শ্রীমা সারদার জগদ্ধাত্রী পুজো
-- স্বামী হরিময়ানন্দ
©
বাংলায় উৎসবের শেষ
নেই।‘বারো মাসে তেরো পার্বন’ যেকালে বলা হত, সেকাল থেকে আমরা আরও অনেকটা এগিয়ে এসেছি। তাই সংখ্যাটা আর তেরোতে থেমে নেই। বিভিন্ন প্রদেশ তথা বিদেশ থেকেও অনেক উৎসব যুক্ত হয়েছে ও হচ্ছে। এর কিছু যেমন ধর্মীয় উৎসব, কিছু আবার সামাজিক। অবশ্য সামাজিক উৎসবগুলিও কম বেশি ধর্ম ভিত্তিক। বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি সামাজিক উৎসব হলেও, এর মধ্যেও একটি ধর্মীয় দিক রয়েছে। আর সেটিই ভারতীয় সভ্যতার ভিত্তি।স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘আমরা ধর্মের ভাবেই খাই দাই, ঘুমাই, কাজ করি।ধর্ম বাদ দিয়ে কোন কাজই হয়না প্রাচ্য দেশে।’ দুর্গা পুজো, কালীপুজোর পর জাঁক জমকের দিক দিয়ে নিশ্চয় জগদ্ধাত্রীর নাম এসে যাবে।জগদ্ধাত্রী পুজোর উৎস খুঁজতে একটু অতীতের দিকে চোখ ফেরানো যাক।
শক্তি সাধনা
ভারতবর্ষে শক্তি আরাধনা বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। নানা নাম আর
রূপ রয়েছে তার। বিশেষ করে তন্ত্রও পুরাণে আদ্যা শক্তি মহামায়ার নানা নাম ও রূপের বর্ণনা পাওয়া
যায়।সেই সঙ্গে পাওয়া যায় নানা প্রকার বিচিত্র কাহিনী। বিভিন্ন প্রকার
রূপের মধ্যে রয়েছে দশমহাবিদ্যা - কালী, তারা, ষোড়শী,ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ভৈরবী, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গীও কমলা। এই সব প্রসিদ্ধ রূপ ছাড়া ও আরও নানারূপের বর্ণনা পুরাণাদিতে ছড়িয়ে রয়েছে। আদ্যাশক্তির
এই সব রূপের মধ্যে জগদ্ধাত্রী একটি বিশেষরূপ।
সপ্তশতী শ্রীশ্রীচণ্ডীতে যেমন দেবী দুর্গার নানা কাহিনি
পাওয়া যায়, তেমন কাত্যায়নী তন্ত্রে পাওয়া যায়
দেবী জগদ্ধাত্রীর দিব্য কাহিনি। সেখানে বলা হয়েছে জগতের শান্তিদাত্রীও পালন কর্ত্রীরূপে দেবীজগদ্ধাত্রী কার্তিক শুক্লা নবমী
তিথিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দুর্গাকল্পে ও দেবীর আবির্ভাবের ভবিষ্যৎ বার্তা ঘোষিত
হয়েছে এই ভাবে -‘দেবগণে রহিত, দুর্বৃত্তের প্রশমন এবং জগতের শান্তি বিধানের জন্য যুগের প্রারম্ভে কার্তিক
মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবারে পরমেশ্বরী জগদ্ধাত্রী আবির্ভূতা হবেন।’ দেবীর পুজোর সম্পর্কে বলা হয়েছে -‘ত্রেতাযুগের প্রারম্ভে কার্তিক মাসের
শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে সিংহ পৃষ্ঠে সমাসীনা দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো করবে’।
বাহ্যরূপ বর্ণনা
জগদ্ধাত্রীর ধ্যান মন্ত্রে তাঁর বাহ্য রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে,দেবীর এই রূপ কোন চিত্র শিল্পীর কল্পনায় ফুটে ওঠেনি।
ধ্যানসিদ্ধ ঋষির প্রত্যক্ষ দর্শন এই প্রতিমা। শিল্পীর কল্পনায় নানা মূর্তি তৈরি
হতে পারে, এবং তার কিছু শৈল্পিক মূল্য থাকতেও পারে। কিন্তু তা
কখনও প্রতিমা হয় না। প্রতিমার পেছনে কল্পনা নয়, থাকে প্রত্যক্ষ অনুভব। সাধক হৃদয়ে জগদ্ধাত্রীর যে রূপ প্রকাশিত হয়েছে তা হল – সিংহের উপর অবস্থিত দেবী, নানা অলঙ্কারে বিভূষিত, চতুর্বাহু, নাগরূপ যজ্ঞসূত্র ধারণ করে রয়েছেন। দেবীর বাম দুটি হাতে আছে
শঙ্খ ও ধনু। ডান দুটি হাতে আছে পঞ্চবান ও চক্র। দেবী রক্তবস্ত্র পরে রয়েছেন আর তাঁর শরীর অরুণ সূর্যের মতো রক্তাভ। তিনি শিবপত্নী, রত্নময় উচ্চ সিংহাসনে প্রস্ফুটিত
পদ্মের ওপর বসে আছেন। নারদাদি মুনিগণ তাঁর নিত্য সেবা করেন।
মহাভারতে পার্বতীর আর এক নাম জগদ্ধাত্রী বলা
হয়েছে। জগদ্ধাত্রী ও দুর্গা ভক্তের স্তুতিতে অনেক সময় মিলেমিশে গিয়েছে। মন্ত্রে বলা হয়েছে
‘দয়ারূপে দয়াদৃষ্টে দয়ার্দ্রে দুঃখমোচনি।
সর্বাপত্তারিকে দুর্গে
জগদ্ধাত্রী নমো৳স্তুতে’।।
--হে দেবি জগদ্ধাত্রি তুমি দয়া রূপা, করূণা মাখা তোমার দৃষ্টি, দয়া করে তুমি দুঃখ মোচন করে থাক, বিপদ থেকে উদ্ধার কর, হে দুর্গে তোমাকে প্রণাম।
শ্রীশ্রী চণ্ডীতে দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী শুধু যে এক তা
নয়, জগদ্ধাত্রীর বর্ণনা সর্ব প্রথমে স্থান পেয়েছে।
‘ত্বয়ৈবধার্য্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎসৃজ্যতে জগৎ।
ত্বয়ৈতৎপাল্যতে
দেবি ত্বমৎস্যন্তে চ সর্বদা’।।
শুম্ভ-নিশুভ বধের পর দেবতারা দেবী
দুর্গার স্তুতি করছেন এই বলে, ‘বিশ্বেশ্বরী ত্বং পরিপাসি বিশ্বং, বিশ্বাত্মিকা
ধারয়সীতি বিশ্বম্’ অর্থাৎ হে দেবি, তুমি বিশ্বেশ্বরী, তাই এই বিশ্বকে পালন কর, তুমি বিশ্বাত্মিকা
তাই বিশ্বকে ধারণ করে রয়েছ। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে জগতের ধারণ
ও পালন করেন যিনি তিনি জগদ্ধাত্রী।
দেবী দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী
দেবী দুর্গা ও জগদ্ধাত্রীর মধ্যে বাহ্যিক কিছু মিল যেমন
রয়েছে আবার কিছু অমিলও রয়েছে। মিল হল দু’জনেরই বাহন সিংহ। অমিল হচ্ছে, দুর্গা হলেন দশভূজা আর
জগদ্ধাত্রী চতুর্ভূজা। দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন আর জগদ্ধাত্রী বধ করেছিলেন
করীন্দ্রাসুরকে। দুর্গার ধ্যানে বলা হয়েছে দেবীর গায়ের রং অতসী ফুলের মত।কিন্তু
জগদ্ধাত্রীর গায়ের রং অরুণ সূর্যের মতো
রক্তাভ। দুর্গার
সঙ্গে লক্ষ্মী সরস্বতী থাকে জগদ্ধাত্রীর সঙ্গে থাকে জয়া ও বিজয়া। দেবী দুর্গা হলেন
রাজসিক, কালী তামসিক ও জগদ্ধাত্রীর
মধ্যে সাত্ত্বিক গুণের বিকাশ।
ফললাভ
দেবী জগদ্ধাত্রী চার প্রকার ফল - ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ
প্রদান করেন বলে মায়ের চারটি হাত। মন-রূপ মত্ত হস্তিকে
মর্দন করে মা সিংহের পীঠে বসে রয়েছেন। মা করীন্দ্রাসুর
নামে এক অসুরকে বধ করেছেন। করী মানে হাতি, যা
চঞ্চল মনের সঙ্গে তুলনীয়। আমাদের মন উন্মত্ত হাতির মত সর্বদাই
অস্থির। এই দুরন্ত মনকরীকে বিবেকরূপ সিংহের
দ্বারা মর্দন করতে হয়। তবেই সেই মন মহাশক্তিরূপিণী দেবীর
পাদপদ্মে অর্পণ করা সম্ভব। দেবীর হাতে যে
শঙ্খ তা নাদ শক্তির প্রতীক। শার্ঙ্গধনু ওঁ-কারের প্রতীক। পঞ্চবাণ, ক্ষিতি অপ, তেজ, মরুৎ ,ব্যোম এই পঞ্চতন্মাত্ররূপ শক্তি
বিকাশের প্রতীক।
জগদ্ধাত্রী কে?
জগৎ কথার অর্থ যা নিত্য পরিবর্তনশীল। জগৎ অদৃশ্যভাবে কারণরূপে বীজাকারে থাকে।
অদৃশ্য অব্যক্ত ভাব আবার প্রকাশ হয় কার্য থেকে কারণরূপে,তাকেই বলে সৃষ্টি। নিত্য পরিবর্তনশীল জগতে প্রতিনিয়ত ধ্বংস ও সৃষ্টির ক্রিয়া চলছে। কত জীব
প্রতিদিন মরছে, তবুও জগতে জীবের অভাব নেই। বিধ্বংসী মহাপ্রলয়ের পরেও আবার নব বৃক্ষের পল্লবিত, কুসুমিত হয়ে ওঠার মত
সৃষ্টি ক্রিয়াও চলছে। নানা বিপরীত শক্তির অভিঘাতে পৃথিবী মাঝে মাঝে চরম দুর্গতির
মুখোমুখি হলেও সেই অনন্ত কাল ধরে এই সৃষ্টি প্রবাহ চলে আসছে। সেই শক্তি যা এই
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে রেখেছেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী। শ্রীরামকৃষ্ণ জগদ্ধাত্রীরূপের ব্যাখ্যা দিয়েছেন - তিনি বলেছেন, "জগদ্ধাত্রীরূপের মানে জানো? যিনি জগৎকে ধারণ করে আছেন।তিনি না ধরলে, তিনি না পালন করলে জগৎ পড়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। মনকরীকে যে বশ করতে পারে, তারই হৃদয়ে জগদ্ধাত্রী উদয় হন।"
পুরাণ কাহিনী
পুরাণে পাওয়া যায় দেবরাজ ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে বধ করার
কামনায় সর্ব প্রথম দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করেছিলেন। তারও বহু পূর্বে
কেনো পনিষদে উমা-হৈমবতীর কাহিনি পাওয়া যায়। মহিষাসুর বধ হওয়ার পর দেবতারা পুনরায় স্বর্গরাজ্যের অধিকার ফিরে পেলেন। দেবতারা মনে করলেন তাঁদের নিজ নিজ শক্তি সমন্বিত অস্ত্রশস্ত্র দান করার
ফলে দেবীদুর্গা প্রবল শক্তিশালিনী হয়েছিলেন। তাঁদের সমবেত শক্তি ছাড়া শুধু দেবীর পক্ষে এই জয়লাভ অসম্ভব ছিল।দেবতারা এই ভেবে মনে মনে খুব অহংকারী হয়ে উঠলেন। ব্রহ্ম ঠিক করলেন দেবতাদের শিক্ষা দেওয়া দরকার। সমস্ত কিছুর মধ্যে সে
আদ্যাশক্তি মহামায়া অনুস্যুত হয়ে রয়েছেন বলে সবই ক্রিয়াশীল – অথচ দেবতারা তা ভুলে গেছেন। ব্রহ্ম তাই যক্ষের রূপ ধরে দেবতাদের মধ্যে আবির্ভূত হলেন। দেবতারা দেখে বিস্মিত
হলেন কে এই মূর্তি! একে একে এগিয়ে গেলেন সেই যক্ষের কাছে।
প্রথম এলেন বায়ু। কে আপনি ? কী আপনার
পরিচয়? আমি বায়ু, মাতরিশ্বা আমার নাম। আমি
মুহূর্তে সব কিছু উলট পালট করে দিতে পারি। বিশাল গাছ থেকে পর্বত পর্যন্ত দূরে
ছুঁড়ে ফেলতে পারি। আচ্ছা আচ্ছা, বেশ বেশ। যক্ষ তখন একটা শুকনো ঘাস রেখে বললেন সেটিকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে।বহু চেষ্টা করেও
বায়ু একটুও সরাতে পারলেন না।এরপর এলেন অগ্নিদেব। তিনিও ছোট বড় নানা নাম বলে নিজের পরিচয় দিলেন। আমি সব কিছু পুড়িয়ে ধ্বংস
করে দিতে পারি। কিন্তু আস্ফালনই সার তিনিও সেই তৃণটিকে একটুও পোড়াতে পারলেন না। এইভাবে অন্য সব দেবতারাও একে একে ব্যর্থ হলেন।
তখন যক্ষ নিজ মূর্তি ধারণ
করে বললেন আমি ব্রহ্ম। গর্বিত দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হল।প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মশক্তির
শক্তিতেই সবকিছু শক্তিমান।ব্রহ্মশক্তির সাহায্য ছাড়া দেবতারাও কিছু করতে পারেন
না।কেনোপনিষদের এই কাহিনির সঙ্গে জগদ্ধাত্রীর আবির্ভাবের অনেক সাদৃশ্য পাওয়া যায়।পুরাণ কথার পাশাপাশি পরবর্তীকালে কিংবদন্তিও প্রচলিত রয়েছে।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
কিংবদন্তি অনুসারে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় এই পুজো প্রথম প্রচলন করেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ছিলেন শক্তির উপাসক।
সাধক ও কবি রামপ্রসাদ ছিলেন তাঁর রাজসভার সদস্য। একবার নবাব আলিবর্দি খাঁ খাজনা না
দিতে পারার অপরাধে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে গ্রেফতার করে মুঙ্গেরে একটি গৃহে বন্দী করে
রাখেন। সেই বছর ইংরেজরা মুঙ্গের আক্রমণ করে। তখন রাজা কৌশলে
কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।একটি মাছ ধরার ছোট নৌকোয় করে মুর্শিদাবাদ থেকে গঙ্গার উপর দিয়ে নৌকো করে
ফিরছিলেন নদীয়ায়।
আসতে আসতে নদীর দু’ধারে ঢাকের
শব্দ শুনে রাজার বুঝতে বাকি রইল না যে দুর্গা পুজোর বিসর্জনের বাজনা বাজছে। মনটা
ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। এবছর নদীয়ার রাজবাড়ীতে দুর্গা পুজোর অনুষ্ঠান না করতে পারায়
মহারাজ দুঃখে কাতর হলেন। এমন সময় দেবী দুর্গা জগদ্ধাত্রী মূর্তিতে দেখা দিয়ে একমাস
পরে কার্তিক মাসের শুক্লা নবমীতে পুজো করার নির্দেশ দেন।তিনি সেই মত স্বপ্নদৃষ্ট
দেবীপ্রতিমা নির্মাণ করিয়ে মহাধূমধাম সহকারে জগদ্ধাত্রী পুজো করেন।
কাহিনী
পণ্ডিতেরা এই পুজোর সময়কাল নির্ধারণ করতে প্রয়াসী
হয়েছেন অনেকে।রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাহিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বলে অনেকের
ধারণা। স্মৃতিকার রঘুনন্দন অবশ্য এই জগদ্ধাত্রী পুজোর উল্লেখ করেননি। কিন্তু তাঁর
থেকে প্রায় দু’শ বছর আগে শূলপাণি নামে আর এক স্মৃতিকার তাঁর
‘কাল বিবেক’ নামক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পুজোর উল্লেখ করেছেন। এরও আগে রচিত
স্মৃতিতে কার্তিক মাসে উমা পুজোর উল্লেখ রয়েছে। যাই হোক, এ দিক থেকে দেখলে মনে হয় জগদ্ধাত্রী পাঁচ ছ’শ বছরের বেশি পুরনো নয়। কোন কোন পণ্ডিতের মতে এটি বেদ উপনিষদের ধারার মতই
প্রাচীন। সেক্ষেত্রে কেনোপনিষদে উমা হৈমবতীর কাহিনি লক্ষ্য করেই তাঁরা একথা বলেন।
বাংলায় শুরুর কাহিনী
বাংলায় প্রধানত কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর
শুরু হলেও ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে নানা স্থানে। দুর্গা পুজো বা কালী পুজোর মত জগদ্ধাত্রী পুজোও পারিবারিক ও সার্বজনীন দু’ভাবেই হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের অনেক কেন্দ্রে এই
পুজো হয়ে থাকে। অবশ্য এর শুরুটা হয়েছিল জয়রামবাটীতে। শ্রীমা সারদা দেবীর গর্ভধারিনী শ্যামাসুন্দরী
দেবী এই পুজোর নতুন ভাবে প্রচলন করেন বলা যায়। এর পেছনেও রয়েছে একটি স্বপ্ন দর্শন। সেটি ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দের ঘটনা। মা সারদার জন্মস্থান
জয়রামবাটীতে গ্রামের লোকেরা সকলে একসঙ্গে মিলে কালী পুজো করেন। নিজেদের পুজো
ভেবে গ্রামবাসীরা যে যা পারেন কিছু কিছু সাহায্য করে থাকেন। এই ভাবে সমবেত
উদ্যোগে মায়ের পুজো আনন্দ সহকারে হয়।
সরল ও ধর্ম-বিশ্বাসী শ্যামা সুন্দরী
দেবী কালীপুজোর জন্য কিছু চাল দিয়েছিলেন। গ্রাম্য সংকীর্ণ বিবাদের ফলে সেই
চাল তারা না নিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন। ফলে শ্যামা
সুন্দরী দেবী পড়লেন মহা বিপদে। তিনি বলতে লাগলেন “কালীর জন্যে চাল করেছি, আমার চাল নিলে না।এ চাল আমার কে খাবে? এ কালীর চাল তো কেউ খেতে পারবে না।” রাতে স্বপ্ন দেখেন
দেবী জগদ্ধাত্রী সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “তুমি কাঁদছ কেন? কালীর চাল আমি
খাব, তোমার ভাবনা কী?’’
ভাবনার কারণ তো ছিলই। কারণ তখন মায়ের বাবার বাড়ির আর্থিক
অবস্থা এমন ছিল না যে, নিজেরাই এই পুজোর আয়োজন করেন। শ্রীমায়ের বাবা রামচন্দ্র
মুখোপাধ্যায় চাষ-আবাদ ও যাজন কাজ করে কোন রকমে সংসার
চালাতেন। প্রায় তিন বছর হল তিনি দেহ রেখেছেন। শ্রীমা তখন থাকেন দক্ষিণেশ্বরে
শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে। আর মায়ের ভাইরা তখন খুবই ছোট। জমি থেকে যে ধান পাওয়া যেত তাতে
সারা বছরের খরচ চলত না। মায়ের মা তখন খুব পরিশ্রম করে, প্রয়োজনে সঙ্গতি
সম্পন্ন প্রতিবেশীর বাড়িতে ধানভেনে দুঃখ কষ্টে দিন কাটাতেন। এরকম অবস্থায়
জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করা খুব সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু স্বপ্নে
দেবী দেখা দিয়েছেন।সেই দেবস্বপ্ন তাঁর মনে খুব গভীর
রেখা পাত করেছিল। ঠিক করলেন যে-ভাবেই হোক, যত কষ্টই হোক
পুজো করতে হবে।

যা হোক, শ্যামা সুন্দরী
দেবী স্বপ্নের কথা সবাইকে জানালেন। দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের
কাছে খবর এল। প্রতিবেশী বিশ্বাসদের থেকে ধান আনালেন। কিন্তু চাল করবেন
কী করে? রোজ এত বৃষ্টি হতে লাগল যে ধান শুকোতে পারছেন না। শেষে এমন হল
চারিদিকে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু আশ্চর্য ধানের চাটাইয়ে রোদ। দেবীর প্রতিমা কাঠের আগুণে সেঁকে শুকিয়ে রং করতে হল। এই ভাবে পুজোর
আয়োজন চলতে লাগল। বড় ছেলে প্রসন্নকে পাঠালেন দক্ষিণেশ্বরে জামাইকে নেমতন্ন করতে। সব শুনে ঠাকুর
বললেন, “মা আসবেন, মা আসবেন–বেশ বেশ, তাদের বড় খারাপ অবস্থা ছিল যে রে? এই আমার যাওয়া হল, যা, বেশ পুজো কর গে, বেশ বেশ, তোদের ভাল হবে।” শ্রীমা পুজোতে জয়রামবাটী এসে ছিলেন, তবে ঠাকুর আসেন নি।
বেশ ভাল ভাবেই মহানন্দে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে গেল। গ্রামের সমস্ত
লোকজনদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হল। প্রতিমা বিসর্জনের
সময় শ্যামাসুন্দরী দেবী জগদ্ধাত্রীর কানে কানে বলে দিয়েছিলেন “মা, জগাই, আবার আসছে বছর এসো। আমি তোমার জন্য
সারা বছর ধরে সব যোগাড় করে রাখব।”
শ্যামা সুন্দরী দেবী পুজো শুরু করলেও কার্যত পরের বছর
থেকে এই পুজোর ভার শ্রীমায়ের উপর বর্তায়। অবশ্য মা প্রথমে রাজি হননি, যে এই
পুজো পরের বছর হোক। তিনি বলে ছিলেন, এক বার কোনো
রকমে হোল, আর নয়। দরকার নেই, থাক। রাতে শ্রীমা স্বপ্নে দেখেন তিন জন
এসে হাজির, জগদ্ধাত্রী, জয়া আর বিজয়া। তাঁরা
বলতে লাগলেন, “আমরা
তবে যাব[যাই]?” শ্রীমা
তখন বললেন, “না মা, তোমরা কোথা যাবে? না, না, তোমরা কোথা যাবে, তোমরা থাক, তোমাদের যেতে বলিনি।” এই দেবস্বপ্নের পরে জগদ্ধাত্রী পুজো বছর বছর হতে থাকল। শ্রীমা যেখানেই
থাকুন এই পুজোতে জয়রামবাটীতে আসতেন। খুব ভক্তি নিষ্ঠা সহকারে পুজোর ব্যবস্থা
করতেন। কখনও মায়ের সন্ধ্যা রতির সময় নিজে চামর ব্যাজন করতেন। কখনও জোড় হাতে
দাঁড়িয়ে আরতি দেখতেন। মা সারদার নামে সংকল্প হয়ে সেই পুজো আজও জয়রামবাটীতে হয়ে আসছে।
মা সারদা জগদ্ধাত্রীরূপে
এখানে আর একটি ঘটনা স্মরণ করতে পারি। আশা করি
খুব অপ্রাসঙ্গিক হবে না। ভক্তদের বিশ্বাস মা সারদা স্বয়ং ছিলেন দেবী জগদ্ধাত্রী।ভোরের সূর্য যেমন একটি দিনের কিংবা কুঁড়ি যেমন একটি সম্পূর্ণ ফুলের পরিচয় সূচিত করে। দেবত্ব ও মানবত্বের অত্যাশ্চর্য মিশ্রণে
প্রস্ফুটিত হয়েছিল মা সারদার জীবন।
খুব ছোটো বেলায় একবার জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়
বালিকা সারদা জগদ্ধাত্রী প্রতিমার সামনে ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়েন। সেই অবস্থায় রামহৃদয় ঘোষাল নামে জনৈক স্থানীয় ব্যক্তি অনেকক্ষণ দেখেও ঠিক করতে পারছিলেন না - কোনটি
চিন্ময়ী আর কোনটি মৃন্ময়ী।তাঁর মনে হয়েছিল মাতৃ প্রতিমার
সঙ্গে ছোটো মেয়েটি যেন মিলেমিশে যাচ্ছে। কেবল আবেগ বা ভাবের উচ্ছাস নয়, এটিঘটনা।তিনি
জগদ্ধাত্রীরূপে মাকে দর্শন করে ধন্য
হয়েছিলেন। অনন্তরূপিণী মা সারদা দেবী হলেও
তিনি মানবী রূপেই নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
পরিশেষে
বলি, আসলে পুজো যেমন বাইরে প্রতিমাতে তেমনি অন্তরেও। আর সেখানেই পুজোর সার্থকতা। হৃৎপদ্মকে
রত্নবেদিকা মনে করে দেবীকে বসাতে হবে তার উপর।সুষুম্নার অমৃতরস দিয়ে ধুয়ে
দিতে হবে তাঁর রাতুল চরণকমল। মনকে করতে হবে অর্ঘ্য, চতুর্বিংশতি তত্ত্বাত্মক নির্মল
গুণগুলিকে পুজোর ফুল, নিঃশ্বাসবায়ুকে করতে হবে ধূপ।দেহের তেজ-বীর্য দিয়ে
জ্বালাতে হবে দীপ। মৃত্যুহীন আত্মা দিয়ে অমৃতরূপ
নৈবেদ্য সাজিয়ে ধরতে হবে সামনে। সহস্রারের সুধারসকে করে তুলতে হবে দেবীর আচমনীয়।
দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, দেহ অভ্যন্তরের গূঢ়তম প্রদেশে
দেবীভাব আরোপ করে তবে মাতৃপূজা।বাইরে যে দেবীপূজার ঘটস্থাপন করা হয় সে ঘটকে অন্তরের
বেদীতে স্থাপন করতে হবে। আকাশ হবে চামর, সূর্য হবে দর্পণ, চন্দ্র হবে ছত্র আর অনাহত ধ্বনি
হবে ঘণ্টা। সর্বব্যাপী বিরাটের ভাবনার দ্বারা কিছুটা ধারণা করা যাবে মা
জগদ্ধাত্রীর।এই বিরাটকে নিয়ে আসতে হবে দেহের গভীরে। দেহকে অবলম্বন করে চৈতন্যে পৌঁছনোই সমস্ত পুজোর আসল উদ্দেশ্য।©
🙏🏻🙏🏻 Ki opurbo Thakurer Bani--"monkori ke je bosh kortey parey, tarei hridoy e Devi Jagadhatri udoy hon"🌺🙏🏻. Ki je osadharon Gyanprapti holo ei lekhoni r madhoyomey, Achariyo Maharajji 🙏🏻, ta obornoniyo🌹🙏🏻. Amader ei chanchal mon ke swattik sadhana r prochestha r dwara ontormukhi korey hridoy e Swang Jagatopalonokari Ma Jagadhatri ke manashpujo korey, Maer Shree Choroney Kamoley nijekey samarpon korey dewai hobey asol pujo👏🙏🏻🙏🏻. Maharajii, onek onek ojana Gyanotattyo Aponer ei blog er lekhoni r madhyomey amra jantey perey otibo dhonnyo🙏🏻🙏🏻. Sotokoti vaktivora pranam grohon korun Achariyo Maharajji 🌺🌺🌻🌻🍀🙏🏻🙏🏻
ReplyDeletePranam Prabhuji, apurba bibaran Sri Sri Jagadhatri Ma (Ma Durga) pujar suru, Puraner kahini, o annyany sakal tatta/ bisay jene mugdha o samriddha holam. Jayrambati te ajo Sri Sri Ma Sarada Jagadhatri puja aki bhabe anushthita hoy. "Jay Ma Sarada Devi r Jay". Ma Jagadhatri, Ma Durga ri arek rup, jini jagat ke dharan o palan kare chalechen, sundar upakhyan ti pare khubi bhalo laglo. Apnar lekhati khubi sundar, Thakurer katha atyanta tatparjya purna, anek na jana itihas jana gelo, sab sundar bhabe apnar lekhay prakashita hoyeche, thanks. Amader antorik sradhya o kritagyata janai. Apnar anugata.
Delete🌹🌹🙏🏻🙏🏻🙏🏻🌹🌹
মা জগদ্ধাত্রীর বিষয়ে অনেক না জানা কথা জানতে পেরে ভালো লাগলো। ঠাকুর মা স্বামীজির আশির্বাদে আপনার মতো আচার্য গুরু মহারাজকে পেয়ে আমাদের জীবন ধন্য। শতকোটি প্রণাম জানাই আচার্য গুরুদেবের শ্রীচরণে 🙏🌷🌷🙏
Delete🙏🙏 অপুর্ব উপস্থাপনা, আমরা সত্যিই খুবই গর্বিত যে ঠাকুরের অশেষ করূনায় আপনার মত একজন আর্চাযের সান্নিগ্ধ লাভ করতে পেরেছি। প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ ।আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো। অনেক কিছু জানতে পারলাম। আরো অনেক কিছু জানতে চাই। মীনা সিনহা রাজারহাট
Deleteখুব ভালো লাগলো .প্রনাম মা সারদা জগধাত্রী ৷ প্রনাম মহারাজ জী ৷ রুনা পালিত
ReplyDelete
Deleteঅসাধারণ লেখনি খুবই ভালো লাগলো মা জগদ্ধাত্রী সমন্ধে কিছুই জানতাম না কত কিছু জানতে পারলাম ।
ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ 🙏🙏🙏।
মৌসুমী রায় কোচবিহার
Khub bhalo laglo sob kichu pore .Maharaj aponake pronam janai.
ReplyDeleteখুব সুন্দর মহারাজ 🪷🪷🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteঅপূর্ব।খুব ভাল লাগল। মা জগদ্ধাত্রী র 🙏🙏সম্পর্কে অনেক তথ্য জানলাম আপনার সান্নিধ্যে এসে। সশ্রদ্ধ প্রণাম গ্রহণ করবেন।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী। দক্ষিনেশ্বর।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো দেবী জগদ্ধাত্রী পূজার বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা শ্রী মা সারদা দেবী মায়ের জগদ্ধাত্রী পূজার কথা জানতে পেরে খুব ভালো লাগছে সাধু সঙ্গ করছি বলে এত কিছু জানতে পারছি জীবনটাই বৃথা হয়ে যেত যদি না আপনার শ্রী চরণে আসতাম ধন্য আমরা প্রণাম শিক্ষাগুরুদের শিখা মন্ডল বজবজ
ReplyDeleteজয় মা জগদদ্ধাত্রী কৃপাময়ী, 🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম মহারাজ আপনার লেখনীর দ্বারা কত অজানা তথ্য জানতে পারি।
মায়ের জগদদ্ধাত্রী রূপের বর্ননা হৃদয়পবিত্র স্পর্শ দিয়ে যায়।
🙏🙏
অর্পিতা বসু বাগবাজার।
🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম নেবেন মহারাজ আপনার লেখা থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম।
ReplyDeleteজয় মা জগদ্ধাত্রী জগজ্জননী রাতুল চরনে শতকোটি প্রণাম নাও মা।
ReplyDeleteমহারাজ অপূর্ব ব্যাখ্যার দ্বারা লেখাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।বার বার পড়ছি।
প্রণাম মহারাজ।
রুবী গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য। ইছাপুর।
খুব ভালো লাগলো জগদ্ধাত্রী মার চরণে আমার ভক্তিপূর্ন প্রণাম জানাই।
ReplyDeleteপ্রনাম নেবেন মহারাজ । আপনার লেখা পড়ে ভিষন ভাল লাগে কারন অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম । অসংখ্য ধন্যবাদ 🙏🙏🙏
ReplyDeleteSadhana Sharma from panchala, suprovat antorik shrodda vokti purno pronam neben moharaji, apnar lekha pore maa jagotdharti rupe maa sarodha devi aneak khatai janlam,besh valo lage apnar lekha porte ,sundor sakal sundor lekha pore valo laglo ,valo thakben moharaji.
ReplyDeletePronam Maharaj, Aapnar theke Ma Sharada ar JagadDhatri Pujo r shambandhe jante khub khushi hoychhi from Anjali Mandal and Sohini Mandal, Bangalore 🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম মহারাজ 🙏🙏 খুব সুন্দর এবং খুবই ভালো লাগে আপনার লেখা পড়ে। আপনি অনেক ভালো থাকবেন আমাদের জন্য ❤️❤️
ReplyDeleteঅনেক অজানা তথ্যে ভরপুর ।পড়ে ভাল লাগল। প্রণাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteসশ্রদ্ধ প্রণাম গ্ৰহণ করুন মহারাজ। আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক ,দার্শনিক দৃষ্টির সহকারে মা জগতধাত্রীর অপূর্ব বর্ননা। সম্বৃদ্ধ হলাম। 🙏🌺🙏🏵️🙏🌼🙏
ReplyDeleteঅনন্য সাধারণ লেখনী, আত্মজ্যোতি "আক্ষরিক অর্থেই আমাদের জীবনে এনেছে এক আলোকবর্তিকা,যার দিব্যজ্যোতির ছটায় আলোকিত করে তুলেছে আমাদের অন্তরাত্মা। আপনি এভাবেই আমাদের জীবনে জানা, অজানা তথ্য তুলে ধরে অবগাহন করাচ্ছেন এক জ্ঞানসমুদ্রে। কেবল জগদ্ধাত্রী পুজোর বিষয়ে না, একথা সমস্ত লেখা র ক্ষেত্রে ই প্রযোজ্য। ভালো থাকবেন, প্রনাম মহারাজ 🙏🙏🌹🌹 জী। শান্তা বিশ্বাস সাহা, দুর্গাপুর।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো মহারাজ প্রণাম নেবেন
ReplyDeleteMA Sarada r Jagadhatri pujo...
ReplyDeleteAsdadharn Lekha pore mugdh
holam... Bhison bhalo laglo... Bar bar Porlam... Anek ajana tathya jante parlam... Thakurer Katha, "Mon kori k j bosh korte pare, tari hriddoyei Debi
Jagadhatri Udoy hon"....apurbo... Joy Maa Sarada... Joy Maa jagaddhatri. 🙏🙏
Pranam Maharajji.. 🌺🙏🌺Jaya Choudhury...
ঠাকুর এর কৃপায় আপনার সান্নিধ্য পেয়ে আমরা গর্বিত ও নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি।আপনি ভাল থাকবেন মহারাজ। ইতিদাস। হাইদ্রাবাদ।
ReplyDelete"মা সারদার জগদ্ধাত্রী পুজো" -- অনেক অজানা কে জানলাম। জয় মা জগদ্ধাত্রী 🙏জয় মা সারদা 🙏। প্রণাম মহারাজ জী 🙏। অলকানন্দা মিত্র বাগবাজার।
ReplyDeletePronam Maharaj. Onek kichu jante parlam Ma Jagadhatri puja shamandhey ,khub bhalo laglo
ReplyDeleteভীষণ ভীষণ ভালো লাগলো জগদ্ধাত্রী মায়ের বিশদে বর্ণনা পাঠ করে! মহারাজ আপনার কৃপায় কত বিষয়ে জানতে পারছি! অপূর্ব! আপনার চরণে ভক্তি শ্রদ্ধা পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করছি মহারাজ!🙏🏵️🙏
ReplyDeleteঅসাধারণ লেখা। খুব ভালো লাগলো। জয় মা জগৎ জননী🌷💥🙏জয় গুরু আচার্যদেব মহারাজজী তব শ্রীচরণ পাদপদ্মে অন্তরের অন্তঃস্থলের ভক্তিপূর্ণ প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করি 🌷💥🙏
ReplyDeleteখুব খুব ভালো লাগলো জগদ্ধাত্রী পুজোর বর্ণনা মা সারদা দেবী মায়ের পুজোর ঘটনা জানতে পারলাম এই জন্যই ঠাকুর বলেছিল। সাধু সঙ্গ করতে আপনার মতন সাধুসঙ্গ করতে পারছি। এ আমাদের দুর্লভ জীবন। আপনার শ্রী চরণে এসে আমরা অনেক আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করছি এইটুকুই আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম শিখা মন্ডল বজবজ।
ReplyDelete🙏🪷🙏
ReplyDeleteজয় মা সারদা জয় জগদ্বাত্রী প্রনাম মাগো তোমার শ্রী চরণে ৷ প্রনাম মহারাজ জী ৷ রুনা পালিত ৷
ReplyDeleteখুব ভাল লাগল মা সারদার জগদ্ধাত্রী পূজো করা। জয় মা জগদ্ধাত্রী। জয় মা সারদা। প্রণাম নেবেন মহারাজ ।ভালো থাকবেন ।
ReplyDeleteমীনা সিনহা রাজারহাট
জয় মা জগদ্ধাত্রী 🙏পুজোর বর্ণনা শুনে খুব ভালো লাগলো জয় মা 🙏 আমার আন্তরিক ভক্তি পূর্ণ প্রনাম জানাই মহারাজের চরণে
Deleteজগদ্ধাত্রী পূজা সম্বন্ধে লেখাটি অপূর্ব লাগলো, বিশেষ করে শেষ বাক্যটি। দেহকে অবলম্বন করে চৈতন্যকে জানাই সমস্ত পূজার আসল উদ্দেশ্য। আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করবেন মহারাজ। 🌹🌹🙏🙏শুভ্রা লালা। দমদম।
ReplyDeleteলহো প্রণাম from budge budge soujonno nag.
ReplyDeleteJagatjanani Jagadhatrirupini Swang Mata Saradeswari pronomamohyom🌷🌷♥️♥️👏👏🙏🙏. Joy Thakur🌷🙏, Joy Swamiji 🌷🙏. Vaktivora pranam grohon korun Achariyo Gurudevo 🌻🌻🌷🌷🙏🙏. Eto opurbo osadharon Ma Jagadhatri r lekhoni goto botsorer moto aaj o porlam, Amritosudha r neyey bodh holo paath korey🌷🙏. Aponer ashroy e thekey amra evabey protitidin Adhyatmik Tattyobidhya prasadrupey peyey jacchi, otibo dhonnyo bodh hoi, Maharajji 👏🌷🌷🙏🙏. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷🌷🙏🙏
ReplyDeleteSakal theke sab kaj sere ...apnarlekhati porlam....ki asadharan Ma Jagadhatrir barnana...ato kichu jantam na ....thakyrer katha ..sree sree Ma.er katha...mon bhore gelo
ReplyDelete......
Joy Maa Jagadhatri...pranaJoy Maa jagadhatri...pranam nio Maa...🌹🙏🌹
Pranam maharajji...🙏🙏
Ma sarada jagadhatri...apurbo...
ReplyDeletePranam maharajji...🌹🙏🌹
মা জগদ্ধাত্রী সম্বন্ধে অনেক অজানা জ্ঞাত হল ।
ReplyDeleteজয়মা 🙏🙏🙏
আহা-- কি লেখা পড়লাম!!! "দেহের অভ্যন্তরের গূঢ়তম প্রদেশে দেবীভাব আরোপ করে তবে মাতৃপুজা"।জয় মা জগদ্ধাত্রী--যিনি এই জগৎকে ধারণ করে আছেন,জগতের শান্তিদাত্রী ও পালনকর্ত্রী রূপে--জয় মা সারদা🙏🙏🙏🌺🌼 প্রনাম শতকোটি🙏🙏🙏🙏🙏🌺🌼
ReplyDeleteজগদ্ধাত্রী পুজোর ঠিক আগে এমন একটা লেখা যা পড়তে গিয়ে চোখ বারবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে------🙏
শতকোটি প্রনাম মহারাজ জী 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
সুমিতা চক্রবর্তী, রামপুরহাট
Ma saroder jagadhatri puga pore anek kichu janlam
ReplyDeletePronam maharaj er charane 🙏🙏🙏
খুব ভালো লাগলো মায়ের মা শ্যামাসুন্দরী দেবীর প্রথম বার জগদ্ধাত্রী পূজার ঘটনা ।প্রণাম মহারাজ।🙏🙏
ReplyDeleteJoy ma sarada joy ma jagaddhatri 🙏❤ Maharaj apnar kalame jagaddhatri pujo r prasanga jante pere anek gavir adhyatkik tatwa jante parlum mankarike Singha rup vivek diye bash kare amtare ma jagatddhatri ke bashate habe🙏🙏
ReplyDeleteঅপুর্ব উপস্থাপনা প্রতিবারই নুতন ভাবে উদ্বুদ্ধ হই, মহারাজ জী আপনার লেখনীর যাদু তে সবই এতসহজে গ্রহন যোগ্য হয়ে যায়। আপনি সুস্থ থাকবেন। আমাদের প্রণাম নেবেন।
ReplyDeleteজয় মা জগদ্ধাত্রী 🙏🌷🙏
ReplyDeleteঅন্তরের স্বভক্তি প্রণাম শ্রদ্ধেয় মহারাজজী। শ্রীমা সারদা দেবী‘র জগদ্ধাত্রী পুজো সম্পর্কে আত্মজ্যোতি পেইজে আপনার চমৎকার লিখা পড়ে অনেক বিষয় অবগত হলাম।যেমন- বাহ্যরূপ বর্ণনায় পেয়েছি ধ্যানসিদ্ধঋষি‘র প্রত্যক্ষ অনুভবে, দর্শনে এই প্রতিমা। অনন্তকালের সৃষ্টির প্রবাহে, নিত্যই পরিবর্তনশীল এই জগৎ! শুম্ভ ও নিশুম্ভ বধের পর দেবতাদের স্তুতিতে... এই জগতকে ধারণ ও পালন করার নিমিত্তে তিনি জগদ্ধাত্রীরূপে আসেন কার্ত্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথিতে। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ মা জগদ্ধাত্রীরূপের ব্যাখ্যা দিয়েছেন খুব সুন্দর! ঠিক ঠিকই মনকরীকে যে বশ করতে পারে, তারেই হৃদয়ে জগদ্ধাত্রী উদয় হন। মহারাজ, সত্যিই আপনার লেখনীতে টেনে নিয়ে যায় অন্তর! দারুণ আগ্রহ জাগায় আরও পড়ার, জানারও থাকে অনেক, ভীষণ ভালও লাগে! মনটা প্রফুল্ল হয়। হৃদয় বিকশিত হয় আধ্যাত্মিকতার পথে। জয় দিব্যত্রয়ী‘র শ্রী চরণে আন্তরিক ভক্তিতে প্রণাম। সুজাতা দে। লন্ডন, ইউ.কে।
ReplyDelete