।। সংক্ষিপ্ত নিত্যপূজা পদ্ধতি।।
সংকলন ও অনুবাদঃ স্বামী হরিময়ানন্দ
[১]
কর্মব্যস্ত জীবনের জন্য
[সকালে স্নান করে গঙ্গাজল স্পর্শ করে
ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করবে। প্রণাম করে পুজোর জিনিস পত্র ঠিক মতো
সাজিয়ে নেবে। দেবদেবীর পট সুন্দর করে মুছে চন্দন
পরিয়ে, ফুল , মালা ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে দেবে। সম্ভব হলে একটি করে অর্ঘ্য( বেলপাতা, দূর্বা, চন্দন, আতপচাল, ফুল) দেবতার মস্তক স্পর্শ করে সামনে বেদীতে
রাখবে। প্রদীপ ও ধূপ জ্বেলে দেবে।
পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে আসনে বসবে।]
করজোড়ে বলবে-
১। মঙ্গল প্রার্থনা
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভম্।
নারায়ণং নমস্কৃত্য সর্বকর্মাণি কারয়েৎ।।
সরলার্থ- (সকল মঙ্গলের আধার বরণীয় শুভ বরদাতা নারায়ণকে প্রণাম করে সমস্ত কাজ করবে।)
২। আচমন
[হাতে গঙ্গাজল নিয়ে, এরপর হাতজোড় করে]
ওঁ বিষ্ণু,
ওঁবিষ্ণূ, ওঁ বিষ্ণু, ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্।
ওঁ অপবিত্র পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতো৳পি বা।/যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।
সরলার্থ - আকাশ মণ্ডলে পরিব্যাপ্ত চক্ষু দিয়ে যেমন অবাধে সব কিছু দেখা যায়, তেমনি জ্ঞানিগণ সর্বত্র পরব্রহ্ম ব্যাপ্ত দেখেন।
সরলার্থ- পবিত্র বা অপবিত্র, যে অবস্থায় যিনি থাকুন, পুণ্ডরীকাক্ষ নারায়ণকে স্মরণ করলে তার অন্তর ও বাহির শুদ্ধ হয়।
৩। কোশা স্থাপন ও তীর্থ আবাহন
[ সামনে
কোশাতে জল ভরে, সামনে একটি অর্ঘ্য রেখে জলে অগুরু, গোলাপজল, ফুল, বেলপাতা রেখে
অঙ্কুশ মুদ্রাতে জলস্পর্শ করে জলে সকল তীর্থের আবাহন করবে-]
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি।নর্মদে সিন্দু কাবেরি জলেহস্মিন সন্নিধিং কুরু।।
সরলার্থ- গঙ্গা ,যমুনা, গোদাবরী ,সরস্বতী,নর্মদা, সিন্ধু, কাবেরী – হে পবিত্র নদী সকল এই কোশার জলে আগমন করুন, যাতে কোশার জল সর্বতীর্থ জলে পূর্ণ হয়।
৪। আসনশুদ্ধি
ওঁ আসন-উপবেশন-মন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠ-ঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কূর্মঃ দেবতা আসন-উপবেশনে বিনিয়োগঃ।
ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা। ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্।।
সরলার্থ- আসন উপবেসন মন্ত্রের ঋষি হলেন মেরুপৃষ্ঠ, ছন্দ হল সুতল ও দেবতা হলেন কূর্ম, আসন উপবেশনে এঁদের বিশেষ ভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। হে পৃথিবী দেবী ,তুমি সকল লোককে ধারণ করে আছো। ভগবান বিষ্ণু তোমায় ধারণ করে আছেন। আমাকে তুমি নিত্য ধারণ করে থাক ও আসনকে পবিত্র কর।
৫। সূর্যার্ঘ্য ও প্রণাম
[কুশীতে জল, লাল ফুল, চন্দন, আতপচাল ও দূর্বা
নিয়ে-]
ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন্ ভাস্বতে
বিষ্ণুতেজসে। জগৎসবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্মদায়িনে।
এষ-অর্ঘ্যঃ ওঁ শ্রীসূর্যায় নমঃ।
ওঁ জবাকুসুম-সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতো৳স্মি দিবাকরম্।।
সরলার্থ- হে পরব্রহ্মস্বরূপ সবিতৃদেব, তুমি তেজস্বী, দীপ্তিমান, বিষ্ণুর তেজের আধার, জগতের কর্তা, পবিত্র ও কর্মপ্রবর্তক তোমাকে প্রণাম করি। এই অর্ঘ্য তোমাকে
প্রদান করছি।যিনি রক্তজবার মতো লাল, কশ্যপ-পুত্র, মহা দীপ্তিমান সেই অন্ধকার ও
পাপানাশক সূর্যদেবকে প্রণাম করি।
( এক একটি ফুল দিয়ে এই মন্ত্রে পুজো করবে। সম্ভব হলে
পৃথক গণেশ,শিব,নারায়ণ,সূর্য ও জয়দুর্গা এই পাঁচ দেবতার পুজো করা যেতে পারে।)
ঐং এতে
গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ। ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গণেশায় নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শিবাদিপঞ্চদেবতাভ্যঃ নমঃ।
৬। শ্রীগুরু পূজা
ওঁ ব্রহ্মানন্দং পরমসুখদং
কেবলং জ্ঞানমূর্তিং
দ্বন্দ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদিলক্ষ্যম্।
একং নিত্যং বিমলমচলং সর্বধী সাক্ষিভূতং।
ভাবাতীতং ত্রিগুণরহিতং সদ্গুরুং তং নমামি।।
সরলার্থ- যিনি আনন্দস্বরূপ,পরম সুখ দাতা,নিরুপাধিক,জ্ঞানই
যাঁর মূর্তি, যিনি দন্দ্বাতীত, আকাশের মত সর্বব্যাপী। ‘তত্ত্বমসি’ মহাবাক্যের যিনি লক্ষ্য।যিনি এক ,নিত্য
শুদ্ধ,অচল, সকল জীবের বুদ্ধিতে যিনি সাক্ষিস্বরূপ। যিনি সমস্ত ভাবের অতীত,
ত্রিগুণাতীত সেই সদ্গুরুকে প্রণাম।
ওঁ অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।
তৎ
পদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।
সরলার্থ- অখণ্ড
মণ্ডলাকার চর ও অচর বিশ্বে যিনি ব্যপ্ত, সেই ব্রহ্মস্বরূপকে যিনি দেখিয়ে দেন, সেই
গুরুদেবকে প্রণাম।
৭। গণেশপূজা
ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দন্-মদ্গন্ধলুব্ধ-মধুপ-ব্যালোল গণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাত-বিদারিতারি-রুধিরৈঃ সিন্দূর-শোভাকরম্
বন্দে শৈলসুতা-সুতং গণপতিং
সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।
সরলার্থ- খর্ব ও স্থূলদেহ, গজেন্দ্র বদন অথচ সুন্দর,
লম্বোদর, ভ্রমরগণ মদগন্ধে লুব্ধ হয়ে তাঁর গণ্ডস্থলে গুঞ্জন করে ঘুরছে।দন্তাঘাতে
শত্রু-বিদারিত রক্তে যিনি সিন্দূরবর্ণ শোভিত, সেই পার্বতীপুত্র সিদ্ধি দাতা, সকল
কামনা পূরণকারী গণপতিকে বন্দনা করি।
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।।
৮। শিবপূজা
ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজত-গিরি-নিভং চারুচন্দ্রাবতংসং
রত্নাকল্পো-জ্জ্বলাঙ্গং পরশু-মৃগ-বরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্।
পদ্মাসীনং সমন্তাৎ স্তুতম্-অমরগণৈ-র্ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্।।
সরলার্থ - রজত পর্বতের যিনি শুভ্র-বিশাল, মস্তকে শোভিত
সুন্দর অর্ধচন্দ্র, রত্নের ন্যায় উজ্জ্বল যাঁর শরীর।যিনি চার হাতে পরশু, মৃগ
(মুদ্রা), বর ও অভয় মুদ্রা ধারণ করে আছেন। যিনি পদ্মের উপর আসীন। চারিদিক থেকে
দেবগণ যাঁর স্তব গান করছেন। যাঁর পরিধানে বাঘের ছাল। যিনি সকল প্রকার ভয় হরন
করেন।যাঁর পাঁচটি মুখ, প্রতিমুখে তিনটি চক্ষু। যিনি বিশ্বের আদি ও বিশ্বসৃষ্টির
বীজস্বরূপ সেই মহেশ্বরকে নিয়ত ধ্যান করি
ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারণত্রয়হেতবে।
নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বর।।
সরলার্থ-
যিনি করণ, নিমিত্ত ও উপাদান এই তিনপ্রকার কারণের হেতু সেই শিবকে প্রণাম, হে
পরমেশ্বর, আমি নিজেকে তোমার কাছে নিনবেদন করছি। তুমিই আমার গতি।
৯। সূর্যপূজা
ওঁ রক্তাম্বুজাসনম্ অশেষগুণৈক-সিন্ধুং
ভানুং সমস্তজগতাম্-অধিপং ভজামি
পদ্ম-দ্বয়াভয়-বরান্ দধতং করাব্জৈ-র্মাণিক্য
মৌলিম্-অরুণাঙ্গ-রুচিং ত্রিনেত্রম্ ।
সরলার্থ- রক্তপদ্মে আসীন অশেষ গুণের সাগর যিনি, যিনি সকল
জগতের অধিপতি, যাঁর চার হাতে দুটি পদ্ম, বর ও অভয় মুদ্রা, যাঁর মৌলিতে মাণিক্যের
দ্যুতি, যিনি অরুণবর্ণ ও ত্রিনয়ন – সেই শ্রীসূর্যকে আমি পূজা করি।
ওঁ
জবাকুসুম-সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতো৳স্মি দিবাকরম্।
১০। নারায়ণ
ওঁ ধ্যেয়ঃ সদা সবিতৃ-মণ্ডল-মধ্যবর্তী
নারয়ণঃ সরসিজাসন-সন্নিবিষ্টঃ।
কেয়ূরবান্ কনক-কুণ্ডলবান্ কিরিটী-হারী
হিরন্ময় বপুর্ধৃত-শঙ্খ-চক্রঃ।।
সরলার্থ - যিনি সূর্যমণ্ডলের মধ্যে পদ্মের উপর বসে রয়েছেন,
যাঁর অঙ্গ বাজু, সোনার কুণ্ডল, কিরীট এবং হার দ্বারা শোভিত, জ্যোতির্ময় দেহ, শঙ্খ
ও চক্র ধারণ করে আছেন সেই নারায়ণকে সদা ধ্যান করি।
ওঁ ত্রৈলোক্যপূজিতঃ শ্রীমান্ সদাবিজয়- বর্ধনঃ।
শান্তিং কুরু গদাপাণে নারায়ণ নমো৳স্তুতে।।
সরলার্থ-
যিনি স্বর্গ মর্ত্য ও পাতালে পূজিত ও শ্রীযুক্ত সর্বদা বিজয় বৃদ্ধি কারী
নারায়ণকে প্রণাম করি। হে গদাধর, আমাদের
শান্তি দাও।
১১। জয়দুর্গা
ওঁ হ্রীং কালাভ্রাভাং কটাক্ষৈররিকুলভদাং
মৌলি-বদ্ধেন্দুরেখাং
শঙ্খং চক্রং কৃপাণং ত্রিশিখমপি করৈরুদ্বহন্তীং ত্রিনেত্রাম্।
সিং হস্কন্ধাধিরূডঢ়াং ত্রিভুবনমখিলম্ তেজসা পূরয়ন্তীং
ধ্যায়েৎ-দুর্গাং জয়াখ্যাং ত্রিদশপরিবৃতাং সেবিতাং সিদ্ধিকামৈঃ।।
সরলার্থ - হেমবর্ণা, ত্রিনয়না,কটাক্ষে শত্রুকুলনাশিনী, কপালে
চন্দ্রকলা শোভিতা।চার হাতে শঙ্খ চক্র খড়্গ ও ত্রিশূল ধারণ করে আছেন। যিনি সিংহের
উপর আসীন, সমগ্র ত্রিভুবন যিনি নিজ তেজে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন। যিনি দেবগণ পরিবৃতা
– সেই জয়াখ্যা দেবীর ধ্যান করি।
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমো৳তে।।
সরলার্থ- হে নারায়ণি, আপনি সকলমঙ্গল স্বরূপা,
সর্বাভীষ্ট-সাধিকা, শরণযোগ্যা, ত্রিভুনজননী ত্রিনয়না ও গৌর-বর্ণা আপনাকে প্রণাম।
১২। শ্রীরামকৃষ্ণ
ধ্যানমন্ত্র
ওঁ হৃদয়কমলমধ্যে রাজিতং নির্বিকল্পং
সদসদখিলভেদাতীতমেকস্বরূপম্।
প্রকৃতিবিকৃতিশূন্যং নিত্যমানন্দমূর্তিং
বিমলপরমহংসং রামকৃষ্ণং ভজামঃ।।
নিরুপমমতিসূক্ষ্মং নিষ্প্রপঞ্চং নিরীহং
গগনসদৃশমীশং সর্বভূতাধিবাসম্।।
ত্রিগুণরহিতসচ্চিদ্ ব্রহ্মরূপং বরেণ্যং।
বিমলপরমহংসং রামকৃষ্ণং ভজামঃ।।
বিতরিতুমবতীর্ণং জ্ঞানভক্তিপ্রশান্তীঃ।
প্রণয়গলিতচিত্তং জীবদুঃখাসহিষ্ণুম্।
ধৃতসহজসমাধিং চিন্ময়ং কোমলাঙ্গং
বিমলপরমহংসং রামকৃষ্ণং ভজামঃ।।
সরলার্থ-যিনি
হৃদয় পদ্মে নির্বিকল্পরূপে বিরাজ করেন, যিনি সদ-অসদ্ ভেদের পারে, অদ্বয় স্বরূপ,
যিনি প্রকৃতিবিকারশূন্য, সত্য ও সনাতন, চিন্ময় ও অনন্দঘন মূর্তি – সেই বিমল পরমহংস অবতার শ্রীরামকৃষ্ণকে আমরা ভজনা
করি।
যিনি
অতিসূক্ষ্ম, প্রপঞ্চরহিত, নিরুপম, বাসনাহীন, সর্বভূতে অবস্থিত, আকাশের মতো
সর্বব্যাপী, যিনি সত্ত্ব, রজঃ ও তম গুণের পারে, পূর্ণব্রহ্ম, চৈতন্যস্বরূপ - সেই
বিমল পরমহংস অবতার শ্রীরামকৃষ্ণকে আমরা ভজনা করি।
যিনি
জ্ঞানভক্তি ও পরম শান্তি বিতরণের জন্য কোমল চিন্ময় অঙ্গে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন,
যিনি সহজে সমাধিতে মগ্ন হন, যিনি জীবের দূঃখে সকাতর প্রেমে বিগলিত - সেই বিমল
পরমহংস অবতার শ্রীরামকৃষ্ণকে আমরা ভজনা করি।
[ধ্যানমন্ত্রে ধ্যান করার পর পুজো করবে]
ওঁ ঐং এতৎ
পাদ্যং সর্বদেবদেবীস্বরূপায় শ্রীরামকৃষ্ণায় নমঃ।
ওঁ ঐং এষঃ
অর্ঘ্যঃ ......
ওঁ ঐং ইদং
স্নানীয়ং ...
ওঁ ঐং এষ
গন্ধঃ ......
ওঁ ঐং ইদং
সচন্দনপুষ্পং......
ওঁ ঐং ইদং
সচন্দনতুলসীপত্রং ...
ওঁ ঐং ইদং
সচন্দনবিল্বপত্রং ......
ওঁ ঐং এষ
ধূপঃ ..
ওঁ ঐং এষ
দীপঃ ..
ওঁ ঐং ইদং
সোপকরণনৈবেদ্যং ......
ওঁ ঐং ইদং
পানার্থোদকং ......
১৩। পুষ্পাঞ্জলি
ওঁ ঐং এষ
সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ সর্বদেবদেবীস্বরূপায়
শ্রীরামকৃষ্ণায় বৌষট্।
ওঁ ঐং হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে
সর্বদেবদেবীস্বরূপিণ্যৈ শ্রীসারদাদেব্যৈ নমঃ।
ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে বিবেকানন্দাদিশ্রীরামকৃষ্ণপার্ষদেভ্যো
নমঃ।
ওঁ স্থাপকায় চ
ধর্মস্য সর্বধর্মস্বরূপিণে।
অবতারবরিষ্ঠায়
রামকৃষ্ণায় তে নমঃ।।
সরলার্থ- যিনি ধর্মস্থাপক ও সকল
ধর্মের স্বরূপবিগ্রহ অবতারবরিষ্ঠ সেই শ্রীরামকৃষ্ণকে প্রণাম।
[এরপর ইচ্ছা
করলে অন্যদেবতাদের সচন্দনপুষ্প দিয়ে পুজো
করবে।]
১৪। মানস পূজা
মনে মনে এই
পূজা করতে হয়। কোন বাহ্য উপচার লাগে না। আসন রূপে দেবে
হৃৎপদ্ম। হৃদয়ে যে পদ্মের ধ্যান করা হয় তাই হৃৎপদ্ম। অনাহত পদ্মকেই সাধারণত
হৃৎপদ্ম বলা হয়। পাদ্য হিসাবে দেবে সহস্রারচ্যুত অমৃত। অর্ঘ্য দেবে মন। সেই
সহস্রারচ্যুত অমৃতকেই করবে দেবীর স্নানীয় ও পানীয়। আকাশতত্ত্ব হবে বস্ত্র। গন্ধতত্ত্ব হবে গন্ধ, চন্দন। চিত্তকে পুষ্প
কল্পনা করবে। প্রাণকে ভাববে ধূপ। তেজতত্ত্বকে ভাববে দীপ। এবং অমৃতসমুদ্রকে নৈবেদ্য
কল্পনা করবে। অনাহত ধ্বনি হবে ঘন্টা। বায়ুতত্ত্ব হবে
চামর। যাবতীয় ইন্দ্রিয় কর্ম ও মনের চাঞ্চল্য হবে নৃত্য। নিজের অভিপ্রেত
সিদ্ধির জন্য ঠাকুরকে নানাবিধ পুষ্প দিতে হয়। অনহংকার, অ-রাগ অর্থাৎ অনাসক্তি, অ-মদ, অমোহ, অদম্ভ
, অদ্বেষ, অক্ষোভ, অমাৎসর্য, অলোভ এই দশটি পুষ্প। এছাড়া আছে অহিংসা, ইন্দ্রিয়
নিগ্রহ, দয়া, ক্ষমা, এবং জ্ঞান এই পাঁচটি পুষ্প। এই মোট পঞ্চদশ ভাবপুষ্পের দ্বারা
দেবতার পুজো করতে হবে।
[এরপর শ্রীগুরুর নির্দেশ অনুসারে জপ-ধ্যান,সাধন ভজন করতে হয়। ]
পরম করুণাময় শ্রীগুরুজী আমদের অন্তরের দৈন্যতা দূর করতে সদা-ব্রতী। কত পবিত্র মন্ত্র ও স্তব-স্তুতির বেশ সুন্দর করে অর্থ বুঝিয়ে "নিত্য-পূজা পদ্ধতি":- খুব ভালো লাগলো মহারাজ। শেষে হৃৎ-পদ্মে মনে মনে "মানস-পূজা" - আরও বেশি সুন্দর! - অপূর্ব ভাবপূর্ন!! মন-কানে আপনার পবিত্র ধ্যানমন্ত্র ধ্বনির মধুর শ্রীকণ্ঠস্বর ভেসে আসছে!! অনেক অনেক পবিত্র শ্রদ্ধা মহারাজ। সবসময় খুব ভালো থাকবেন, নিজের খেয়াল রাখবেন মহারাজ। স্বভক্তি চিত্তে অসংখ্য প্রণাম আমার অন্তর পূজ্য শ্রীচরণ-পদ্ম যুগলে।
ReplyDelete-নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং -
🙏🙏🙏"পরমেশ্বর"🙏🙏🙏
*******🕉️ শান্তি :🕉️*******
সশ্রদ্ধ ভক্তিপূর্ণ প্রণাম নেবেন আচার্য্য মহারাজ 🙏।
Deleteনিত্য পুজো পদ্ধতি লিখিত আকারে পেয়ে খুব ভালো হলো।
মৌসুমী রায় কোচবিহার।
প্রণাম নেবেন মহারাজ। এতো বিস্তারিত ভাবে প্রণাম জেনে খুব উপকার হলো।🙏🙏🙏
DeleteSovakti pranam, Achariyo Gurudeva🌺🍀🙏🏻. Amar moner boroi akangkha chilo je Apner madhyomey Nityopuja podhyoti r lekhoni pei, Maharajji 🙏🏻. Aaj thik pelam, tei khubei anondito o apluto🌹🙏🏻. Amra online e thekey e jonmey koto kichu Swattik Tattyogyan khub sohojey peyey jachhi, Maharajji 🙏🏻 , ta likhey bojhano jabey na. Really, Apner protidiner onudhyaney thekey mon ke onek shanto o sthir kortey parchi. Apner sannidhyo lav amader porom souvagyo , Maharajji 🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteThank you Maharaj for this detailed post for daily puja. Pronam with Gratitude, Reverence and Love from our heart.
ReplyDeleteCould you please include the Manas Pujaj Vidhi along with the Mantra.
খুব ভালো লাগলো নিত্য পূজা পদ্ধতি পেয়ে আর আপনি কতভাবে আমাদের সাহায্য করবেন আপনি আমাদের ভগবানের কাছে যাওয়ার পথ করে দিচ্ছেন আপনার মতন গুরু যেন জনম জনম পাই আপনার শ্রী চরণে শতকোটি প্রণাম শিখা মন্ডল বজ বজ
ReplyDeleteVoktipurna sostango pronam neben Acharya Gn
ReplyDeleteনিত্য পূজা পদ্ধতি পেয়ে খুব ভালো লাগলো মহারাজ। আপনি আমাদের সবসময় আধ্যাত্মিক দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কত ভাবে শিখিয়ে দিচ্ছেন। স্তোত্র মন্ত্র সব কিছুই আপনার শিখছি।সুপ্রভাত মহারাজ প্রণাম নেবেন।🙏🌺🙏🌺🙏
ReplyDeleteপ্রণাম। নেবেন মহারাজ
Deleteআমার আপনার এই সুন্দর করে পূজা পদ্ধতি অবশ্যই অনুসরণ করার চেষ্টা করবো।
Pranam Maharaj 🙏. পূজার অনেক নিয়ম জানতে পারলাম.
DeleteMaharaj. Apni Amador din dhukhi bhoktoder koto vabe sahajo korchen Apni vallo thakben tahole amrao valo thakbar. Koto puno korechi j apneke amra peyechi
DeleteAmar khub anondo holo Puja পদ্ধতি পেয়ে,আমার দিদি r কাছ থেকে Xerox copy ta ante chayechilam kintu ana hoi ni।akhane paye khub anondo hoche।aloka Bangalore। Sosrodho প্রণাম নেবেন মহারাজ।
ReplyDeleteনিত্যপূজা পদ্ধতি পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। প্রণাম মহারাজ।
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ
ReplyDeleteএই পদ্ধতি অনুসরণ করে পূজা করবো
Joy Thakur Joy Ma Joy Swamiji🌻🌻🌻🙏🙏🙏. Sovakti pranam Achariyo Maharajji 🌷 🙏. Maharajji, aber Aponer ei Nityo Puja Paddhati peyey otibo dhonnyo👏🙏No language at all. Anondey mon pran udvasito🙏🙏. Amra jeno mon ke Swattik vaabasomponyo kortey pari, Maharajji ashirbad korun👏🙏🙏
ReplyDeleteAnek na jana bisoy jante parlum Maharaj 🙏🌺
ReplyDeleteনিত্য puja পদ্ধতি পেয়ে খুব আনন্দিত এই ভাবে step by step বিশ্লেষণ করেছেন আপনার চরণে কোটি প্রণাম। ঠাকুর আপনাকে ভালো রাখবেন সবসময় এটাই আন্তরিক বিশ্বাস ও প্রার্থনা
ReplyDeleteKrishna Biswas
Deleteশ্রদ্ধাবনত চিত্তে প্রণাম জানাই মহারাজ। নিত্য- পূজা-পদ্ধতি পেয়ে খুব ভালো লাগলো....... ভালো থাকবেন 🙏
ReplyDeleteমন যেন রহে তব শ্রীচরণে, গুরুদেব দয়া কর দীনজনে.... কৃপাহি কেবলম্ 🙏
মহারাজ আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই! আপনি অকাতরে দান করে চলেছেন! কত রকম ভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন!এর আগেও আপনি পূজা পদ্ধতি পাঠিয়ে ছিলেন আপনার পাঠানো পদ্ধতি অনুযায়ী নিয়মিত পূজা করি! ভীষণ সুবিধে হয় ও ভালো লাগে মহারাজ! আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ ! আপনি খুব ভালো থাকবেন, সাবধানে থাকবেন মহারাজ! আপনার চরণে শত কোটি প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ!🙏🙏🙏
ReplyDeleteNitya puja padhatti....jante pere
ReplyDeleteKhubi bhalo lagche....apnar kripay....adhyatik pathe egobar chesta korchi.....sradhapurno pranam janai maharajji....🌷🌿🌻🙏🙏🌷🌻🌿
🙏🙏🙏
ReplyDeleteনিত্য পুজা পদ্ধতি পেয়ে যারপরনাই আনন্দ অনুভব করছি আর ভাবছি এমন "নিখুঁত প্রাণ" ভক্তবৃন্দের জন্য সদা দিয়েই যাচ্ছেন আধ্যাত্মিক শক্তি তথা আত্মজ্ঞান লাভে সক্ষম হতে! আপনার সহৃদয়তার উপর ঈশ্বরের অশেষ কৃপা বষি'ত হোক কায়মনোবাক্যে প্রাথ'না করি। পরিপূর্ণ সুস্থ থাকেন সদাসব'দা - কামনা করি ঠাকুরের কাছে। অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই আপনার শ্রী চরণে 🙏🙏🙏।
ReplyDeleteMoharaj, Nitya Puja. Podhyti. Peya. Khub Khub. Anondito, pronam. Moharaj. Khub. Valo. Thakben asima. Batabyal, howrah. Shibpur
ReplyDeleteনিত্যপুজা পদ্ধতি পেয়ে খুব উপকৃত হলাম।প্রণাম নেবেন মহারাজ। যে অসম্ভব পরিশ্রম করছেন আপনি আমাদের আধাত্মিক উন্নতির জন্য তার উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারি যেন এই আশীর্বাদ করবেন।
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো। প্রণাম মহারাজ, আপনি ভালো থাকবেন।
ReplyDeleteনিত্য পূজা ও মানস পূজা পদ্ধতি পেয়ে খুব উপকৃত হলাম। আপনি আমাদের মানসিক স্তর কে উন্নত করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমরা যেন তার মর্যাদা রাখতে পারি। প্রণাম মহারাজ। শুভ্রা লালা। দমদম।
ReplyDeleteজয় ঠাকুর , জয় মা , জয় স্বামীজীর চরণে প্রণাম । প্রণাম আমার বাবাকে
ReplyDeleteজয় মা ।
আপনার এই নিত্যপূজার বিষয় পেয়ে খুব ভাল লাগলো মহারাজ
ReplyDeleteমন্ত্র গুলো জানতেম কিন্তু পদ্ধতি এক বিষদ জানা ছিল না খুব ভাল হোল পেয়ে
প্রনাম নেবেন মহারাজ
সুব্রত ঘোষাল
রবিবার পরিপ্রশ্নতে আপনি এটার কথা উল্লেখ করেছিলেন। প্রনাম নেবেন মহারাজ জী।
ReplyDeleteআপনি আমাদের প্রকৃত আচার্য্য,নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।ধন্য ,ধন্য আমরা।প্রণাম নেবেন ,ভালো থাকুন মহারাজ।🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteSuprovat pronam neben moharaji, nitto puja r poddhoti jene khub upokrito holam🙏🏻❤️
ReplyDeleteনিত্য পূজা পেয়ে খুব উপকার হইল।জয় ঠাকুর জয়মা জয় সামিজি জয় গুরু দেব জয় রামকৃষ্ণ মিশন।
ReplyDeleteআলো ব্যনার্জী।
ReplyDeleteমহারাজ খুব উপকার হলো নিত্য পুজা, মানস পুজার লিখিত ভাবে সমস্ত মন্ত্র পেয়ে, আপনি কতো ভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান দান করে চলেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা নেই। আপনি সুস্থ্য থাকুন মায়ের কাছে এই প্রার্থনা করি। আপনার চরণে শ্রদ্ধা ভক্তি পূর্ণ প্রণাম নিবেদন করি মহারাজ🙏🙏🙏
মহারাজ আমার প্রণাম গ্রহণ করুন। নিত্যপূজার পদ্ধতি দেখে আনন্দিত হয়েছি। কিন্তু যারা বাইরে কাজ করে তাদের সকালে ভীষণ তারা থাকে তাই তারা লম্বা সময় নিয়ে ইচ্ছে থাকা সত্যেও পূজা করতে পারবেনা। যদি দয়া করে আরেকটু সংক্ষিপ্ত ভাবে আমাদের জন্য পদ্ধতি টা বানানো যেতো তবে আমরা আরো মনে শান্তি পেতাম পূজা করে।আমাকে ভুল বুঝবেন না please.🙏🙏🙏
ReplyDeleteKhub upakar halo.Pranam Maharaj
ReplyDeletePulakesh Sinha Roy.
Khub bhalo laglo maharaj
ReplyDeleteKhub upakrita holam
Pronam neben maharaj
🙏🌷
ReplyDeleteশ্রদ্ধেয় গুরু মহারাজজী, আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিপূর্ণ প্রণাম জানাই আপনার শ্রীপদ্ম কমল চরণে। "নিত্য পুজা পদ্ধতি"পেয়ে ভীষণভাবে অভিভূত হলাম। চির কৃতজ্ঞ। প্রতি পূর্ণিমায় পুজা করি এভাবে... তবে আপনার পাঠানো থেকে আরও মন্ত্র যোগ করে নিব, শিখে নিব- যা জানতাম না।। সময়াভাবে নিত্যদিন সংক্ষেপ করি। দারুণভাবে তৃপ্তবোধ করছি -"মানস পুজা পদ্ধতি" পেয়ে। শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজিকে অন্তরের গহীনের শ্রদ্ধা, ভালবাসায় পরিপূর্ণ ভক্তিতে প্রণাম🙏🙏🙏। সুজাতা দে, লন্ডন - ইউ.কে।
ReplyDeleteNityo puja podhdhoti ti peye khub i upokrito holam.mone vebechi je apnake nityo puja podhdhoti likhe pathate bolbo kintu bola hoi ni.jai hok aj eti peye vabchi thakur moner ichcha puron korechen.Apni voktipurno pronam neben.....srabani ghosh.
ReplyDeleteAi guli peye khub valo holo, pranam moharajji
ReplyDeleteপ্রনাম মহারাজ, পূজা পদ্ধতি খুব উপকার করলো আমাদের জীবনে
ReplyDeleteপ্রণাম নেবেন মহারাজ ।নিত্য পূজার পদ্ধতি পেয়ে উপকৃত হলাম।
ReplyDeleteKhub valo lagche, kobe ai vabe pujo korte parbo jani na. Pujo protidin kori, ai vabe sob ta pari na. Joy thakur joy ma joy swamiji 🙏🙏🙏
ReplyDelete