কঠোপনিষদ্
অনুবাদ ঃ স্বামী হরিময়ানন্দ
।।প্রথম অধ্যায় ।।
দ্বিতীয় বল্লী
সম্বন্ধ সূত্র – অতি বিরল কিছু মানুষ ভোগাসক্তি
বর্জন করে ধর্মলাভের জন্য পুরো মন দিতে প্রস্তুত। নচিকেতা সেই রকম দুর্লভ অধিকারী,
দৃঢ়চেতা ও নির্ভীক, এমন উত্তম অধিকারী পেয়ে যমরাজ ব্রহ্মবিদ্যার মহিমা বর্ণনা
করছেন।
যমরাজ বললেন -
অন্যচ্ছ্রেয়ো৳ন্যদুতৈব প্রেয়-
স্তে উভে নানার্থে পুরুষগঁ সিনীতঃ।
তয়োঃ শ্রেয় আদদানস্য সাধু ভবতি
হীয়তে৳র্থাদ্ য উ প্রেয়ো বৃণীতে।।১।।
শব্দার্থ- যম বললেন – শ্রেয়ঃ – মোক্ষলাভের সাধন, অন্যৎ - ভিন্ন, উত- আর, প্রেয়ঃ –সুখ দায়ক ভোগের সাধন, অন্যৎ এব – ভিন্নই, নানা-অর্থে – বিভিন্ন প্রয়োজন বিশিষ্ট, তে উভে – বিদ্যা ও অবিদ্যা উভয়ে, পুরুষম্ - মানুষকে, সিনীতঃ - বন্ধন করে, তয়োঃ –উভয়ের মধ্যে, শ্রেয়ঃ –কল্যাণকারী সাধণ, আদদানস্য – গ্রহণকারীর, সাধু ভবতি – মঙ্গল হয়, উ যঃ – কিন্তু যে, প্রেয়ঃ বৃণীতে – জাগতিক ভোগের সাধন। সঃ – সে, অর্থাৎ - যথার্থ লাভ করে, হীয়তে – পুরুষার্থ থেকে বিচ্যুত হন।
সরলার্থ – শ্রেয়োমার্গ ও প্রেয়োমার্থ ভিন্ন । মুক্তি ও স্বর্গাদি বিভিন্ন প্রয়োজন
সম্পাদক, তা উভয়েই পুরুষকে
আবদ্ধ করে। এই উভয়ের মধ্যে যিনি শ্রেয়োমার্গ
অবলম্বন করেন, তাঁর মঙ্গল হয়। আর যিনি প্রেয়োমার্গকেই গ্রহণ করেন, তিনি পরমার্থ
থেকে বিচ্যুত হন।
যমরাজ বললেন -
শ্রেয়শ্চ প্রেয়শ্চ মনুষ্যমেত-
স্তৌ সম্পরীত্য বিবিনক্তি ধীরঃ।
শ্রেয়ো হি ধীরো৳ভি প্রেয়সো বৃণীতে
প্রেয়ো মন্দো যোগক্ষেমাদ্ বৃণীতে।।২
শব্দার্থ- শ্রেয়ঃ চ প্রেয় চ – শ্রেয় ও প্রেয়, মনুষ্যম্ এতঃ –মানুষের সামনে আসে, ধীরঃ – বুদ্ধিমান মানুষ, তৌ – উভয়কে, সম্পরীত্য –সম্যক্ অলোচনা করে, বিবিনক্তি – পৃথক করেন, ধীরঃ – ধৈর্যশীল ব্যক্তি,প্রেয়সঃ –প্রিয় থেকে শ্রেয়ঃ হি – শ্রেয়কেই, অভি-বৃণীতে – শ্রেষ্ঠ মনে করে বরণ করে, মন্দঃ –মন্দবুদ্ধি মানুষ, যোগ-ক্ষেমাৎ - লৌকিক যোগক্ষেমের
ইচ্ছায়, প্রেয়ঃ বৃণীতে – প্রেয়কে বরণ করে।
সরলার্থ – শ্রেয় ও
প্রেয় সম্মিলিতভাবে মানুষকে আশ্রয় করে। ধীমান্ সম্যক্ বিচার করে পৃথক করেন। যিনি
ধীর তিনি প্রেয় অপেক্ষা শ্রেয়কে উত্তম বলে
গ্রহণ করেন। কিন্তু যিনি অল্পবুদ্ধি তিনি শরীরাদির বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য প্রিয়
পশুপুত্রাদিরইব বরণ করেন।
সম্বন্ধ সূত্র – আত্মজ্ঞান লাভের সাধনস্বরূপ শ্রেয়র প্রশংসা করে
যমরাজ এবার নচিকেতার বৈরাগ্যের প্রশংসা
করছেন ---
যমরাজ বললেন -
স ত্বং প্রিয়ান্ প্রিয়রূপাংশ্চ কামা-
নভিধ্যায়ন্নচিকেতো৳ত্যস্রাক্ষীঃ।
নৈতাং সৃঙ্কাং বিত্তময়ীমবাপ্তো
যস্যাং মজ্জন্তি বহবো মনুষ্যাঃ।। ৩
শব্দার্থ- নচিকেতঃ – হে নচিকেতা, সঃ ত্বম্ - সেই
তুমি, প্রিয়ান্ - প্রিয় পুত্রাদি, প্রিয়রূপান্ চ – প্রীতি সম্পাদক অপ্সরা প্রভৃতি,
কামান্ - ভোগ্য বস্তু, অভিধ্যায়ন্ -চিন্তা করে,অত্যস্রাক্ষীঃ – পরিত্যাগ করেছ, এতাম্ - এই,
বিত্তময়ীম্ - ধনবহূল, সৃঙ্কাম্ -গতি বা মার্গ, যস্যাম্ - যাতে , বহবঃ – অনেক, মনুষ্যাঃ, মজ্জন্তি – মগ্ন হয়, ন অবাপ্তঃ – এর বন্দনে তুমি বন্দি হও নি।
সরলার্থ- হে নচিকেতা, আমি তোমাকে বারংবার প্রলোভন
দেখালেও তুমি প্রিয়বস্তু ও সুখ উৎপাদক ভোগ্য বিষয়কে পরীক্ষা করে ত্যাগ করেছ। যে ধন
বহুল মার্গে অনেক মানুষ নিমগ্ন হয় তা তুমি গ্রহণ করোনি।
যমরাজ বললেন –
দূরমেতে বিপরীতে বিষূচী
অবিদ্যা যা চ বিদ্যেতি জ্ঞাতা।
বিদ্যাভীপ্সিনং নচিকেতসং মন্যে
ন ত্বা কামা বহবো৳লোলুপন্ত।।৪
শব্দার্থ- অবিদ্যা – সুখসাধনরূপ যে অপরা বিদ্যা, বিদ্যা চ – এবং অমৃতসাধন পরাবিদ্যা, এতে – এই দুটি, দূরম্ বিপরীতে – পরস্পর অত্যন্ত বিরোধী, বিষূচী – বিরুদ্ধফলপ্রদ, ইতি – এইরূপে, জ্ঞাতা –পরিচিত, নচিকেতসম্ - নচিকেতা তোমাকে,
বিদ্যা-অভীপ্সিনম্- পরা বিদ্যার অভিলাষী, মন্যে – মনে করি, বহবঃ – অনেক, কামাঃ – কাম্য বস্তু, ত্বা – তোমাকে, ন
অলোলুপন্ত – প্রলুব্ধ করল না।
সরলার্থ – যা অবিদ্যা
ও বিদ্যা বলে খ্যাত তা উভয়েই অত্যন্ত
বিভিন্ন ও বিরুদ্ধ-পথগামী। নচিকেতা , তোমাকে আমি বিদ্যাভিলাষী মনে করি,
কেননা বহু কাম্যবস্তু তোমায় প্রলুব্ধ করতে পারেনি।
যমরাজ বললেন –
অবিদ্যয়ামন্তরে বর্তমানাঃ
স্বয়ং ধীরাঃ পণ্ডিতম্মন্যমানাঃ
দন্দ্রম্যমাণাঃ পরিয়ন্তি মূঢ়া
অন্ধেনৈব নীয়মানা যথান্ধাঃ।৫
শব্দার্থ- অবিদ্যায়াম্ অন্তরে – অবিদ্যার মধ্যে, বর্তমানাঃ – অবস্থিত, স্বয়ম্ - নিজেদের, ধীরাঃ –বুদ্ধিমান, পণ্ডিতন্মন্যমানাঃ,- পণ্ডিত বলে মনে করে,
দন্দ্রম্যমানাঃ – সর্বত্র বিভিন্ন যোনিতে ঘুরতে ঘুরতে, মূঢ়াঃ – অবিবেকী ব্যক্তিগণ, পরিয়ন্তি – লোক থেকে লোকান্তরে পরিভ্রমণ করতে থাকে, যথা – যেমন, অন্ধাঃ – অন্ধলোকেরা, অন্ধেন এব – অন্ধেরই দ্বারা, নীয়মানাঃ – পরিচালিত হয়ে, ঘুরতেই থাকে ও কষ্টপেতেই থাকে – নিজ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না
সরলার্থ- যারা
অবিদ্যা পরিবেষ্টিত হয়ে নিজেদেরকে প্রজ্ঞাবান ও শাস্ত্রজ্ঞ বলে মনে করে, সে সব মূঢ়
অন্ধের দ্বারা পরিচালিত অন্ধের ন্যায় অতিশয় কুটিল গতি দক্ষিণাদি মার্গে গমন করেন।
যমরাজ বললেন --
ন সাম্পরায়ঃ প্রতিভাতি বালং
প্রমাদ্যন্তং বিত্তমোহেন মূঢ়ম্।
অয়ং লোকে নাস্তি পর ইতি মানী
পুনঃ পুনর্বশমাপদ্যতে মে।।৬
শব্দার্থ- সাম্পরায়ঃ – সম্পরায় মানে পরলোক, পারলৌকিক সাধন – সাম্পরায়ঃ , প্রমাদ্যন্তম্ বালম্ - বালকের মত
প্রমাদ্গ্রস্ত, বিত্তমোহেন মূঢ়ম্ - এই ভাবে ধনসম্পদের মোহে পড়ে, ন প্রতিভাতি – প্রকাশ পায়
না, অয়ম্ লোকঃ অস্তি – এই দৃশ্যমান জগৎ
আছে, পরঃ ন – পরলোক নেই, ইতি – এই রকম, মানী – চিন্তাকারী ব্যক্তি, পুনঃ পুনঃ – বার বার , মে – আমার, বশম্ - অধীনতা, আপদ্যতে – প্রাপ্ত হয়, এবং জন্ম-মৃত্যু দুঃখ ভোগ করে।।
সরলার্থ- সংসারে আসক্তচিত্ত এবং ধনাদি মোহে আচ্ছন্ন
অবিবেকীর নিকট পরলোক সম্বন্ধীয় সাধন প্রতিভাত হয় না। কেবল এই দৃশ্যমান লোকই আছে,
পরলোক নেই – এরূপ মনে করে মানুষ বার বার মৃত্যুর অধীনতা প্রাপ্ত হয়।
সম্বন্ধ সূত্র – বিষয়াসক্ত ও যারা কেবল স্থূল বস্তুতে বিশ্বাসী এমন
মূর্খদের নিন্দা করে যমরাজ আত্মতত্ত্বের
জ্ঞাতা, বোদ্ধা, ও বক্তা পুরুষের দুর্লভতার কথা বলছেন -
যমরাজ বললেন -
শ্রবণায়াপি বহুভির্যো ন লভ্যঃ
শৃণ্বন্তো৳পি বহবো যং ন বিদ্যুঃ।
আশ্চর্যো বক্তা কুশলো৳স্য লব্ধা-
শ্চর্যো জ্ঞাতা কুশলানুশিষ্টঃ।। ৭
শব্দার্থ – যঃ বহুভিঃ –যা বহুজনের, শ্রবণায় অপি – শোনার জন্যও, ন লভ্যঃ- লভ্য নয়,
যম্ - যাকে, বহবঃ – বহু লোক, শৃণ্বন্তঃ অপি – শুনেও, ন
বিদ্যুঃ – বুঝতে পারে না, অস্য – এই গুহ্যতত্ত্বের, বক্তা আশ্চর্যঃ
– আচার্য বা উপদেষ্টা অত্যন্ত বিরল, লব্ধা কুশলঃ – নিপুণ ব্যক্তি
আত্মবান হন,কুশল-অনুশিষ্টঃ – কুশল আচার্য দ্বারা উপদিষ্ট,
জ্ঞাতা আশ্চর্যঃ –জ্ঞাতাও দুর্লভ।
সরলার্থ -আত্মবিষয়ে শাস্ত্র বহুলোকে শুনতেই পায় না। শুনলেও অনেকে তা ধারণা করতে পারে না।এই তত্ত্বের উপদেষ্টা দুর্লভ, ক্বচিৎ কেউ কেউ নিপুণ তত্ত্বজ্ঞ হন। কারণ উপলব্ধিবান ছাড়া কেবল শাস্ত্রজ্ঞানের দ্বারা উপদেশে কিছু ফল হয় না।
যমরাজ বললেন
ন নরেণাবরেণ প্রোক্ত এষ
সুবিজ্ঞেয়ো, বহুধা চিন্ত্যমানঃ।
অনন্যপ্রোক্তে গতিরত্র নাস্তি
অণীয়ান্ হ্যতর্ক্যমণুপ্রমাণাৎ।। ৮
শব্দার্থ- বহুধা – নানা প্রকারে, চিন্ত্যমানঃ – বিতর্কিত, এষঃ – এই আত্মা, অবরেণ- বিবেকহীনের দ্বারা, নরেণ- ব্যক্তির দ্বারা, প্রোক্তঃ –বর্ণিত হলে, সুবিজ্ঞেয়ঃ ন – সহজবোধ্য নয়, অনন্যপ্রোক্তে
– ব্রহ্মজ্ঞানী
আচার্য দ্বারা উপদিষ্ট হলে, অত্র – এই আত্মা সম্বন্ধে, গতিঃ – পূর্বোক্ত বিতর্ক, ন অস্তি – থাকে না, হি অণুপ্রমাণাৎ - কেননা এই বস্তু অণু পরিমিত বস্তু থেকেও, অণীয়ান্- অতি সূক্ষ্ম, অতর্ক্যম্ – অর্কের অতীত।।
সরলার্থ- অল্পজ্ঞ লোকের দ্বারা কথিত হলেও এই আত্মা আছে, নেই, কর্তা, অকর্তা ইত্যাদি বহুপ্রকার তর্কের বিষয়। যিনি আত্মাকে অনন্য বা অপৃথকভাবে
জেনেছেন সেরূপ অচার্থ দ্বারা উপদিষ্ট হলে সব সংশয় দূর হয়। তর্ক বা অনুমানের দ্বারা এই
আত্মাকে জানা যায় না, কারণ এই আত্মা অণূ পরিমাণ থেকেও অতিশয় অণু।
যমরাজ বললেন
নৈষা তর্কেণ মতিরাপনেয়া
প্রোক্তা৳ন্যেনৈব সুজ্ঞানায় প্রেষ্ঠ।
যাং ত্বমাপঃ সত্যধৃতির্বতাসি
ত্বাদৃঙ্নো ভূয়ান্নচিকেতো প্রষ্টা।। ৯
শব্দার্থ- প্রেষ্ঠ – হে প্রিয়তম, যাম্ ত্বম্ আপ – যে আত্মবিষয়ে বুদ্ধি তুমি পেয়েছ, এষা মতিঃ – এই বুদ্ধি, তর্কেণ ন আপনেয়া – তর্কের দ্বারা লাভ করা যায় না। অন্যেন প্রোক্তা এব – কোন জ্ঞানী আচার্য দ্বারা উপদিষ্ট হয়েই, সুজ্ঞানায় – নিশ্চিত জ্ঞানের নিমিত্ত, ভবতি – হয়। নচিকেতঃ – হে নচিকেতা, সত্য-ধৃতিঃ বত অসি – তুমি উওম ধৈর্য সম্পন্ন হয়েছ, ত্বাদৃক্ – তোমার মত, প্রষ্টা – প্রশ্নকারী, নঃ ভূয়াৎ - যেন আমি পাই।
সরলার্থ- হে প্রিয়তম, তোমার যে সুবুদ্ধি হয়েছে, তা তর্কের দ্বারা লাভ করা যায় না। কোন জ্ঞানী আচার্যের দ্বারা উপদিষ্ট হলে ঐ বুদ্ধি সাক্ষাৎকারের কারণ হয়। হে নচিকেতা , তোমার যথার্থ পরমার্থ বিষয়ে ধারণা হয়েছে। তোমারই মত জিজ্ঞাসু যেন আমদের কাছে আসে।
সম্বন্ধ সূত্র – যমরাজ নিজের উদাহরণ দিয়ে নিষ্কামভাবের প্রসংসা করছেন –
যমরাজ বললেন
জানাম্যহং শেবধিরিত্যনিত্যং
ন হ্যধ্রুবৈঃ প্রাপ্যতে হি ধ্রুবং তৎ।
ততো ময়া নাচিকেতশ্চিতো৳গ্নি-
রনিতৈর্দ্রব্যৈঃ প্রাপ্তবানস্মি নিত্যম্।। ১০
শব্দার্থ- অহম্ জানামি – আমি জানি যে, শেবধিঃ – কর্মফলরূপ ধন, অনিত্যম্ -
অচিরস্থায়ী , ইতি – এই, হি- যেহেতু, অধ্রুবৈঃ – অনিত্যবস্তু দ্বারা, তৎ ধ্রুবম্ - ওই নিত্য পদার্থ, ন হি
প্রাপ্যতে – পাওয়া যায় না, ততঃ – সে জন্য, ময়া – আমার দ্বারা, অনিত্যৈঃ দ্রব্যৈঃ – অনিত্য পদার্থ দ্বারা, নাচিকেতঃ অগ্নিঃ চিত্তঃ – নাচিকেত-অগ্নির চয়ন করা হয়েছে,
নিত্যম্ - নিত্য বস্তু পরমাত্মাকে, প্রাপ্তবান্
অস্মি – লাভ করেছি।
সরলার্থ- আমি জানি যে কর্মফলস্বরূপ সম্পদ্
অনিত্য, কেন না অনিত্য দ্রব্যের দ্বারা সেই ধ্রুব বস্তুকে লাভ
করা অসম্ভব। অতএব আমি জেনে শুনেও অনিত্য দ্রব্যের সাহায্যে নাচিকেত নামক অগ্নি চয়ন করেছি এবং
তার দ্বারা আপেক্ষিক অর্থাৎ যতক্ষণ সংসার আছে ততক্ষণ স্থায়ী নিত্যকে অর্থাৎ এই যমপদকে
পেয়েছি।
সম্বন্ধ সূত্র – নচিকেতার মধ্যে নিষ্কামভাব পূর্ণভাবে
রয়েছে দেখে যমরাজ তাঁর প্রশংসা করে বললেন -
যমরাজ বললেন --
কামস্যাপ্তিং জগতঃ প্রতিষ্ঠাং
ক্রতোরনন্ত্যমভয়স্য পারম্।
স্তোমমহদুরুগায়ং প্রতিষ্ঠাং
দৃষ্ট্বা ধৃত্যা ধীরো নচিকেতো৳ত্যস্রাক্ষীঃ।। ১১
শব্দার্থ- নচিকেতঃ – হে নতিকেতা, কামস্য আপ্তিম্ -
যার দ্বারা সকল প্রকার কাম্যভোগ লাভ হয়, জগতঃ প্রতিষ্ঠাম্ - যা জগতের আধার,
ক্রতোঃ – যজ্ঞ ও উপাসনার, অনন্ত্যম্ - অনন্ত ফলস্বরূপ, অভয়স্য পারম্ - সকল প্রকার ভয়
নিবারক, স্তোম – প্রশংসনীয়, মহৎ - অণিমাদি দ্বারা মহিমান্বিত, উরুগায়ম্ - চিরকালব্যাপী ,
প্রতিষ্ঠাম্ - অবস্থিতি অর্থাৎ
হিরণ্যগর্ভত্ব, অত্যস্রাক্ষীঃ – সম্পূর্ণ ত্যাগ করেছ।।
সরলার্থ- হে
নচিকেতা, তুমি কাম্যবিষয়ে চরম উৎকর্ষ , জগতের আশ্রয়, যজ্ঞের অনন্ত ফলস্বরূপ,
স্তবনীয়, মহৎ ও বিশাল হিরণ্যগর্ভপদরূপ প্রতিষ্ঠা সম্বন্ধে বিচার করে বুদ্ধিমত্তা
লাভ করেছ ও তা পরিত্যাগ করেছ।
সম্বন্ধ সূত্র – নচিকেতার এই রকম নিষ্কাম ভাব
দেখে যমরাজ নিশ্চিন্ত হয়েছেন যে তিনি
যথার্থই আত্ম-জ্ঞান লাভের অধিকারী। তাই যমরাজ পর পর দুটি মন্ত্রে পরমাত্মার মহিমা
বর্ণনা করছেন।
যমরাজ বললেন -
তং দুর্দর্শং গূঢ়মনুপ্রবিষ্টং
গুহাহিতং গহ্বরেষ্ঠং পুরাণম্।
অধ্যাত্মযোগাধিগমেন দেবং
মত্বা ধীরে হর্ষশোকৌ জহাতি।।১২
শব্দার্থ-
তম্ - সেই, দুর্দশম্ - কঠোর সাধনার দ্বারা লাভ করা যায়, গূঢ়ম্ -অতি গহন
অব্যক্ত-স্বরূপ, অনুপ্রবিষ্টম্ - সর্বভূতের অন্তরালে স্থিত, গুহাহিতম্ - সকল
জীবের হৃদয়-গুহায় অবস্থিত, গহ্বরেষ্টম্- ষড়্রিপু সংবলিত দেহে বিরাজিত, পুরাণম্
- সনাতন, দেবম্ -দীপ্যমান আত্মাকে, অধ্যাত্ম-যোগ-অধিগমেন- একাগ্রচিত্তে
অধ্যাত্ম-যোগের দ্বারা, মত্বা – জেনে বা উপলব্ধি করে, ধীরঃ- শুদ্ধবুদ্ধি সাধক, হর্ষশোকৌ – সুখ-দুঃখাদি দ্বন্দ্ব, জহাতি – ত্যাগ করেন।
সরলার্থ- দুর্জ্ঞেয়রূপে অবস্থিত, হৃদয়গুহায়
প্রতিষ্ঠিত, ষড়রিপু সংবলিত দেহে অনুপ্রবিষ্ট বলে যে আত্মাকে অতি কষ্টে অনুভব করতে
পারা যায়। ধীর ব্যক্তি সেই আত্মাকে সাক্ষাৎ করে সুখদুঃখ থেকে মুক্ত হন।
যমরাজ বললেন --
এতচ্চ্রুত্বা সম্পরিগৃহ্য মর্ত্যঃ
প্রবৃহ্য ধর্মমণুমেতমাপ্য।
স মোদতে মোদনীয়ং হি লব্ধ্বা
বিবৃতং সদ্ম নচিকেতসং মন্যে। ১৩
শব্দার্থ-
মর্ত্যঃ – মরণশীল ব্যক্তি, এতৎ - এই ব্রহ্মতত্ত্ব, শ্রুত্বা – শ্রবণ করে, সম্পরিগৃহ্য – সম্যকভাবে গ্রহণ করে, ধর্ম্যম্ -
ধর্মসঙ্গত, এতম্ অণুম্ -এই সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আত্মাকে, প্রবৃহ্য – দেহাদি থেকে পৃথক করে, আপ্য – প্রাপ্ত হয়ে, মোদনীয়ম্ -
আনন্দস্বরূপকে, লব্ধা – লাভ করে, হি – নিশয়ই, মোদতে – আনন্দিত হয়, নচিকেতসম্ - নচিকেতার কাছে, বিবৃতম্ সদ্ম মন্যে – পরমধামের পথ খোলা রয়েছে মনে করি।
সরলার্থ- মানুষ এই আত্মতত্ত্ব শ্রবণ করে এবং আমি আত্মা
এই ভাবে তাঁকে সম্যক গ্রহণ করে, দেহাদি থেকে পৃথক করে থাকে। এই আনন্দের আকরকে লাভ
করে সে আনন্দই উপভোগ করে। আমি মনে করি যে, নচিকেতার প্রতি ব্রহ্মরূপ গৃহের দ্বার
উন্মুক্ত হয়েছে।
সম্বন্ধ সূত্র – যমরাজের মুখ থেকে পরব্রহ্মের মহিমা শুনে আর নিজেকে সেই
জ্ঞানলাভের অধিকারী জেনে নচিকেতার মনে পরমতত্ত্বের জিজ্ঞাসা জেগে উঠল। নিজের প্রশংসা যমরাজের মুখে
শুনে নচিকেতা লজ্জিতও হলেন। তাই তিনি বললেন -
নচিকেতা বললেন --
অন্যত্র ধর্মাদন্যত্রাধর্মাদন্যত্রাস্মাৎ কৃতাকৃতাৎ।
অন্যত্র ভূতাচ্চ ভব্যাচ্চ যত্তৎ পশ্যতি তত্বৎ।।১৪
শব্দার্থ – নচিকেতা বলছেন – ধর্মাৎ অন্যত্র - শাস্ত্র বিহিত ধর্মাচরণের অতীত, অধর্মাৎ অন্যত্র – অধর্ম থেকেও অতীত, চ – এবং, অস্মাৎ কৃতাকৃতাৎ - এই সম্পূর্ণ কার্য-কারণরূপ জগৎ থেকেও, অন্যত্র – ভিন্ন, চ – এবং, ভূতাৎ ভব্যাৎ - ভূত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল থেকেও ভিন্ন, অন্যত্র – ভিন্ন, পশ্যসি – জানেন, তৎ - সেই কথা, বদ – আপনি বলুন।।
সরলার্থ- ধর্ম
থেকে ভিন্ন, অধর্ম থেকে ভিন্ন, এই কার্য ও কারণ থেকে পৃথক এবং ভূত ভবিষ্যৎ ও বর্তমান থেকে পৃথক বলে যে
বস্তুকে আপনি প্রত্যক্ষ করছেন, তা আমায় বলুন।
সম্বন্ধ সূত্র – নচিকেতার প্রশ্নে যমরাজ
ব্রহ্মতত্ত্ব বর্ণনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপদেশ আরম্ভ করছেন-
যমরাজ বললেন -
সর্বে বেদা যৎ পদমামনন্তি
তপাংসি সর্বাণি চ যদ্ বদন্তি।
যদিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্যং চরন্তি
তত্ত্বে পদং সংগ্রহেণ ব্রবীম্যোমিত্যেতৎ।। ১৫
শব্দার্থ- সর্বে বেদাঃ – সকল বেদ, যৎ পদম্ – যে পরম পদের, আমনন্তি – নির্দেশ করেন, চ- এবং, সর্বাণি তপাংসি – সকল তপস্যা, যৎ - যে পদের, বদন্তি – যাকে পাবার সাধনার কথা বলে, যৎ
ইচ্ছন্তঃ – যাকে পাবার অভিলাষী হয়ে, ব্রহ্মচর্যম্ - ব্রহ্মচারী ব্রত, চরন্তি – পালন করে, তৎ পদম্ - সেই পদ, তে-
তোমাকে, সংগ্রহেণ- সংক্ষেপে, ব্রবীমি –বলছি, ওম্ - ওম্, ইতি – এই, এতৎ - এই অক্ষর।।
সরলার্থ- বেদসমূহ একবাক্যে যে বস্তুর প্রতিপাদন করেন, সমস্ত তপস্যা ও কর্ম যার
প্রাপ্তির সহায়, যাকে প্রাপ্ত হওয়ার জন্য লোকে ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে, আমি তোমায়
সেই সম্বন্ধে উপদেশ করছি – ওঁ হল
ব্রহ্মের বাচক অর্থাৎ ওম্ - শব্দে ব্রহ্মকেই বোঝায়।
সম্বন্ধ সূত্র – তিনি নাম ও রূপের পারে হয়েও
অনেক নামে প্রসিদ্ধ। অনেক নামের মধ্যে ওঁ-কার তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নাম। নাম ও নামী
অভেদ জেনে প্রণবকে পরব্রহ্মের বাচক বলে বর্ণনা করছেন।
যমরাজ বললেন -
এতদ্ধ্যেবাক্ষরং ব্রহ্ম এতদ্ধ্যেবাক্ষরং পরম্।
এতদ্ধ্যেবাক্ষরং জ্ঞাত্বা যো যদিচ্ছতি তস্য তৎ।।১৬
শব্দার্থ – এতৎ - এই, অক্ষরম্ এব হি – অক্ষরই তো, ব্রহ্ম – ব্রহ্ম, এতৎ - এই, অক্ষরম্ এব হি – অক্ষরই, পরম্ – পর ব্রহ্ম, হি – এজন্য, এতৎ এব – একেই, অক্ষরম্ – অক্ষরকে, জ্ঞাত্বা – জেনে , যঃ – যিনি ,যৎ ইচ্ছতি – যাকে পেতে ইচ্ছা করে, তস্য – তার, তৎ - তাই লাভ হয়ে থাকে।।
সরলার্থ- এই
ওম্ অপরব্রহ্ম ও পরব্রহ্ম উভয়কে বোঝায়। এই ওঁকারকে ব্রহ্মরূপে উপাসনা করে যিনি যা
ইচ্ছা করেন, তিনি তাই প্রাপ্ত হন।
যমরাজ বললেন -
এতদালম্বনং শ্রেষ্ঠমেতদালম্বনং পরম্।
এতদালম্বনং জ্ঞাত্বা ব্রহ্মলোকে মহীয়তে।।১৭
শব্দার্থ- এতৎ - এই , শ্রেষ্ঠম্ – অতি উত্তম, পরম আলম্বনম্ – অবলম্বন, আলম্বনম্ – আশ্রয়কে, জ্ঞাত্বা – ভালো করে জেনে, ব্রহ্মলোকে – ব্রহ্মলোকে , মহীয়তে – মহিমান্বিত হন।
সরলার্থ- ওঁ-কারই শ্রেষ্ঠ আলম্বন, পরব্রহ্ম ও অপরব্রহ্ম উভয় বিষয়ক। এই আলম্বনকে জেনে সাধক ব্রহ্মলোকে মহীয়ান্ হন।
সরলার্থ- ওঁকার ই শ্রেষ্ঠ আলম্বন, ওঁকার পরব্রহ্ম
ও অপরব্রহ্ম এই উভয় বিষয়ক। এই আলম্বনকে জেনে সাধক ব্রহ্মলোকে মহীয়ান হন।
যমরাজ বললেন -
ন জায়তে ম্রিয়তে বা বিপশ্চিন্নায়ং কুতশ্চিন্ন বভূব কশ্চিৎ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতো৳য়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।।১৮
শব্দার্থ- বিপশ্চিৎ - নিত্য জ্ঞানস্বরূপ আত্মা, ন জায়তে – জন্ম নেন না, বা ন ম্রিয়তে – অথবা বিনষ্ট হন না, অয়ম্ – ইনি , কুতঃ-চিৎ - কারো থেকে জাত হন না, ন বভূব – হন না, অয়ম্ – এই আত্মা, অজঃ – অজাত, নিত্যঃ – নিত্য, শাশ্বতঃ – চিরন্তন, পুরাণঃ – পুরাতন, শরীরে হন্যমানে – শরীরের নাশ হলেও, ন হন্যতে – নাশ করা যায় না।।
সরলার্থ- ব্রহ্মের জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। এই আত্মা কারণাত্মক থেকে উদ্ভূত হন না, ব্রহ্ম থেকেও কিছু
উৎপন্ন হয় না। এই আত্মা জন্মহীন, নিত্য শাশ্বত ও
পুরাণ। শরীর নিহত হলেও তাঁর নাশ হয় না।
যমরাজ বললেন -
হন্তা চেন্মন্যতে হন্তুং হতশ্চেন্মন্যতে হতম্।
উভৌ তৌ ন বিজানীতো নায়ং হন্তি ন হন্যতে।।১৯
শব্দার্থ- চেৎ- যদি, হন্তা – হননকারী, হন্তুম্ – হনন করতে, মন্যতে – মনে করে, চেৎ - যদি, হতঃ – নিহত ব্যক্তি, হতম্ – নিহত হয়েছি, মন্যতে – মনে করে, তৌ উভৌ – তারা উভয়েই, ন বিজানীতঃ – জানে না, অয়ম্ – এই আত্মা, ন হন্তি – কাউকে মারেন না, ন হন্যতে – কারও দ্বারা হতও হন না।
সরলার্থ- হননকারী যদি মনে করে যে, আত্মাকে হত্যা করব, বা হত ব্যক্তি যদি মনে করে যে আমি হত হয়েছি, তবে তারা উভয়ই অজ্ঞ। কেন না উক্ত আত্মা কাকেও হত্যা
করেন না, কিংবা নিজেও হত হন না।
সম্বন্ধ সূত্র – নচিকেতার মনে পরব্রহ্ম
সম্বন্ধে আগ্রহ জাগ্রত করে পরমাত্মার স্বরূপ ব্যাখ্যা করছেন।
যমরাজ বললেন -
অণোরণীয়ান্মহতো মহীয়ানাত্মা৳স্য জন্তোর্নিহিতো গুহায়াম্।
তমক্রতুঃ পশ্যতি বীতশোকো ধাতুপ্রসাদান্মহিমানমাত্মনঃ।।২০
শব্দার্থ- অণোঃ –অতি সূক্ষ্মবস্তু থেকে, অণীয়ান্ – সূক্ষ্মতর, মহতঃ- বিশাল পৃথিব্যাদি থেকে, মহীয়ান্ – বিশালতর, আত্মা- আত্মা, অস্য – এই, জন্তোঃ – জীবের গুহায়াম্ – হৃদয়গুহায়, নিহিতঃ-জীবাত্মারূপে অবস্থিত। ধাতুপ্রসাদাৎ - ধাতু সমূহ অর্থাৎ মন ইত্যাদি থেকে অক্রতুঃ – নিষ্কাম ব্যক্তি, আত্মনঃ – আত্মার, তম- সেই, মহিমানম্ - মহিমা, পশ্যতি –দর্শন করেন।।
সরলার্থ- সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর এবং বিশাল থেকে বিশালতর এই
আত্মা প্রত্যেক জীবের হৃদয়গুহায় অবস্থিত।
অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ হলে নিষ্কাম ব্যক্তি তাঁকে দর্শন করে শোকাতীত হন।
যমরাজ বললেন -
আসীনো দূরং ব্রজতি শয়ানো যাতি সর্বতঃ।
কস্তং মদামদং দেবং মদন্যো জ্ঞাতুমর্হতি।। ২১
শব্দার্থ- আসীনঃ – আত্মা উপবিষ্ট বা বসে থাকেন, দূরং ব্রজতি – দূরে গমন করেন, শয়ানঃ –শুয়ে থেকেই, সর্বতঃ যাতি –সকল দিকে গমন করেন, তম্ - সেই, মদ-অমদম্ -হর্ষযুক্ত
ও হর্ষবিযুক্ত, দেবম্ - প্রকাশবান্ আত্মাকে, মৎ-অন্যঃ কঃ – আমি ছাড়া আর কে, জ্ঞাতুম্ - জানতে , অর্হতি – সমর্থ হয়।
সরলার্থ - আত্মা স্বরূপতঃ অচল হলেও যেন দূরে গমন করেন। আবার সুষুপ্ত অবস্থায় যেন সর্বত্র গমন করেন। আমাদের মতো বাসনাশূন্য জন ভিন্ন কে সেই সুখ দুঃখের মূলস্বরূপকে জানতে পারে?
সম্বন্ধ সূত্র – যমরাজ এখন উপলব্ধিবান পুরুষের লক্ষণ বর্ণনা করছেন। আত্মজ্ঞান লাভ করলে ফল কী হবে সে কথা বলছেন।
যমরাজ বললেন -
অশরীরং শরীরেষ্বনবস্থেষ্ববস্থিতম্।
মহান্তং বিভুমাত্মানং মত্বা ধীরো ন শোচতি।।২২
শব্দার্থ- শরীরেষু –বিভিন্ন দেহে, অশরীরম্ - দেহবিহীন, অনবস্থেষু –অনিত্যবস্তুদের মধ্যে, অবস্থিতম্ -অবিচলভাবে
অবস্থিত, মহান্তম্- সেই মহান্ , বিভুম্ - সর্বব্যাপী, আত্মানম্ - পরমাত্মাকে,
মত্বা – জেনে, ধীরঃ – বুদ্ধিমান মহাপুরুষ, ন শোচতি – কোন
অবস্থাতেই শক করেন না।
সরলার্থ- বিভিন্ন দেহে অশরীরিরূপে বর্তমান ও অনিত্যবস্তুর মধ্যে
নিত্যরূপে বিরাজমান সেই সুবিশাল ও সর্বব্যাপী আত্মাকে সাক্ষাৎ করেব ধীমান ব্যক্তি
শোকহীন হন।
সম্বন্ধ সূত্র – সেই পরমাত্মাকে নিজের সামর্থ্যে লাভ করা যায় না। পরমেশ্বর
যাঁকে গ্রহণ করেন, তিনিই তাঁকে লাভ করে
থাকেন।
যমরাজ বললেন -
নায়মাত্মা প্রবচনেন লভ্যো ন মেধয়া ন বহুনা শ্রুতেন।
যমেবৈষ বৃণুতে তেন লভ্যস্তস্যৈষ আত্মা বিবৃণুতে তণূংস্বাম্।।২৩
শব্দার্থ- অয়ম্ আত্মা –এই আত্মা, প্রবচনেন –শাস্ত্রোক্ত বাক্যের
ব্যাখ্যানের দ্বারা, ন লভ্যঃ –জানা যায় না, ন মেধয়া – বুদ্ধির দ্বারাও না, ন বহুনা শ্রুতেন - বহুবার শুনেও বা বিদ্যার্জনের দ্বারা নয়, এষঃ – এই আত্মা, যম্ এব – যাকেই , বৃণুতে – অনুগ্রহ করেন, তেন এব – তার দ্বারাই , লভ্যঃ- লাভ করেন, তস্য – তার জন্য, এষঃ আত্মা – এই আত্মা, স্বাম্ তনূম্ - আপন যথার্থ স্বরূপ,
বিবৃণুতে – প্রকটিত করেন।
সরলার্থ- এই আত্মা
বহু বেদ আয়ত্ত করার ফলে অথবা ধারণা শক্তির দ্বারা, কিংবা বহু শাস্ত্র
শ্রবণের দ্বারাও জানা যায় না। যাঁর প্রতি ইনি অনুগ্রহ করেন, তিনি লাভ করেন, তাঁরই
কাছে এই আত্মা নিজ রূপ প্রকটিত করেন।
সম্বন্ধ সূত্র – কে এই পরমাত্মাকে লাভ করতে পারে না, তা বলছেন -
যমরাজ বললেন -
নাবিরতো দুশ্চরিতান্নাশান্তো নাসমাহিতঃ
নাশান্তমানসো বা৳পি প্রজ্ঞানেনৈনমাপ্নুয়াৎ।।২৪
শব্দার্থ- দুঃ-চরিতাৎ - পাপ আচরণ থেকে, অবিরতঃ – অনিবৃত্ত, অশান্তঃ –অশান্ত ব্যক্তি, অসমাহিতঃ – চিত্ত সমাধান শূন্য, এনম্ -এই আত্মাকে, প্রজ্ঞানেন –জ্ঞানের দ্বারা, ন আপ্নুয়াৎ -লাভ করতে পারে না।
সরলার্থ- যে পাপ আচরণ থেকে নিবৃত্ত হয়নি, ইন্দ্রিয় লোলুপতা
থেকে বিরত হয়নি, একাগ্রচিত্ত হয়নি, কিংবা
সমাধির ফললাভ বিষয়ে (অণিমাদি লাভে) ব্যাকুল হয়, সে এই আত্মাকে প্রজ্ঞান সহায়ে লাভ
করতে পারে না।
সম্বন্ধ সূত্র – সেই পরমেশ্বরকে মানুষ কেন জানতে পারে না, যমরাজ তার উত্তর
দিচ্ছেন
যমরাজ বললেন -
যস্য ব্রহ্ম চ ক্ষত্রং চ উভে ভবত ওদনঃ।
মৃত্যুর্যস্যোপসেচনং ক ইত্থা বেদ যত্র সঃ।।২৫
শব্দার্থ- যস্য – যে পরমাত্মার , ব্রহ্ম চ ক্ষত্রম্ চ - ব্রাহ্মণ ও
ক্ষত্রিয় অর্থাৎ সকল প্রাণী, উভে – উভয়ই,ওদনঃ – অন্ন, ভবতঃ – হন, মৃত্যুঃ – সর্বসংহারক যম, যস্য – যাঁর, উপসেচনম্ - ভোজ্যবস্তুর সহযোগী শাকাদি, সঃ
যত্র – সেই আত্মা যেখানে, ইত্থা – যেমন ঠিক ঠিক, কঃ বেদ – তা কে জানতে পারে?
সরলার্থ - মানুষের মধ্যে ধর্মশীল
ব্রাহ্মণ ও ধর্মরক্ষক ক্ষত্রিয়ের শরীরকে পরমাত্মালাভের পক্ষে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
কিন্তু তারাও এই মহাকালস্বরূপ পরমেশ্বরের ভক্ষ্য। তাহলে সাধারণের কী কথা? নিজের
শক্তিতে তাঁকে কেউই যথার্থরূপে জানতে পারে না, কারণ তিনি লৌকিক বস্তুর মতো বুদ্ধির
দ্বারা জ্ঞেয় নন।
প্রথম অধ্যায় দ্বিতীয় বল্লী সমাপ্ত।
আপনি আমাদের তোতা পাখির মত করে বোঝান আমরা অনেক উপকৃত হতে পারছি আপনি আমাদের কাছে দেবতা আমরা অনেক বাজে কাজে থাকতাম আপনি আমাদের মোর ফিরিয়ে দিয়েছেন আমরা ধন্য মনে করি প্রণাম শিক্ষা গুরু দেব শিখা মন্ডল ব জ ব জ
ReplyDeleteKhub sundor kotho uponisad er kotha..pronam Maharaj..Basanti Chatterjee Howrah shibpur.
ReplyDeleteKotho uponishod porlam ,khub valo laglo, age, aisob uponishod somporke kichhui ,jantam na, aktu aktu kore sikhchhe,pronam neben moharaj
ReplyDeleteSovakti pranam Achariyo Maharajji 🌹🌹🙏🏻🙏🏻. Kathoponishad onudhyan er madhyomey 'Atmogyan' ki o ter nirjaas ekmatro barongber Apner sorolotomo bekhya r dwara yatsamannyo holey o bujhtey parchi, Maharajji 🌹🙏🏻. Porom souvagyo achhey bolei aaj Apner sannidhyo Dibyotroyee korey diyeychen, e jonmer ek mahat prapti amader, Maharajji 🌹🌹🙏🏻🙏🏻. Thakur Kathamritey bolechen je 'Vagabaan ke janei holo manusher ekmatro uddesyo'. Sutorang, agoto onudhyan er dwara Apner madhyomey aro aro Atmogyan er Gyan siksha prapti r asha te opeksharoto, Maharajji 🙏🏻🙏🏻
ReplyDelete