শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ ।। SWAMI NIRANJANANANDA ।। by Swami Harimayananda



                            স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

                                 


                             
                                                                                                                                                           -- স্বামী হরিময়ানন্দ


রাখী পূর্ণিমাতে
পুণ্য আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে 

নাস্তিমায়াঞ্জনংযস্যরঘুবীরপরাক্রমম্ ন্যাসিনাঞ্চবরিষ্ঠংবৈবন্দেভক্ত্যানিরঞ্জনম্।।

 ©

শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর কোন কোন অন্তরঙ্গকে বিশেষ থাকের বলে নির্দেশ করেছেন। স্বামী নিরঞ্জনানন্দকে বলতেন ঈশ্বরকোটিবলতেন তিনি রামচন্দ্রের অংশে অবতীর্ন হয়েছেন। এই রকম উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন মহাপুরুষ রাজারহাট বিষ্ণুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি কলকাতার মধ্যে বিবেচিত হলেও তখন এটি অবিভক্ত চব্বিশ পরগণা জেলার একটি অনুন্নত গ্রাম ছিল। ১৮৬২ সালে শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জন্ম গ্রহণ করেন।  তাঁর পূর্বের নাম ছিল নিত্যনিরঞ্জন ঘোষ। পিতা ছিলেন অম্বিকাচরণ ঘোষ। মায়ের নাম জানা যায় না। এই বংশের আদি পুরুষ হলেন শ্রীরামরাম ঘোষ। নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রামরাম ঘোষকে রাজারহাটে জমিদারীর দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন।  বংশানুক্রমে ঘোষ পরিবার এই জমিদারী পরিচালনা করতেন। বারাসতে পণ্ডিত কালীকৃষ্ণ মিত্র ছিলেন নিরঞ্জনের মামা। মামার বাড়িতে থেকেই ছোটবেলায় তিনি লেখাপড়া করতেন। ছেলেবেলায় তীরধনুক ও অস্ত্রাদি নিয়ে খেলতে ভালবাসতেন। সুন্দর সুঠাম, বলিষ্ঠ ও তেজঃপূর্ণ শরীর ছিল তাঁর।

ছাত্র অবস্থাতে তিনি একটি প্রেততত্ত্ব নিয়ে কাজ করে এমন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েনদলটি ভূত বশীকরণের দ্বারা  মানুষের দুরারোগ্য অসুখের নিরাময় করতেন। সরল প্রকৃতি নিরঞ্জনের উপর ভূতের আবেশ খুব সহজে হত। তাই তিনি মিডিয়ম হিসাবে কাজ করতেন। ভূতুড়েদের দলে কাজ করার সময় নিরঞ্জনের মনে এক দিনের একটি ঘটনা বিশেষ বৈরাগ্যের উদ্রেক করে। এক ধনশালী ব্যক্তি  দীর্ঘ আঠার বছর অনিদ্রা রোগে ভুগে অবশেষে নিরঞ্জনের শরণাপন্ন হয়েছিলেননিরঞ্জনের ব্যবস্থাতে সেই ব্যক্তির রোগ উপশম হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু এই ঘটনার ফলে সরল বালক নিরঞ্জনের মনে তীব্র বৈরাগ্য উপস্থিত হয়েছিলজীবনে ধন সম্পদের গুরুত্ব যে কত তুচ্ছ সে বিষয় মনে গভীর রেখাপাত করেছিল

       শ্রীরামকৃষ্ণ তখন থাকতেন দক্ষিণেশ্বরে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত কালী বাড়ীতেতাঁর অদ্ভুত ঈশ্বর নির্ভর জীবন ও সহজ সরল ব্যবহার  সম্বন্ধে তখনকার কলকাতার অনেকেই জানতেন। লোক মুখে ঠাকুরের কথা শুনে তাঁকে দেখার জন্য নিরঞ্জন খুব ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে এলেন দক্ষিণেশ্বরে। তখন তাঁর বয়স প্রায় আঠার বছর।

    শ্রীরামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে



১৮৮১-৮২ সালের কোন একদিন নিরঞ্জন দক্ষিণেশ্বরে আসেন শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তখন সন্ধ্যা হয় হয়। অন্যান্য ভক্তদের বিদায় দিয়ে ঠাকুর তাঁর প্রিয় শিষ্যকে একান্তে বসিয়ে অনেক কথা বলেন। যেন কত কালের পরিচিত। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলেন যে তিনি আহিরীটোলার  প্যারীচাঁদ মিত্রের বাড়িতে একটি ভূতপ্রেত নামানোর দলে মিডিয়ম হিসাবে কাজ করেন। কারণ তাঁর উপর ভূতের আবেশ খুব সহজে হয়ভূতের আবেশের দ্বারা এই দলটি লোকের নানা রকম দুরারোগ্য রোগ নিরাময় করত।

প্যারীচাঁদ মিত্র পত্নী বিয়োগের পর প্রেততত্ত্ব নিয়ে চর্চা শুরু করেন। এর সঙ্গে তখন অনেকেই যুক্ত ছিলেন তাঁদের মধ্যে ইন্ডিয়ন মিরর পত্রিকার সম্পাদক নরেন সেন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর,রাজনারায়ণ বসু প্রমুখ।

তাঁরা প্ল্যানচেটের সাহায্যে মৃত ব্যক্তির আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। একাজে সাহায্য করতেন একজন মিডিয়মনিত্যনিরঞ্জন খুব ভাল মিডিয়ম হতে পারতেন। এক দিন নির্দিষ্ট মিডিয়ম না আসতে পারায় ডাক পড়ে নিত্যনিরঞ্জনের। এ ভাবেই প্যারীচাঁদ মিত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। প্যারীচাঁদ মিত্র লিখছেন, সেদিনটার কথা আজও আমার মনে আছে। আমি, মিউজেন্স এবং তাঁর এক বন্ধু মিঃ ইনিয়াস ব্রুসও প্রেততত্ত্বে বিশ্বাসী আরও কয়েকজন ভদ্রলোক চার্চ লেনের বাড়িতে দোতলার কোণের ঘরে ফরাশের ওপর গোল হয়ে বসলাম। নিত্য বসল আমাদের ঠিক মাঝখানে'।

প্যারীচাঁদ মিত্র আরও লিখছেন, 'বাইরে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছিল। সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ় হয়ে নামছিল।...আলোটা আরও কমিয়ে দিন, নিত্য গম্ভীর হয়ে বলল, অন্ধকার না হলে তারা আসতে চায় না। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সেজবাতির জোর কমিয়ে একেবারে নিভু নিভু করে দেওয়া হল। ঘরের সেই ছায়া ছায়া অন্ধকারে আমাদের এক এক জনকে প্রেতলোকের অভিশপ্ত আত্মার মতো মনে হতে লাগল। আমরা রূদ্ধ শ্বাসে অপেক্ষা  করছি। নিত্যর মারফত কোন প্রেত আসবে... আমরা লক্ষ্য করলাম নিত্যর সারা শরীর যেন একটু একটু করে শক্ত হয়ে উঠছে। থর থর করে কাঁপছে সেহঠাৎ সে উঠে দাঁড়াল। আর আমাদেরই স্তম্ভিত করে দিয়ে সে ঝড়ের মতো বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। আর সেই বৃষ্টি মাথায় করেই পাশের বাড়ির প্রাচীরের গায়ে একটা নিমগাছে তড়াক করে উঠে পড়ল। আমাদের তো গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল এই কাণ্ডকারখানা দেখে

সে যা হোক, আমরা প্রসঙ্গে ফিরে আসি। যাকে দিয়ে তিনি তাঁর বাণী প্রচারের কাজ করবেন সেই ভক্তের শক্তি এই ভাবে ব্যয়িত হতে দেখে ঠাকুর সেদিন খুব চিন্তিত হয়ে ছিলেন তিনি নিরঞ্জনকে বললেন দ্যাখ নিরঞ্জন, ভূত ভূত করলে তুই ভূত হয়ে যাবি, আর ভগবান ভগবান করলে ভগবানই হবি। তা কোনটা হওয়া ভাল?’’ তিনি সরল ভাবে উত্তর দিলেন, তা হলে ভগবান হওয়াই ভাল। কার্যত সেদিন ঠাকুর নিরঞ্জনকে ভুতুড়েদের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলেছিলেন।  এবং তিনি সেই সঙ্গ ত্যাগও করে ছিলেন।

প্রথম দর্শনে অনেক কথা বার্তা হল। কথায় কথায় রাত হয়ে যাচ্ছে দেখে নিরঞ্জনকে ঠাকুর রাতে দক্ষিণেশ্বরে থেকে যেতে বললেন। কিন্ত যেহেতু বাড়িতে বলে আসেননি, তাই তিনি থাকতে চাননি। ঠাকুরের বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও যখন কিছুতেই তিনি রাজি হলেন না তখন  ঠাকুর বললেন, একান্তই যাবি তো যা, কিন্তু আবার আসিসঐ কথায় সম্মত হয়ে ঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে  অন্তরে এক দিব্য স্পর্শ নিয়ে নিরঞ্জন সেদিন বাড়ি ফিরে এলেন।

এর দুতিন দিন পর আবার দক্ষিণেশ্বরে উপস্থিত। ঠাকুর সস্নেহে তাঁকে আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরলেন। আকুল স্বরে বলতে লাগলেন - ওরে নিরঞ্জন দিন যে যায়রে তুই ভগবান-লাভ করবি কবে?  দিন যে চলে যায়, ভগবানকে লাভ না করলে সবই যে বৃথা হবে। তুই কবে তাঁকে লাভ করবি বল, কবে তাঁর পাদপদ্মে মন দিবি বল? আমি যে তাই ভেবে আকুল! নিরঞ্জন অবাক! –“ ইনি কে ? আমার ভগবান লাভ হচ্ছে না বলে, দিন চলে যাচ্ছে বলে আমার জন্য এঁর এত আর্তি কেন? পরের জন্য একি অহৈতুকী ভালবাসা! এ রহস্য তিনি ভেদ করতে পারলেন না। কিন্তু গভীর আবেগে তাঁর হৃদয় বিগলিত হল। সে রাতে তিনি ঠাকুরের কাছে থেকে গেলেন। শুধু তাই নয়,পর পর তিন দিন সেখানেচতুর্থ দিন কলকাতাতে ফিরে এলেন।

১৮৮৪ সালের ১৫ জুন কাঁকুড়গাছিতে ভক্ত সুরেন্দ্রের বাগানে এক মহোৎসবে ঠাকুর গিয়েছিলেনসেখানে নিরঞ্জন এসে উপস্থিত হন। কীর্তন শেষে ঠাকুর ভক্তদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন এমন সময় নিরঞ্জন ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করলেন। তাঁকে দেখেই ঠাকুর আনন্দে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। আর বললেন, "তুই এসেছিস! মাষ্টার মশাইকে বললেন,দেখ, এ ছোকরাটি বড় সরল। পূর্ব জন্মে অনেক তপস্যা না করলে সরল হয় না। কপটতা, পাটোয়ারী বুদ্ধি এ সব থাকতে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না। নিরঞ্জনকে বললেন, দ্যাখ তোর মুখে যেন একটা কালো আবরণ পড়েছে। তুই আফিসের কাজ করিস কিনা, তাই। আফিসের হিসাবপত্র করতে হয় আরও নানা রকম কাজ আছে, সর্বদা ভাবতে হয়।

নিরঞ্জনের সরলতা ও সংসারের প্রতি অনাসক্তি ঠাকুরকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি একদিন বলেন, ভাবে দেখলাম, যদিও চাকরি কচ্ছে, ওকে কোন দোষ স্পর্শ করেনি। মার জন্য কর্ম করে, ওতে দোষ নেই। নরেন্দ্র, রাখাল, নিরঞ্জন এঁদের ব্যাটাছেলের স্বভাব সরল না হলে তাঁকে পাওয়া যায় না। এই প্রসঙ্গে কথামৃতকার শ্রীম বা মাষ্টার মশায়কে তিনি  বলেছিলেন নিরঞ্জনের সংগে দেখা করতে। বলেছিলেন, তোমায় নিরঞ্জনের সঙ্গে দেখা করতে বলছি কেন?  সে সরল এটা সত্য কি না, এইটি দেখবে বলে

শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সাক্ষী এক গুরুভাই লাটু মহারাজ বলেছেন, নিরঞ্জন ভাই দক্ষিণেশ্বরে যেদিন প্রথম গিয়েছিল, সেদিন ঠাকুর তাকে বলেছিলেন, দ্যাখ, তুই যদি সংসারীর নিরানব্বইটি উপকার করিস আর একটা অপকার করিস, তবে লোকে আর তোকে দেখতে পারবে না। কিন্তু ঈশ্বরের কাছে তুই যদি নিরানব্বইটি অপরাধ করিস আর একটা তাঁর প্রীতির কাজ করিস, তা হলে তিনি তোর সব অপরাধ মার্জনা করবেন। মানুষের ভালবাসায় আর ভগবানের ভালবাসায় এত তফাৎ জানবি

শ্রীরামকৃষ্ণ চাইতেন না যেন তাঁর কাজের জন্য নির্দিষ্ট উচ্চ অধিকারীর জীবন কাম-কাঞ্চনের দ্বারা বদ্ধ হয়। নিরঞ্জনকে চাকরি করতে হত বৃদ্ধ মায়ের সেবার জন্যশ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, সংসারী লোকেরা যেমন চাকরি করে তুইও চাকরি করছিস; তবে একটু তফাৎ আছে। তুই মার জন্য চাকরি স্বীকার করেছিস। মা গুরুজন, ব্রহ্মময়ীস্বরূপা। যদি মাগ ছেলের জন্য চাকরি করতিস, আমি বলতুম ধিক্‌ ধিক্‌, শত ধিক্‌ একশ ছি!

নিরঞ্জনের সরলতা ও বৈরাগ্যের জন্য ঠাকুর তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। একদিন ঠাকুর এই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, দেখছ না নিরঞ্জনকে! তোর এই নে, আমার এই দে’–ব্যস, আর কোন সম্পর্ক নাই। পেছু টান নাইএকবার বলরাম মন্দিরে ভাবাবিষ্ট হয়ে বলেছিলেন,আলেখ নিরঞ্জন! নিরঞ্জন, আয় বাপ খারে, নেরে কবে তোরে খাইয়ে জন্ম সফল করব! তুই আমার জন্য দেহ ধারণ করে নররূপে এসেছিসঅন্য একদিন বলছেন, দেখ না নিরঞ্জন! কিছুতেই লিপ্ত নয়। নিজের টাকা দিয়ে গরীবদের ডাক্তারখানায় নিয়ে যায়। বিবাহের কথায় বলে, বাপরে, ও বিশালাক্ষীর দ!ওকে দেখি যে, একটা জ্যোতির উপর বসে রয়েছে। কত গভীর ভাবে ভালবাসতেন ঠাকুর। একদিন কাশীপুরে সস্নেহে বলেছিলেন ,তুই আমার বাপ, তোর কোলে বসব

শ্রীরামকৃষ্ণের অগাধ ভালবাসা ছিল ঠিক, কিন্তু তিনি  কখনও স্নেহ দুর্বল ছিলেন না। প্রয়োজন হলে শাসন করতেও ভুলতেন না। বলিষ্ট শরীর নিরঞ্জন ছিলেন উগ্র স্বভাবেরএকদিন শেয়ারের নৌকোতে দক্ষিণেশ্বরে আসছেন। নৌকোর যাত্রীরা অনেকে অযথা ঠাকুরের নিন্দা করতে থাকে।  প্রতিবাদ করেও ফল না হওয়ায় তিনি নৌকো ডুবিয়ে দিতে উদ্যত হন। শক্ত সমর্থ শরীর তার উপর ভীষণ রাগে মুখ চোখ লাল হয়ে উঠেছে। ওই অবস্থা দেখে যারা নিন্দা করছিল সকলে ভয়ে ক্ষমা চাইতে লাগল। এই ঘটনা শুনে ঠাকুর  নিরঞ্জনকে তিরস্কার করে বলেছিলেন, ক্রোধ চন্ডাল, ক্রোধের বশীভূত হতে আছে?  সৎ ব্যক্তির রাগ জলের দাগের মতো হয়েই মিলিয়ে যায়! হীন বুদ্ধি লোকে কত কি অন্যায় কথা বলে, তা নিয়ে বিবাদ বিসংবাদ করতে গেলে ওতেই জীবনটা কাটাতে হয়। ওরূপ স্থলে ভাববি লোক না পোক(কীট) এবং তাদের কথা  উপেক্ষা করবি। ক্রোধের বশে কি অন্যায় করতে উদ্যত হয়েছিলি ভাব দেখি দাঁড়ি মাঝিরা তোর কি অপরাধ করেছিল যে, সেই গরীবদের উপরও অত্যাচার করতে অগ্রসর হয়েছিলি!

নিরঞ্জন মহারাজ উগ্র স্বভাবের বলে মনে হলেও, প্রয়োজনে কোমল হতেও পারতেনঠাকুরের দেহত্যাগের কিছুদিন পর নরেন্দ্রনাথ প্রভৃতি গুরুভাইরা যখন আঁটপুরে যান নিরঞ্জন মহারাজ তখন তাদের সংগেছিলেনস্নান করতে গিয়ে সেখানে সারদা মহারাজ (স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ) জলে ডুবে যাচ্ছিলেনতখন প্রাণের মায়া ত্যাগ করে নিরঞ্জন মহারাজ তাঁকে উদ্ধার করেছিলেনঅবশ্য এইসব কাজে তিনি   খুব উৎসাহী ও তৎ পর ছিলেন কারও অসুখ হলে তিনি দৌড়ঝাঁপের দায়িত্ব নিজের মাথায় নিতেন১৮৮৮ সালে লাটু মহারাজের নিউমোনিয়া হলে নিরঞ্জন মহারাজ সেবার দায়িত্ব নিয়েছিলেনভক্তপ্রবর বলরাম বাবুর শেষ অসুখের সময়ও তিনি প্রাণ ঢেলে সেবা করেছিলেন                                             ঠাকুর ক্রমে স্নেহের অন্তরঙ্গকে কীভাবে অধ্যাত্ম পথে চালিত করেছিলেন তার প্রমাণ পাই লাটু মহারাজের  স্মৃতিকথাতে তিনি বলছেন, নিরঞ্জন ভাইকে ঠাকুর একদিন ভাবাবেশে ছুঁইয়ে  দিলেন। তাতেই তিন দিন, তিন রাত্রি তার চোখের পাতা পড়েনি, কেবল জ্যোতিঃ দেখেছে আর জপ করেছে। তিন দিন জিব থেকে তার জপ ছুটে যায় নি। ভারী ভূত নামাত কি না, তাই তিনি মস্করা করে বলেছিলেন –‘এবার আর যে-সে ভূত নামেনি, একেবারে ভগবান ভূত ঘাড়ে চেপেছে। তোর সাধ্য কি যে তুই তাকে ঘাড় থেকে নামাস

দক্ষিণেশ্বরে যাতায়াতের কোন এক সময়ে ঠাকুর নিরঞ্জনকে আণবী বা মন্ত্রদীক্ষা দিয়েছিলেন। শাস্ত্রে তিন রকমের দীক্ষার কথা পাওয়া যায় আণবী, শাক্তী ও শাম্ভবী। মন্ত্র, অর্চনা, ন্যাস, ধ্যান উপচার সহযোগে যে দীক্ষা তাই হল আণবী দীক্ষা। ঠাকুর নিরঞ্জনের জিহ্বাতে একটি মন্ত্র লিখে দিয়েছিলেন সব সময় সেই মন্ত্র জপ চলতে লাগল তিনি ঘুমতেও পারছেন না শরীরের প্রতিটি অঙ্গে প্রত্যঙ্গে সেই মন্ত্রের স্পন্দন চলতে লাগল তিন দিন এমন অবস্থার পর নিরঞ্জন দক্ষিণেশ্বরে ফিরে এসে ঠাকুরকে সব জানালেন ঠাকুর বললেন এর নাম অজপা জপ

 নিরঞ্জনও ঠাকুরের প্রেমপূর্ণ ব্যবহার ও আধ্যাত্মিক স্পর্শে সম্পূর্ণ আত্মহারা হয়ে তাঁকেই জীবনের ধ্রুবতারা রূপে গ্রহণ করেছিলেন। কেবল তাই নয়, ঠাকুরের স্বরূপ সম্পর্কে নিরঞ্জনের জানতে বাকি রইল না। শ্যামপুকুর বাটিতে যে-রাতে (৬ নভেম্বর, ১৮৮৫) গিরিশ ঘোষ প্রভৃতি ভক্তেরা ঠাকুরের দেহে মা কালীর আবির্ভাব লক্ষ্য করে তাঁর পায়েই পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছিলেন, সেই রাতে নিরঞ্জন মহারাজ  ভক্তি আপ্লুত চিত্তে ঠাকুরের পায়ে মাথা রেখে ব্রহ্মময়ী ব্রহ্মময়ী বলে পুষ্পাঞ্জলি  দিয়েছিলেন। একদিকে যেমন ঠাকুরের স্বরূপ তাঁর কাছে অজানা ছিল না, সেই সঙ্গে ঠাকুরের প্রাণঢালা ভালবাসাতেও নিরঞ্জন মহারাজ ছিলেন মুগ্ধ এই প্রসঙ্গে নিরঞ্জন মহারাজের নিজের কথা , আগে ভালবাসা ছিল বটে, কিন্তু এখন ছেড়ে থাকতে পারবার জো নেই

শ্রীরামকৃষ্ণের সেবারত

শ্রীরামকৃষ্ণের শেষ অসুখের সময় সকলের সঙ্গে নিরঞ্জন মহারাজও ঠাকুরের সেবায় নিযুক্ত ছিলেনসকলে যাতে ওই সময়ে ঠাকুরকে স্পর্শ না করে সে বিষয়ে তিনি সতর্ক প্রহরীর কাজ করতেনঅনেক সময় এর জন্য তাঁকে অপ্রিয় ব্যবহারও করতে হয়েছেকিন্তু ঠাকুরের প্রতি একান্ত ভালবাসার তুলনায় তা কিছুই নয়

কাশীপুরে প্রায় তিন চার মাস ঠাকুরের সেবার পরও শরীরের কোন উন্নতি হল নাবরং ক্রমশ  শরীর এত ক্ষীণ হয়ে গেল যে দেখলে চেনা যেত নাবিছানার সঙ্গে শরীর মিশে যেতে লাগল  তবুও ভক্তরা বিশ্বাস করতেন ঠাকুর  শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেনএমন সময় একদিন ঠাকুর নিরঞ্জনকে বললেন, দেখ, আমি এখন এমন অবস্থায় আছি, যে আমাকে এই অবস্থায় দেখবে মায়ের কৃপায় সে এই জন্মে মুক্ত হয়ে যাবেকিন্তু আমার পরমায়ু তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে শ্রীগুরুর মুখে এই কথা শুনে নিরঞ্জন আরও সতর্ক হয়ে তাঁর দ্বাররক্ষীর কাজ করতে লাগলেন। মাথায় পাগড়ি হাতে লাঠি নিয়ে ঠাকুরের দরজার সামনে রাত দিন পাহারা দিতে লাগলেন। এতে অনেকে অসন্তুষ্ট হলেও এই অপ্রিয় কাজটি তিনি প্রভুর শরীর রক্ষার্থে করতেন।

এক দিনের একটি ঘটনা। এক পাগলী মাঝে মাঝে কাশীপুরে বড়ই উৎপাত করতসকলে স্থির করলেন তাকে আর উপরে ঠাকুরের কাছে যেতে দেওয়া হবেনাএকদিন দুপুরবেলায় সে খুব জেদ করল উপরে যাবেইএদিকে নিরঞ্জন মহারাজ তাকে কিছুতেই যেতে দেবেন নাএমন সময় উপর থেকে খবর এল, ঠাকুর পাগলীকে ডাকছে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অগত্যা উপরে যেতে দিতে হল

নিরঞ্জনের সরলতার কথা শ্রীরামকৃষ্ণ বহুবার বলেছেন। এখানে এক দিনের একটি ঘটনা।  শীতকালে স্নানের সময় শ্রীরামকৃষ্ণ গরম জল ব্যবহার করতেন। একদিন নিরঞ্জন ঠাকুরের জন্য বিরাট একটা পাত্রে জল গরম করার জন্য প্রচুর কাঠ নিয়ে গরম করা শুরু করল। অল্প জলের জন্য এত কাঠ জ্বালানি ব্যবহার করলে অপচয় হয়, তাই ভেবে ঠাকুর একটু চিন্তা করছেন। একটু পরে নিরঞ্জন বিশাল পাত্রে জল নিয়ে এসে বললেন, ঠাকুর আপনার কতটা জলের দরকার তা তো আমি জানি না, তাই পুরোটা নিয়ে এলাম, আমি সবটা জলই নিন। নিরঞ্জনের এরকম সরল ও নির্ভীক ব্যবহারে ঠাকুর খুব খুশী হয়েছিলেন।

সব রকম সেবা শুশ্রুষা চিকিৎসা সত্ত্বেও শ্রীরামকৃষ্ণকে আর ধরে রাখা গেল না। ঝুলন পূর্ণিমার রাতে, ১৬ আগস্ট,১৮৮৬ ঠাকুরের মহাসমাধি হয়।

ঠাকুরের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও দেহাবশেষ- আত্মারামের কৌটা গঙ্গাতীরে বরাহনগরে এক ভাড়া বাড়িতে রেখে নিত্যপূজা শুরুহয়এখানে বলে রাখা ভাল ঠাকুরের অস্থি-কলস কোথায় রাখা হবে এই নিয়ে প্রবীন ও যুবকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়তখন নিরঞ্জন মহারাজের ঐকান্তিক চেষ্টায় ও অন্যান্য গুরুভাইদের সহযোগিতায় সেই দেহাবশেষের একটি বড় অংশ বরাহনগরে স্থাপন করা হয়পরে স্বামী বিবেকানন্দ স্থায়ীভাবে বেলুড় মঠে নিয়ে আসেনএভাবেই ত্যাগী যুবক শিষ্য ও কিছু গৃহী ভক্তদের দ্বারা রামকৃষ্ণ মঠের সূচনানিরঞ্জন মহারাজ খুব সম্ভব ১৮৮৭ সালের প্রথম ভাগে বরাহনগর মঠে যোগদান করেনসন্ন্যাস গ্রহণের পর নাম হয় স্বামী নিরঞ্জনানন্দমঠের বিভিন্ন কাজে তিনি যোগ দিতেনতপস্যার প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক দেখা যেতমঠের নিত্যদিনের কাজ কর্মে ও পূজার কাজে তিনি সাহায্য করতেন। মাঝে মাঝে তীর্থ দর্শনেও যেতেন।

বরাহনগর মঠে একদিন নিরঞ্জন মহারাজ ঠাকুরের ভোগের জন্য ঠোঙ্গায় করে সন্দেশ নিয়ে আসছিলেনএমন সময় এক দরিদ্র মহিলা তার ছেলে কোলে নিয়ে যাচ্ছিলেনছেলেটি সন্দেশের ঠোঙ্গা দেখে খাওয়ার জন্য বায়না করলমা বারন করলেও তার কান্না থামেনাতখন নিরঞ্জন মহারাজ ছেলেটির সামনে সন্দেশগুলি ধরে দিয়ে খেতে বললেনমা নিষেধ করলেন ঠাকুর সেবার জন্য জিনিস খেলে ছেলের অমঙ্গল হবেকোন কথা না শুনে নিরঞ্জন মহারাজ বললেন, না মা, ছেলের কোন দোষ হবে নাও খেলেই ঠাকুরের খাওয়া হবেএই বলে ঠোঙ্গাটি ছেলেটির হাতে দিয়ে আবার সন্দেশ কিনতে চললেন

      সন্ন্যাস গ্রহণ ও তীর্থযাত্রা


১৮৮৭ খ্রীষ্টাব্দের প্রথমের দিকে বরানগরে অন্যান্য গুরুভাইদের সঙ্গে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর নাম রাখেন স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

সন্ন্যাস গ্রহণের পর তিনি একবার শ্রীক্ষেত্র পুরী ধামে গিয়ে প্রায় মাস চারেক ছিলেন১৮৮৯ সালে একবার বেরিয়ে দেওঘর হয়ে কাশীতে বংশীদত্তের বাড়ীতে থেকে তপস্যা করেনএ সময় তিনি মাধুকরী ভিক্ষা করে খেতেনএর মধ্যে স্বামী যোগানন্দের অসুখের সংবাদ এলে তিনি প্রয়াগে যানএরপর উত্তর ভারতের কিছু তীর্থদর্শন ও তপস্যা করেন

১৮৯১-৯২ খ্রীষ্টাব্দে স্বামী বিরজানন্দ যখন বরাহনগর মঠে যাতায়াত শুরু করেন তখন নিরঞ্জন মহারাজকে প্রায়ই দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের ঘরে ধ্যান করতে যেতে দেখেনএই সময় তিনি বিরজানন্দকে নিয়ে কয়েকবার জয়রামবাটিতে গিয়েছিলেন১৮৯৩ সালের প্রথমের দিকে নিরঞ্জন মহারাজ তীর্থদর্শনে ও নির্জনে তপস্যার জন্য বেরিয়ে পড়েনতিনি সম্ভবত রাজস্থান ও উওর ভারতের তীর্থগুলি দর্শন করেছিলেনসে সময় আবুপাহাড়ে স্বামী তুরীয়ানন্দ ও স্বামী ব্রহ্মানন্দের সঙ্গে  দেখা হয়

মাঝে কয়েক বছর স্বামী নিরঞ্জনানন্দ দক্ষিণ ভারত ও সিংহলে(অধুনা শ্রীলঙ্কা) গিয়েছিলেনযেখানেই তিনি যান সেখানেই শ্রীরামকৃষ্ণের মহিমা কীর্তনের দ্বারা অনুরাগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে স্বামীজী এই কাজের প্রশংসা করে এক চিঠিতে লেখেন, নিরঞ্জন এমন এমন কার্য করছে যে, তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে। আমি খবর রাখছিযাই হোক, ১৮৯৫ সালের প্রথম ভাগে ঠাকুরের জন্মোৎসবের আগে তিনি আলমবাজার মঠে ফিরে আসেন

স্বামী নিরঞ্জনানন্দ খুব নিয়ম শৃঙ্খলা পছন্দ করতেন। এক বার একমজার ঘটনা ঘটেছিল। মঠ তখন আলমবাজারে। এক দিন প্রেমানন্দ মহারাজের দক্ষিণেশ্বর থেকে ফিরতে খুব দেরি হয়ে গিয়েছিল। সে সময় প্রেমানন্দ মহারাজ  বিকালের দিকে দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে রোজ ঠাকুরের কথা আলোচনা করতেন। সেদিন ফিরতে প্রায়  রাত ৯ বা ১০ টা হয়ে গিয়েছিল। মঠে ফিরে দেখেন সদর দরজা বন্ধ। নিরঞ্জন মহারাজ জানতে পেরে খুব রেগে গিয়ে প্রেমানন্দ  মহারাজকে মঠে ঢুকতে বারণ করলেন। তারপর যেই জানতে পারলেন ওদের খাওয়া হয়নি, সব রাগ মুহূর্তে কোথায় মিলিয়ে গেল। তিনি হেসে ফেলে ছিলেন 

        স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে




প্রথমবার স্বামী বিবেকানন্দ পাশ্চাত্য বিজয়ের পর ১৮৯৬-এর শেষের দিকে ভারতে ফিরে আসছেনএই খবর পেয়ে নিরঞ্জন মহারাজ বিশ্ব বিজয়ী গুরুভাইকে অভ্যর্থনা করার জন্য তাড়াতাড়ি কলম্বো রওনা হয়েযানপরের বছর ১৫ জানুয়ারি স্বামীজী জাহাজ থেকে নামলে সর্বপ্রথম অভ্যর্থনা জানান নিরঞ্জন মহারাজএরপর দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন স্থান হয়ে কলকাতা পর্যন্ত যাত্রায় স্বামীজীর সঙ্গী ছিলেন তিনিস্বামীজী ঐ বছর উত্তর ভারত পঞ্জাব ও কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের সময়ও তিনি সঙ্গে ছিলেন

      ১৮৯৭ এর জুন মাসে কলকাতাতে প্রবল ভূমিকম্প হয়। যার ফলে আলমবাজারের মঠটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে১৮৯৮ সালে মঠ সাময়িকভাবে বেলুড়ে নীলাম্বর বাবুর বাগান বাড়িতে উঠে আসেসে বছর ঠাকুরের তিথি পুজো ও সাধারণ উৎসব মঠেই হয়েছিলএর আগে পর্যন্ত সাধারণ উৎসব দক্ষিণেশ্বরে হতসে বছর মন্দিরের কর্তৃপক্ষের সংগে মতভেদ হওয়ায় বেলুড়ে দাঁ-দের ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে সাধারণ উৎসব হয়েছিলঅসংখ্য ভক্তের সমাগমে আনন্দ মুখর এই উৎসব আয়োজন করার পেছনে নিরঞ্জন মহারাজের খুব বড় ভূমিকা ছিল

    ১৮৯৮ তে স্বামীজী যখন আলমোড়া  যান নিরঞ্জন মহারাজও সঙ্গে ছিলেন আলমোড়াতে প্রায় দেড় মাস থেকে স্বামীজী কাশ্মীর চলে যান। নিরঞ্জন মহারাজ অবশ্য আরও কিছু দিন থেকে যান। সেখানে স্বামীজীর নির্দেশে স্বামী শুদ্ধানন্দকে বিরজাহোম করিয়ে সন্ন্যাস দান করেছিলেন স্বামী নিরঞ্জনানন্দএছাড়া অন্য কাউকে তিনি সন্ন্যাস দিয়েছেন বলে জানা যায়নাতবে হরিদ্বারে থাকার সময় কেদারনাথকে মন্ত্র দীক্ষা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ( স্বামী অব্জজানন্দ লিখিত স্বামীজীর পদপ্রান্তে পৃ ২৬৭)

   যা হোক, এরপর কাশীতে বংশীদত্তের বাগানে একটি পুরনো বাড়িতে থেকে তপস্যায় মগ্ন হনওই সময় তিনি ছত্রের ভিক্ষা গ্রহণ করতেনএখানে কেদারনাথ মৌলিকের (পরে স্বামী অচলানন্দ) বাড়িতে সমবেত স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ঠাকুরের পবিত্র জীবনের কথা আলোচনা হত কাশীর চারুবাবুর (স্বামী শুভানন্দ) সংগে এখানে আবার সাক্ষাৎ হয়আলমবাজার মঠে তিনি পূর্বে একবার এসেছিলেনকেদারনাথের বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণ জন্মতিথিতে নিজ হাতে পুজোও করে ছিলেনএইভাবে স্বামী নিরঞ্জনানন্দের পৌরোহিত্যে কাশীতে ঠাকুরের জন্মোৎসব শুরুহয় ১১ ডিসেম্বর ১৮৯৮ তে নিরঞ্জন মহারাজ কাশী থেকে মঠে ফিরে আসেন। ১৮৯৯ এর ২ জানুয়ারি স্থায়ীভাবে মঠ বেলুড়ে নিজস্ব জমির উপর  নির্মিত বাড়িতে উঠে আসে। কয়েক মাস মঠে থাকারপর এবার তিনি হরিদ্বারে চলেযানকনখলে একটি জীর্ণ দোতলা বাড়ির ঘরে থেকে সাধন ভজন করেনএদিকে কেদারনাথের বৈরাগ্যক্রমে তীব্র হয়ে ওঠেতিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে গৃহত্যাগী হয়ে কাশী থেকে হরিদ্বারে নিরঞ্জন মহারাজের কাছে এসে উঠলেনএখানেই মহারাজ তাঁকে মন্ত্রদীক্ষা ও গেরুয়া বস্ত্র দান করেনকিভাবে মাধুকরী করতেহয় ও ঠাকুরের সেবা করতে হয় শিখিয়ে দেনপরে স্বামীজী তাঁকে আনুষ্ঠানিক সন্ন্যাস দীক্ষা দিয়েছিলেন।

      এর কিছু দিন পর নিরঞ্জন মহারাজের শরীর খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে রক্ত আমাশাতে ভুগে খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসতে বাধ্য হনএসময় নিরঞ্জন মহারাজ ভবানীচরণ দত্ত লেনে মাস্টার মশায়ের এক ভাড়া বাড়িতে থাকতেনস্বামী ব্রহ্মানন্দ প্রভৃতি গুরুভাইরা তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেনকিন্তু প্রায় আড়াই মাস পরেও শরীরসুস্থ হল না। হরিদ্বার থেকে কেদারনাথ কলকাতায় এলেন মহারাজের সেবার জন্যঅসুখ দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়েছিল ও এক সময় জীবন সংশয় পর্যন্ত হয়েছিলপরে অখিল মিস্ত্রীর গলিতে এক ভাড়া বাড়িতে থেকে চিকিৎসা চলতে থাকেসেবার ভার ছিল স্বামী প্রেমানন্দের উপরবেশ দীর্ঘ রোগভোগের পর সে যাত্রায় কোন মতে সেরে উঠলেন

স্বামী বিবেকানন্দ দ্বিতীয়বার আমেরিকা থেকে ফিরে এলে নিরঞ্জন মহারাজ তাঁর পবিত্র সঙ্গ লাভের সুযোগ পেয়ে খুব আনন্দিত হন১৯০২ স্বামীজী দ্বিতীয়বার ভারতে ফিরে আসেনপ্রসিদ্ধ জাপানী শিল্পী ওকাকুরা ভারতে এলে স্বামীজীর নির্দেশে নিরঞ্জন মহারাজ তাঁকে বুদ্ধগয়া, আগ্রা, গোয়ালিয়র, অজন্তা প্রভৃতি স্থান গুলি দেখানওকাকুরা নিরঞ্জন মহারাজের অমায়িম ব্যবহারে খুব প্রীত হয়েছিলেন

    কাশীর আবহাওয়ায় স্বামী বিবেকানন্দের শরীর প্রথমের দিকে কিছুটা সুস্থ ছিলপরে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে বেলুড় মঠে ফিরে আসেন শরীর এত দুর্বল যে শয্যা গ্রহণ করতে বাধ্য হনলোকজনদের সঙ্গে কথা বলাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তখন নিরঞ্জন মহারাজের কাজ ছিল স্বামীজীর দ্বার রক্ষা করাবাইরের লোকে যাতে বিরক্ত করতে না পারে তাই তিনি মাথায় পাগড়ি বেঁধে হাতে লাঠি নিয়ে স্বামীজীর ঘরের দরজায় পাহারা দিতেনঠাকুরের অসুখের সময় দ্বার রক্ষকের ভূমিকায় তিনি সেবা করেছেনএই কাজে তিনি খুব গর্ব অনুভব করতেনএই সময় একটি মজার ঘটনা ঘটেস্বামীজীর এক শিষ্য ব্রহ্মচারী মায়াবতী থেকে এসেছে স্বামীজীকে দর্শন করতেদ্বাররক্ষী নিরঞ্জন মহারাজ তাকে চিনতেন নাতাই ভেতরে যেতে দেননিব্রহ্মচারী সুযোগ বুঝে দ্বাররক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে ঢুকে ভেতরে চলে যানপরে পরিচয় জানতে পেরে ও এই অভিনব কৌশলে ভেতরে ঢোকার জন্য রাগ না করে খুব হাসতে লাগলেন

আর একটি ঘটনার দ্বারা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বামী বিবেকানন্দ যখন কাশীতে ছিলেন তখন কোন এক ভদ্রলোক কাশীতে একটি শিবমন্দির নির্মাণ করেছেন শুনতে পান। তাতে স্বামীজী মন্তব্য করেছিলেন ঐ ভদ্রলোক যদি আর্তদের জন্য কিছু করতেন তবে হাজার মন্দির নির্মাণের ফল পেতেনলোকমুখে এই মন্তব্য শুনে সেই ভদ্রলোক রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমে প্রচুর অর্থসাহায্যের প্রতিশ্রুতি জানান। কিন্তু কার্যত তার উৎসাহ কমে যায় ও প্রতিশ্রুত অর্থেক অনেক কম টাকা দিতে চাইলেন। এতে নিরঞ্জন মহারাজ বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে প্রতিশ্রতি ভঙ্গকারীর দান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

৪ঠা জুলাই বেলুড় মঠে স্বামী বিবেকানন্দের দেহত্যাগ হয়এর পর নিরঞ্জন মহারাজ আর বেশি দিন ধরাধামে ছিলেন না। কিছু দিনের মধ্যে  খুব অসস্থ হয়ে পড়লেন। পুরনো অজীর্ন রোগ ও আমাশয় আবার দেখা দিল। এ সময় তিনি কখনও বেলুড় মঠে কখনও কলকাতায় থাকতেন। খাওয়া দাওয়া খুব নিয়ম পালন করেও কোন উপকার হল না। ক্রমে বলিষ্ট শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে লাগল। সব কাজে আর যোগ দিতে পারতেন না।

    শেষের দিনগুলি


১৯০৪ সালের প্রথমের দিকে তিনি হরিদ্বারে যাবেন স্থির করলেন। সে সময় শ্রীমা সারদা দেবী ২/১ বাগবাজার স্ট্রীটের ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। নিরঞ্জন মহারাজ মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে এলেন। হয়তো বুঝতে পেরে ছিলেন এই শেষ বিদায়। স্থূল শরীরে আর দর্শন হবে না। দেবমাতা এই সম্পর্কে খুব সুন্দর ভাবে লিখেছেন তিনি (নিরঞ্জন মহারাজ) আসন্ন চির বিদায়ের কথা কিছু বলেন নি, কিন্তু তাঁকে দেখে মনে হল যেন একটি ক্রন্দনরত শিশু তার মাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছে। তিনি আবার ধরলেন মাকে তাঁর জন্য সব কিছু করতে হবে এমনকি স্বহস্তে খাইয়ে দিতেও হবে। আর তিনি শুধু তাই খাবেন যা শ্রীশ্রীমা নিজে হাতে রেঁধেছেন। যখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিদায় নেওয়ার সময় হল, তিনি শ্রীশ্রীমায়ের পায়ে লুটিয়ে পড়লেন। তাঁর ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বেদনা অশ্রুরূপে ঝরে পড়ল, তারপর তিনি নিঃশব্দে চলে গেলেন, -- মনে মনে জানলেন এই শেষ বিদায়।

হরিদ্বারে এসে কনখলে একটি ভাড়া বাড়িতে উঠলেনঅসুস্থ শরীরেও সাধন ভজনের মাত্রা কমল নাস্বাস্থ্যের উন্নতি না হয়ে ক্রমশঃ খারাপ হতে লাগলতার উপর হঠাৎ বিসূচিকা (কলেরা) রোগে আক্রান্ত হনদেহত্যাগের আর দেরি নেই বুঝতে পেরে নিরাসক্ত সন্ন্যাসীর মন জগতের থেকে কোন উর্ধলোকে বিচরণ করত কে  বলবে? তিনি গঙ্গা তীরে শেষ শয্যা পাতলেনকোন সেবক বা কাউকে কাছে আসতে দিলেন নাকেউ কাছে এলে বরং বিরক্ত হতেনবলতেন–“তোমরাকি আমায় নিশ্চিন্ত মনে মরতেও দেবেনা? এমনি করে নিঃসঙ্গ সন্ন্যাসী মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে১৯০৪ সালের ৯ই মে অঞ্জনহীন নিত্য নিরঞ্জন নিত্য আনন্দে মিলিত হলেন

 

    লীলাপার্ষদ নিরঞ্জনকে ঠাকুর কেবল ঈশ্বরকোটী বলে নির্দেশ করেছেন তাই নয়, তিনি বলেছেন ওকে দেখি যে একটা জ্যোতির উপরে বসে রয়েছেবলিষ্ঠ ও সৌম্যদর্শন মানুষটি ছিলেন সরলতা ও শিষ্টাচারের মূর্তিমান বিগ্রহ। ভগিনী নিবেদিতা তাঁকে দুটি বিশেষ নাম দিয়েছিলেন - সৈনিক’ আর ভদ্রলোকসন্ন্যাস জীবনের ত্যাগ ও বৈরাগ্য পূর্ণ আদর্শ নিজের জীবনে সযত্নে পালন করেছেনমায়া কোনদিন তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনিকোন কিছুর প্রতি আকাঙ্ক্ষাও ছিল নানাম, যশ, খ্যাতি, পদাধিকার কোন কিছুই তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি কোনদিনঠাকুর বারে বারে তাঁর সরলতার প্রসংশা করেছেন।

স্বামীজী ১৮৯৪ সালে এক পত্রে তাঁর সম্বন্ধে লিখেছন, নিরঞ্জন লাঠিবাজি করে, কিন্তু তাঁর মায়ের উপর বড় ভক্তি। তাঁর লাঠি হজম হয়ে যায়। সন্ন্যাস জীবনে ত্যাগ ও বৈরাগ্যের ঊচ্চ আদর্শ তিনি সারা জীবন পালন করেছেন। মায়ারূপ অজ্ঞান কোন দিন তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। কোন আকাঙ্খা তাঁর ছিল না। মান, যশ, পদ কোন দিন চির বৈরাগ্যে প্রতিষ্ঠিত মনে রেখাপাত করতে পারেনি। নিঃসঙ্গ নির্ভীক সন্ন্যাসী তিতিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন জীবনের অন্তিম পর্যন্ত। এই মহান জীবন চিরদিন স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকবে।

     স্বামী নিরঞ্জনানন্দের মাতৃভক্তি


স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৪ সালে, প্রিয় গুরুভ্রাতা স্বামী শিবানন্দকে আমেরিকা থেকে এক পত্রে লিখছেন : রামকৃষ্ণ পরমহংস ঈশ্বর ছিলেন কি মানুষ ছিলেন, যা হয় বলো, দাদা, কিন্তু যার মায়ের উপর ভক্তি নেই, তাঁকে ধিক্কার দিওনিরঞ্জন লাঠি বাজি করে, কিন্তু তার মায়ের উপর বড় ভক্তিতার লাঠি হজম হয়েযায়নিরঞ্জন এমন কার্য করেছে যে, তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে

স্বামী নিরঞ্জনানন্দের অতিশয় স্বল্প পরিসর, মাত্র ৪২ বছেরর জীবনকালের সব ঘটনা বা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আমাদের কাছে অজানাই থেকে গেছেতবুও এই বীর সন্ন্যাসীর অসাধারণ মাতৃভক্তির পরিচয় পাই বিশ্বাস-ভক্তির প্রতিমূর্তি মহাকবি গিরিশের একদিনের একটি প্রাসঙ্গিকতা থেকে। শ্রীশ্রীমায়ের স্বরূপ এবং তা জানা ও মানার প্রসঙ্গে, একদা একটি রহস্যপূর্ণ কথোপকথনের মাঝে, স্বয়ং ভক্তভৈরব গিরিশ সহসা মন্তব্য করে বসেন -আমিই কি প্রথমে মানতুমনিরঞ্জনই আমার চোখ খুলে দিলেকথাটি সাধারণ একজনের নয়, কথাটি তাঁরই মুখের অকপট স্বীকৃতি, যাঁর 'পাঁচ সিকে পাঁচ আনা' বিশ্বাস-ভক্তিএ-কথার অর্থ বুঝতে গেলে তদানীন্তন কালের ভক্ত-পরিমণ্ডলের ভাবধারার সঙ্গে একটু পরিচয় থাকা দরকারসাধারণভাবে শ্রীশ্রীমা তখনও জগদম্বারূপে সকল ভক্তহৃদয়ে প্রকট ননএমনকি ঘনিষ্ঠমহলেও, মা তখনও গুরুপত্নী হিসাবেই সম্মানিতা মাত্রঅন্তরঙ্গত্যাগী সন্তানরাও তাঁদের অন্তরের ভাবকে তখনও পর্যন্ত বাইরে কারও কাছে প্রকাশ্যে বলতেন না, বা প্রচার করতেন না

এক কথায়, শ্রীশ্রীমা দেবীরূপে তখনও পর্যন্ত ভক্তসমাজে আবির্ভূতা নন, যদিও মুষ্টিমেয় কয়েকজন অন্তরঙ্গ পরিকরই শুধু তা উপলব্ধি করতেন। আর সেই উপলব্ধির আদৌ প্রচার ছিল না বলে মাকে কেউই তেমন ভাবে মানতে শুরু করেননি। ঐরকম দিনেও, স্বামী নিরঞ্জনানন্দ কিন্তু মাতৃমহিমাকে সগৌরবে ও অসঙ্কোচে সকলের কাছে সোচ্চারে বলতেন। প্রয়োজন হলে, তিনি তীক্ষ্ণ যুক্তি ও বিচারের সাহায্যে তাঁর স্বকীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির কারণ নির্ণয় করে, ভক্তদের হৃদয়ে শ্রীশ্রীমায়ের দিব্যস্বরূপকে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হতেন। মা যে কেবলমাত্র গুরুপত্নী হিসাবেই শ্রদ্ধেয়া নন, জগজ্জননী আদ্যাশক্তিরূপেই উপাস্যা - এই মঙ্গল-বার্তাটি একমাত্র নিরঞ্জনানন্দই সর্বপ্রথম সর্বসমক্ষে প্রচার করেছিলেন। গিরিশচন্দ্র যখন পুত্রশোকে বিহ্বল হয়ে, নিজেকে নিতান্তই অসহায় অবলম্বনহীন  ভেবে বড়ই দীনদশায় পড়েছিলেন, তখন এই নিরঞ্জনানন্দই তাঁকে জীবন দান করেছিলেন তাঁকে জয়রামবাটীতে নিয়ে গিয়ে, শ্রীশ্রীমায়ের পদপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে। গিরিশের আধ্যাত্মিক জীবনে ঐ প্রত্যক্ষ মাতৃ সন্নিধিতে কিছুকাল বাস এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

শ্রীশ্রীমায়ের চরণ-সকাশে উপনীত হতে নিরঞ্জনানন্দই তখনকার দিনে এক প্রধান সহায়ক যন্ত্রস্বরূপ ছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের সন্ন্যাসী শিষ্যগণের মধ্যে বরিষ্ঠ কয়েকজনের জীবনেই তাই দেখি নিরঞ্জনানন্দের প্রচুর প্রভাব ও প্রেরণা। স্বামী বিরজানন্দের জীবনী পাঠকের জানা আছে, বাল্যে একাধিকবার তিনি স্বামী নিরঞ্জনানন্দের সাহচর্যেই জয়রামবাটীতে মাতৃসমীপে গিয়েছিলেন।

  শ্রীমা সারদাদেবীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাভক্তি ছিল। ঠাকুরের অদর্শনের পর শ্রীমাই ছিল তাঁর আশ্রয়স্থল। সবাইকে এই কথা মুক্তকন্ঠে জানাতে কোন দ্বিধা করতেন না তিনি। অনেককে সেই আশ্রয়ে পৌঁছেও দিয়েছেন

    প্রয়োজন হলে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিচারের সাহায্যে তাঁর বিশ্বাস ও অনুভূতির কারণ নির্ণয় করে ভক্তদের হৃদয়ে শ্রীমায়ের দিব্যস্বরূপকে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হতেন। মা যে কেবল গুরুপত্নী নন, জগজ্জননী আদ্যাশক্তি এ কথা তিনি সর্বসমক্ষে প্রথম প্রচার করেছিলেন।©


                                          এক নজরে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ

পূর্ব নাম -  নিত্য নিরঞ্জন ঘোষ

পিতা অম্বিকাচরণ ঘোষ

জন্ম  তারিখ - 1862 রাখী পূর্ণিমা ( সম্ভবতঃ)

1882 সালের প্রথম দিকে

আধ্যাত্মিকদের একটি দলের অংশ হিসাবে প্রথমবার শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে দেখা হয়েছিল। এই দল মানসিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রেততত্ত্ব নিয়ে কাজ করতেন। তিনি তখন একজন মাধ্যম

1886 ডিসেম্বর, ২৪

বড়দিনের প্রাক্কালে আঁটপুরে আরও সাতজন গুরুভাইদের  সাথে স্বামীজির নির্দেশিত ত্যাগের ব্রত গ্রহণ করেছিলেন।

জানুয়ারী 1887

শ্রীরামকৃষ্ণের ছবির সামনে ঐতিহ্যবাহী বিরজা হোম  অনুষ্ঠান করে অন্যান্য গুরুভাইদের  সাথে চূড়ান্ত সন্ন্যাস ব্রত গ্রহণ করেন।

1887 - 1897

সারা দেশে তীর্থযাত্রায় সময় কাটান এবং তপস্যা অনুশীলন করেন।

1894 এর পর থেকে

শ্রীলঙ্কা, রায়পুর এবং অন্যান্য স্থানে গিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের অপূর্ব জীবন ও বাণী প্রচার করেন। স্বামীজীও তাঁর প্রচারে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

আগস্ট 1896

1897 সালের জানুয়ারিতে আমেরিকা থেকে স্বামীজিকে স্বাগত জানাতে কলম্বো গিয়েছিলেন এবং তাঁর সাথে ভারতজুড়ে ভ্রমণ করেছিলেন - কলম্বো থেকে আলমোড়া।

1898 এর পর থেকে

কনখল, বারাণসী এবং অন্যান্য জায়গায়  ভ্রমণ করেছেন। তিনি শক্তিশালী ছিলেন, কাউকে ভয় পাননি এবং মানুষকে ঈশ্বরের প্রকাশ হিসাবে মানুষের সেবা করার স্বামীজির ধারণা অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন 

9 মে 1904

শ্রীরামকৃষ্ণের বীর সন্ন্যাসী  মহাসমাধিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।©





 

Comments

  1. প্রনাম স্বামী নিরান্জনানন্দ মহারাজ।ভীষন ভালো লাগলো। মহারাজের সম্বন্ধে কতকিছু জানলাম 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. Joy Nironjonanondo ji ki joy🙏🏼🙏🏼

      Delete
    2. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানলাম খুব ভালো লাগল

      কল্পনা শিরোমনি বেলডাঙ্গা।

      Delete
    3. প্রণাম মহারাজ। খুব ভাল লাগল।

      Delete
    4. িপ্রনাম মহারাজ
      খুবভালো লাগল

      Delete
    5. প্রণাম মহারাজ। ঈশ্বরকোটি স্বামী নিরঞ্জনানন্দের কথা পড়তে পড়তে মন এক অন্যমাত্রা লাভ করল। অপূর্ব সুন্দর আপনার সৃজন বিন্যাস, খুব শান্তি পেলাম।
      আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ আপনাকে। খুব ভালো থাকবেন দিব্যত্রয়ীর আলোতে। সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন। 🌹🙏

      Delete
    6. নন্দিতা ব্যানার্জী। 🔶🙏🔶

      Delete
    7. প্রনাম মহারাজ অনেক অনেক অজানা কথা জেনে খুব খুব ভালো লাগলো ভগবান মঙ্গল করুন।

      Delete
  2. স্বামীনিরঞ্জনানন্দ মহারাজজির
    সম্পর্ক অনেক কিছু জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো মহারাজ 🙏🙏ইন্দিরা পোদ্দার হায়দারাবাদ 🙏🙏

    ReplyDelete
  3. খুবই সুন্দর আপনার লেখা
    অনেক অজানা তথ্য পেলাম আপনার লেখায়
    সুব্রত ঘোষাল
    মুম্বাই

    ReplyDelete
  4. Pranam Prabhuji, Swami Niranjanananda Maharaj er sambandhe apnar lekhati, apurba, anek kichui jana gelo, ja er age emon bistarita bhabe janar sujog hoy ni. Swami Niranjananand Maharaj er jiban, Tnar Thakurer sannnidhe asa, sannyas grahan, Sri Sri Ma er prati tnar sradhya, bhakta der hridaye Mayer Dibya-swaruper pratistha, sakal katha atyanta hridaysparshi. Khub bhalo laglo, Swami Niranjananda Maharaj er Adyatmik jiban sambandhe jene. Sundar lekhatir jannya amader antorik sradhya o kritagyata janai. 🌷🙏🌷

    ReplyDelete
  5. প্রনাম খুব ভালো লাগলো মহারাজের জীবনী পড়ে সভক্তি প্রনাম শ্রীচরণে . . . রুনা পালিত .

    ReplyDelete
    Replies
    1. Swami Niranjananananda sambandhe alpo jana chilo,jene appluto holam

      Delete
  6. প্রণাম মহারাজ । খুব ভালো লাগলো। স্বামী নিরঞ্জনানন্দের জীবন সন্মন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আরো এরকম লেখা পেতে চাই ভালো থাকবেন প্রণাম নেবেন ।

    ReplyDelete
  7. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের সমগ্র জীবন খুব সুন্দর ফুটে উঠল মহারাজের অপূর্ব লেখনীর মধ্য দিয়ে 🙏🏻
    মহারাজের চরণে অনন্ত শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়ে পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম মহারাজ🙏🏻
    কৃষ্ণা মুখার্জী , হাওড়া

    ReplyDelete
  8. মহারাজ নিরঞ্জন মহারাজ সন্মধ্বে অনেক কিছু জানলাম.সঞ্চয়িতা ভৌমিক বিরাটী

    ReplyDelete
    Replies
    1. Swami Niranjanananda er jibon kahini o tar matri vakti khub valo laglo
      Asit Chattopadhyay ,Durgapur

      Delete
  9. খুব ভাল লাগল। এত বিস্তারিত ভাবে জানা ছিল না।প্রণাম নেবেন মহারাজ।ভাল থাকবেন।মধুমিতা মুখার্জী।দক্ষিনেশ্বর

    ReplyDelete
  10. খুব ভালো লাগলো। কত সুন্দর ভাবে কত গুণী মহারাজের কথা উপস্থাপন!! সমৃদ্ধ হলাম মহারাজ। সশ্রদ্ধ প্রনাম 🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  11. প্রণাম মহারাজ। স্বামী নিরঞ্জনানন্দ সম্পর্কিত অনেক বিষয় জানতে পারলাম। ওনাকে আমার সভক্তি প্রণাম। খুব সুন্দর post.স্বামী বিজ্ঞানানন্দ মহারাজ ও বেলুড় মঠের শুরুর দিকের কাহিনী জানতে ইচ্ছুক। ইতিদাস। হাইদ্রাবাদ।

    ReplyDelete
  12. অপূর্ব স্বামী নিরঞ্জন মহারাজের কথা জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি আপনি আমাদের অন্ধকারের থেকে আলোর পথ দেখাচ্ছেন আমরা যেন আপনার শ্রী চরণে ধরে থাকতে পারি প্রণাম শিক্ষা গুরু দেব শিখা মন্ডল ব জ ব জ

    ReplyDelete
  13. 🪴🪴🪴🪴💐💐💐💐💐🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏 joy thakur

    ReplyDelete
    Replies
    1. Khub khib e valo laglo maharaj. Mon vore galo.

      Delete
  14. 💐💐💐💐💐💐💐

    ReplyDelete
  15. খুব ভালো লাগলো মহারাজ 🙏

    ReplyDelete
    Replies
    1. Pronam moharaj 🙏🏼🙏🏼

      Delete
  16. অপূর্ব সুন্দর লেখনী।কত অজানা কে জানা হল।প্রণাম স্বামী নিরঞ্জনানন্দজীর চরণে।প্রণাম আমার গুরু মহারাজের চরণে।

    ReplyDelete
  17. অপূর্ব অনবদ্য স্বামী নিরাঞ্জনানন্দের জীবন কাহিনী। অনেক অজানা ঘটনা জানতে পেরে ধন্য হলাম।তার সরলতা,উদার মনোভাব,সাহস গুরু ভক্তি,সেবা ঠাকুরের কথায় উনি ঈশ্বরকোটি শ্রীরাম চন্দ্রের অংশে জন্ম।
    খুব ভালো লাগলো মহারাজ আপনার এই লেখাগুলো পড়ে।
    আপনি মহারাজ আমাদের মনের চাহিদা বারিয়ে দিয়েছেন। আরো অন্যান্য ঠাকুরের পার্ষদদের জীবন কাহিনী জানার অপেক্ষায় রইলাম।আমরা অভিভূত আপনার মতো একজন আচার্য দেব পেয়ে।
    আপনি সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন এই প্রর্থনা করি ঈশ্বরের কাছে 🙏🙏🌷🌷
    জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏🙏 ভালো থাকবেন মহারাজ, আমাদের জন্য আপনাকে ভালো থাকতেই হবে।
    দেবশ্রী বিশ্বাস বহরমপুর থেকে 🙏🌷🙏

    ReplyDelete
  18. Joy Thakur Joy Ma Joy Swamiji🙏🏻🙏🏻🙏🏻. Vaktivora pranam Tobo Shree Choroney Swami Niranjanananda Maharajji 🌺🌺🙏🏻🙏🏻. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌺🌺🙏🏻🙏🏻. Ki opurbi Jibondarshan paath protisthapon korechen ei write-ups er madhyomey, Maharajji 🌺🌺🙏🏻🙏🏻. Apner je kono lekhoni eto subinnyostho vabey lekha, amra porey mugdho hoyey jei. Osadhan Adhyatmik Gyanodarshan er chitropot etokhson dristipolokey probahito hochhilo, opurbo🌹🌹🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  19. প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। পড়ে খুব শান্তি পেলাম। প্রণাম স্বামী নিরঞ্জননন্দ মহারাজ জির চরণে
    সভক্তি প্রণাম আপনার চরণে আচার্য দেব।শিউলি রায় রানীগঞ্জ।

    ReplyDelete
  20. অনেক অনেক কিছু নুতন করে জানতে পারলাম। ভিষন ভালো লাগলো 👌
    অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার লেখা পড়ে উৎসাহিত হলাম।
    আবার ও নুতন , লেখা পাবার অপেক্ষায় রইলাম। কৃতজ্ঞতা সহিত প্রনাম নেবেন 🙏🙏🙏🙏🙏, dipannita

    ReplyDelete
    Replies
    1. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ জি মহারাজের উচ্চ আধ্যাত্মিক জীবনের নানান তথ্য জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো মহারাজ আপনার সুন্দর লেখনীতে। ছাত্ৰ জীবনে স্বামী নিরঞ্জনানন্দ জি ভুত তত্ত্ব নিয়ে চর্চা করতেন ও প্ল্যানচেটে মিডিয়ামের কাজ করতেন এবং প্যে রী চাঁদ মিত্রের প্ল্যান চেটে র সময়কার পরিবেশের ভয়াবহ গা ছম ছমে বর্ণনা খুবই উপভোগ্য।স্বামী নিরঞ্জনানন্দের সরলতা ও ঠাকুর ওনাকে ভুত তত্ত্ব থেকে আধ্যাত্মিক দিকে নিযে আসা খুব ভালো লেগেছে।আপনি আমার প্রনাম নেবেন মহারাজ।
      রীতা দত্ত, খড়গপুর।

      Delete
  21. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের জন্মভূমি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আপনার লেখা ব্লগ পরে আরও নতুন তথ্য জানতে পারলাম। লেখা গুলো বার বার পড়ছি।
    আপনি আমার অন্তরের সভক্তি প্রণাম গ্ৰহণ করুন।

    ReplyDelete
  22. স্বামী নিরজ্ঞনানন্দ র জীবনী অল্প পরিসরে অপূর্ব করে ফুটিয়ে তুলেছেন আমার আচার্য দেব,অসাধারণ লাগলো, পড়ে মন মুগ্ধ হয়ে গেল। প্রনাম গ্রহন করুন আচার্য দেব।। অপর্না দেওয়ানজী, সুভাষ গ্রাম।।

    ReplyDelete
  23. প্রণাম মহারাজ। স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জী কে জানাই শত কোটি প্রণাম। মহারাজ আপনার সান্নিধ্য লাভ করে আজ আমরা ঘরে বসে সকল গুরু মহারাজ দের সমন্ধে অনেক বিষয় জানতে পারছি। এটা আমার ঠাকুরের কৃপাতেই সম্ভব হচ্ছে।স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জীবনী আমাদের চলার পথে সহায়ক হবে।আপনার কঠোর পরিশ্রম সার্থক হোক ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি।জয় মহারাজের জয়।জয় ঠাকুরের জয়।

    ReplyDelete
  24. Khub valo laglo Maharaj. Niranjan. Maharaj er upare. Apnar ayee sundar lekha .anek kichu jante parlum 🙏🍀

    ReplyDelete
  25. স্বামী নিরন্জনানন্দ মহারাজ জীর জীবনী এত সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য আমি আপনার কাছে চিরকিতঘ্ন থাকবো। আচার্যদেব আপনি সুস্থ থাকুন।আপনার কৃপায় জীবনের আসল উদ্যেশ্য জানতে পারলাম। আপনাকে ভুলুন্ঠিত প্রনাম জানাই। তপনসিংহ ধানবাদ।

    ReplyDelete
  26. বিনম্র শ্রদ্ধা প্রণাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  27. অপূর্ব অসাধারন ব্যাখা। এতো সুন্দর ভাবে স্বামী নিরঞ্জনানন্দের জীবনীটি প্রকাশ করেছেন তা অতুলনীয়।
    প্রনাম স্বামী নিরঞ্জনানন্দ।👏
    প্রনাম মহারাজ।💐

    ReplyDelete
  28. স্বামী নিরঞ্জনানন্দের সম্পর্কে এই আলোচনা খুব ভালো লাগলো। স্বামীজীকে আমার প্রণাম জানাই। আচার্য্যমহারাজের এই উপস্থাপনাগুলি আমাদের জানার পরিসরকে বিস্তৃত করছে, আমরা সমৃদ্ধ হচ্ছি মহামানবদের জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কৃত আলোচনা পাঠ করে। মহারাজকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
    মালবিকা সেনগুপ্ত।বাঘাযতীন।

    ReplyDelete
  29. প্ননাম মহারাজ।নতূন অনেক কিছু জানতে পারলাম মহারাজের‌সম্বধে।মহারাজ কেপ্ননাম জানাই।আরো নতুন কিছু জানা র‌জন্য অপেক্ষায় র্ ইলাম।

    ReplyDelete
  30. প্রণাম মহারাজ খুব ভালো লাগলো অনেক অজানা কথা জানা গেল এরকম বারবার পেলে খুব ভালো লাগবে

    ReplyDelete
  31. Thakurer parshad der katha porle mone hay jeno alpo din ager katha. Mone ak bisesh onubhuti jage. Swami Niranjanananda samparke anek kichhu jante parlam. Khub bhalo laglo onar nistha o bairagya dekhe Shraddhapurna pronam janai thakurer nisthaban shisyake. Pronam neben maharaj. Krishnadey, jamshedpur.

    ReplyDelete
  32. খুব ভালো লাগলো মহারাজ। ধন্যবাদ মহারাজ। প্রনাম মহারাজ।

    ReplyDelete
  33. আন্তরিক ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন মহারাজ, আপনার প্রতিটি লেখা পড়তে খুব ভালো লাগে মহারাজ, নতুন অনেক তথ্য জানতে পারি।
    🙏🙏🌷🌷🙏🙏

    ReplyDelete
  34. আহা কী অপূর্ব লেখা মহারাজের! অপূর্ব নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের জীবন! কী যে ভালো লাগায় মন আপ্লুত হলো.. এমন সাধুদের দৈবী জীবনের কথা পড়তে পারলাম.. মন আলোয় ভরে উঠে.. এঁরা সব মুক্ত ঋষি এসেছিলেন.. শত কোটি প্রণাম জানাই 🙏🙏🙏..Nilima Singha Ray Choudhury

    ReplyDelete
  35. pronam maharaj.

    ReplyDelete
  36. Basanti Chatterjee kasundia shibpur Howrah pronam Maharaj..Nirajanandaji maharajer adhyatmik jibon mon vore gelo..tini Sudhyanandaji kr "Birajahome "..kore sannyash korechilen..ai "Birajahom "Ki janar ichhe ache..konosomoi aktu bolben asaha rakhi..pronam Maharaj.

    ReplyDelete
  37. পড়ে খুব ভালো লাগল। স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের সম্বন্ধে এতো কিছু জানা ছিল না। আরও নতুন কিছু জানার অপেক্ষায় রইলাম। প্রণাম মহারাজ।
    বন্দনা ভট্টাচার্য্য হায়দরাবাদ

    ReplyDelete
  38. খুব ভালো লাগলো আপনার জন্য এতো কিছু জানতে পারলাম মহারাজ 🙏🙏❤️❤️ আপনি খুব ভালো থাকুন সবসময় আর সুস্থ থাকুন। প্রনাম মহারাজ 🙏

    ReplyDelete
  39. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জির জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় মহারাজ খুব সুন্দর ভাবে তুলেধরেছেন তাঁর লেখার মধ্যে।স্বামী নিরঞ্জনানন্দ জির ছাত্রাবস্থায় ভুত তত্ত্ব চর্চা এবং ঠাকুরের সংস্পর্শে আসার পরে কি ভাবে ঠাকুর তাঁর সরলতার মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন...ক্রমশ তিনি উচ্চ কোটির আধ্যাত্মিক সাধক হয়েছিলেন।তাঁর গুরু ভক্তি, গুরুভাইদের প্রতি দায়িত্ব বোধ, শ্রী শ্রী মা কে সর্ব সমক্ষে জগদম্বা,জগৎজননী-রূপে প্রচার করেছিলেন সব আপনার লেখা পড়েই জানলাম মহারাজ।অসুস্থ অবস্থায় হরিদ্বার যাবার জন্য বিদায় নেবার দৃশ্য আপনি এত
    বেদনার সাথে লিখেছেন যে পড়ে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। আপনার লেখা এত সুন্দর যে বার বার পড়তে ইচ্ছে হয়। আমার ভক্তি পূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  40. খুব ভালো লাগলো মহারাজ কতৃক নিরঞ্জন মহারাজ এর জীবন

    ReplyDelete
  41. খুব ভালো লাগলো মহারাজ কতৃক নিরঞ্জন মহারাজ এর জীবনী জানতে পেরে

    ReplyDelete
  42. আমার প্রণাম নেবেন মহারাজ। আপনার সাবলীল লিখনে স্বামী নিরঞ্জনানন্দজী সম্পর্কে কত অজানা বিষয় জানলাম। ওঁনার শুভ জন্মতিথির প্রাক্-লগ্নে আমার দণ্ডবৎ প্রণাম জানাই।🙏

    ReplyDelete
  43. খুব ভালো লাগলো। প্রণাম নেবেন মহারাজ

    ReplyDelete
  44. অপূর্ব, অসাধারণ । এমন একজন দিব্য সন্যাসীর সম্পর্কে প্রায় কিছু ই জানতাম। আপনার উপস্থাপনাও অত্যন্ত মনোগ্রাহী। প্রায় এক নিশ্বাসে পড়লাম। আপনাকে প্রণাম।

    ReplyDelete
  45. নিরঞ্জনা নন্দ মহারাজের সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম।খুব ভালো লাগলো। ওনার সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানতাম না।সমৃদধ হলাম।‌‌‌ঠা ঠাকুরের পারষদ মহারাজদের সম্পর্কে জানতে চাই।পরের বল এর জন্য অপেক্ষায় রইলাম। জ্যোতি গাঙ্গুলি শ্রীরামপুর।

    ReplyDelete
  46. খুব ভালো লাগল মহারাজ।মায়ের কাছে বিদায়বেলার দৃশ্যটি আপনার বর্ণনা চোখে জল এসে যায়।প্রনাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  47. Bulu Mukherjee Alipore 🙏🙏🙏
    স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের ঘটনা বহুল জীবনী সম্পর্কে বিশদভাবে জানলাম মহারাজ ,ঠাকুরের কৃপাদিষ্ট হয়ে তাঁর জীবনের নূতন অধ্যায় ঠাকুর মা ও স্বামীজির সেবায় নিয়োজিত হয়েছিল ।ঠাকুরের ভাবধারায় দীক্ষিত হয়ে ঠাকুরের মহিমা প্রচার করেছেন,ত্যাগ ও বৈরাগ্য কে পাথেয় করে। অসাধারণ ভাবে উপস্থাপিত করেছেন মহারাজ। ধন্য হলাম পাঠ করে।অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই 🙏🙏 স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ কে। আপনাকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম ও অশেষ কৃতজ্ঞতা,,🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  48. খুব ভালো লাগলো মহারাজ ওনার সম্পর্কে কতকিছু জানতে পারলাম।

    ReplyDelete
  49. খুব ভালো লাগলো অনেক কিছু জানলাম প্রনাম নেবেন মহারাজা। কৃষ্ণানাগ।

    ReplyDelete
  50. প্রনাম নেবেন মহারাজ। খুব ভালো লাগলো অনেক কিছু জানতে পারলাম কৃষ্ণা নাগ।হাওরা

    ReplyDelete
  51. 🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  52. স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জির জীবনের নানা ঘটনা আপনার লেখায় জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম। আপনার class এর মতই আপনার লেখাও খুবই spontaneous. প্রণাম নেবেন মহারাজ।

    ReplyDelete
  53. প্রনাম জানাই পরম পুজ্যপাদ স্বামী নিরঞ্জনা নন্দ মহারাজের চরণে। অপূর্ব এক ঐশ্বরিক জীবন আলেখ্য পাঠ করে মন সমৃদ্ধ হল মহারাজ।
    আপনার ব্লগের মাধ্যমে কত অজানা তথ্য জানতে পারছি মহারাজ, সাধুকথা পাঠ করছি সাধুসঙ্গ লাভ করছি। এ আমার জন্মজন্মান্তরের পুন্যের ফল।
    আমার ভক্তিপূর্ণ প্রনাম নেবেন মহারাজ জী ।
    🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  54. অসাধারণ। অনেক কিছু জানতে পারলাম। এইরকম আরও জানতে চাই। ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি পূজনীয় আচার্যদেবের শ্রী চরণে।

    ReplyDelete
  55. Maharaj apner lekhonir madhyme Niranjana nando maharaj er sammonde jante pere nijeke samriddha mone hoche. Apni amader ke adhyatik jagote jaber jonno drubotarar moto. Sasrodho pronam janai Maharaj ji🙏🙏🙏🙏 Ranjita Mazumder, New Delhi

    ReplyDelete
  56. প্রণাম মহারাজ খুব ভালো লাগলো ্

    ReplyDelete
  57. প্রণাম স্বামী নিরঞ্জনানন্দজী মহারাজ 🙏🙏

    ReplyDelete
  58. সব লেখাতে,, comment koro,, সেয়ার‌ও করি,,, কিন্তু আমার Comments,,,একটাতেও post হয়না।
    কেন ‌‌জানতে‌‌পারিনি?????????
    তাই আর কোন লেখা, সেয়ার ও‌Comment korbo na.🙏🙏🙏🙏🙏🙏

    ReplyDelete
  59. খুব ভালো লাগল মহারাজ স্বামী জী র সম্ভধে অনেক কিছু জানতে পারলাম।এই রকম অনেক কিছু জানতে পারব এই আশা রাখছি।প্ননাম মহারাজ।সবিতা সাহা

    ReplyDelete
  60. জয়তু রামকৃষ্ণ
    সকল গুরুমহারাজদের ও আপনাকে অজস্র প্রণাম জানাই।

    ReplyDelete
  61. আপনার ব্লগের লেখা গুলো পড়ে অনেক কিছু নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছি। স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজ জীবনী সম্পর্কে জানতে পারলাম ।প্রনাম মহারাজ 🙏🙏🙏 ভালো ও সুস্থ থাকুন।
    রেখা সামন্ত, কাটোয়া।

    ReplyDelete
  62. 🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
    Replies
    1. খুব ভালো লাগল
      প্রনাম নিবেদন করি মহারাজজীর চরণে

      Delete
  63. অসাধারণ আমার ভক্তি পূরণ প্রণাম নেবেন মহারাজ

    ReplyDelete
  64. আচার্যদেব, আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করবেন ।নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের শ্রীচরণে ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই। ভীষন ভালো লাগলো মহারাজের সম্বন্ধে জানতে পেরে ।আপনি এত সুন্দর বর্ননা দিয়েছেন জীবনীর মাধ্যমে অপূর্ব । আপনি আমাদের জ্ঞানের আলো দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলুন এই প্রার্থনা করি।

    ReplyDelete
  65. Pronam Guru Maharaj
    Swami Niranjonanando Maharaj sombondhye anekh kichu jante parlam ,sroddhay matha natho holo,hridoyer antostholer sroddha bhokti o abhmi pronam janalam
    Iti Sardar behala

    ReplyDelete
  66. ভীষণ ভাল লাগল মহারাজ। ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।প্রনাম নেবেন মহারাজ।manjushri Bhattacharya...
    পূর্ব বধ'মান।।

    ReplyDelete
  67. শ্রীশ্রী ঠাকুর ও মায়ের আন্তরিক স্নেহ-ভালোবাসায় গড়া শ্রদ্ধেয় স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের শুদ্ধ সুন্দর পবিত্র জীবন -বড়ই লোভনীয়!! আপন দক্ষতায় কি যে নিখুঁত সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলেন! -সত্যিই আপনার তুলনা নেই মহারাজ। পড়তে পড়তে মনটা বেশ সুন্দর ভাবের রাজ্যে ডুবে যায়!- শেষে -'অঞ্জন বিহীন বন্ধনশূন্য নিত্য নিরঞ্জন!'- পবিত্র ইশোপনিষদের সেই অন্তিম প্রার্থনার মন্ত্র -মনে পড়ে যাচ্ছে!!- অদ্ভুত ভাবাবেশ!! খুব ভালো লাগলো মহারাজ। আপনার মতো এমন করে কে পথ দেখাবে বলুন!! আপনি সুস্থ শরীরে সুন্দর মনে সবসময় খুব ভালো থাকুন মহারাজ। আমার ভক্তি শ্রদ্ধা পূর্ন শত সহস্র বিনম্র প্রণাম আপনার পবিত্র শ্রীচরণ যুগলে। শ্রীশ্রী ঠাকুর-মা-স্বামীজীর মঙ্গল কৃপাবারি সকলের উপর বর্ষিত হোক...!
    🙏🌿🙏🌿🙏🌿🙏🌿🙏🌿🙏
    -----------------------------------------------

    ReplyDelete
  68. এক কথায় অসাধারণ সুন্দর!সাবলীল ভাষায় সুন্দর একটা উপস্থাপনা। পূজনীয় নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের বিষয়ে অনেক তথ্য জেনে উপকৃত হলাম।অনেক ধন্যবাদ। সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।।




    ReplyDelete
  69. Pranum Swami Niranjanananda.Pore mon bhore galo.ki sundar manush.Maharaj ke dhanyabad o Pranum janai.🙏

    ReplyDelete
  70. অপূর্ব লাগলো। অনেক অজানা তথ্য জানলাম

    ReplyDelete
  71. প্রণাম । অনেক অজানা বিষয় জানলাম।

    ReplyDelete
  72. অপূর্ব লাগল। শেষের দিকের 'এক নজরে স্বামী নিরাজ্ঞনানন্দ' লেখাটি পড়তে পারলাম না।মার্কার দিয়ে মোছা ছিল। আপনি আমার প্রণাম নেবেন মহারাজ। ভাল থাকবেন। আমি হাইদ্রাবাদ থেকে ইতিদাস।

    ReplyDelete
  73. আমার ভক্তীপূর্ণ প্রণাম গ্রহন করুন মহারাজ।আপনার লেখাটি পড়ে স্বামী নিরন্জনান্দ মহারাজ সম্বন্ধে অনেককিছু জানলাম।
    খুব ভাললাগল।
    সুব্রত মুখার্জ্জী
    গড়িয়া

    ReplyDelete

  74. প্রণাম মহারাজ। না জানা অনেক কিছুই জানলাম এই মহারাজ জীর সম্পর্কে।

    ReplyDelete
  75. ঠাকুরের প্রতক্ষ্য শিষ্য স্বামী নিরঞ্জনানন্দজীর জীবন আমাদের প্রেরণাপ্রদ সম্পদ। আপনার লেখনীতে তা ভাস্বর হয়ে উঠেছে মহারাজ।🙏

    ReplyDelete
  76. প্রণাম। অনেক অজানা বিষয় জানলাম।

    ReplyDelete
  77. Maharaj ami apnader group e jogdan korte chai. Ki bhave hobo. Amar nam chhabimajumder majumder bhadra

    ReplyDelete
  78. Voktipurno pronam maharaj

    ReplyDelete
  79. 🙏'ভব ভয় ভঞ্জন নিত্য নিরঞ্জন..!'🙏
    পবিত্র রাখী পূর্ণিমার পূণ্য লগ্নে শুভ জন্ম তিথির (সম্ভবত) বৃষ্টি ভেজা সুন্দর প্রাতে - আমাদের ঠাকুরের পরম অন্তরঙ্গ-স্নেহ ধন্য..মহাপ্রাণ শ্রদ্ধেয় স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের শ্রীচরণ কমলে আমার অন্তরের শ্রদ্ধানত বিনম্র প্রণাম নিবেদন করি।🙏🙏
    আমাদের সকলের প্রিয় পূজনীয় দেবতুল্য গুরু-মহারাজের শ্রীচরণ পদ্ম যুগলে আমার প্রাণের ভক্তি অর্ঘ্য প্রণাম জানাই। খুব ভালো থাকবেন মহারাজ। আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভ কামনা নিরন্তর...
    🙏*********************🙏

    ReplyDelete
  80. শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজি জয়। অসাধারণ জীবনী পড়ে ভীষণ ভাল লাগল।পরম শ্রদ্ধেয় আচার্যদেব ও নিরঞ্জন মহারাজ কে বিনম্র শ্রদ্ধা যুক্ত প্রণাম জানাই।অপূর্ব, খুব ভাল লাগল, লেখককে ধন্যবাদ জানাই আন্তরিক ভাবে খুব সুন্দর লেখা উপহার দিয়েছেন আমাদের। জয় ঠাকুর

    ReplyDelete
  81. 'অনাদি অনন্ত বেদাদি বেদান্ত...
    নিত্য নিরঞ্জন হরে মুরারে।।'
    রাখী পূর্ণিমার পূণ্য আবির্ভাব তিথিতে - তব শ্রীচরণ কমলে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে বারে বারে নমি। অন্তরঙ্গ পার্ষদ সঙ্গে প্রভুর আমার কি যে সুন্দর লীলা মাধুর্য!! সত্যিই যেন কত দিনের চেনা!! প্রণাম নাও ভগবান। তোমার করুণা ভরা আলোক রাখী জড়ায়ে রেখো আমার হাতে!! খুব ভালো থাকবেন মহারাজ। আমার ভক্তি শ্রদ্ধা পূর্ন শত সহস্র বিনম্র প্রণাম আপনার পবিত্র শ্রীচরণ যুগলে।
    🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏🌹🙏
    🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

    ReplyDelete
  82. ভীষন ভালো লাগলো স্বামী নিরঞ্জনানন্দ মহারাজের জীবনী শুনে প্রণাম নেবেন মহারাজ🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
  83. khub bhalo laglo pore pronam

    ReplyDelete
  84. অসাধারণ । প্রণাম প্রণাম সবাইকে প্রণাম ।👣👣👣👣👣🕉️🕉️🕉️🌺🌺🌷🙏🙏🙏🪔🪔🪔🇮🇳🇮🇳🇮🇳

    ReplyDelete
  85. New topic. Very interesting. Pranam Maharaj 🙏 🙏

    ReplyDelete
  86. Pore bhalo laglo .🙏

    ReplyDelete

Post a Comment