূত সমূহের সংগে উৎপন্ন হন ও যিনি হিরণ্যগর্ভরূপে অভিব্যক্ত হন, তাঁকে যিনি হৃদয়াকাশে
প্রবিষ্টরূপে দর্শন করেন, তিনি সেই ব্রহ্মকেই দর্শন করেন।
অরণ্যোর্নিহিতো জাতবেদা গর্ভ ইব সুভৃতো গর্ভিণীভিঃ।
দিবে দিব ঈড্যো জাগৃবদ্ভির্হবিষ্মদ্ভির্মনুষ্যেভিরগ্নিঃ। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.৮
শব্দার্থ – গর্ভিণীভিঃ -অন্তঃসত্ত্বা রমণীগণ
দ্বারা, গর্ভঃ ইব – গর্ভস্থ শিশুর মতো, অরণ্যোঃ – উত্তরারণি ও অধরারণি এই দুই কাঠের মধ্যে, নিহিতঃ – অবস্থিত, জাতবেদাঃ -সর্বজ্ঞ, অগ্নিঃ
- যজ্ঞীয় ও হৃদয়স্থ বিরাটরূপ অগ্নি, সুভৃতঃ
– উত্তমরূপে রক্ষিত হন, জাগৃবদ্ভিঃ - জাগ্রত বা প্রমাদ রহিত, হবিষ্মদ্ভিঃ – হবনকারী ও ধ্যানপরায়ণ, মনুষ্যেভিঃ
– যোগী ও যাজ্ঞিকগণ দ্বারা, দিবে
দিবে – প্রতিদিন, ঈড্যঃ – যাঁকে হৃদয়ে ঘ্যান করা হয়, এতৎ বৈ তৎ - এই যজ্ঞীয় অগ্নি ও বিরাট পুরুষরূপ অগ্নিই
সেই ব্রহ্ম।
সরলার্থ – গর্ভিণীগণ কর্তৃক নিজ গর্ভ যেমন
সুরক্ষিত হয় তেমনি উত্তরারণী ও অধরারণী এই কাষ্ঠদ্বয়ের মধ্যে অবস্থিত জাতবেদা নামক
যে অগ্নি ঋত্বিক্গণ কর্তৃক সুরক্ষিত হন এবং প্রমাদশূন্য হবনশীল ঋত্বিক্ ও ধ্যান বিশিষ্ট
মানুষের দ্বারা নিত্য যথানিয়মে সেবিত হন। সেই যজ্ঞীয় অগ্নি ও বিরাট্রূপ অঘ্নিও সেই
ব্রহ্ম।
যতশ্চোদেতি সূর্যো৳স্তং যত্র চ গচ্ছতি।
তং দেবাঃ সর্বে অর্পিতাস্তদু নাত্যেতি কশ্চন। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.৯
শব্দার্থ – চ – এবং , যতঃ – যে প্রাণাত্মক হিরণ্যগর্ভ থেকে,
সূর্যঃ – সূর্য, উদেতি – উদিত হন, যত্র চ – এবং যে প্রাণে, অন্তম্ গচ্ছতি
– অস্তমিত হন, তম্ - তাঁকেই, সর্বে
দেবাঃ - সকল দেবতাগণ, অর্পিতাঃ – আশ্রয় করে আছে, কঃ চন – কেউই, তৎ - তাঁকে, ন উ অত্যেতি
– কখনও অতিক্রম করে না। এতৎ বৈ তৎ
- ইনি সেই সর্বাত্মক ব্রহ্ম।
সরলার্থ – যে প্রাণ থেকে সূর্য উদিত হন, এবং
যাঁতে অস্ত যান, তাঁতেই সকল দেবতা প্রবিষ্ট আছেন। তাঁকে কেউই অতিক্রম করতে পারে না।
ইনি সেই সর্বাত্মক ব্রহ্ম।
যদেবেহ তদমুত্র যদমুত্র তদন্বিহ।
মৃত্যোঃ স মৃত্যুমাপ্নোতি য ইহ নানেব পশ্যতি.২.১.১০
শব্দার্থ – ইহ- এখানে , এই দেহে, যৎ -যে আত্মা
সংসারীর মতো অবিবেকীর কাছে প্রতিভাত, তৎ - তিনিই, অমুত্র -সেখানে বিবেকবানের দৃষ্টিতে
ব্রহ্ম, যৎ অমুত্র – যিনি বিবেকীর কাছে নিত্যচৈতন্যস্বরূপ, ইহ তৎ অনু – এখানে তিনিই বিভিন্ন উপাধির জন্য
বহুরূপে প্রকাশিত, যঃ – যিনি, ইহ – আত্মাতে, নানা ইব – পরস্পর ভিন্ন এই রকম, পশ্যতি – অনুভব করেন, সঃ – তিনি, মৃত্যোঃ – মৃত্যু থেকে, মৃত্যুম্ - মৃত্যুকে, আপ্নোতি – প্রাপ্ত হন অর্থাৎ সংসার প্রবাহে
আবর্তিত হন।
সরলার্থ – যে আত্মচৈতন্য দেহ উপাধি বিশিষ্ট জীবে বর্তমান, তিনিই উপাধিশূন্য
রূপে পরব্রহ্ম। আবার ঐ পরব্রহ্মই নানা উপাধি অনুযায়ী বিবিধ প্রকারে প্রতিভাত হন। তবুও যিনি এই অদ্বয় ব্রহ্মকে ভিন্ন
ভিন্ন রূপে দর্শন করেন, তিনি মৃত্যুর পর মৃত্যু প্রাপ্ত হন।
মনসৈদেবমাপ্তব্যং নেহ নানা৳স্তি কিঞ্চন।
মৃত্যোঃ স মৃত্যুং গচ্ছতি য ইহ নানেব পশ্যতি।। ২.১.১১
শব্দার্থ- মনসা এব – শুদ্ধ মনের দ্বারাই, ইদম্ - এই ব্রহ্মকে, আপ্তব্যম্ - উপলব্ধি করা
যায়, ইহ – এই ব্রহ্মে, কিঞ্চন – কোন প্রকার, নানা – ভেদ, ন অস্তি – নেই, যঃ – যে, ইহ – এই ব্রহ্মে, নানা ইব – ভেদ বা বহুত্ব, পশ্যতি – দর্শন করে, সঃ – সে, মৃত্যোঃ – মৃত্যু থেকে, মৃত্যুম্ - মৃত্যুতে , গচ্ছতি – গমন করে।
সরলার্থ – শুদ্ধ মনের দ্বারা এই ব্রহ্মকে
জানা যায়। এই ব্রহ্মে কোন প্রকার ভেদ নেই। যে ব্রহ্মে ভেদ বস্তু দর্শন করে, সে মৃত্যুর
পর মৃত্যু প্রাপ্ত হয়।
অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ পুরুষো মধ্য আত্মনি তিষ্ঠতি।
ঈশানো ভূতভব্যস্য ন ততো বিজুগুপ্সতে। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.১২
শব্দার্থ – পুরুষঃ – সর্বব্যাপী পুরুষ, অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ
– অঙ্গুষ্ঠপরিমিত হয়ে, আত্মনি – জীবদেহে, মধ্যে – হৃদয় মধ্যে, তিষ্ঠতি – অবস্থান করেন। ভূত-ভব্যস্য – অতীত ও ভবিষ্যতের, ঈশানঃ – নিয়ন্তা, ততঃ – সেই জ্ঞানের জন্য, ন বিজুগুপ্সতে – নিজেকে সুরক্ষিত রাখার আর ইচ্ছা থাকে না। এতৎ বৈ তৎ - এই সেই জিজ্ঞাসিত আত্মা।
সরলার্থ – যিনি অঙ্গুষ্ঠপরিমান পুরুষরূপে
শরীরমধ্যে অবস্থিত, তিনিই আবার ত্রিকালের নিয়ন্তা। এরূপ দর্শন করলে লোক আপনাকে রক্ষার
জন্য আকুল হয় না। ইনি সে আত্মা।
অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ পুরুষো জ্যোতিরিবাধূমকঃ।
ঈশানো ভূতভব্যস্য স এবাদ্য স উ শ্বঃ। এতদ্বৈ তৎ।।২.১.`১৩
শব্দার্থ -ভূত-ভব্যস্য – অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই ত্রিকালের,
ঈশানঃ – নিয়ন্তা, অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ -অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ, পুরুষঃ – চৈতন্যস্বরূপ আত্মা, অধূমকঃ – ধূমহীন, নির্মল, জ্যোতিঃ ইব – প্রভার মতো, সঃ
এব – তিনিই, অদ্য – ইদানীং সর্বপ্রাণীতে বর্তমান, সঃ
উ – তিনিই আবার, শ্বঃ – কালও অর্থাৎ ভবিষ্যতেও থাকবেন। এতৎ বৈ তৎ - ইনি সেই আত্মা।
সরলার্থ – যিনি ত্রিকালের নিয়ন্তা তিনিই ধূমহীন
জ্যোতির মতো অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ অন্তরাত্মা। তিনিই এখন বর্তমান আছেন, তিনিই কালও বর্তমান
থাকবেন।
যথোদকং দুর্গে বৃষ্টং পর্বতেষু বিধাবতি।
এবং ধর্মান্ পৃথক্ পশ্যংস্তানেবানুবিধাবতি।।২.১.১৪
শব্দার্থ -দুর্গে – দুর্গম, উচ্চস্থানে, বৃষ্টম্ - বর্ষিত,
পতিত, উদকম্ - জলরাশি, যথা – যেমন , পর্বতেষু – পার্বত্য নিম্নভূমিতে, বিধাবতি- বিভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়ে বিনষ্ট হয়, এবম্ - এই রকম, ধর্মান্ - জীব সমূহকে, পৃথক্ - প্রতি শরীরে আত্মারূপে না দেখে ভিন্ন ভিন্ন রূপে, পশ্যন্ - দেখে, তান্ এব – সেই ভিন্ন ভিন্ন জীবের স্বরূপকেই,
অনুবিধাবতি – অনুগমন করে অর্থাৎ সেই স্বরূপ প্রাপ্ত হয়।
সরলার্থ – দুর্গম পর্বত শিখরে বর্ষিত বৃষ্টিধারা
যেমন পর্বতের নিম্নস্থানে বিক্ষিপ্ত হয়, তেমনই প্রতি শরীরে আত্মাকে পৃথক কল্পনা করে
কল্পিত তাদেরই অনুসরণ করে অর্থাৎ বিভিন্ন দেহপ্রাপ্তি
হয়।
যথোদকং শুদ্ধে শুদ্ধমাসিক্তং তাদৃগেব ভবতি।
এবং মুনের্বিজানত আত্মা ভবতি গৌতম।। ২.১.১৫
শব্দার্থ – গৌতম – হে নচিকেতা, যথা – যেমন, শুদ্ধম্ - নির্মল, উদকম্
- জল, শুদ্ধে – নির্মল জলে, আসিক্তম্ - নিক্ষিপ্ত করে,
তাদৃক্ এব – সে রকম নির্মলই , ভবতি – হয়, বিজানতঃ – একত্বদর্শী বা তত্ত্বদর্শী, মুনেঃ – মননশীল ব্যক্তির, আত্মা – আত্মা, এবম্ ভবতি – তিনি ব্রহ্মস্বরূপই হয়ে যান।
সরলার্থ – হে গৌতম, নির্মল জল যেমন নির্মল
জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে এক নির্মল জলই হয়ে যায়, তেমনই মননশীল ও একত্বদর্শী ব্যক্তির আত্মাও
একত্ব প্রাপ্ত হন।
(একই শুদ্ধ জল উপাধি ভেদে বিভিন্ন বলে বোধ হয়, কিন্তু উপাধি বিনাশ
হলে তা একই শুদ্ধ জল হয়। আত্মাও তেমনি পরমাত্মায় একীভূত হন।)
ইতি
দ্বিতীয়ো৳ধ্যায়ে প্রথমা বল্লী
=============================================
কঠোপনিষদ্
২য় অধ্যায় ।। ২য় বল্লী ।।
পুরমেকাদশদ্বারমজস্যাবক্রচেতসঃ।
অনুষ্ঠায় ন শোচতি বিমুক্তশ্চ
বিমুচ্যতে। এতদ্বৈ তৎ।।১
শব্দার্থ – একাদশ-দ্বারম্ = একাদশ দ্বারযুক্ত,
পুরম্ - এই দেহরূপ পুর বা নগর, অবক্রচেতসঃ = অপরিবর্তনশীল, অজস্য = জন্ম বা বিকার-রহিত
ব্রহ্মের, অনুষ্ঠায় = এই তত্ত্ব অবধারণ করে, ন শোচতি = শোক ক্রেন না, বিমুক্তঃ চ =
এবং অবিদ্যাদি বন্ধন ক্ষয় হওয়ায়, বিমুচ্যতে = মুক্ত হন। এতৎ বৈ তৎ - ইনিই সেই ব্রহ্ম।
সরলার্থ – মস্তকে দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি
নাক, মুখ এই সাতটি, ব্রহ্মরন্ধ্র এবং শরীরে নিচের দিকে নাভি, মল ও মূত্র দ্বার এই এগারটি
দ্বার- বিশিষ্ট পুর বা নগররূপ দেহটি চৈতন্যময় ব্রহ্মের অধীন। বিবেকী আমি আমার বুদ্ধি
পরিত্যাগ করে শোক বা দুঃখ ভোগ করেন না। অবিদ্যা ক্ষয় হওয়ায় এই দেহেই বিমুক্ত হয়ে যায়
ও দেহের নাশে কৈবল্য প্রাপ্ত হয়।
হংসঃ শুচিষদ্ বসুরন্তরিক্ষসদ্ধোতা
বেদিষদতিথির্দুরোণসৎ।
নৃষদ্বরসদৃতসদ্ব্যোমসদব্জা
গোজা
ঋতজা অদ্রিজা ঋতং বৃহৎ।। ২
শব্দার্থ – হংসঃ – সর্বব্যাপী, শুচিষৎ - শুচি অর্থাৎ
দ্যুলোকে সূর্যরূপে অবস্থিত, বসুঃ -সকলের স্থিতি কর্তা।অন্তরিক্ষসৎ - বায়ুরূপে অন্তরীক্ষে
অবস্থানকারী, হোতা – অগ্নিস্বরূপ, বেদিষৎ - পৃথিবীতে অবস্থিত, অতিথিঃ – সোমরসরূপে বা অতিথি ব্রাহ্মণরূপে,
দুরোণসৎ - কলসে বা গৃহে অবস্থিত, নৃষৎ - মানুষের মধ্যে অবস্থিত, বরসৎ - সমস্ত শ্রেষ্ঠ
পদার্থ-মধ্যে অবস্থিত, ঋতসৎ - যজ্ঞে বা সত্যে প্রতিষ্ঠিত, ব্যোমসৎ - আকাশে অবস্থিত,
অব্জাঃ – জলজাত শঙ্খ বা মৎস প্রভৃতি, গোজাঃ – ধান্যাদি , ঋতজা – যজ্ঞোদ্ভূত কর্মফল, অদ্রিজাঃ – পর্বত থেকে উৎপন্ন নদী, ঋতম্ - স্বয়ং সত্যস্বরূপ, বৃহৎ - সর্বব্যাপী।
সরলার্থ – এই প্রত্যগাত্মা সর্বত্রগামী, দ্যুলোকে
অবস্থিত, সকলের আশ্রয়, অন্তরীক্ষে অবস্থিত,অগ্নিস্বরূপ,পৃথিবীতে স্থিত, সোমরূপে কলসীতে
স্থিত, মনুষ্যের মধ্যে, দেবতার মধ্যে ও যজ্ঞে স্থিত, আকাশে স্থিত, জলজাত শঙ্খাদি, পৃথিবীজাত
ব্রীহিযবাদি, যজ্ঞাঙ্গরূপে জাত ও পর্বতজাত নদী ইত্যাদিতে অবস্থিত অথচ অবিকাস্বরূপ এবং
সর্বব্যাপী।
ঊর্ধ্বং প্রাণমুন্নয়ত্যপানং
প্রত্যগস্যতি।
মধ্যে বামনমাসীনং বিশ্ব
দেবা উপাসতে।। ৩
শব্দার্থ – প্রাণম্ - প্রানবায়ুকে, ঊর্ধ্বম্
উন্নয়তি – ঊর্ধ্বদিকে প্রেরণ করে, অপানম্
-অপান বায়ুকে, প্রত্যক্ - নিচের দেকে, অস্যতি – সঞ্চালিত করে, মধ্যে – হৃদয়ে , আসীনম্ - অবস্থিত, বামনম্ - উপাস্য আত্মাকে, বিশ্বে
– সমস্ত, দেবাঃ চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণ,
উপাসতে -উপাসনা করে অর্থাৎ তাঁরই প্রেরণায় নিজ নিজ কাজে রত হয়।
সরলার্থ – যিনি প্রাণবায়ুকে ঊর্ধ্বে চালিত
করেন এবং অপানবায়ুকে নিচের দিকে নিক্ষেপ করেন, হৃদয়াকাশে অবস্থিত এই প্রত্যগাত্মাকে
সকল ইন্দ্রিয় রূপাদির অনুভূতিরূপ উপহার দিয়ে সেবা করে থাকে।
অস্য বিস্রংসমানস্য
শরীরস্থস্য দেহিনঃ।
দেহাদ্বিমুচ্যমানস্য
কিমত্র পরিশিষ্যতে। এতৎ বৈ তৎ।।৪
শব্দার্থ – অস্য – এই , শরীরস্থস্য – দেহস্থ, দেহিনঃ – আত্মার , দেহাৎ - দেহ থেকে, বিমুচ্যমানস্য
– বিমুক্ত হওয়ার পর, বিস্রংসমানস্য
-স্থূলদেহ ত্যাগ করার পর, অত্র – এই দেহে, কিম্ - কী, পরিশিষ্যতে
– অবশিষ্ট থাকে? , এতৎ বৈ তৎ - ইনিই
সেই আত্মা।
সরলার্থ – এই শরীরস্থ প্রত্যগাত্মার দেহশূন্য
অবস্থায় অর্থাৎ দেহ থেকে বিমুক্ত অবস্থায় এই দেহে কি অবশিষ্ট থাকে? অর্থাৎ কিছুই থাকে
না। এই প্রত্যগাত্মাই সেই জিজ্ঞাসিত ব্রহ্ম।
ন প্রাণেন নাপানেন মর্ত্যো
জীবতি কশ্চন।
ইতরেণ তু জীবন্তি যস্মিন্নেতাবুপাশ্রিতৌ।।
৫
শব্দার্থ – কশ্চন -কোন, মর্ত্যঃ – প্রাণী, ন প্রাণেন – না প্রাণের দ্বারা, ন অপানেন – না অপানের দ্বারা, জীবতি -জীবিত থাকে। তু – পরন্তু, এতৌ – এই প্রাণ ও অপান, যস্মিন্ -যাঁকে, উপাশ্রিতৌ – আশ্রয় করে আছে, ইতরেণ – প্রাণাপান বিলক্ষণ আত্মার সাহায্যেই
জীবন্তি – জীবন ধারণ করে।
সরালার্থ – কোন প্রাণী প্রাণের জন্য বা অপানের
জন্য বেঁচে থাকে না। পরন্তু প্রাণাদি থেকে পৃথক প্রত্যগাত্মার জন্যই সকলে বেঁচে থাকে।
যে প্রত্যগাত্মাতে এই প্রাণ অপানাদি আশ্রিত হয়ে আছে।
হন্ত ত ইদং প্রবক্ষ্যামি
গুহ্যং ব্রহ্ম সনাতনম্।
যথা চ মরণং প্রাপ্য
আত্মা ভবতি গৌতম।। ৬
শব্দার্থ - গৌতম – হে নচিকেতা, হন্ত – আনন্দসূচক আহা, তে – তোমাকে, ইদম্ - এই, গুহ্যম্
-গোপনীয়, সনাতনম্ - চিরন্তন , ব্রহ্ম – প্রত্যকচৈতন্য, প্রবক্ষ্যামি – বলব,চ – এবং, [তাঁকে না জানলে], মরণ্ম্ - মৃত্যু, প্রাপ্য – প্রাপ্ত হয়ে, আত্মা – দেহী, যথা – যেমন, ভবতি – হয়ে থাকে। এখন তা বলছি।
সরলার্থ – এখন যমরাজ সাক্ষাৎ ভাবে নচিকেতার
সেই তৃতীয় প্রশ্নের উওর দিতে গিয়ে প্রত্যগাত্মস্বরূপের
অনুভূতি না করতে পারলে জীবের কি গতি হয় এবং সেই আত্মস্বরূপের কি পরিচয় - এই দুটি বিষয় বলবেন বলে এই মন্ত্রে প্রতিশ্রুতি
দিচ্ছেন।
যোনিমন্যে প্রপদ্যন্তে শরীরত্বায় দেহিনঃ।
স্থানুমন্যে৳নুসংযন্তি
যথাকর্ম যথাশ্রুতম্।। ৭
শব্দার্থ – যথাকর্ম – যে যেমন কাজ করে, যথাশ্রুতম – সেই অনুযায়ী যেমন সংস্কার গঠিত
হয়, অন্যে – কেউ কেউ, দেহিনঃ
– দেহধারী জীবগণ, শরীরত্বায় – শরীর গ্রহণের জন্য, যোনিম্ - মাতৃগর্ভ,
প্রপদ্যন্তে – প্রাপ্ত হয়, অন্যে – আর অন্য কেউ কেউ, স্থানুম্ - বৃক্ষাদি স্থাবর ভাবকে , অনুসংযন্তি – অনুসরণ করে।
সরলার্থ – যে যেমন কর্ম করে এবং যেমন জ্ঞান
অর্জন করে সেই অনুসারে কোন কোন জীব মৃত্যুর
পর শরীর প্রাপ্তির জন্য যোনিপ্রাপ্ত হয় এবং অপর কোন কোন জীব বৃক্ষলতাদি ভাব প্রাপ্ত
হয়।
য এষ সুপ্তেষু জাগর্তি
কামং কামং পুরুষো নির্নিমাণঃ ।
তদেব শুক্রং তদব্রহ্ম
তদেবামৃত্মুচ্যতে।
তস্মিঁল্লোকাঃ শ্রিতাঃ
সর্বে তদু নাত্যেতি কশ্চন। এতদ্বৈ তৎ।। ৮
শব্দার্থ – যঃ – যিনি ,এষঃ – এই , পুরুষঃ – প্রত্যগাত্মা, সুপ্তেষু – ইন্দ্রিয় গণ নিজ নিজ কার্য থেকে
বিরত হলেও, কামম্ - ইচ্ছানুসারে, কামং – ভোগ্য বিষয় সমূহ, নির্মিমাণঃ – নির্মাণ করতে করতে, জাগর্তি -জাগ্রত
থাকেন, তৎ এব – তিনিই, শুক্রম—শুদ্ধ, তৎ ব্রহ্ম – তিনি ব্রহ্ম, তৎ এব অমৃতম্ - তিনিই অবিনশ্বর, উচ্যতে – এই বলা হয়, সর্বে লোকাঃ - বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, তস্মিন্ - সেই কারণ রূপ ব্রহ্মে
, শ্রিতাঃ – আশ্রিতা। কঃ চন উ – কেউ -ই, তৎ - সেই ব্রহ্মকে , ন অত্যেতি - অতিক্রম করতে পারে না। এতৎ বৈ তৎ - ইনিই নচিকেতার
জিজ্ঞাসিত আত্মা।
সরলার্থ – প্রাণ প্রভৃতি ( ইন্দ্রিয় প্রভৃতি)
সুপ্ত হলে যিনি স্বপ্নকালে সেই সেই ভোগ্য বিষয় রচনা করে জাগরিত থাকেন, তাঁকেই শুদ্ধ,
তাঁকেই ব্রহ্ম, এবং তাঁকেই সর্বশাস্ত্রে অমৃত
বলা হয়। পৃথিবী প্রভৃতি সমস্ত লোক তাঁতে আশ্রিত। কেউই তাঁকে অতিক্রম করে যেতে পারে
না। ইনিই সেই নচিকেতার জিজ্ঞাসিত আত্মা।
দেহ ভিন্ন হলেও আত্মা
এক
অগ্নির্যথৈক ভুবনং প্রবিষ্টো
রূপং রূপং প্রতিরূপো
বভূব।
একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা
রূপং রূপং প্রতিরূপো বহিশ্চ।।৯
শব্দার্থ – যথা – যেমন , একঃ অগ্নিঃ -একই অগ্নি,
ভুবনম্ - জগতে, প্রবিষ্টঃ – প্রবেশ করে, রূপম রূপম্ - কাষ্ঠাদি ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ অনুসারে, প্রতিরূপঃ
– সেই সেই আকারযুক্ত,বভূব – হয়েছে, তথা – সেরকম, একঃ সর্বভূতান্তরাত্মা – সকল প্রাণীর অন্তরস্থিত পরমাত্মা, রূপম্ রূপম্ - বিভিন্ন দেহ অনুসারে, প্রতিরূপঃ
– সেই আকারে আকারিত হয়েছেন , চ – অথচ, বহিঃ – সমস্ত উপাধি থেকে পৃথক বা অবিকৃতরূপে
বিরাজিত।
সরলার্থ – যেমন এক অগ্নিতত্ত্বই পৃথিবীতে প্রবিষ্ট হয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাহ্যবস্তুরূপ উপাধি বশত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, তেমন সমস্ত প্রাণীর এক অন্তরাত্মাই ভিন্ন ভিন্ন দেহরূপ উপাধি রশত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে,
বস্তুত তিনি দেহাদি থেকে ভিন্ন।
বায়ুর্যথৈকো ভুবনং প্রবিষ্টো
রূপং রূপং প্রতিরূপো বভূব।
একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা
রূপং রূপং প্রতিরূপো
বহিশ্চ।। ১০
শব্দার্থ – যথা একঃ বায়ুঃ – যেমন প্রাণাদিরূপে একই বায়ু, ভুবনম্
প্রবিষ্ট – জগতে প্রবেশ পূর্বক, রূপম্ রূপম্ প্রতিরূপঃ বভূব – প্রত্যেক বস্তুর অনুরূপ ভাব প্রাপ্ত
হয়েছে, তথা – তেমনি, একঃ সর্বভূতান্তরাত্মা রূপম্ রূপম্ প্রতিরূপঃ – সর্বভূতের অন্তরস্থিত আত্মা রক
হয়েও প্রত্যেক দেহ অনুসারে তদনুরূপ হয়ে প্রকাশ পাচ্ছেন। বহিঃচ – এবং তার বাইরেও নিজ অবিকৃত স্বরূপে
বর্তমান আছেন।
সরলার্থ – এক বায়ু এই পৃথিবীলোকে জীবদেহে
প্রাণরূপে প্রবিষ্ট হয়ে যেমন সেই সেই প্রাণীভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে তেমন সমস্ত ভূতের এক অন্তরাত্মা ভিন্ন ভিন্ন দেহরূপ উপাধি
ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হন, অথচ তিনি সেই সব উপাধির
বাইরে অর্থাৎ উপাধি থেকে পৃথক।
সূর্যো যথা সর্বলোকস্য
চক্ষু-
ন লিপ্যতে চাক্ষুষৈর্বাহ্যদোষৈঃ।
একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা
ন লিপ্যতে লোকদুঃখেন
বাহ্যঃ।।.১১
শব্দার্থ – যথা – যেমন , সূর্য – প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান আকাশস্থিত সূর্য, সর্বলোকস্য – সকল প্রাণীর, চক্ষুঃ – দর্শনের হেতু, চাক্ষুষৈঃ – নয়ন ইন্দ্রিয় সম্বন্ধ যুক্ত, বাহ্যদোষৈঃ
– অশুচিবস্তুদর্শনজনিত পাপের দ্বারা,
ন লিপ্যতে – লিপ্ত হন না। তথা – সে রকম, সর্বভূতান্তরাত্মা – সকল প্রাণীর হৃদয়স্থিত পরমাত্মা,
একঃ – এক হয়েও , লোক-দুঃখেন – পার্থিব সুখ-দুঃখাদির দ্বারা, ন লিপ্যতে – লিপ্ত হন না, যতঃ – যেহেতু, সঃ – তিনি , বাহ্যঃ – বহিঃস্থিত।
সরলার্থ – সূর্য যেমন সকল লোকের চক্ষুর উপকারক
হয়েও চক্ষুর দোষের দ্বারা লিপ্ত হয় না তেমন সকল ভূতের এক অন্তরাত্মাও লোকের দুঃখের
দ্বারা লিপ্ত হন না, যেহেতু তিনি লোকদুঃখের
বাইরে।
ব্রহ্ম উপাসনার ফল
একো বশী সর্বভূতান্তরাত্মা
একং রূপং বহুধা যঃ করোতি।
তমাত্মস্থং যে৳নুপশ্যন্তি
ধীরা-
স্তেষাং সুখং শাশ্বতং
নেতরেষাম্ ।। ১২
শব্দার্থ – যঃ – যিনি , বশী – সর্বনিয়ন্তা, সর্বভূতান্তরাত্মা
– সকলের অন্তরাত্মা, একঃ – এক হয়েও, একম্ রূপম্ - একই অদ্বিতীয়
আত্মাকে, বহুধা – দেবতা, মানুষ, অন্যান্য প্রাণী উপাধি ভেদে অনেক প্রকার) করোতি – করেন, আত্মস্থম্- নিজ হৃদয়ে বিরাজমান , তম্ -সেই আত্মাকে, যে ধীরাঃ – যে সব বিবেকীগণ, অনুপশ্যন্তি – সাক্ষাৎ অনুভব করেন, তেষাম্ - তাঁদের , শাশ্বতম্ সুখম্ - চিরন্তন আনন্দ লাভ হয়, ন ইতরেষাম্ - অনাত্মদর্শীদের
তা হয় না।
সরলার্থ – সেই আত্মা এক , সকল জগৎ তাঁর বশীভূত,
সমস্ত ভূতের অন্তরাত্মা । যিনি এক চৈতন্য স্বরূপকে উপাধি ভেদে নানা প্রকার করেন, তাঁকে
যে সব বিবেকী শাস্ত্র ও আচার্যের উপদেশ পেয়ে
শরীরের মধ্যে হৃদয়ে চৈতন্যরূপে অভিব্যক্ত ভাবে দর্শন করেন তাঁদেরই নিত্য পরমানন্দ লাভ হয়, অপর বিষয়াসক্ত লোকের
হয় না।
নিত্যো৳নিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম্
একো বহূনাং যো বিদধাতি
কামান্ ।
তমাত্মস্থং যে৳নুপশ্যন্তি
ধীরা-
স্তেষাং শান্তিঃ শাশ্বতী
নেতরেষাম্।। ১৩
শব্দার্থ – অনিত্যানাম্ - নশ্বর পদার্থের
মধ্যে, নিত্যঃ – আবিনাশী কারণশক্তি, চেতনানাম্ - আব্রহ্ম সমস্ত চেতনশীলদের মধ্যে, চেতনঃ – চৈতন্য সম্পাদক, একঃ -এক হয়েও,
বহূনাম্ - সংসারী প্রাণীদের,
কামান্ -অভীষ্ট ফল, যঃ বিদধাতি – যিনি প্রদান করেন, তম্ আত্মস্থম্ -নিজ হৃদয়ে বিরাজমান সেই আত্মাকে, যে ধীরাঃ
– যে প্রাজ্ঞ বিবেকী ব্যক্তি গণ,
অনুপশ্যন্তি – সাক্ষাৎ অনুভব করেন, তেষাম্ - তাঁদেরই শাশ্বতী শান্তিঃ – চিরন্তন শান্তি, ন ইতরেষাম্ -
অন্যদের নয়।
সরলার্থ – যিনি অনিত্যের মধ্যে নিত্য, চেতন
ব্রহ্মাদিরও চেতন, একাকী বহু সংসারী জীবের কর্মফল প্রদান করেন, তাঁকে যে সব বিবেকী ব্যক্তি আচার্যের উপদেশ শোনার পর বুদ্ধিতে
অভিব্যক্তচৈতন্য রূপে সাক্ষাৎ অনুভব করেন তাঁদেরই
মুক্তি হয়, অবিবেকীদের হয় না।
তদেতদিতি মন্যন্তে৳নির্দেশ্যং
পরমং সুখম্ ।
অথং নু তদ্বিজানীয়াং
কিমু বাতি বিভাতি বা।।১৪
শব্দার্থ – অনির্দেশ্যম্ -ইন্দ্রিয়াদির দ্বারা
যাঁকে বিশেষরূপে নির্দেশ করা যায় না, তৎ এতৎ ইতি – এই সেই, পরম্ সুখম্ - পরমানন্দরূপে , মন্যন্তে – অনুভব করা হয়, তৎ - তাঁকে, কথম্
- কী প্রকারে , নু – বিতর্কবোধক অব্যয়, বিজানীয়াম্ - জানব?
কিম্ উ ভাতি – তিনি কি প্রকাশিত হন? বা বিভাতি – স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হন বা হন না?
সরলার্থ – সেই বাক্যমনাতীত পরমানন্দকে অপরোক্ষ বলে নিষ্কাম ব্রহ্মনিষ্ঠগণ অনুভব করে থাকেন।
তা কিভাবে আমি অনুভব করতে পারব? ঐ আনন্দস্বরূপ তো স্বয়ংপ্রকাশ তবে বুদ্ধির বিষয়রূপে প্রকাশিত হন কি?
ন তত্র সূর্য ভাতি ন
চন্দ্রতারকম্
নেমা বিদ্যুতো ভান্তি
কুতো৳মমগ্নিঃ।।
তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং
তস্য ভাসা সর্বমিদং
বিভাতি।। ১৫
শব্দার্থ – তত্র – স্বপ্রকাশ আনন্দস্বরূপ আত্মাকে,
সূর্যঃ – সূর্য, ন ভাতি – প্রকাশ করে না, ন চন্দ্র তারকম্
- চন্দ্র তারকাও প্রকাশ করতে পারে না, ন ইমা বিদ্যুতঃ ভান্তি – বিদ্যুৎ সমূহও তাঁকে প্রকাশ করতে
পারে না, অয়ম্ অগ্নিঃ – এই পার্থিব অগ্নি, কুতঃ – কিভাবে? তম্ ভান্তম্ এব – তিনি প্রকাশমান বলেই, সর্বম্ - সূর্যাদি সমস্ত বস্তু, অনুভাতি – তদনুযায়ী প্রকাশ পায়। ইদম্ সর্বম্
- এই সমস্ত , তস্য – সেই ব্রহ্মজ্যোতির , ভাসা – দীপ্তিতেই, বিভাতি – বিবিধরূপে প্রকাশিত্ হয়।
সরলার্থ – সূর্য তাঁকে (আত্মাকে) প্রকাশ করতে
পারে না। চন্দ্র ও নক্ষত্র সকল তাঁকে প্রকাশ করতে পারে না। এই বিদ্যুৎ প্রকাশ করতে
পারে না। আমাদের প্রত্যক্ষের বিষয় অগ্নি কিরূপে তাঁকে প্রকাশ করতে পারে? তাঁর প্রকাশে
সমস্ত প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রকাশের দ্বারা এই সমস্ত বস্তু স্পষ্ট প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয়া বল্লী সমাপ্ত

কঠো উপনিষদ এর পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। আপনার কাছে এসে আমরা উপনিষদ শিখছি আরো কত আধ্যাত্মিক বিষয় জানতে পারছি অনেক জন্মের তপস্যার ফলে আপনার মত গুরু পেয়েছি। ধন্য আমরা আপনার মতন গুরু যেন জনম জনম পায় প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ।
ReplyDeleteপ্রণাম আচার্য্য মহারাজ 🙏🙏
Deleteমহারাজ আপনার ক্লাস করে খুব উপকার হোচ্ছে আবার ভালোও লাগছে।
মৌসুমী রায় কোচবিহার।
প্রনাম মহারাজ। আপনার পাঠানো কঠোউপনিষদের পিডিএফটি পেয়ে খুবই উপক্বত হলাম।
Delete🙏🏻🙏🏻Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🏻🙏🏻. Maharajji, tritiyo valli r 2nd chapter er PDF peyey Aponer proti othibo kritogyo bodh korchi👏🙏🏻. Emnitey porey olpo kichu abhas pei kintu Aponer onushilon er bekhya r madhyomey seta clear hoyey jei. Sei Nachiketa r Atmogyan suntey suntey amra o yatsamanyo holey o Atmogyan er swad onubhob kortey parchi, so, eta o amader e jonmer onek boro pawna, Maharajii 🙏🏻. Tei Aponer sannidhyo lav amader e jonmer ek mulyoban sampod swarup, Maharajii 🙏🏻. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌻🌻🌹🌹🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻.
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ 🙏🙏🙏
Deleteপ্রণাম মহারাজ
Deleteআজকের ক্লাশ সম্বন্ধে চিন্তা করছিলাম,যাই হোক পেয়ে ভালো লাগলো। কিন্তু আগে যেমন করে পিডিএফ বলে আলাদা ভাবে পাঠাতেন তাতে প্রিন্ট আউট ভালো হত,এখন অস্পষ্ট হয়
প্রণাম নেবেন।🙏
খুবই উপকৃত হলাম, চিন্তা করছিলাম আজকের ক্লাস সম্পর্কে। প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।
ReplyDeleteমহারাজ, আপনার পাঠানো আত্মজ্যোতিতে কঠোপণিষদ দ্বিতীয় বল্লী পেয়ে খুব ভাল লাগল। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মহারাজ 🙏🙏🙏
ReplyDeleteএকজন মহান আচার্য দেব পেয়েছি আমরা তাঁর শ্রীচরণকমলে নতমস্তকে সশ্রদ্ধ প্রনাম জানাই 🙏🙏🙏 ঠাকুর মা স্বামীজির আর্শীবাদ আপনার মাধ্যমে আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হয়ে যাচ্ছে সব সময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত। সেই আর্শীবাদ যেন নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারি এই আর্শীবাদ করুন।
জয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পূর্ণ ব্রহ্ম নারায়ণ 🙏🙏🙏🙏🙏
দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏
Pdf পেয়ে আমার আবার ডায়েরি তে লিখে নিতে হয় নাহলে ফোন থেকে পরে খুঁজে পাইনা। আপনি আমার অন্তরের প্রণাম নেবেন আচার্য দেব। খুব ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ পি ডি এফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম । ভালো থাকবেন ।
ReplyDeletePRONAM MAHARAJ. PDF PELAM. BHALO THAKBEN.
ReplyDeletePRONAM MAHARAJ. KOTHOPONISHOD ER PDF PEYE KHUB UPOKRITO HOLAM. BHALO THAKBEN.......,........ANADI NATH SINHA. DAKSHINESWAR
ReplyDeleteপ্রণাম গুরু আচার্যদেব মহারাজজী 🌷💥🙏
ReplyDeleteআমার অন্তরের সভক্তি🙏🙏নেবেন। প্রত্যেকটি শব্দের পৃথক পৃথক ব্যখ্যা, সহজেই বুঝতে পারছি। পরেও দরকার মতো দেখে নেবার সুযোগ থাকল। ঠাকুর মায়ের কাছে আপনার সুস্থতা কামনা করি।
ReplyDeleteকঠোপনিষদের পিডিএফ পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। প্রণাম মহারাজ। রীতা নাগ দক্ষিনেশ্বর।
ReplyDeleteমহারাজ আপনার পাঠানো p d f পেয়ে খুব উপকৃত হলাম সঞ্চয়িতা ভৌমিক বিরাটী
ReplyDeleteMaharaj khub upokrito holam
ReplyDeleteRita Bose
ReplyDeletePdf পেয়ে উপকৃত হলাম প্রতিবারের মতো এবারেও ,
ReplyDeleteপ্রনাম নেবেন মহারাজ জী🙏
ঈশ্বরের অশেষ কৃৃপা আপনার মত গুরু পেয়েছি , পরম সৌভাগ্য এমন গুরুর সান্নিধ্য পাওয়া , যিনি নিরন্তর চেষ্টা ও প্রয়াস করে চলেছেন সকলের আধ্যত্মিক উন্নতির , ঠাকুর মা ও স্বামীজীর আশীর্বাদে আমরা সম্বৃদ্ধ হচ্ছি প্রনাম গুরুজী ... মীনা বোস দমদম৷
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌻🌻🙏🏻🙏🏻. Maharajji, Kathoponishad er 2nd chapter er 1st and 2nd Valli paath er details peyey dhonyo holam👏🙏🏻
ReplyDeleteMaharaj apnar sahaj sundar vaday Upanishad er ayee sakal byakhya peye jeno nojeke Adyatmik dike ato tuku haleo unnata karte sachesta hate pari ayee prarthana rakhi🙏🌷 Shampa Dhar Dum Dum Cantonment🙏🙏
ReplyDelete🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteখুব ভালো লাগছে কঠপোনিষদ পড়তে।অসাধারন জ্ঞানভাণ্ডারে ভরা।ঠাকুর মা স্বামীজি ও আপনার কৃপায় জীবন ধন্যহচ্ছে ও আনন্দে ভরে যাচ্ছে।ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteKathaponishad er byakhya khub valo laglo Maharaj apnar sri charane sata sata vakti nibedan kari Thakur Ma Swamiji r ashim kripay apnar parama sat sanga peye amra dhanyavaad 🙏🌹🍂🍂
ReplyDeleteখুব ভাল লাগলো মহারাজ। ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন। 👏
ReplyDeleteরুবী গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য ইছাপুর
কঠো উপনিষদ এর পিডিএফ পেয়ে খুব ভালো লাগল, বার বার পড়ছি, আপনার মুখে শুনছি , একটু একটু করে বুঝতে পারছি, আপনি ভালো থাকবেন , আপনি আমাদের আশীর্বাদ করুন আপনার এত চেষ্টা আমাদের বোঝানো, তার মর্যাদা যেন আমরা দিতে পারি, প্রণাম নেবেন অসীমা বোটব্যাল হাওড়া শিবপুর
ReplyDeleteAmi. Khub. Valo. Student. Noi, apni. Hard and. Soul. Chesta. Korchen, sob. Class. Motamoti. Bujhte. Parchi, kotho upanishad. Aktu. Asubidha.hoche, Chesta. Korchi, pronam. Neben moharaj, asima. Batabyal, howrah
ReplyDeleteMaharaj apnake peye amra dhonyo.
ReplyDeleteThakur ,MA, Swamiji ke Amar PRONAM. Thakurer onek kripar Dara eisob sombhov hoyeche.
Anadi Nath Sinha. Dakshineswar.
প্রণাম নেবেন মহারাজ।বই আছে,তাও আপনার পাঠানো পিডিএফে একসঙ্গে সব পড়ে বুঝতে সুবিধা হল। ক্লাসে তো আপনার মুখ থেকে ব্যাখ্যা মন্ত্র মুগ্ধের মত শুনি। 🙏🙏🙏
ReplyDeleteঠাকুরের অশেষ কৃপা য় আপনার মতো আচার্য পেয়েছি মহারাজ🙏🙏
ReplyDelete