জপ দু প্রকারের হয় একটি প্রথাগত(Formal) আর একটি প্রথাহীন (
Informal)।প্রথাহীন জপে কোন নিয়ম নেই।যে-কোন স্থানে যেকোন অবস্থায় তা করা যেতে পারে।এমনকি বসা, হাঁটা, শোয়া যে কোন দিকে মুখ রেখে, এমনকি স্নান করতে করতেও জপ করা যায়।
প্রথাগত জপ এর কিছু নিয়ম
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা– ভাল ভাবে হাত মুখ ঘুয়ে নিয়ে শুদ্ধ পবিত্র ভাবে বসতে হবে।
পোষাক - পরিষ্কার ধোয়া কাচা পোষাক হলেই হবে।তবে খুব টাইট
পোষাক যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সময়– সকাল ও সন্ধ্যা জপ সাধনার
উপযুক্ত সময়। মোটামুটি ভোর চারটে থেকে ৬ টা পর্যন্ত সময়কে ব্রাহ্মমুহূর্ত বলে এটি
জপ সাধনার সময়। সন্ধ্যা বেলা সূর্যাস্তের
পর থেকে রাত নটা দশটার মধ্যে। সকলের পক্ষে এক রকম সময় নির্ধারণ করা সম্ভয় নয়।
তবে একটি নির্দিষ্ট সময় রাখা দরকার।
স্থান–জপের জন্য ঠাকুর ঘর বা
পৃথক ঘর হলে ভাল। যদি খোলা যাওয়া, নদীর ধার ইত্যাদি পাওয়া যায় খুব ভাল হয়।
যদি তা সম্ভব না হয় তবে বিছানা ছেড়ে মেঝেতে আসন করে বসা যেতে পারে।জপের স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
ও শব্দ থেকে যেন মুক্ত হয়। দীর্ঘ দিন অভ্যাস করতে করতে মন ঠিক বুঝে যায় নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে মন প্রস্তুত হয়ে থাকে। ঘরে কোন পট বা
ছবি থাকতে পারে নাও থাকতে পারে। তবে যদি কোন জাপকের প্রথম প্রথম মন স্থির করার
জন্য দরকার হয় তবে রাখা যেতে পারে। হিন্দু সনাতন ভাবনায় পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসতে হয়।
আসন - সিদ্ধাসন,পদ্মাসন বা সুখাসনযে কোন আসনে বসে
জপ সাধনা করা যেতে পারে।দীর্ঘ সময় স্থির হয়ে বসে থাকার জন্য যে কোন আসন বেছে নেওয়া যেতে পারে। হাত দুটি হাঁটুর উপর থাকবে জ্ঞান মুদ্রায়।জপের সংখ্যা ডান হাতে রাখার সময় বাম হাত হাঁটুতে থাকবে।
যদি কারও পক্ষে মেঝেতে বসা সম্ভব না হয়, তবে টুল বা চেয়ারে বসতে পারেন।মনে রাখতে হবে মাথা, গলা ও মেরুদণ্ড যেন সোজা থাকে।জপ অভ্যাসের সময় শরীর ও পেশি যেন শিথীল থাকে মন যেন অচঞ্চল
থাকে।
সাধারণত খালি পেটে জপ সাধনা করার নিয়ম।যদি অসুবিধা হয় তবে হালকা ফলের রস, বিস্কুট বা চা-কফিইত্যাদি নেওয়া যেতে পারে।তবে পেট ভর্তি অবস্থায় জপ সাধনা না করাই ভাল।প্রধান খাদ্য গ্রহণের ২/৩ ঘণ্টা পর জপ সাধনা করা যেতে পারে।
সংখ্যা - ১০৮ বা তার বেশিও করা যায়। তবে ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়।
উপকারিতা
১। সৃষ্টির প্রথম শব্দ ও প্রতীক হল ওঁ-কার। পরিবেশকে
পবিত্র স্পন্দনে পূর্ণ করে।
২। এই বিশ্বব্যাপী পবিত্র ওঁ মন্ত্র উচ্চারণ করলেমনঃসংযোগ বাড়ে।
৩। Stress, Anxiety, Depressionকে কমিয়ে মনকে শান্ত করে।
৪। মন শান্ত হলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৫। শরীরকেdetoxifyকরে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও দ্রুত নিরাময় করে।
৬। এই পবিত্র স্পন্দন ভোকাল কর্ড ও সাইনাসে অনুভূত হয় বলে, কণ্ঠস্বর ভাল হয় ও শ্বাসের পথ
পরিস্কার হয়।
৭। হার্ট ভালো থাকেও হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৮। সুনিদ্রা হয়। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা জনিত উপসর্গ কমতে থাকে।
৯। শরীরে হরমোনের সমতা বজায় রাখে।
১০। রোজ অভ্যাসের ফলে mood swing বন্ধ হয়।
১১। মনকে অন্তর্মূখ করে ধ্যানের উপযোগী করে তোলে।
১২। যিনি জপ করেন তার কাছাকাছি যারা থাকেন তারাও এর দ্বারা উপকৃত হন।
১৩। মন ও শরীরকে শান্ত করে ফলে ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক হয় ও হার্টের গতি
স্বাভাবিক অবস্থায় আসে।
১৪। মনের অসংযত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ও যে-কোন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
১৫।সঠিক ভাবে দীর্ঘ দিন অভ্যাস করলে আধ্যাত্মিক সাধনা
খুব আনন্দদায়ক হয়। মন ইতিবাচক চিন্তায় পূর্ণ ও প্রফুল্ল থাকে।
১৬। যখন ওঁকার মন্ত্র সমবেত ভাবে জপ করা হয় তখন এর শক্তি ও প্রভাব অধিক বৃদ্ধি হয়।
১৭। এটি দেখা গেছে
যে ওঁ জপের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। মুখে এক দিব্যজ্যোতি দেখা যায়।
১৮। মেরুদণ্ডেরশক্তি বৃদ্ধি হয়। যেহেতু
নাভিচক্র থেকে ‘অ’উচ্চারিত হয় তাই মেরুদণ্ডের পেশিও শক্তিশালী হয়।
১৯। 'উ' হৃদয়চক্র বা অনাহত থেকে উচ্চারিত হয় তাই হার্ট ও ফুসফুস ভালো থাকে।
২০। 'ম' কন্ঠ বা বিশুদ্ধচক্র থেকে উচ্চারিত হয় বলে ভোকাল কর্ডের উপকার ও থাইরয়েড
আরোগ্য হয়।
🙏🏻"ওঁকার হলো অনাহত ধ্বনি " এর ব্যাখ্যা শুনে এক নতুন শিক্ষা প্রাপ্তি হলো মহারাজ জী 🌹🙏🏻। আর, জপ করার সঠিক পদ্ধতি কি অপূর্বভাবে আপনি বিন্যস্ত করে প্রতিস্থাপন করে আমাদের বোধগম্য করিয়েছেন, তা পেয়ে আমরা অতীব ধন্য 🙏🏻🙏🏻। আমরা কঠোপনিষদে আপনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করেছি যে এই ওঁকার হলো 'আত্মজ্ঞানের ' প্রতীকস্বরূপ। তাই মহারাজ জী আমাদের এক উচ্চ তত্বজ্ঞানের উপহার দান করেছেন, তাই এর যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা আমাদের কর্তব্য 🙏🏻🌺🍀🙏🏻।মহারাজ জী , এই অসাধারণ জ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেনো সঠিক পথে এগিয়ে স্ব-মানবজন্ম উন্নত করতে পারি👏👏।"কৃপাং কুরু গুরুদেব"। আভূমি নমন, মহারাজ জী 🌺🌺🍀🍀🙏🏻🙏🏻।
ওঁ কারের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মাবলি জেনে খুব ভাল লাগল। কিছু confusion ও দূর হল। এই আত্মজ্যোতি blog গুলি খুবই উপকারী। আমার সভক্তি প্রণাম নেবেন মহারাজ। ভাল থাকবেন। হাইদ্রাবাদ থেকে আমি ইতিদাস।
আত্মজ্যোতি র প্রতিটি উপস্থাপনাই অমূল্য।আমাদের চিন্তা ও চেতনাকে সমৃদ্ধ করে সঠিক পথের দিশা দেখাচ্ছে। পরমেশ্বরের অপার করুণায় আপনার মতো একজন আচার্য্যদেবের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি, সৎশিক্ষা ও সদভাবনা মন ও বুদ্ধিকে সর্বদাই প্রভাবিত করে জীবনপথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে- এ এক পরম প্রাপ্তি। জগন্মাতার আশীর্বাদ ,গুরুদেবের কৃপা আর আপনার মতো আচার্য্যদেবের পথপ্রদর্শন আমার এই জীবনকে যেন মহাজীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়- এই প্রার্থনা রাখি। আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন। মালবিকা সেনগুপ্ত। বাঘাযতীন। কলকাতা।
প্রণাম মহারাজ। পবিত্র ওঁ মন্ত্র সম্পর্কে আপনার লেখা পড়ে খুব ভাল লাগল। অনেক উপকৃত হলাম।আপনার এত সুন্দর লেখা ব্লগ থেকে আমরা সঠিক পথে চলতে শিখছি।অনেক কিছুই আমাদের জানা ছিল না।আমার ঠাকুরের অশেষ কৃপা আপনার সান্নিধ্য লাভ করেছি।ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি এমন দুর্লভ সুযোগ থেকে কখনো বঞ্চিত না হই।খুব ভাল থাকবেন।সুস্থ থাকবেন। প্রণাম ঠাকুর, মা স্বামীজী
পবিত্র ' ওঁ মন্ত্র ' জপের এক সুন্দর ধারণা হলো মহারাজ এই লেখাটি থেকে🙏🏻
ReplyDeleteবিনম্র শ্রদ্ধায় প্রণাম জানাই মহারাজ 🙏🏻🙏🏻🙏🏻
কৃষ্ণা মুখার্জী, হাওড়া
খুব ভালো লাগলো অনেক ধন্যবাদ মহারাজকে
Deleteপ্রণাম মহারাজ 🙏🙏
ReplyDelete🙏🏻"ওঁকার হলো অনাহত ধ্বনি " এর ব্যাখ্যা শুনে এক নতুন শিক্ষা প্রাপ্তি হলো মহারাজ জী 🌹🙏🏻। আর, জপ করার সঠিক পদ্ধতি কি অপূর্বভাবে আপনি বিন্যস্ত করে প্রতিস্থাপন করে আমাদের বোধগম্য করিয়েছেন, তা পেয়ে আমরা অতীব ধন্য 🙏🏻🙏🏻।
ReplyDeleteআমরা কঠোপনিষদে আপনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করেছি যে এই ওঁকার হলো 'আত্মজ্ঞানের ' প্রতীকস্বরূপ। তাই মহারাজ জী আমাদের এক উচ্চ তত্বজ্ঞানের উপহার দান করেছেন, তাই এর যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা আমাদের কর্তব্য 🙏🏻🌺🍀🙏🏻।মহারাজ জী , এই অসাধারণ জ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেনো সঠিক পথে এগিয়ে স্ব-মানবজন্ম উন্নত করতে পারি👏👏।"কৃপাং কুরু গুরুদেব"। আভূমি নমন, মহারাজ জী 🌺🌺🍀🍀🙏🏻🙏🏻।
অপূর্ব। পড়লেই মন শান্ত ও উৎসাহিত হয়। 🙏🙏🙏
ReplyDeleteBigoto dubochorer urdhe apnar sathe online class e jukto achi ebong omm kar jop kore nanabidh upokar peyechi ghumer samssha theke mukti thyroid problem dur hoyeche golar sor ager theke bhalo hoyeche. Pronam janai apnar sree chorone, eibhabei jano apnar kripa luv kore nijeke sambridho korte pari🙏🙏
ReplyDeletePronam Maharaj 🙏🏻🙏🏻
ReplyDeleteওঁ কারের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মাবলি জেনে খুব ভাল লাগল। কিছু confusion ও দূর হল। এই আত্মজ্যোতি blog গুলি খুবই উপকারী। আমার সভক্তি প্রণাম নেবেন মহারাজ। ভাল থাকবেন। হাইদ্রাবাদ থেকে আমি ইতিদাস।
ReplyDeleteঅপূর্ব প্রণাম মহারাজ 💐💐💐🙏🙏🙏🙏
ReplyDelete💐💐💐🙏🙏🙏
ReplyDeleteজপ সম্বন্ধে জেনে ভিষন ভালো লাগলো অপূর্ব বিশ্লেষণ সুন্দর উপস্থাপনা।।
ReplyDeleteওমকার উপকারিতা জেনে ভীষণ ভীষণভাবে উপকৃত হলাম ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। আবার নতুন লেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।।।
প্রনামগুরু মহারাজ।🌼🌼🌼🌼🙏🙏🙏🙏 আত্মজ্যোতি পত্রিকা পেয়ে আমরাধন্য।অসংখ্য ধন্যবাদ 🌼 প্রনাম
Deleteভক্তিপূর্ণ প্রণাম গুরুদেব ও আন্তরিক শুভেচ্ছা আপনার অংকার ধনী পড়ে i খুব ভালো লাগলো আনন্দে প্রাণটা ভরে গেল আবার প্রণাম গুরুদে ব ও আন্তরিক শুভেচ্ছা
ReplyDeleteআত্মজ্যোতি র প্রতিটি উপস্থাপনাই অমূল্য।আমাদের চিন্তা ও চেতনাকে সমৃদ্ধ করে সঠিক পথের দিশা দেখাচ্ছে। পরমেশ্বরের অপার করুণায় আপনার মতো একজন আচার্য্যদেবের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছি, সৎশিক্ষা ও সদভাবনা মন ও বুদ্ধিকে সর্বদাই প্রভাবিত করে জীবনপথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে- এ এক পরম প্রাপ্তি। জগন্মাতার আশীর্বাদ ,গুরুদেবের কৃপা আর আপনার মতো আচার্য্যদেবের পথপ্রদর্শন আমার এই জীবনকে যেন মহাজীবনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়- এই প্রার্থনা রাখি। আপনি আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম নেবেন।
ReplyDeleteমালবিকা সেনগুপ্ত। বাঘাযতীন। কলকাতা।
Porlai mon anonde vore uthya .koto kripa Thaur r ..akhon mone hoy satti satti amra Mayer santan ..nahole amra apnake petam na...🙏🙏🙏
ReplyDeleteপ্রণাম মহারাজ। পবিত্র ওঁ মন্ত্র সম্পর্কে আপনার লেখা পড়ে খুব ভাল লাগল। অনেক উপকৃত হলাম।আপনার এত সুন্দর লেখা ব্লগ থেকে আমরা সঠিক পথে চলতে শিখছি।অনেক কিছুই আমাদের জানা ছিল না।আমার ঠাকুরের অশেষ কৃপা আপনার সান্নিধ্য লাভ করেছি।ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি এমন দুর্লভ সুযোগ থেকে কখনো বঞ্চিত না হই।খুব ভাল থাকবেন।সুস্থ থাকবেন। প্রণাম ঠাকুর, মা স্বামীজী
ReplyDelete