সরলার্থ -যিনি অজ্ঞেয় তথাপি সম্পূর্ণ বেদান্তের
সিদ্ধান্তবাক্য দ্বারা যাঁকে জানা যেতে পারে, সেই পরমানন্দস্বরূপ সদ্গুরু শ্রীমৎ স্বামী গোবিন্দপাদকে আমি
প্রণাম করি।
সরলার্থ –জীবের প্রথমতঃ নরজন্ম দুর্লভ।তারপর পুরুষজন্মপ্রাপ্তি এবং ব্রাহ্মণত্ব
প্রাপ্তি কঠিন।ব্রাহ্মণ হয়েও বৈদিক ধর্মের অনুগামী
ও বিদ্বান হওয়া ও কঠিন।এই সব প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও আত্মা
এবং অনাত্মার বিবেক ও সম্যক অনুভব আরও দুর্লভ।ব্রহ্মত্মভাবে স্থিতিরূপ মুক্তি কোটি
কোটি জন্ম সত্ত্বেও শুভকর্মের পরিপাক ভিন্ন প্রাপ্ত হয়যা যায় না।
দুর্লভং ত্রয়মেবৈতদ্দেবানুগ্রহহেতুকম্।
মনুষ্যত্বং মুমুক্ষুত্বং মহাপুরুষসংশ্রয়ঃ।।৩
সরলার্থ -ভগবৎকৃপাই যে সকল প্রাপ্তির কারণ সেই
মনুষ্যত্ব, মুমুক্ষত্ব অর্থাৎ
মুক্তির ইচ্ছা এবং মহাপুরুষের সঙ্গ –এই তিনটি অত্যন্ত দুর্লভ।
লব্ধা কথঞ্চিননরজন্ম দুর্লভং
তত্রাপি পুংস্ত্বং শ্রুতিপারদর্শম্।
যস্ত্বাত্মমুক্তৌ ন যতেত মূঢ়ধীঃ
স হ্যাত্মহা স্বং বিনিহন্ত্যসদ্গ্রহাৎ।।৪
সরলার্থ- কোন প্রকারে এই
দুর্লভ মানব জন্ম পেয়ে এবং যে জন্মে শ্রুতির পরম সিদ্ধান্ত জ্ঞাত হওয়া যায় সেই পুরুষজন্ম
পেয়েওযে মূঢ়বুদ্ধিব্যক্তি স্বীয় আত্মার মুক্তির জন্য চেষ্টা না করে সে নিশ্চয়ই
আত্মঘাতী।সে অসদ্ বস্তুতে আস্থা করে নিজের বিনাশ করে
থাকে।
সরলার্থ- এই দুর্লভ মানব
দেহ পেয়ে তাতে পুরুষত্ব প্রাপ্ত হয়ে যারা স্বার্থ সাধনে প্রমাদ বা ভুল করে তাদের থেকে
অধিক মূঢ় আর এই জগতে কে হতে পারে?
বদন্তু শাস্ত্রাণি যজন্তু দেবান্
কুর্বন্তু কর্মাণি ভজন্তু দেবতাঃ
আত্মৈক্যবোধেন বিনাপি মুক্তি-
ন সিধ্যতি ব্রহ্মশতাম্ভ্রে৳পি।৬
সরলার্থ –কেউ শাস্ত্র পাঠ ও বিচার করতে পারেন, যজ্ঞাদি করতে পারেন, শাস্ত্র বিহিত বিবিধ কর্মের অনুষ্ঠান
করতে পারেন, ইষ্টদেবতার উপাসনা
করতে পারেন, কিন্তু ব্রহ্মজ্ঞান
না হলে এই সব সাধনার দ্বারা ব্রহ্মার শতবর্ষ আয়ুর মধ্যেও মুক্তিলাভ হবে না।{ব্রহ্মার আয়ু =মানুষের ৪৩২ লক্ষ বছরে ব্রহ্মার এক দিন হয়।এই ভাবে ব্রহ্মা একশ বছর জীবিত থাকেন।এর পর মহা প্রলয় হয়।}
অমৃতত্বস্য নাশাস্তি বিত্তেনেত্যেব
হি শ্রুতিঃ।
ব্রবীতি কর্মণো মুক্তেরহেতুত্বং স্ফুটং
যতঃ।।৭
সরলার্থ- ধনের দ্বারা অমৃতত্ব লাভ করা যায় না, কর্ম মুক্তির হেতু নয় –শ্রুতি এ কথা স্পষ্ট বলছেন।
ধন শুভ কর্মে যদি দান করা হয় তার ফলে পুণ্যলাভ হয়, স্বর্গলাভ হয়।যদি নিষ্কামভাবে দানাদি কর্ম করা হয়, তার দ্বারা চিত্তশুদ্ধি হয়।সাক্ষাৎ ভাবে ধন বা কর্ম মুক্তির কারণ
হতে পারে না।মুক্তির কারণ জীব ও ব্রহ্মের একতার
অপরোক্ষ জ্ঞান।
অতো বিমুক্ত্যৈ প্রযতেত বিদ্বান্
সংন্যস্তবাহ্যার্থসুখস্পৃহঃ সন্।
সন্তং মহান্তং সমুপেত্য দেশিকং
তেনোপদিষ্টার্থসমাহিতাত্মা।।৮
সরলার্থ –এই জন্য বিদ্বান ব্যক্তি সম্পূর্ণ বাহ্য
ভোগাদির ইচ্ছা পরিত্যাগ করে সাধুশ্রেষ্ঠ শ্রীগুরুর শরণ গ্রহণ করবেন এবং তাঁর উপদেশ
মত সমাহিত হয়ে মুক্তির জন্য চেষ্টা করবেন।
উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং মগ্নং সংসারবারিধৌ।
যোগারূঢ়ত্বমাসাদ্য সম্যগ্দর্শননিষ্ঠয়া।।৯
সরলার্থ –নিরন্তর সত্য বস্তু আত্মাকে দর্শনের লক্ষ্য করে এবং যোগারূঢ় হয়ে সংসার সাগরে নিমগ্ন
মানব নিজ আত্মাকে আত্মার দ্বারা উদ্ধার করবে।
সংন্যস্য সর্বকর্মাণি ভববন্ধবিমুক্তয়ে।
যত্যতাং পণ্ডিতৈধীরৈরাত্মাভ্যাস উপস্থিতৈঃ।।১০
সরলার্থ –নিরন্তর আত্মবিচার পরায়ণ ধীর পণ্ডিতগণ
সকল কর্ম পরিত্যাগ করে ভব-বন্ধন নিবৃত্তির জন্য যত্নবান হবেন।
চিত্তস্য শুদ্ধয়ে কর্ম নতু বস্তুপলব্ধয়ে।
বস্তুসিদ্ধির্বিচারেণ ন কিঞ্চিৎ কর্মকোটিভিঃ।।১১
সরলার্থ-কর্ম চিত্তশুদ্ধির জন্য, তত্ত্বজ্ঞানের জন্য নয়।বস্তুসিদ্ধি বা তত্ত্বজ্ঞান কেবল বিচার
দ্বারাই হয়ে থাকে।কোটি কোটি কর্মের দ্বারা কিছুই হতে
পারে না।
সম্যগ্বিচারতঃ সিদ্ধা রজ্জুতত্ত্বাবধারণা।
ভ্রান্তোদিতমহাসর্পভয়দুঃখবিনাশিনী।।১২
সরলার্থ –অজ্ঞানের জন্য দড়িতে যে সাপের ভ্রম হয় তা যেমনসম্যক্ বিচারের দ্বারা
মহাসর্পরূপ যে মহাদুঃখ তা বিনাশ প্রাপ্ত হয়।জন্ম ও মৃত্যুই হল মহাদুঃখ।
অর্থস্য নিশ্চয়ো দৃষ্টো বিচারেণ হিতোক্তিতঃ।
ন স্নানেন ন দানেন প্রাণায়ামশতেন বা।।১৩
সরলার্থ- দেখা যায় কল্যাণপ্রদ
যুক্তিসমূহ দ্বারা বিচার করলে পরমাত্মা নিশ্চয় হয়।স্নান , দান বা শত প্রাণায়ামের দ্বারাও সিদ্ধ
হয় না।
সরলার্থ –এই কারণেব্রহ্মজ্ঞ দয়ালু সদ্গুরুকে লাভ করে তাঁর নিকটনিরন্তরআত্ম-স্বরূপের বিচার করা জিজ্ঞাসু ব্যক্তির পক্ষে অবশ্য কর্তব্য।
মেধাবী পুরুষো বিদ্বানূহাপ্পহবিচক্ষণঃ।
অধিকার্যাত্মবিদ্যায়ামুক্তলক্ষণলক্ষিতঃ।।১৬
সরলার্থ –বুদ্ধিমান, বিদ্বান, সত্যাসত্য বিচারে কুশল এই প্রকার
শাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষণযুক্ত পুরুষই আত্মবিদ্যার প্রকৃত অধিকারী।
বিবেকিনো বিরক্তস্য শমাদিগুণশালিনঃ।
মুমুক্ষোরেব হি ব্রহ্মজিজ্ঞাসাযোগ্যতা
মতা।।১৭
সরলার্থ –সদসদ বিবেকী, বৈরাগ্যবান, শমদমাদি ষট্সম্পত্তি ও মুমুক্ষুই ব্রহ্ম- জিজ্ঞাসার যোগ্য বলে স্বীকৃত।
সাধনান্যত্র চত্বারি কথিতানি মনীষিভিঃ।
যেষু সৎস্বেব সন্নিষ্ঠা যদভাবে ন সিধ্যতি।।১৮
সরলার্থ –মননশীল ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসুর চারটি সাধন বলেছেন।এই সব যাঁর মধ্যে বর্তমান তিনি
সত্যস্বরূপ আত্মাতে স্থিতিলাভ করতে পারেন।ঐ সমস্ত সাধন যার মধ্যে নেই সে আত্মাতে স্থিতি লাভ করতে
পারে না ।
আদৌ নিত্যানিত্যবস্তুবিবেকঃ পরিগণ্যতে।
ইহামুত্রফলভোগবিরাগস্তদনন্তরম্।
শমাদিষট্কসম্পত্তির্মুমুক্ষুত্বমিতি স্ফুটম্।১৯
সরলার্থ- চারটি সাধনের প্রথমটি হল নিত্য অনিত্য বস্তু বিবেক।তারপর ইহামুত্রফলভোগবিরাগ, শমাদি-ষট্ সম্পত্তি এবং মুমুক্ষুত্ব।
ব্রহ্ম সত্যং জগন্মিথ্যেত্যেবংরূপো
বিনিশ্চয়ঃ।
সো৳য়ং নিত্যানিত্যবস্তুবিবেকঃ সমুদাহৃতঃ।।২০
সরলার্থ –ব্রহ্ম সত্য ও জগৎ মিথ্যা –এই প্রকার দৃঢ় প্রত্যয়ই নিত্যানিত্য
বস্তুবিবেক বলে কথিত হয়।
তদ্বৈরাগ্যং জিহাসা যা দর্শনশ্রবণাদিভিঃ।
দেহাদিব্রহ্মপর্যন্তো হ্যনিত্যে ভোগবস্তুনি।।২১
সরলার্থ –নিজের দেহ থেকে ব্রহ্মার দেহ পর্যন্ত অনিত্য ভোগ্যবস্তুসকলের
দোষ দর্শন ও শ্রবণের ফলে মনে যে বিষয় ত্যাগের ইচ্ছা উৎপন্ন হয়, তাকে বৈরাগ্য বলে।
বিরজ্য বিষয়ব্রাতাদ্দোষদৃষ্ট্যা মুহুর্মুহুঃ।
স্বলক্ষ্যে নিয়তাবস্থা মনসঃ শম উচ্যতে।।২২
সরলার্থ- বার বার
বিষয়ের দোষদর্শনের দ্বারা বিষয়ের প্রতি বৈরাগ্য আসার ফলে মনের নিজের লক্ষ্য
ব্রহ্মে যে স্থিতি তাকে শম বলে।
বিষয়েভ্যঃ পরাবর্ত্য স্থাপনং স্বস্বগোলকে।
উভয়েষামিন্দ্রিয়াণাং স দমঃ পরিকীর্তিতঃ।
বাহ্যানালম্বনং বৃত্তেরেষোপরতিরুত্তমা।।২৩
সরলার্থ –জ্ঞানেদ্রিয় ও কর্মেন্দ্রিয় সকলকে ভোগ্য বিষয় থেকে সরিয়ে নিয়ে ইন্দ্রিয়সমূহের নিজের
নিজের স্থানে নিশ্চল ভাবে রেখে দেওয়াকে দম বলে।চিত্তবৃত্তি বাহ্য বিষয়াকারে
পরিণত না হওয়াকে উপরতি বলে।
সহনং সর্বদুঃখানামপ্রতীকারপূর্বকম্।
চিন্তাবিলাপরহিতং সা তিতিক্ষা নিগদ্যতে।।২৪
সরলার্থ –যে কোন প্রকারের দুঃখ উপস্থিত হোক না কেন, তার জন্য মনে কোন চিন্তাভাবনা না করে বা দুঃখের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ না করে
ও দুঃখের প্রতিকারের জন্য কোন চেষ্টা না করে সহ্য করে যাওয়াকে তিতিক্ষা বলে।
শাস্ত্রস্য গুরুবাক্যস্য সত্যবুদ্ধ্যবধারণম্।
সা শ্রদ্ধা কথিতা সদ্ভির্যয়া বস্তুপলভ্যতে।।২৫
সরলার্থ –গুরুর উপদেশ ও বেদান্ত শাস্ত্রের শিক্ষা যথার্থ সত্য বলে
দৃঢ়তার সঙ্গে অন্তরে গ্রহণ করাকে জ্ঞানিগণ শ্রদ্ধা বলে থাকেন।
সর্বদা স্থাপনং বুদ্ধেঃ শুদ্ধে ব্রহ্মণি
সর্বথা।
ত্বৎ সমাধানমিত্যুক্তং ন তু চিত্তস্য
লালনম্।।২৬
সরলার্থ- সব সময় বুদ্ধিকে শুদ্ধব্রহ্মে লগ্ন করে রাখাকে বলা হয়
সমাধান।কৌতূহল বশে বেদান্ত তত্ত্ব আলোচনার করার ফলে মনে যে তৃপ্তিলাভহতে পারে তাকে সমাধান
বলা যায় না।
অহংকারাদিদেহান্তান্ বন্ধানজ্ঞানকল্পিতান্।
স্বস্বরূপাববোধেন মোক্তুমিচ্ছা মুমুক্ষুতা
।।২৭
সরলার্থ- আত্মস্বরূপের উপলব্ধির সহায়েঅবিদ্যা থেকে উৎপন্ন সূক্ষ্ম অহংকার থেকে আরম্ভ করে স্থূল
দেহ পর্যন্ত সব বন্ধন থেকে মুক্তির ইচ্ছাকে মুমুক্ষুতা বলে।
মন্দমধ্যমরূপাদি বৈরাগ্যেণ শমাদিনা।
প্রসাদেন গুরোঃ সেয়ং প্রবৃদ্ধা সূয়তে
ফলম্।।২৮
সরলতা –সেই মুমুক্ষুতাযদি মন্দ ও মধ্যমও হয় তথাপি বৈরাগ্য এবং শম দমাদি ষট্- সম্পত্তি ও শ্রীগুরুর কৃপায় তা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে ফল উৎপন্নকরে।
বৈরাগ্যং চমুমুক্ষুত্বং তীব্রং যস্য তু বিদ্যতে।
তস্মিন্নেবার্থবন্তঃ স্যুঃ ফলবন্তঃ
শমাদয়ঃ।।২৯
সরলার্থ –যে ব্যক্তিতে বৈরাগ্য ও মুমুক্ষুতা তীব্রভাবে বর্তমান তাঁতে শমদমাদি সার্থক ও সফল
হয়।
এতয়োর্মন্দতা যত্র বিরক্তত্ত্বমুমুক্ষয়োঃ।
মরৌ সলিলবৎ তত্র শমাদের্ভানমাত্রতা।।৩০
স্রলার্থ –যে স্থানে বৈরাগ্য এবং মুমুক্ষুত্ব মৃদু সে স্থানে শমদমাদি
ও মরুভূমিতে জল-প্রতীতির ন্যায় আভাস মাত্র মনে করতে হবে।
মোক্ষকারণসামগ্র্যাং ভক্তিরেব গরীয়সী।
স্বস্বরূপানুসন্ধানং ভক্তিরিত্যভিধীয়তে।
স্বাত্মতত্ত্বানুসন্ধানং ভক্তিরিত্যপরে
জগুঃ।।৩১
সরলার্থ- মুক্তির কারণরূপ সামগ্রীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল
ভক্তি। নিজের বাস্তবিক স্বরূপের অনুসন্ধানকে ভক্তি বলে।
উক্তসাধনসম্পন্নস্তত্ত্বজিজ্ঞাসুরাত্মনঃ।
উপসীদেদ্ গুরুং প্রাজ্ঞংযস্মাদ্বন্ধবিমোচনম্।।৩২
সরলার্থ –উক্ত সাধন চতুষ্টয় সম্পন্ন আত্মতত্ত্বের জিজ্ঞাসু ব্যক্তি স্থিত প্রজ্ঞ গুরুর কাছে
গমন করবেন, তাতে ভব বন্ধন মুক্ত হবে।
শ্রোত্রিয়ো৳বৃজিনো৳কামহতো যো ব্রহ্মবিত্তমঃ।
ব্রহ্মণ্যুপরতঃ শান্তো নিরিন্ধন ইবানলঃ।
অহেতুকদয়াসিন্ধুবন্ধুরানমতাং সতাম্।।৩৩
সরলার্থ –বেদজ্ঞ, নিষ্পাপ, কামনাশূন্য যে ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ বাহ্য বিষয় ত্যাগ করে ব্রহ্মচিন্তায়
মগ্ন, শান্ত, জ্বলিতকাষ্ঠ ধোঁয়াহীন অগ্নির
মতো তেজস্বী, অহেতুক দয়াপরায়ণ প্রণত সৎ ব্যক্তিদের বন্ধুস্বরূপ।
তমারাধ্য গুরুং ভক্ত্যা প্রহ্ব-প্রশ্রয়-সেবনৈঃ।
প্রসন্নং তমনুপ্রাপ্য পৃচ্ছেৎ জ্ঞাতব্যমাত্মনঃ।।৩৪
সরলার্থ –এই প্রকার গুরুকে ভক্তি সহকারে প্রণাম, নম্রতা ও সেবা দ্বারা প্রসন্ন করে তাঁর কাছে নিজের জ্ঞাতব্য বিষয় নিবেদন করবেন।
স্বামিন্ নমস্তে নতলোকবন্ধো
কারুণ্যসিন্ধো পতিতং ভবাব্ধৌ।
মামুদ্ধরাত্মীয়কটাক্ষদৃষ্ট্যা
ঋজ্বা৳হিতকারুণ্যসুধাভিবৃষ্ট্যা।।৩৫
সরলার্থ –হে শরণাগতবৎসল, করুণাসাগর প্রভো, আপনাকে প্রণাম, আমি সংসার সাগরে পতিত, আপনি আপনার সরল ও কৃপা কটাক্ষেরদ্বারা আমাকে ভবসাগর
থেকে উদ্ধার করুন।
দুর্বারসংসারদবাগ্নিতপ্তং
দোধূয়মানং দুরদৃষ্টবাতৈঃ।
ভীতং প্রপন্নং পরিপাহি মৃত্যোঃ
শরণ্যমন্যদ্ যদহং ন জানে।৩৬
সরলার্থ- এই দুর্বার সংসারদাবানলে দগ্ধ ও দুর্ভাগ্যরূপ প্রবল ঝড়ে কম্পিত ও ভীত আমাকে
–আপনার শরণাগতকে আপনি মৃত্যুমুখ থেকে রক্ষা করুন।আমি আপনার অনন্য শরণাগত, আমাকে রক্ষা করুন।
শান্তা মহান্তো নিবসন্তি সন্তো
বসন্তবল্লোকহিতং চরন্তঃ
তীর্ণাঃ স্বরং ভীমভবার্ণবংজনান্
অহেতুনা৳ন্যানপি তারয়ন্তঃ।।৩৭
সরলার্থ- আপনি স্বয়ং ভয়ঙ্কর সংসার সাগর থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন ও
অন্যদেরও অহেতুক ভব সিন্ধু থেকে ত্রাণ করেছেন। আপনি লোকহিতকর কর্মে নিরত অতি শান্ত
মহাপুরুষ ঋতুরাজ বসন্তের মত বিরাজ করছেন।
অয়ং স্বভাবঃ স্বত এব যৎ পর-
শ্রমাপনোদপ্রবণং মহাত্মনাম্।।৩৮
সরলার্থ –মহাত্মাদের স্বভাব তাঁরা স্বয়ং অপরের শ্রম লাঘব করতে প্রস্তুত হন।
সরলার্থ - হে প্রভো, প্রচণ্ড সংসার দাবাগ্নির ভীষণ জ্বালায়
সন্তপ্ত এই দীন শরণাগতকে আপনি আপনার ব্রহ্মানন্দ অনুভবের দ্বারা পরমপবিত্র, সুশীতল, নির্মল এবং বাকরূপী সুবর্ণ কলস থেকে
নির্গত বচনামৃত দ্বারা শীতল করুন।আপনি দয়া করে
ক্ষণকালের জন্যও যাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দান করেছেন, তারাই এ জগতে ধন্য।
কথং তরেয়ং ভবসিন্ধুমেতং
কা বা গতির্মে কতমো৳স্ত্যুপায়ঃ।
জানে ন কিঞ্চিৎ কৃপয়া৳ব মাং প্রভো
সংসারদুঃখক্ষতিমাতনুষ্ব।।৪০
সরলার্থ –আমি এই ভবসাগর থেকে কী উপায়ে উত্তীর্ণ
হব? আমার কী গতি হবে? ভবসিন্ধু পারের উপায় কী? –আমি এই সব কিছুই জানি না।হে প্রভো, কৃপা করে আমাকে রক্ষা করুনএবং আমার ভবদুঃখ বিনাশের প্রতিবিধান করুন।
তথা বদন্তং শরণাগতং স্বং
সংসারদাবানলতাপতপ্তম্।
নিরীক্ষ্য কারুণ্যরসার্দ্রদৃষ্ট্যা
দদ্যাদভীতিং সহসা মহাত্মা।।৪১
সরলার্থ –এই ভাবে আর্ত হয়ে প্রার্থনা করতে দেখে
শরণাগত ও সংসার দাবানলে দগ্ধ আপন শিষ্যকে শ্রীগুরু করুণাদৃষ্টিতে তাকে অভয় প্রদান করেন।
বিদ্বান্ স তস্মা উপসত্তিমীয়ুষে
মুমুক্ষবে সাধু যথোক্তকারিণে।
প্রশান্তচিত্তায় শমান্বিতায়
তত্ত্বোপদেশং কৃপয়ৈব কুর্যাৎ।।৪২
সরলার্থ – শরণাগত মুমুক্ষু, আজ্ঞাপালনকারী প্রশান্তচিত্ত, শম দমাদি ষট্-সম্পত্তি
সম্পন্ন সাধু শিষ্যকে শ্রীগুরুদেব কৃপা করে তত্ত্বোপদেশ করবেন।
মা ভৈষ্ট বিদ্বাংস্তব নাস্ত্যপায়ঃ
সংসারসিন্ধোস্তরণে৳স্ত্যুপায়ঃ।
যেনৈব যাতা যতয়ো৳স্য পারং
তমেব মার্গং তব নির্দিশামি।।৪৩
সরলার্থ – শ্রীগুরু বললেন – হে বিদ্বান, তুমি ভয় পেও না , তোমার নাশ হবে না। সংসার থেকে ত্রাণের উপায়
আছে। যে পথ অবলম্বন করে যতিগণ একে পার করেছেন, সেই পথ আমিতোমাকে বলছি।
অস্ত্যুপায়ো মহান্ কশ্চিৎ
সংসারভয়নাশনঃ।
তেন তীর্ত্বা ভবাম্ভোধিং পরমানন্দমাপ্স্যসি।।
৪৪
সরলার্থ – সংসার ভয় বিনাশের এক আসাধারন উপায়
আছে, যার দ্বারা তুমি ভবসাগর পার হয়ে পরমানন্দ লাভ করবে।
বেদান্তার্থবিচারেণ জায়তে
জ্ঞানমুত্তমম্।
তেনাত্যন্তিকসংসারদুঃখনাশো
ভবত্যনু।। ৪৫
সরলার্থ –বেদান্ত বাক্যের অর্থ বিচার করলে উত্তম জ্ঞান উৎপন্ন হয়, যার দ্বারা সংসার
দুঃখের আত্যন্তিক নাশ হয়ে থাকে।
শ্রদ্ধাভক্তিধ্যানযোগান্
মুমুক্ষো-
র্মুক্তের্হেতুন্ বক্তি
সাক্ষাচ্ছ্রতেগীঃ।।
যো বা এতেষ্বেব তিষ্ঠত্যমুষ্য
মোক্ষো৳বিদ্যাকল্পিতদেহবন্ধাৎ।।৪৬
সরলার্থ- শ্রদ্ধা ভক্তি
ধ্যান ও যোগকে শ্রুতি মুক্তির সাক্ষাৎ হেতু বলেছেন।যিনি এই সকলে স্থিতিলাভ করেন তাঁর অবিদ্যাকল্পিত
দেহ বন্ধন থেকে মুক্তি হয়।
অজ্ঞানযোগাৎ পরমাত্মনস্তব
হ্যনাত্মবন্ধস্তত এব সংসৃতিঃ।
তয়োর্বিবেকোদিতবোধবহ্নি-
রজ্ঞানকার্যং প্রদহেৎ সমূলম্।।৪৭
সরলার্থ – তুমি স্বয়ং পরমাত্মা, তোমার যে অনাত্মা বন্ধনতা অজ্ঞান প্রসূত এবং তার ফলে তোমার
জন্ম-মরণরূপ সংসার প্রাপ্তি হয়েছে। অতএব আত্মা ও অনাত্মার বিবেক দ্বারা উৎপন্ন
বোধরূপ অগ্নি অজ্ঞানের কার্যরূপে সংসারকে সমূলে ভস্মীভূত করে দেবে।
শিষ্য উবাচ -
কৃপয়া শ্রূয়তাং স্বামিন্ প্রশ্নো৳য়ং ক্রিয়তে ময়া।
যদুত্তরমহং শ্রুত্বা কৃতার্থঃ স্যাং ভবন্মুখাৎ।। ৪৮
সরলার্থ –শিষ্য বললেন –হে স্বামিন্, আমি প্রশ্ন করছি, আপনি কৃপা করে
শ্রবণ করুন।আমার প্রশ্নের উত্তর আপনার শ্রীমুখ
থেকে শুনে আমি কৃতার্থ হয়ে যাব।
কো নাম বন্ধঃ কথমেষ আগতঃ
কথং প্রতিষ্ঠা৳স্য কথং বিমোক্ষঃ।
কো৳সাবনাত্মা পরমঃ ক আত্মা
তয়োর্বিবেকঃ কথমেতদুত্যতাম্।।৪৯
সরলার্থ – বন্ধন কী? কোথা থেকে এল? এর স্থিতি কী প্রকার? এর থেকে মুক্তি কীভাবে পাওয়া
যায়? অনাত্মা কী ও পরমাত্মাই বা কী? কেমন করে এদের বিবেক হয়? আপনি কৃপা করে এই সব
বলুন।
শ্রীগুরুরুবাচ -
ধন্যো৳সি কৃতকৃত্যো৳সি পাবিতং তে কুলং ত্বয়া।
যদবিদ্যাবন্ধমুক্ত্যা ব্রহ্মীভবিতুমিচ্ছসি।। ৫০
সরলার্থ – শ্রীগুরু বললেন – তুমি ধন্য, তুমি কৃতকৃত্য, তোমার দ্বারা তোমার কুল পবিত্র হয়ে গেল, কারণ তুমি
অবিদ্যারূপ বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ব্রহ্মভাবকে প্রাপ্ত হতে ইচ্ছা করছ।
ঋণমোচনকর্তারঃ পিতুঃ সন্তি সুতাদয়ঃ।
বন্ধমোচনকর্তা তু স্বস্মাদন্যো ন কশ্চন।।৫১
সরলার্থ – পিতৃ-ঋণ পরিষোধ তো পুত্রাদির দ্বারাও হয়ে থাকে, কিন্তু ভব বন্ধন থেকে মুক্তি
আপনি ভিন্ন অপর কেউ দিতে পারে না।
মস্তকন্যস্তভারাদের্দুঃখমন্যৈর্নিবার্যতে।
ক্ষুধাদিকৃতদুঃখস্তু বিনা স্বেন ন কেনচিৎ।।৫২
সরলার্থ – মস্তকের উপর রাখা ভার অপর কেউ দূর করতে পারে, কিন্তু ক্ষুধাতৃষ্ণাদির দুঃখ
স্বয়ং ছাড়াঅপর কেউ মেটাতে পারে না।
পথ্যমৌষধসেবা চ ক্রিয়তে যেন
রোগিনা।
আরোগ্যসিদ্ধিদৃষ্টাস্য
নান্যানুষ্ঠিতকর্মণা।।৫৩
সরলার্থ – যে রোগী পথ্য ও ঔষধ সেবন করলে সে আরোগ্যলাভ করে তা দেখা যায়। অন্য কেউ ঐ সব
করলে রোগমুক্ত হয় না।
বস্তুস্বরূপং স্ফুটবোধচক্ষুষা
স্বেনৈব বেদ্যং ন তু পণ্ডিতেন
চন্দ্রস্বরূপং নিজচক্ষুষৈব
জ্ঞাতব্যমন্যৈরবগম্যতে কিম্।। ৫৪
সরলার্থ – বিবেকী পুরুষ বস্তুর স্বরূপ স্বয়ং এবং নিজ জ্ঞান চক্ষুর
দ্বারা জানতে পারেন, অন্য কোন পণ্ডিতের দ্বারা জানেন না। চন্দ্রের স্বরূপ দর্শন
নিজের চক্ষু দ্বারাই করতে হয়। অপরের চোখ দ্বারা কি তা জানা যাতে পারে?
অবিদ্যাকামকর্ম দিপাশবন্ধং বিমোচিতুম্।
কঃ শকনুয়াদ্বিনাত্মানং কল্পকোটিশতৈরপি।।৫৫
সরলার্থ –অবিদ্যা কামনা ও কর্মাদিরূপ জালের বন্ধনকে স্বয়ং ব্যতীত
অন্য কেউ শতকোটি কল্পেও ছেদন করতে সক্ষম হয় কি?
ন যোগেন ন সাংখ্যেন কর্মণা নো ন
বিদ্যয়া।
ব্রহ্মাত্মৈকত্ববোধেন মোক্ষঃ
সিধ্যতি নান্যথা।৫৬
সরলার্থ – মুক্তি না যোগের দ্বারা সিদ্ধ হয়, না সাংখ্য দ্বারা, না কর্মের দ্বারা, না
বিদ্যার দ্বারা। তা কেবল ব্রহ্ম ও জীবাত্মার একতা জ্ঞানের দ্বারাহয়ে থাকে, অন্য কোন প্রকরে হয় না ।
বীণায়া রূপসৌন্দর্যং
তন্ত্রীবাদনসৌষ্ঠবম্।
প্রজারঞ্জনমাত্রং তন্ন সাম্রাজ্যায়
কল্পতে।।৫৭
সরলার্থ – বীণার সৌন্দর্যে বা তা বাজানোর নৈপুণ্যে শ্রোতাদের আনন্দ
উৎপাদন মাত্র হতে পারে। কিন্তু এ সব দ্বারা সাম্রাজ্যলাভ হয় না।
বাগ্বৈখরী শব্দঝরী
শাস্ত্রব্যাখ্যানকৌশলম্।
বৈদুষ্যং বিদুষাং তদ্বদ্ভক্তয়ে ন
তু মুক্তয়ে।।৫৮
সরলার্থ – ভাষার উপর অধিকার, শব্দপ্রয়োগেনৈপুণ্য, শাস্ত্রব্যাখ্যায় কুশলতা, আর কাব্য
অলঙ্কার ইত্যাদিতে পাণ্ডিত্য বিদ্বান ব্যক্তিদের ভোগ্যবস্তুপ্রাপ্তির সহায়ক হতে
পারে। এ সকল কিন্তু মুক্তিলাভের সহায়তা করে না।
অবিজ্ঞাতে পরে তত্ত্বে
শাস্ত্রাধীতিস্তু নিষ্ফলা।
বিজ্ঞাতে৳পি পরে তত্ত্বে
শাস্ত্রাধীতিস্তু নিষ্ফলা।। ৫৯
সরলার্থ – পরমতত্ত্ব যদি না জানা যায় তা হলে শাস্ত্র অধ্যয়ন নিষ্ফল বা ব্যর্থ। আর
আত্মস্বরূপ জ্ঞাত হওয়ার পর শাস্ত্র অধ্যয়ন নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সরলার্থ -অজ্ঞানরূপ স্বর্পের দ্বারা যিনি দংশিত তার ব্রহ্মজ্ঞান রূপ ওষুধ ছাড়া
বেদ, শাস্ত্র, মন্ত্র ওষুধের দ্বারা কী লাভ হবে?
ন গচ্ছতি বিনা পানং
ব্যাধিরৌষধশব্দতঃ।
বিনা৳পরোক্ষানুভবং ব্রহ্মশব্দৈর্ন
মুচ্যতে।।৬২
সরলার্থ –ওষুধ না খেয়ে কেবল ওষুধ ওষুধ শব্দ উচ্চারণ করলে যেমন রোগ যায় না, প্রত্যক্ষ
অনুভব ছাড়া কেবল আমি ব্রহ্ম আমি ব্রহ্ম মুখে বললে কেউ মুক্ত হতে পারে না ।
সরলার্থ – দৃশ্য প্রপঞ্চ বিলয় বিনা এবং আত্মতত্ত্বের জ্ঞান ভিন্ন কেবল বাহ্যশব্দের
দ্বারা কি মানবের মুক্তি হতে পারে?বাহ্যশব্দের ফল তো কেবল উচ্চারণ মাত্রই। তা দ্বারা কখন মুক্তি হতে পারে না।
অকৃত্বা শত্রুসং
হারমগত্বা৳খিলভূশ্রিয়ম্।
রাজাহমিতি শব্দান্নো রাজা
ভবিতুমর্হতি।। ৬৪
সরলার্থ – শত্রুদিগের বধ বিনা এবং সম্পূর্ণ পৃথিবীমন্ডলের ঐশ্বর্যের প্রাপ্তি ভিন্ন
কেবল আমি রাজা আমি রাজা মুখে বললে কেউ কখনও রাজা হয়ে যায় না।
সরলার্থ –(মাটির নীচে লুক্কায়িত ধন প্রাপ্তির জন্য) কোন বিশ্বস্ত বাক্য, মৃত্তিকা খনন ও
কাঁকর পাথর অপসারণের আবশ্যকতা হয় – কেবল মুখের কথায় যেমন ধন বাইরে আসে না, ঠিক সেরকম সকল
মায়িক-প্রপঞ্চশূন্য নির্মল আত্মতত্ত্বও ব্রহ্মবিৎ গুরুর উপদেশ এবং তাঁর মনন ও
নিধিধ্যাসনের দ্বারাই প্রাপ্ত হওয়া যায়, কেবল মুক্তির আড়ম্বরের দ্বারা তা পাওয়া
যায় না।
তস্মাৎ সর্বপ্রযত্নেন
ভব্বন্ধবিমুক্তয়ে।
স্বৈরেব যত্নং কর্তব্যো রোগাদাবিব
পণ্ডিতৈঃ।।৬৬
সরলার্থ –রোগ থেকে আরোগ্য লাভের জন্য যেমন নিজেকে ওষুধ সেবন করতে হয়, তেমন ভব বন্ধন
থেকে মুক্তি লাভের জন্য উপযুক্ত সাধন অবলম্বন করা বিচারশীল ব্যক্তির কর্তব্য।
যস্ত্ব্যাদ্য কৃতঃ প্রশ্নো বরীয়াঞ্ছাস্ত্রবিন্মতঃ।
সূত্রপ্রায়ো নিগূঢ়ার্থো
জ্ঞাতব্যশ্চ মুমুক্ষুভিঃ ৬৭
সরলার্থ –তুমি যে আজ প্রশ্নোত্থাপন করেছ, শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তি তার প্রশংসা করেন এবং
শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন। যদিও সূত্রাকারে বা সংক্ষেপে বলা হয়েছে তবুও গভীর অর্থযুক্ত
ও মুমুক্ষুগণের জানবার বিষয়।
শৃণুষ্বাবহিতো বিদ্বন্ যন্ময়া
সমুদীর্যতে।
তদেতচ্ছ্রবণাৎ সদ্যো
ভববন্ধাদবিমোক্ষ্যসে।।৬৮
সরলার্থ – হে বিদ্বান, আমি যা বলছি তা তুমি সাবধান হয়ে শ্রবণ কর। এটি শ্রবণ করলে অচিরেই
তুমি ভব বন্ধন থেকে মুক্ত হবে।
মোক্ষস্য হেতুঃ প্রথমো নিগদ্যতে
বৈরাগ্যমত্যন্তমনিত্যবস্তুষু।
ততঃশমশ্চাপি দমস্তিতিক্ষা
ন্যাসঃ প্রশক্তাখিলকর্মণাং ভৃশম্।।৬৯
সরলার্থ – মুক্তির প্রথম হেতু অনিত্যবস্তু সমূহে অত্যন্ত বৈরাগ্য, শাস্ত্রাদিতে তা বলা
হয়েছে। তার পর শম অর্থাৎ মনঃসংযম দম অর্থাৎ ইন্দ্রিয় সংযম, তিতিক্ষা বা সহিষ্ণুতা
এবং সম্পূর্ণ আসক্তিযুক্ত কর্মের সর্বপ্রকারে ত্যাগ।
ততঃ শ্রুতিস্তন্মননং স্বত্তত্বধ্যানং
চিরং নিত্যনিরন্তরং মুনেঃ।
ততো৳বিকল্পং পরমেত্য বিদ্বানিহৈব
নির্বাণসুখং সমৃচ্ছতি।। ৭০
সরলার্থ – প্রথমে গুরুমুখে আত্মার স্বরূপ এবং মহাবাক্য শ্রবণ, তার পর শ্রুতি বাক্যের
মনন, পরে সুদীর্ঘকাল ঘরে আত্মস্বরূপের ধ্যান। এই সকলের অনুষ্ঠানের ফলে বিচারশীল
সাধক আত্মস্বরূপ উপলব্ধি করে এই জীবনেই নির্বাণসুখ লাভ করে থাকেন।
যদ্বোদ্ধব্যং
তবেদানীমাত্মানাত্মবিবেচনম্।
তদুচ্যতে ময়া সম্যক্
শ্রুত্বা৳ত্মন্যব্ধারয়।। ৭১
সরলার্থ – যে আত্মা অনাত্মা বিবেক এখন তোমার জানা প্রয়োজন তা আমি বলছি, তুমি শ্রবণ কর ও
চিত্তে অবধারণ কর।
মজ্জাস্থিমেদ পলরক্তচর্ম-
ত্বগাহ্বয়ৈর্ধাতুভিরেভিরন্বিতম্।
পাদোরুবক্ষোভুজপৃষ্ঠমস্তকৈ-
রঙ্গৈরূপাঙ্গৈরূপযুক্তমেতৎ।। ৭২
সরলার্থ –মজ্জা, অস্থি,মেদ, মাংস, রক্ত, চর্ম ও ত্বক্ এই সাত ধাতু দ্বারা গঠিত পা,
উরু, বুক, হাত, পিঠ, ও মাথা এই সব অঙ্গ ও উপাঙ্গযুক্ত এই শরীর।
অহং মমেতি প্রথিতং শরীরং
মোহাস্পদং স্থূলমিতীর্যতে বুধৈঃ।
নভো নভস্বদ্দহনাম্ব ভূময়ঃ
সূক্ষ্ণাণি ভূতানি ভবন্তি তানি।।৭৩
সরলার্থ –‘আমি ও আমার’ রূপ যে প্রসিদ্ধ মোহের আশ্রয়রূপ
দেহ, বিদ্বানেরা একে স্থূল শরীর বলেন। এই স্থূলশরীরে আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও
মৃত্তিকা এই পাঁচ সূক্ষ্মভূত আছে।
সরলার্থ – আকাশ, বায়্ তেজ জল ও পৃথিবী এই সকল সূক্ষ্মভূত অর্থাৎ
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু সমূহের মূল উপাদান। এইগুলির অংশ পরস্পরের মিলন থেকে
স্থূলশরীরের কারণ হয়ে থাকে। একে শাস্ত্রে পঞ্চীকরণ নামে বলা হয়েছে। এই সকলের
তন্মাত্রাদি – ক্ষিতি, অপ্, তেজ, বায়ু ও আকাশ সূক্ষ্ম অমিশ্র ভূতপঞ্চক, শব্দ স্পর্শ, রূপ,
রস ও গন্ধ – পঞ্চভূতের এই গুণপঞ্চক। সাংখ্যদর্শনে একে তন্মাত্র বলে) সমূহ ভোক্তা জীবের
সুখের জন্য শব্দাদি পঞ্চবিষয় হয়।
য এষু মূঢ়া বিষয়েষু বদ্ধা
রাগোরূপাশেন সুদুর্দমেন
আয়ান্তি নির্যান্ত্যধ
ঊর্ধ্বমুচ্চৈঃ
স্বকর্মদূতেন জবেন নীতাঃ।।৭৫
সরলার্থ – যে সব মূঢ় এই সমস্ত বিষয়ে রাগ বাআসক্তিরূপ সুদৃঢ় এবং বিস্তৃত বন্ধনের দ্বারা
বদ্ধ হয়ে যায় তারা আপন কর্মরূপ দূতের দ্বারা বেগেচালিত হয়ে অনেক উত্তমাধম যোনি সমূহে গমনাগমন করে।
শব্দাদিভিঃ পঞ্চভিরেব পঞ্চ
পঞ্চত্বমাপুঃ স্বগুণেন বদ্ধাঃ
কুরঙ্-মাতঙ্গ-পতঙ্গ-মীন-ভৃঙ্গা
নরঃ পঞ্চভিরঞ্চিত কিম্।।৭৬
সরলার্থ- নিজ নিজ স্বভাব অনুসারে
পাঁচটি বিষয় – শব্দ,স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধ এর এক একটির দ্বারা হরিণ, হস্তি, পতঙ্গ, মৎস্য ও
ভ্রমর মৃত্যু প্রাপ্ত হয়। মানব একাধারে এই পঞ্চ বিষয়ের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কীভাবে
রক্ষা পেতেপারে? দোষেণ তীব্রো বিষয়ঃ
কৃষ্ণসর্পবিষাদপি।
বিষং নিহন্তি ভোক্তারং দ্রষ্টারং
চক্ষুষাপ্যম্।৭৭
সরলার্থ – সর্ব প্রকার দোষের মধ্যে বিষয়
কেউটে সাপের বিষের থেকেও অধিক তিব্র, কেন না, বিষ কেবল ভক্ষণকারীকে বিনষ্ট করে,
কিন্তু বিষয় বিষ দর্শনকারীকেও ছাড়ে না।
সরলার্থ – যে বিষয় সমূহের আশারূপ কঠিন বন্ধন
থেকে মুক্ত হয়েছে, সেই কেবল মোক্ষের ভাগী হয়, অন্য কেউ ষড়্দর্শনের পণ্ডিত হলেও হয়
না।
আপাতবৈরাগ্যবতো মুমুক্ষুন্
ভবাব্ধিপারং প্রতিযাতুমুদ্যতান্।
আশাগ্রহো মজ্জয়তে৳ন্তরালে
নিগৃহ্য কণ্ঠে বিনিবর্ত্য বেগাৎ।৭৯
সরলার্থ – সংসার সাগর থেকে পার হওয়ার জন্য উদ্যত ক্ষণিক বৈরাগ্যযুক্ত মুমুক্ষুগুকে
আশারূপ কুমীর অতি বেগের সঙ্গে মধ্য পথেই গলা ধরে ডুবিয়ে দেয়।
বিষয়াখ্যো গ্রহো যেন
সুবিরক্ত্যসিনা হতঃ।
স গচ্ছতি ভবাম্ভোধেঃ পারং
প্রত্যুহবর্জিতঃ।।৮০
সরলার্থ – যিনি বৈরাগ্যরূপ খড়গ দ্বারা বিষয়বাসনা রূপ কুমীরকে হত্যা
করিয়াছেন তিনিই নির্বিঘ্নে ভব সমুদ্রের পারে যেতে পারেন।
বিষমবিষয়মার্গৈর্গচ্ছতো৳নচ্ছবুদ্ধেঃ
প্রতিপদমভিযাতো মৃত্যুরপ্যেষ
বিদ্ধি।
হিতসুজনগুরূক্ত্যা গচ্ছতঃ স্বস্য
যুক্ত্যা
প্রভবতি ফলসিদ্ধিঃ সত্যমিত্যেব
বিদ্ধি।।৮১
সরলার্থ – যে নির্বোধ ব্যক্তি দুঃখদায়ক বিষয়সমূহের ভোগে লিপ্ত থাকে,
মৃত্যু তার পদে পদে ধাবিত হতে থাকে। যিনি হিতকারী গুরুর উপদেশ অনুসারে আত্মযোগ পথে
গমন করেন তিনিই জীবন্মুক্তি লাভ করে থাকেন।
মোক্ষস্য কাঙ্ক্ষ যদি বৈ তবাস্তি
ত্যজাতিদূরাদ্ বিষয়ান্ বিষং যথা।
পীযূষবৎব তোষদয়াক্ষমার্জব-
প্রশান্তিদান্তীর্ভজ
নিত্যমাদরাৎ।।৮২
সরলার্থ – যদি তোমারমুক্তির
ইচ্ছা থাকে তা হলে বিষয়কে বিষের সমান দূর থেকে ত্যাগ কর এবং সন্তোষ, দয়া, ক্ষমা,
সরলতা, শম দম, এই সকলকে অমৃতের ন্যায় নিত্য আদর পূর্বক সেবন কর।
অনুক্ষণং যৎ পরিহৃত্য কৃত্যম্
নাদ্যবিদ্যাকৃতবন্ধমোক্ষণম্।
দেহঃ পরার্থো৳য়মমুষ্য পোষণে
যঃ সজ্জতে স স্বমনেন হন্তি।।৮৩
সরলার্থ – যে অনাদি অবিদ্যাকৃত বন্ধনের পরিত্যাগরূপ নিজ কর্তব্য
ত্যাগ করে প্রতিক্ষণ এই অপরের ভোগ্যরুপ দেহের পোষণেই সর্বদা নিযুক্ত থাকে সে আপন
প্রবৃত্তির দ্বারা নিজেই নিজেকে হত্যা করে।
শরীরপোষণার্থী সন্ ষ আত্মানং
দিদৃক্ষতি।
গ্রাহং দারুধিয়া ধৃত্বা নদীং
তর্তুং স গচ্ছতি।।৮৪
সরলার্থ – শরীরের পালন পোষণে ব্যাপৃত থেকে যে ব্যক্তি স্ব-স্বরূপ
উপলব্ধি করার কামনা করে, সে কাষ্ঠবুদ্ধিতে কুমীরকে ধরে নদী পার হতে ইচ্ছে করে।
মোহ এব মহামৃত্যুর্মুমুক্ষোর্বপূরাদিষু।
মোহে বিনিজিতো যেন স মুক্তিপদমর্হতি।।
৮৫
সরলার্থ – দেহাতিতে মমতা রাখাই মুমুক্ষুদের
পক্ষে মহামৃত্যু। যে মোহকে পরাজিত করেছে, সে মুক্তিপদের অধিকারী।
সরলার্থ – ত্বক ,মাংস, রক্ত, স্নায়ু, মেদ, মজ্জা,
অস্থি মলমূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ এই স্থূলদেহ অতিশয় নিন্দনীয়।
পঞ্চীকৃতেভ্যো ভূতেভ্যঃ স্থূলেভ্যঃ
পূর্বকর্মণা।
সমুৎপন্নমিদং স্থূলং
ভোগায়তনমাত্মনঃ।
অবস্থা জাগরস্তস্য স্থূলার্থানুভবো
যতঃ।।৮৮
সরলার্থ – পঞ্চীকৃত স্থূলভূত সমূহ থেকে এবং
পূর্ব কর্ম অনুসারেএই শরীর জীবাত্মার
স্থূল ভোগায়তন অর্থাৎ ভোগের আধার। জাগ্রদাবস্থাতে এই সব স্থূল পদার্থের অনুভব হয়।
সরলার্থ – শরীরের সঙ্গে আত্মার তাদাত্মতা বা একতা হওয়ায় জীব মালা,
চন্দন এবং বনিতাদি নানা প্রকার স্থূল পদার্থাদির বাহ্যেন্দ্রিয়াদির দ্বারা ভোগ
করে। এই জন্য জাগ্রৎ অবস্থাতে এই স্থূল দেহের প্রাধান্য স্বীকৃত হয়।
সর্বো৳পি বাহ্যসংসারঃ পুরুষস্য
যদাশ্রয়ঃ।
বিদ্ধি দেহমিদং স্থূলং গৃহবদ্গৃহমেধিনঃ।।
৯০
সরলার্থ- যাকে আশ্রয় করে জীবের সম্পূর্ণ বাহ্য জগতের প্রতীতি হয়, গৃহস্থের গৃহের তুল্য তাকেই স্থূল দেহ
বলে জানবে।
স্থূলস্য সম্ভবজরামরণানি ধর্মাঃ
স্থৌল্যাদয়ো বহুবিধাঃ
শিশুতাদ্যবস্থাঃ।।
বর্ণাশ্রমাদিনিয়মা বহুধা৳ময়াঃ
স্যুঃ
পুজাবমানবহুমানমুখা বিশেষাঃ।।৯১
সরলার্থ – স্থূলদেহেরই জন্ম, জরা, মরণ ও স্থূলতা প্রভৃতি ধর্ম এবং
বাল্যাদি নানাপ্রকার অবস্থা, বর্ণাশ্রমাদির নিমিত্ত বহু নিয়ম ও ইন্দ্রিয়সংযম,
পূজা, সম্মান ও অপমানাদি বিশেষত্ব এই স্থূলদেহরই।
বুদ্ধীন্দ্রিয়াণি শ্রবণং ত্বগক্ষি-
ঘ্রাণং চ জ্বিহা বিষয়াববোধনাৎ।
বাক্পাণিপাদা গুদমপ্যুপস্থঃ
কর্মেন্দ্রিয়াণি প্রবণেন কর্মসু।।
৯২
সরলার্থ –কর্ণ, ত্বক, নেত্র, নাসিকা, জ্বিহা – এই পাঁচ হল জ্ঞানেন্দ্রিয় কারণ এর
দ্বারা বিষয় সমূহের জ্ঞান হয়। বাক্, পাণি, পাদ, পায়ু ও উপস্থ – এই পাঁচহল কর্মেন্দ্রিয় কারণ এদের স্বাভাবিক গতি কর্মের
দিকে।
নিগদ্যতে৳ন্তঃকরণং মনোধী-
রহংকৃতিশ্চিত্তমিতি স্ববৃত্তিভিঃ।
মনস্তু সংকল্পবিকল্পনাদিভি-
র্বুদ্ধিঃ পদার্থাধ্যবসায়ধর্মতঃ।।
৯৩
অত্রাভিমানাদহমিত্যহংকৃতিঃ
স্বার্থানুসন্ধানগুণেন চিত্তম্।।
৯৪
সরলার্থ – আপন আপন বৃত্তির ভেদে অন্তঃকরণ মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার
এই চার নামে কথিত হয়ে থাকে। সঙ্কল্প-বিকল্পের নাম মন, পদার্থের নিশচয় করণের হেতু
বুদ্ধি, আমি, আমি এই প্রকার অভিমান হওয়ার নাম অহংকার, স্বার্থানুসন্ধান গুণের
অর্থাৎ আপন ইষ্টচিন্তার হেতু চিত্ত নামে অভিহিত করা হয়।
সরলার্থ – আপন বিকারের দ্বারা সুবর্ণই যেমন হার, কুণ্ডল বলয়াদি এবং
জলই বরফ, বাষ্পাদি হয়ে থাকে তেমনি এক প্রাণই বৃত্তির ভেদে প্রাণ, অপান,ব্যান, উদান
ও সমান – এই পাঁচ নাম প্রাপ্ত হয়।
বাগাদি পঞ্চ শ্রবণাদি পঞ্চ
প্রাণাদিপঞ্চাভ্রমুখানি পঞ্চ
বুধ্যাদবিদ্যাপি চ কামকর্মণী
পুর্যষ্টকং সূক্ষ্মশরীরমাহুঃ।। ৯৬
সরলার্থ- বাক্ আদি পাঁচ কর্মেন্দ্রিয়, শ্রবণাদি পাঁচ
জ্ঞানেন্দ্রিয়, প্রাণাদি পঞ্চপ্রাণ, আকাশদিপঞ্চভূত, বুদ্ধ্যাদি চার অন্তঃকরণ,
অবিদ্যা, কাম অর্থাৎ বাসনা এবং কর্ম সূক্ষ্ম শরীর নামে কথিত হয়ে থাকে।
ইদং শরীরং শৃণু সূক্ষ্মসংজ্ঞিতং
লিঙ্গং ত্বপঞ্চীকৃতভূতসম্ভবম্।
সবাসনং কর্মফলানুভাবকং
স্বাজ্ঞানতো৳নাদিরূপাধিরাত্মনঃ।।৯৭
সরলার্থ – এই সূক্ষ্ম শরীরকেলিঙ্গ শরীরও বলা হয়। এটি অপঞ্চীকৃত পঞ্চ-মহাভূতের সমবায়ে গঠিত,
বাসনাসংযুক্ত, কর্মফলের উৎপাদক এবং স্বস্বরূপ জ্ঞানের অভাববশতঃ জীবের অনাদি উপাধি।
স্বপ্নো ভবত্যস্য বিভক্ত্যবস্থা
স্বমাত্রশেষেণ বিভাতি যত্র।
স্বপ্নে তু বুদ্ধিঃ স্বয়মেব
জাগ্রৎ-
কালীননানাবিধবাসনাদিভিঃ।।৯৮
সরলার্থ –স্বপ্ন এর ভেদবোধক অবস্থা যাতে তা
স্বয়ং ই কেবল অবশিষ্টরূপে ভাসিত হয়। কিন্তু স্বপ্নে স্বয়ং প্রকাশ পরমাত্মা শুদ্ধ
চেতনই ভিন্ন ভিন্ন পদার্থরূপে প্রতিভাসিত হয়।
কর্ত্রাদিভাবং প্রতিপদ্য রাজতে
যত্র স্বয়ং ভাতি হ্যয়ং পরাত্মা।
ধীমাত্রকোপাধিরশেষসাক্ষী
ন লিপ্যতে তৎকৃতকর্মলেশৈঃ
যস্মাদসঙ্গস্তত এব কর্মভি-
র্ন লিপ্যতে কিঞ্চিদুপাধিনা
কৃতৈঃ।।৯৯
সরলার্থ – জাগ্রৎকালীন বুদ্ধি নানা প্রকার বাসনার দ্বারা কর্তাদি
ভাবকে প্রাপ্ত হয়ে স্বয়ং বিরাজ করে। এই অবস্থায় স্বয়ংপ্রকাশ পরমাত্মা স্বয়ং
স্ফুরিত থাকেন। বুদ্ধি যার উপাধি এরূপ সেই সর্বসাক্ষী স্বরূপ, এই বুদ্ধিস্বারা কৃত
কিঞ্চিৎ মাত্র কর্মে লিপ্ত হয় না। কারণ আত্মাঅসঙ্গ। অতএব সেই স্বয়ং প্রকাশ পরমাত্মা শুদ্ধ চৈতন্য উপাধিকৃত কর্মে
কিছুমাত্র লিপ্ত হন না।
সরলার্থ – এই লিঙ্গদেহ চিদাত্মা পুরুষের সর্বপ্রকার কর্মের কারণ।
যেমন কাঠের মিস্ত্রি বাসু বা কাঠ কাটার যন্ত্র দ্বারা নিজের কাজ করে, লিঙ্গশরীরের
দ্বারা তেমনি চৈতন্যস্বরূপ আত্মার সকল ব্যাপার সাধিত হয়। ছুতারের বাটালি যেমন কাঠ
কেটেও নিজে অসঙ্গ থাকে তেমনি আত্মাও অসঙ্গ।।
বিবেকচূড়ামণি মূল শ্লোক ও তার অনুবাদ পেয়ে ভালো লাগলো। আপনার কাছ থেকে এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা ও শুনছি অনুধ্যানে। ভালো লাগছে, আপনি আমার প্রণাম নেবেন। মালবিকা সেনগুপ্ত।বাঘাযতীন,কলকাতা।
খুব ভালো লাগে ক্লাস বিবেক চূড়া মনি আপনার জন্য অনেক কিছু জানতে পারছি আমাদের আপনি অন্ধকারের থেকে আলোয় পথ দেখাচ্ছেন আপনার শ্রী চরণে শত কোটি প্রণাম শিখা মন্ডল ব জ ব জ
দারুন ব্যাপার মহারাজ খুব খুব খুশি হয়েছি এই রকম একটা ব্লগ পেয়ে ধন্য হয়েছি মহারাজ 🙏🙏🙏 আপনার শ্রীকন্ঠে উচ্চারিত বিবেকচূড়ামণির সহজ সরল ব্যাখ্যা শোনার অপেক্ষায় থাকি। এই ব্লগে আরো বেশি উপকৃত হবো। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের আর্শীবাদ স্বরূপ আপনার মতো একজন মহানুভব দেবতুল্য মহারাজের সান্নিধ্যে এসে কতো কিছুই না জানতে পারছি শিখতে পারছি,ধন্য হয়েছি আমরা। জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏🙏 জয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পূর্ণ ব্রহ্ম নারায়ণ 🙏🌷🙏
বিবেকচূড়ামণি মূল শ্লোক ও তার অনুবাদ পেয়ে ভালো লাগলো। আপনার কাছ থেকে এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা ও শুনছি অনুধ্যানে। ভালো লাগছে, আপনি আমার প্রণাম নেবেন।
ReplyDeleteমালবিকা সেনগুপ্ত।বাঘাযতীন,কলকাতা।
Vaktivora pranam, Achariyo Maharajji 🌺🌺🌹🌹🙏🏻🙏🏻. Vivekchuramoni r onubad o sorolartho at a glance peyey khubei anondito😊🙏🏻. Amra protidin Apner madhyomey Gyaner upohaar peyey dhonnyo. Sob valo moto ber ber portey hobey, Maharajji 🌹🌹🙏🏻🙏🏻. Apner madhyomey amader chittosuddhi hochhey, obornoniyo🙏🏻. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🌹🌹🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteখুব ভালো লাগে ক্লাস বিবেক চূড়া মনি আপনার জন্য অনেক কিছু জানতে পারছি আমাদের আপনি অন্ধকারের থেকে আলোয় পথ দেখাচ্ছেন আপনার শ্রী চরণে শত কোটি প্রণাম শিখা মন্ডল ব জ ব জ
ReplyDeleteVivek chudamoni r saralartha peye khub upakrita hoyechi Maharaj. 🙏🍁
ReplyDeleteপ্রনাম মহারাজ🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রনাম🙏🙏🙏🙏
ReplyDeleteKhub valo lagchhe,bar bar porte hobe, voktipurno pronam maharaj 🙏🙏🙏
ReplyDeleteKhun valo
ReplyDeleteদারুন ব্যাপার মহারাজ খুব খুব খুশি হয়েছি এই রকম একটা ব্লগ পেয়ে ধন্য হয়েছি মহারাজ 🙏🙏🙏 আপনার শ্রীকন্ঠে উচ্চারিত বিবেকচূড়ামণির সহজ সরল ব্যাখ্যা শোনার অপেক্ষায় থাকি। এই ব্লগে আরো বেশি উপকৃত হবো।
ReplyDeleteঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের আর্শীবাদ স্বরূপ আপনার মতো একজন মহানুভব দেবতুল্য মহারাজের সান্নিধ্যে এসে কতো কিছুই না জানতে পারছি শিখতে পারছি,ধন্য হয়েছি আমরা।
জয় ঠাকুর মা স্বামীজি জয় মহারাজ 🙏🙏🙏
জয় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পূর্ণ ব্রহ্ম নারায়ণ 🙏🌷🙏
খুব ভাল লাগলো
ReplyDelete