মৃত্যুরূপা কালী
--- স্বামী হরিময়ানন্দ
© Copyright Reserved
তন্ত্রমতে
মা কালী হল জগতের সব কিছুর কারণ। তাঁর ইচ্ছাতেই জগতের সৃষ্টি ,স্থিতি ও সংহার। নানা নামে ও
রুপে তাঁর প্রকাশ। দক্ষিণাকালী, নিত্যকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, শ্মশানকালী শ্যামাকালী, সিদ্ধকালী,ফলহারিণীকালী ইত্যাদি।
কালী শব্দে্র কী অর্থ
কালী শব্দ এসেছে কাল শব্দ থেকে। কালের স্ত্রী
লিঙ্গ শব্দ কালী। যার অর্থ কৃষ্ণ বর্ণ বা ঘোর বর্ণ। দশ মহাবিদ্যার অন্যতম রূপ হল কালী।স্বামী কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ নামে এক তন্ত্র সাধক বাংলায় প্রথম কালী মূর্তির ও পূজার প্রচলন করেন বলে
জানা যায়। এর আগে মা কালীর উপাসকরা তামার পটে বা এঁকে সাধনা করতেন। অষ্টাদশ
শতাব্দীতে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র মায়ের পুজোর প্রচলন করেন। ক্রমে এই পুজো ব্যাপক
ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্গাপুজোর পর অমাবস্যাতে দীপান্বিতা কালী পুজো
করা হয়। শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করার জন্য দেবতারা আদ্যাশক্তি মহামায়ার তপস্যা করেন।
দেবী সন্তুষ্ট হয়ে কৌশিকী রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনিই কালী।
কালী কি সত্যিই ভয়ঙ্করী
'মৃত্যুরূপা' কালী বললে কালীকে এক
ভয়ংকরী মূর্তি বলে মনে হয়। যদি মৃত্যুর স্বরূপ সম্পর্কে ধারণা
থাকে তবে আর ভয় পাবো না। মৃত্যু বলতে আমরা বুঝি দেহের একটা বড় রকমের পরিবর্তন। শৈশব, কৈশোর যৌবন বার্ধক্য এই সব সোপান হল দেহের বুকে মহাকালের
আঁকা চিহ্ন। মৃত্যুও তেমনি একটি চিহ্ন। জীবন ও মৃত্যু মূলত ভিন্ন ঘটনা নয়। একই ঘটনার ভিন্ন
রূপ। যৌবনে পা দিয়ে আমার শৈশব বা কৈশোরকে যেমন অস্বীকার করতে পারি না, আবার বার্ধক্যে উপস্থিত হয়ে যদি যৌবনকে অস্বীকার না
করি তবে বার্ধক্যের পরবর্তী যে অবস্থা, যাকে আমরা সাধারণত
মৃত্যু বলি তাকে অস্বীকার করি কী
করে।
যদি বার্ধক্যে
এসে হারিয়ে যাওয়া যৌবনের জন্য হাহুতাশ না করি তবে বার্ধক্যে এসে মৃত্যুর কল্পনা করে
ফুরিয়ে যাওয়া জীবনের জন্য দুঃখ করি কেন? মৃত্যুর মধ্যে
তাই ভয়ের কিছু নেই। তখন মনে হয় ‘মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান’। শ্যাম আর শ্যামাতে
কোন তফাৎ নেই। মৃত্যুকে সেই জয় করতে পারে যে মা কালীর আশ্রয় লাভ করে। একমাত্র মরণজয়ী
মানুষই পারে যে কোন কাজ নির্দ্বিধায় করতে। যাঁরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে জন্ম-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করতে পেরেছেন – সেই ত্যাগব্রতীরাই হন মৃত্যুঞ্জয়।
মা কালীর গলায় আছে মুন্ডমালা। জীবের অন্তিম সময়ে মা তাঁকে নিজের
দিকে আকর্ষণ করেন। তাই মায়ের গলায় মুন্ডমালা। পঞ্চাশটি মুণ্ড আবার বর্ণমালার পঞ্চাশটি
বর্ণের প্রতীক।
স্বামী
বিবেকানন্দ কাশ্মীর ভ্রমণের সময় অত্যন্ত ভাবস্থ হয়ে Kali the Mother নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। কবি সত্যেন্দ্রনাথ
দত্ত তার সার্থক অনুবাদ করেছেন। ওই কবিতার শেষের দুটি লাইনে বলা
হয়েছে। ‘সাহসে যে দুঃখ দৈন্য চায়, মৃত্যুরে যে
বাঁধে বাহুপাশে কাল-মৃত্যু করে উপভোগ, মাতৃরূপা তারি কাছে আসে।
জীবন-মরণের এই সন্ধিক্ষণে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে
হলে মৃত্যুকে ভয় পাওয়া নয়, বরং জানতে হবে মৃত্যুর স্বরূপ। পার্থিব জগত
ও জীবনের ক্ষণিক স্থায়িত্বের যত বেশি চিন্তা করতে পারব তত দ্রুত আমরা আত্মসুখী হয়ে ভূমানন্দ
লাভ করতে পারব।
মৃত্যু আসলে কী
কেন আমরা কেউ মরতে চাই না? তার কারণ আমরা চাই এমন এক অনন্ত জীবন যার কোন দিন সমাপ্তি
নেই। কিন্তু সেই জীবন সহজে লাভ করা যায় না। বাহ্য জগতের চাকচিক্যে যতদিন প্রলুব্ধ হব এই জীবন লাভ করতে পারব না। তাই বার বার সংসারের ঘাত প্রতিঘাত ও মৃত্যুর
চিতাগ্নিতে দগ্ধ হতে হতে নিজেকে শুদ্ধ পবিত্র করে তোলার প্রয়াস। যেমন বার বার
আগুণে পুড়িয়ে সোনার ভেতরের মলিনতাকে দূর করা হয় তেমন শ্মশানের আগুণে দগ্ধ না হলে মানুষের
দিব্য চৈতন্যের বিকাশ হয় না। চিতানলের পবিত্র স্পর্শে তিনি আমাদের
খাঁটি করবেন বলেই বার বার সংসারে নিয়ে এসে মৃত্যুপাশে আবদ্ধ করেন। মৃত্যু তাই জগন্মাতার স্নিগ্ধ কোলের মত।
মা হলেন আদ্যাশক্তি। এই ব্রহ্মাণ্ড তাঁর ইচ্ছাতেই
চলছে। সৃষ্টি ও সংহার তাঁরই হাতে। সং হার কথার অর্থ ধ্বংস বা বিনাশ নয়। সং হরণ
মানে নিজের ভেতরে আকর্ষণ। মাকড়সা যেমন নিজের গর্ভ থেকে জাল রচনা করে নিজের মধ্যেই
গুটিয়ে নেয়। অথবা যেমন সমুদ্রের উর্মিমালা সমুদ্রের বুক থেকে ওঠে আবার সমুদ্রেই
মিলিয়ে যায়। মৃত্যুর অর্থ পৃথিবী থেকে , নিকট মানুষের নিকট থেকে বিদায় নেওয়া ঠিক,
কিন্তু সেই জগত জননীর কোলে চির আশ্রয় গ্রহণ করা।
শিবের বুকে দাঁড়িয়ে কেন?
এখানে মা কালী শবরূপী শিবের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
শব হল স্থির বা নীরব। আর কালী হলেন গতির প্রতীক। মৃত্যুরূপ শিবের উপর স্বয়ং
জগন্মাতা। এর অর্থ হল মা মৃত্যুকে জয় করেছেন।
আলোর উৎসব
আবার আশ্বিনের সংক্রান্তি থেকে কার্তিক মাস ব্যাপী
আকাশ প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যেমে অশুভ শক্তিকে বিতাড়িত করার চেষ্টা নিহিত রয়েছে। এই
আলোক উৎসব প্রায় সারা দেশেই কোন না কোন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, চীন,
জাপান সহ অনেক দেশে আসন্ন বিপদ থেকে মুক্ত হতে, বা অশুভ শক্তি দূর করতে, নতুন বছরের
শুভ সূচনা করতে বা প্রয়াতদের অমৃতধামে যাত্রার
পথ প্রদর্শক রূপে দীপাবলির মতো আলো দিয়ে সাজানো হয়।
উপনিষদে আমাদের অসৎ থেকে সৎ- এ নিয়ে যাওয়ার জন্য,
অন্ধকার থেকে আলোতে এবং মৃত্যু থেকে অমৃতত্বে যাওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। পরলোকগত
স্বজন ও বন্ধুগণ যাতে ভয়ঙ্কর অন্ধকার অতিক্রম করে অমৃতধামে যেতে পারেন তার জন্য ঐ দিন
রাতে নদীর জলে জলন্ত প্রদীপ ভাসানোর প্রথা বাংলার কোন কোন জায়গায় দেখা যায়।
দীপাবলি বা দেওয়ালী কী?
বড় দিনের উৎসবে ক্রিস্টমাস ট্রির গায়ে যে আলো ঝোলানো
হয়, তা দীপাবলির ভিন্নরূপ হতে পারে। পুরাণ
ও ইতিহাসের দৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হয় যে, কার্তিক কৃষ্ণা অমাবস্যার রাতে রাবণ
বধ ও লঙ্কা বিজয় সম্পন্ন করে রামচন্দ্র সীতাদেবীকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে দীপাবলি বা দেওয়ালী
অনুষ্ঠান হয়। সব কিছু মিলিয়ে অন্ধকার থেকে আলোকময় প্রজ্জ্বলিত অনুষ্ঠানকে আলোর পথে
যাত্যরার সূচনাই দীপাবলি বা দেওয়ালী বা দিপান্বিতা অমাবস্যা।
দক্ষিণকালী ধ্যানমন্ত্র
ওঁ করালবদনাং ঘোরাং
মুক্তকেশীং চতুর্ভুজাম্ ।
কালিকাং দক্ষিণাং দিব্যাং
মুন্ডমালাবিভূষিতাম্।।
সদ্যশ্চিন্নশিরঃ খড়গবামাধোর্দ্ধক
রাম্বুজাম্ ।
অভয়ং বরদঞ্চৈব দক্ষিণোদ্ধার্ধপাণিকাম্।।
মহামেঘপ্রভাং শ্যামাং
তথা চৈব দিগম্বরীম্ ।
কন্ঠাবসক্তমুন্ডালী-গলদ্রুধিরচর্চিতাম্
।
কর্নাবতংসতানীতশ বযুগ্মভয়ানকাম্
।।
ঘোরদ্রংষ্টাং করালস্যাং
পীণোন্নতপয়োধরাং
শবনাং করসংঘাতৈঃ কৃতকাঞ্চীং
হসন্মখীম্ ।।
সৃক্কদ্বয়গলদ্রক্ত-ধারাবিস্ফুরিতাননাম্
।।
ঘোররাবাং মহারৌদ্রীং
শ্মশ্মানালয় বাসিনীম্ ।
বালার্কমণ্ডলাকা রলোচনত্রিয়ান্মি
তাম্ ।।
দস্তুরাং দক্ষিণব্যপিমুক্তালম্বিকচোচ্চয়াম্
।
শবরূপমহাদেবহৃদয়োপরি
সংস্থিতাম্ ।।
শিবাভির্ঘোররাবাভিশ্চতুর্দিক্ষু
সমন্বিতাম্ ।
মহাকালেন চ সমং বিপরীতরতাতুরাম্ ।।
সুখপ্রসন্নবদনাং স্মেরানন
সরোরুহাম্ ।
এবং সঞ্চিন্তেয়ৎ কালীং
সর্বকামার্থমোক্ষদাম্।।
বাংলা অর্থ -
দক্ষিণকালী করালবদনা ঘোরা,
মুক্তকেশী ও চতুর্ভুজা, দিব্য জ্যোতি সম্পূর্ণা দেবী মুন্ডমালা ধারিণী । মায়ের
বামদিকের নিচের হাতে সদ্যচ্ছিন্ন মুন্ড, উপরের বাম হাতে খড়গ । ডানদিকের উপরের হাতে
অভয় এবং নিচের হাতে বরমুদ্রা ধারণ করে রয়েছেন । মায়ের গায়ের রং কালো মেঘের প্রভার
মত শ্যামা । তিনি দিগম্বরী মানে বস্ত্রহীনা। তাঁর গালার মুন্ডমালা গুলো থেকে বের
হওয়া রক্ত মায়ের দেহকে রন্জিত করছে। দুটি শবশিশু তার কর্ণভূষণ হওয়াতে দেবীকে
ভয়ঙ্করী দেখাচ্ছে ।
তিনি তার
করাল দন্ত দিয়ে নিজের জিহ্বা তে কামড় দিয়ে রয়েছেন। হাতের মালা তিনি কোমরে বেঁধে রেখেছেন । তিনি মৃদুহাসি হাসছেন। মায়ের মুখ থেকে রক্তের ধারা বের
হচ্ছে আর মুখে অনন্ত কোটি সূর্যের
তেজ বিদ্যমান । তিনি অতিশয় ক্রোদ্ধা, ভয়ংকর নাদকারিণী। মায়ের তিনটি চোখ আর সেই
সকালের সূর্যের মত লালপ্রভাময় । দেবী শবরূপ মহাদেবের হৃদয়ের ওপরে দাড়িয়ে রয়েছেন।
মায়ের চারদিকে শেয়ালের দল চিৎকার করছে । তিনি মহাকালের সাথে বিপরিতরাতুরা, সুখ প্রসন্ন মুখ তার। তিনি মোক্ষদায়িনী এবং সকল
ইচ্ছাপূরণকারিণী ।
শ্রীরামকৃষ্ণের কালীসাধনা
বর্তমান যুগে শ্রীরামকৃষ্ণদেব মাতৃ আরাধনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছেন।
মন্দিরের মা ভবতারিণী, তাঁর জন্মদাত্রী জননী এবং সহধর্মিণী শ্রীমা সারদাদেবী তাঁর
দৃষ্টিতে ছিল একই জগন্মাতার রূপ। কেবল তাই নয় তিনি শ্রীমা সারদাদেবীকে মাতৃ জ্ঞানে পূজা
করেছেন। ১২৮০ সালের জ্যৈষ্ঠ্মাসের অমাবস্যাতে ফলহারিণী কালী পুজোর রাত্রে নিজ
পত্নীকে জগদম্বারূপে পূজা করেছেন।
সমস্ত আঙ্গিক মেনে পুজো সুসম্পন্ন হওয়ার পর ভোগ নিবেদন করলেন। মায়ের পায়ে আলতা, কপালে সিন্দুর, নতুন বস্ত্র
নিবেদন করলেন। গলায় সুগন্ধি ফুলের ও জবা-বেলপাতার মালা পরিয়ে দিলেন। নিজের হাতে ফল,
মিষ্টান্ন, পানীয়, পান প্রভৃতি কিছু কিছু খাইয়ে দিলেন। দেখতে দেখতে সম্পূর্ণ
বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে শ্রীমা সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন। পূজক ও পূজিতা আত্মস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত। দিব্য ভাবের আবেশে ধীর
স্থির সমাহিত। প্রায় সারা রাত এইভাবে কেটে গেল। বাইরে ফলহারিনী কালী পুজোর কোলাহল, ভজন কীর্তনের শব্দ, দরজা বন্ধ
থাকায় ভেতরে একটুও পৌঁছল না। রাত দ্বিপ্রহরের পর জ্ঞান ফিরলে ঠাকুর তাঁর বিভিন্ন সময়ে সাধনার জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং জপের রূদ্রাক্ষ
মালাটিও
মায়ের চরণে অঞ্জলি
দিয়ে আত্মোৎসর্গ করলেন,
‘বলিলেন বার বার, যাগ যজ্ঞ তপাচার,
সাধন ভজন সমুদায়।
করম কাণ্ডের মালা, আজ হৈল শেষ খেলা,
সকল সঁপিনু দুটি পায়’।।
এই সমর্পণই সাধকের চির কাঙ্ক্ষিত আত্মনিবেদন।
শ্রীরামকৃষ্ণের
এই পুজোতে প্রচলিত রীতি থেকে দুটি ব্যতিক্রম লক্ষ্য করার মত। ঘট, পট বা প্রতিমাতে
পুজো না করে তিনি মানবীতে আদ্যাশক্তির পুজো করলেন। দুর্গা পুজোতে কুমারীতে মায়ের
আবির্ভাব কল্পনা করে পুজোর রীতি থাকলেও কালী পুজোতে তা সাধারণতঃ হয় না। কিন্তু মা
সারদার দেহ-মন অবলম্বন করে বিশ্বব্যাপী মাতৃত্ব শক্তির বিকাশ ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের
অভিপ্রায়। তাই তো তিনি অবগুণ্ঠনবতীর
অবগুণ্ঠনের আড়ালে সঞ্চিত শক্তির দ্বার উন্মোচন করে দিলেন। স্পষ্টভাবে বলছেন
‘ ও সারদা- সরস্বতী – জ্ঞান দিতে এসেছে। এ জ্ঞানদায়িনী, মহাবুদ্ধিমতী।
ও কি যে সে! ও আমার শক্তি! কাজেই এই
মহাশক্তির বিকাশের জন্য শ্রীমায়ের জীবন্ত প্রতিমা যে সর্বশ্রেষ্ঠ আধার, এ বিষয়ে
কোন সন্দেহ নেই। সকল নারী জাতির প্রতি মাতৃভাব জাগরণের জন্য এই প্রতিকী পূজার আয়োজন।
দ্বিতীয় ব্যতিক্রম হল তিনি ফলহারিণী দক্ষিণামূর্তির পুজো না করে করলেন
ষোড়শী পুজো। এর দ্বারা রামকৃষ্ণ-সংঘের
পরম্পরা অনুযায়ী অধিষ্ঠাত্রী দেবীর অভিষেক সূচিত হল। শ্রীমা হলেন রামকৃষ্ণ সংঘের
সংঘ-জননী। পুরী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীদের একটি পরম্পরা খুঁজে পাওয়া যায়। শ্রীরামকৃষ্ণ সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন গুরু শ্রীমৎ তোতা পুরীর কাছ থেকে।
তিনি ছিলেন শংকরাচার্যের প্রতিষ্ঠিত দশনামী সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী।পুরী
সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীরা ছিলেন শৃঙ্গেরী মঠের অন্তর্গত। এই মঠের পীঠদেবী হলেন
কামাক্ষী। কামাক্ষী ও ষোড়শী একই।
যেকথা
বলছিলাম। মৃত্যু হল জীবনের সব চেয়ে
নিশ্চিত ঘটনা। পৃথিবীর অন্য সব কিছু মিথ্যা হলেও মৃত্যু ধ্রুব, চির সত্য। বাস্তব
অভিজ্ঞতার দ্বারা জানতে পারি যদি কোন বস্তু এক সময় ছিল না কিন্তু পরে উপস্থি্ত
হয়েছে, কোন না কোন সময় সেই বস্তু আর থাকবে না। বিনাশ ঘটবেই ঘটবে। এটাই মৃত্যু। তাই
জীবনের জয়গান গাইতে হলে মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায় না। গীতাতে বলা হয়েছে – ‘জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুঃ’ – জাত জীবের
মৃত্যু হল ধ্রুব সত্য। কবি কন্ঠেও উচ্চারিত হয়েছে –‘জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে’।
আধুনিক
মনস্ক শিক্ষিত মানুষ মৃত্যু নিয়ে বেশি মাথা ঘামান না। বরং আমরা যতটা পারি এই বিষয়ে কম চিন্তা করি। এই উদাসীন
দৃষ্টিভঙ্গী এক প্রকার আত্মপ্রবঞ্চনা। অনেকে আবার মনে করেন মৃত্যু চিন্তা মানুষকে
দুর্বল করে। কিন্তু মৃত্যু রয়েছে বলেই জীবন এত সুমধুর ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভয় নয়
বরং শিখতে হবে মৃত্যুকে জয় করতে। অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়। ©Copyright Reserved

অপূর্ব অপূর্ব মা কালী রুপো বর্ণনা এত সুন্দর ভাবে লিখেছেন জানতে পেরে খুব ভালো লাগবে। আপনার কাছে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি এজন্য আমরা ধন্য সাধু সঙ্গ এত মধুর আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম। শিখা মন্ডল বজবজ।
ReplyDeletePronam maharaj ji khub Valo laglo kakimar bisoya sobjanalam maa sober Mongol korukn. Eai parthona kori pranam maharaj ji
Deleteপূজনীয় মহারাজ,
Deleteআবারও আপনাকে অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আপনার চৎকার লেখনী বারবার পড়া সত্বেও নতুন করে মনে আনন্দ জাগায়।
ভবতারিণী- শ্রীশ্রীমা আমাদের ঠাকুরের মা তাই আমাদেরও মা। এটা ভেবেই আনন্দলাভ করি। জয় মা🌺🙏
ভালো থাকবেন। জয় হোক আপনার। প্রণাম নেবেন।🌹🙏 নন্দিতা ব্যানার্জী। যাদবপুর 🙏
সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ অপূর্ব সুন্দর মা কালীর রূপ বর্ণনা পড়ে খুব ভালো লাগলো
Deleteমৌসুমী রায় কোচবিহার
মহারাজ সশ্রদ্ধ ভক্তি পূর্ণ প্রনাম নেবেন🙏 অনেক কিছু জানতে পারছি আপনার জন্য। আপনি ভাল থাকবেন। প্রনাম।
ReplyDeleteAparna Roy chowdury Delhi
ReplyDeleteAsdharan asdharan.... Ajker Lekha.. "mrituyu Rupa kali"ki
ReplyDeleteSunder bhabe barnana diyechen... Mon bhore gelo... Bhison bhalo laglo
........
Maharajji...
Pranam neben. Jayachoudhury
অপুর্ব লেখা। প্রনাম মহারাজ।
ReplyDelete🌺 জয় মা🌺
ReplyDelete🙏🏻🙏🏻🙏🏻
Sadhana Sharma, excellent 👌 👏 pronam neben moharaji shuvo dipaboli
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ সাধু সঙ্গ খুব দ্রুলভ। তার প্রমান আমরা পাচ্ছি ।আজ কত কিছু জানতে পারলাম খুব ভালো লাগলো । আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আন্তরীক শ্রদ্ধা ও প্রণাম নেবেন ।
ReplyDelete🙏🙏🙏🙏
ReplyDelete🙏🙏 মহারাজ অনেক কিছু জানতে পারছি আপনার জন্য। ভালো থাকবেন। রীতা নাগ দক্ষিনেশ্বর
ReplyDeleteJoy Ma Vabatarini, Saktirupini, Sangharokarini rupini Ma Sarada🌺🌺🌻🌻🌷🌷🌿🌿🙏🏻🙏🏻. Opurbo Ma Kali r Tattvagyan bekhya, Maharajii Aponer ei lekhoni r madhyomey siksha prapti korey 🙏🏻🙏🏻. Bisesh korey aaj ei Subho Ma Kali pujo r sandhikhon e Maer purnango ek dharona peyey amra otibo dhonnyo, Maharajji 🙏🏻🙏🏻. Subho Dipawali antorik vaktivora Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌷🌷🌿🌿🙏🏻🙏🏻.
ReplyDeleteঅন্তরের শ্রধ্যা সহ শতকোটি প্রণাম আপনার চরণে,আপনার লিখন মন ভরিয়ে দেয়,অনেক কিছু জানতে পারছি।
ReplyDeleteরমা ঘোষ (সল্ট লেক)
Shrodhdhyeo Maharaj er opurbo lekhoni te mon pran bhore gelo🙏🙏🙏
ReplyDeleteAnjana Mukherjee
খুব ভাল লাগল। অপেক্ষা করে থাকবো। আরো অনেক কিছু জানতে। প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
Deleteমীনা সিনহা ।রাজারহাট ঘোষ পারা
জয় মা 🌺💥🙏
ReplyDeleteপ্রানের প্রণাম ও অফুরন্ত ভালোবাসা, ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের সকলের প্রিয় গুরু আচার্যদেবের শ্রীচরণ পাদপদ্মে 🌺💥🙏 অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারছি।
আপনার লেখা পড়ে মাকালীর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম আরো অনেক কিছু জানতে চাই। অপেক্ষা করে থাকবো। প্রণাম নেবেন মহারাজ ।
DeleteShuvo dipaboli moharaj , apnar lekha amader khub utsaheto kore ma kali r somporke ato tothyo jante pera dhonyo holam pronam neben ,, asima batabyal howrah shibpur
ReplyDeleteAsadharan laglo maharaj ji. Mrityu Rupa Kali samondhe apni eto sundar barnona korechen satti amra apluto. Onek kichu jaante parchi maharaj ji apner sathe jukto howate. Sadhu sangho saber jibone asena. Ami mone kori amar jobon dhonno. Pronam neben maharaj ji🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteRanjita Mazumder, New Delhi
আপনার লেখা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারি, খুব ভালো লাগে। প্রনাম নেবেন মহারাজ🙏🙏🙏🙏🌺🌺🌺
ReplyDeleteমা কালীর রূপের বর্ণনা এতো সুন্দর করে আগে কখনও বুঝিনি । বুঝিনি এতো সুন্দর ভাবে কালীতত্ত্বও।এ আমাদের বহুজন্মের বহু কর্মের পুন্যফল অবশ্যই। আপনার মতো দেবতাসম মহারাজের কৃপা পেয়ে আমরা আপ্লুত।
ReplyDeleteজয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পূর্ণ ব্রহ্ম নারায়ণ 🙏🌷🙏 জয় মা সরস্বতী সারদা দেবী 🙏🌷🙏
জয় স্বামীজি বীরশ্রেষ্ঠ বীরেশ্বর যুগোনায়ক যোগেশ্বর 🙏🌷🙏
এই রকম আরো লেখা চাই আপনার কাছ থেকে।
যে জ্ঞান রাশি আপনি উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছেন তা যেন ধারনের যোগ্য হয় উঠতে পারি।
জয় মা কালী 🙏🌺🌿🙏🌺🌿🙏🌺🌿
দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏
প্রনাম ঠাকুর,মা,স্বামিজী।প্রনাম মহারাজ।অজানাকে সম্যকরুপে জানার নামই হোল আসল শিক্ষা লাভ।
ReplyDeleteপ্রনাম।
শত কোটি প্রনাম মহারাজ , আপনার লেখনীতে শ্রীশ্রী কালী মায়ের রূপ ও তত্ব সুন্দর ভাবে বর্ণিত হয়েছে পড়ে খুব ভাল লাগলো ! আরও নতুন জানার আশা রাখি , ভবিষ্যতে লেখা পাব ৷ ভাল থাকবেন ৷মীনা বোস দমদম
ReplyDelete🙏🙏প্রণাম মহারাজ। খুব সুন্দর লাগে আপনার লেখা পড়ে। খুব ভালো থাকবেন ❤️❤️
ReplyDelete