শংকরাচার্য ।। পর্ব - ৯ ।। স্বামী হরিময়ানন্দ

                          ।।  শংকরাচার্য ।।                                                                                                 ---- স্বামী হরিময়ানন্দ © ধারাবাহিক রচনা "এই ষোড়শবর্ষীয় বালকের রচনা আধুনিক সভ্য জগতের এক বিস্ময়" - স্বামী বিবেকানন্দ শ্রুতিস্মৃতি পুরাণানাম্‌ আলয়ং করুণালয়ম্‌। নমামি ভগবদপাদং শংকরম্‌ লোকশংকরম্‌। =============পর্ব-৯============= মণ্ডণ পত্নী উভয় ভারতী দেবী সরস্বতীর সমতুল্য ছিলেন মণ্ডনের পত্নী। যিনি এই   বিতর্ক সভার মধ্যস্থতা করেছিলেন। তিনি এখন বললেন, হে যতীশ্বর, আপনি আমার স্বামীকে পরাজিত করেছেন - এ কথা সত্য। কিন্তু   আমাকে পরাজিত না করলে আপনার পূর্ণ বিজয় হতে পারে না। আমি তাঁর অর্ধাঙ্গিনী, কাজেই আপনার অর্ধেক বিজয় হয়েছে, সম্পূর্ণ নয়। আচার্...

শ্রীমদ ভগবদ গীতা # অধ্যায় ৩।। Bhagavad Gita Ch#3

gita 

                              শ্রীমদ ভগবদ্গীতা

 




                          তৃতীয় অধ্যায়         online class PDF

                                কর্মযোগ

                                        অনুবাদঃ স্বামী হরিময়ানন্দ

       

                            অর্জুন উবাচ 

জ্যায়সী চেৎ কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন।

তৎ কিং কর্মণি ঘোরে মাং নিয়োজয়সি কেশব।।১।।

 

পদবিচ্ছেদঃ জ্যায়সী চেৎ কর্মণঃ তে মতা বুদ্ধিঃ জনার্দন/ তৎ কিম্‌ কর্মণি ঘোরে মাম্‌ নিয়োজয়সি কেশব। 

সরলার্থ- অর্জুন বললেন, হে জনার্দন, হে কেশব, যদি কর্মযোগ অপেক্ষা  জ্ঞানযোগই তোমার মতে শ্রেষ্ঠ, তবে হিংসাত্মক এই ভয়ানক কর্মে আমাকে নিযুক্ত করছ কেন?

 

ব্যামিশ্রেণেব বাক্যেন বুদ্ধিং মোহয়সীব মে।

তদেকং বদ নিশ্চিত্য যেন শ্রেয়োহমাপ্নুয়াম্।।২।।

                                                                                                                                                

পদবিচ্ছেদঃ ব্যামিশ্রেণ ইব বাক্যেন বুদ্ধিম্‌ মোহয়সি ইব মে তৎ একম বদ নিশ্চিত্য যেন শ্রেয়ঃ অহম্‌ আপ্নুয়াম্‌।।

 

সরলার্থ- সন্দেহজনক মিশ্রিত বাক্যের দ্বারা কখন জ্ঞানের, কখন কর্মের প্রশংসা করে আমার বুদ্ধিকে যেন বিভ্রান্ত করছেন, জ্ঞান অথবা কর্ম একটি নিশ্চিত করে বল যাতে আমি মঙ্গল লাভ করতে পারি 

শ্রীভগবান উবাচ 

লোকেহস্মিন্ দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা ময়ানঘ।

জ্ঞানযোগেন সাংখ্যানাং কর্মযোগেন যোগিনাম্।।৩।।

 

পদবিচ্ছেদ= লোকে অস্মিন্‌ দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা ময়া অনঘ জ্ঞানযোগেন সাংখ্যানাম্‌ কর্মযোগেন যোগিনাম্‌।

সরলার্থ- শ্রীভগবান বললেন- হে অনঘ অর্জুন, ইহলোকে জ্ঞান অধিকারীদের জন্য জ্ঞানযোগ ও নিষ্কাম কর্মীদের জন্য কর্মযোগ এই দুপ্রকার নিষ্ঠার বিষয় সৃষ্টির প্রারম্ভে আমি বেদমুখে বলেছি।

ন কর্মণামনারম্ভান্নৈন্ষ্কর্ম্যং পুরুষোহশ্লুতে।

ন চ সন্ন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমাধিগচ্ছতি।।৪।। 

পদবিচ্ছেদ- ন কর্মণাম্‌ অনারম্ভাৎ নৈষ্কর্ম্যম্‌ পুরুষঃ অশ্নুতে/ ন চ সন্ন্যসনাৎ এব সিদ্ধিম্‌ সমধিগচ্ছতি।

 

সরলার্থঃ মানুষ কর্মের অনুষ্ঠান না করে জ্ঞান লাভ করতে পারে না, আর কামনা ত্যাগ ছাড়া কেবল কর্মত্যাগ করলেই সিদ্ধিলাভ হয় না।

 

নহি কশ্চিৎ ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃৎ।

কার্যতে হ্যবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈর্গুণৈঃ।।৫।।

পদবিচ্ছেদ- ন হি কশ্চিৎ ক্ষণম্‌ অপি জাতু তিষ্ঠতি অকর্মকৃৎ/কার্যতে হি অবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈঃ গুণৈঃ

 

সরলার্থঃ কেউ কখনও ক্ষণকালও কর্ম না করে থাকতে পারে না। প্রকৃতির গুণে অবশ হয়ে সকলেই কর্ম করতে বাধ্য হয়।

 

কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্ ।

ইন্দ্রিয়ার্থান্ বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে।।৬।।

পদবিচ্ছেদ- কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য যঃ আস্তে মনসা স্মরন্‌ / ইন্দ্রিয়ার্থান্‌ বিমূঢাত্মা মিথ্যাচারঃ সঃ উচ্যতে।

 

সরলার্থঃ যে ব্যক্তি কর্ম ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করে মনে মনে ইন্দ্রিয়ের বিষয় স্মরণ করে, সেই বিমূঢ়াত্মাকে মিথ্যাচারী বলে জানবে। 

যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম্যারভতেহর্জুন।

কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কর্মযোগমসক্তঃ স বিশষ্যতে।।৭।।

পদবিচ্ছেদ- যঃ তু ইন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম্য আরভতে অর্জুন/ কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কর্মযোগম্‌ আসক্তঃ সঃ বিশিষ্যতে।

সরলার্থঃ হে অর্জুন, যে ব্যক্তি মন দ্বারা জ্ঞানেন্দ্রিয়গণকে বশীভূত করে আসক্তি পরিত্যাগ করে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্মের অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ।

 

নিয়তং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ।

শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিদ্ধ্যেদকর্মণ।।।

পদবিচ্ছেদ-নিয়তম্‌ কুরু কর্ম ত্বম্‌ জ্যায়ঃ হি অকর্মণঃ/ শরীরযাত্রা অপি চ তে ন প্রসিদ্ধ্যেৎ অকর্মণঃ।

সরলার্থঃ অতএব তুমি নিয়ত কর্ম কর। কর্মের ত্যাগ অপেক্ষা কর্ম করা শ্রেষ্ঠ। কর্ম না করলে তোমার দেহযাত্রাও নির্বাহ হতে পারে না। 

যজ্ঞার্থাৎ কর্মণোহন্যত্র লোকোহয়ং কর্মবন্ধনঃ।

তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর।।৯।।

পদবিচ্ছেদ- যজ্ঞার্থাৎ কর্মণঃ অন্যত্র লোকঃ অয়ম, কর্মবন্ধনঃ/ তদর্থম্‌ কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর।

 

সরলার্থ-যজ্ঞার্থ(ঈশ্বরার্থে অনুষ্ঠিত) কর্ম ব্যতীত অন্য কর্ম মানুষের বন্ধনের কারণ। হে কৌন্তেয়, তুমি আসক্তি ত্যাগ করে ভগবৎ প্রীতির জন্য কর্ম কর।

 

সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ।

অনেন প্রসবিষ্যধ্বমেষ বোহস্ত্বিষ্টকামধুক্।।১০।।

পদবিচ্ছেদ- সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ/ অনেন প্রসবিষ্যধ্বম্‌ এষঃ বঃ অস্তু ইষ্টকামধুক্‌।

 

সরলার্থ- সৃষ্টির আদিতে প্রজাপতি ব্রহ্মা প্রজাগণকে যজ্ঞের দ্বারা সৃষ্টি করে বলেছিলেন –“তোমরা যজ্ঞ দ্বারা বর্ধিত হও, যজ্ঞই তোমাদের পরস্পরের অভিষ্ঠপ্রদ হোক

 

দেবান্ ভাবয়তানেন তে দেবা ভাবয়স্তু বঃ।

পরস্পরং ভাবয়ন্তঃ শ্রেয়ঃ পরমাবাস্প্যথ।।১১।।

পদবিচ্ছেদ-দেবান্‌ ভাবয়ত্ অনেন তে দেবাঃ ভাবয়ন্তঃ বঃ/ পরস্পরম্‌ ভাবয়ন্তঃ শ্রেয়ঃ পরম্‌ অবাপ্স্যথ।

 

সরলার্থ- এই যজ্ঞদ্বারা তোমরা ইন্দ্র প্রভৃতি দেবতাগণকে সংবর্দ্ধিত কর। সেই সেই দেবতাগণও অন্নাদি দান করে তোমাদিগকে বর্দ্ধিত করুন। এই ভাবে পরস্পরের সংবর্ধনা দ্বারা পরম মঙ্গল লাভ করবে।

 

ইষ্টান্ ভোগান্ হি বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ।

তৈর্দত্তানপ্রদায়ৈভ্যো যো ভুঙক্তে স্তেন এব সঃ।।১২।।

পদবিচ্ছেদ-ইষ্টান্‌ ভোগান্‌ হি বঃ দেবাঃ দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ/ তৈঃ দত্তান্‌ অপ্রদায় এভ্যঃ যঃ ভুঙতে স্তেন এব সঃ।

 

সরলার্থ- এই যজ্ঞ দ্বারা তোমরা দেবতাগণকে সংবর্ধনা কর, দেবতারা তোমাদের ইষ্টভোগ সকল দান করবেন। যেহেতু দেবতাদের দ্বারা প্রদত্ত অন্নপানাদি তাঁদেরকে না দিয়ে যে ভোগ করে সে চোর।

 

যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ।

ভুঞ্জতে তে ত্বঘং পাপা যে পচন্ত্যাত্মকারণাৎ।।১৩।।

পদবিচ্ছেদ- যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তঃ মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ ভুঞ্জতে তে তু অঘম্‌ পাপাঃ যে পচন্তি আত্মকারণাৎ।

সরলার্থ- যজ্ঞ-অবশিষ্ট অন্ন ভোজন করে সাধুগণ সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত হন কিন্তু যারা কেবল নিজের ভোগের জন্যই পাক করে, সেই পাপাত্মাগণ কেবল পাপই ভোজন করে অর্থাৎ পাপভাগী হয়।

 

অন্নাদ্ ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাদন্নসম্ভবঃ।

যজ্ঞাদ্ ভবতি পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ।।১৪।।

পদবিচ্ছেদ- অন্নাৎ ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাৎ অন্নসম্ভবঃ/ যজ্ঞাৎ ভবতি পর্জন্যঃ যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ।

 

সরলার্থ- প্রাণিগণ অন্ন থেকে উৎপন্ন হয়, অন্ন বৃষ্টি থেকে উৎপন্ন হয়, মেঘ যজ্ঞ থেকে এবং যজ্ঞ কর্ম থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে।

 

কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্।

তস্মাৎ সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্।।১৫।।

পদবিচ্ছেদ- কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবম্‌ বিদ্ধি ব্রহ্ম অক্ষরসমুদ্ভবম্‌/ তস্মাৎ সর্বগতম্‌ ব্রহ্ম নিত্যম্‌ যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্‌।।

সরলার্থ- কর্ম ব্রহ্ম(প্রাণ) থেকে উৎপন্ন এবং প্রাণ প্রকৃতি থেকে সমুৎপন্ন, অতএব সর্বব্যাপী নিত্যব্রহ্ম(প্রকৃতি) নিয়তই যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত আছেন।

 

এবং প্রবর্তিতং চক্রং নানুবর্তয়তীহ যঃ।

অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামো মোঘং পার্থ স জীবতি।।১৬।।

পদবিচ্ছেদ-এবম্‌ প্রবর্তিতম্‌ চক্রম্‌ ন অনুবর্তয়তি ইহ যঃ/অঘায়ুঃ ইন্দ্রিয়ারামঃ মোঘম্‌ পার্থ সঃ জীবতি।।

 

সরলার্থ- যে ব্যক্তি এইরূপ প্রবর্তিত কর্মচক্রের অনুষ্ঠান না করে, সেই ইন্দ্রিয়পরায়ণ পাপাত্মা বৃথাই জীবন ধারণ করেন।

 

যস্ত্বাত্মরতিরেব স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ।

আত্মন্যেব চ সন্তুষ্টস্তস্য কার্যনং ন বিদ্যতে।।১৭।।

পদবিচ্ছেদ- যঃ তু আত্মরতিঃ এব স্যাৎ আত্মতৃপ্তঃ চ মানবঃ/ আত্মনি এব চ সন্তুষ্টঃ তস্য কার্যম্‌, ন বিদ্যতে।

 

সরলার্থ-কিন্তু যাঁর আত্মাতেই রতি, আত্মাতেই যাঁর তৃপ্তি এবং আত্মাতেই যাঁর সন্তোষ, তাঁর কোন কর্ম অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না।

 

নৈব তস্য কৃতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন।

ন চাস্য সর্বভূতেষু কশ্চিদর্থব্যপাশ্রয়ঃ।।১৮।।

পদবিচ্ছেদ- ন এব তস্য কৃতেন অর্থঃ ন অকৃতেন ইহ কশ্চন/ ন চ অস্য সর্বভূতেষু কশ্চিৎ অর্থব্যপাশ্রয়ঃ।

 

সরলার্থ- ইহলোকে তাঁর কৃত কর্মের দ্বারা কোন পুণ্য হয় না, কর্ম না করলেও কোন প্রত্যবায় হয় না। মোক্ষের জন্য কারও আশ্রয় গ্রহণ করতে হয় না।

 

তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর।

অসক্তো হ্যাচরন্ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ।।১৯।।

পদবিচ্ছেদ- তস্মাৎ অসক্তঃ সততম্‌ কার্যম্‌ কর্ম সমাচর/ অসক্তঃ হি আচরন্‌ কর্ম পরম্‌ আপ্নোতি পুরুষঃ।।

 

সরলার্থ- মানুষ আসক্তি পরিত্যাগ করে কর্মের অনুষ্ঠান করলে চিত্তশুদ্ধি দ্বারা মোক্ষলাভ করে থাকে। অতএব তুমি অনাসক্ত হয়ে সর্বদা কর্ম কর।

 

কর্মণৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদয়ঃ।

লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্ কর্তুমর্হসি।।২০।।

পদবিচ্ছেদ- কর্মণা এব হি সংসিদ্ধিম্‌ আস্থিতাঃ জনকাদয়ঃ/লোকসংগ্রহম্‌ এব অপি সংপশ্যন্‌ কর্তুম্‌ অর্হসি।

 

সরলার্থ- জনক প্রভৃতি ঋষিগণ কর্মদ্বারাই শুদ্ধচিত্ত হয়ে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। লোকসকলের স্বধর্মে প্রবর্তনের প্রতি দৃষ্টি রেখেও তোমার কর্ম করা উচিত।

 

যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ।

স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে।।২১।।

পদবিচ্ছেদ- যৎ যৎ আচরতি শ্রেষ্ঠঃ তৎ তৎ এব ইতরঃ জনঃ/ সঃ যৎ প্রমাণম্‌ কুরুতে লোকঃ তৎ অনুবর্ততে।

 

সরলার্থ- শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যেমন যেমন আচরণ করেন, সাধারণ ব্যক্তিরাও তারই অনুকরণ করে থাকে। অতএব তুমি ধর্ম রক্ষার জন্য কর্ম কর।

 

ন মে পার্থাস্তি কর্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন।

নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বর্ত এব চ কর্মণি।।২২।।

পদবিচ্ছেদ-ন মে পার্থ অস্তি কর্তব্যম্‌ ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন / ন অনবাপ্তম্‌ অবাপ্তব্যম্‌ বর্তে এব চ কর্মণি।।

 

সরলার্থ-  হে পার্থ, আমার করনীয় কিছুই নেই, কারণ ত্রিলোকে আমার অপ্রাপ্ত  বা প্রাপ্তি যোগ্য কিছুই নাই। তথাপি আমি কর্মে প্রবৃত্ত আছি।

 

 যদি হ্যহং ন বর্তেয়ং জাতু কর্মণ্যতন্দ্রিতঃ। 

মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।২৩।।

পদবিচ্ছেদ- যদি হি অহম্‌ ন বর্তেয়ম্‌ জাতু কর্মণি অতন্দ্রিতঃ/ মম বর্ত্ম অনুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।

 

সরলার্থ- হে পার্থ, যদি আমি কখনও কর্মের অনুষ্ঠান না করি। তা হলে সকল মানুষ আমার পথই অনুসরণ করবে।

 

উৎসীদেয়ুরিমে লোকা ন কুর্যাং কর্ম চেদহম্।

সঙ্করস্য চ কর্ত স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ।।২৪।।

পদবিচ্ছেদ- উৎসীদেয়ুঃ ইমে লোকাঃ ন কুর্যাম্‌ কর্ম চেৎ অহম্‌/ সঙ্করস্য চ কর্তা স্যাম্‌ উপহন্যাম্‌ ইমাঃ প্রজাঃ।।

 

সরলার্থ- আমি কর্ম না করলে, এই সমস্ত লোক উৎসন্ন হয়ে যাবে। সুতরাং আমি বর্ণসঙ্কর ও প্রজাগণের মলিনতার কারণ হব।

 

সক্তাঃ কর্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্বন্তি ভারত। 

কুর্যাদ্ বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্।।২৫।।

পদবিচ্ছেদ - সক্তাঃ কর্মণি অবিদ্বাংসঃ যথা  কুর্বন্তি ভারত/ কুর্যাৎ বিদ্বান্‌ তথা অসক্তঃ চিকীর্ষুঃ লোকসংগ্রহম্‌।।

সরলার্থ-হে ভারত, কর্মাসক্ত অজ্ঞগণ সেরূপ কর্ম করে থাকে, অনাসক্ত জ্ঞানীও লোকশিক্ষার জন্য সেরূপ কর্মের অনুষ্ঠান করেন।

 

ন বুদ্ধিভেদং জনয়েদজ্ঞানাং কর্মসঙ্গিনাম্ । 

জোষয়েৎ সর্বকর্মাণি বিদ্বান্ যুক্তঃ সমাচরন্।।২৬।।

পদবিচ্ছেদ- ন বুদ্ধিভেদম্‌ জনয়েৎ অজ্ঞানাম্‌ কর্মসঙ্গিনাম্‌/ জোষয়েৎ সর্বকর্মাণি বিদ্বান যুক্তঃ সমাচরন্‌।।

 

সরলার্থ-ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তি কর্মে আসক্তদের বুদ্ধি বিভ্রম সৃষ্টি না করে স্বয়ং সকল প্রকার কর্মের অনুষ্ঠান করে তাদেরকে কর্মে প্রবৃত্ত রাখবেন।

 

প্রকৃতেঃ ক্রিয়্মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ।

অহঙ্কারবিমুঢ়াত্মা কর্তাহমিতি মন্যতে।।২৭।।

পদবিচ্ছেদ- প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ/ অহঙ্কারবিমূঢ়াত্মা কর্তা অহম্‌ ইতি মন্যতে।

সরলার্থ- সকল প্রকার কর্মই প্রকৃতির সত্ত্ব, রজ ও তম এইগুণের দ্বারা ইন্দ্রিয় সহায়ে নিষ্পন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু অহংকারী ব্যক্তি  নিজেকে ওই সব কর্মের কর্তা বলে মনে করে।

 

তত্ত্ববিত্তু মহাবাহো গুণকর্মবিভাগয়োঃ। 

গুণা গুণেষু বর্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে।।২৮।।

পদবিচ্ছেদ- তত্ত্ববিৎ তু মহাবাহো গুণকর্মবিভাগয়োঃ/গুণাঃ গুণেষু বর্তন্তে ইতি মত্বা ন সজ্জতে।

সরলার্থ- হে মহাবাহো, গুণ-কর্ম-বিভাগের তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তি ইন্দ্রিয়গণই বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়, এটি জেনে কর্তৃত্ব অভিমান পরিত্যাগ করেন।

 

প্রকৃতের্গুণসংমূঢ়াঃ সজ্জন্তে গুণকর্মসু। 

তানকৃৎস্নবিদো মন্দান্ কৃৎস্নবিন্ন বিচালয়েৎ।।২৯।।

 

পদবিচ্ছেদ-প্রকৃতেঃ গুণসংমূঢ়াঃ সজ্জন্তে গুণকর্মসু/ তান্‌ অকৃৎস্নবিদঃ মন্দান্‌ কৃৎস্নবিৎ ন বিচালয়েৎ।।

 

সরলার্থ- প্রকৃতির গুণে মোহিত হয়ে অজ্ঞ ব্যক্তিগণ ইন্দ্রিয় ও ইন্দিয়ের কার্যে আসক্ত হয়ে থাকে, সর্বজ্ঞ বিদ্বান ব্যক্তি সেই অজ্ঞ ও মন্দবুদ্ধি ব্যক্তিদের কর্ম থেকে বিচলিত করবেন না।

 

ময়ি সর্বাণি কর্মাণি সংন্যস্যাধ্যাত্মচেতসা। 

নিরাশীর্নির্মমো ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ।।৩০।।

 

পদবিচ্ছেদ-ময়ি সর্বাণি কর্মাণি, সন্ন্যস্য অধ্যাত্মচেতসা/ নিরাশীঃ নির্মমঃ ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ।

সরলার্থ- তুমি ঈশ্বরে সকল কর্মফল সমর্পণ করে, বিবেক বুদ্ধিতে, আমি অন্তর্যামী পুরুষের অধীন হয়ে কর্ম করছি, এইরূপ ভাব নিয়ে কামনা আসক্তি ও শোক পরিত্যাগ করে যুদ্ধে প্রব্রৃত্ত হও।

 

যে মে মতমিদং নিত্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ। 

শ্রদ্ধাবন্তেহনসূয়ন্তো মুচ্যন্তে তেহপি কর্মভিঃ।।৩১।।

 

পদবিচ্ছেদ- যে মে মতম্‌ ইদম্‌ নিত্যম্‌ অনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ/শ্রদ্ধাবন্তঃ অনসূয়ন্তঃ মুচ্যন্তে তে অপি কর্মভিঃ।

 

সরলার্থ- যাঁরা শ্রদ্ধাবান ও অসূয়াশূন্য অর্থাৎ দোষ দর্শন না করে সর্বদা আমার মতের অনুসরণ করেন, তাঁরাও সকল প্রকার কর্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হন।

 

যে ত্বেতদভ্যসূয়ন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্। 

সর্বজ্ঞানবিমূঢ়াংস্তান্ বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ।।৩২।।

 

পদবিচ্ছেদ- যে তু এতৎ অভ্যসূয়ন্তঃ ন অনুতিষ্ঠন্তি মে মতম্‌/ সর্বজ্ঞানবিমূঢ়ান্‌ তান্‌ বিদ্ধি নষ্টান্‌ অচেতসঃ।।

 

সরলার্থ- যারা অসূয়া পরবশ অপরের দোষ দর্শন করে আমার বাক্য অনুসারে কার্য করে না, সেই সব অবিবেকী ব্যক্তি পরমার্থ ভ্রষ্ট ও অবিবেকী বলে জানবে।

 

সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি। 

প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি।।৩৩।।

পদবিচ্ছেদ-সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি/ প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি।

সরলার্থ- জ্ঞানবান ব্যক্তিও নিজ স্বভাবের অনুরূপ কর্ম করে থাকেন, অতএব যখন সব প্রাণীই প্রকৃতির অনুসরণ করে থাকে, তখন তুমি ইন্দ্রিয় নিগ্রহ আর কী করবে?

 

 ইন্দ্রিয়স্যেন্দ্রিয়স্যার্থে রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ। 

তয়োর্ন বশমাগচ্ছেৎ তৌ হ্যস্য পরিপন্থিনৌ।।৩৪।।

পদবিচ্ছেদ- ইন্দ্রিয়স্য ইন্দ্রিয়স্য অর্থে রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ/ তয়োঃ ন বশম্‌ আগচ্ছেৎ তৌ হি  অস্য পরিপন্থিনৌ।।

সরলার্থ- ইন্দ্রিয়গণের নিজ নিজ অনুকূল বিষয়ে আসক্তি ও প্রতিকূল বিষয়ে দ্বেষ আছেই, সুতরাং রাগ-দ্বেষের বশীভূত হওয়া উচিত নয়। কারণ মুমুক্ষুর পক্ষে তা প্রতিবন্ধক।

শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ। 

স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।।৩৫।।

 

পদবিচ্ছেদ- শ্রেয়ান্‌ স্বধর্মঃ বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ/ স্বধর্মে নিধনম্‌ শ্রেয়ঃ পরধর্মঃ ভয়াবহঃ।

সরলার্থ-সম্যক ভাবে অনুষ্ঠিত পরধর্মের থেকে কিঞ্চিৎ অঙ্গহীন স্বধর্মই শ্রেষ্ঠ। স্বধর্মে মৃত্যুও ভাল কারণ স্ব-স্বভাব বিরুদ্ধ পরধর্ম ভয়াবহ।

অর্জুন উবাচ

অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ। 

অনিচ্ছন্নপি বার্ষ্ণেয় বলাদিব নিয়োজিতঃ।।৩৬।।

 

পদবিচ্ছেদ- অথ কেন প্রযুক্তঃ অয়ম্‌ পাপম্‌ চরতি পূরুষঃ/অনিচ্ছন্‌ অপি বার্ষ্ণেয় বলাৎ ইব নিয়োজিতঃ

সরলার্থ-  অর্জুন বললেন, হে বৃষ্ণিকুলোদ্ভব কৃষ্ণ, মানুষ অনিচ্ছুক হয়েও কার দ্বারা বলপূর্বক চালিত হয়ে খারাপ কাজে প্রবৃত্ত হয়?

 

কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ। 

মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্।।৩৭।।

পদবিচ্ছেদ- কামঃ এষঃ ক্রোধঃ এষঃ রজোগুণসমুদ্ভবঃ/ মহাশনঃ মহাপাপ্‌মা বিদ্ধি এনম্‌ ইহ বৈরিণাম্‌।।

সরলার্থ- শ্রীভগবান বললেন, রজোগুণ থেকে উদ্ভূত অতি উগ্র কামনা, কামনা প্রতিহত হলে ক্রোধ জন্মায়। ইহলোকে এই কামনাই মোক্ষলাভের পথে পরম শত্রু।

 

ধূমেনাব্রিয়তে বহ্নির্যথাদর্শো মলেন চ। 

যথোল্বেনাবৃতো গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্।।৩৮।।

পদবিচ্ছেদ- ধূমেন আব্রিয়তে বহ্নিঃ যথা আদর্শঃ মলেন চ/ যথা উল্বেন আবৃতঃ গর্ভঃ তথা তেন ইদম্‌ আবৃতম্‌।।

সরলার্থ-ধূম যেমন অগ্নিকে, মলিনতা যেমন দর্পণকে এবং জরায়ু যেমন গর্ভকে ঢেকে রাখে তেমনই কামন বিবেক বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রাখে।

 

আবৃতং জ্ঞানমেতেন জ্ঞানিনো নিত্যবৈরিণা। 

কামরূপেণ কৌন্তেয় দুষ্পূরেণানলেন চ।।৩৯।।

পদবিচ্ছেদ-আবৃতম্‌ জ্ঞানম্‌ এতেন জ্ঞানিনঃ নিত্যবৈরিণা কামরূপেণ কৌন্তেয় দুষ্পূরেণ অনলেন চ।

সরলার্থ- হে কৌন্তেয়, জ্ঞানীর চিরশত্রু এই অগ্নিতুল্য কামনাই জ্ঞানকে ঢেকে রাখে।

 

ইন্দ্রিয়াণি মনো বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে। 

এতৈর্বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্।।৪০।।

পদবিচ্ছেদ- ইন্দ্রিয়াণি মনঃ বুদ্ধিঃ অস্য অধিষ্ঠানম্‌ উচ্যতে/ এতৈঃ বিমোহয়তি এষঃ জ্ঞানম্‌ আবৃত্য দেহিনম্‌।

 

সরলার্থ- পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় মন ও বুদ্ধি হল কামনার আশ্রয়। এই কামনাই ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির দ্বারা জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে জীবকে বিমূঢ করে থাকে।

তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ। 

পাপ্মানং প্রজহি হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্।৪১।।

পদবিচ্ছেদ- তস্মাৎ ত্বম্‌ ইন্দ্রিয়াণি আদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ/পাপ্‌মানম্‌ প্রজহি হি এনম্‌ জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্‌।।

সরলার্থ- হে ভরতশ্রেষ্ঠ, তুমি প্রথমে ইন্দ্রিয়কে সংযত করে বিবেকের দ্বারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ধ্বংসকারী কামনাকে   বিনাশ করে।

ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ। 

মনসসন্তু পরা বুদ্ধির্যো বুদ্ধেঃ পরতস্তু সঃ।।৪২।।

 

পদবিচ্ছেদ- ইন্দ্রিয়াণি পরাণি আহুঃ ইন্দ্রিয়েভ্যঃ পরম্‌ মনঃ/ মনসঃ তু পরা বুদ্ধিঃ যঃ বুদ্ধেঃ পরতঃ তু সঃ।।

 

সরলার্থ- দেহাদি বিষয় থেকে ইন্দ্রিয়গণ শ্রেষ্ঠ বলে কথিত। মন ইন্দ্রিয়গণ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বুদ্ধি মন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, বুদ্ধির অতীত যিনি তিনিই আত্মা।

 

এবং বুদ্ধেঃ পরং বুদ্ধা সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা। 

জহি শত্রুং মহাবাহো কামরূপং দুরাসদম্।।৪৩।।

 

পদবিচ্ছেদ- এবম্‌  বুদ্ধেঃ পরম্‌ বুদ্ধা সংস্তভ্য আত্মানম্‌ আত্মনা / জহি শত্রুম্‌ মহাবাহো কামরূপম্‌ দুরাসদম্‌।।

 

সরলার্থ- হে অর্জুন, শুদ্ধ বুদ্ধি দ্বারা মনকে সমাহিত করে পরমাত্মাকে জেনে অজ্ঞানমূলক দুর্জয় শত্রু কামকে জ্ঞান দ্বারা সমূলে বিনাশ কর।

 ইতি তৃতীয় অধ্যায়ঃ

Comments

  1. গীতা পাঠ কি করে করতে হয় জানতাম না গীতার মধ্যে লুপ্ত অকার আছে কিভাবে ভাগ করে পড়তে হয় সেই সব আপনি শিখিয়েছেন আপনার কাছে যদি না আসতাম জীবন টাই বৃথা হয়ে যেতো আমরা আপনাকে পেয়ে গর্ব বোধ করি যেন আপনার কাছে এসে আমরা ধন্য মনে করি আপনার শ্রী চরণে শত কোটি প্রণাম শিখা মন্ডল ব জ ব জ

    ReplyDelete
  2. গীতা পাঠ কি করে করতে হয় জানতাম না গীতার মধ্যে লুপ্ত অকার আছে কিভাবে ভাগ করে পড়তে হয় সেই সব আপনি শিখিয়েছেন আপনার কাছে যদি না আসতাম জীবন টাই বৃথা হয়ে যেতো আমরা আপনাকে পেয়ে গর্ব বোধ করি যেন আপনার কাছে এসে আমরা ধন্য মনে করি আপনার শ্রী চরণে শত কোটি প্রণাম শিখা মন্ডল ব জ ব জ

    ReplyDelete
  3. Joy Gita🌻🙏🏻. "Karmonyey Wadhikarosthey ma folesu kodachono". Achariyo Maharajji, Gita r ' Karmayog' er detailed write-ups peyey khubei anondito🙏🏻. Maharajji, Apni amader jonnyo koto vabey proyash korey jacchen👏 , amra chirokritgyo o otibo dhonyo🙏🏻🙏🏻. Abhumi naman, Achariyo Maharajji 🙏🏻🙏🏻🌻🌻🍀🙏🏻🙏🏻

    ReplyDelete
    Replies
    1. Ki sundar padabichhed,Geeta parbar niyam jantam na, kintu ekhan pather akarshan anuvab korchhi, pronam neben Maharaj.

      Delete
  4. গীতা পাঠে আনন্দ পাচ্ছি।সঙ্গে মূল শ্লোকের ভয়েস ক্লিপিং যুক্ত করতে পারলে আরো সমৃদ্ধ হয়।প্রণাম।

    ReplyDelete

Post a Comment